দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি

~নরম্যান জ্যাকবস
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি সাধারণত একটি রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের সর্ব প্রধান এবং সেখানে একটি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকে। দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রপতি হলেন লি জে-মিয়ং।

অন্যদিকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং জাতীয় সংসদ—উভয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই চর্চিত হয়। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী ও আইন বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র এবং এটি সুপ্রিম কোর্ট, আপিল আদালত ও একটি সাংবিধানিক আদালত (যে আদালত সংবিধানের ব্যাখ্যা, মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং আইন বা সরকারি সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা পর্যালোচনা করে) নিয়ে গঠিত। ১৯৪৮ সাল থেকে দেশটির সংবিধান পাঁচটি প্রধান সংশোধনীর মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, যার প্রতিটি নতুন একটি প্রজাতন্ত্রের সূচনা ঘটিয়েছে। বর্তমান ষষ্ঠ প্রজাতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৭ সালের সর্বশেষ প্রধান সাংবিধানিক সংশোধনীর মধ্য দিয়ে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যকার বিতর্কের স্বরূপ অত্যন্ত অগভীর এবং বাহ্যিক। যা মূলত প্রতিপক্ষকে অযোগ্য হিসেবে অভিযুক্ত করার এবং ক্ষমতার মসনদ থেকে তাদের দূরে রাখার একটি সাধারণ হাতিয়ার মাত্র। অথবা এটি স্রেফ প্রাপ্ত ক্ষমতা এবং সুযোগ-সুবিধার একটি অংশ আদায় করার জন্য দর কষাকষির কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। আদর্শের প্রতি এই উদাসীনতা মূলত সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী তৈরিতেই উৎসাহিত করে, যাদের সদস্যরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি এবং বাড়তি সুবিধা পাওয়ার নেশায় যেকোনো শক্তিশালী পক্ষের সাথে অনায়াসে জোটবদ্ধ হতে কোনোরুপ দ্বিধাবোধ করে না!
- নরম্যান জ্যাকবস, দ্য কোরিয়ান রোড টু মডার্নাইজেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (১৯৮৫), ইলিনয়: আরবানিয়া, পৃ. ২৬। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের মাধ্যমে প্রাপ্ত।
- যখন কনফেডারেশন বা একটি শিথিল ফেডারেল ব্যবস্থা (সার্বভৌম রাষ্ট্র বা প্রজাতন্ত্রসমূহের একটি রাজনৈতিক সংঘ, যা অনেকটা জাতীয় সরকারের মতো) বাস্তবায়িত হবে এবং উত্তর ও দক্ষিণের আদর্শগুলো উভয় পক্ষের অবাধ মেলামেশার মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকবে, তখন আমাদের প্রজাতন্ত্র বিন্দুমাত্রও প্রভাবিত হবে না। কারণ এটি একটি সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্রীয় জোট। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া হলো আদর্শগতভাবে বিভক্ত একটি উদারপন্থী দেশ, যা উদারনীতিবাদকে সঙ্গ করে। তাই আমরা যদি সেখানে ব্যাপকভাবে আমাদের 'জুচে মতবাদ' এবং আমাদের শাসনব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করতে সক্ষম হই, তবেই আমরা তাদের অন্তত অর্ধেক নাগরিককে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হব। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা আমাদের থেকে প্রায় দুই গুণ। কিন্তু একবার যদি আমরা কনফেডারেশনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তত অর্ধেক মানুষের মন জয় করতে পারি, তবেই শক্তির বিচারে আমরা হয়ে যাব দুই ভাগ আর দক্ষিণবাসীরা হবে মাত্র এক ভাগ। তখন আমরা সাধারণ নির্বাচন কিংবা যুদ্ধ যেকোনো পথেই জয়লাভ করতে পারব!
- কিম ইল-সাং, থোদোর ঝিভকভের উদ্দেশ্যে (৩০ অক্টোবর ১৯৭৩); কালো সূর্য কখনো আঁধারকে দূর করতে পারে না (২০০১) গ্রন্থে উদ্ধৃত। অনুবাদক: ব্রায়ান রেনল্ডস মায়ার্স, পৃ. ২২২।
- দক্ষিণ কোরিয়া, যা কি না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম রক্ষণশীল একটি দেশ। রাজনীতিবিদরা তাঁদের আমেরিকান প্রতিপক্ষদের মতোই সহধর্মিনীদের সাথে নিয়ে খুব একটা জনসমক্ষে আসেন না। স্ত্রীর প্রতি জনসমক্ষে গর্ব প্রকাশ করাকে সেখানে এক ধরণের অপরিপক্কতা বা রুচিহীন আচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। যারা এমনটি করেন, তাঁদের সম্বোধন করার জন্য সেখানে একটি বিশেষ নিন্দাসূচক শব্দও প্রচলিত রয়েছে!
- ব্রায়ান রেনল্ডস মায়ার্স, আইজ্যাক চোতিনার কর্তৃক 'নিউ রিপাবলিক'-এ গৃহীত সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত: "শীর্ষ উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করছেন কিম জং উনের চাচার ভাগ্যে কী ঘটেছিল" (১৬ ডিসেম্বর ২০১৩)।

- দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অবস্থানরত বিদেশী সংবাদদাতাদের প্রধান দুটি আচ্ছন্নতা বা এক প্রকার ঘোরভাব হলো—
ক) উত্তর কোরিয়া এবং
খ) কে-পপ, কে-ফিল্ম তথা রাজনীতি ছাড়া কোরিয়ার অন্য যেকোনো 'কে'/K ব্র্যান্ডের অনুষঙ্গ!- ব্রায়ান রেনল্ডস মায়ার্স, "দক্ষিণ কোরিয়ার করোনাভাইরাস মোকাবিলা নিয়ে বিদেশী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে" (১৮ মার্চ ২০২০), স্টেলি প্রেস।
- দক্ষিণ কোরিয়ায় সমাজকল্যাণ এবং জনস্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতি সমর্থন যেমন সর্বজনীন, তেমনি গণ-অভিবাসন বা ব্যাপক অভিবাসনের প্রতি বিরোধিতাও একপ্রকার ধ্রুব সত্য। সেখানে মূলত উত্তর কোরিয়ার প্রতি কার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, সেটিই নির্ধারণ করে দেয় যে তাঁকে 'প্রগতিশীল' নাকি 'রক্ষণশীল' হিসেবে গণ্য করা হবে।
- ব্রায়ান রেনল্ডস মায়ার্স, "উত্তর-দক্ষিণ লিয়াজোঁ অফিস ধ্বংস প্রসঙ্গে" (৩ জুলাই ২০২০), স্টেলি প্রেস।
- দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো রাজনৈতিক প্রার্থী যখন নির্বাচনী প্রচারে বের হন, সাধারণ মানুষের সাথে করমর্দন করেন কিংবা লোকদেখানো স্নেহে শিশুদের চুমু খান। তখন তিনি মুখে এক ধরণের বিমর্ষ বা গম্ভীর ভাব বজায় রাখেন এবং মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনতার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকেন। তাঁর চারপাশে ঘিরে থাকে সামোয়ানদের মতো বিশালদেহী সব দেহরক্ষী, যাদের স্থানীয় ভাষায় বলা হয় 'ছাপ-সে' বা গুণ্ডা বাহিনী (আক্ষরিক অর্থে 'আবদ্ধ পাখি')!
- পি. জে. ও'রউর্ক, হলিডেস ইন হেল: ইন হুইচ আওয়ার ইনট্রিপিড রিপোর্টার ট্রাভেলস টু দ্য ওয়ার্ল্ড'স ওয়র্স্ট প্লেসেস অ্যান্ড আস্কস, "হোয়াট'স ফানি অ্যাবাউট দিস?" (১৯৮৮), নিউ ইয়র্ক: গ্রোভ প্রেস, পৃ. ৪৪।