বিষয়বস্তুতে চলুন

টিন

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

টিন একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা টিনের কান্না নামে পরিচিত।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • পরিষ্কার ও শুষ্ক বাতাসে টিন বহু দিন ধরে তার উজ্জ্বলতা ধরে রাখে। গবেষণা অনুসারে, ১০০ দিন পর আলোতে এর উজ্জ্বলতা কমে যেতে দেখা যায় এবং ১৫০ দিন পর হালকা হলদে-ধূসর রঙের একটি বিবর্ণতা দেখা যায়। সাবান ও জল দিয়ে ধোয়া হলে টিনের প্রতিফলন ক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরেও অপরিবর্তিত থাকে।
  • টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
    • রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
  • টিন প্রিন্টিং, যা প্রায় ১৮৭৫ সালে প্রবর্তিত হয়েছিল, এট হলো ধাতব পাত অলঙ্করণের জন্য লিথোগ্রাফিক প্রক্রিয়ার প্রয়োগ। পূর্বে কাগজের লিথোগ্রাফারদের দ্বারা সম্পাদিত ক্যানের লেবেলের কাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে টিন লিথোগ্রাফারদের হাতে চলে গেছে... প্রস্তুত টিনের পাত প্রেসে প্রবেশ করানো হয় এবং তারপর উচ্চ তাপমাত্রায় ওভেনে শুকানো হয়, এই প্রক্রিয়াটি প্রতিটি অতিরিক্ত রঙের জন্য পুনরাবৃত্তি করা হয়।
  • কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্‌বাক্সের উপর বসিলাম।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
  • টিন নামটি এসেছে অ্যাংলো-স্যাক্সন শব্দ ‘টিআইন’ থেকে। এর রাসায়নিক প্রতীক ‘Sn’ এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘স্ট্যানাম’ থেকে। টিনের প্রথম ব্যবহার সম্ভবত তামা ও দস্তার সাথে সংকর ধাতু হিসেবে পিতল ও ব্রোঞ্জ তৈরিতে হয়েছিল এবং এর সময়কাল প্রায় ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত নির্ধারণ করা যায়। টিনকে একটি মৌল হিসেবে কে শনাক্ত করেছিলেন তা জানা যায়নি এবং সম্ভবত রসায়নবিদ ও পরীক্ষকেরা এটিকে এমন কিছু হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন যাকে আর ভাঙ্গা যায় না, বা যা ছিল মৌলিক।
  • আমরা বর্ষাকালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্‌ ঝন্‌; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর-জোড়াসাঁকোর ধারে, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
  • পিউটার একটি সংকর ধাতু, যাতে ৯০% টিন, ১ থেকে ৮% অ্যান্টিমনি, ০.২৫ থেকে ৫% তামা এবং সর্বোচ্চ ০.০৫ শতাংশ সীসা ও আর্সেনিক থাকে এবং এর ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা বিশুদ্ধ টিনের সমান। এই পরিসরের সংকর ধাতুগুলো আলংকারিক সামগ্রী, পাত্র এবং বাসনপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
    • ব্রুস ডি. ক্রেইগ, ডেভিড এস. অ্যান্ডারসন, "হ্যান্ডবুক অফ করোশন ডেটা" গ্রন্থে
  • পরদেশিয়া নৌকোগুলাের এল ফেরার দিন,
    নিল ভরে খালি-করা কেরােসিনের টিন—
    একটা পালের ’পরে ছােটো আরেকটা পাল তুলে
    চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পদ্মায়, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪১
  • টিনের সাথে সামান্য পরিমাণে সীসা মেশানো হলে নরম সোল্ডারে সাধারণ পরিবেশে এটি প্রতিফলক পৃষ্ঠের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে।
    • ব্রুস ডি. ক্রেইগ, ডেভিড এস. অ্যান্ডারসন, "হ্যান্ডবুক অফ করোশন ডেটা" গ্রন্থে।
  • চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্‌ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
  • টিনের দেবতাদের কথা আপনি হয়তো প্রায়ই শুনে বা পড়ে থাকবেন। কিন্তু এটি সম্পূর্ণভাবে সীসা দিয়ে তৈরি ছিল।
    • রয় ক্যাম্পবেল, কবিতা, এডি ডঙ্কার, ১৯৮৫, পৃষ্ঠা ৮৬
  • আমি হাতে তুলে নিলাম, একটা ছোট টিনের বাক্স, চাবি বন্ধ! এ ধরনের টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে বলে, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’। টাকাকড়ি রাখে পাড়াগাঁয়ে। এ আমরা জানি।
    বাদল হঠাৎ বড় উত্তেজিত হয়ে পড়লো। বললে—দেখি জিনিসটা?
    —দ্যাখ তো, চিনিস?
    —চিনি, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’।
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বরো বাগদিনী, নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৮
  • এটি একটি নিম্ন গলনাঙ্কবিশিষ্ট, নমনীয় ও প্রসারণশীল ধাতব মৌল, যার রঙ ও দ্যুতি প্রায় রূপার কাছাকাছি। এটি প্রলেপ দিতে এবং সংকর ধাতু, টিনফয়েল ও নরম ঝালাই তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • দেউড়ি আর বৈঠকখানায় ছিল এইরকম দোল-উৎসব, আর আমাদের জন্য আসত টিনের পিচকারি। ওইতেই আনন্দ। টিনের পিচকারি বালতিভরা লাল জলে ডুবিয়ে যাকে সামনে পাচ্ছি পিচকারি দিয়ে রঙ ছিটিয়ে দিচ্ছি আর তারা চেঁচামেচি করে উঠছে, দেখে আমাদের ফুর্তি কী।
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর-জোড়াসাঁকোর ধারে, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪
  • এটি একটি ধাতব মৌল, যা ক্যাসটেরাইটে পাওয়া যায় এবং এর বেশ কয়েকটি অ্যালোট্রোপ রয়েছে; সাধারণ নমনীয় রূপালি-সাদা ধাতুটি ১৩.২° সেলসিয়াসের নিচে ধীরে ধীরে একটি ধূসর গুঁড়োতে রূপান্তরিত হয়। এটি সংকর ধাতু, বিশেষ করে ব্রোঞ্জ ও পিউটারে, এবং ইস্পাতের জন্য একটি ক্ষয়রোধী প্রলেপ হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
    • ওয়ার্ল্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে 'টিন' শব্দটির উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে
  • আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
    • উমাকান্ত হাজারী, নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
  • টিন হলো একটি নমনীয়, রূপালী ধাতব মৌল যা আগ্নেয় শিলায় পাওয়া যায়। এর একটি স্ফটিক কাঠামো রয়েছে এবং বাঁকালে এটি মটমট করে শব্দ করে। টিন ক্ষয়রোধী পদার্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ব্রোঞ্জসহ অসংখ্য সংকর ধাতুর একটি অংশ।
    • সায়েন্স ডিকশনারি: "টিন"
  • কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়।
    • সুভাষচন্দ্র বসু, শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
  • রাশিয়ার মতো ঠান্ডা দেশগুলিতে, কখনও কখনও দেখা যায় যে টিনের তৈরি কোনো ছাদ বা অন্য কোনো বস্তু হঠাৎ করে এক অদ্ভুত উপায়ে ক্ষয় হতে শুরু করে। মধ্য ইউরোপের অর্গান পাইপগুলি প্রায়শই টিনের তৈরি হয় এবং সেগুলির ক্ষেত্রেও একই রকম ক্ষয় লক্ষ্য করা গেছে। এও দেখা যায় যে, তাপমাত্রা ১৮° সেলসিয়াসের নিচে থাকলেই টিন অস্থিতিশীল অবস্থায় থাকে।
  • দেয়ালের যে-অংশে দরজা সেই দিকে বাতির মোড়ক থেকে কাটা ছবিগুলি এঁটে দিয়ে কোনো এক ভৃত্য সৌন্দর্যবোধের তৃপ্তিসাধন করেছিল। এক কোণে টিনের বাক্সে আছে গুঁড়োকরা খড়ি, তার পাশে ঝুড়িতে শুকনো তেঁতুল, এবং কতকগুলো ময়লা ঝাড়ন; আর সারি সারি কেরোসিনের টিন, অধিকাংশই খালি, গুটি দুই-তিন ভরা।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যোগাযোগ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৫
  • এ বাড়ীর কেহ কোনো কথা বলিবার পূর্ব্বেই টুনু ও সতু, দুজনে মিলিয়া দুর্গার টিনের পুতুলের বাক্সটা ঘর হইতে বাহির করিয়া আনিয়া রোয়াকে নামাইল এবং টুনু বাক্স খুলিয়া খানিকটা খুঁজিবার পর একছড়া পুঁতির মালা বাহির করিয়া বলিল—এই দ্যাখো মা, আমার সেই মালাটা—সেদিন যে সেই খেল্‌তে গিয়েছিল, সেদিন চুরি করে এনেচে।
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পথের পাঁচালী, দশম পরিচ্ছেদ, পথের পাঁচালী- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সপ্তম সংস্করণ, প্রকাশক- পি. মিত্র, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
  • তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে সাদা টিন বর্ধিত হারে ধূসর হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখায়, এবং -৫০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই পরিবর্তনের গতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সাদা ধাতুটি প্রথমে বিবর্ণ হয়ে যায়, তারপর এর উপর অসংখ্য ধূসর আঁচিলের মতো দাগ দেখা দেয় এবং অবশেষে এটি গুঁড়ো হয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত, ব্রিটেনের সাধারণ শীতকালীন তাপমাত্রায় এই পরিবর্তনের হার খুবই কম থাকে।
  • দাৰ্জিলিঙ মেল আসতে এখনো তিন ঘণ্টা। স্টেশনে লোকজন নেই, হোটেলগুলোর টিনের ছাত বিষ্টিতে ভিজে চাঁদের আলোয় ঝকঝক করছে। পাহাড়ের অন্ধকার ছেড়ে হঠাৎ ফাঁকায় পড়ে রিদয়ের ধাঁধা লেগে গেল। আকাশ থেকে সে টিনের ছাতগুলোকে দেখছে যেন ছোট-ছোট পাহাড়ের চুড়ো শাদা বরফে ঢাকা!
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
  • সম্পূর্ণ টিন দিয়ে তৈরি অত্যন্ত প্রাচীন বস্তুর অভাব রয়েছে বলে মনে হয় — এই অভাবের জন্য কখনও কখনও "টিন পেস্ট" এর কারণে টিনের ক্ষয়কে দায়ী করা হয়। এটি কোনোভাবেই যথেষ্ট কারণ নয়, কারণ "টিন পেস্ট" শুরু করাই যথেষ্ট কঠিন।
  • বাংলা করোগেট টিনের প্রধান খরিদ্দার,—বাংলার দরিদ্র লোকেরা বিশেষ পূর্ব বঙ্গের কৃষকেরা এই আমদানী শুল্ক বৃদ্ধির জন্য করোগেট টিনের জন্য বেশী মূল্য দিতে বাধ্য হয়। যখন প্রতি টনে দশ টাকা শুল্ক ছিল, তখন করোগেট টিনের দাম ছিল—প্রতি টন ১৩৭৲ টাকা। ১৯২৫—২৬ সালে টাটা কোম্পানীর চীৎকারের ফলে ঐ শ‍ুল্ক বৃদ্ধি পাইয়া টন প্রতি ৪৫৲ টাকা হইল।
    • প্রফুল্লচন্দ্র রায়, আত্মচরিত- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক- ওরিয়েণ্ট বুক কোম্পানি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩২৩
  • সাধারণ তাপমাত্রায় (+২০° সেলসিয়াসের নিচে) সাদা টিনকে ধূসর টিনের সংস্পর্শে আনলে, সম্ভবত আয়তন বৃদ্ধির কারণে এটি খুব ধীরে ধীরে ধূসর টিনে পরিণত হয়ে গুঁড়ো হয়ে যায় (এই ঘটনাকে "টিন-রোগ" বলা হয়)।
  • যে টিনের বাক্সের ভিতর সেই মৃতদেহ পাওয়া গিয়াছিল, সেই টিনের বাক্সটীর মধ্যে উত্তমরূপে দেখাতে, দেখিতে পাইলাম, তাহার ভিতর একটী পুরাতন ও নিতান্ত ক্ষুদ্র শিশি রহিয়াছে। সেই শিশিটী নিজের হাতে করিয়া উত্তমরূপে পরীক্ষা করিয়া দেখিলাম। দেখিলাম, প্রায় পাঁচ ছয় বৎসর পূর্ব্বে সেই শিশিতে করিয়া ব্যাথগেট কোম্পানির ঔষধালয় হইতে একজন সাহেবের নিমিত্ত ঔষধ আসিয়াছিল।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, বেওয়ারিশ লাস, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭-১৮
  • অনেক উপনিবেশবাসী ছিদ্র করা টিন দিয়ে তৈরি জিনিসপত্র দিয়ে তাদের ঘর সাজাতো। কখনও কখনও তাদের ছিদ্র করা টিনের লণ্ঠন বা মোমবাতিদানি থাকতো । তারা তাদের দেয়ালে ছিদ্র করা টিনের ছবিও টাঙাতো।
    • টেরি অ্যালান হিকস: মেইন, মার্শাল ক্যাভেন্ডিশ, ২০০৬, পৃষ্ঠা ৩৩
  • প্রত্যেকটি ঘরের পেছনে স্তূপাকৃতি পুরান টায়ার টিউব, দুধ, মাছ, মাংস, মাখন এসবের খালি টিন পড়ে রয়েছিল। আমেরিকার নগরে, শহরে এবং গ্রামে কেউ টিনের দুধ ব্যবহার করে না। কাগজের এক রকম বোতল হয় তাতেই দই, দুধ, ঘোল বিক্রি হয়ে থাকে। দুধের টিন দেখেই মনে হল, অনেক দূর হতে যারা আসে এবং নানা অসুবিধায় পতিত হয় তারাই এই গ্রামে থাকতে বাধা হয়। এরূপ গ্রাম বাস্তবিকই আনন্দদায়ক।
    • রামনাথ বিশ্বাস, আজকের আমেরিকা - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয়- সংস্করণ, প্রকাশক- পর্যটক প্রকাশনা ভবন, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২২
  • ছোট্ট টিনের দেবতারা তাদের ছোট্ট টিনের আত্মাদের তাড়া করত।
    যেহেতু সে চেথাম থেকে আসেনি, তাই তার পায়ের গোড়ালিতে কোনো স্পার ঝনঝন করে বাজত না।
    তা সত্ত্বেও, সে-ই ছিল সরকারি তালিকায় প্রথম,
    চাকাওয়ালা ছোট্ট টিনের দেবতাদের রেল পরিদর্শকের পদের জন্য।
  • আমরা রবিকাকা সবাই ছুটলুম। তখন বর্ষাকাল—একটা টিনের ঘরে আমাদের আড্ডা হল। এক মুহুরি টাকা গুণে নিলে। অতটুকু টিনের ঘরে তো মিটিং হতে পারে না। ঝুপ্‌ ঝুপ্‌ বৃষ্টি পড়ছে—বাইরে সারি সারি রেলগাড়ির নীচে শতরঞ্জি বিছিয়ে বক্তৃতা হচ্ছে আর আমি ভাবছি—এই সময়েই যদি ইঞ্জিন এসে মালগাড়ি টানতে শুরু করে তবেই গেছি আর কি।
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঘরোয়া, প্রথম পরিচ্ছেদ, ঘরোয়া-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক-বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশসাল- ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪-২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]