জেমস ভ্যান অ্যালেন
অবয়ব

জেমস ভ্যান অ্যালেন (৭ সেপ্টেম্বর ১৯১৪ – ৯ আগস্ট ২০০৬) ছিলেন একজন মহাকাশ বিজ্ঞানী, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক মহাকাশ কর্মসূচিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]
- আমি ছিলাম একাই এক সেনাদলের সমান। আমি সার্কিট ঝালাই করতে পারতাম, লেদ মেশিনে জিনিসপত্র তৈরি করতে পারতাম, এমনকি রকেট এবং বেলুন নিয়েও কাজ করতে পারতাম। আমি মূলত একজন প্রকৌশলী, পদার্থবিদ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীর এক বিচিত্র সংমিশ্রণ।
- তার প্রাথমিক কর্মজীবন সম্পর্কে, "Grounded in Space Science", রাশওয়ার্থ এম. কিডারের সাথে সাক্ষাৎকার, দ্য ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর, পৃষ্ঠা ১৪, ২২ ডিসেম্বর ১৯৮৯।
- তাত্ত্বিকভাবে এই সবকিছুই খুব ভালো শোনায়, কিন্তু বাস্তবে যখন আপনি লোহার টুকরোতে তার পেঁচিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেবেন, তখন দেখবেন এর কেন্দ্রটি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তার থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং ফিউজ উড়ে যাচ্ছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, তত্ত্বের কিছু ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
- ট্রান্সফর্মার সম্পর্কে স্নাতক পর্যায়ের পদার্থবিজ্ঞান ক্লাসে করা মন্তব্য, Reach Into Space, টাইম, ১৯৫৯-০৫-০৪।
- যখনই আমরা সেগুলোর দিকে তাকাতে শুরু করলাম, আমরা এক অদ্ভুত পরিস্থিতি লক্ষ্য করলাম। আমার প্রথম চিন্তা ছিল, "আরে সর্বনাশ! যন্ত্রপাতিতে নির্ঘাত কোনো গোলমাল হয়েছে!" কিন্তু পরে যখন আমরা উত্তর আমেরিকার পরবর্তী টেপগুলো হাতে পেলাম, তখন সবকিছু আবার স্বাভাবিক মনে হলো।
- এক্সপ্লোরার ১-এর প্রথম ফলাফল সম্পর্কে, Reach Into Space, টাইম, ১৯৫৯-০৫-০৪।
- দৃশ্যত সূর্যের ওপর কিছু একটা ঘটে, যা থেকে গ্যাসের এক বিশাল বিস্ফোরণ নির্গত হয়। আমাদের পৃথিবীর ওপরের স্তরগুলো তখন জেলির বাটির মতো কাঁপতে থাকে। এর প্রান্তগুলো দিয়ে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ চুইয়ে পড়ে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে মেরুজ্যোতির সৃষ্টি করে।
- মেরুজ্যোতি সম্পর্কে, Reach Into Space, টাইম, ১৯৫৯-০৫-০৪।
- বেশ কিছু উচ্চগতির কম্পিউটার ব্যবহার করে একটি বিশাল গবেষণার পর, এর ফলাফলটি আপনাদের জানাতে পেরে আমি আনন্দিত: "মহাকাশ বা স্পেস হলো এমন কিছু যার মধ্যে অন্য সবকিছু অবস্থান করে।" অন্যভাবে বললে, "মহাকাশ হলো সেই গহ্বর যেটির মধ্যে আমরা রয়েছি।"
- মহাকাশের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে: Reach Into Space, টাইম, ১৯৫৯-০৫-০৪।
- বর্তমানে মহাকাশ অভিযানে মানুষ পাঠানো এক অদ্ভুত ঝক্কির ব্যাপার। তাকে সেখানে পাঠানো এবং আরাম-আয়েশে রেখে কাজ করানোর পেছনে যে বিপুল খরচ হয়, সে তুলনায় তার উপযোগিতা তেমন নেই।
- মহাকাশে মানুষ পাঠানোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে, Reach Into Space, টাইম, ১৯৫৯-০৫-০৪।
- "আমি জন লিয়ার বলছি, স্যাটারডে রিভিউ অফ লিটারেচার-এর বিজ্ঞান সম্পাদক, নিউ ইয়র্ক থেকে ফোন করছি।" (তিনি "নিউ ইয়র্ক থেকে ফোন করছি" কথাটির ওপর খুব জোর দিলেন এবং দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকলেন, যেন আমি নিউ ইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে আসা ফোন পেয়ে রোমাঞ্চিত হওয়ার সুযোগ পাই।) আসলে আমি তাকে আগে থেকেই চিনতাম এবং মনে মনে তাকে স্যাটারডে রিভিউ-এর 'বিজ্ঞান-বিদ্বেষী' সম্পাদক হিসেবেই গণ্য করতাম। তিনি বলে চললেন: "আমি পৃথিবীর বিকিরণ বলয় আবিষ্কার সম্পর্কে আপনার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি পড়লাম এবং ভাবলাম এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ লিখব। আমার কাছে যা অবাক করার মতো মনে হয়েছে তা হলো—মধ্য-পশ্চিমের একটি সাধারণ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে!" আমি তার জবাবে কোনো গালিগালাজ করেছি বলে মনে পড়ে না, তবে তার নিবন্ধটি নিয়ে তার এখন কী করা উচিত সে সম্পর্কে একটা কড়া পরামর্শ দিয়ে ফোনটা রেখে দিলাম। পরদিন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ভার্জিল এম. হ্যানশার আমাকে ডেকে জানালেন যে জনাব লিয়ার আমার অভদ্র আচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমি প্রেসিডেন্টকে সংক্ষেপে আমার প্রতিক্রিয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলাম। সব শুনে হ্যানশার জবাব দিলেন, "আমি লিয়ারকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি তোমাকে ফোন করব, এখন ধরে নাও আমার ফোন করা শেষ। আর শোনো ভ্যান, তোমার আবিষ্কারের জন্য অভিনন্দন!" এরপর আমি এ বিষয়ে আর কিছুই শুনিনি। এমন একজন বস পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।
- ডিসকভারি অফ দ্য ম্যাগনেটোস্ফিয়ার, সি. স্টুয়ার্ট গিলমোর এবং জন আর. স্প্রেটার সম্পাদিত, হিস্ট্রি অফ জিওফিজিক্স, ভলিউম ৭, ১৯৯৭। পৃষ্ঠা ২৮৬, আইএসবিএন 0-87590-288X। আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়ন।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিমিডিয়া কমন্সে জেমস ভ্যান অ্যালেন সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।