মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
অবয়ব
(ডা. লুৎফর রহমান থেকে পুনর্নির্দেশিত)
মোহাম্মদ লুৎফর রহমান (১৮৮৯-১৯৩৬) ছিলেন একজন বাঙালি সাহিত্যিক, সম্পাদক ও সমাজকর্মী। তাঁর সমস্ত সৃষ্টির মুলেই রয়েছে মানুষের স্বরূপ অন্বেষণ ও সামাজিক কল্যাণবোধ। তিনি 'ডাক্তার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান' হিসেবে সমধিক পরিচিত। লুৎফর রহমানের সাহিত্য সাধনা শুরু হয়েছিল মূলত কবিতা রচনার মাধ্যমে। ১৯১৫ সালে চল্লিশটি কবিতা নিয়ে তার প্রথম এবং একমাত্র কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ প্রকাশিত হয়। পরে তিনি বিভিন্ন প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, কথিকা, শিশুতোষ সাহিত্য ইত্যাদি রচনা করেছেন। তার কিছু অনুবাদ কর্মও পাওয়া যায়। তৎকালীন বাংলা ভাষার বিখ্যাত পত্রিকা ও সাময়িকীগুলোতে তার রচনা সমূহ প্রকাশ হত।
উক্তিসমূহ
[সম্পাদনা]- "উন্নত, ত্যাগী, শক্তিশালী, প্রেমিক, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবান মানুষ বিদ্যাহীন বা অল্পশিক্ষিত মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় না। মানুষের বা জাতিকে বড় হতে হলে সব সময়ই তাকে জ্ঞানের সেবা করতে হবে।" — উন্নত জীবন, রচনাসমগ্র
- "পাপ, মিথ্যা, অন্যায়, অত্যাচার—এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চাই, এই-ই ধর্ম। পাপের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কর। ঈশ্বরের সৈনিক হও। ঈশ্বরের রাজ্য বিস্তার কর....।" — ধর্ম জীবন, রচনাসমগ্র
- "জীবন মানেই সংগ্রাম, কিন্তু এই সংগ্রাম কেবল টিকে থাকার জন্য নয়—আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য।" — উন্নত জীবন
- "যে জাতি আত্মসম্মান ভুলে যায়, সে জাতি পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।" — জাতি ও মানবতা
- "শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করা।" — শিক্ষা ও সমাজ
- "সত্যের পথে যারা চলে, পরাজয় তাদের জন্য কখনোই চূড়ান্ত নয়।" — ধর্ম জীবন
- "দেশপ্রেম মানে শুধু আবেগ নয়, এটা একটি দায়িত্ব—নিরবিচারে পালন করতে হয়।" — দেশ ও জাতি
- "নৈতিকতার শূন্যতায় সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়—আর তা পূরণ হয় শিক্ষিত, বিবেকবান মানুষের মাধ্যমে।" — মানবিকতা ও সভ্যতা
- তুমি তোমার ব্যক্তিত্বকে দৃঢ় করে তোল। কেউ তোমার উপর অন্যায় আধিপত্য করতে পারবে না।
- প্রতিভা থাকলেও চেষ্টা না করলে জগতে প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায় না।
- উন্নত ত্যাগী, শক্তিশালী, প্রেমিক, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবান মানুষ বিদ্যাহীন বা অল্পশিক্ষিত মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় না। মানুষকে বা জাতিকে বড় হতে হলে সবসময়ই তাকে জ্ঞানের সেবা করতে হবে।
- জগৎ ও সমাজ যাঁরা গড়ে তুলেছেন, তাঁরা যে সবাই প্রতিভাবান, অসাধারণ, বিশিষ্ট ক্ষমতায় ভাগ্যবান ছিলেন তা নয়। তাঁরা ছিলেন পরিশ্রমী, সহিষ্ণু, সাধক।
- মানুষ তার গৌরব ভুলে কী করে আঁধার ও মৃত্যুর পথে হাঁটবে? মানুষকে মহৎ করতে হবে, কারণ মহৎ হবার জন্যই সে এ জগতে এসেছিল।
- যেখানে আছ, সেখান থেকেই তোমার যাত্রা শুরু হোক- এখান হতেই তুমি তোমার জীবনকে বড় করে তুলতে পার। কোথাও যাবার দরকার নেই।
- কোনও সভ্য জাতিকে অসভ্য করার ইচ্ছা যদি তোমার থাকে, তাহলে তাদের বইগুলো ধ্বংস কর, সকল পণ্ডিতকে হত্যা কর, তোমার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে।
- জাতি যখন দৃষ্টিসম্পন্ন ও জ্ঞানী হয়, তখন জাগবার জন্য সে কারো আহ্বানের অপেক্ষা করে না, কারণ, জাগরণই তার স্বভাব।
- তোমার ছোট সুন্দর পরিবারকে নিয়ে দরিদ্র সচ্ছল অবস্থায় জ্ঞানরাজ্যের সঙ্গে যোগ রেখে যদি তুমি মরে যেতে পার- তোমার জীবন সার্থক।
- যারা কাপুরুষ তারাই ভাগ্যের দিকে চেয়ে থাকে। পুরুষ চায় নিজের শক্তির দিকে। তোমার বাহু, তোমার মাথা তোমাকে টেনে তুলবে, তোমার কপাল নয়।
উৎস
[সম্পাদনা]- রচনাসমগ্র, ড. লুৎফর রহমান