জোসেফা ইলোইলো
‘’’জোসেফা ইলোইলোভাতু উলুইভুদা’’’, সিএফ (CF), এমবিই (MBE), এমএসডি (MSD), কেএসটিজে (KStJ) (২৯ ডিসেম্বর ১৯২০ – ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১১) ছিলেন ফিজির ২য় রাষ্ট্রপতি, যিনি ২০০০ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন (যদিও ৫ ডিসেম্বর ২০০৬ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০০৭ পর্যন্ত এক সংক্ষিপ্ত সময় বাদে)। তিনি ঐতিহ্যবাহী ‘’তুই ভুদা (Tui Vuda)’’ উপাধিধারী ছিলেন, যা বা প্রদেশের ভুদা জেলার প্রধান বংশীয় নেতার উপাধি; এই অঞ্চল ফিজির উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত।
• “জাতীয় প্রার্থনা দিবস আমাদের জাতি হিসেবে গভীর তাৎপর্য বহন করে। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের সেই পথ স্মরণ করিয়ে দেয় এবং শিক্ষা দেয়, যখন তাঁরা সংকটপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে ঈশ্বরের প্রজ্ঞার সন্ধান করতেন। এটি আমাদের প্রতি আহ্বান হিসেবে দাঁড়ায়—ঈশ্বরের সামনে নম্রভাবে উপস্থিত হয়ে, আমাদের নেতৃবৃন্দের জন্য তাঁর দিকনির্দেশনা এবং আমাদের জাতির জন্য তাঁর কৃপা প্রার্থনা করা।”
• “আমি … সচেতন যে কিছু মানুষ মনে করেন জাতীয় ঐক্য ত্বরান্বিত করা যায় যেন বোতাম চেপে ফলাফল বের করে আনা যায়, (তবে) আমি আবারও আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই—সত্যিকারের পুনর্মিলন ও ঐক্য অর্জন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।”
• “আজ সকালের আলোচনায় আমরা বপনের নীতির কথা স্মরণ করি। অর্থাৎ, আপনি যা বপন করবেন তাই ঘরে তুলবেন। যদি আপনি ঐক্য, শান্তি এবং সদিচ্ছার বীজ বপন করেন, তবে আপনি তারই ফলাফল লাভ করবেন। কিন্তু যদি আপনি বিভেদ, ঘৃণা ও অবিচারের বীজ বপন করেন, তবে ভালো ফলাফলের আশা করা যায় না। একটি সুস্থ বৃক্ষ ভালো ফল দেয়, আর অসুস্থ বৃক্ষ থেকে তার বিপরীতই আশা করা যায়।”
• “ঈশ্বরের সংকেত সব সময় আমাদের প্রত্যাশিত রূপে আসে না, তবুও মানুষের গোপন প্রার্থনা—সে তা ঘরে হোক বা এই স্থানে—ঈশ্বর জানেন, শোনেন এবং বোঝেন। কিছু প্রার্থনা আমাদের সারাদিন টিকে থাকতে সাহায্য করে, কিছু প্রার্থনা আমাদের রাত পার করতে সহায়তা করে। বন্ধু এবং অচেনা মানুষের কিছু প্রার্থনা আমাদের যাত্রার জন্য শক্তি যোগায়। আবার কিছু প্রার্থনা আমাদের ইচ্ছাকে এক বৃহত্তর ইচ্ছার কাছে সঁপে দেয়।”
• “ঈশ্বর এই জগতকে নৈতিক নকশা নিয়ে সৃষ্টি করেছেন। শোক, ট্র্যাজেডি ও ঘৃণা কেবল সাময়িক; কিন্তু মঙ্গল, স্মৃতি ও ভালোবাসা চিরন্তন।”
• “বলা হয়, দুর্দশা আমাদের নিজেদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এটি একটি জাতির ক্ষেত্রেও সত্য। আমরা আমাদের জাতীয় চরিত্র দেখতে পাই—যখন আমরা কষ্টের সময়, উৎসবে, এবং ত্যাগের বাগ্মী কর্মকাণ্ডে একত্রিত হই।”
গ্রেট কাউন্সিল অব চিফস সভায় উদ্বোধনী ভাষণ, ২৭ জুলাই ২০০৫ (উদ্ধৃত অংশ)
[সম্পাদনা]• “জাতি আমাদের দিকে চায় শুধুমাত্র ফিজিয়ানদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং সমগ্র ফিজির পক্ষে, যাতে আমরা বিভক্ত সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং স্থিতিশীলতা ও সদিচ্ছা প্রচারে সহায়তা করতে পারি।”
• “আমাদের এখানে ডাকা হয়েছে আমাদের দেশের এক সংকটময় মুহূর্তে।”
• “সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমরা অবশ্যই দেখিয়ে যেতে থাকব যে, আমরা যে ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছি তা এই ব্যাপক পরিবর্তনের যুগে এখনও প্রাসঙ্গিক। আমাদের আদিবাসী ঐতিহ্যের মাধ্যমে পাওয়া উপাধি ফিজিয়ান পরিচয়, সংস্কৃতি এবং ভানুয়ার (ভূমি ও জনগণের ঐক্য) সার্বভৌমত্বকে তুলে ধরে। প্রধান, জমি ও জনগণ—এই তিনটি একটি ঐক্যবদ্ধ সত্তা। এটাই ফিজিয়ান সম্প্রদায়কে একত্রে ধরে রাখে। এবং এখন, আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে এই ধারণাটি সংরক্ষিত থাকবে এবং ২১শ শতকের জন্য উপযোগীভাবে রূপান্তরিত হবে।”
• “আমরা কখনোই ভুলে যাব না রাতু সুকুনার সেই সতর্কবাণী, যেখানে তিনি বলেছিলেন—যদি প্রধানেরা শুধুই অলংকারে পরিণত হন, তবে তাঁদের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।”
• “আমাদের নিজেদের জনগণকে সঠিক পথে পরিচালনার পরামর্শ দেওয়ার আগে আমাদের নিজেদের যথাযথ জ্ঞান ও সচেতনতা অর্জন করতে হবে, যাতে আমরা এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি। যদি আমাদের কাছে এই জ্ঞান না থাকে, তবে আমরা নেতৃত্ব দিতে পারব না।”
• “যখন ঐতিহ্যগত পদমর্যাদার পাশাপাশি নেতৃত্বদানের দক্ষতা আমাদের মধ্যে থাকে, তখনই আমরা প্রয়োজনীয় অনুপ্রেরণা, উৎসাহ এবং দিকনির্দেশনা দিতে প্রস্তুত থাকি, যেটা জাতি আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে। তখন ‘ভাকাতুরাগা’ (প্রথাগত প্রধানের পথ) ফিজিয়ান সংস্কৃতিতে তার প্রকৃত অবস্থান ধরে রাখতে পারবে এই নতুন সহস্রাব্দেও।”
• “ফিজিয়ান জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যা কিছু করতে হবে, তার প্রতি আমাদের দৃষ্টি ও মনোযোগ আকর্ষণকারী অনেক কিছুই আছে।”
পার্লামেন্ট উদ্বোধনী ভাষণ, ১ আগস্ট ২০০৫ (উদ্ধৃতাংশ)
[সম্পাদনা]• “আমি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষকে প্রস্তাবিত আইন সম্পর্কে তাঁদের মত প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। এই বিতর্কই জাতিকে বোঝাতে সাহায্য করছে যে পুনর্মিলন একটি কঠিন কিন্তু অপরিহার্য প্রক্রিয়া।” ‘’(২০০০ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা-র শিকার ও দোষীদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষমার ব্যবস্থা করতে সরকারের বিতর্কিত কমিশন গঠনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে)।’’
• “সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের উচিত সংবেদনশীল বিষয়ে মতামত প্রদানকালে বিবেককে অনুসরণ করা এবং বিভাজনমূলক জাতিগত মন্তব্যে প্রভাবিত না হওয়া, যা আমাদের সংসদের বিতর্কে এক সাধারণ ও দুর্ভাগ্যজনক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
• “আমরা আশা করি এবং প্রার্থনা করি, আজ ও ভবিষ্যতে আমাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই মর্যাদাপূর্ণ সংসদে বিতর্কের মান আরও উন্নত হবে, যাতে দেশ শান্তি, সম্প্রীতি এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পুনর্মিলনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।”
• “আমরা, এই দেশের নাগরিকরা, পূর্বে সংসদকে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ না করার যে অবহেলা করেছি, তা সংশোধন করা প্রয়োজন। আমাদের উচিত সংসদ এবং যাঁরা এর মাধ্যমে সেবা দিচ্ছেন তাঁদেরকে আমাদের স্বর্গীয় পিতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা, যিনি আমাদের দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে পরিচালনা ও দিকনির্দেশনা দেন।”
• “আমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি আরও সুদৃঢ় করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কেবল তখনই তা অর্জন করতে পারব, যদি আমরা অতীতের মুখোমুখি হওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করি—যাতে যাঁরা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাঁদের জন্য স্বস্তি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যায় এবং সেই যন্ত্রণা স্বীকৃত হয়। আমাদের অভিজ্ঞতার মূল কারণকেও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হবে, এবং এ কাজে সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।”
• “এটি কেবল নির্দিষ্ট ঘটনাগুলির শিকারদের চিহ্নিত করার বিষয়ে নয়, বরং এটি স্বীকার করাও জরুরি যে আরও অনেকে আছেন যাঁরা নিজেদেরও ভুক্তভোগী বলে মনে করেন। আমাদের জরুরি ভিত্তিতে এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই তা মোকাবিলা করা যায়—কারণ আমরা একসাথে এগিয়ে যেতে চাই।”
• “আমাদের থেমে গিয়ে গণতান্ত্রিক সমাজের এই আদর্শগুলোর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আজকের দিনটি আমাদের স্বাধীনতার সেই অসাধারণ অনুভূতিগুলো উদযাপন করার দিন। এই স্বাধীনতাগুলোর প্রতি আমাদের অঙ্গীকার থাকতে হবে—তেমনি এই স্বাধীনতার সাথে যে দায়িত্বও জড়িত, তাও আমাদের স্বীকার করতে হবে।”
• “অসামঞ্জস্যতা ও দ্বন্দ্ব সবার জন্যই কেবল ক্ষতির এবং দুঃখের কারণ। আজ আমরা আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে একটি আরও শক্তিশালী জাতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প করছি।”
• “আমাদের জরুরি ভিত্তিতে এমন ব্যবস্থার প্রয়োজন যা উদ্ভূত মতপার্থক্যগুলো মোকাবিলা করতে পারে, কারণ আমরা একসাথে এগিয়ে যেতে চাই। আজ থেকেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে যে আমরা ব্যক্তি হিসেবে, পরিবার হিসেবে এবং সমাজ হিসেবে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করব। এবং আমরা একা একা এটি করতে পারি না—আমাদের অন্যদের সাহায্য দরকার এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের কর্মকাণ্ডে প্রজ্ঞা ও ঈশ্বরীয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।”