ঢেউ
অবয়ব

জলের কোলে লুকোচুরি জীবনে মরণেতে।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঢেউ বা তরঙ্গ হলো জল বা অন্য কোনো মাধ্যমে সৃষ্ট কম্পনরত আন্দোলন, যা শক্তি স্থানান্তর করে। এটি সাধারণত বাতাস এবং জলের কণার মধ্যকার ঘর্ষণের ফলে তৈরি হয়, যেখানে শক্তিশালী বাতাসে ঢেউয়ের আকার বড় হয়। সাগরে ঢেউ তৈরির প্রধান কারণ হলো সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া বাতাস। সমুদ্রের বুকে সৃষ্ট উঁচু-নিচু ঢেউ বা তরঙ্গ বৈজ্ঞানিকভাবে জলরাশির একটি পর্যায়বৃত্তিক আন্দোলন। ঢেউকে হিল্লোল, ঊর্মি বা লহরীও বলা হয়। জল তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, আলো তরঙ্গ প্রভৃতি নানা ধরনের তরঙ্গ বা ঢেউ হতে পারে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- উঠিছে ঢেউ, পড়ে ঢেউ, গণিবে কেবা কত।
ভাসিছে শত গ্রহ তারা, ডুবিছে শত শত।
ঢেউয়ের পরে খেলা করে আলোকে আঁধারেতে,
জলের কোলে লুকোচুরি জীবনে মরণেতে।
শতেক কোটি গ্রহ তারা যে স্রোতে তৃণপ্রায়,
সে স্রোতমাঝে অবহেলে ঢালিয়া দিব কায়।- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্রোত, কাব্যগ্রন্থ (প্রথম খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬৩
- তরঙ্গ বিষয়ক অধ্যয়ন বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের প্রায় প্রতিটি শাখার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত, দৈনন্দিন জীবনেও তরঙ্গের গুরুত্ব রয়েছে। শব্দতরঙ্গের সাহায্যে আমরা শুনতে পাই এবং তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের সাহায্যে আমরা দেখতে পাই।
- ডি. এস. ড্রামহেলার (১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮)। অরৈখিক তরল ও কঠিন পদার্থে তরঙ্গ সঞ্চালনের ভূমিকা (ইংরেজি ভাষায়)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ১। আইএসবিএন 978-0-521-58746-4।
- তিতাস একটি নদীর নাম। তার কূলজোড়া জল, বুকভরা ঢেউ, প্রাণভরা উচ্ছ্বাস। স্বপ্নের ছন্দে সে বহিয়া যায়। ভোরের হাওয়ায় তার তন্দ্রা ভাঙ্গে, দিনের সূর্য তাকে তাতায়; রাতে চাঁদ ও তারারা তাকে নিয়া ঘুম পাড়াইতে বসে, কিন্তু পারে না।
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
- বলা যেতে পারে, ভর ব্যবধানই হলো সেই কারণ যার জন্য আমরা চিরায়ত অরৈখিক ইয়াং-মিলস তরঙ্গ দেখতে পাই না। এগুলো কেবল অগম্য পরিস্থিতিতেই ভালো আনুমানিক ধারণা দেয়। আমি আমার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় এই আশায় কাটিয়েছি যে, চতুর্মাত্রিক গেজ তত্ত্বে ভর ব্যবধানকে পরিমাণগতভাবে বোঝার মতো সত্যিই যদি ভালো একটি উপায় থাকত। আমি আশা করি, এই সমস্যার একদিন সমাধান হবে।
- এডওয়ার্ড উইটেন (২০০৮)। গেজ তত্ত্বের সমস্যা (ইংরেজি ভাষায়)।
- সমুদ্রে চলিতে চলিতে প্রতি বৎসরই কত জাহাজ ডুবিয়া মরে। কেহ মরে ঝড় তুফানে, কেহ মরে ঢেউয়ের ঝাপটায়, কেহ মরে পাহাড়ের গুঁতায়, আর কেহ মরে অন্য জাহাজের ধাক্কা লাগিয়া—যুদ্ধের কথা নাহয় ছাড়িয়াই দিলাম। এইরকম কত উপায়ে জাহাজ মরিতেছে তাহার ঠিকানাই নাই।
- সুকুমার রায়, জাহাজ ডুবি, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২০৬-২০৭
- যাঁহারা বাঙ্গালার নদীবর্গে নৌকারোহণ করিতে ভীত, সাগরোর্ম্মির পরিমাণ সম্বন্ধে তাঁহাদের কিরূপ অনুমান, তাহা বলিতে পারি না। উপকথায় “তালগাছ প্রমাণ ঢেউ” শুনা যায়—কিন্তু কেহ তাহা বিশ্বাস করে না। সমুদ্রে তদপেক্ষা উচ্চতর ঢেউ উঠিয়া থাকে। ফিণ্ডে সাহেব লিখেন, ১৮৪৩ অব্দে কর্ম্বালেয় নিকট ৩০০ ফিট অর্থাৎ ২০০ হাত উচ্চ ঢেউ উঠিয়াছিল। ১৮২০ সালে নরওয়ে প্রদেশের নিকট ৪০০ ফিট পরিমিত ঢেউ উঠিয়াছিল। সমুদ্রের ঢেউ অনেক দূর চলে। উত্তমাশা অন্তরীপে উদ্ভূত মগ্ন তরঙ্গ তিন সহস্র মাইল দূরস্থ উপদ্বীপে প্রহৃত হইয়া থাকে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সমুদ্র-তরঙ্গ, বিজ্ঞানরহস্য- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দ (১২৯১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭২
- হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।- জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪
- আলোর ঢেউয়ের কথাই বুঝে নেওয়া যাক। এই ঢেউ একটিমাত্র ঢেউয়ের ধারা নয়। এর সঙ্গে অনেক ঢেউ দল বেঁধেছে। কতকগুলি চোখে পড়ে, অনেকগুলি পড়ে না। এইখানে ব’লে রাখা ভালো, যে-আলো চোখে পড়ে না, চলতি ভাষায় তাকে আলো বলে না। কিন্তু দৃশ্যই হোক অদৃশ্যই হোক, একটা কোনো শক্তির এই ধরনের ঢেউ-খেলিয়ে চলাই যখন উভয়েরই স্বভাব, তখন বিশ্বতত্ত্বের বইয়ে ওদের পৃথক নাম অসংগত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পরমাণুলোক, বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯-১০
- সুবলার বউয়ের নিকট এ সমস্তই স্বপ্ন বলিয়া মনে হইল। এমন কি যে অনন্তবালা সামনে দাঁড়াইয়া আছে, সেও যেন একটা স্বপ্ন মাত্র। একমাত্র সত্য চরের ধানগাছগুলি। কি অজস্র ধান ফলিয়াছে। দক্ষিণের ঐ অনেক দূরের শিবনগর গাঁ হইতে আগে ঢেউ উঠিত। সে ঢেউ থামিত আসিয়া এই মালোপাড়ার মাটিতে ঠেকিয়া। এখন সেই সুদূর হইতে সেই ঢেউই যেন রূপান্তরিত হইয়া ধানগাছের মাথাগুলির উপর দিয়া বহিয়া আসে। সেই দিকে চাহিয়া সুবলার বউ ধীরে ধীরে চোখ মুদিল।
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৩৭-৪৩৮
- তুমি যখন কথা বল তখন তোমার গলার আওয়াজ চারিদিকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। যতদূর পর্যন্ত সে আওয়াজ যায় ততদূর পর্যন্ত বাতাসে নানারকম ঢেউ খেতিয়ে যায়। মোটা গলার বড়ো-বড়ো ঢেউ সরু গলার ছোটো-ছোটো ঢেউ। চেঁচিয়ে বললে বাতাসে জোরে জোরে ঢেউয়ের ধাক্কা লাগে, আস্তে বললে সে ঢেউ বাতাস ঠেলে বেশি দূর এগোতেই পারে না। কিন্তু যেমন করেই কথা বল আর যত জোরেই বল, খানিক দূর পর্যন্ত গিয়ে সে ঢেউ আপনি মিলিয়ে যাবে। তার পরে আর তোমার আওয়াজ পৌঁছবে না।
- সুকুমার রায়, আকাশবাণীর কল, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৮৫
- আবছায়া চারিদিক, ঝাপসা নিঝুম,
পউষের ভোরবেলা—ভেঙে গেল ঘুম।
উষার দুয়ারে এক তুষারের ঢেউ
কখন পড়েছে ভেঙে, জানে না তা কেউ।- সুনির্মল বসু, শীতের সকাল, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭১
- আলোর ঢেউয়ের আপন দলের আরো একটি ঢেউ আছে, সেটা চোখে দেখিনে, স্পর্শে বুঝি। সেটা তাপের ঢেউ। সৃষ্টির কাজে তার খুবই প্রতাপ। এমনিতরো আলোর ঢেউজাতীয় নানা পদার্থের কোনোটা দেখা যায়, কোনোটা স্পর্শে বোঝা যায়, কোনোটাকে স্পষ্ট আলোরূপে জানি আবার সঙ্গে সঙ্গেই তাপরূপেও বুঝি, কোনোটাকে দেখাও যায় না, স্পর্শেও পাওয়া যায় না।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পরমাণুলোক, বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
- ‘নই ঘোড়া, নই হাতি, নই সাপ বিচ্ছু,
মৌমাছি প্রজাপতি নই আমি কিচ্ছু।
মাছ ব্যাঙ গাছপাতা জলমাটি ঢেউ নই,
নই জুতা নই ছাতা, আমি তবে কেউ নই!’- সুকুমার রায়, কিম্ভূত, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
- বাতাসে আমাদের নৌকাখানি কিনারার দিকে চলিল, এমন সময়, হঠাৎ এক বিশাল ঢেউ আসিয়া সেই নৌকা উণ্টাইয়া দিল,—আর আমরা সমুদ্রের লোণা জলে হাবু ডুবু খাইতে লাগিলাম। একটা ঢেউ আসিয়া খুব জোরে আমাকে কিনারার দিকে ঠেলিয়া লইয়া, এক পাথরের চিবির উপর আছড়াইয়া ফেলিল। আমি পাথর আঁকড়াইয়া ধরিয়া ঢিবির উপর পড়িয়া রহিলাম।
- ড্যানিয়েল ডিফো, রবিন্সন্ ক্রুসো- ড্যানিয়েল ডিফো, অনুবাদক- অজ্ঞাত, প্রকাশক- সিটী বুক সোসাইটী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩
- ছোট ছোট পাহাড়গুলি প্রায়ই বনে আবৃত; এই জন্য দূর হইতে গাঢ় নীলবর্ণ দেখায়। যখন চারি দিকের ক্ষেত্রসকল শ্যামল শস্যরাশিতে পরিপূর্ণ থাকে, তখন এই সকল পাহাড় দেখিয়া দূর হইতে মনে হয়, ইহারা কাহার ঢেউ?—নীল আকাশের ঢেউ, না সেই শ্যামল শস্যরাশির ঢেউ?
- যতীন্দ্রমোহন সিংহ, নীলকণ্ঠপুর, উড়িষ্যার চিত্র, প্রথম খণ্ড, উড়িষ্যার চিত্র - যতীন্দ্রমোহন সিংহ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
- ঢেউয়ের গায়ে ঢেউগুলো সব গড়ায় ফুলে ফুলে,
পুবের চরে কাশের মাথা উঠছে দুলে দুলে।
ঈশান কোণে উড়তি বালি আকাশখানা ছেয়ে
হু হু করে আসছে ছুটে ধেয়ে।- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঝড়, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩
- সাঁতার-জলে গা ভাসিয়ে, নদীর জলে ঢেউ নাচিয়ে শকুন্তলা গা ধুলে। রঙ্গভরে অঙ্গের শাড়ি জলের উপর বিছিয়ে দিলে; জলের মতো চিকণ আঁচল জলের সঙ্গে মিশে গেল, ঢেউয়ের সঙ্গে গড়িয়ে গেল। সেই সময়ে দুর্বাসার শাপে রাজার সেই আংটি শকুন্তলার চিকণ আঁচলের এক কোণ থেকে অগাধ জলে পড়ে গেল, শকুন্তলা জানতেও পারলে না।
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শকুন্তলা - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিতীয় সংস্করণ, আদি ব্রাহ্মসমাজ সংস্করণ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
- হে পর্বত, যত নদী করি নিরীক্ষণ,
তোমাতেই করে তারা জনম গ্রহণ।
ছোট বড় ঢেউ সব তাদের উপরে
কল কল শব্দ করি সবে ক্রীড়া করে,
নদী বেঁকে চুরে যায় দেশে দেশে,
সাগরেতে পড়ে গিয়া সকলের শেষে।- সুকুমার রায়, নদী, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৯
- যখন আমাদের চোখে দেখার সঙ্গে বিশ্বের আলোকের যোগ হয়, যখন আমাদের কানে-শোনার সঙ্গে বিশ্বের গানের মিলন ঘটে, যখন আমাদের স্পর্শস্নায়ুর তন্তুতে তন্তুতে বিশ্বের কত-হাজার-রকম আঘাতের ঢেউ আমাদের চেতনার উপরে ঢেউ খেলিয়ে উঠতে থাকে, তখনি আমাদের জাগা— আমাদের শক্তির সঙ্গে যখন বিশ্বের শক্তির যোগ দুই দিক থেকেই সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে তখনি জাগা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাগরণ, শান্তিনিকেতন (দ্বিতীয় খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক-বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫১
- হিশিদা বেঁচে থাকলে খুব বড় আর্টস্ট হত। একটি ছবি এঁকেছিল—দূরে সমুদ্রে আকাশে মিলে গেছে, সামনে বালুর চর, ছবিতে একটি মাত্র ঢেউ এঁকেছে যেন এসে আছড়ে পড়ছে পারে। সে যে কি সুন্দর কি বলব। পান্নার মত ঢেউয়ের রঙটি, তার গর্জন যেন কানে এসে বাজত স্পষ্ট। বড় লোভ হয়েছিল সেই ছবিটিতে।
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জোড়াসাঁকোর ধারে, জোড়াসাঁকোর ধারে- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৫
- সব পলিমাটি জলের তলে থিতাইয়া রহিয়াছে, উপরে ভাসিয়া রহিয়াছে নির্মল জল। তিতাসের জল তাই সাদাও নয়, গৈরিকও নয়, একেবারে নির্মল; আর নির্মল বলিয়াই কালো। সেই কালো জলের উপর দিয়া ঢেউয়ের পর ঢেউ আসিয়া এখানে আছাড় খাইতেছে। ঢেউয়ে ঢেউয়ে জল কেবল আগাইয়া আসিতেছে।
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, রামধনু, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭০
- এসো ঢেউ বড়ো ঢেউ মেজো ঢেউ কুনো ঢেউ এসো
ঘুমন্ত তীরের দিকে
ছুটে এসো, নুলিয়ার শাদা টুপি খুলে নাও আজ
আর ম্রিয়মাণ মানুষের মুখে গুঁজে দাও
কুচো-চিংড়ি, ঝিনুকের ছানা-পোনা—- তপোধীর ভট্টাচার্য, সাগর স্নান, কবিতাসংগ্রহ- তপোধীর ভট্টাচার্য, প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এবং মুশায়েরা, কলকাতা, প্রকাশসাল-২০০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৪১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৬
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় তরঙ্গ সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে ঢেউ শব্দটি খুঁজুন।
উইকিমিডিয়া কমন্সে ঢেউ সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।