দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ (২৫ অক্টোবর ১৯০৬ – ১ নভেম্বর ১৯৯৯)[১] ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সাহিত্যিক ও সমালোচক। তিনি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক হিসাবে সম্মাণিত হয়েছিলেন এবং একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।[২]
উক্তি
[সম্পাদনা]১. **"নৈতিক জীবনে ইচ্ছার স্বাধীনতাকে স্বীকার না করলে নৈতিক জীবনের বিচারের কোন মূল্য থাকে না।"**
- __দর্শন সমাজকে সচেতন করে তোলে’-দেওয়ান মোহম্মদ আজরফ-আবুল কাসেম হায়দার[১]
৩. **"ধর্মের মধ্যে যুক্তি থাকলেও ধর্মের মূল হলো বিশেষ ধরনের অনুভুতি, প্রসার বিশ্বাস ও ঐশী দিশা।"**
- __দর্শন সমাজকে সচেতন করে তোলে’
-দেওয়ান মোহম্মদ আজরফ-আবুল কাসেম হায়দার[২]
৪. **"মানুষকে মনুষ্যত্ব অর্জনের সাধনা করতে হবে, নির্যাতিত মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে হবে।"**
- __দর্শন সমাজকে সচেতন করে তোলে’
-দেওয়ান মোহম্মদ আজরফ-আবুল কাসেম হায়দার[৩]
৫. **"যুক্তি দ্বারা ধর্মীয় প্রত্যয়কে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়।"**
- __দর্শন সমাজকে সচেতন করে তোলে’
-দেওয়ান মোহম্মদ আজরফ-আবুল কাসেম হায়দার[৪] ৬. **"মানুষের জ্ঞানের ক্ষমতা ও অক্ষমতা তুলে ধরে স্রষ্টা প্রদত্ত ও রাসূল প্রদর্শিত পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।"**
- _অন্যান্য এক দিগন্ত - দেওয়ান মুহাম্মদ আজরফের চিন্তাধারা [৫]
সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]কবি ও গবেষক মুসা আল হাফিজ বলেন, আজরফের চিন্তার প্রধান বিষয় ছিলো মানুষ ও মানুষের জীবন। মানুষকে তিনি দেখতেন অমিত শক্তি ও সম্ভাবনার আধার হিসেবে। মানুষের সত্তায় নিহিত শক্তি ও সৌন্দর্যের অভ্যুত্থান তিনি চাইতেন। তার দর্শনের মানুষ হচ্ছে সমুন্নত মানুষ। এ ক্ষেত্রে তিনি কান্টের অতিমানব বা সুপারম্যান থিউরির অনুগামী ছিলেন না। কান্টকে তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন। তার মনে হয়েছে কান্টের ‘আদর্শ মানুষ’ আর তার ‘আদর্শ মানুষে’ ব্যবধান দুস্তর। যদিও কান্টের অনেক কিছুই তার কাছে উপাদেয় মনে হয়েছে। ইকবালের খুদিসত্তার সাথে তার আত্মীয়তা ছিলো। অনেকটা ইকবালের নিকটবর্তী এলাকায় তিনি ডেরা গেড়েছিলেন। ইকবালের সুরের সাথে তার সুর অনেক জায়গায় মিলেছে। আদর্শ মানুষ মানুষপ্রশ্নে ইকবালের খুদিবাদের সাথে ইবনুল আরাবির ইনসানে কামিল দর্শনের সমন্বয় তিনি ঘটিয়েছিলেন। যুক্ত করেছিলেন নিজের কিছু ভাবধারা। ফলত তার দর্শনের মানুষ একটি বিশেষ অবয়ব পেয়েছে, আয়তন লাভ করেছে। সেখানে হৃদয়বাদ আবেগ আর গতির বেগের সহাবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন যে আমরা বলি, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের গতির বেগ দিয়েছে কিন্ত কেড়ে নিয়েছে হৃদয়ের আবেগ, মানুষকে করে তুলেছে বুদ্ধিমান রোবট, এ বাস্তবতায় আজরফ যে মানুষের উন্নত জীবনের রূপের কথা বলেন, সেটা খুবই প্রাসঙ্গিক। জরুরি।’’[৬]
তথ্য সূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ : কর্ম ও জীবন"। দৈনিক সংগ্রাম। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫।
- ↑ "স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫।