জেন গুডঅল
অবয়ব

ডেম জেন মরিস গুডল (জন্ম: ভ্যালেরি জেন মরিস-গুডল; ৩ এপ্রিল ১৯৩৪ - ১ অক্টোবর ২০২৫) একজন ইংরেজ প্রাইমেটোলজিস্ট, ইথোলজিস্ট এবং নৃবিজ্ঞানী ছিলেন। তানজানিয়ার গোম্বে স্ট্রিম জাতীয় উদ্যানে শিম্পাঞ্জিদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবন নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তিনি জেন গুডল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সালের এপ্রিলে তিনি জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে মনোনীত হন।
| এটি একজন পদার্থবিজ্ঞানী সম্পর্কে সম্পর্কিত একটি অসম্পূর্ণ পাতা। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে সহায়তা করতে পারেন। |
উক্তি
[সম্পাদনা]


১৯৯০-এর দশক
[সম্পাদনা]- শুধু মনে রেখো—তুমি যদি প্রাণীদের নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে সত্যিই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হও, তবে এখন বা পরে কোনো না কোনোভাবে তুমি তার পথ খুঁজে পাবে। তবে তোমাকে এটি প্রচণ্ডভাবে চাইতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং কখনো হাল ছাড়া যাবে না।
- মাই লাইফ উইথ দ্য শিম্পাঞ্জিস (১৯৯৬), পৃষ্ঠা ১১৩।
- শিম্পাঞ্জিরা কেমন তা বুঝতে পেরে আমি উপলব্ধি করেছি যে আমরা মানুষরা অন্য প্রাণীদের থেকে অতটা আলাদা নই যতটা আমরা আগে ভাবতাম। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো আমরা সবচেয়ে বুদ্ধিমান শিম্পাঞ্জির চেয়েও অনেক বেশি চতুর এবং আমাদের শব্দ বা ভাষা আছে। আমাদের একটি কথ্য ভাষা আছে। আমরা এক সপ্তাহ বা এক বছর বা এক দশক আগে কী ঘটেছিল তা নিয়ে গল্প বলতে পারি। আমরা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে পারি এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি—অন্যদের মতামতের মাধ্যমে একজনের ধারণা আরও বিকশিত ও পরিবর্তিত হতে পারে। বড় বড় আইডিয়াগুলো আরও মহৎ হয় এবং সমস্যার সমাধান হয়।
- মাই লাইফ উইথ দ্য শিম্পাঞ্জিস (১৯৯৬), পৃষ্ঠা ১৪০।
- আমরা কেবল বুঝলেই যত্ন নেব। যত্ন নিলেই কেবল সাহায্য করব। আর সাহায্য করলেই তারা রক্ষা পাবে।
- পাত্তি ডেনিস ও মেরি হোমস সম্পাদিত অ্যানিম্যাল ম্যাগনেটিজম: অ্যাট হোম উইথ সেলিব্রেটিস অ্যান্ড দেয়ার অ্যানিম্যাল কমপ্যানিয়নস (১৯৯৮), পৃষ্ঠা ১০৬।
- প্রতিটি প্রাণীই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকের একটি ভূমিকা পালন করার আছে। প্রত্যেকেই পরিবর্তন আনতে পারে।
- উইথ লাভ (১৯৯৯)।
- আমি অন্তত সেই শত শত শিম্পাঞ্জির হয়ে কথা বলতে পারি যারা এখন তাদের লোহার খাঁচায় কুঁকড়ে, অসহায় ও হতাশ হয়ে নির্জীব চোখে তাকিয়ে আছে। তারা নিজেরা নিজেদের কথা বলতে পারে না।
- জেন গুডল ও জেনিফার লিন্ডসে সম্পাদিত জেন গুডল: ৪০ ইয়ার্স অ্যাট গোম্বে (১৯৯৯), পৃষ্ঠা ৬।
২০০০-এর দশক
[সম্পাদনা]- মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীদের প্রকৃত প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা যত বেশি জানছি, বিশেষ করে যাদের মস্তিষ্ক জটিল এবং যাদের সামাজিক আচরণ উন্নত, মানুষের সেবায় তাদের ব্যবহার নিয়ে তত বেশি নৈতিক প্রশ্ন উঠছে—তা বিনোদনেই হোক, পোষা প্রাণী হিসেবে হোক, খাবারের জন্য হোক, গবেষণাগারেই হোক বা অন্য কোনো কারণেই হোক।
- থ্রু আ উইন্ডো: মাই থার্টি ইয়ার্স উইথ দ্য শিম্পাঞ্জিস অব গোম্বে (২০০০), পৃষ্ঠা ২৪৫।
- আমাদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো উদাসীনতা। যারা দারিদ্র্য ও অজ্ঞতার মধ্যে বাস করে তাদের কাছ থেকে বিশ্ব রক্ষার আশা করা যায় না। কিন্তু যারা এই লেখাটি পড়তে পারছেন, তাদের অবস্থান আলাদা। আমাদের এই গ্রহকে রক্ষা করতে আমরা কিছু একটা করতে পারি।
- "দ্য পাওয়ার অব ওয়ান", টাইম ম্যাগাজিন (২৬ আগস্ট ২০০২)।
- স্থায়ী পরিবর্তন হলো ধারাবাহিক কিছু সমঝোতার ফল। আর সমঝোতা করা ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক আছে যতক্ষণ আপনার আদর্শগুলো বদলে না যাচ্ছে।
- ২০০২ সালে ওয়ার্ল্ড সামিট অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টে দেওয়া সাক্ষাৎকার।
- আমরা মানুষকে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে রাখতে পারি না। তাই বিশ্বের ৮০ শতাংশ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হবে, আর যে ২০ শতাংশ মানুষ আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করছে তাদের জীবনযাত্রার জৌলুস কমিয়ে আনতে হবে।
- ২০০২ সালের সাক্ষাৎকার।
- যারা প্রাণীদের "ভালোবাসেন" বলে দাবি করেন এমন হাজার হাজার মানুষ দিনে একবার বা দুবার সেইসব প্রাণীদের মাংস খেতে বসেন যাদের জীবনধারণের ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কসাইখানায় যাওয়ার পথে এবং সেখানে যাওয়ার পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা অবর্ণনীয় কষ্ট আর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যায়।
- দ্য টেন ট্রাস্টস (২০০৩), পৃষ্ঠা ১৫।
- আমি ডক্টর ডুলিটলের মতো প্রাণীদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম।
- ব্র্যাড ডান সম্পাদিত হোয়েন দে ওয়্যার ২২ (২০০৬), পৃষ্ঠা ৫১।
- পরিবর্তন আসে আগে অন্যের কথা শোনার মাধ্যমে এবং তারপর এমন মানুষের সাথে আলোচনা শুরু করার মাধ্যমে যারা এমন কিছু করছে যা আপনি সঠিক বলে মনে করেন না।
- ইউলান্ডা ব্রুকস সম্পাদিত ডু অ্যানিম্যালস হ্যাভ রাইটস? (২০০৮), পৃষ্ঠা ২৩।
২০১০-এর দশক
[সম্পাদনা]- বিশেষ করে এখন যখন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি মেরুকরণ হয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
- এলিজাবেথ লেরেভেন্ড, "দ্য ইরেপ্রেসিবল ডক্টর জেন গুডল", ভার্জ ম্যাগাজিন (২০১০)।
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি কী করছেন তা নিয়ে আসলে চিন্তা করা। সচেতন হওয়া এবং পরিবেশ ও সমাজের ওপর আপনার কাজের প্রভাব নিয়ে ভাবা। এটিই হলো আসল চাবিকাঠি এবং এটিই সবকিছুর মূলে রয়েছে।
- ক্যাথরিন বার্জার কে এবং ফিলিপ কস্তো সম্পাদিত গোয়িং ব্লু (২০১০), পৃষ্ঠা ১৪।
- গবেষকরা তাদের চোখের ঠুলি পরে থাকাটা খুব প্রয়োজন মনে করেন। তারা এটা স্বীকার করতে চান না যে যেসব প্রাণীদের নিয়ে তারা কাজ করছেন তাদেরও অনুভূতি আছে। তারা মানতে চান না যে প্রাণীদেরও মন এবং নিজস্ব ব্যক্তিত্ব থাকতে পারে কারণ সেটি মেনে নিলে তাদের কাজ করা খুব কঠিন হয়ে পড়বে। ল্যাবরেটরিগুলোতে গবেষকদের মধ্যে প্রাণীদের মন, ব্যক্তিত্ব ও অনুভূতি স্বীকার করার ব্যাপারে এক ধরণের তীব্র প্রতিরোধ দেখা যায়।
- "অ্যান ইন্টারভিউ উইথ জেন গুডল", ইন ডিফেন্স অব অ্যানিম্যালস।
- প্রকৃতিকে আমাদের অবজ্ঞা করা এবং প্রাণীদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনই দীর্ঘকাল আগে থেকে অনুমান করা এই অতিমারি বা মহামারির কারণ।
- ইয়াহু নিউজ, ১১ এপ্রিল ২০২০।
অল্টার্ড জিনস, টুইস্টেড ট্রুথ (২০১৫) এর ভূমিকা
[সম্পাদনা]- জিএম (জেনেটিকালি মডিফাইড) উদ্ভিদ এবং সাধারণ উদ্ভিদের মধ্যে এই যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে, বায়োটেক প্রবক্তারা সেই মৌলিক সত্যটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা বিভিন্ন উদ্বেগ বা সমস্যাকে স্রেফ ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষের অজ্ঞ মতামত হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং এগুলোকে অবৈজ্ঞানিক এমনকি বিজ্ঞান-বিরোধী হিসেবে বিদ্রূপ করেছেন।
- তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনসাধারণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে নতুন এই খাবারগুলো নিরাপদ হওয়ার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। অথচ ড্রুকার যেমনটি দেখিয়েছেন, এটি মোটেও সত্য ছিল না।
- ড্রুকার বর্ণনা করেছেন যে বায়োটেক লবি কতটা আশ্চর্যজনকভাবে সফল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও নীতি-নির্ধারকরা কীভাবে তথ্য বিকৃতি ও নানা মিথ বা গালগল্পের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছে। এর চেয়েও বড় কথা হলো, বেশ কিছু সম্মানিত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরাও এই নিরন্তর অপপ্রচার ছড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগী ছিলেন।
২০২০-এর দশক
[সম্পাদনা]- আমি এখন যে অবস্থায় আছি, সেখান থেকে ফেলে আসা জীবনের দিকে ফিরে তাকাচ্ছি। আমি আপনাদের এই বার্তা দিয়ে যেতে চাই যে আপনাদের প্রত্যেকেরই একটি ভূমিকা পালন করার আছে। আপনি হয়তো তা জানেন না, বা খুঁজে পাচ্ছেন না। কিন্তু আপনার জীবন গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনি একটি নির্দিষ্ট কারণে এখানে আছেন। আমি শুধু আশা করি আপনার জীবন অতিবাহিত করার সাথে সাথে সেই কারণটি আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আপনি আপনার নির্ধারিত ভূমিকাটি খুঁজে পান বা না পান, আপনার জীবন গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনার বেঁচে থাকা প্রতিটি দিন পৃথিবীতে প্রভাব ফেলে। আপনিই বেছে নেবেন আপনি কী ধরণের প্রভাব রাখতে চান।
- আমি চাই আপনারা বুঝুন যে আমরা এই প্রাকৃতিক জগতেরই অংশ। এই গ্রহটি আজ অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকলেও আশা এখনো আছে। আশা হারাবেন না। আশা হারিয়ে ফেললে আপনি উদাসীন হয়ে যাবেন এবং কিছুই করবেন না। আপনি যদি এই বিশ্বের সুন্দর জিনিসগুলো রক্ষা করতে চান, অনাগত প্রজন্মের জন্য এই গ্রহকে বাঁচাতে চান, তবে প্রতিদিন আপনার নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে ভাবুন। কারণ লক্ষ কোটি মানুষের নেওয়া ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
- সর্বোপরি আমি চাই আপনারা মনে রাখুন যে আমরা ধরিত্রীমাতা বা প্রকৃতির অংশ। আমরা বিশুদ্ধ বাতাস, পানি, খাবার ও পোশাক—সবকিছুর জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। আমরা যখন একের পর এক ইকোসিস্টেম ধ্বংস করছি, জলবায়ু পরিবর্তনকে ভয়াবহ করে তুলছি এবং জীববৈচিত্র্য নষ্ট করছি, তখন আমাদের উচিত অনাগত শিশুদের জন্য বিশ্বকে সুন্দর করে গড়ে তোলা। পরিবর্তন আনার ক্ষমতা আপনাদের হাতেই আছে।
- হাল ছাড়বেন না। আপনাদের সামনে ভবিষ্যৎ আছে। এই সুন্দর পৃথিবীতে থাকাকালীন আপনাদের সেরাটা দিন। ঈশ্বর আপনাদের সবার মঙ্গল করুন।
- নেটফ্লিক্সে প্রচারিত জেন গুডলের শেষ বার্তা।
গুডল সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- আমি এমন কিছু অসাধারণ মাঠপর্যায়ের কর্মীকে জানি যাদের অ্যাসপারজার সিনড্রোম আছে বা তারা ডিসলেক্সিক। আমি মনে করি সঠিক মাধ্যম ছাড়া এখন কোনো কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আজকের দিনে কতজন মানুষ জেন গুডল হওয়ার চেষ্টা করবেন? জেন গুডল একজন চমৎকার মাঠপর্যায়ের কর্মী ছিলেন যিনি প্রাণীদের সাথে থেকেছেন, তাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং বুঝেছেন। তিনি তাঁর কাজ মাঠপর্যায়েই করেছেন, কম্পিউটারের সামনে বসে শিম্পাঞ্জি জনসংখ্যার গাণিতিক মডেল তৈরি করে নয়।
- টেম্পল গ্র্যান্ডিন, ২০০৯।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় জেন গুডঅল সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।