বিষয়বস্তুতে চলুন

জেমস টোবিন

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
১৯৬২ সালে জেমস টোবিন

জেমস টোবিন (৫ মার্চ ১৯১৮ – ১১ মার্চ ২০০২) একজন মার্কিন অর্থনীতিবিদ ছিলেন। তিনি কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজারসে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের বোর্ড অব গভর্নরসের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি হার্ভার্ডইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি কেইনসীয় অর্থনীতির ধারণাগুলো বিকশিত করেন এবং উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে ও মন্দা এড়াতে সরকারি হস্তক্ষেপের পক্ষে কথা বলেন। তাঁর অ্যাকাডেমিক কাজের মধ্যে বিনিয়োগ, আর্থিক ও রাজস্ব নীতি এবং আর্থিক বাজারের গবেষণায় অগ্রণী অবদান অন্তর্ভুক্ত। তিনি 'টোবিট মডেল' নামে পরিচিত একটি ইকোনোমেট্রিক মডেল প্রস্তাব করেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]

১৯৫০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • হ্যারি মার্কোভিটজের আসন্ন বই টেকনিকস অব পোর্টফোলিও সিলেকশন ঝুঁকিযুক্ত সিকিউরিটিজের সেটের জন্য উপযুক্ত সুযোগ খোঁজার সাধারণ সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করবে। বিনিয়োগকারীদের যৌক্তিক আচরণের নিয়ম নির্ধারণ করাই মার্কোভিটজের প্রধান লক্ষ্য; এই গবেষণাপত্রের মূল বিষয় হলো অর্থনীতিতে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা।

১৯৬০-এর দশক

[সম্পাদনা]

"আর্থিক তত্ত্বের একটি সাধারণ ভারসাম্য পদ্ধতি" (১৯৬৯)

[সম্পাদনা]
  • মুদ্রাসম্পদ সম্পদের তালিকার একটি অংশ মাত্র, এটি সম্পূর্ণ অংশ নয়; বাণিজ্যিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি খাত মাত্র, যার ভারসাম্যমূলক আচরণ সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
    • পৃষ্ঠা ১৫।
  • মূল আচরণগত অনুমান হলো—ব্যয় এবং পোর্টফোলিও সিদ্ধান্ত একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র। সঞ্চয়কারী হিসেবে মানুষ তাদের সম্পদে নতুন কিছু যোগ করে; আর পোর্টফোলিও ম্যানেজার হিসেবে তারা সম্পদ ও ঋণের মধ্যে নিট মূল্য বণ্টন করে। ভোগের প্রবণতা সুদের হারের ওপর নির্ভর করতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি সম্পদের জোগান বা হারের ওপর নির্ভর করে না।
    • পৃষ্ঠা ১৬।
  • সরকার যদি নিট ঋণী থাকে এবং তার স্থাবর সম্পদ উপেক্ষা করা হয়, তবে ব্যক্তিগত সম্পদ জাতীয় সম্পদের চেয়ে বেশি হয়।
    • পৃষ্ঠা ১৬-১৮।
  • বিনিয়োগের হার—অর্থাৎ যে গতিতে বিনিয়োগকারীরা মূলধন বাড়াতে চান—তা মূলধনের মূল্য এবং এর প্রতিস্থাপন ব্যয়ের অনুপাতের (q) সাথে সম্পর্কিত হওয়া উচিত।
    • পৃষ্ঠা ২১।
  • আর্থিক নীতি ও ঘটনাগুলো যেভাবে সামগ্রিক চাহিদাকে প্রভাবিত করে তার প্রধান উপায় হলো—ভৌত সম্পদের মূল্যকে তাদের প্রতিস্থাপন ব্যয়ের সাপেক্ষে পরিবর্তন করা।
    • পৃষ্ঠা ২৯।

১৯৭০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • এক দশক আগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রধান ফ্যাশন। এটি একই সাথে অর্থনৈতিক তত্ত্ব ও গবেষণার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এবং সব ধরনের রাজনীতিকদের স্লোগান ছিল। তবে এখন জনমত নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। হতাশ সমালোচকরা অন্ধভাবে কেবল বস্তুগত "অগ্রগতির" পেছনে ছোটার জন্য এবং এর ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো উপেক্ষা করার জন্য অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক নীতি উভয়কেই অভিযুক্ত করছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রবৃদ্ধি জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোকে বিকৃত করে, আয় বৈষম্য বাড়ায় এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে।

১৯৮০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • সমসাময়িক ব্যবহারিক নীতিগত প্রশ্ন থেকে উদ্ভূত বিতর্কগুলো অর্থনীতিকে সব সময় সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত করেছে। স্মিথ, রিকার্ডো এবং কেইনসের সময়েও এটি সত্য ছিল এবং আজও এটি সত্য। বিভাজন, বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লবের এই পর্যায়গুলোর পরে সাধারণত সংশ্লেষণ ও সংহতির সময় আসে, যা বিজ্ঞানকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। আমি আশাবাদী যে এটি আবারও ঘটবে।
    • জেমস টোবিন, কনভারসেশনস উইথ ইকোনমিস্টস (১৯৮৩), আরজো ক্লামার।
  • কেইনসীয় অর্থনীতি অন্ততপক্ষে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং সম্পদ পুনর্বণ্টনের জন্য সরকারি প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতির মূলে রয়েছে এই বিশ্বাস যে—সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বিস্তৃত সামাজিক নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আধুনিক পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্র মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত হওয়ার পাশাপাশি উন্নতি করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী।
    • জেমস টোবিন, "কেইনস' পলিসিস ইন থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস", চ্যালেঞ্জ (১৯৮৩)।
  • তৎকালীন প্রেক্ষাপটে কেইনসীয় অর্থনীতি মূলত রক্ষণশীল ছিল। এর বার্তা ছিল যে পুঁজিবাদের পতন অনিবার্য নয়; এর প্রধান ব্যর্থতা অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপক বেকারত্ব খুব সহজেই সমাধান করা সম্ভব। সরকারগুলোর কাছে থাকা রাজস্ব ও আর্থিক হাতিয়ারগুলো বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করলেই এটি সম্ভব ছিল। মার্ক্সবাদীদের কাছে এই বার্তাটি সুখকর ছিল না কারণ তারা বিশ্বাস করত এই ব্যবস্থা আর সমৃদ্ধি ও প্রগতির সক্ষমতা রাখে না।
    • জেমস টোবিন, "আ রেভোলিউশন রিমেম্বারড", চ্যালেঞ্জ (১৯৮৮)।

"জেমস টোবিন - জীবনী" (১৯৮১)

[সম্পাদনা]
  • আমি দুটি কারণে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছি এবং একে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। এই বিষয়টি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে যাদের তাত্ত্বিক যুক্তি এবং পরিমাণগত বিশ্লেষণের প্রতি ঝোঁক আছে। একই সাথে এটি এই আশা দেখিয়েছিল যে—উন্নততর বোঝাপড়া মানবজাতির ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
  • আমার জন্য, ১৯৩০-এর দশকে বেড়ে ওঠার সময় এই দুটি প্রেরণা একে অপরকে শক্তিশালী করেছিল। মহামন্দার সময় পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোচনীয় ব্যর্থতাই বিশ্বজুড়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল। এই সংকট অর্থনৈতিক তত্ত্বে একটি উর্বর সময় এবং বিপ্লবের সূচনা করেছিল।

১৯৯০-এর দশক

[সম্পাদনা]

"মূল্য নমনীয়তা এবং উৎপাদন স্থিতিশীলতা: একজন পুরনো কেইনসীয়র দৃষ্টিভঙ্গি" (১৯৯৩)

[সম্পাদনা]
  • আমি কেইনসীয় সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে এমন যুক্তি দেব যে—এটি নামমাত্র মজুরি বা মূল্যের অনমনীয়তা দাবি করে না। এটি কেবল এটিই দাবি করে যে বাজারগুলো দামের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ও ক্রমাগত ভারসাম্য লাভ করে না।
  • কেইনস তাঁর মার্শালীয় আংশিক ভারসাম্য তত্ত্বে নির্দিষ্ট বাজারের ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় প্রক্রিয়ার কার্যকারিতাকে চ্যালেঞ্জ করেননি। তিনি কেবল পুরো অর্থনীতির বাজারের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ার নির্বিচার প্রয়োগকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করার সময় তিনি পুরো অর্থনীতিকে একটি বদ্ধ ব্যবস্থা হিসেবে মডেল করেছিলেন।

"জাপানি রাজনৈতিক অর্থনীতির ওপর প্রতিফলন" (১৯৯৯)

[সম্পাদনা]
  • জাপানের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি অত্যন্ত অযোগ্য এবং অমার্জনীয়, আমি সম্ভবত এটি আবারও বলব। এটি সত্য যে জাপান কেইনসীয় তারল্য ফাঁদ (liquidity trap) পুনরায় তৈরি করেছে। এটি এখন ক্লাসরুমগুলোতে আবারও ফিরে আসতে পারে যেখানে একে মহামন্দার একটি অদ্ভুত ঘটনা হিসেবে দীর্ঘকাল উপেক্ষা করা হয়েছিল।
  • মূল বার্তাটি এখনো এটাই যে—কেইনস যেমন যুক্তি দিয়েছিলেন, তারল্য ফাঁদ মোকাবিলায় রাজস্ব নীতিই একমাত্র উত্তর। জাপানে রাজস্ব নীতির বিরুদ্ধে যেসব যুক্তি দেওয়া হয় সেগুলো বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ।

জেমস টোবিন সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ১৯৮২ সালের কথা, জেমস টোবিন এবং রবার্ট নোজিকের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু রুক্ষ বিতর্ক হয়েছিল। টোবিন নোজিককে লক্ষ্য করে বলেছিলেন: ‘অর্থনীতি সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান থাকা দার্শনিকের চেয়ে বিপজ্জনক আর কিছু নেই।’ যার উত্তরে নোজিক তাৎক্ষণিকভাবে বলেছিলেন: ‘যদি না সে এমন একজন অর্থনীতিবিদ হয় যে মোটেও দর্শন শেখেনি।’
    • টেরেন্স হাচিসন, "অন দ্য রিলেশনস বিটুইন ফিলোসফি অ্যান্ড ইকোনমিকস" (১৯৯৬)।
  • টোবিন এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছিলেন, কারণ সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জননীতির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। টোবিনের কাছে এটি সব সময় মানুষের জীবন উন্নত করার একটি মাধ্যম ছিল।
  • অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী জেমস টোবিন যখন মার্কিন কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজারসে ছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি তাঁর কাজের জন্য জটিল সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল ব্যবহার করেন কি না। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে তিনি তা করেন না, কারণ তিনি এবং অন্যরা এই ধরনের মডেলের কাজ এবং ফলাফল বুঝতে পারেন না এবং তাই এগুলোর ওপর খুব একটা ভরসা পান না। আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম তিনি আসলে সমস্যা বিশ্লেষণে কী ব্যবহার করেন, তখন তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি খামের উল্টো পিঠে একটি সাধারণ মাল্টিপ্লায়ার-অ্যাক্সিলারেটর মডেল ব্যবহার করেন। যদিও এতে তাঁর খুব বেশি আত্মবিশ্বাস ছিল না, তবুও তিনি বলেছিলেন অন্তত তিনি জানেন তিনি কী করছেন।
    • আর্নল্ড জেলনার, "কিপ ইট সফিস্টিকেটেডলি সিম্পল"।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]