বিষয়বস্তুতে চলুন

জ্যানেট র‍্যাঙ্কিন

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
১৯১৭ সালে জ্যানেট র‍্যাঙ্কিন

জ্যানেট পিকারিং র‍্যাঙ্কিন (১১ জুন ১৮৮০ - ১৮ মে ১৯৭৩) ছিলেন একজন আমেরিকান রাজনীতিবিদ ও নারী অধিকার প্রবক্তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পদে আসীন হওয়া প্রথম নারী। তিনি ১৯১৬ সালে মন্টানা থেকে রিপাবলিকান হিসেবে এবং ১৯৪০ সালে আবারও মার্কিন প্রতিনিধি সভায় নির্বাচিত হন।

উক্তি

[সম্পাদনা]

কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণ (১৯১৮)

[সম্পাদনা]

উইমেন অ্যাট দ্য পডিয়াম: মেমোরবল স্পিচেস ইন হিস্ট্রি (২০০০) বই থেকে

  • এমন কি হতে পারে না যে যেসব পুরুষ তাদের সারা জীবন বাণিজ্যিক মুনাফার কথা ভেবে কাটিয়েছেন তাদের পক্ষে মানবিক প্রয়োজনের কথা ভাবা কঠিন হয়ে পড়ছে? এমন কি হতে পারে না যে এক বিশাল শক্তি যা সব সময় মানবিক প্রয়োজনের কথা ভেবে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও ভাববে তাকে এখনো কাজে লাগানো হয়নি? দেশের নারীরা এই সময়ে দেশকে মূল্যবান কিছু দিতে পারে এমনটা কি সম্ভব নয়?
  • এটি সত্যিই অদ্ভুত হতো যদি এই দেশের নারীরা এতগুলো বছর ধরে নিজেদের মধ্যে এমন কোনো বুদ্ধিমত্তা বা আধ্যাত্মিক শক্তি গড়ে না তুলতেন যা তারা বিশ্বকে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন। এটি সত্যিই অদ্ভুত হতো যদি রাজনৈতিক লড়াইয়ে নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণের প্রভাব আমাদের সামনে থাকা সমস্যা মোকাবিলার ক্লান্তিকর প্রচেষ্টায় নতুন শক্তি ও সহমর্মিতা যোগ না করত। কারণ সব সামাজিক ও শিল্পোন্নয়ন এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অগ্রসর হয়।
  • জাতির তার নারীদের প্রয়োজন এবং তাদের হাত ও হৃদয়ের কাজ প্রয়োজন।
  • আমাদের পুরনো রাজনৈতিক মতবাদগুলোর এখন নতুন দৃষ্টিভঙ্গির কাছে পথ ছেড়ে দেওয়ার সময় এসেছে।
  • অন্যান্য দেশের মানুষ যারা আমাদের গণতন্ত্রের পরিকল্পনা বোঝার চেষ্টা করছে তারা কীভাবে আমাদের যুক্তিতে হোঁচট না খেয়ে থাকবে যখন আমরা আমাদের নারীদের গণতন্ত্রের প্রথম ধাপগুলো থেকেই বঞ্চিত করি? তারা কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারীদের মধ্যে একটি পার্থক্য দেখতে পাবে না?
  • আমাদের গণতন্ত্রের দাবির আন্তরিকতা নিয়ে এই নারী ও পুরুষদের এক মুহূর্তের জন্যও কি সন্দেহ করার সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে? আমরা কীভাবে তাদের চ্যালেঞ্জের উত্তর দেব? আমরা তাদের কাছে গণতন্ত্রের অর্থ কীভবে ব্যাখ্যা করব যদি সেই একই কংগ্রেস যা বিশ্বকে গণতন্ত্রের জন্য নিরাপদ করতে যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছিল তারাই আমাদের দেশের নারীদের গণতন্ত্রের এই সামান্য অংশটুকু দিতে অস্বীকার করে?

জ্যানেট র‍্যাঙ্কিন সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • তার পরবর্তী রাজনৈতিক ত্রুটিগুলো যাই হোক না কেন প্রগতিশীল নারীরা সেই সময় অর্থাৎ ১৯১৭ সালের দিকে তাকে নিয়ে খুব গর্বিত ছিলেন।
  • জ্যানেট র‍্যাঙ্কিন মন্টানা থেকে প্রতিনিধি হিসেবে তার মেয়াদ শুরু করার ঠিক পরেই উইলসনের যুদ্ধ প্রস্তাবটি কংগ্রেসে আসে এবং সারা বিশ্বের চোখ ও কান তখন সেই রায়ের অপেক্ষায় ছিল। আমি ৫ এপ্রিল সারাদিন ক্যাপিটলে ছিলাম এবং গভীর রাতে বাড়ি ফিরেছিলাম কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম যে প্রস্তাবটি পাস হতে যাচ্ছে। ভোর তিনটার দিকে প্রতিনিধি সভায় ভোট নেওয়া হয় যেখানে ৫০ জন সদস্য যুদ্ধের বিপক্ষে এবং ৩৭৩ জন পক্ষে ভোট দেন। আমি পরের দিন তাদের কাছ থেকে সেই কঠিন সময়ের কথা শুনেছিলাম যারা পুরো অধিবেশনটি দেখেছিলেন। যখন নাম ডাকা হচ্ছিল এবং ক্লার্ক চিৎকার করে বলছিলেন "মন্টানার র‍্যাঙ্কিন" তখন কোনো সাড়া ছিল না। এরপর আরও জোরে ডাক দেওয়া হলো "মন্টানার র‍্যাঙ্কিন!" তখন কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে আমি আমার দেশের পাশে দাঁড়াতে চাই কিন্তু আমি যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিতে পারি না। এভাবেই জ্যানেট র‍্যাঙ্কিন সেই পুরুষশাসিত সভায় নিজের কথা শুনিয়েছিলেন। যদিও তার প্রকাশভঙ্গি ছিল নারীসুলভ তবুও এটি ছিল মূলত মাতৃত্বের সেই সহজাত কণ্ঠস্বর যা জীবন ধ্বংস করার চেয়ে রক্ষা করতে চায়।
  • কংগ্রেসে অল্প কিছু কণ্ঠস্বর যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। প্রতিনিধি সভার প্রথম নারী জ্যানেট র‍্যাঙ্কিন যুদ্ধ ঘোষণার ভোটাভুটিতে তার নাম ডাকার সময় সাড়া দেননি। সভার একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং যুদ্ধের সমর্থক তার কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলেছিলেন যে আপনি ভোট না দেওয়াটা মেনে নিতে পারেন না কারণ আপনি দেশের নারীত্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন। পরের বার নাম ডাকার সময় তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে আমি আমার দেশের পাশে দাঁড়াতে চাই কিন্তু আমি যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিতে পারি না। আমি বিপক্ষে ভোট দিচ্ছি।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]