বিষয়বস্তুতে চলুন

তারিখ-ই-কাশ্মীর

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

তারিখ-ই-কাশ্মীর (কাশ্মীরের ইতিহাস) বলতে কাশ্মীরের সুলতানি আমলের বেশ কিছু ইতিহাস গ্রন্থকে বোঝায়, যার মধ্যে কিছু হারিয়ে গেছে এবং অন্যগুলোর উৎস হিসেবে আংশিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উক্তি

[সম্পাদনা]

হায়দার মালিকের তারিখ-ই-কাশ্মীর

[সম্পাদনা]
হায়দার মালিকের তারিখ-ই-কাশ্মীর, যা তারিখ-ই-হায়দার মালিক হিসেবে পরিচিত।
  • সুলতান সিকান্দারের রাজত্বকালে মীর সাইয়্যিদ হামদানীর পুত্র মীর সাইয়্যিদ মুহাম্মদ এখানে আসেন এবং তার প্রচার ও নির্দেশনার মাধ্যমে অজ্ঞতা, কুফর ও মন্দের কলঙ্ক দূর করেন। তিনি সুলতান সিকান্দারের জন্য তাসাউউফ বিষয়ে একটি পত্র লিখেছিলেন এবং সুলতান সিকান্দার তার অনুসারী হন। তিনি সব ধরনের তুচ্ছ খেলাধুলা নিষিদ্ধ করেছিলেন। শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো কাজ করার সাহস কেউ পেত না। সুলতান ক্রমাগত কাফেরদের নির্মূল করতে ব্যস্ত থাকতেন এবং অধিকাংশ মন্দির ধ্বংস করেছিলেন।
    • তারিখ-ই-কাশ্মীর, রাজিয়া বানো সম্পাদিত এবং ইংরেজি অনুবাদিত, দিল্লি, ১৯৯১, পৃ. ৫৫।
  • “মালিক মুসা ৯০৭ হিজরিতে (১৫০১ খ্রিষ্টাব্দ) সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার রাজত্বকালে তিনি কাফেরদের নির্মূল করতে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং নবীর ধর্ম প্রচারে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি অধিকাংশ মন্দির জনশূন্য করে দিয়েছিলেন যেখানে কাফেররা মূর্তিপূজা করত। যেখানেই কোনো মন্দির ছিল, তিনি সেটি ধ্বংস করে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন... সুলতান সিকান্দারের পর কাশ্মীরের কোনো সুলতান... ইসলামি বিশ্বাস প্রসারের জন্য মালিক মুসা চাদুরাহর মতো এমন প্রচেষ্টা আর কখনো করেননি এবং এই শুভ কারণে তিনি ‘প্রতিমা ভঙ্গকারী’ উপাধি লাভ করেন।”
    • কাশ্মীরের মালিক মুসা সম্পর্কে, তারিখ-ই-কাশ্মীর, রাজিয়া বানো সম্পাদিত এবং ইংরেজি অনুবাদিত, দিল্লি, ১৯৯১, পৃ. ৬১।
  • “...বাবা উচাহ গানাই দুই হারম (মক্কা ও মদিনা) তাওয়াফ করতে গিয়েছিলেন... পূর্ণাঙ্গ পথপ্রদর্শকের (পীর-ই-কামিল) সন্ধানে। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন (তাকে সাহায্য করার জন্য), তখন তিনি অজানালোক থেকে এক কণ্ঠ শুনতে পেলেন যে, ‘পূর্ণাঙ্গ পথপ্রদর্শক’ খোদ কাশ্মীরেই আছেন... হযরত শেখ, বাবা উচাহ গানাই... কাশ্মীরে ফিরে আসেন... হঠাৎ তার চোখ এক উপাসনালয়ের ওপর পড়ল, যা ছিল হিন্দুদের মন্দির। তিনি হাসলেন। ভক্তরা যখন তার (হাসির) কারণ জানতে চাইল, তিনি উত্তর দিলেন যে এই উপাসনালয়গুলোর ধ্বংস ও বিনাশ এবং এই প্রতিমাগুলোর চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া উচ্চ শিংওয়ালা শেখ শামস-উদ-দীন ইরাকির হাতে ঘটবে। তিনি শীঘ্রই ইরাক থেকে আসবেন এবং মন্দিরগুলোকে সম্পূর্ণরূপে জনশূন্য করে দেবেন এবং পথভ্রষ্ট মানুষের অধিকাংশ হেদায়েতের পথ ও ইসলাম গ্রহণ করবে... তাই বিধিনির্ধারিত হিসেবে শেখ শামস-উদ-দীন কাশ্মীরে পৌঁছান। তিনি উপাসনালয় এবং হিন্দুদের মন্দিরগুলো ধ্বংস করতে শুরু করেন এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালান।”
    • কাশ্মীরের সুফি মীর শামসুদ্দিন ইরাকি সম্পর্কে, তারিখ-ই-কাশ্মীর, রাজিয়া বানো সম্পাদিত এবং ইংরেজি অনুবাদিত, দিল্লি, ১৯৯১, পৃ. ১০২-৩।
  • হায়দার মালিক চাদুরাহ লিখিত কাশ্মীরের একটি ঐতিহাসিক বিবরণ তারিখ-ই-কাশ্মীর-এ লিপিবদ্ধ আছে, যিনি সুলতান ইউসুফ শাহের দরবারে (১৫৭৯-৮৬) কর্মরত ছিলেন: ‘শেখ শামস-উদ-দীন কাশ্মীরে পৌঁছান। তিনি উপাসনালয় এবং হিন্দুদের মন্দিরগুলো ধ্বংস করতে শুরু করেন এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালান।’
    • চাদুরাহ এইচএম (১৯৯১) তারিখ-ই-কাশ্মীর, রাজিয়া বানো সম্পাদিত ও অনূদিত, দিল্লি, পৃ. ১০২-০৩। এম. এ. খানের ‘ইসলামিক জিহাদ: এ লেগাসি অফ ফোরসড কনভার্সন, ইম্পেরিয়ালিজম অ্যান্ড স্লেভারি’ (২০১১) বইতে উদ্ধৃত।
  • সুলতান সিকান্দার (রাজত্বকাল ১৩৮৯-১৪১৩) ‘অনবরত কাফেরদের নির্মূল করতে ব্যস্ত থাকতেন এবং অধিকাংশ মন্দির ধ্বংস করেছিলেন...’ হায়দার মালিক চাদুরাহ এমনটিই নথিবদ্ধ করেছেন।
    • এম. এ. খানের ‘ইসলামিক জিহাদ: এ লেগাসি অফ ফোরসড কনভার্সন, ইম্পেরিয়ালিজম অ্যান্ড স্লেভারি’ (২০১১) বইতে উদ্ধৃত; যা চাদুরাহ এইচএম (১৯৯১) তারিখ-ই-কাশ্মীর, রাজিয়া বানো সম্পাদিত ও অনূদিত, নয়াদিল্লি থেকে নেওয়া।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]