দুর্গা

দশদিকে তাঁর দশহাতে বাজে দশ প্রহরণ।
পদতলে লুটে মহিষাসুর,
মহামাতা ঐ সিংহ–বাহিনী জানায় আজিকে বিশ্ববাসীকে—
শাশ্বত নহে দানব–শক্তি, পায়ে পিশে যায় শির পশুর!
– কাজী নজরুল ইসলাম
দুর্গা (সংস্কৃত: दुर्गा; অর্থাৎ "যিনি দুর্গতি বা সংকট থেকে রক্ষা করেন"; এবং "যে দেবী দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছিলেন") হলেন হিন্দু দেবী পার্বতীর এক উগ্র রূপ। হিন্দু সংস্কৃতিতে তিনি জনপ্রিয় এক দেবী। তাঁকে আদ্যাশক্তির রণরঙ্গিনী এক মহাদেবীর রূপ বলে মান্য করেন। তিনি চণ্ডিকা, যোগমায়া, অম্বিকা, বৈষ্ণবী, মহিষাসুরসংহন্ত্রী, নারায়ণী, মহামায়া, কাত্যায়নী, দাক্ষায়ণী, অদ্রিজা, নগনন্দিনী, সিংহবাহিনী, শারদা, আনন্দময়ী ইত্যাদি নামেও পরিচিতা। দুর্গার বাহুসংখ্যা অনেক। তার শতভুজা, সহস্রভুজা, ত্রিংশতিভুজা, বিংশতিভুজা, অষ্টাদশভুজা, ষোড়শভুজা, দশভুজা, অষ্টভুজা ও চতুর্ভুজা মূর্তির উল্লেখ পুরাণ গ্রন্থাদিতে পাওয়া যায় বা বিভিন্ন স্থাপত্য-ভাস্কর্যে দেখা যায়। তবে দশভুজা রূপটিই সমধিক জনপ্রিয়। তার বাহন সিংহ (উত্তর ও পশ্চিমভারতে আঞ্চলিকভাবে বাঘ)। মহিষাসুরমর্দিনী-মূর্তিতে তাঁকে মহিষাসুর নামে এক অসুরকে বধরত অবস্থায় দেখা যায়। তার অনেক রূপ, যার মধ্যে কালী রূপটি অন্যতম জনপ্রিয়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- আজ রণ-রঙ্গিণী জগৎমাতার দেখ্ মহারণ,
দশদিকে তাঁর দশহাতে বাজে দশ প্রহরণ।
পদতলে লুটে মহিষাসুর,
মহামাতা ঐ সিংহ–বাহিনী জানায় আজিকে বিশ্ববাসীকে—
শাশ্বত নহে দানব–শক্তি, পায়ে পিশে যায় শির পশুর!- কাজী নজরুল ইসলাম। "অগ্নি-বীণা", প্রকাশক: আর্য্যপাব্লিশিং হাউস, প্রকাশকাল: আশ্বিন ১৩৩০, পৃষ্ঠা:১৮
- যে শক্তি বিশ্বচরাচরে পরিব্যাপ্ত হইয়া আছেন, পরমাণু হইতে বিশাল ব্রহ্মাণ্ড—যাহার আদি নাই, যাহার অন্ত নাই, যাহার মধ্য নাই, যাহা চিন্তার অতীত, যেখানে দিক নাই, কাল নাই, তাহা যে শক্তির প্রকাশ, সেই শক্তিই দুর্গা।
- দুর্গা প্রসঙ্গে পণ্ডিতপ্রবর যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি। [১]