ডরিস লেসিং
অবয়ব

ডরিস লেসিং (২২ অক্টোবর,১৯১৯ – ১৭ নভেম্বর,২০১৩) ছিলেন একজন ব্রিটিশ লেখিকা। যার জন্ম নাম ছিল ডরিস মে টেলার। লেসিং ১০৬ বছর বয়সে ২০০৭ সালের অক্টোবরে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয়ী একাদশতম নারী এবং এই পুরস্কারের সর্বকালের সবচেয়ে প্রবীণ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
আরও দেখুন: আর্গোসে ক্যানোপাস
উক্তি
[সম্পাদনা]১৯৫০–১৯৯৯
[সম্পাদনা]



- সত্য বা অন্য কোনো বিমূর্ত ধারণার খাতিরে কারো আত্মপরিচয়ের ধারণা ধ্বংস করাটা খুব ভয়াবহ।
- দ্য গ্রাস ইজ সিঙ্গিং, অধ্যায় ২ (১৯৫০)
- তিনজন লোক খুনিটির দিকে তাকিয়ে তাদের নিজস্ব চিন্তা করছিল। তাদের ভ্রু কুঁচকানো ছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল না খুনিটি তাদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ। না, সে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। সে ছিল কেবল এক ধ্রুবক। সে ছিল সেই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি যে সুযোগ পেলেই চুরি, ধর্ষণ বা খুন করবে। ... "আমি কি যথেষ্ট পরিশ্রম করি না? সারা দিন আমি এই অলস কৃষ্ণাঙ্গ অসভ্যদের সাথে জমিতে কাজ করছি। তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য লড়াই করছি। ... সর্বোপরি, সে অপছন্দ করত যেভাবে তারা তাদের শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াত। সবার সামনে তাদের স্তন ঝুলে থাকত। তাদের এই শান্ত, তৃপ্ত মাতৃত্ব তার রক্ত গরম করে তুলত। "তাদের শিশুরা তাদের গায়ের সাথে জোকের মতো লেগে থাকে," সে নিজের মনে শিউরে উঠে বলত, কারণ সে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর কথা ভাবলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ত। তার স্তনে শিশুর ঠোঁটের স্পর্শের কথা ভাবলেই তার গা ঘিনঘিন করত। এই কথা ভাবলেই সে অজান্তেই তার হাত দিয়ে নিজের বুক চেপে ধরত যেন কোনো আক্রমণ থেকে সেগুলোকে রক্ষা করছে। যেহেতু অনেক শ্বেতাঙ্গ নারীই তার মতো ছিল। যারা বোতলের দুধের দিকে ঝুঁকে স্বস্তি পায়। তাই সে নিজেকে একা ভাবত না। বরং সে এই কৃষ্ণাঙ্গ নারীদেরই অদ্ভুত মনে করত। তারা ছিল এক ভিন্ন এবং আদিম প্রাণী যাদের নোংরা আকাঙ্ক্ষার কথা ভাবতেও সে সহ্য করতে পারত না। ... এই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির হাতের স্পর্শ তার কাঁধে লাগলে সে বমিবমি বোধ করত। কারণ সে জীবনে কখনো কোনো কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের শরীর স্পর্শ করেনি।
- দ্য গ্রাস ইজ সিঙ্গিং (১৯৫০)।
- প্রেক্ষাপট: সাউদার্ন রোডেশিয়া (ব্রিটিশ উপনিবেশ), বর্তমান জিম্বাবুয়ে। লেখকের জাতীয়তা: ব্রিটিশ। প্রথম প্রকাশ: যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনাকে কেউ বলবে না যে আইন পড়ার বড় একটা অংশ হলো বোকা মানুষদের সহ্য করতে শেখা।
- মার্থা কোয়েস্ট (১৯৫২), তৃতীয় খণ্ড, অধ্যায় ২
- যদি মাছ হয় জলের মূর্ত রূপ, যদি তার একটি নির্দিষ্ট আকার থাকে।তবে বিড়াল হলো সূক্ষ্ম বাতাসের নকশা ও ছক।
- পার্টিকুলারলি ক্যাটস (১৯৬৭), অধ্যায় ২
- শিক্ষা আসলে এটাই। আপনি হঠাৎ এমন কিছু বোঝেন যা আপনি সারা জীবনই জানতেন, কিন্তু নতুন এক আঙ্গিকে।
- দ্য ফোর-গেটেড সিটি (১৯৬৯)
- হাসি সংজ্ঞানুসারে স্বাস্থ্যকর।
- দ্য সামার বিফোর দ্য ডার্ক (১৯৭৩)
- অসংলগ্ন, এসবই ছিল অসংলগ্ন। তার কমিটি, সম্মেলন, অন্তহীন কথা, আর কথাবার্তা এই পুরো জঘন্য বিষয়টি ছিল একটা বড়সড় জালিয়াতি। এটি এমন এক কৌশল যার মাধ্যমে কয়েক শ’ পুরুষ ও নারী অবিশ্বাস্য পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছিল।
- দ্য সামার বিফোর দ্য ডার্ক (১৯৭৩)
- জানেন তো, নারীরা যখন সাহিত্যে কাল্পনিক নারীরাজ্যের সৃষ্টি করে। তখন তারা সবসময় খুব উদার, সহজ-সরল এবং আনন্দপ্রবণ হয়। ঠিক যেমনটা নারীদের মধ্যকার সম্পর্ক হয় যখন আশেপাশে কোনো পুরুষ থাকে না। তারা একে অপরকে উপহার দেয়, ছোটখাটো উৎসব করে এবং কেউ কাউকে শাস্তি দেয় না। আশেপাশে কোনো পুরুষ না থাকলে বা পুরুষের আধিপত্য না থাকলে নারীরা এভাবেই চলতে পছন্দ করে।
- আ টক উইথ ডরিস লেসিং। লেসিং অথরস কোয়েরি (৩০ মার্চ ১৯৮০), মিন্ডা বিকম্যান, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউতে উদ্ধৃত
- এমন কিছু মানুষ আছে যারা এক ধরণের ধর্মীয় কারণে রাজনীতি করে ... আমার মনে হয় সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে এটি বেশ সাধারণ। তারা আসলে ঈশ্বর সন্ধানী, পৃথিবীতে ঈশ্বরের রাজ্য খুঁজছে। অনেক ধর্মীয় সংস্কারকও এমন ছিলেন। এটি একই মানসিক অবস্থা বর্তমানকে তুচ্ছজ্ঞান করে কোনো এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় বাঁচা। সবসময় ধরে নেওয়া যে একটি ভালো ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। আপনি যদি স্বর্গে বিশ্বাস না করেন তবে আপনি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করবেন। যখন আমি পুরোপুরি সাম্যবাদী পর্যায়ে ছিলাম। আমি এবং আমার আশেপাশের মানুষরা সত্যিই বিশ্বাস করতাম। অবশ্যই, এই বিশ্বাস আমাদের পাগলামির দিকে ঠেলে দিয়েছিল। যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ১০ বছর পর বিশ্ব সাম্যবাদী এবং নিখুঁত হয়ে যাবে।
- লেসলি হ্যাজেলটন "ডরিস লেসিং অন ফেমিনিজম, কমিউনিজম অ্যান্ড স্পেস ফিকশন", দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ (২৫ জুলাই ১৯৮২) তে উদ্ধৃত
- একে একটি নিয়ম হিসেবে গণ্য করা যায় যে, একটি সাম্রাজ্যের সম্ভাব্য স্থায়িত্বের পূর্বাভাস পাওয়া যায় সেই সাম্রাজ্যের শাসকরা তাদের নিজেদের প্রচারণাকে কতটা বিশ্বাস করে তার ওপর ভিত্তি করে।
- দ্য সেন্টিমেন্টাল এজেন্টস ইন দ্য ভোলিয়েন এম্পায়ার (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ৯৪, ফ্লেমিঙ্গো সংস্করণ
- লেখার প্রক্রিয়ায়, গল্প যত বেশি সময় ধরে মনে পাকাপোক্ত হবে ততই ভালো। আপনি যখন বিশ্রাম নেন তখনও আপনার মস্তিষ্ক আপনার হয়ে কাজ করে। আমি স্বপ্নকে বিশেষভাবে কার্যকর মনে করি। ঘুমানোর আগে আমি অনেক কিছু নিয়ে ভাবি এবং অনেক সময় স্বপ্নের মধ্যে বিস্তারিত বিষয়গুলো সামনে আসে।
- হার্বার্ট মিটগ্যাংয়ের সাথে সাক্ষাৎকার, "মিসেস লেসিং অ্যাড্রেসেস সাম অফ লাইভস পাজলস", দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, (২২ এপ্রিল ১৯৮৪)
- আপনি কেবল লিখেই একজন ভালো লেখক হতে শিখতে পারবেন। ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগ্রামগুলো সম্পর্কে আমি খুব একটা জানি না। তবে তারা যদি এটা না বলে যে (এক) লেখালেখি একটি কঠিন কাজ এবং (দুই) লেখক হওয়ার জন্য আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত জীবনের অনেকটা উৎসর্গ করতে হবে তাহলে তারা সত্য বলছে না।
- হার্বার্ট মিটগ্যাংয়ের সাথে সাক্ষাৎকার, "মিসেস লেসিং অ্যাড্রেসেস সাম অফ লাইভস পাজলস", দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (২২ এপ্রিল ১৯৮৪)
- এই পৃথিবী চালায় তারা যারা কাজ জানে। তারা জানে কীভাবে সবকিছু কাজ করে। তারা 'সক্ষম'। উপরে একদল মানুষ আছে যারা সবকিছু পরিচালনা করে। কিন্তু আমরা, আমরা কেবল সাধারণ কৃষক। আমরা বুঝি না কী ঘটছে এবং আমরা কিছুই করতে পারি না।
- দ্য গুড টেররিস্ট (১৯৮৫)
- উপন্যাসের কোনো আইন নেই। আগে কখনোই ছিল না আর কখনোই থাকবে না।
- জন উইনোকুরেররাইটার্স অন রাইটিং (১৯৮৬)-এ উদ্ধৃত
- মহাকাশ বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী আমাদের সময়ের এক নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে।
- দ্য গার্ডিয়ান, লন্ডন (৭ নভেম্বর ১৯৮৮)
- একজন তরুণী হিসেবে সারাজীবন আপনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। সবাই আপনাকে লক্ষ্য করে। আপনি নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যাতে সবাই আপনাকে দেখে এবং প্রশংসা করে। আর তারপর, হঠাৎ করেই, আপনি মধ্যবয়সী ও পরিচয়হীন হয়ে পড়েন। কেউ আপনাকে লক্ষ্য করে না। আপনি তখন এক দারুণ স্বাধীনতা অর্জন করেন। এটা একটি ইতিবাচক বিষয়। আপনি তখন অলক্ষ্যে ও অদৃশ্যভাবে চলাফেরা করতে পারেন।
- অ্যাবি অ্যাডামসের অ্যান আনকমন স্কোল্ড (১৯৮৯) উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৮
- বৃদ্ধরা যে বড় রহস্যটি ভাগ করে নেয় তা হলো, আপনি সত্তর বা আশি বছরেও আসলে বদলাননি। আপনার শরীর বদলায় কিন্তু আপনি নিজে মোটেও বদলান না। আর এটি অবশ্যই প্রচণ্ড বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
- দ্য সানডে টাইমস (লন্ডন, ১০ মে ১৯৯২)
- রাজনৈতিকভাবে সঠিক হওয়া বা পলিটিক্যাল কারেক্টনেস হলো পার্টি লাইনের একটি স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা। আমরা আবারও দেখছি যে একদল স্বঘোষিত প্রহরী অন্যদের ওপর তাদের দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিচ্ছে। এটি সাম্যবাদের এক ঐতিহ্য, কিন্তু তারা তা দেখতে পাচ্ছে না বলে মনে হয়।
- দ্য সানডে টাইমস (লন্ডন, ১০ মে ১৯৯২)
- পলিটিক্যাল কারেক্টনেসের কি কোনো ভালো দিক আছে? হ্যাঁ, আছে। কারণ এটি আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করে আর তা সবসময়ই কার্যকর। সমস্যা হলো, যেকোনো জনপ্রিয় আন্দোলনের মতোই এর চরমপন্থী অংশটি খুব দ্রুত আর প্রান্তিক থাকে না। লেজ তখন কুকুরকে নাড়াতে শুরু করে। যে নারী বা পুরুষ শান্তভাবে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে আমাদের অনুমানগুলো যাচাই করার জন্য এই ধারণাটি ব্যবহার করছে, তার বিপরীতে বিশ জন এমন উস্কানিদাতা রয়েছে যাদের আসল উদ্দেশ্য হলো অন্যদের ওপর ক্ষমতা দখল করা। তারা নিজেদের বর্ণবাদবিরোধী বা নারীবাদী বা অন্য যাই মনে করুক না কেন, তারা উস্কানিদাতা বৈ আর কিছু নয়।
- "আনএক্সামিন্ড মেন্টাল অ্যাটিটিউডস লেফট বিহাইন্ড বাই কমিউনিজম", আওয়ার কান্ট্রি, আওয়ার কালচার - দ্য পলিটিক্স অফ পলিটিক্যাল কারেক্টনেস (১৯৯৪), এডিথ কুর্জওয়েল ও উইলিয়াম ফিলিপস সম্পাদিত, পার্টিজান রিভিউ প্রেস
- তারা লেসিংয়ের বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতে ঝুঁকে পড়ার সমালোচকরা যা বুঝতে পারেনি তা হলো, বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মধ্যেই আমাদের সময়ের সেরা সামাজিক কথাসাহিত্য লুকিয়ে আছে।
- বোস্টন বুক রিভিউ হার্ভে ব্লুমের সাক্ষাৎকার (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮)
- একটি লাইব্রেরি থাকলে আপনি মুক্ত, অস্থায়ী রাজনৈতিক জলবায়ুর মধ্যে বন্দী নন। এটি সবচেয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। কারণ কেউ একেবারেই কেউ না,আপনাকে বলতে পারবে না কী পড়তে হবে। কখন পড়তে হবে বা কীভাবে পড়তে হবে।
- ইনডেক্স অন সেন্সরশিপ (মার্চ/এপ্রিল ১৯৯৯)
দ্য গোল্ডেন নোটবুক (১৯৬২)
[সম্পাদনা]



- আমার মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি বই তৈরি করা যা নিজেই নিজের মন্তব্য করবে। একটি নির্বাক বিবৃতি। বইটির গঠনভঙ্গির মাধ্যমেই কথা বলা। যেমনটা বলেছি, এটি কারো চোখে পড়েনি।
- ভূমিকা (১৯৭১ সংস্করণ)
- আমার মনে হয়, আমাদের সময়ের জন্য মার্ক্সবাদই ছিল আনুষ্ঠানিক ধর্মের বাইরে একটি বিশ্ব মন বা বিশ্ব-নৈতিকতা তৈরির প্রথম প্রচেষ্টা। এটি ভুল পথে গিয়েছিল এবং অন্যান্য ধর্মের মতোই ছোট ছোট উপদল, গোষ্ঠী ও মতবাদে বিভক্ত হওয়া থেকে নিজেকে আটকাতে পারেনি। কিন্তু এটি একটি প্রচেষ্টা ছিল।
- ভূমিকা (১৯৭১)
- আদর্শগতভাবে, প্রতিটি শিশুকে তার স্কুল জীবনে বারবার বলা উচিত, "তুমি এখন এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছ যেখানে তোমাকে মগজ ধোলাই করা হচ্ছে। আমরা এখনো এমন কোনো শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি যা মগজ ধোলাইয়ের ব্যবস্থা নয়।" দুঃখিত, কিন্তু এটিই আমাদের পক্ষে সেরা। তোমাকে এখানে যা শেখানো হচ্ছে তা হলো বর্তমান কুসংস্কার এবং এই নির্দিষ্ট সংস্কৃতির পছন্দের একটি মিশ্রণ। ইতিহাসের দিকে সামান্য তাকালেই দেখা যাবে যে এগুলো কতটা অস্থায়ী। তোমাকে তারা শেখাচ্ছে যারা পূর্বসূরিদের দ্বারা নির্ধারিত চিন্তাধারার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছে। এটি একটি আত্ম-প্রজননশীল ব্যবস্থা। তোমাদের মধ্যে যারা অন্যদের চেয়ে বেশি বলিষ্ঠ এবং স্বতন্ত্র। তাদের উৎসাহ দেওয়া হবে যেন তারা এখান থেকে বেরিয়ে আসে এবং নিজেদের শিক্ষিত করার উপায় খুঁজে নেয়। নিজের বিচারবুদ্ধিকে শিক্ষিত করে। যারা এখানে থেকে যাবে তাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে, তাদের গড়ে তোলা হচ্ছে এই নির্দিষ্ট সমাজের সংকীর্ণ চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য।
- ভূমিকা (১৯৭১)
- পড়ার একটিই সঠিক উপায় আছে, আর তা হলো লাইব্রেরি ও বইয়ের দোকানে ঘুরে বেড়ানো। যে বইগুলো আপনাকে আকর্ষণ করে সেগুলো বেছে নেওয়া, কেবল সেগুলোই পড়া, বোরিং লাগলে বাদ দেওয়া। যে অংশগুলো টেনে টেনে চলে তা এড়িয়ে যাওয়া এবং কখনই কোনো কিছু এই কারণে পড়বেন না যে আপনি মনে করেন আপনার পড়া উচিত অথবা এটি কোনো ট্রেন্ড বা আন্দোলনের অংশ। মনে রাখবেন, যে বই বিশ বা ত্রিশ বছর বয়সে আপনার কাছে বোরিং লাগবে সেসব বই চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছর বয়সে আপনার জন্য নতুন দুয়ার খুলে দেবে এবং এর উল্টোটাও সত্যি। বই পড়ার সঠিক সময় পার করে বই পড়বেন না।
- ভূমিকা (১৯৭১)
- দুই নারী লন্ডনের সেই ফ্ল্যাটে একা ছিল।
"বিষয়টা হলো," আনা বলল, যখন তার বান্ধবী ল্যান্ডিং থেকে টেলিফোনে কথা বলে ফিরে এল, "বিষয়টা হলো, আমি যা দেখতে পাচ্ছি, সবকিছু ভেঙে পড়ছে।"- প্রথম লাইন, "ফ্রি উইমেন: ১"
- মূল কথা হলো, উপন্যাসের কাজ যেন পাল্টাচ্ছে। এটি সাংবাদিকতার একটি আউটপোস্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জীবন সম্পর্কে জানার জন্য উপন্যাস পড়ি নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, আমেরিকান সেনাবাহিনী, কয়লা খনির গ্রাম, চেলসির বিভিন্ন গোষ্ঠী ইত্যাদি। আমরা জানতে চাই কী ঘটছে। ৫০০ বা ১০০০ উপন্যাসের মধ্যে একটিতে সেই গুণ থাকে যা একটি উপন্যাসের থাকা উচিত তা হলো দর্শনের গুণ।
- আনা উলফ, "ফ্রি উইমেন: ১"
- উপন্যাস এখন খণ্ডিত সমাজের, খণ্ডিত চেতনার একটি অঙ্গে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন এতটাই বিভক্ত যে তারা একে অপরের থেকে ক্রমশই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এমনকি নিজের ভেতরও খণ্ডিত হচ্ছে, যা পুরো বিশ্বের প্রতিফলন। তারা মরিয়া হয়ে তাদের নিজেদের দেশেরই অন্যান্য গোষ্ঠী সম্পর্কে তথ্য খুঁজছে। অন্য দেশের গোষ্ঠীর কথা তো বাদই দিলাম। এটি তাদের নিজেদের পূর্ণতার জন্য এক অন্ধ অনুসন্ধান আর উপন্যাস-প্রতিবেদন তার একটি উপায় মাত্র।
- আনা উলফ, "ফ্রি উইমেন: ১"
- সেই সময়টির সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, কোনো কিছুই বিপর্যয়কর ছিল না। সবকিছুই ছিল ভুল, কুৎসিত, অসুখী এবং নৈরাজ্যবাদে রঙিন কিন্তু কিছুই ট্র্যাজিক ছিল না। এমন কোনো মুহূর্ত ছিল না যা কাউকে বা কিছুকে বদলে দিতে পারত। মাঝে মাঝে আবেগীয় বিদ্যুৎ চমকে উঠত এবং ব্যক্তিগত দুর্দশার এক দৃশ্যপট দেখাত আর তারপর আমরা আবার নাচতে শুরু করতাম।
- আনা উলফ, "ফ্রি উইমেন: ১"
- আমরা আমাদের জীবন ব্যয় করি এমন মানুষদের কাছে সত্যগুলো গ্রহণযোগ্য করতে যারা আমাদের চেয়েও কিছুটা বোকা অথচ সেই সত্যগুলো মহান ব্যক্তিরা সবসময়ই জানত। তারা হাজার হাজার বছর ধরে জানে যে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে নির্জন কারাবাসে আটকে রাখলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তারা হাজার হাজার বছর ধরে জানে যে একজন দরিদ্র মানুষ। যে তার বাড়ির মালিক এবং পুলিশকে ভয় পায়, সে একজন ক্রীতদাস। তারা এটা জানত। আমরা এটা জানি। কিন্তু ব্রিটিশ জনগণের কি এই বৃহৎ আলোকিত অংশ কি তা জানে? না। এলা, তোমার এবং আমার কাজ হলো তাদের এটা বলা। কারণ মহান ব্যক্তিরা এতই মহান যে এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় তাদের নেই। তারা ইতিমধ্যে শুক্র গ্রহকে উপনিবেশ করা এবং চাঁদে সেচের ব্যবস্থা করার উপায় খুঁজছে। আমাদের সময়ের জন্য এটাই গুরুত্বপূর্ণ। তুমি আর আমি হলাম সেই পাথর ঠেলার দল। সারা জীবন, তুমি আর আমি, আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি, সমস্ত প্রতিভা ব্যয় করব একটি বড় পাথর পাহাড়ের ওপর ঠেলে তুলতে। সেই পাথরটি হলো সেই সত্য যা মহান ব্যক্তিরা স্বজ্ঞাতভাবে জানে, আর পাহাড়টি হলো মানবজাতির বোকামি।
- পল ট্যানার, "ফ্রি উইমেন: ১"
- তুমি কি জানো মানুষ আসলে কী চায়? সবাই, আমি সবার কথা বলছি। পৃথিবীর সবাই ভাবে: ইশ, যদি আর একজন মানুষ থাকতো যার সাথে আমি প্রাণ খুলে কথা বলতে পারতাম. যে আমাকে সত্যিই বুঝতে পারতো এবং যে আমার প্রতি সদয় হতো। তারা যদি সত্যি কথা বলে, তবে মানুষ আসলে এটাই চায়।
- আমার কাছে বিষয়টিকে এমন মনে হয়। এটা খুব খারাপ কিছু নয়। মানে, হতে পারে এটা ভয়ানক। কিন্তু কারো অভাব বোধ করাটা ক্ষতিকর বা বিষাক্ত নয়। এটা বলা খারাপ নয় যে, আমার কাজটা আমার মনের মতো নয়। আমি হয়তো আরও বড় কিছু করতে সক্ষম অথবা আমি এমন একজন মানুষ যার ভালোবাসা প্রয়োজন অথচ আমি তা পাচ্ছি না। ভয়ানক হলো যখন আপনি ভান করেন যে যা সাধারণ তাই অসাধারণ। ভান করা যে আপনার ভালোবাসা প্রয়োজন নেই অথচ আপনার আছে অথবা আপনি আপনার কাজ পছন্দ করেন অথচ আপনি ভালো করেই জানেন যে আপনি আরও ভালো কিছু করতে সক্ষম।
- আনা উলফ, "ফ্রি উইমেন: ২"
- মানুষকে শুধু সব জায়গার আতঙ্ক আর তা সচেতন হওয়ার ভয়ই স্থবির করে রাখে না। এর চেয়েও বেশি কিছু আছে। মানুষ জানে তারা এমন এক সমাজে বাস করছে যা মৃত বা মৃতপ্রায়। তারা আবেগ প্রত্যাখ্যান করছে কারণ প্রতিটি আবেগের শেষেই থাকে সম্পত্তি, অর্থ, ক্ষমতা। তারা কাজ করে আর তাদের কাজকে ঘৃণা করে, আর এভাবেই তারা নিজেদের হিমায়িত করে। তারা ভালোবাসে কিন্তু জানে যে এটি অর্ধেক ভালোবাসা বা বিকৃত ভালোবাসা আর তাই তারা নিজেদের হিমায়িত করে।
- আনা উলফ, "ফ্রি উইমেন: ৪"
- আমার মস্তিষ্কের ভারসাম্য যেন এক ধরণের সরে গিয়েছিল, আমার চিন্তাধারা যেন বদলে গিয়েছিল। কয়েক দিন আগের সেই পরিবর্তনের মতোই, যখন গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মুক্তি এই শব্দগুলো বিশ্বের অন্ধকার ও কঠোর ক্ষমতার দিকে ধাবমান নতুন বাস্তবতার চাপে ফিকে হয়ে গিয়েছিল। আমি জানতাম, যদিও লেখা শব্দে এই জানার গভীরতা বোঝানো সম্ভব নয়। যে যা ঘটছে তার নিজস্ব যুক্তি ও শক্তি আছে। আমি একে এক নতুন ধরনের জানার অভিজ্ঞতায় দর্শনের মতো অনুভব করেছিলাম। আর আমি জানতাম যে শল এবং আনার নিষ্ঠুরতা, বিদ্বেষ এবং 'আমি'র অহং যুদ্ধের যুক্তির অংশ ছিল। আর আমি জানতাম এই আবেগগুলো কতটা প্রবল যে এমন এক উপায়ে যা আমাকে কখনোই ছেড়ে যাবে না, আমার বিশ্ব দেখার অংশ হয়ে যাবে।
- আনা উলফ, "ফ্রি উইমেন: ৪"
- আমি জানতাম এবং এটি ছিল এক আলোকবর্তিকা। এমন কিছু যা মানুষ সবসময় জানে কিন্তু আগে কখনোই বোঝেনি। যে সমস্ত সুস্থতা এর ওপরই নির্ভর করে যে মসৃণ পায়ের তলায় কার্পেটের অমসৃণতা অনুভব করাটা আনন্দদায়ক, ত্বকে তাপ অনুভব করাটা আনন্দদায়ক, সোজা হয়ে দাঁড়ানোটা আনন্দদায়ক যখন আপনি জানেন যে হাড়গুলো মাংসপেশির নিচে অনায়াসে নড়ছে। যদি এটি চলে যায়, তবে জীবনের বিশ্বাসও চলে যায়। কিন্তু আমি এর কিছুই অনুভব করতে পারছিলাম না। ... আমি জানতাম আমি এক নতুন মাত্রায় প্রবেশ করছি, যা আমার জানা যেকোনো সুস্থতার চেয়ে অনেক দূরে।
- আনা উলফ, "দ্য গোল্ডেন নোটবুক"
- তুমি কি চাও আমি উপন্যাসটি শুরু করি? এভাবে দুই নারী লন্ডনের সেই ফ্ল্যাটে একা ছিল?
- আনা উলফ, "দ্য গোল্ডেন নোটবুক"
- মাঝে মাঝে আমি একটি বই হাতে নিয়ে বলি যে, বেশ, তাহলে তুমিই এটা আগে লিখে ফেলেছ, তাই না? ভালো করেছ। ঠিক আছে, তাহলে আমাকে আর এটা লিখতে হবে না।
- শল গ্রিন, "দ্য গোল্ডেন নোটবুক"
- মাত্র একটিই প্রকৃত পাপ, আর তা হলো নিজেকে বিশ্বাস করানো যে যা দ্বিতীয় সেরা তা ছাড়া অন্য কিছু অসাধারণ হতে পারে।
- আনা উলফ
- তোমাদের কেউই কিছু চায় না। সবকিছু ছাড়া, কিন্তু যতদিন পর্যন্ত তোমাদের প্রয়োজন ততক্ষণ পর্যন্তই সব চাও।
- আনা উলফ
- সাহিত্য হলো ঘটনার পরবর্তী বিশ্লেষণ।
- চিলড্রেন অফ অ্যালবিয়ন: পোয়েট্রি অফ দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড ইন ব্রিটেন, সংকলক মাইকেল হোরোভিটজ (১৯৬৯) উদ্ধৃত: আফটারওয়ার্ডস, সেকশন ২
স্যালন সাক্ষাৎকার (১৯৯৭)
[সম্পাদনা]
- যেকোনো তরুণ ব্যক্তির সহজাত প্রতিক্রিয়া হলো কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা করা। আমার মনে হয়, এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে শুরু হয়েছে ট্রেঞ্চ এবং সব দিক থেকে মানুষের অযোগ্যতার কারণে। আমার মনে হয় একটি ভয়াবহ তিক্ততা এবং রাগ সেখান থেকেই শুরু হয়েছে। যা সাম্যবাদের দিকে নিয়ে গেছে। আর এখন তা সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিচ্ছে। যাই হোক, এটা আমার তত্ত্ব। আপনি দেখতেই পাচ্ছেন, এটি খুব সরলীকৃত।
- আমরা যুদ্ধের সময় লাল (সাম্যবাদী) ছিলাম কারণ আমরা সবাই একই পক্ষে ছিলাম। কিন্তু তারপর সলীল যুদ্ধ শুরু হলো। প্রায় রাতারাতি আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের শত্রুতে পরিণত হলাম তারা আমাদের এড়িয়ে রাস্তা পার হতো।
- ইউরোপীয়রা কেন সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিয়ে এত চিন্তিত ছিল? এর সাথে আমাদের কোনো সম্পর্কই ছিল না। চীনের সাথেও আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমরা কেন সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে না তাকিয়ে আমাদের নিজেদের দেশে একটি ভালো সমাজ গড়ে তুলছিলাম না? কিন্তু না, আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অভিশপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিয়ে আচ্ছন্ন ছিলাম। যা ছিল একটি বিপর্যয়। মানুষ যা সমর্থন করছিল তা ছিল ব্যর্থতা। এবং ক্রমাগত তার যৌক্তিকতা খুঁজছিল।
- আমরা যে বিষয়গুলো আমাদের ভাগ করে ও বিচ্ছিন্ন করে, সেগুলোর দিকেই সবসময় তাকাই।আমি তা দেখে সবসময় বিস্মিত হই। যা মানুষের মধ্যে সাধারণ, তা আমরা কখনোই দেখি না। যদি আপনি লক্ষ্য করেন, কৃষ্ণাঙ্গ এবং শ্বেতাঙ্গ—উভয় পক্ষই পার্থক্য খোঁজে, তাদের মধ্যে কী মিল আছে তা তারা দেখে না। পুরুষ ও নারী, বৃদ্ধ ও তরুণ ইত্যাদি। আমার চোখে এটি একটি মানসিক রোগ। কারণ বাস্তবে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য যতটুকু, তার চেয়ে অনেক বেশি মিল রয়েছে।
- সমস্ত রাজনৈতিক আন্দোলন এমনই আমরাই সঠিক, বাকি সবাই ভুল। আমাদের দলের যারা আমাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে তারা হলো ধর্মত্যাগী এবং তারা শত্রুতে পরিণত হতে শুরু করে। এর সাথে সাথে আসে নিজের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে পরম দৃঢ় বিশ্বাস। সবকিছুতেই অতিরঞ্জিত সরলীকরণ থাকে আর থাকে নমনীয়তার প্রতি এক ধরণের আতঙ্ক।
- বর্তমান প্রকাশনা জগত বড়, জনপ্রিয় বইগুলোর জন্য অত্যন্ত ভালো। তারা সেগুলোকে দারুণভাবে বিক্রি করে, বাজারজাত করে। কিন্তু ছোট বইগুলোর জন্য এটি ভালো নয়। আর সত্যিই মূল্যবান বইগুলোকে ছাপার বাইরে যেতে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো দিনে, প্রকাশকরা জানতেন যে এই কঠিন বইগুলো, যে বইগুলো কেবল সংখ্যালঘুদের আকর্ষণ করে, দীর্ঘমেয়াদে সেগুলো খুব কার্যকর। কারণ সম্ভবত পরবর্তী প্রজন্মের মানুষরাই সেগুলো পড়বে। আমি যখন কথা বলি তখন কতবার যে বলতে হয়, "এই বইটি ছাপার বাইরে (আউট অফ প্রিন্ট)। এই বইটি ছাপার বাইরে।" এটা যেন মৃত বইগুলোর এক রোল কল।
২০০১–২০১৩
[সম্পাদনা]- নিজের প্রথম বিয়ে নিয়ে আমার মনে হয় না বিয়ে এখন আর আগের মতো আছে। বিয়ে হলো এমন একটা বিষয় যেখানে আপনি একটি নির্দিষ্ট ভূমিকায় প্রবেশ করেন। জীবনটা আগে থেকেই ঠিক করা থাকে আপনি কী খাবেন, কী করবেন সব। আমি সেটা কাটিয়েছি যেন নাটকের কোনো চরিত্র অভিনয় করছি। সত্যি বলতে, আমি এটাকে প্রচণ্ড ঘৃণা করতাম।
- আমাকে এই সত্যটি মেনে নিতেই হবে যে, আমি এবং আমার উচ্চমার্গীয় কমরেডরা সাউদার্ন রোডেশিয়ার সেই কাল্পনিক কমিউনিস্ট পার্টির মানুষগুলো এবং যাদের সাথে আমি পরে দেখা করেছি। আমরা সবাই আসলে সেই "বিবেকের স্বচ্ছতা থাকা হত্যাকারীদের" মতো ছিলাম। আমরা কেবল ভাগ্যবান ছিলাম, এই যা।
- "ডরিস লেসিং: অ্যান আনইউজুয়াল ফেমিনিস্ট", দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট (১৮ আগস্ট ২০০১)
- সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী নাতাশা ওয়াল্টারের কথায়, "পরিবার থেকে লেসিংয়ের পালিয়ে যাওয়া তাকে অন্য এক ফাঁদে ফেলেছিল। ১৯ বছর বয়সে এক সরকারি কর্মচারীর সাথে বিয়ে।" ১৯৫৬ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
- সবচেয়ে জরুরি হলো জীবন থেকে শেখা।
- জিল মারফি লংয়ের পারমিশন টু প্লে : টেকিং টাইম টু রিনিউ ইউওর স্মাইল (২০০৩)-এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৪৭
- বাবা-মায়ের উচিত শিশুদের বই পড়াতে চাইলে বইগুলোর ওপর "নিষিদ্ধ" লিখে ঘর ছড়িয়ে রাখা।
- আমান্ডা ক্রেইগেরসাথে সাক্ষাৎকার, "গ্র্যান্ড ডেম অফ লেটার্স হু ইজ নট গোয়িং কোয়াইটলি", দ্য টাইমস (লন্ডন, ২৩ নভেম্বর ২০০৩, পুনরায় মুদ্রিত ৩ জুন ২০০৪)
- যেকোনো মানুষকে সুযোগ দিলে সে তার অগণিত লুকানো প্রতিভা ও সক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে পারে।
- ল্যারি চ্যাংয়ের উইজডম ফর দ্য সোল: ফাইভ মিলেনিয়া অফ প্রেসক্রিপশনস ফর স্পিরিচুয়াল হিলিং (২০০৬) উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৬৬০
- আমার মনে হয় না লেখকদের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা বিষয়বস্তু নিয়ে লেখার জন্য বসে পড়া উচিত... তারা যদি কেবল নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখেন, তবেই সেখান থেকে কিছু সত্য বেরিয়ে আসবে।
- "লিটারেচার নোবেল অ্যাওয়ার্ডেড টু রাইটার ডরিস লেসিং" অল থিংস কনসিডার্ড এনপিআর (১১ অক্টোবর ২০০৭)
- এটা ৩০ বছর ধরে চলছে। আমি ইউরোপের সব পুরস্কার পেয়েছি। প্রতিটি অভিশপ্ত পুরস্কার, তাই এগুলোর সব পেয়ে আমি আনন্দিত। এটি যেন তাসের রয়্যাল ফ্লাশ।
- ২০০৭ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর, "বিবিসি নিউজ", বিবিসি, লন্ডন (১১ অক্টোবর ২০০৭)
- ওহ খোদা। আমার কিছু যায় আসে না। ... আমি বলতে পারব না যে আমি খুব বেশি অবাক হয়েছি। আমার বয়স এখন ৮৮ বছর এবং তারা তো আর কোনো মৃত ব্যক্তিকে নোবেল দিতে পারে না। তাই আমার মনে হয়, তারা সম্ভবত ভেবেছে আমি মরে যাওয়ার আগেই আমাকে এটি দিয়ে দেওয়া ভালো।
- দ্য গোল্ডেন নোটবুক কোনো কারণে মানুষকে অবাক করেছিল কিন্তু মেয়েরা প্রতিদিন রান্নাঘরে যা বলে তার চেয়ে বেশি কিছু সেখানে ছিল না। ... আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম যে কিছু মানুষ এতে শকড হয়েছিল।
- আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সবকিছু দেখানো হয়েছিল একজন "উপকারী বোকা" হিসেবে … আমার ভূমিকা এটাই ছিল … আমি বুঝতে পারি না আমি এতটা সহজ-সরল বা বোকা কেন ছিলাম।
- ১৯৫২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর প্রসঙ্গে।
- সাক্ষাৎকার, ইউজফুল ইডিয়টস - বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস (৭ জুলাই ২০১০) প্রথম খণ্ডের অংশবিশেষ, প্রায় ২:৩০ মিনিটে।
লেসিং সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- আমি ডরিস লেসিংয়ের প্রচুর লেখা পড়েছি এবং মানব আচরণ ও ইতিহাসের প্রতি তাঁর বিশ্লেষণ সবসময়ই আমার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
- লেইলা আবুলেলা, ওয়ার্ল্ড লিটারেচার টুডের সাথে সাক্ষাৎকার (২০১৯)
- বিংশ শতাব্দীর লেখকদের যদি কোনো 'মাউন্ট রাশমোর' (স্মৃতিস্তম্ভ) থাকত। তবে ডরিস লেসিংয়ের নাম অবশ্যই সেখানে খোদাই করা থাকত। আদ্রিয়েন রিচের মতোই তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্ব। যিনি সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন যখন লিঙ্গ-বৈষম্যের দুর্গের দরজাগুলো ভেঙে পড়ছিল এবং নারীরা ক্রমবর্ধমান স্বাধীনতা ও পছন্দের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি বর্ধিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হচ্ছিলেন।
- মার্গারেট অ্যাটউড, "ডরিস লেসিং" (২০১৩)
- লেসিংয়ের এই মাস্টারপিসের মূল চরিত্র আনা বলছে "সবকিছু ভেঙে পড়ছে"। বইটি তার সময়ের সমস্যা ও উদ্বেগের সাথে এক অদ্ভুত ও দূরদর্শী সম্পর্কের কারণে এবং বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যখন লেসিং তাঁর কর্মজীবনের মধ্যগগনে ছিলেন। তখনকার সাহিত্যিক কল্পনার ওপর এক অসাধারণ দখলের কারণে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। দ্য অক্সফোর্ড কম্প্যানিয়ন টু ইংলিশ লিটারেচার এই উপন্যাসটিকে "১৯৬০ এর দশকের নারী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পাঠ্য" হিসেবে বর্ণনা করেছে। যা একটি সংকীর্ণ বর্ণনা এবং এটি লেসিংকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করত। কারণ তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ করতে ঘৃণা করতেন এবং তিনি বুঝতেন যে, কথাসাহিত্য যেকোনো একক "আন্দোলনের" চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও জটিল। লেসিংয়ের কাজকে সংজ্ঞায়িত করা সবসময়ই কঠিন। ধ্রুপদী বাস্তবতা, সায়েন্স-ফিকশন, নীতিকথা, স্মৃতিচারণ, ফ্যান্টাসি এবং বিতর্কের এক অদ্ভুত মিশ্রণ। দ্য গোল্ডেন নোটবুকে এই উপাদানগুলোর অনেক কিছুই রয়েছে।
- রবার্ট ম্যাকক্রাম, দ্য গার্ডিয়ান (৬ এপ্রিল, ২০১৫)
- ডরিস লেসিং, দ্য গ্রাস ইজ সিঙ্গিং এবং চিলড্রেন অফ ভায়োলেন্স সিরিজ এগুলো আমার ওপর খুব ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে চিলড্রেন অফ ভায়োলেন্স সিরিজে তাঁর লেখা আমার খুব ভালো লাগত। অত্যন্ত বাস্তবধর্মী ও মাটিঘেঁষা! এটি আমাকে ভাবাত যে আমার কাছেও এই ধরণের উপকরণ আছে। এটি সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করে। কিন্তু যদি ডরিস লেসিং মনে করেন যে এগুলো নথিবদ্ধ করা জরুরি এবং পুরো পৃথিবী তাঁর সাথে একমত হয়। তবে আমিও আমার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো তুলে ধরার জন্য একই ধরণের উপকরণ ব্যবহার করতে পারি।
- সিতসি ডাঙ্গারেম্বগা, জেন উইলকিনসন-এর লেখা টকিং উইথ আফ্রিকান রাইটারস বইয়ে
- ...ডরিস লেসিংয়ের দ্য গোল্ডেন নোটবুক, সেই অসাধারণ উপন্যাস যা আমার জীবন এবং ১৯৬০ দশকে আরও অনেক তরুণীর জীবন বদলে দিয়েছিল।
- নোরা এফ্রন, ফিল ব্যাড এবাউট মাই নেক এন্ড আদার থটস অন বিয়িং আ ওম্যান (২০০৮), পৃষ্ঠা ১১৯
- ডরিস লেসিং সবসময়ই অনুসন্ধিৎসু, সবসময়ই নতুন ও ভিন্ন কিছুর সন্ধানে, কী অপরিসীম বুদ্ধিমত্তার পরিসর তাঁর! তাঁর প্রতিটি বই শৈল্পিক আত্মতুষ্টির ওপর এক একটি আঘাত। দ্য গোল্ডেন নোটবুককে আমি তাঁর সেরা সৃষ্টি বলে মনে করি।
- নাদিন গর্ডিমার, ন্যান্সি টপিং বাজিন ও মেরিলিন ডালম্যান সিমোর সম্পাদিত কনভারসেশনস উইথ নাদিন গর্ডিমার (১৯৯০)
- আমি যখন ডরিস লেসিংয়ের 'শিকাস্তা' সিরিজের শেষ দুটি বইয়ের পর্যালোচনা করছিলাম। তখন দেখলাম তিনি এমন একটি বিষয় আবিষ্কার করেছেন যা আমি কিছুটা আগেই আনন্দের সাথে আবিষ্কার করেছিলাম। (ক) যদি আপনি সায়েন্স-ফিকশন লেখেন, তবে আপনি সম্পূর্ণ স্বাধীন আপনি যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারেন এবং (খ) যদি আপনি সায়েন্স-ফিকশনের প্রেক্ষাপটটিকে গুরুত্বের সাথে নেন। তবে আপনি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আমরা কারা এবং কোথায় আছি অফুরন্ত সুন্দর ও জটিল রূপকের ভাণ্ডার পাবেন। আমার মনে হয়, কেবল নারীরাই এটি খুঁজে পাননি। অ্যাঙ্গাস উইলসন অনেক বছর আগে দ্য ওল্ড ম্যান ইন দ্য জু দিয়ে এটি করেছিলেন। আপনি যদি ভালো করে দেখেন, তবে ওটি একটি সায়েন্স-ফিকশন উপন্যাস। যেসব লেখক আমাকে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী করে তোলেন, তাদের অনেকেই এই ধরণের কাজ করছেন। কিন্তু লেসিং এটি করেছেন পুরো হৃদয় দিয়ে এবং সাহসের সাথে। আমি তাঁর সেই ভূমিকাটি ভালোবাসি যেখানে তিনি বলেছেন যে, শিক্ষাবিদরা সায়েন্স-ফিকশনকে অবজ্ঞা করেন এবং তাদের পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই! ডরিস লেসিংয়ের কাছ থেকে এই কথাটি আসা সত্যিই দারুণ।
- আরসুলা কে. লে গুইন, কনভারসেশনস উইথ আরসুলা লে গুইন (২০০২) সাক্ষাৎকার
- আমি ডরিস লেসিং কে সত্যিই খুব পছন্দ করি।
- গ্রেস পেলি, কনভারসেশনস উইথ গ্রেস পেলি (১৯৯৭) সাক্ষাৎকার
- তিনি হয়তো ভাবতেন, তাদের এত সময় লাগল কেন? ডরিস লেসিং নোবেল পুরস্কারের আদর্শ বিজয়ী। সর্বোপরি, এই পুরস্কারটি আদর্শবাদের কথা বলে এবং এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যে, লেখকরা পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। লেসিং পৃথিবীকে সন্ত্রাসীতে পূর্ণ এক ভয়াবহ জায়গা হিসেবে চিত্রিত করতে পারেন, যেখানে নারীরা পুরুষদের মতোই সহিংস হতে পারে এবং যুদ্ধ পুরো গ্রহের বর্ণনা দিতে পারে। কিন্তু তিনি কখনোই এই আশা ত্যাগ করেন না যে পৃথিবী আরও ভালো হতে পারে, এমনকি যদি তাকে এটি দেখানোর জন্য অন্য গ্রহ কল্পনা করতে হয়।
- টম পেইন, দ্য টেলিগ্রাফ (১২ এপ্রিল, ২০০৮)
- রসি যে ধারণা করেছেন যে নারীরা "জন্মগতভাবে" কেবল পুরুষদের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করে এবং লেসিং যে ধারণা দিয়েছেন যে লেসবিয়ানরা কেবল পুরুষদের প্রতি তাদের তিক্ততার কারণেই এমন আচরণ করে এগুলো কেবল তাদের ধারণা নয়। সাহিত্যে এবং সামাজিক বিজ্ঞানে এই ধারণাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
- আদ্রিয়েন রিচ, ব্লাড, ব্রেড, এন্ড পোয়েট্রি (১৯৮৬)
- আমি তুর্গেনেভের সাথেও তাল মেলাতে পারি না। যদিও আমি রাশিয়ান সাহিত্য ভালোবাসি অথবা ডরিস লেসিংয়ের সাথেও না যদিও আমি একজন নারীবাদী।
- জেডি স্মিথ, সাক্ষাৎকার (২০১৬)
- ১৯৭০ দশকে লেখালেখিতে আগ্রহী তরুণীদের জন্য ডরিস লেসিং ছিলেন স্বয়ং সাহিত্যদেবী। তাঁর ধ্রুপদী সৃষ্টি দ্য গোল্ডেন নোটবুক নারীদের জীবনের বৈপরীত্যগুলোকে এমনভাবে তুলে ধরেছিল। যা ছিল অত্যন্ত পরিশীলিত, অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ... আশির দশকের শুরুতে যখন আমি উপন্যাস লিখতে শুরু করি। তখন নারীদের কাছ থেকে অনেক সময় চাপ অনুভব করতাম যেন আমি 'আদর্শ নারী চরিত্র' তুলে ধরি। সেই চাপ কখনোই সফল হয়নি, আংশিকভাবে কারণ ডরিস লেসিং আমাদের আগে পথ দেখিয়ে গেছেন পাঠক হিসেবে, নারী হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে আমাদের সবার জন্য।
- সুসান সোয়ান, দ্য টরন্টো স্টার (১২ অক্টোবর, ২০০৭)
- মিস লেসিংয়ের সাম্প্রতিক রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি সবার সাথে মেলে না। ভবিষ্যতের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি (যা অনিবার্যভাবে নিষ্ঠুর ও বেদনাদায়ক) হলো ভবিষ্যৎ আসলে বর্তমানই। আমরা সবাই সম্মোহিত হয়ে আছি, সেই বিপর্যয়ের অপেক্ষায় যা আমরা আসলে এখন বসবাস করছি। আমরা এখন দৌড়াতে দৌড়াতে ও পড়তে পড়তে দ্রুত বিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। আমরা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছি কিন্তু তা দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যা আমাদের নাকের ডগায় আছে তা দেখতে না পাওয়া। ইতিহাসবিদ ও বিজ্ঞানীরা তাদের ভীতু রক্ষণশীলতায় আমাদের নিজেদের সম্পর্কে কল্পিত দৃষ্টিভঙ্গিকে উসকে দেয় মানুষের অবস্থা, উন্মাদনা, মানসিক সুস্থতা এবং মনের অপরিহার্য প্রকৃতি সম্পর্কে সত্যকে দমন করে।
- দ্য ফোর-গেটেড সিটি (১৯৬৯) প্রথম সংস্করণের বুক জ্যাকেট।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় ডরিস লেসিং সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিমিডিয়া কমন্সে ডরিস লেসিং সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।
বিষয়শ্রেণীসমূহ:
- ইংল্যান্ডের ঔপন্যাসিক
- ইংল্যান্ডের প্রাবন্ধিক
- ইংল্যান্ডের ছোটগল্পকার
- ইংল্যান্ডের নাট্যকার
- ইংল্যান্ডের কবি
- ইংল্যান্ডের বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর লেখক
- ইংল্যান্ডের আত্মজীবনীকার
- বামপন্থী কমিউনিস্ট
- সুফি
- ১৯১৯-এ জন্ম
- ২০১৩-তে মৃত্যু
- সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী
- ইংল্যান্ডের নোবেল বিজয়ী
- ইংল্যান্ডের সমাজতন্ত্রী
- ইংল্যান্ডের নারী লেখক
- ১৯১০-এর দশকে জন্ম নেওয়া নারী
- প্রথম ব্যক্তি (যিনি কোনো ক্ষেত্রে প্রথম)
- রোগে মৃত্যু
- রয়্যাল সোসাইটি অফ লিটারেচারের ফেলো
- নারী নোবেল বিজয়ী