ডায়ান ফসি
ডায়ান ফসি (১৬ জানুয়ারি, ১৯৩২ – আনুমানিক ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৫) ছিলেন একজন মার্কিন প্রাইমাটোলজিস্ট এবং প্রকৃতি সংরক্ষণবাদী, যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত মাউন্টেন গরিলা গোষ্ঠীর ওপর এক ব্যাপক গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি রুয়ান্ডার পাহাড়ি বনে প্রতিদিন তাদের ওপর গবেষণা চালাতেন, যেখানে কাজ করার জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁকে উৎসাহিত করেছিলেন প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্ট লুইস লিকি। তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে প্রকাশিত বই, ‘গরিলাস ইন দ্য মিস্ট’, হলো কারিসোক রিসার্চ সেন্টারে গরিলাদের ওপর তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পূর্ববর্তী কর্মজীবনের বিবরণ। এটি ১৯৮৮ সালে একই নামের একটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছিল।

ফসি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য প্রাইমাটোলজিস্ট এবং "ট্রাইমেটসের" একজন সদস্য; এটি লুইস লিকি কর্তৃক নিযুক্ত একদল নারী বিজ্ঞানীর গোষ্ঠী যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে বৃহৎ বনমানুষ (হোমিনিডি) নিয়ে গবেষণা করতেন। এই দলে আরও ছিলেন জেন গুডল, যিনি শিম্পাঞ্জি নিয়ে গবেষণা করেন এবং বিরুটে গ্যালডিকাস, যিনি ওরাঙ্গুটান নিয়ে গবেষণা করেন।
ফসি রুয়ান্ডায় ২০ বছর অতিবাহিত করেন, যেখানে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহায়তা করেন, শিকার এবং বন্যপ্রাণীর আবাসে পর্যটনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং গরিলাদের বুদ্ধিমত্তা ও চেতনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। একটি গরিলা হত্যা এবং পরবর্তী উত্তেজনার পর, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে রুয়ান্ডায় একটি প্রত্যন্ত শিবিরের কেবিনে তাঁকে হত্যা করা হয়। যদিও ফসির আমেরিকান গবেষণা সহকারীকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তবে কে তাঁকে হত্যা করেছে তা নিয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই।
উক্তি
[সম্পাদনা]- এই বিশাল নরবানরদের সাথে প্রথম সাক্ষাতে তাদের আচরণের লাজুকতার সাথে মিশে থাকা স্বকীয়তা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল। আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাবারা ত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু মনে মনে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের গরিলাদের সম্পর্কে আরও জানতে আমি কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসব।
- গরিলাস ইন দ্য মিস্ট (১৯৮৩) থেকে। [১]
- আমার কোনো বন্ধু নেই। গরিলাদের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি যত বেশি জানবেন, মানুষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছা আপনার তত বাড়বে।
- এপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত (১৯৮৫)। [২]
- আমরা তাকে [এক শিকারিকে] বিবস্ত্র করে আমার কেবিনের বাইরে হাত পা ছড়িয়ে বেঁধে রাখি এবং বিছুটি গাছের ডাল ও পাতা দিয়ে তাকে এমনভাবে প্রহার করি যেন তার ঘাম ছুটে যায়; আমরা বিশেষ করে সেই জায়গাগুলোতে আঘাত করি যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগার কথা। এরপর আমি মেস, ইথার, সুঁচ এবং মাস্ক ব্যবহার করে সাধারণ 'সুমু' বা কালো জাদুর প্রক্রিয়া চালাই এবং সবশেষে ঘুমের ওষুধ দিই। ... একেই বলে 'সংরক্ষণ' শুধু কথা বলা নয়।
- প্রাইমাটোলজিস্ট রিচার্ড র্যাংহামকে লেখা চিঠি (নভেম্বর ১৯৭৬)। [৩]
- এটি কেবল প্রেসিডেন্টের আদেশের বিষয় হত্যা করুন কারাগারগুলো ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং অবশিষ্ট গরিলাদের রক্ষা করার এটাই একমাত্র উপায়।
- রুয়ান্ডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে লেখা চিঠি থেকে (১৯৭৯)। [৪]
- আপনি যখন সমস্ত প্রাণের মূল্য বুঝতে পারবেন, তখন আপনি অতীতের ওপর কম জোর দিয়ে ভবিষ্যতের সংরক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে শিখবেন।
- হত্যার শিকার হওয়ার আগে ডায়ান ফসির ডায়েরির শেষ লেখা (১৯৮৫)। [৫]
ডায়ান ফসি সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- মনে হচ্ছে যেন মাদার তেরেসা এইমাত্র মারা গেছেন। কিন্তু পৃথিবীর মাদার তেরেসারা তাদের শয়নকক্ষে পিটিয়ে হত্যার শিকার হন না। ডায়ানের কিছু সত্যিকারের শত্রু ছিল এবং অন্তত একজন ছিল তার মরণঘাতী শত্রু। কিন্তু আপনি এখন [রুয়ান্ডা] সরকারের কাছ থেকে এসব শুনবেন না।
- বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [৬]
- তিমি মাছের জন্য গ্রিনপিস যা, গরিলাদের জন্য ডায়ান ফসি ছিলেন ঠিক তাই। তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে সরাসরি কাজে নেমে পড়তে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যা সঠিক মনে করতেন তাই করতেন। তবে তিনি অনেক দিক থেকেই গরিলাদের মতো ছিলেন। আপনি যদি ভয় দেখানো গর্জন আর চিৎকারেই পিছু হটেন, তবে আপনার মনে হবে গরিলা একটা দানব এবং আপনি তাদের কাছে ঘেঁষবেন না। কিন্তু যদি আপনি মেজাজটুকু এড়িয়ে মানুষের সাথে পরিচিত হতে প্রস্তুত থাকেন, তবে দেখবেন ডায়ান গরিলাদের মতোই একজন নম্র ও প্রেমময় ব্যক্তি ছিলেন।
- বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী ইয়ান রেডমন্ড (১৯৮৬)। [৭]
- আমি যখন রুয়ান্ডায় পৌঁছাই, ডায়ান অত্যন্ত উষ্ণ, আন্তরিক এবং উৎসাহব্যঞ্জক ছিলেন। তিনি কিছুটা ভীতিকরও ছিলেন; শিকারি, পার্কের ভেতরে অবৈধভাবে থাকা গবাদি পশু (যা সেই সময়ে অনেক ছিল) এবং যেসব 'ছাত্র' কারিসোকের মঙ্গলে নিজেদের শতভাগ উৎসর্গ করত না তাদের প্রতি তার এক দৃঢ় ও আপোষহীন মনোভাব ফুটে উঠত। মূলত মনে হতো তিনি কাউকে ভয় পান না এবং কারোর কাছ থেকেই কোনো আজেবাজে কথা সহ্য করবেন না। একই সঙ্গে তিনি একজন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন, বলা যায় প্রায় মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণ।
- প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (২০১৭)। [৮]
- আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল পুরোপুরি ঔপনিবেশিক। বড়দিনে তিনি তাদের অত্যন্ত দামি সব উপহার দিতেন; আবার অন্য সময়ে তাদের অপমান করতেন, তাদের সামনে মাটিতে থুতু ফেলতেন একবার তো আমি তাঁকে একজন কর্মীর গায়ে থুতু ফেলতে দেখেছি তাদের কেবিনে হুটহাট ঢুকে চুরির অপবাদ দিতেন এবং বেতন কেটে রাখতেন। আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর এই আচরণের কারণে দু’জন গবেষক কারিসোক ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কর্মীরা তাঁর প্রতি অনুগত ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের থাকতে হতো কারণ ওই এলাকায় বেতনভুক্ত কাজ খুব কম ছিল এবং ট্র্যাকার হওয়ার আলাদা একটা সম্মান ছিল। লোকগুলো কখনোই বুঝতে পারত না তিনি কখন তাদের ওপর চিৎকার শুরু করবেন। তিনি যখন ক্যাম্প থেকে বাইরে যেতেন, তখন যেন বিষণ্ণতার মেঘ কেটে যেত; আর বছরের পর বছর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল।
- প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [৯]
- তিনি তাদের [শিকারিদের] নির্যাতন করতেন। তিনি বিছুটি পাতা দিয়ে তাদের অণ্ডকোষে আঘাত করতেন, তাদের গায়ে থুতু দিতেন, লাথি মারতেন, মুখোশ পরে তাদের অভিশাপ দিতেন এবং জোর করে গলায় ঘুমের ওষুধ ঢুকিয়ে দিতেন। তিনি বলতেন যে তিনি এগুলো করতে ঘৃণা বোধ করেন এবং বনে টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য শিকারিদের শ্রদ্ধা করেন; কিন্তু তিনি এতে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কাজগুলো করতে পছন্দ করতেন, আবার সেই পছন্দের জন্য অপরাধবোধেও ভুগতেন। তিনি তাদের এতটাই ঘৃণা করতেন। তিনি তাদের ভয়ের পুতুল বানিয়ে ছেড়েছিলেন—ছেঁড়া পোশাক পরা ছোটখাটো মানুষগুলো মাটিতে গড়াগড়ি খেত আর ভয়ে মুখ দিয়ে ফেনা তুলত।
- প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [১০]
- আমার মনে হয় শেষ দিকে তিনি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছিলেন। ডায়ান গরিলাদের কাছে গিয়েছিলেন কারণ তিনি তাদের ভালোবাসতেন এবং বন্য পরিবেশ ও একা থাকা পছন্দ করতেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। মানুষের সঙ্গে কাজ করা, তাদের সংগঠিত করা বা লড়াই করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি মোটেও দক্ষ ছিলেন না, অথচ তিনি কর্তৃত্ব ছাড়তেও পারতেন না। তিনি নিজেকে গৌণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারতেন না। সব ছেড়ে কোথাও পঙ্গু হয়ে মারা যাওয়ার কথা তিনি কখনোই ভাবেননি। তিনি সবসময় একটি চূড়ান্ত সংঘাতের কল্পনা করতেন। তিনি নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে দেখতেন, যিনি এক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছেন যে তাঁকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। এটি একটি নিখুঁত সমাপ্তি ছিল। তিনি যা চেয়েছিলেন তাই পেয়েছেন। চিত্রনাট্যটি তিনি এভাবেই শেষ করতেন।
- প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [১১]
- এটি সম্ভবত সত্য যে ডায়ান ভুল পথ বেছে নিয়েছিলেন যখন তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এবং একা শিকারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবুও তিনি অনুভব করেছিলেন যে, তিনি যে ভয়াবহ অন্যায়গুলো হতে দেখছেন তা সংশোধন করার এটাই একমাত্র উপায়। কিন্তু তাকে দোষ দেওয়ার আমরা কে? গোম্বেতে যদি শিকারিরা শিম্পাঞ্জিদের হুমকি দিত, তবে আমি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম তা আমি জানি না।
- প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল; ফসির মৃত্যুর পর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মেমোরিয়াল ফান্ডরেইজারে বাজানো একটি রেকর্ড করা বার্তা থেকে। [১২]
- আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম। যারা তাকে ভালোবাসত তারা সবাই তাকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তিনি এই জাতীয় কোনো কথা শুনতে চাননি। তিনি ছিলেন নিজের নিয়মে চলা এক মানুষ।
- প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল। [১৩]
- তিনি এমন কিছু পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল; এমন কিছু বিপর্যয় যা শুরুর দিকে তার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করেছিল এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তার স্বভাবকে তিক্ত করে তুলেছিল। অন্য কেউ হলে হাল ছেড়ে দিত। তিনি শারীরিকভাবে কখনোই খুব শক্তিশালী ছিলেন না, কিন্তু তার সাহস ও ইচ্ছাশক্তি ছিল প্রবল এবং গরিলাদের অধ্যয়নের এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, যা তাকে সেখানে টিকিয়ে রেখেছিল।
- ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির আলোকচিত্রী বব ক্যাম্পবেল (১৯৮৬)। [১৪]
- আমি কেবল সেই মানুষটিকে চিনতাম যার সাথে আমাকে আট বছর কাজ করতে হয়েছে, এবং তিনি ছিলেন একজন বিষণ্ণ মানুষ। তিনি একসময় তাঁর যে একাগ্রতা ছিল, কেবল সেটির ওপর ভর করেই চলছিলেন। গরিলা যদি তাঁর জীবনের মূল চালিকাশক্তি হতো, তবে কেন তিনি খুব একটা গরিলাদের কাছে যেতেন না? তিনি অন্যদের 'অহংবোধ' এর সমালোচনা করতেন, অথচ তিনি নিজেই পুরো স্টেশন এবং দীর্ঘদিনের সব রেকর্ড পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। তিনি কারিসোক আর গরিলা সবকিছুই নিজের সাথে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন। আমি যখন একটি শুমারি করে দেখালাম যে গরিলাদের সংখ্যা বেশ ভালোভাবেই বাড়ছে, তখন তিনি আমার অর্থায়ন বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন; তিনি চেয়েছিলেন তারা যেন মরে যেতে থাকে।
ডায়ান প্রথম ছয় বছরে যা করেছিলেন তার জন্য পৃথিবীর সমস্ত প্রশংসা পেতে পারতেন। তাঁর কাজের ওপর ভিত্তি করে অন্যদের এগিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু সেটি হওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস বা চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁর ছিল না। অনেক মানুষ ডায়ান ফসি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এখানে আসত এবং তাঁকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রেখে শ্রদ্ধা করতে চাইত। কেউ তাঁর সাথে লড়াই করতে চায়নি। কেউ এই জায়গা দখল করতে চায়নি। তিনি নিজেই অনেক ষড়যন্ত্র আর শত্রু আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন যে ওখানে কেউ টিকতে পারে না, সবাই বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল কেবল তিনিই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি গরিলাদের বাঁচাতে গিয়ে মারা যাননি। তিনি মারা গেছেন কারণ তিনি ডায়ান ফসির মতো আচরণ করছিলেন।- বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [১৫]
- ডায়ানের পরিচালনায় গবেষণা কেন্দ্রে থাকাকালীন তিনি কোনো রুয়ান্ডাবাসীকে গরিলাদের আশেপাশে থাকতে দিতেন না তার দাবি ছিল এটি গরিলাদের শিকারিদের কাছে আরও বেশি অরক্ষিত করে তুলবে। যেহেতু না দেখেই একটি বন্দুকের গুলি বা ফাঁদ কার্যকর হতে পারে, তাই এই যুক্তির কোনো মানে হয় না; আর এখন যখন রুয়ান্ডাবাসীরা তাদের সংরক্ষণে পুরোপুরি যুক্ত, তখন শিকারের ঘটনা অনেক কমে গেছে এবং গরিলাদের সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- এমি ভেডার, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুসংস্থানবিদ ও প্রাইমাটোলজিস্ট এবং ফসির অধীনে কারিসোক রিসার্চ সেন্টারের একজন প্রাক্তন সদস্য (২০১৭)।
- শিকারি, গবাদি পশুর রাখাল, পার্কের কর্মকর্তা, পশ্চিমা সংরক্ষণবাদী, তাঁর কর্মীবৃন্দের সদস্য, ডজন দুয়েক গবেষক সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের মিছিলটি অতীতের অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিপন্ন মাউন্টেন গরিলাদের সুরক্ষার একক লক্ষ্য অর্জনে ফসি তাঁর শত্রুদের দিকে গুলি ছুড়েছেন, তাদের সন্তানদের অপহরণ করেছেন, তাদের যৌনাঙ্গে চাবুক মেরেছেন, তাদের গায়ে বনমানুষের বিষ্ঠা মাখিয়েছেন, তাদের গবাদি পশু হত্যা করেছেন, তাদের সম্পত্তি পুড়িয়েছেন, তাদের কাজকে কলঙ্কিত করেছেন এবং তাদের জেলে পাঠিয়েছেন।
- হ্যারল্ড টি. পি. হেইস রচিত দ্য ডার্ক রোমান্স অফ ডায়ান ফসি (১৯৯০)।
- ফসি এবং অন্যান্য 'ট্রাইমেটসের' খ্যাতি সত্ত্বেও বিজ্ঞানে নারীরা, বিশেষ করে আফ্রিকান নারীরা এখনও অবহেলিত। আমরা বিজ্ঞানে নারীদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য স্কলারশিপ ফান্ড গঠনসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছি; পাশাপাশি গরিলাদের কাছাকাছি বসবাসকারী সম্প্রদায়গুলোতে আমাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে নারীদের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখছি। ডায়ানের উত্তরাধিকারকে এইভাবে বিশেষ উপায়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারাটা চমৎকার, যা হয়তো তিনি নিজেও কখনও প্রত্যাশা করেননি।
- ড. তারা স্টয়েনস্কি, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও/প্রধান বিজ্ঞানী, ডায়ান ফসি গরিলা ফান্ড (১৫ জানুয়ারি ২০২৩)।