নিরামিষবাদ

নিরামিষবাদ হলো মাংস (লাল মাংস, পোল্ট্রি, সামুদ্রিক খাবার, পতঙ্গ এবং অন্য যে কোনো প্রাণীর মাংস) খাওয়া থেকে বিরত থাকার একটি অভ্যাস। এর সাথে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন উপজাত দ্রব্য, যেমন জিল্যাটিন বা লার্ড বর্জন করাও যুক্ত থাকতে পারে। বিভিন্ন কারণে নিরামিষবাদ গ্রহণ করা যেতে পারে। অনেকে সচেতন প্রাণীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে মাংস খাওয়ার বিরোধিতা করেন। প্রাণীদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি এমন নৈতিক চিন্তাধারা বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যগত, রাজনৈতিক, পরিবেশগত, সাংস্কৃতিক, নান্দনিক, অর্থনৈতিক বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণেও অনেকে নিরামিষভোজী হয়ে থাকেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- গরু এবং সকল উপকারী প্রাণীর মাংস খাওয়া থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকুন, পাছে আপনাদের ইহকাল ও পরকালে কঠোর জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়; কারণ গরু এবং অন্যান্য গৃহপালিত পশুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে আপনারা নিজেদের হাতকে পাপে নিমজ্জিত করেন এবং এর ফলে পাপপূর্ণ চিন্তা ও কথা বলেন এবং পাপকাজ করেন; কারণ আপনি হয়তো মাত্র এক এক গ্রাস খেলেন, কিন্তু এতেও আপনার হাত পাপে জড়িয়ে গেল। যদিও অন্য কোনো স্থানে অন্য কোনো ব্যক্তি একটি উট জবাই করে থাকে, আপনি সেই মাংস খেলে সেটি এমন হবে যেন আপনি নিজ হাতেই তাকে হত্যা করেছেন।
- আদরবাদ-ই মাহরস্পান্দান, সেইয়িংস অফ আদরবাদ মাহরাস্পান্দান, র্যাচেল ম্যাকনেয়ারের রিলিজিয়নস অ্যান্ড ননভায়োলেন্স (২০১৫), পৃষ্ঠা ৮৮-এ উদ্ধৃত, আর. সি. জেনারের দ্য টিচিংস অফ দ্য মাগি (১৯৫৬), পৃষ্ঠা ১১০ থেকে গৃহীত।
- রক্তযুক্ত যেকোনো খাবার সূক্ষ্ম শক্তির বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। মানবজাতি যদি কেবল মৃত দেহ ভক্ষণ করা বন্ধ করত, তবে বিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হতে পারত। মাংসপ্রেমীরা রক্ত দূর করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি। রক্ত সরিয়ে ফেলার পরেও মাংস এই শক্তিশালী উপাদানের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারে না। সূর্যের রশ্মি কিছুটা হলেও এই প্রভাব দূর করে, কিন্তু মহাকাশে সেগুলোর ছড়িয়ে পড়াও কম ক্ষতি করে না। কোনো কসাইখানার কাছে একটি মানসিক শক্তি পরীক্ষা করার চেষ্টা করুন এবং আপনি সেখানে তীব্র উন্মাদনার লক্ষণ দেখতে পাবেন, এছাড়া উন্মুক্ত রক্তের সাথে আটকে থাকা অতিলৌকিক সত্তাগুলোর কথা তো বলাই বাহুল্য। রক্তকে বিনা কারণে পবিত্র বলা হয়নি।
এভাবে বিভিন্ন ধরণের মানুষ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে পূর্বপুরুষের সংস্কার কতটা শক্তিশালী তা অনুভব করা সম্ভব। রক্তযুক্ত খাবারের আকাঙ্ক্ষা এই সংস্কারের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়, কারণ পূর্ববর্তী অনেক প্রজন্ম রক্তে সম্পৃক্ত ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, সরকারগুলো জনগণের স্বাস্থ্যের উন্নতির দিকে কোনো নজর দেয় না। রাষ্ট্রীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্যবিধি খুব নিম্নমানের। চিকিৎসা তদারকি পুলিশের তদারকির চেয়ে ভালো কিছু নয়। এই জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো নতুন চিন্তা প্রবেশ করে না। তারা কেবল বিচার করতে পারে, সাহায্য করতে পারে না।
তাই ভ্রাতৃত্বের পথে কোনো কসাইখানা থাকা উচিত নয়। (২১)- অগ্নি যোগ, ব্রাদারহুড (১৯৩৭)

- সেই বৃদ্ধ লোকটি... মিষ্টি গান গেয়ে সাবাথকে বরণ করলেন এবং কিশমিশের শরবত খেয়ে পবিত্র স্তোত্র পাঠ করলেন। দিন থাকতেই তিনি পবিত্র অনুষ্ঠান শেষ করলেন আর গ্লাসের ওপর সূর্যের আলো এসে পড়ল। ... টেবিলে সব ধরণের ফল, শিম, শাকসবজি আর ভালো পাই সাজানো ছিল। বরইয়ের জল খেতে ছিল মদের মতো সুস্বাদু, কিন্তু সেখানে মাংস বা মাছের কোনো চিহ্ন ছিল না। ... সত্যি বলতে, মাংস বা মাছ খাওয়া কোনোভাবেই জরুরি নয়। ... তিনি এবং তার স্ত্রী অর্থাৎ সেই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা, বড় হওয়ার পর থেকে কখনও মাংস মুখে দেননি।
- এস. ওয়াই. আগনন, দ্য ব্রাইডাল ক্যানোপি, আই. এম. লাস্ক কর্তৃক অনূদিত, নিউ ইয়র্ক: লিটারারি গিল্ড অফ আমেরিকা, ১৯৩৭, পৃষ্ঠা ২২২।
- কসাইয়ের মুখে আমি কেবল নিষ্ঠুরতা দেখতে পাই। আমি যেন মরা লাশের ওপর দিয়ে হাঁটছি। আমার চারপাশে শুধু মৃত্যু। পশুগুলোর মরা চোখ যেন আমার দিকে তাকিয়ে বলছে যে, আমি এক খুনি জাতির লোক। হুকে ঝোলানো কাঁটাছেড়া দেহগুলো যেন আমার কাছে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে আমি যেন আমার ভেতরের মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছি।
- আমোস অলকট, জার্নালস, পোর্ট ওয়াশিংটন, এনওয়াই: কেনিকাট প্রেস, ১৯৩৮, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৫।
- উদ্ভিদাহার আর প্রশান্ত ঘুম।
প্রাণিজ খাবার আর দুঃস্বপ্ন।নিজের শরীরকে গড়ে তুলুন বাগানের সজীবতায়;
কসাইখানার বীভৎসতা থেকে একে ছিনিয়ে নেবেন না।মাংস খাওয়া বন্ধ না হলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামবে না।
অ্যাপোলো মাংস খান না, তার মুখে কর্কশ দাড়িও নেই;
তার কণ্ঠস্বর যেন সুরের ঝংকার।মাংসাহার না থাকলে পৃথিবীতে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধও থাকত না।
- ফ্রুটল্যান্ডসের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে ব্যবহৃত নিরামিষাশী স্তোত্র; লুইসা মে অলকটের লাইফ, লেটারস, অ্যান্ড জার্নালস-এ উদ্ধৃত, বোস্টন: রবার্টস ব্রাদার্স, ১৮৮৯, পৃষ্ঠা ৩৮।
- যদি সুস্বাস্থ্যই রোগ ঠেকানোর সেরা উপায় হয়, আর যদি সঠিক নিরামিষ খাবারই সেই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে, তবে চিকিৎসার খাতিরে হলেও এই তর্কের এখানেই শেষ হওয়া উচিত।
- উইলিয়াম অলকট, ভেজিটেবল ডায়েট: অ্যাজ স্যাংশন্ড বাই মেডিকেল মেন, অ্যান্ড বাই এক্সপেরিয়েন্স ইন অল এজিস, বোস্টন: মার্শ, কেপেন অ্যান্ড লিয়ন, ১৮৩৮, পৃষ্ঠা ২৪০।

- খাবারের জন্য পশু হত্যা করার প্রক্রিয়া এবং এর প্রভাবগুলো এতটাই নিষ্ঠুর যে, যে কোনো বিবেকবান মানুষ তা দেখে শিউরে উঠবেন।
- উইলিয়াম অলকট, ভেজিটেবল ডায়েট: অ্যাজ স্যাংশন্ড বাই মেডিকেল মেন, অ্যান্ড বাই এক্সপেরিয়েন্স ইন অল এজিস, বোস্টন: মার্শ, কেপেন অ্যান্ড লিয়ন, ১৮৩৮, পৃষ্ঠা ২৬৭।
- আমার মনে হয় না কোনো শিশু কোনো ক্ষতি ছাড়া কসাইখানা বা মাংসের বাজারের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে পারে; এমনকি কোনো ভালো মানুষও তা পারে কি না আমার সন্দেহ আছে।
- উইলিয়াম অলকট, ভেজিটেবল ডায়েট: অ্যাজ স্যাংশন্ড বাই মেডিকেল মেন, অ্যান্ড বাই এক্সপেরিয়েন্স ইন অল এজিস, বোস্টন: মার্শ, কেপেন অ্যান্ড লিয়ন, ১৮৩৮, পৃষ্ঠা ২৭০-২৭১।
- আমি দেখলাম যে তিনি (পিথাগোরাস) অত্যন্ত পবিত্রতার সাথে উপাসনা করতেন। পশুর মাংস খেয়ে তিনি নিজের পেট অপবিত্র করতেন না। তিনি মরা পশুর চামড়া বা অংশ দিয়ে তৈরি কোনো পোশাকও পরতেন না। আমি আরও দেখলাম যে তার জীবন দর্শন সব দিক থেকেই ছিল সত্য এবং ঐশ্বরিক।
- অ্যাপোলোনিয়াস অফ তিয়ানা, ফিলোস্ট্র্যাটাসের লাইফ অফ অ্যাপোলোনিয়াস-এ বর্ণিত, এফ. সি. কোনিবিয়ার অনুবাদ, বই ৬, § ১১।
- [কেউ কেউ] পৃথিবীর নিয়ম মানে না এবং পোশাক ও খাবারের জন্য পশুদের ওপর ছুরি চালায়। ভারতের ব্রাহ্মণরা এটি একদম পছন্দ করতেন না এবং মিশরের দার্শনিকদেরও তারা এই শিক্ষাই দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই পিথাগোরাস এই নীতিটি শিখেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন পৃথিবী থেকে যা জন্মায় তা পবিত্র, তাই তিনি কেবল নিরামিষ খাবার খেয়েই বেঁচে থাকতেন। মরা প্রাণীর শরীর থেকে তৈরি পোশাককে তিনি অপবিত্র মনে করতেন; তিনি লিনেনের কাপড় পরতেন এবং গাছের ছাল দিয়ে তৈরি জুতো পরতেন। এই পবিত্র জীবন যাপনের ফলে তিনি নিজের আত্মাকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।
- অ্যাপোলোনিয়াস অফ তিয়ানা, ফিলোস্ট্র্যাটাসের লাইফ অফ অ্যাপোলোনিয়াস-এ বর্ণিত; রাম স্বরূপের অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস (ভয়েস অফ ইন্ডিয়া, ২০০০), 'ভারত ও গ্রিস' অধ্যায়ে উদ্ধৃত।
- হে হিংস্র মানুষ!
নিরপরাধ প্রাণীদের হত্যা করা
সবচেয়ে বড় পাপ,
আমাদের গোরু মেরো না,
মেরো না আমাদের ঘোড়া কিংবা কোনো মানুষকেও।- অথর্ববেদ ১০/১/২৯, কে. এম. তালরেজার হোলি বেদাস অ্যান্ড হোলি বাইবেল: আ কম্পারেটিভ স্টাডি, নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রীয় চেতনা সংগঠন, ২০০০, পৃষ্ঠা ১২৯।
- হে দাঁত! তোমরা চাল খাও, যব খাও, ছোলা আর তিল খাও। এই শস্যগুলো তোমাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। যারা মা-বাবা হতে পারে, এমন প্রাণীদের হত্যা করো না।
- অথর্ববেদ ৬.১৪০.২। বৈদিক গ্রন্থ: প্রাণীদের প্রতি কোনো হিংসা নয়।
- আমাদের খাবারের অভ্যাস বদলাতে হবে। এই পৃথিবী কোটি কোটি মাংসাশী মানুষের বোঝা সইতে পারবে না।
- ডেভিড অ্যাটেনবরো, "বন্যপ্রাণী এবং পৃথিবীকে বাঁচাতে নিরামিষভোজী হওয়ার আহ্বান স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরোর।" দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট (২৬ আগস্ট ২০২০)।
- ১ পাউন্ড গরুর মাংস তৈরি করতে ৭ পাউন্ড খাদ্য শস্য লাগে, যা চাষ করতে ৭০০০ পাউন্ড জলের প্রয়োজন হয়। আপনি যদি কেবল একটা হ্যামবারগার না খান, তবে যে পরিমাণ জল বাঁচবে তা দিয়ে আপনি ৪০ বার স্নান করতে পারবেন। অথচ আমেরিকায় উৎপাদিত গম ও ভুট্টার ৭০% খরচ হয় পশুপালনের কাজে। সারা বিশ্বে মানুষের খাবারের বদলে পশু পালনের জন্য জল ব্যবহার করার ফলে লক্ষ লক্ষ কুয়ো শুকিয়ে যাচ্ছে। ... আমেরিকায় গবাদি পশুরা মানুষের চেয়ে ১৩০ গুণ বেশি বর্জ্য তৈরি করে। উটাহর মাত্র একটি শুকরের খামার থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের চেয়ে বেশি নোংরা আবর্জনা তৈরি হয়। এই বিশাল খামারগুলো দিন দিন বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের পানীয় জল নষ্ট করছে। আমাজন থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বনাঞ্চল পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কেবল পশুদের চারণভূমি বানানোর জন্য। ... আমাদের অন্তত নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা আছে। আমরা খাদ্য শৃঙ্খলের নিচের দিকের খাবার অর্থাৎ নিরামিষ খাবার খেয়ে জল ও জমি বাঁচাতে পারি এবং দূষণ কমাতে পারি। দীর্ঘ দিন প্রাণী খাওয়া বন্ধ রাখলে আমরা এর স্বাদ ভুলে যাব এবং উদ্ভিজ্জ খাবারের আনন্দ খুঁজে পাব, যা ইতিমধেই লক্ষ লক্ষ মানুষ পেয়েছে।
- এড এয়ারস, "আমরা কি তখনও মাংস খাব?", টাইম ম্যাগাজিন (৮ নভেম্বর ১৯৯৯), পৃষ্ঠা ১–২।
- থিওসফিক্যাল শিক্ষার সংস্পর্শে আসার পর থেকেই আমি নিরামিষাশী হয়েছিলাম। আমার সন্তানরা কখনো মাংস, মুরগি বা মাছের স্বাদ নেয়নি। আর নিরামিষাশীদের মধ্যে যে এক ধরণের শ্রেষ্ঠত্ববোধে দেখা যায়, আমিও তাতে ভুগতাম।... আমি শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, কড়া নিরামিষাশী হয়ে অন্যদের ছোট করে দেখার চেয়ে বরং গরুর মাংস খেয়ে মানুষের সাথে সদয়ভাবে কথা বলা অনেক ভালো। আমি আবারও বলব যে, সবক্ষেত্রে সাধারণীকরণ করা ঠিক নয়। আমি এমন অনেক নিরামিষাশীকে চিনি যারা খুবই চমৎকার, মিষ্টি আর দয়ালু মানুষ।
- অ্যালিস বেইলি, দ্য আনফিনিশড অটোবায়োগ্রাফি (১৯৫১), চতুর্থ অধ্যায় - প্রথম অংশ।
- কোনো নির্দিষ্ট খাবার তালিকা ভিন্ন মেজাজ বা বয়সের একদল মানুষের জন্য পুরোপুরি সঠিক হতে পারে না। প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য আলাদা; তাই তাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হবে যে ব্যক্তিগতভাবে তাদের কী প্রয়োজন, কীভাবে তাদের শরীরের চাহিদা পূরণ হবে এবং কোন ধরণের খাবার খেলে তারা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারবে। প্রত্যেককে এটি নিজের জন্য নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে। সবার জন্য এক ধরণের খাবার তালিকা হতে পারে না।
মাংস খাওয়া ছেড়ে দেওয়া বা কড়া নিরামিষাশী হওয়া সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। জীবনের এমন কিছু পর্যায় বা কোনো কোনো জন্ম থাকে যেখানে একজন সাধক নিজেকে খাবারের কঠোর নিয়মে বেঁধে ফেলেন, যেমনটি অনেকে ব্রহ্মচর্য পালনের ক্ষেত্রে করে থাকেন। কিন্তু জীবনের অন্য সময়ে বা অন্য জন্মে সেই শিষ্যের আগ্রহ এবং সেবার ধরণ বদলে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ের জন্মগুলোতে দেখা যায় যে, মানুষের তখন আর শরীরের গঠন নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা করার প্রয়োজন পড়ে না; তখন সে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনো সংস্কারে ভোগে না এবং যা পাওয়া যায় তা খেয়েই নিজের কর্মক্ষমতা বজায় রাখে। অতীতে কোনো বিশেষ দীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিরামিষ আহারকে জরুরি মনে করা হতো। তবে সব সময় বিষয়টি এমন নাও হতে পারে...- অ্যালিস বেইলি, এ ট্রিটিজ অন দ্য সেভেন রেজ: ভলিউম ৪: ইসোটেরিক হিলিং (১৯৫৩), পৃষ্ঠা ৩৩৫।
- আমি অনেকটা উত্তর-আধুনিক নিরামিষাশীর মতো; আমি অনেকটা বিদ্রূপ হিসেবেই মাংস খাই।
- বিল বেইলি, পার্ট ট্রোল (২০০৪)।

- যতবারই আমরা খেতে বসি, আমাদের সামনে একটা পছন্দের সুযোগ থাকে। অনুগ্রহ করে নিরামিষবাদকে বেছে নিন। এটি প্রাণীদের জন্য করুন। এটি পরিবেশের জন্য করুন, এবং নিজের স্বাস্থ্যের জন্যও করুন।
- আলেক বল্ডউইন, মিট ইয়োর মিট (২০০২) তথ্যচিত্র থেকে, তথ্যচিত্রের শেষ বাক্য।

- এই সব প্রাণীকে খাঁচায় বন্দী করে রাখা হয়, তারা কখনো রোদ বা ঘাস দেখতে পায় না। তারা এই নরক থেকে বের হয় কেবল কসাইখানায় যাওয়ার জন্য। আমার কাছে বাণিজ্যিক পশুপালন হলো মানুষের অধঃপতনের লক্ষণ। কেউ যদি এটাকে মেনে নিতে পারে, তবে বুঝতে হবে আমরা আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেছি। ... [আপনি কতদিন ধরে নিরামিষাশী?] ১৯৬২ সাল থেকে, যখন আমি ফরাসি টেলিভিশনে পশু জবাইয়ের পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলাম। তখনই আমি বাণিজ্যিক খামার, জীবন্ত পশু পরিবহন এবং খামারের পশু হত্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারি। আমি সব সময়ই প্রাণীদের কষ্টের ব্যাপারে সচেতন ছিলাম, কিন্তু এরপর থেকে আমি এমন অমানবিক শিল্পজাত মৃত্যুর সাথে যুক্ত হতে অস্বীকার করি।
- ব্রিজিট বার্দো, "'আমি বাণিজ্যিক খামারের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পেরেছি", প্রিমোর্স্কে নোভিস (নভেম্বর ২০০৯) জন্য সাক্ষাৎকার, ইউরোপিয়ান ভেজিটেরিয়ান অ্যান্ড অ্যানিম্যাল নিউজ অ্যালায়েন্স (ইভানা) ওয়েবসাইট কর্তৃক প্রকাশিত।
- যখন আমি মাংসবহুল খাবার ছেড়ে উদ্ভিজ্জ খাবারের দিকে ঝুঁকতে শুরু করলাম, তখন আমার মনে হলো যেন সত্যিই সুস্বাদু সব খাবারের দরজা শেষ পর্যন্ত খুলে যাচ্ছে।
- নিল বার্নার্ড, পাওয়ার ফুডস ফর দ্য ব্রেইন (নিউ ইয়র্ক: হাশেত, ২০১৩), নবম অধ্যায়।
- আমি সব সময় প্রাণীপ্রেমী ছিলাম। আমি যেসব প্রাণীদের আদর করতাম--যেমন কুকুর বা বিড়াল, তাদের থেকে আমার থালার খাবারগুলোকে আলাদা করে দেখা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। এছাড়া মাংসের স্বাদ আমার কোনোদিনই ভালো লাগত না। আমি সব সময় ব্রাসেলস স্প্রাউট খেতেই বেশি ভালোবাসতাম!
- ক্রিস্টেন বেল, "কী কারণে আপনি নিরামিষাশী হলেন?" প্রশ্নের উত্তরে, "ক্রিস্টেন বেলের সাথে পেটা-২-এর আড্ডা", peta2.com-এ (১৮ জুলাই ২০১১)।
- আমার মনে হয় এটা বলা মোটেও বাড়িয়ে বলা হবে না যে, মানবদেহের গঠন সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ই এটি প্রমাণ করে যে মানুষ মূলত ফলভোজী প্রাণী হিসেবে তৈরি হয়েছিল... মানুষের দাঁত ও পরিপাকতন্ত্রের গঠন, ত্বকের বৈশিষ্ট্য এবং হাত-পায়ের গড়ন দেখে মূলত এই ধারণা পাওয়া যায়। এই বিষয়ে আমি এখনই খুব বেশি আলোচনা করতে চাই না, তবে এটুকুই বলব যে তর্কের খাতিরে যদি আমরা অন্য প্রাণীদের সাথে তুলনা করি, তবে সেটি আমার মতের পক্ষেই যাবে। যেসব প্রাণীর দাঁত এবং পরিপাকতন্ত্র আমাদের সাথে সবচেয়ে বেশি মেলে-যেমন এপ বা বানর, তারা নিঃসন্দেহে ফলভোজী।
- থমাস বেল, দ্য অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, অ্যান্ড ডিজিজেস অফ দ্য টিথ, ফিলাডেলফিয়া: কেরি অ্যান্ড লি, ১৮৩০, পৃষ্ঠা ৩৫।
- তারা (জনগণের প্রকৃত শিক্ষক) শিশুদের নিরামিষ খাবারের অভ্যেস করাবেন। যারা উদ্ভিজ্জ খাবার খেয়ে বাঁচে, তারা সব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে শক্তিশালী এবং রোগে কম ভোগে। তাদের আয়ুও অন্যদের চেয়ে বেশি হয়। ইউরোপের সুইসদের একটি বড় অংশই এমন। প্রতিটি দেশের কৃষকরাই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে থাকে আর তারা মাংস খুব কম খায়। রাশিয়ানদের উপবাস বা সংযমের অনেক দিন থাকে যখন এমনকি সৈনিকরাও মাংস খায় না; তবুও তারা যে কোনো পরিশ্রম সহ্য করতে পারে। আমাদের কলোনিগুলোতে নিগ্রোরা অনেক মার খেয়েও কেবল মানিওক, আলু আর ভুট্টা খেয়ে বেঁচে থাকে। ভারতের ব্রাহ্মণরা প্রায়ই একশ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচেন আর তারা কেবল নিরামিষ খান। পিথাগোরাসের অনুসারীদের মধ্য থেকেই বিশ্বখ্যাত এপামিনন্ডাস, গণিতবিদ আর্কিটাস এবং শক্তিশালী মাইলো বেরিয়ে এসেছেন। পিথাগোরাস নিজে তার সময়ের সবচেয়ে সুন্দর এবং জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। নিরামিষ আহার যেহেতু অনেক গুণের জন্ম দেয় এবং কোনো ক্ষতি করে না, তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের এর অভ্যেস করানো ভালো। এতে শরীরের সৌন্দর্য বাড়ে এবং মন শান্ত থাকে। এই খাদ্যাভ্যাস শৈশবকালকে প্রলম্বিত করে এবং মানুষের আয়ু বাড়িয়ে দেয়।
- জ্যাক-অঁরি বার্নার্ডিন দ্য সেন্ট-পিয়েরে, ভো দ’উন সলিটায়ার, পোর সার্ভির দ্য সুইট ও "এতুদ দ্য লা নাতুর", হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট (ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় প্রেস, ২০০৩), পৃষ্ঠা ১৭৫।
- নিরামিষবাদ হলো এমন এক জীবনধারা যার দিকে আমাদের সবার এগিয়ে যাওয়া উচিত। এটি অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে এবং আত্মিকভাবে উন্নত হতে সাহায্য করে।
- থমাস বেরি, স্টিভেন রোজেনের ফুড ফর দ্য স্পিরিট (নিউ ইয়র্ক: বালা বুকস, ১৯৮৭), “ক্রিটিকস প্রেইজ” অংশে বর্ণিত।
- আমি মনে করি খুব কম পুরুষ বা নারীই নিজে গিয়ে একটি ভেড়া বা গরু ধরে জবাই করতে রাজি হবেন কেবল মাংস খাওয়ার জন্য। [...] যারা মাংস খান তারা আসলে অন্য মানুষের সেই অমানবিক কাজের ভাগীদার হন; এই দায় এবং দায়িত্ব তাদের প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে বর্তায়।
- অ্যানি বেসান্ত, ভেজিটেরিয়ানিজম ইন দ্য লাইট অফ থিওসফি, ১৯১৩, পৃষ্ঠা ১৮-২০।
- প্রতিটি পুষ্টিকর খাবারই জাল বা ফাঁদ ছাড়াই পাওয়া যায়।
- উইলিয়াম ব্লেইক, দ্য ম্যারেজ অফ হেভেন অ্যান্ড হেল (১৭৯০-১৭৯৩), প্রোভার্বস অফ হেল।
- বছরের পর বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফ্রান্ৎস (কাফকা) শেষ পর্যন্ত তার উপযুক্ত খাবার খুঁজে পেয়েছে, আর তা হলো নিরামিষ। বছরের পর বছর সে পেটের সমস্যায় ভুগেছে; এখন সে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুস্থ আর কর্মক্ষম। এখন তার বাবা-মা এসেছেন এবং ভালোবাসার নামে তাকে আবারও মাংস খাইয়ে অসুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন।
- ম্যাক্স ব্রড, ফেলিস বাউয়ারের কাছে লেখা চিঠি (২২ নভেম্বর ১৯১২), ফ্রান্ৎস কাফকা’র লেটারস টু ফেলিস, জেমস স্টার্ন এবং এলিজাবেথ ডাকওয়ার্থ কর্তৃক অনূদিত (নিউ ইয়র্ক: শোকেন বুকস, ২০১৬), পৃষ্ঠা ৫৭।
- একবার তিনি (কাফকা) বার্লিন অ্যাকোয়ারিয়ামে গিয়েছিলেন... হঠাৎ তিনি উজ্জ্বল ট্যাঙ্কে থাকা মাছগুলোর সাথে কথা বলতে শুরু করলেন, "এখন অন্তত আমি তোমাদের দিকে শান্তিতে তাকাতে পারি, আমি আর তোমাদের খাই না।" এটি সেই সময়ের কথা যখন তিনি কড়া নিরামিষাশী হয়ে উঠেছিলেন। আপনি যদি কাফকার নিজের মুখে এই ধরণের কথা না শুনে থাকেন, তবে কল্পনা করা কঠিন যে কত সহজভাবে, কোনো ধরণের কৃত্রিমতা বা অতিরিক্ত ভাবালুতা ছাড়াই তিনি এগুলো বলতেন-যা তার স্বভাবের একদমই বিপরীত ছিল। আমার নোটের মধ্যে আমি নিরামিষবাদ সম্পর্কে কাফকার বলা আরও কিছু কথা খুঁজে পেয়েছি। তিনি নিরামিষাশীদের আদি খ্রিস্টানদের সাথে তুলনা করেছিলেন, যারা সব জায়গায় নির্যাতিত হতো, সব জায়গায় উপহাসের পাত্র হতো এবং নিচু মানের জায়গায় যাতায়াত করত। "যা স্বাভাবিকভাবেই সর্বোচ্চ এবং সেরাদের জন্য তৈরি, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।"
- ম্যাক্স ব্রড, ফ্রান্ৎস কাফকা: এ বায়োগ্রাফি, জি. হামফ্রেস রবার্টস এবং রিচার্ড উইনস্টন কর্তৃক অনূদিত (নিউ ইয়র্ক: শোকেন বুকস, ১৯৬০), পৃষ্ঠা ৭৪।
- নিরামিষ খাবারের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্নটি আগে ছিল মাংস এবং অন্যান্য প্রাণিজ খাবার বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যকর কি না... তবে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরামিষভোজী হওয়া মাংসাশী হওয়ার চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর কি না। ... বর্তমানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই দুটি প্রশ্নের উত্তরই "হ্যাঁ" বলে মনে হয়। সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা নিরামিষ খাবার থেকে সব প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব, এমনকি বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্যও... আর সব মিলিয়ে, যেসব সমাজে মাংসই খাবারের প্রধান অংশ, সেখানে যেসব দীর্ঘমেয়াদী রোগ মানুষকে পঙ্গু বা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়, নিরামিষাশীদের সেই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।
- জেন ব্রোডি, "ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য; নিরামিষ খাবার নিয়ে নতুন গবেষণা", দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (১২ অক্টোবর ১৯৮৩)।
- যুক্তি সব সময় অযৌক্তিকতাকে হারিয়ে দিতে পারে। যুক্তি যদি নিজেকেই অযৌক্তিক মনে করে, তবে সে নিজেকে সংযত করতে পারে; আর যদি কেউ যুক্তি দিয়ে বুঝতে পারে যে পশু খাওয়া অনৈতিক, অপ্রয়োজনীয় এবং মূলত কুসংস্কারের কারণে করা হয়, তবে সে এই কাজ করার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পায়।
- ব্রিজিড ব্রোফি, রিন বেরির দ্য ভেজিটেরিয়ানস (ব্রুকলিন, এমএ: অটাম প্রেস, ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৮২-তে দেওয়া সাক্ষাৎকার।
- মহামতি, যেখানেই প্রাণীদের বিবর্তন ঘটে, সেখানে মানুষ যেন তাদের প্রতি আত্মীয়তার কথা ভাবে। সব প্রাণীকে নিজের একমাত্র সন্তানের মতো ভালোবাসা উচিত এবং মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। তাই করুণাময় বোধিসত্ত্বদেরও মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রেও, কোনো উচ্চপদস্থ বোধিসত্ত্বের জন্য মাংস খাওয়া করুণার কাজ নয়।
- ... মহামতি, আমি কীভাবে আমার শিষ্যদের রক্ত ও মাংসের খাবার খাওয়ার অনুমতি দিতে পারি? নির্বোধদের কাছে এটি তৃপ্তিদায়ক হলেও জ্ঞানীরা একে ঘৃণা করেন; এটি অমঙ্গল বয়ে আনে এবং পুণ্যকে দূরে সরিয়ে দেয়; এছাড়া এটি ঋষিদের জন্য উৎসর্গ করা হয়নি এবং এটি একেবারেই অনুপযুক্ত।
মহামতি, আমি যেসব খাবারের অনুমতি দিয়েছি তা সব জ্ঞানী মানুষের কাছে তৃপ্তিদায়ক কিন্তু নির্বোধরা তা এড়িয়ে চলে; এটি অনেক পুণ্যের জন্ম দেয়, অমঙ্গলকে দূরে রাখে এবং প্রাচীন ঋষিরাও এটি বিধান দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে চাল, যব, গম, শিম, কলাই, মসুর ডাল ইত্যাদি; ঘি, তেল, মধু, গুড়, আখ, চিনি ইত্যাদি। এই সব দিয়ে তৈরি খাবারই হলো সঠিক খাবার। মহামতি, ভবিষ্যতে এমন কিছু অবিবেচক মানুষ আসতে পারে যারা নতুন ধরণের নৈতিক নিয়ম তৈরি করবে এবং মাংসাশী জাতির অভ্যাসের প্রভাবে মাংসের স্বাদের জন্য লোভী হবে: এই খাবারগুলো তাদের জন্য নয়। মহামতি, আমি এই খাবারগুলো সেই সব বোধিসত্ত্ব-মহাসত্ত্বদের জন্য বলছি যারা পূর্ববর্তী বুদ্ধদের পূজা করেছেন, যাদের পুণ্যের শিকড় অনেক গভীর, যারা বিশ্বাসী, বৈষম্যহীন এবং শাক্য বংশের সকল পুরুষ ও নারী, যারা উচ্চবংশীয় সন্তান, যাদের শরীর, জীবন এবং সম্পত্তির প্রতি কোনো মোহ নেই, যারা সুস্বাদু খাবারের প্রতি আকৃষ্ট নন বা লোভী নন, যারা দয়ালু এবং সব প্রাণীকে নিজের মতো করে আপন করে নিতে চান এবং যারা সব প্রাণীকে নিজের একমাত্র সন্তানের মতো স্নেহ করেন। - মহামতি, যদি কেউ কোনো কারণেই মাংস না খায়, তবে প্রাণের বিনাশ ঘটবে না।
- মাংস খাওয়া থেকে অহংকার জন্মে, অহংকার থেকে ভুল কল্পনার সৃষ্টি হয় এবং কল্পনা থেকে জন্ম নেয় লোভ; আর এই কারণেই মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- গৌতম বুদ্ধ, লঙ্কাবতার সূত্র, ডি. টি. সুজুকি কর্তৃক অনূদিত (১৯৩২), অষ্টম অধ্যায়: মাংস খাওয়া সম্পর্কে।

- যে মাংস খায় সে মহান করুণার বীজ ধ্বংস করে।
- গৌতম বুদ্ধ, মহাযান মহাপরিনির্বাণ সূত্র (অথবা নির্বাণ সূত্র), কোশো ইয়ামামোটো কর্তৃক অনূদিত (১৯৭৩) এবং টনি পেজ কর্তৃক সংশোধিত (২০০৭), সপ্তম অধ্যায়: চারটি দিক সম্পর্কে।
- আমি বলি যে তিনটি ক্ষেত্রে মাংস খাওয়া উচিত নয়: যখন দেখা যায়, শোনা যায় অথবা যখন সন্দেহ থাকে।
- গৌতম বুদ্ধ, মজঝিম নিকায়, সিস্টার উপ্পালভন্না কর্তৃক অনুবাদ, ৫৫তম প্রবচন: জীবক সুত্ত।
- আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, যে ব্যক্তি অন্য প্রাণীর মাংস খায় না বা অন্য প্রাণীর শরীরের কোনো অংশ পরিধান করে না, এমনকি এসব খাওয়ার বা পরার চিন্তাও করে না, সেই ব্যক্তি মুক্তি লাভ করবে।
- গৌতম বুদ্ধ, সুরঙ্গম সূত্র, বুদ্ধিস্ট টেক্সট ট্রান্সলেশন সোসাইটি কর্তৃক অনূদিত (২০০৯), সপ্তম অংশ, দ্বিতীয় অধ্যায়: হত্যা সম্পর্কে।
- অন্যান্য সব প্রাণী মিলে যে পরিমাণ মাংস খায়, মানুষ একাই তার চেয়ে বেশি মাংস সাবাড় করে; তাই সে-ই হলো সবচেয়ে বড় বিনাশকারী; আর এটি প্রয়োজনের চেয়ে অভ্যাসের কারণেই বেশি হয়। তাকে যেসব নেয়ামত দেওয়া হয়েছে তা পরিমিতভাবে ব্যবহার না করে এবং সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে না দিয়ে, ধনী মানুষ একদিনে তার টেবিলে অনেকগুলো পরিবার চালানোর মতো খাবার খেয়েই গর্ব বোধ করে। সে পশু এবং তার সহকর্মী মানুষ-উভয়ের সাথেই অন্যায় করে। কেউ কেউ না খেয়ে কষ্টে দিন কাটায় এবং কেবল তার অতিরিক্ত ক্ষুধা আর অন্তহীন অহংকার মেটানোর জন্য পরিশ্রম করে। মানুষ নিছক খেয়ালের বশে অন্যদের ধ্বংস করার মাধ্যমে আসলে নিজেকেই ধ্বংস করে। তবুও অন্যান্য প্রাণীদের মতো মানুষ নিরামিষ খেয়েও বেঁচে থাকতে পারত।
- জর্জ বুফন, ন্যাচারাল হিস্ট্রি, জে. এস. বার কর্তৃক অনূদিত, লন্ডন: এইচ. ডি. সাইমন্ডস, ১৭৯৭, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২০৯–২১০।
- যদিও আমি মনে করি মানুষের প্রকৃতিগতভাবে শিকার করে বা মাটির ফসল খেয়ে বেঁচে থাকার ক্ষমতা আছে; কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে স্বভাবগতভাবে এবং আদি অবস্থায় সে ছিল ফলভোজী প্রাণী এবং কেবল অর্জিত অভ্যাসের কারণে সে শিকারি প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।
- জেমস বার্নেট, অফ দ্য অরিজিন অ্যান্ড প্রগ্রেস অফ ল্যাঙ্গুয়েজ (এডিনবরা এবং লন্ডন: জে. বালফুর এবং টি. কাডেল, ২য় সংস্করণ, ১৭৭৪), খণ্ড ১, বই ২, অধ্যায় ২, পৃষ্ঠা ২২৪–২২৫।
- আমি তো কোনো ভীরু মানুষ নই। আমি হকি খেলেছি যতক্ষণ না আমার অর্ধেক দাঁত গলার ভেতর ঢুকে গিয়েছিল। টেনিস কোর্টেও আমি ভীষণ লড়াকু—যে কোনো জায়গায় যে কোনো বল ধরার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি। কিন্তু কসাইখানার সেই অভিজ্ঞতা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর আমি জানতাম যে আমি আর কখনো কোনো প্রাণীর ক্ষতি করব না! আমি নিরামিষবাদের স্বপক্ষে সব ধরণের শারীরিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত যুক্তি জানতাম, কিন্তু পশুপাখির প্রতি মানুষের সেই নিষ্ঠুরতা সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতাটিই আমার নিরামিষাশী হওয়ার আসল ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।
- পিটার বারওয়াশ, ভেজিটেরিয়ান প্রাইমার (নিউ ইয়র্ক: অ্যাথেনিয়াম, ১৯৮৩), পৃষ্ঠা ৭৫।
- আমি প্রায় ৮ বছর বয়স থেকে নিরামিষাশী হয়েছি। একদিন আমি এক টুকরো মাংস কাটলাম এবং তা থেকে রক্ত বেরিয়ে এল। আমি বুঝতে পারলাম এবং আমার মাকে জিজ্ঞেস করলাম, "এটি কোথা থেকে এল?" তিনি বললেন, "প্রাণীদের থেকে," আর সেটুকুই যথেষ্ট ছিল।
- গিজার বাটলার, "ব্ল্যাক সাবাথের গিজার বাটলার", পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অফ অ্যানিম্যালস (পেটা)-র সাথে সাক্ষাৎকার (৫ মে ২০০৯)।
- সেই পাসিফাই গবাদি পশুপালনকে উৎসাহিত করেছিল,
যাতে ক্রিটবাসীরা যুদ্ধে আরও বেশি রক্তপিপাসু হয়।
কারণ আমরা সবাই জানি যে ইংরেজরা
রুর মাংস খেয়েই বাঁচে—আমি বিয়ার সম্পর্কে বেশি কিছু বলব না,
কারণ এটি কেবল পানীয়, এবং আমার প্রসঙ্গের বাইরে হওয়ায়
সেটি এখানে আলোচনার প্রয়োজন নেই;
আমরা এও জানি যে তারা যুদ্ধ খুব পছন্দ করে,
যা একটি আনন্দ-অন্য সব আনন্দের মতোই-বেশ ব্যয়বহুল;
ক্রিটবাসীরাও তেমনই ছিল-যা থেকে আমি এই সিদ্ধান্তে আসি
যে গরুর মাংস এবং যুদ্ধ উভয়ই তার কারণেই ঘটেছিল।
- লর্ড বাইরন, ডন জুয়ান (১৮২৪), দ্বিতীয় সর্গ, স্তবক ১৫৫–১৫৬।
- এটি আপনাকে অবাক করতে পারে, কারণ আমি যখন প্রথম জানতে পেরেছিলাম তখন আমিও অবাক হয়েছিলাম। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একজন ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বড় যে কাজটি করতে পারেন, তা হলো প্রাণী খাওয়া বন্ধ করা। কারণ পশুপালনের মাধ্যমে পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে কার্বন নির্গত হয়। আমি এটি জেনে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে, সারাবিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ১৪.৫% আসে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পশুপালন থেকে। অথচ সারা বিশ্বের সব জাহাজ, গাড়ি, ট্রাক আর প্লেন মিলিয়ে নির্গমনের পরিমাণ মাত্র ১৩%। অর্থাৎ পশুপালন থেকে যাতায়াত ব্যবস্থার চেয়েও বেশি দূষণ হয়। তাই অধিকাংশ মানুষ মনে করে একটি প্রিয়াস গাড়ি কেনাই হয়তো সমাধান, তবে সেটি ভুল না হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ পশুপালনের চেয়ে বড় নয়।
- জেমস ক্যামেরন, রেডিট একটি "আস্ক মি এনিথিং" সেশন থেকে; ইকোরাজি (১২ এপ্রিল ২০১৪)-এর "পরিচালক জেমস ক্যামেরন এবং নিরামিষ আহার: আমার মনে হচ্ছে আমি ১৫ বছর বয়সে ফিরে গেছি"।

- আমরা মূলত নিরামিষভোজী প্রজাতি এবং আমাদের উচিত হরেক রকমের উদ্ভিজ্জ খাবার খাওয়া এবং প্রাণিজ খাবারের পরিমাণ কমিয়ে আনা। ... সাধারণত কোনো দেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হতে শুরু করে, তারা প্রথমেই প্রচুর গবাদি পশু পালন শুরু করে। আমাদের সংগৃহীত তথ্য বলছে যে এটি খুব একটা বুদ্ধিমান কাজ নয়, এবং চীনারা এখন সেদিকে নজর দিচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে যে প্রাণিজ কৃষি বা পশুপালনের দিকে ঝোঁকা ঠিক হবে না। ... আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব দেশে মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে এবং যার বেশির ভাগই আসে প্রোটিন সমৃদ্ধ দুগ্ধজাত খাবার থেকে, সেখানেই অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। চীনের সংগৃহীত তথ্য বলছে যে মানুষের আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক কম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন এবং শাকসবজি থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে তা পাওয়া সম্ভব।
- টি. কলিন ক্যাম্পবেল, জেন ব্রোডি কর্তৃক "খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিশাল গবেষণায় চর্বি এবং মাংসকে দায়ী করা হয়েছে"-এ বর্ণিত, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (৮ মে ১৯৯০), পৃষ্ঠা ২।
- [প্রাণীদের] এখন বিশেষভাবে খাওয়ার জন্যই প্রজনন করানো হয়। যদি চাহিদা কমে যায়, তবে সরবরাহও কমে যাবে। এছাড়া বন্যপ্রাণী তো সব জায়গায় বেড়ে যাচ্ছে না, তবে গবাদি পশু কেন বাড়বে? ... গবাদি পশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই, যদি তারা বর্তমানের এই প্রাণীদের প্রতি একটু বেশি মানবিক আচরণ করে!
- হিয়ারওয়ার্ড ক্যারিংটন, দ্য ন্যাচারাল ফুড ফর ম্যান (পোমেরয়, ডাব্লিউএ: হেলথ রিসার্চ, ১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৫৯-১৬০।
- মানুষ যদি একবার থেমে চিন্তা করত যে মাংস আসলে কী, তবে এটি খাওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হতো। এটি কেবল একটি মৃত এবং পচে যাওয়া মাংসপিণ্ড—যা একটি প্রাণীর শরীর থেকে এসেছে। ... রান্নার মাধ্যমে এর আসল রূপ ঢেকে রেখে, মশলা আর লবন দিয়ে মাখিয়ে এর স্বাদ বদলানো হয় বলেই আমরা এটি খেতে পারি। আমরা যদি প্রাকৃতিকভাবে মাংসাশী প্রাণী হতাম, তবে আমরা রক্তপাত আর কাঁচা মাংস দেখে আনন্দ পেতাম! ... তখন আমরা গরু মারার পর তার শরীর থেকে আসা উষ্ণ এবং কাঁপতে থাকা মাংস খেতাম!
- হিয়ারওয়ার্ড ক্যারিংটন, দ্য ন্যাচারাল ফুড ফর ম্যান (পোমেরয়, ডাব্লিউএ: হেলথ রিসার্চ, ১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬০-১৬১।
- মানুষ মাংস খেয়ে ভাবে যে তারা ষাঁড়ের মতো শক্তিশালী হবে, কিন্তু ভুলে যায় যে ষাঁড় ঘাস খেয়েই বড় হয়।
স্বাদ নিয়ে প্রাণী খাওয়া হলো ঠান্ডা মাথায় করা এক লালসার খুন, আর তা হজম করা হলো মরা লাশ গুম করার মতো।- পিনো কারুসো, ইল দিলুভিও উনিভারসালে: আকুয়া পাসসাতা (পালেরমো: নভেচেন্তো, ১৯৯৩), পৃষ্ঠা ১৭৯।
- আমি যখন তরুণদের মাংস খেতে দেখি তখন অবাক হই। এটি আমার কাছে অনেক পুরনো আমলের কথা মনে হয়! যে তরুণ মাংস খাচ্ছে সে আসলে আধুনিক নয়, তার পাকস্থলী যেন ঊনবিংশ শতাব্দীর, যখন ইউরোপকে মাংসাশী বানানো হচ্ছিল... জবাই করা প্রাণীর টুকরো খাওয়া আসলে একটি অস্বাভাবিক বিষয়। নিরামিষ খাবার ছাড়া প্রকৃত তারুণ্য আসা সম্ভব নয়। মাংস খাওয়া মূলত বয়স্কদের এক ধরণের যন্ত্রণাদায়ক অভ্যাস। মাংসের পদ চাওয়া, এটি নিয়ে আলোচনা করা বা এটি মনে রাখা-সবই বৃদ্ধ মানুষের কাজ যারা একগুঁয়ে হয়ে বিকল্প খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করতে পারে না।
- গুইডো চেরোনেত্তি, ইনসেত্তি সেনজা ফ্রন্তিয়েরে: পেনসিয়েরি দেল ফিলোসোফো ইনোতো (মিলান: আডেলফি, ২০০৯), § ৩৪।
- আপনি আমাকে রাম পান করতে দেখবেন,
বস্তির একজন নাবিকের মতো,
আমাকে বাভারিয়ানদের মতো বিয়ার পান করতে দেখবেন।
আপনি আমাকে জিন পান করতে দেখবেন
সবচেয়ে নিচু মানের সরাইখানায়,
কারণ আমি একজন কট্টর নিরামিষাশী।
তাই আমি সরাইখানা থেকে সব মদ সরিয়ে দিলাম,
এবং আমি সাইনবোর্ডে ওঠার চেষ্টা করলাম,
এবং কনস্টেবলকে "ম্যারিয়ন" বলে ডাকার চেষ্টা করলাম।
কিন্তু সে বলল আমি কথা বলতে পারছি না,
এবং সে আমাকে হাজতে পাঠিয়ে দিল
কারণ আমি একজন সুখী নিরামিষাশী ছিলাম।
ওহ, আমি ডাক্তার গ্লাক নামে একজনকে চিনতাম,
তার নাকটা ছিল বাঁকানো,
এবং তার আচরণ মোটেও আর্য ছিল না;
তাই আমি তাকে সব শুকরের মাংস দিয়ে দিলাম
যা আমার কাছে ছিল, একটি কাঁটাচামচে করে;
কারণ আমি নিজেও একজন নিরামিষাশী।
আমি ক্লাবে চুপচাপ থাকি,
আমি সরাইখানায় চুপচাপ থাকি,
আমি দারিয়েনের চূড়ায় চুপচাপ থাকি;
কারণ আমি প্রাণপণে খাবার খেয়ে যাই
ছুরি দিয়ে মটরশুঁটি ঠেলে মুখ ভরি,
কারণ আমি একজন কট্টর নিরামিষাশী।
আর কোনো গরুর দুধ
আমার ব্যক্তিগত ঘরকে দূষিত করবে না
বর্বরদের বুনো ঘোড়ার দুধের চেয়ে বেশি;
আমি পোর্ট আর শেরি পান করে যাব,
কারণ সেগুলো অনেক অনেক অনেক,
অনেক অনেক অনেক নিরামিষাশী পানীয়।- জি. কে. চেস্টারটন, "দ্য লজিক্যাল ভেজিটেরিয়ান"
- দ্য ফ্লাইং ইন (১৯১৪); ওয়াইন, ওয়াটার, অ্যান্ড সং (১৯১৫)
- খিঁচুনি, যন্ত্রণা এবং নির্যাতন দেখা, যাকে তারা ফিরিয়ে আনতে পারে না বা ক্ষতিপূরণ দিতে পারে না, এবং বিলাসিতা মেটাতে বা স্থূল ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য তার মৃত্যু হতে দেখা-নিশ্চয়ই এর জন্য পাথুরে হৃদয় এবং এক চরম পর্যায়ের নিষ্ঠুরতা প্রয়োজন। আমি প্রাকৃতিক যুক্তি এবং সাম্যের ভিত্তিতে মানুষের মাংস খাওয়া এবং পশুর মাংস খাওয়ার মধ্যে প্রথা ও উদাহরণ ছাড়া কোনো বড় পার্থক্য খুঁজে পাই না। আমি বিশ্বাস করি কিছু বুদ্ধিমান প্রাণী একটি শক্তিশালী ষাঁড় বা লাল হরিণের চেয়ে কম কষ্ট পাবে; এবং প্রাকৃতিক নৈতিকতা ও বিচারে, যন্ত্রণার মাত্রাই এখানে আসল পার্থক্য তৈরি করে; কারণ অন্যান্য পার্থক্যগুলো কেবল আপেক্ষিক এবং অসীম নিখুঁত সত্তার কাছে সেগুলোর কোনো গুরুত্ব নেই। যদি প্রথা এবং উদাহরণ এই আতঙ্ককে কমিয়ে না দিত এবং পার্থক্য তৈরি না করত, তবে একা যুক্তি কখনো তা করতে পারত না।
- জর্জ চেইন, অ্যান এসে অন রেজিনেম, লন্ডন: সি. রিভিংটন, ১৭৪০, পৃষ্ঠা ৭০-৭১।
- এটি পরিষ্কার যে বর্তমানের এই বাণিজ্যিক পশুপালন ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। ... তাই আসুন আমরা অন্তত নিরামিষাশী হই। যারা বুঝতে পেরেছেন যে মাংস খাওয়া আসলে একটি নেশা ছাড়া আর কিছু নয়, এবং যারা শেলির মতো মনে করেন যে এটি শরীরের ক্ষতি করে... তাদের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া সহজ। খাওয়ার জন্য পশুপাখিকে হত্যা করা বা কষ্ট দেওয়া মোটেও প্রয়োজন নয়।
- স্টিফেন আর. এল. ক্লার্ক, দ্য মোরাল স্ট্যাটাস অফ অ্যানিম্যালস, অক্সফোর্ড: ক্ল্যারেন্ডন প্রেস, ১৯৭৭, পৃষ্ঠা ৪৬।
- ঈশ্বরের পরিকল্পনা করা সেই আদর্শ জগতে মানুষের নিরামিষাশী হওয়ার কথা ছিল।
- রাব্বি জ্যাকব কোহন, দ্য রয়াল টেবিল: অ্যান আউটলাইন অফ দ্য ডায়েটারি লজ অফ ইসরায়েল, নিউ ইয়র্ক: ব্লক পাবলিশিং কোং, ১৯৩৬, পৃষ্ঠা ৯ (বইয়ের প্রথম বাক্য)।
- বত্রিশ বছর আগে আমি নিরামিষাশী হয়েছিলাম। আমার বাবা-মা মাংস খাওয়া ঠিক বললেও আমার কাছে মৃত শরীর খাওয়া সবসময়ই অদ্ভুত লাগত। এরপর আমি "দ্য টেক্সাস চেইন স ম্যাসাকার" চলচ্চিত্রটি দেখি এবং সেটিই সব বদলে দেয়। চলচ্চিত্রে মানুষের সাথে যা করা হচ্ছিল, পশুদের সাথেও ঠিক তেমনটাই করা হয়। এরপর আমি ধীরে ধীরে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিই।
- ফিল কলেন, "ডেফ লেপার্ডের ফিল কলেন যেভাবে মদ ছেড়ে ভালো শরীর গড়লেন", লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস (২৭ জুন ২০১৫)-এর সাথে সাক্ষাৎকার।
- দুগ্ধজাত খাবার ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে আমি অনেক স্পষ্টভাবে চিন্তা করতে পারি এবং কথা বলতে পারি। আমি এখন ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারি এবং কাজ করার ক্ষমতাও বেড়েছে, আমার কণ্ঠস্বরও এখন অনেক পরিষ্কার। আমি এখন আমার কণ্ঠ নিয়ে এমন অনেক কিছু করতে পারি যা মাংস আর দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার সময় পারতাম না। আমি নিরামিষাশী হতে পেরে গর্বিত এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি, সবকিছু এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে।
- কমন, হোলিস্টিক ওয়েলনেস ফর দ্য হিপ-হপ জেনারেশন (২০০৩) তথ্যচিত্র থেকে; অলহিপহপ (১৩ আগস্ট ২০০৩)-এর "কমন, স্টিকম্যান এবং বাদু নতুন হেলথ ডকুমেন্টারিতে"-এ উদ্ধৃত।
- মানুষের শরীরকে নিখুঁত স্বাস্থ্যের অধিকারী রাখার জন্য উষ্ণ রক্তযুক্ত প্রাণীদের মাংস অপরিহার্য নয়... আমাদের কাছে মাংসের অনেক বিকল্প রয়েছে যা প্রাণীর ওপর এই খাবারের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে মুক্ত,যেমন বাত, গেঁটেবাত এবং অন্যান্য সমজাতীয় রোগ তৈরি করা, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ এবং নানা ধরণের শিরাঘটিত রোগ, মাইগ্রেন এবং মাংসের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে হওয়া মাথা ব্যথার কথা না হয় বাদই দিলাম।
- ডাঃ এম. এফ. কুমস, ১৯০২ সালের জুলাই মাসের দ্য আমেরিকান প্র্যাকটিশনার অ্যান্ড নিউজ-এ; সি. ডাব্লিউ. লিডবিটারের ভেজিটেরিয়ানিজম অ্যান্ড অকাল্টিজম (১৯১৩)-এ উদ্ধৃত।
- ১৯৭৫ সালে আমি মোটরবাইকে করে সারা দেশ ঘুরেছিলাম। আমার মনে আছে সেটা ছিল বছরের সবচেয়ে খারাপ সময় এবং প্রচণ্ড ঠান্ডা। যখন আমি টেক্সাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমি গবাদি পশুর খামারগুলোর পাশ দিয়ে গেলাম, যা আমি আগে কখনো দেখিনি। সেটি ছিল এক অত্যন্ত গম্ভীর দৃশ্য হৃদয়বিদারক এবং ভয়ংকর। এটি এমন একটি করপোরেট ব্যবস্থা যা টেকসই, মানবিক এবং করুণার সাথে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। সেই সময়ে আমি জানতামও না নিরামিষাশী বলতে কী বোঝায়। আমি কেবল ভেবেছিলাম, "আমি আর প্রাণীদের খেতে পারব না।"
- জেমস ক্রমওয়েল, "একটি নির্মোহ হৃদয়ের গল্প: জেমস ক্রমওয়েলের সাথে একটি সাক্ষাৎকার", দ্য হিউম্যান সোসাইটি অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস (১৭ ডিসেম্বর ২০১৪) কর্তৃক।
- শরীরের প্রকৃত এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি স্বাস্থ্য থেকেই আসে। আর মাংসের চেয়ে শাকসবজি এবং হালকা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী।
- আন্তোনিও কোক্কি, দ্য পিথাগোরীয় ডায়েট: ফর দ্য ইউজ অফ দ্য মেডিকেল ফ্যাকাল্টি। হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট (ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় প্রেস, ২০০৩, পৃষ্ঠা ১৫৮)।
- সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যগত কারণে নিরামিষ আহারের নিন্দা করা আর আমিষের প্রশংসা করা একেবারেই ভিত্তিহীন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং প্রকৃতি নিয়ে গভীর পড়াশোনা আর জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমি যা জেনেছি, তাতে আমি সবসময়ই এই ধারণার বিরোধিতা করেছি। অনেক অভিজ্ঞ এবং জ্ঞানী চিকিৎসকরাও এখন আমার এই মতকে সমর্থন করছেন। তাই আমি মনে করি চিকিৎসার স্বার্থে এবং সুস্থ থাকার জন্য পিথাগোরীয় খাদ্যাভ্যাসের গুণাবলী সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া আমার দায়িত্ব। এই খাদ্যাভ্যাস যেমন শরীর ও মনের জন্য ভালো, তেমনি এটি কোনো প্রাণীর ক্ষতি করে না। এছাড়া আমাদের এই সুন্দর দেশের উর্বর মাটি আমাদের যে সেরা সবজি ও ফল উপহার দেয়, তা যদি আমরা সঠিকভাবে নির্বাচন করতে পারি, তবে আমরা এক ধরণের রাজকীয় এবং সুস্বাদু খাবারের স্বাদ পেতে পারি।
- আন্তোনিও কোক্কি, দ্য পিথাগোরীয় ডায়েট: ফর দ্য ইউজ অফ দ্য মেডিকেল ফ্যাকাল্টি। হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট (ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় প্রেস, ২০০৩, পৃষ্ঠা ১৫৮)।
- "কিন্তু আপনার নিজের নিরামিষভোজী হওয়া নিয়ে কী বলবেন মিসেস কস্টেলো," প্রেসিডেন্ট গ্যারার্ড পরিস্থিতি সামাল দিতে বললেন: "এটি কি আপনার নৈতিক বিশ্বাস থেকে এসেছে?"
"না, আমার তা মনে হয় না," তার মা বললেন। "এটি এসেছে আমার আত্মাকে রক্ষা করার ইচ্ছা থেকে।"
এবার চারপাশ একদম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কেবল খাবার টেবিলে প্লেট রাখার শব্দ শোনা হচ্ছিল।
"আচ্ছা, একটি জীবনধারা হিসেবে এর প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে," গ্যারার্ড বললেন।
"আমি চামড়ার জুতো পরে আছি," তার মা বললেন। "আমার হাতে একটি চামড়ার ব্যাগ আছে। আমার জায়গায় আপনি হলে আমি খুব একটা শ্রদ্ধা বোধ করতাম না।"
"একই কথায় অনড় থাকা," গ্যারার্ড বিড়বিড় করে বললেন। "সব সময় এক কথা বলা বা অনড় থাকা আসলে সংকীর্ণ মনের পরিচয়। মাংস খাওয়া আর চামড়ার ব্যাগ ব্যবহারের মধ্যে নিশ্চয়ই তফাৎ করা সম্ভব।"
"এগুলো কেবল অশ্লীলতার মাত্রাভেদ," তিনি উত্তর দিলেন।- জে. এম. কুয়েৎজি, দ্য লাইভস অফ অ্যানিম্যালস (প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৯), পৃষ্ঠা ৪৩-৪৪।

- আমি নিরামিষাশী। ... আমি ২০ বছর বয়সে নিরামিষাশী হয়েছিলাম যখন আমি একটি শুকরের খামারে কাজ করতাম। আমি শুকরগুলোর প্রতি মায়া অনুভব করতাম এবং তাদের জবাই করা হবে এই চিন্তা আমি সইতে পারতাম না।
- জেরেমি করবিন, "পাহাড়ে স্বাগতম", জন গালিভারের সাথে সাক্ষাৎকার, ক্যামডেন নিউ জার্নাল (১৩ আগস্ট ২০১৫)-এ।
- বিচারক এবং জুরিদের যদি নিজেদের হাতে কোনো বন্দীকে ফাঁসি দিতে হতো, তবে ফাঁসির দণ্ড অনেক কমে যেত; যদি আমাদের নিজেদের হাতে মাংসের জন্য পশু জবাই করতে হতো, তবে নিরামিষাশীদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যেত।
- আরনেস্ট হাওয়ার্ড ক্রসবি, টলস্টয় অ্যান্ড হিজ মেসেজ, নিউ ইয়র্ক: ফাঙ্ক অ্যান্ড ওয়াগনালস কোম্পানি, ১৯০৪, পৃষ্ঠা ৫৩।
- মরা পশুর দেহ আমার শরীরের ভেতরে গেলে একদমই ভালো লাগে না। এছাড়া মাংসের ভেতরে যেসব হরমোন বা অন্যান্য ক্ষতিকর জিনিস মেশানো হয়, তা নিয়ে আমি কিছু ভয়াবহ তথ্যচিত্র দেখেছি। স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করলে মাংস খাওয়া সত্যিই ভীতিকর। ... এটি কেবল মাংস থেকে দূরে থাকা নয়, বরং এমন খাবার খাওয়া যা আপনাকে সতেজ ও সুস্থ রাখে। এই কারণেই মূলত মানুষ নিরামিষভোজী হয়। ... আমি মনে করি খাওয়ার জন্য বা কোনো কিছু তৈরির জন্য কোনো প্রাণীকে হত্যা করা অত্যন্ত জঘন্য কাজ। ফ্যাশন জগতে পশমের পোশাক ব্যবহারের বিরুদ্ধে এক সময় বড় আন্দোলন হয়েছিল, কিন্তু রাতারাতি সেটি আবার স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আমি এই ধরণের লোক দেখানো প্রতিবাদের ধরণ ঘৃণা করি।
- অ্যালান কামিং, "অ্যালান কামিংয়ের সাথে একান্ত আলাপ", ভেজিটেরিয়ান টাইমস (২৭ জানুয়ারি ২০১১)-এর সাথে সাক্ষাৎকার।
- মানুষের শারীরিক গঠন বিচার করলে মনে হয় যে ফলমূল, শিকড় এবং শাকসবজির রসালো অংশই মানুষের স্বাভাবিক খাবার।
- জর্জি কুভিয়ে, দ্য অ্যানিম্যাল কিংডম, এইচ. ম্যাকমার্ট্রি কর্তৃক অনূদিত, লন্ডন: ওর অ্যান্ড স্মিথ, ১৮৩৪, পৃষ্ঠা ৩৭।
- হাজার হাজার—লক্ষ লক্ষ এবং কোটি কোটি—প্রাণীকে খাবারের জন্য মেরে ফেলা হয়। এটি খুবই দুঃখের বিষয়। আমরা মানুষেরা মাংস ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারি, বিশেষ করে বর্তমান যুগে। আমাদের কাছে হরেক রকমের শাকসবজি এবং বিকল্প খাবার রয়েছে, তাই কোটি কোটি প্রাণ বাঁচানোর ক্ষমতা ও দায়িত্ব আমাদেরই। আমি অনেক মানুষ এবং সংস্থাকে দেখেছি যারা প্রাণীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন এবং নিরামিষ খাবার খাচ্ছেন। এটি চমৎকার। নির্দিষ্ট কিছু হত্যা কেবলই "বিলাসিতা"। ... তবে সম্ভবত সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো বাণিজ্যিক পশুপালন। সেখানকার অবলা প্রাণীরা সত্যিই অনেক কষ্ট পায়। ... যারা এই ধরণের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে লড়ছেন, আমাদের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমার এক ভারতীয় বন্ধু বলেছিলেন যে তার ছোট মেয়ে তার সাথে তর্ক করছে যে মুরগি বা ছোট প্রাণীর বদলে দশজন মানুষকে একটি গরু খাওয়ানো ভালো, কারণ এতে কম প্রাণ বিসর্জন দিতে হবে। ভারতীয় ঐতিহ্যে গরুর মাংস সবসময় এড়িয়ে চলা হয়, কিন্তু আমার মনে হয় তার যুক্তিতে কিছু দম আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চিংড়ি মাছ অনেক ছোট হয়। এক প্লেট খাবারের জন্য অনেকগুলো প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়। আমার কাছে এটি মোটেও সুস্বাদু নয়। এটি আমার কাছে খুব ভয়াবহ মনে হয় এবং আমার মনে হয় এই জিনিসগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি আপনার শরীরের জন্য মাংসের প্রয়োজনীয়তা থাকেই, তবে বড় কোনো প্রাণী বেছে নেওয়া ভালো হতে পারে। এক সময় হয়তো আপনি মাংসের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আমার মনে হয় মানুষ হিসেবে আমাদের মূল স্বভাবই হলো নিরামিষাশী হওয়া—অর্থাৎ অন্য কোনো প্রাণীর ক্ষতি না করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা। আমরা যদি বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগাই, তবে আমরা একটি সঠিক ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা তৈরি করতে পারি। যে কোনো সচেতন প্রাণীর কষ্টকে অবহেলা করা খুবই বিপজ্জনক।
- তেনজিন গিয়াতসো, চতুর্দশ দালাই লামা, ওয়ার্ল্ডস ইন হারমোনি: ডায়ালগস অন কম্প্যাশনেট অ্যাকশন, বার্কলি: প্যারালাক্স প্রেস, ১৯৯২, পৃষ্ঠা ২০–২১-এ দেওয়া সাক্ষাৎকার।
- আমি সবসময়ই এই বিষয়টি দেখে অবাক হয়েছি যে, চিলির খনিতে কাজ করা শ্রমিকরা আমার দেখা সবচেয়ে অসাধারণ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও কেবল নিরামিষ খেয়েই বেঁচে থাকেন। তাদের খাবারের তালিকায় মূলত শিম জাতীয় উদ্ভিদের বিভিন্ন দানা থাকে।
- চার্লস ডারউইন, ১৮৮০ সালের একটি চিঠি থেকে, জন ভ্যান ওয়াইহি সম্পাদিত চার্লস ডারউইন’স শর্টার পাবলিকেশনস, ১৮২৯–১৮৮৩, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৯, পৃষ্ঠা ৪২৮-এ বর্ণিত।

- প্রকৃত নৈতিকতা আর মানুষের মার্জিত রুচি গড়ে তোলার জন্য যে সংস্কারগুলো দরকার, তার মধ্যে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও অবশ্যই অন্যতম। আজও এই 'সভ্য' পৃথিবী এক ভয়াবহ বর্বরতায় কলঙ্কিত হয়ে আছে; প্রাণীদের হত্যা করা আর তাদের মৃতদেহ ভক্ষণ করার সেই প্রাচীন অসভ্য প্রথা এখনও এতটাই চালু যে মানুষ একে ভুল বলে চিনতেই পারে না। এই ভয়াবহ কাজের প্রতি অনীহা দেখালে উল্টো সেই সংস্কারকদের সমালোচনা করা হয়, বিদ্রূপ করা হয়—এমনকি ঘৃণা ও তিক্ততাও ছড়ানো হয়। এই বর্বরতা দূর করা মানুষের মানবিকতা, নৈতিকতা, নন্দনতত্ত্ব এবং শারীরতত্ত্বের মূল নীতিগুলোর সাথে গভীরভাবে যুক্ত। প্রকৃত সংস্কৃতি এবং সভ্য মানবিকতা গড়ে তোলা কোনোভাবেই সম্ভব নয় যতক্ষণ না সমাজে এই সুসংগঠিত হত্যাযজ্ঞ আর মৃতদেহ ভক্ষণ করার প্রথাটি স্বীকৃত নিয়ম হিসেবে টিকে থাকবে।
- গেয়র্গ ফ্রিডরিশ ডাউমার, হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট: এ ক্যাটেনা অফ অথরিটিস ডিপ্রেকেটরি অফ দ্য প্র্যাকটিস অফ ফ্লেশ-ইটিং (লন্ডন: এফ. পিটম্যান, ১৮৮৩), পৃষ্ঠা ২৮৩।
- আমি সব ধরণের প্রাণীই পছন্দ করি। আমি বিড়াল বা কুকুরকে আঘাত করব না তেমনি মুরগি বা গরুকেও না। আর আমি অন্য কাউকে আমার হয়ে তাদের কষ্ট দিতেও বলব না। এই কারণেই আমি একজন নিরামিষাশী।
- পিটার ডিংকলেজ, “কেন তিনি নিরামিষাশী তা নিয়ে গেম অফ থ্রোনস তারকা পিটার ডিংকলেজ,” পেটা (PETA)-র একটি ভিডিও বিজ্ঞাপন (২৬ আগস্ট ২০১১)।
- সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিরামিষবাদ হলো নিঃস্বার্থভাবে কোনো কিছু ভাগ করে নেওয়ার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ... এটি হলো অখণ্ড জীবনের অংশীদার হওয়া... পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদগুলো ভাগ করে নেওয়া... এই জীবনে প্রেম, মমতা, করুণা আর সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেওয়া।
- এইচ. জয় দিনশাহ, দ্য ভেজিটেরিয়ান ওয়ে, ২৪তম বিশ্ব নিরামিষাশী সম্মেলনের কার্যবিবরণী (মাদ্রাজ, ভারত, ১৯৭৭), পৃষ্ঠা ৩৪; রিচার্ড এইচ. শোয়ার্টজের জুডাইজম অ্যান্ড ভেজিটেরিয়ানবাদ (নিউ ইয়র্ক: ল্যান্টার্ন বুকস, ২০০১), পৃষ্ঠা ৭৫।
- জর্জ বার্নার্ড শ বলেন যে যতক্ষণ মানুষ প্রাণীদের কষ্ট দেবে, তাদের হত্যা করবে আর মাংস খাবে, ততক্ষণ পৃথিবীতে যুদ্ধ লেগেই থাকবে। আমার মনে হয় যে কোনো সুস্থ ও চিন্তাশীল মানুষই তাঁর সাথে একমত হবেন। আমার স্কুলের সব শিশুই নিরামিষাশী ছিল এবং ফল ও শাকসবজি খেয়েই তারা সুস্থ ও সুন্দরভাবে বড় হয়েছিল। যুদ্ধের সময় যখন আমি আহতদের চিৎকার শুনতাম, তখন আমার কসাইখানায় পশুদের চিৎকারের কথা মনে পড়ে যেত। আমার মনে হতো যেহেতু আমরা এই অবলা প্রাণীদের ওপর অত্যাচার করি, তাই ঈশ্বরও আমাদের ওপর এমন শাস্তি দেন। যুদ্ধ নামক এই ভয়াবহ জিনিসকে কে ভালোবাসে? সম্ভবত মাংসাশী মানুষেরা হত্যার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে—তারা পাখি মারে, পশু মারে—অসহায় হরিণ শিকার করে, শিয়াল শিকার করে। রক্তমাখা অ্যাপ্রন পরা কসাই যেন সমাজে রক্তপাত আর হত্যাকেই উসকে দেয়। কেন দেবে না? একটি বাছুরের গলা কাটা থেকে শুরু করে আমাদের ভাই-বোনেদের গলা কাটা পর্যন্ত দূরত্ব তো খুব সামান্য। আমরা নিজেরা যখন নিহত প্রাণীদের জীবন্ত কবর হয়ে আছি, তখন এই পৃথিবীতে আদর্শ কোনো পরিবেশ আমরা কীভাবে আশা করতে পারি?
- ইসাদোরা ডানকান, মাই লাইফ (১৯২৭), অধ্যায় ২৮; লিভরাইট পাবলিশিং, ২০১৩, পৃষ্ঠা ২৭৬।
- গর্ভপাত নিয়ে গবেষণামূলক লেখালিখিতে প্রাণীদের অধিকার সম্পর্কে যে ধরণের অযৌক্তিক কথাবার্তা দেখা যায়, তা আমাদের বেশ কৌতুহলী কিছু তথ্য দেয়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই ক্ষেত্রে কাজ করা উপযোগবাদী এবং নারীবাদীরা যাই চান না কেন, প্রাণীদের প্রতি সমবেদনা আর অজাত শিশুদের প্রতি সমবেদনার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা আসলে খুব সহজ—এতটাই সহজ যে একটি শিশুও তা করতে পারবে। ... যেহেতু নৈতিক নিরামিষবাদ মূলত জীবন্ত প্রাণীর ওপর যে কোনো ধরণের সহিংসতার প্রতি এক ধরণের জন্মগত অনীহা থেকে শুরু হয়, তাই এটি প্রায়ই অল্প বয়সেই মানুষের মধ্যে দেখা দেয়। ... হঠাৎ জেগে ওঠা একটি বোধ, যা আগে কখনও ছিল না এমন এক সমবেদনা জাগিয়ে তোলে এবং হয়তো জীবন বদলে দেওয়া এক উপলব্ধি তৈরি করে—এই প্রতিক্রিয়াটি নিয়ে সত্যিই যত্ন সহকারে ভাবা উচিত। এটি কেবল নিরামিষাশী হওয়ার সিদ্ধান্তের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যই নয়, বরং এটি সেই মানসিকতারও সাধারণ ভিত্তি যা মানুষকে অজাত ও নিষ্পাপ মানুষের জীবন রক্ষার দৃঢ় সংকল্পে নিয়ে আসে। ... যারা তাদের হয়ে লেখালিখি বা কাজ করে তাদের বিপরীতে আসল নিরামিষাশী এবং ভেগানদের মানুষের প্রতি নেতিবাচক অনুভূতির চেয়ে প্রাণীদের প্রতি ইতিবাচক অনুভূতি দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাত্ত্বিকভাবে বলতে গেলে, “আমাদের প্রাণীদের জীবনকে সম্মান করা উচিত” এবং “আমাদের মানুষের জীবনকে সম্মান করা উচিত”—এই দুটির মধ্যে সম্পর্ক নিরামিষবাদের সাথে জীবনবিরোধী নারীবাদ বা মানবতাবিরোধী উপযোগবাদের সম্পর্কের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট এবং সরাসরি।
- মেরি এবারস্ট্যাড, "প্রাণী-পন্থী, জীবন-পন্থী", ফার্স্ট থিংস (জুন ২০০৯)-এ।

- যদিও বাইরের পরিস্থিতির কারণে আমি কঠোরভাবে নিরামিষ খাবার মেনে চলতে পারিনি, তবে নীতিগতভাবে আমি দীর্ঘদিন ধরেই এই আদর্শের অনুসারী। নন্দনতাত্ত্বিক এবং নৈতিক কারণে নিরামিষবাদের লক্ষ্যের সাথে একমত হওয়ার পাশাপাশি, আমার মতে নিরামিষ জীবনযাপন মানুষের মেজাজের ওপর যে শারীরিক প্রভাব ফেলে তা মানবজাতির জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর হবে।
- আলবার্ট আইন্সটাইন, হারমান হুথকে লেখা চিঠি, ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩০। সম্ভবত জার্মান ম্যাগাজিন ভেজিটারিশে ভার্টেতে প্রকাশিত হয়েছিল, যা ১৮৮২ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। আইন্সটাইন আর্কাইভ ৪৬-৭৫৬। এলিস ক্যালাপ্রাইসের দ্য আল্টিমেট কোটেবল আইন্সটাইন (প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১১), পৃষ্ঠা ৪৫৩। আইএসবিন ৯৭৮-০-৬৯১-১১৩৮১৭-৬।
- তাই আমি এখন চর্বি, মাংস বা মাছ ছাড়াই বেঁচে আছি এবং এভাবে আমি বেশ ভালোই বোধ করছি। আমার সবসময়ই মনে হয় যে মানুষ মাংসাশী হওয়ার জন্য জন্মায়নি।
- আলবার্ট আইন্সটাইন, হ্যান্স মুয়েসামকে লেখা চিঠি, ৩০ মার্চ ১৯৫৪। আইন্সটাইন আর্কাইভ ৩৮-৪৩৫। এলিস ক্যালাপ্রাইসের দ্য আল্টিমেট কোটেবল আইন্সটাইন (২০১১), পৃষ্ঠা ৪৫৪।
- আর কোনো হরিণ বা এই জাতীয় পশুকে টুকরো টুকরো হতে দেখাটা তাদের জন্য কতটা আনন্দের বিষয়? সাধারণ মানুষ একটা গরু বা ভেড়া কাটলে দোষ হয় না, কিন্তু এই কাজটি করার জন্য অন্তত একজন ভদ্রলোক বা জেন্টলম্যান থাকা তো অপরাধের মতো! ... এসবের মাধ্যমে তারা নিজেদের পশুর স্তরে নামিয়ে আনা ছাড়া আর কিছুই করে যাচ্ছ না, যদিও তারা মনে করে যে তারা রাজপুত্রের মতো জীবন কাটাচ্ছে।
- ইরাসমাস, প্রেইজ অফ ফলি (১৫১১), ১৬৬৮ সালে জন উইলসন কর্তৃক অনূদিত।
- প্রাণীদের মাংস খাওয়া এবং তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা পর্যন্ত কোনো পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
- জন টড ফেরিয়ার, দ্য ইনার মিনিং অফ দ্য ফুড রিফর্ম মুভমেন্ট (১৯৩৪), পৃষ্ঠা ১০; জুলিয়া টুইগের দ্য ভেজিটেরিয়ান মুভমেন্ট ইন ইংল্যান্ড, ১৮৪৭–১৯৮১ (লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮১), সপ্তম অধ্যায়।
- মানুষ যতক্ষণ খাবারের জন্য পশু হত্যা করা বন্ধ না করবে, ততক্ষণ এই পৃথিবীতে বিশ্বশান্তির আশা করা বৃথা।
- চার্লস ফিলমোর, "দ্য ভেজিটেরিয়ান", ইউনিটি ম্যাগাজিন, মে ১৯২০। উইল টুটলের দ্য ওয়ার্ল্ড পিস ডায়েট, তৃতীয় অধ্যায়ে উদ্ধৃত।
- ইউরোপের কেউ কেউ প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতার বিষয়টি এতটাই গুরুত্ব দিয়ে দেখেন যে তারা প্রাণিজ খাবার একদমই স্পর্শ করেন না। অনেক বুদ্ধিমান মানুষ জীবনের বিভিন্ন সময়ে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন এবং এতে তাদের স্বাস্থ্যেরও বেশ উন্নতি হয়েছে। ... আমি এসব মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক গবেষণা করেছি এবং আমার মনে হয় নিরামিষ খাবারই মানুষের জন্য স্বাভাবিক। আমি নিজেও একবার এটি চেষ্টা করে খুব ভালো ফল পেয়েছিলাম: আমার শক্তি বেড়েছিল, বুদ্ধি আরও পরিষ্কার হয়েছিল, দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রম করার ক্ষমতা বেড়েছিল এবং মিশ্র খাবারের অভ্যাসের তুলনায় মনও অনেক বেশি প্রফুল্ল ছিল। আমার মনে হয় নিরামিষ খাবারে কারো কারো যে সাময়িক সমস্যা হয়, তা খুব একটা গুরুতর নয়; কয়েকবার চেষ্টা করলেই এটি নিরাপদ এবং সুস্বাদু হয়ে ওঠে। এমনকি একবার অভ্যাস হয়ে গেলে যে কোনোভাবেই হোক মাংসের প্রতি এক ধরণের বিতৃষ্ণা তৈরি হবে। কারমেলাইট এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের যারা কেবল নিরামিষ খেয়ে থাকেন, তারা মাংসাশী মানুষদের চেয়ে অনেক বেশিদিন বাঁচেন। সাধারণত নিরামিষভোজী মানুষের স্বভাব অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি নম্র হয়। এটি প্রমাণিত যে, মাংসের বদলে একই পরিমাণ জমিতে নিরামিষ চাষ করে অনেক বেশি সংখ্যক শক্তিশালী মানুষকে খাবার দেওয়া সম্ভব। অভিজ্ঞতা বলছে যে এই সহজ পদ্ধতিতে যারা জীবন কাটায়, তাদের শরীরে রোগ অনেক কম থাকে। এই সব তথ্য থেকে বোঝা যায় যে সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ এক সময় খাবারের জন্য পশু হত্যা করা বন্ধ করবে। এর মাধ্যমে প্রাচীন কাল্পনিক কাহিনী বা সিবিলাইন ওরাকলে বর্ণিত সেই স্বর্ণযুগ বা সহস্রাব্দের শান্তি সত্য হয়ে উঠবে।
- থমাস ইগনাশিয়াস মারিয়া ফস্টার, ফিলোজোয়া; অর মোরাল রিফ্লেকশনস অন দ্য একচুয়াল কন্ডিশন অফ দ্য অ্যানিম্যাল কিংডম, অ্যান্ড অন দ্য মিনস অফ ইমপ্রুভিং দ্য সেম, ব্রাসেলস: ডেল্টম্বে অ্যান্ড ডাব্লিউ. টড, ১৮৩৯, পৃষ্ঠা ৪২–৪৩।
- নিরামিষবাদ আমাদের সীমাবদ্ধ করে না, বরং মুক্ত করে। এটি আমাদের প্রাণীদের ওপর অত্যাচার, প্রকৃতির ওপর আধিপত্য আর একে অপরের ওপর জুলুম করা থেকে মুক্তি দেয়। এটি আমাদের জীবনকে আরও ইতিবাচকভাবে আবিষ্কার করতে সাহায্য করে।
- মাইকেল অ্যালেন ফক্স, ডিপ ভেজিটেরিয়ানবাদ, টেম্পল ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ১৮৩।
- আমার বয়স যখন ১৬ বছর, তখন আমি থমাস ট্রাইঅনের লেখা একটি বই পড়ি যেখানে নিরামিষ খাবারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আমি সেটি মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার ভাই তখন অবিবাহিত ছিল এবং তার কোনো সংসার ছিল না। সে অন্য একটি পরিবারের সাথে থাকত এবং তার কর্মীদের নিয়ে সেখানেই খাবার খেত। আমি মাংস খেতে অস্বীকার করায় তার কিছুটা অসুবিধা হয়েছিল এবং আমার এই খামখেয়ালিপনার জন্য সে প্রায়ই আমাকে বকা দিত। আমি ট্রাইঅনের বই থেকে কিছু নিরামিষ পদ তৈরির নিয়ম শিখে নিলাম, যেমন—আলু বা চাল সেদ্ধ করা, পুডিং বানানো ইত্যাদি। এরপর আমি আমার ভাইকে প্রস্তাব দিলাম যে, আমার খাওয়ার জন্য সে যে টাকা খরচ করে, তার অর্ধেক যদি আমাকে দিয়ে দেয় তবে আমি নিজেই নিজের খাবারের ব্যবস্থা করে নেব। সে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল। আমি দেখলাম যে সে আমাকে যা দিচ্ছে, তার অর্ধেকটা আমি জমিয়ে ফেলতে পারছি। এই জমানো টাকা দিয়ে আমি বই কিনতাম। এর আরও একটা সুবিধা ছিল। আমার ভাই আর অন্যরা যখন ছাপাখানা থেকে খাবার খেতে বাইরে যেত, আমি সেখানে একাই থাকতাম। আমি খুব জলদি আমার হালকা খাবার (যা প্রায়ই কেবল একটি বিস্কুট বা এক টুকরো পাউরুটি, এক মুঠো কিশমিশ বা পেস্ট্রি আর এক গ্লাস জল হতো) খেয়ে নিতাম। এরপর বাকি সময়টুকু আমি পড়াশোনা করতে পারতাম। পরিমিত খাওয়ার ফলে আমার মাথা অনেক বেশি পরিষ্কার থাকত এবং আমি খুব দ্রুত সবকিছু বুঝতে পারতাম, যা আমাকে পড়াশোনায় অনেক এগিয়ে দিয়েছিল। সেই সময় আমি পাটিগণিতে আমার দুর্বলতার জন্য লজ্জা পেলাম কারণ স্কুলে আমি দুবার এটি শিখতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। আমি ককারের পাটিগণিত বইটি নিলাম এবং খুব সহজেই তা শেষ করলাম। আমি সেলার এবং স্টার্মি-র ন্যাভিগেশন বইগুলোও পড়লাম এবং সেখানে থাকা সামান্য জ্যামিতির সাথে পরিচিত হলাম। এছাড়া আমি লকের অন হিউম্যান আন্ডারস্ট্যান্ডিং এবং দু পোর্ট রয়্যালের লেখা দ্য আর্ট অফ থিংকিং বইটি পড়েছিলাম।
- বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, অটোবায়োগ্রাফি, প্রথম খণ্ড, ৯ নং পরিচ্ছেদ।
- আমি বোধহয় এটি বলতে ভুলে গেছি যে, বোস্টন থেকে আমার প্রথম যাত্রার সময় ব্লক আইল্যান্ডের কাছে আমাদের নৌকাটি থেমে গিয়েছিল। আমাদের লোকজন সেখানে কড মাছ ধরতে শুরু করল এবং অনেক মাছ ধরল। তখন পর্যন্ত আমি মাংস না খাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। আমি আমার গুরু থমাস ট্রাইঅনের কথা ভাবলাম মাছ ধরা বা মারা আসলে এক ধরণের বিনা উস্কানিতে খুন, কারণ মাছগুলো তো আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি। এই যুক্তি তখন আমার কাছে একদম সঠিক মনে হয়েছিল। কিন্তু আমি আগে মাছ খেতে খুব ভালোবাসতাম এবং কড়াই থেকে ভাজা মাছের যে চমৎকার ঘ্রাণ বের হচ্ছিল তা সামলানো দায় ছিল। আদর্শ আর ইচ্ছার মধ্যে আমি কিছুক্ষণ দোটানায় থাকলাম। কিন্তু হঠাৎ আমার মনে পড়ল যে মাছগুলো কাটার সময় তাদের পেটে ছোট ছোট মাছ পাওয়া গিয়েছিল। তখন আমি ভাবলাম, "তোমরা যদি একে অপরকে খেতে পারো, তবে আমরা কেন তোমাদের খেতে পারব না?" তাই আমি পেট ভরে কড মাছ খেলাম এবং এরপর থেকে অন্যদের মতো সব ধরণের খাবারই খেতে থাকলাম; মাঝে মধ্যে কেবল শখের বশে নিরামিষ খেতাম। মানুষ 'যুক্তি বুদ্ধি সম্পন্ন প্রাণী' হওয়ায় এটাই একটা সুবিধা যে, সে যখন যা করতে চায় তার সপক্ষে কোনো না কোনো যুক্তি সহজেই খুঁজে বের করতে পারে।
- বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, অটোবায়োগ্রাফি, প্রথম খণ্ড, ১৮ নং পরিচ্ছেদ।
- আমি যখন খুব ছোট ছিলাম এবং বড়রা আমাকে জিজ্ঞেস করত যে বড় হয়ে আমি কী হতে চাই, তখন আমি হাসিমুখে বলতাম, ‘নিরামিষাশী’। আর বড় হয়ে আমি ঠিক তাই হয়েছি। আমার বাবা-মা মাংস আর সবজি মিলিয়েই খেতেন, কিন্তু প্রাণীদের খাওয়াটা আমার কাছে কখনোই ঠিক মনে হয়নি। ... আমি বিড়াল আর কুকুরের মাঝেই বড় হয়েছি এবং আমার মাথায় এটা ঢুকত না যে কেন আমরা এই প্রাণীদের রক্ষা করি, তাদের সাথে খেলি, আমাদের বিছানায় তাদের সাথে ঘুমাই এবং তাদের ‘পোষা প্রাণী’ বলি, অথচ অন্য সমান আকর্ষণীয়, আদুরে আর সচেতন প্রাণীদের আমরা ‘খাবার’ বলি।
- সাদি ফ্রস্ট, "নিরামিষবাদ কীভাবে সাদি ফ্রস্টের জীবন বদলে দিল", মেরি ক্লেয়ার (১৯ মে ২০১৭)।

- আমি মনে করি না যে মানুষের বসবাসের উপযোগী কোনো স্থানে বা জীবনের কোনো পর্যায়ে আমাদের জন্য মাংস আহার করা প্রয়োজনীয়। আমি মনে করি মাংস আমাদের প্রজাতির জন্য অনুপযুক্ত। আমরা যদি নিম্নস্তরের প্রাণীদের চেয়ে উন্নত হয়ে থাকি, তবে তাদের অনুকরণ করাটা হবে আমাদের ভুল। অভিজ্ঞতা বলে যে, যারা নিজেদের রিপু বা আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য প্রাণিজ খাদ্য উপযুক্ত নয়।
- মহাত্মা গান্ধী, ইয়াং ইন্ডিয়া (৭ অক্টোবর ১৯২৬), দ্য কালেক্টেড ওয়ার্কস অফ মহাত্মা গান্ধী (নয়াদিল্লি: পাবলিকেশনস ডিভিশন ভারত সরকার, ১৯৯৯ ইলেকট্রনিক সংস্করণ), খণ্ড ৩৬, পৃষ্ঠা ৩৮০।
- আমি দেখলাম যে নিরামিষবাদের ওপর যারা লিখেছেন তারা ধর্মীয়, বৈজ্ঞানিক, ব্যবহারিক এবং চিকিৎসা সব দিক থেকে বিষয়টিকে খুব খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেছেন। নৈতিকভাবে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, নিম্নস্তরের প্রাণীদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মানে এই নয় যে মানুষ তাদের শিকার করবে; বরং এর মানে হলো উন্নততর সত্তা হিসেবে মানুষ তাদের রক্ষা করবে। মানুষের সাথে মানুষের যেমন সম্পর্ক, মানুষের সাথে প্রাণীর সম্পর্কও তেমনই পারস্পরিক সাহায্যের হওয়া উচিত।
- মহাত্মা গান্ধী, অ্যান অটোবায়োগ্রাফি অর দ্য স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ (১৯২৭), মহাদেব দেশাই কর্তৃক অনূদিত, প্রথম খণ্ড, ১৭তম অধ্যায়: খাদ্যাভ্যাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
- নিরামিষাশীদের সেই নৈতিক ভিত্তি থাকা উচিত যে মানুষের জন্ম মাংসাশী প্রাণী হিসেবে হয়নি, বরং পৃথিবীতে জন্মানো ফলমূল আর শাকসবজি খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য হয়েছে।
- মহাত্মা গান্ধী, লন্ডন ভেজিটেরিয়ান সোসাইটির সভায় দেওয়া ভাষণ (২০ নভেম্বর ১৯৩১), দ্য কালেক্টেড ওয়ার্কস অফ মহাত্মা গান্ধী (নয়াদিল্লি: পাবলিকেশনস ডিভিশন ভারত সরকার, ১৯৯৯ ইলেকট্রনিক সংস্করণ), খণ্ড ৫৪, পৃষ্ঠা ১৮৯।
- আমি গভীরভাবে অনুভব করি যে, আধ্যাত্মিক উন্নতির একটি পর্যায়ে আমাদের শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য সহ-প্রাণীদের হত্যা করা বন্ধ করার একটি অনিবার্য তাগিদ আসবে।
- মহাত্মা গান্ধী, লুসানে দেওয়া ভাষণ (৮ ডিসেম্বর ১৯৩১), দ্য কালেক্টেড ওয়ার্কস অফ মহাত্মা গান্ধী (নয়াদিল্লি: পাবলিকেশনস ডিভিশন ভারত সরকার, ১৯৯৯ ইলেকট্রনিক সংস্করণ), খণ্ড ৫৪, পৃষ্ঠা ২৭২।
- নিরামিষবাদ হিন্দুধর্মের একটি অমূল্য উপহার।
- মহাত্মা গান্ধী, ইয়াং ইন্ডিয়া, ৭.১০.১৯২৬। খণ্ড ৩১, পৃষ্ঠা ৪৭৭।
- কিছু মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকে নিজেদের যোগী বলে দাবি করেন, তারা যুক্তি দেন যে নিরামিষ আহার সবার জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। আমরা একমত যে নিরামিষবাদ সবার জন্য নয়; এটি কেবল তাদের জন্য যারা সুখ ও শান্তি চান। যারা আত্মিক জাগরণ বা নির্বাণ চান, তাদের জন্য এটি অবশ্যই পালনীয়।
- শ্যারন গ্যানন এবং ডেভিড লাইফ, জিভামুক্তি যোগ: প্র্যাকটিসেস ফর লিবারেটিং বডি অ্যান্ড সোল (নিউ ইয়র্ক: ব্যালানটাইন বুকস, ২০০২), পৃষ্ঠা ৬৫।
- ওহে ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ মানুষ!
বাজপাখি বা চিলকে কেন তুমি দোষ দাও,
যখন তুমি নিজেই একজন মাংসাশী পাপী,
গতকালও যার নৈশভোজে ছিল মুরগির মাংস!- জন গে, দ্য ফেবলস, খণ্ড ১ (১৭২৭), পিথাগোরাস অ্যান্ড দ্য কান্ট্রিম্যান।
- আপনি বলেন মানুষ মাংস খেয়ে খুব ভালো থাকে, কিন্তু সে যদি এই খাবারকে নিজের জন্য স্বাভাবিক মনে করে, তবে প্রকৃতি যেভাবে তাকে এটি দেয়, সেভাবে কেন সে তা গ্রহণ করে না? আসলে, সে নিজের দাঁত দিয়ে কোনো জ্যান্ত প্রাণীকে ছিঁড়ে খেতে বা এমনকি কাঁচা মাংস খেতেও ভয়ে শিউরে ওঠে; তাই সে এর প্রাকৃতিক অবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আগুন জ্বালায়। ... এটি কি পরিষ্কার নয় যে মানুষের শরীর অন্য প্রাণীদের শিকার করার জন্য বা খাওয়ার জন্য তৈরি হয়নি? এক কথায়, সিসেরো আমাদের চমৎকারভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে মানুষের জন্ম অন্য প্রাণীদের ধরা বা গলা কাটার জন্য হয়নি। আপনি যদি উত্তর দেন যে ‘এটি প্রকৃতিরই দেওয়া এক দক্ষতা যার মাধ্যমে মানুষ অস্ত্র তৈরি করেছে,’ তবে দেখুন! সেই একই কৃত্রিম অস্ত্র দিয়েই মানুষ একে অপরকে হত্যা করছে। তারা কি এটি প্রকৃতির প্ররোচনায় করে? এমন ক্ষতিকর কাজকে কি ‘প্রাকৃতিক’ বলা যায়? দক্ষতা প্রকৃতি থেকেই আসে, কিন্তু এটি আমাদেরই দোষ যে আমরা এর অপব্যবহার করি।
- পিয়ের গাসেন্দি, ভ্যান হেলমন্টকে লেখা চিঠি, হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট: এ ক্যাটেনা অফ অথরিটিস ডিপ্রেকেটরি অফ দ্য প্র্যাকটিস অফ ফ্লেশ-ইটিং (লন্ডন: এফ. পিটম্যান, ১৮৮৩), পৃষ্ঠা ১০৩–১০৪।
- আর ঈশ্বর বললেন, দেখ, আমি তোমাদের সারা পৃথিবীর ওপর সব ধরণের বীজধারী চারাগাছ দিয়েছি, আর এমন সব গাছ দিয়েছি যার ফল বীজে পূর্ণ; এগুলোই তোমাদের খাদ্য হবে।
আর পৃথিবীর প্রতিটি পশু, আকাশের প্রতিটি পাখি এবং মাটির ওপর চলা প্রতিটি প্রাণবিশিষ্ট জীবের জন্য আমি খাদ্য হিসেবে সব ধরণের সবুজ লতাগুল্ম দিয়েছি: আর তাই হলো।- জেনেসিস ১:২৯–৩০
- মানুষ একে অপরের প্রতি অন্যায়, সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা এবং বিশ্বাসভঙ্গের জন্য নিজেদের অভিযুক্ত করে চলে, কিন্তু অন্য প্রাণীর গলা কাটা এবং তাদের ছিন্নভিন্ন অঙ্গ খাওয়ার জন্য নিজেদের অভিযুক্ত করে না। অথচ এই কাজগুলোই কিন্তু সেই অন্যায়, সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা আর বিশ্বাসভঙ্গের একমাত্র কারণ। ... মানুষ মনে করে তারা ন্যায়পরায়ণ, যদি তারা কেবল তাদের সহকর্মীদের প্রতি নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু দয়াই হলো মানুষের প্রকৃত ন্যায়বিচার; আর আমি আবারও বলছি, অন্য সব প্রাণীর প্রতি দয়ালু না হয়ে নিজের স্বজাতির প্রতি দয়ালু হওয়া অসম্ভব।
- জঁ-অঁতোয়ান গ্লেইজ, থালিসি: দ্য নিউ এক্সিস্টেন্স (১৮৪০–১৮৪২), হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট: এ ক্যাটেনা অফ অথরিটিস ডিপ্রেকেটরি অফ দ্য প্র্যাকটিস অফ ফ্লেশ-ইটিং (লন্ডন: এফ. পিটম্যান, ১৮৮৩), পৃষ্ঠা ২১৪।
- এটি একটি চমৎকার কিন্তু মিথ্যা যুক্তি যে, যেহেতু মানুষ এই স্বাদ আয়ত্ত করেছে, তাই তাকে এটি উপভোগ করার অনুমতি দেওয়া উচিত, প্রথমত কারণ প্রকৃতি তাকে ‘রান্না করা’ মাংস দেয়নি, আর আগুন ব্যবহারের আগে বহু যুগ পেরিয়ে গিয়েছিল। ... প্রকৃতি তাহলে মানুষকে কেবল ‘কাঁচা’ বা ‘জ্যান্ত’ মাংসই দিতে পারত, এবং আমরা জানি যে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছেই এটি চরম ঘৃণ্য।
- জঁ-অঁতোয়ান গ্লেইজ, থালিসি: দ্য নিউ এক্সিস্টেন্স (১৮৪০–১৮৪২), হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট: এ ক্যাটেনা অফ অথরিটিস ডিপ্রেকেটরি অফ দ্য প্র্যাকটিস অফ ফ্লেশ-ইটিং (লন্ডন: এফ. পিটম্যান, ১৮৮৩), পৃষ্ঠা ২১৬–২১৭।

- এখানকার তথাকথিত সভ্য মানুষেরা সব ধরণের প্রাণীর প্রতি অসীম করুণা দেখানোর ভান করে। তাদের কথা শুনলে একজন আগন্তুক মনে করতে পারে যে তারা তাকে কামড়ানো একটা মশাকেও হয়তো মারতে পারবে না: তারা এতটাই কোমল আর দয়ালু যে কেউ তাদের সব সৃষ্টির বন্ধু বলে মনে করবে; এমনকি ক্ষুদ্রতম পতঙ্গ বা সরীসৃপেরও রক্ষক মনে করবে। তবুও, আপনি কি বিশ্বাস করবেন? আমি সেই সব মানুষদেরই দেখেছি যারা তাদের কোমল হৃদয়ের বড়াই করেন, অথচ একই সময়ে ছয়টি আলাদা প্রাণীর মাংস দিয়ে তৈরি খাবার গোগ্রাসে গিলছেন। কী অদ্ভুত দ্বিমুখী আচরণ! তারা যে প্রাণীদের প্রতি দয়া দেখান, তাদেরই আবার খেয়ে ফেলেন।
- অলিভার গোল্ডস্মিথ, দ্য সিটিজেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড (১৭৬০–১৭৬১), ১৫তম চিঠি।
- উপত্যকায় স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো কোনো পশুকেই
আমি হত্যার দণ্ড দেই না;
সেই ঐশ্বরিক শক্তি যা আমাকে দয়া করে,
তাঁর কাছ থেকেই আমি তাদের দয়া করতে শিখেছি:
বরং পাহাড়ের ঘাসভরা ঢাল থেকে
আমি এক নির্দোষ ভোজ নিয়ে আসি;
লতাগুল্ম আর ফলে ভরা আমার থলে,
আর ঝর্ণার শীতল জল।- অলিভার গোল্ডস্মিথ, দ্য ভিকার অফ ওয়েকফিল্ড (১৭৬৬), অধ্যায় ৮, দ্য হারমিট।

- এটি একটি ভয়াবহ অন্যায় যে অন্য সব প্রজাতি আমাদের দ্বারা নির্যাতিত, আতঙ্কিত, চামড়া ছাড়ানো এবং ভক্ষিত হয়, যদিও আমাদের এটি করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা যখন এই অসহায় আর নিরপরাধ জীবগুলোর ওপর অবিচার করি যারা আমাদের মানবিক বিবেক আর করুণার দাবিদার তখন আমরা আসলে নিজেদেরই পশুতে পরিণত করি।
- বগুমিল গোল্টজ, দাস মেনশেনডাসেইন ইন সাইনেন ভেল্টেউইগেন জুগেন উন্ড জাইখেন (১৮৫০); হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট: এ ক্যাটেনা অফ অথরিটিস ডিপ্রেকেটরি অফ দ্য প্র্যাকটিস অফ ফ্লেশ-ইটিং (লন্ডন: এফ. পিটম্যান, ১৮৮৩), পৃষ্ঠা ২৮৬।
- প্রথমত, আপনি কীভাবে প্রমাণ করবেন যে মানবজাতি প্রাণীদের হত্যা করার অধিকার পেয়েছে এবং পশুদের আপনার দাবিকৃত উদ্দেশ্যের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে? দ্বিতীয়ত, এটি লক্ষ্য করা দরকার যে মানুষের মাংসও একই ধরণের পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু গুণাগুণ সম্পন্ন? তাহলে কি আমরা সেই কারণে নরখাদক হয়ে যাব?
- লুইস গমপার্টজ, মোরাল ইনকোয়ারিস অন দ্য সিচুয়েশন অফ ম্যান অ্যান্ড অফ ব্রুটস (১৮২৪), পিটার সিঙ্গার কর্তৃক সম্পাদিত (ফন্টওয়েল: সেন্টর প্রেস, ১৯৯২), পৃষ্ঠা ৮৪।
- হাজার হাজার মানুষ যারা বলে তারা প্রাণীদের "ভালোবাসে", তারা দিনে একবার বা দুবার এমন সব প্রাণীর মাংস খাওয়ার জন্য খেতে বসে যাদের বেঁচে থাকার প্রতিটি আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং যারা কসাইখানায় যাওয়ার পথে এবং সেখানে পৌঁছানোর পর চরম আতঙ্ক ও যন্ত্রণার শিকার হয়েছে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর মাধ্যমে এই দুঃখময় পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে তারা এই অসহ্য কষ্ট সহ্য করে।
- জেন গুডল, দ্য টেন ট্রাস্টস (২০০৩), পৃষ্ঠা ১৫।
- বর্তমানে এটি সাধারণত স্বীকৃত যে আদি মানুষরা হয়তো কিছুটা মাংস খেত, কিন্তু তাদের খাদ্যতালিকায় এর বড় কোনো ভূমিকা ছিল না। লতাগুল্ম আর গাছগাছালিই ছিল তাদের খাবারের অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- জেন গুডল, হারভেস্ট ফর হোপ (২০০৬)।
- তুলনামূলক শারীরতত্ত্ব প্রমাণ করে যে মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই একটি ফলভোজী প্রাণী, যার গঠন হয়েছে ফলমূল, বীজ এবং শ্বেতসার সমৃদ্ধ শাকসবজি খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য।
- সিলভেস্টার গ্রাহাম, লেকচারস অন দ্য সায়েন্স অফ হিউম্যান লাইফ, টি. বেকার কর্তৃক সংক্ষিপ্ত, ম্যানচেস্টার: জন হেউড, ১৮৮১, পৃষ্ঠা ৭৬।
- সারাজীবন আমি মাংস, মাছ এবং মুরগি খাওয়ার সাথে যুক্ত সব কিছু দেখে অসুস্থ বোধ করেছি। ছোটবেলায় আমি দেখতাম কিছু আপাতদৃষ্টিতে খুব ভালো ও দয়ালু মানুষ মুরগির গলা টিপে মারছে, যা আমার কাছে অত্যন্ত জঘন্য মনে হতো; আর আমি ভাবতাম আমি কি কখনও এমন কোনো প্রভাব খাটাতে পারব যাতে এই ধরণের নীচ কাজের অবসান ঘটে।
- পার্সি গ্রেইঞ্জার, “হাউ আই বিকেম এ মিট-শানার,” আমেরিকান ভেজিটেরিয়ান, খণ্ড ৫ সংখ্যা ৪, ডিসেম্বর ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৪; এডগার ক্রুকের ভেজিটেরিয়ানবাদ ইন অস্ট্রেলিয়া - ১৭৮৮ টু ১৯৪৮: এ কালচারাল অ্যান্ড সোশ্যাল হিস্ট্রি (হান্টিংডন প্রেস, ২০০৬), পৃষ্ঠা ৭৮।
- আমি মাংস খাই না, ধূমপান করি না এবং মদ পান করি না, আর তাই আমি শীত অনুভব করি না।
- পার্সি গ্রেইঞ্জার, কড়া শীতের মধ্যে পাতলা কাপড় পরে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করায়। জন বার্ডের পার্সি গ্রেইঞ্জার (কারেন্সি প্রেস, ১৯৯৮), পৃষ্ঠা ২৫৩-এ উদ্ধৃত; এডগার ক্রুকের ভেজিটেরিয়ানবাদ ইন অস্ট্রেলিয়া - ১৭৮৮ টু ১৯৪৮: এ কালচারাল অ্যান্ড সোশ্যাল হিস্ট্রি (হান্টিংডন প্রেস, ২০০৬), পৃষ্ঠা ৭৯।
- সাধারণত হিসাব করা হয় যে পশ্চিমা মানদণ্ড অনুযায়ী একজনের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের জোগান দিতে আড়াই একর জমির প্রয়োজন। নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে এটি অনুমান করা হয়েছে যে মাথা পিছু দেড় একর জমিই যথেষ্ট হতে পারে। এই পার্থক্যের কারণ হলো মাংস খাওয়ার জন্য লালিত পশুদের পালতে একজন মানুষের প্রয়োজনীয় পুষ্টি দানা শস্য, শাকসবজি এবং ফলমূল থেকে জোগান দেওয়ার তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ বেশি জমির প্রয়োজন হয়। এর মানে হলো, নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসের কারণে ভারত তার জমির সম্পদের ব্যবহার মাংসাশী জাতিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বুদ্ধিমত্তার সাথে করছে।
- রিচার্ড গ্রেগ, হুইচ ওয়ে লাইজ হোপ? অ্যান এক্সামিনেশন অফ ক্যাপিটালিজম, কমিউনিজম, সোশ্যালিজম অ্যান্ড গান্ধীজিস প্রোগ্রাম (আহমেদাবাদ: নবজীবন পাবলিশিং হাউস, ১৯৫২), পৃষ্ঠা ৮।
- নাগরিক অধিকার আন্দোলনে যুক্ত থাকার সময় ডক্টর মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কাছ থেকে শেখা অহিংসার দর্শনই ছিল আমার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের প্রধান কারণ। ... ডক্টর কিঙের নেতৃত্বে আমি অহিংসার প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই এবং আমি নিশ্চিত হই যে অহিংসা মানে যে কোনো ধরণের হত্যার বিরোধিতা করা। আমার মনে হয়েছিল "তুমি হত্যা করবে না" এই আদেশটি মানুষের কেবল নিজেদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে—যেমন যুদ্ধ, পিটিয়ে হত্যা, গুপ্তহত্যা বা খুন—নয়, বরং খাবার বা বিনোদনের জন্য পশু হত্যার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পশু আর মানুষ একইভাবে কষ্ট পায় এবং মারা যায়। সহিংসতা একই ধরণের যন্ত্রণা দেয়, একইভাবে রক্তপাত ঘটায়, একই মৃত্যুর দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং একইভাবে উদ্ধত ও নিষ্ঠুরভাবে জীবন কেড়ে নেয়।
- ডিক গ্রেগরি, ডিক গ্রেগরিস ন্যাচারাল ডায়েট ফর ফোকস হু ইট: কুকিন উইথ মাদার নেচার (নিউ ইয়র্ক: হার্পার অ্যান্ড রো, ১৯৭৩), পৃষ্ঠা ১৫–১৬।
ব্রহ্মজাল সূত্রে গৌতম বুদ্ধ (মাংস আহার প্রসঙ্গে)
[সম্পাদনা]- মহামতি, যেখানেই প্রাণীদের বিবর্তন ঘটে, সেখানে মানুষ যেন তাদের প্রতি আত্মীয়তার কথা ভাবে। সব প্রাণীকে নিজের একমাত্র সন্তানের মতো ভালোবাসা উচিত এবং মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। তাই করুণাময় বোধিসত্ত্বদেরও মাংস আহার করা এড়িয়ে চলা উচিত। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রেও, কোনো [উচ্চ] বোধিসত্ত্বের জন্য মাংস খাওয়া করুণার কাজ নয়।
- প্রাণীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির ভয়ে, মহামতি, যে বোধিসত্ত্ব করুণা অর্জনের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, তিনি যেন মাংস আহার থেকে বিরত থাকেন।
- জ্ঞানীদের খাবার হলো ঋষিদের আহার; এর মধ্যে রক্ত ও মাংস থাকে না।
- ... মহামতি, আমি কীভাবে আমার শিষ্যদের রক্ত ও মাংসের খাবার খাওয়ার অনুমতি দিতে পারি? নির্বোধদের কাছে এটি তৃপ্তিদায়ক হলেও জ্ঞানীরা একে ঘৃণা করেন; এটি অমঙ্গল বয়ে আনে এবং পুণ্যকে দূরে সরিয়ে দেয়; এছাড়া এটি ঋষিদের জন্য উৎসর্গ করা হয়নি এবং এটি একেবারেই অনুপযুক্ত।
মহামতি, আমি যেসব খাবারের অনুমতি দিয়েছি তা সব জ্ঞানী মানুষের কাছে তৃপ্তিদায়ক কিন্তু নির্বোধরা তা এড়িয়ে চলে; এটি অনেক পুণ্যের জন্ম দেয়, অমঙ্গলকে দূরে রাখে এবং প্রাচীন ঋষিরাও এটি বিধান দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে চাল, যব, গম, শিম, কলাই, মসুর ডাল ইত্যাদি; ঘি, তেল, মধু, গুড়, আখ, চিনি ইত্যাদি। এই সব দিয়ে তৈরি খাবারই হলো সঠিক খাবার। মহামতি, ভবিষ্যতে এমন কিছু অবিবেচক মানুষ আসতে পারে যারা নতুন ধরণের নৈতিক নিয়ম তৈরি করবে এবং মাংসাশী জাতির অভ্যাসের প্রভাবে মাংসের স্বাদের জন্য লোভী হবে: এই খাবারগুলো তাদের জন্য নয়। মহামতি, আমি এই খাবারগুলো সেই সব বোধিসত্ত্ব-মহাসত্ত্বদের জন্য বলছি যারা পূর্ববর্তী বুদ্ধদের পূজা করেছেন, যাদের পুণ্যের শিকড় অনেক গভীর, যারা বিশ্বাসী, বৈষম্যহীন এবং শাক্য বংশের সকল পুরুষ ও নারী, যারা উচ্চবংশীয় সন্তান, যাদের শরীর, জীবন এবং সম্পত্তির প্রতি কোনো মোহ নেই, যারা সুস্বাদু খাবারের প্রতি আকৃষ্ট নন বা লোভী নন, যারা দয়ালু এবং সব প্রাণীকে নিজের মতো করে আপন করে নিতে চান এবং যারা সব প্রাণীকে নিজের একমাত্র সন্তানের মতো স্নেহ করেন।
- মহামতি, যদি কেউ কোনো কারণেই মাংস না খায়, তবে প্রাণের বিনাশ ঘটবে না।
- আবার মহামতি, ভবিষ্যতে এমন কিছু নির্বোধ লোক আসতে পারে যারা আমার শিক্ষা অনুযায়ী গৃহহীন জীবন শুরু করবে। তারা শাক্যবংশের সন্তান হিসেবে পরিচিত হবে এবং চেনার উপায় হিসেবে কষায় বস্ত্র বা গেরুয়া বসন পরবে। কিন্তু তাদের চিন্তাভাবনা থাকবে ভুল যুক্তিতে ভরা এবং তারা মন্দভাবে প্রভাবিত হবে। তারা তাদের নৈতিক শৃঙ্খলার নানা রকম ব্যাখ্যা দেবে এবং ব্যক্তিগত আত্মার ধারণায় ডুবে থাকবে। মাংসের স্বাদের লোভে পড়ে তারা মাংস খাওয়াকে সমর্থন করার জন্য নানা ধরণের কুযুক্তি সাজাবে। যেসব ঘটনার নানা ব্যাখ্যা হতে পারে, সেগুলো নিয়ে কথা বলে তারা আসলে আমার নজিরবিহীন নিন্দা বা অপবাদ দেবে। তারা কল্পনা করবে যে অমুক ব্যাখ্যা অনুযায়ী ভগবান বুদ্ধ মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং অনুমোদিত খাবারের তালিকায় এটি রয়েছে। এমনকি তারা বলবে যে তথাগত নিজেও হয়তো মাংস খেয়েছেন। কিন্তু মহামতি, সূত্রের কোথাও মাংসকে উপভোগ্য কিছু হিসেবে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বুদ্ধের অনুসারীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের তালিকায় একে কোনোভাবেই সঠিক খাবার বলা হয়নি।
- ... যে কোনো রূপে, যে কোনো উপায়ে এবং যে কোনো স্থানে মাংস আহার করা সবার জন্য চিরতরে এবং নিঃশর্তভাবে নিষিদ্ধ। তাই মহামতি, মাংস আহার আমি কাউকে অনুমতি দেইনি, দিচ্ছি না এবং দেব না। মহামতি, আমি তোমাকে বলছি, গৃহহীন সন্ন্যাসীদের জন্য মাংস আহার উপযুক্ত নয়।
- মাংস আহার থেকে অহংকার জন্মে, অহংকার থেকে ভুল কল্পনার সৃষ্টি হয় এবং কল্পনা থেকে জন্ম নেয় লোভ; আর এই কারণেই মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- তিনটি কারণে কোনো মাংসকেই পবিত্র মনে করা উচিত নয়: যা আগে থেকে পরিকল্পিত নয়, যা চাওয়া হয়নি এবং যা প্ররোচিত নয়; তাই মাংস আহার থেকে বিরত থাকুন।
- শাকসবজি থেকে পাওয়া খাবারের মাধ্যমে জীবন ধারণ করা যে খুব সহজেই সম্ভব, তা শারীরতত্ত্ববিদদের নতুন করে প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ মানবজাতির অধিকাংশ মানুষই প্রতিনিয়ত তা প্রমাণ করে চলেছে। আমার গবেষণা কেবল এটাই দেখায় না যে এটি সম্ভব, বরং এটি সব দিক থেকে অনেক বেশি ভালো এবং এটি শরীর ও মন উভয়কেই অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে।
- আলেকজান্ডার হেইগ, সি. ডাব্লিউ. লিডবিটারের ভেজিটেরিয়ানবাদ অ্যান্ড অকাল্টিজম (১৯১৩)।
- যারা শিশু বা প্রাণীদের ওপর নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধের সংগঠনের সদস্য এবং যারা নিজেদের ঈশ্বরে বিশ্বাসী বলে দাবি করেন, কিন্তু আবার কেবল জিভের স্বাদ মেটানোর জন্য পশু হত্যাকে সমর্থন করেন—তাদের মুখে মানবতার কথা শোনা সত্যিই অদ্ভুত।
- ওটোমান জার-আদুশত হানিষ, মজদাজনান ডায়েটিকস অ্যান্ড কুকারি বুক, ১৯১৩, পৃষ্ঠা ১৯৬।
- মানুষ যদি মাংসাশী প্রাণী হিসেবেও তৈরি হয়ে থাকে, তবে জ্ঞান বৃদ্ধির সাথে সাথে সে কি এই অভ্যাসটি কাটিয়ে উঠতে পারে না?
- ওটোমান জার-আদুশত হানিষ, মজদাজনান ডায়েটিকস অ্যান্ড কুকারি বুক, ১৯১৩, পৃষ্ঠা ১৯৭।
- কিছু মানুষ মনে করে যে আমরা যদি প্রাণী না খাই, তবে তারা এত দ্রুত সংখ্যায় বেড়ে যাবে যে সারা পৃথিবী দখল করে নেবে। কিন্তু আসল কথা হলো, যত বেশি গরুর মাংস খাওয়া হয়, তত বেশি গরু পালন করা হয়। এই মানুষগুলো বোঝে না যে পশুপালনের ব্যবসার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা কৃত্রিম উপায়ে তাদের পশুর সংখ্যা বাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা করে।
- ওটোমান জার-আদুশত হানিষ, মজদাজনান ডায়েটিকস অ্যান্ড কুকারি বুক, ১৯১৩, পৃষ্ঠা ১৯৭।
- জীবাশ্মের রেকর্ড অনুযায়ী, প্রায় ১৭.৫ লক্ষ বছর আগে যখন হোমো ইরেক্টাসের আবির্ভাব ঘটে, তখন আদিম মানুষের মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা হঠাত করে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। লাল মাংস মানুষের খাবারের নিয়মিত অংশ হওয়ার অনেক আগেই এটি ঘটেছিল।
- ডোনা হার্ট এবং রবার্ট ডাব্লিউ. সাসম্যান, ম্যান দ্য হান্টেড, বর্ধিত সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৫৬।
- প্রাণিজ খাদ্যের বিষয়ে এটি মনে রাখা উচিত যে, খাওয়ার জন্য কোনো প্রাণীর জীবন কেড়ে নেওয়া দয়া ও করুণার নীতির ঘোর পরিপন্থী। যারা সারাক্ষণ পশু হত্যা করার কাজে যুক্ত থাকে, তাদের মধ্যে যে কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতা দেখা যায় এবং সাধারণ মানুষ পশু জবাই দেখে যে অস্বস্তি বোধ করে, তা থেকেই এটি পরিষ্কার বোঝা যায়।
- ডেভিড হার্টলি, অবজারভেশনস অন ম্যান, হিজ ফ্রেম, হিজ ডিউটি, অ্যান্ড হিজ এক্সপেক্টেশনস (১৭৪৯; ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ১৮৩৪), দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় অধ্যায়, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।
- অভ্যাসের কারণে অনেক ভয়ংকর ও জঘন্য বিষয় আমাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে, যার মধ্যে একটি হলো মাংস খাওয়া। পাখিরা বা পোকা-মাকড়েরা কোনো পশুর কঙ্কাল খুবলে খেলে যারা ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের এটা স্বীকার করতে হবে যে কেবল অভ্যাসের কারণেই তারা প্রতিদিন ডাইনিং টেবিলে সাজানো কোনো পশুর ক্ষতবিক্ষত হাড় আর মাংসের দৃশ্য সহ্য করতে পারে। আর যারা নিজের জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য কতগুলো প্রাণ বিসর্জন দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে ভাবে, তাদের নিজেদের জিজ্ঞেস করা উচিত এর বদলে তারা কী ফিরিয়ে দিচ্ছে? তারা কি তাদের ভালো কাজ দিয়ে এবং অন্যদের সুখী করার মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সেই প্রাণের চেয়েও মূল্যবান করে তুলতে পেরেছে?
- জন হকসওয়ার্থ, সুইফটের রচনাবলী সংস্করণ থেকে; হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট: এ ক্যাটেনা অফ অথরিটিস ডিপ্রেকেটরি অফ দ্য প্র্যাকটিস অফ ফ্লেশ-ইটিং (লন্ডন: এফ. পিটম্যান, ১৮৮৩), পৃষ্ঠা ১৬৮।
- একটি সুন্দর, জীবন্ত আর নিষ্পাপ প্রাণীর মাথায় আঘাত করা, তাকে টুকরো টুকরো করে কাটা এবং সেই টুকরোগুলো নিজের মুখে পোরা, এই বিষয়টি আমাকে সবসময়ই কষ্ট দিত। ইসরায়েল ভ্রমণের সময় একটি ধর্মীয় পশু বলিদান দেখার পর আমি শেষ পর্যন্ত প্রাণী খাওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিই। নাৎসি হলোকাস্টের সময় ওয়ারশ ঘেটোতে কাটানো আমার দিনগুলো পরবর্তী জীবনের সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এত মানুষ মারা যাওয়ার মাঝেও আমি কেন বেঁচে থাকলাম তা নিয়ে আমার মধ্যে এক ধরণের অপরাধবোধ কাজ করত। তাই আমার মনে হয়েছিল আমার এই বেঁচে থাকার ঋণ শোধ করার উপায় হলো এই পৃথিবীকে এর সকল বাসিন্দার জন্য একটি উন্নত জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নেওয়া।
- অ্যালেক্স হারশ্যাফট, জন এম. কিস্টলার সম্পাদিত পিপল প্রোমোটিং অ্যান্ড পিপল অপোজিং অ্যানিম্যাল রাইটস: ইন দেয়ার ওন ওয়ার্ডস (ওয়েস্টপোর্ট, সিটি: গ্রিনউড প্রেস, ২০০২), পৃষ্ঠা ১৪৫।
- মানুষ মনে করে তারা পৃথিবী বা প্রকৃতির সাথে যা খুশি তা-ই করতে পারে যেমন জঙ্গল উজাড় করা, সমুদ্র আর নদী দূষিত করা বা প্রাণীদের মৃতদেহ খেয়ে পেট ভরানো। তারা মনে করে এর কোনো ফল তাদের ভোগ করতে হবে না... কিন্তু পৃথিবীর সবকিছুরই একটা দাম আছে এবং প্রতিটি ঋণেরই একটা হিসাব দেওয়ার দিন থাকে।
- হিলারিওন এবং এম. বি. কুক, দ্য রোড এহেড, দ্য মাস্টার প্ল্যান: পাস্ট, প্রেজেন্ট অ্যান্ড ফিউচার অফ দ্য হিউম্যান এক্সপেরিমেন্ট অন প্ল্যানেট আর্থ, ১৯৯২ (১ জানুয়ারি ১৯৯২)।
- আমার মনে হয় আমি নিরামিষাশী হয়েই জন্মেছিলাম। একদম ছোটবেলা থেকেই আমি মাংস পছন্দ করতাম না, কখনো মাংস, টার্কি, মুরগি, মাছ বা ডিম খাইনি। ... আমি এতটাই সুস্থ যে মাঝে মাঝে লজ্জা লাগে। এর চেয়ে বেশি সুস্থ বোধ করলে আমাকে হয়তো ডাক্তারের কাছে যেতে হতো। ... আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে ফলমূল হলো শরীরের পরিচ্ছন্নতাকারী, শাকসবজি হলো নিরাময়কারী এবং মাংস হলো শরীরের অকাল বার্ধক্যের কারণ। ভাইরাসজনিত রোগ ছাড়া বাকি প্রায় সব রোগের মূলে রয়েছে এই মাংস।
- রয় হিলিঙ্গেন, ওসমো কিহা কর্তৃক সাক্ষাৎকার; ক্ল্যারেন্স বাসেরচ্যালেঞ্জ ইয়োরসেলফ: লীননেস, ফিটনেস অ্যান্ড হেলথ অ্যাট এনি এজ (১৯৯৯), পৃষ্ঠা ২০২।
- ব্রায়ান ফেরি-র একটি সোলো অ্যালবাম শোনার সময় যখন আমি বেকন স্যান্ডউইচ খাচ্ছিলাম, তখন আমার মধ্যে এক ধরণের নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, যা আমাকে নিরামিষাশী করে তোলে।
- রবিন হিচকক, আই ওয়ানা গো ব্যাকওয়ার্ডস সিডি বুকলেট (ইয়েপ রক রেকর্ডস, ২০০৭), পৃষ্ঠা ৪।
- নিরামিষবাদ বেশ নিরীহ একটি বিষয়, যদিও এটি একজন মানুষের পেট বায়ুতে এবং মনকে আত্মগর্বে ভরিয়ে দিতে পারে।
- রবার্ট হাচিসন, কানাডার উইনিপেগে ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (১৯৩০); পিটার ম্যাকডোনাল্ডের অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ মেডিকেল কোটেশনস (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৪), পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত।
- খ্রিস্টানরা মাংস খায়, মদ পান করে, তামাক সেবন করে; আর খ্রিস্টধর্ম ব্যক্তিত্বকে বড় করে দেখায়... তারা শেখায় যে ঈশ্বর রেগে যান এবং ধর্মদ্রোহীদের ওপর নির্যাতনকে সমর্থন করেন। ইহুদি আর মুসলিমদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোশার আর এক ক্ষুব্ধ জেহোবা। মাটন আর গরুর মাংস এবং হুরদের মাঝে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা, প্রতিশোধপরায়ণ আল্লাহ আর পবিত্র যুদ্ধ। এখন বৌদ্ধদের দিকে তাকান। শাকসবজি আর জল... তারা ব্যক্তিত্বকে বড় করে দেখে না, বরং এর ঊর্ধ্বে ওঠার চেষ্টা করে... জেহোবা থেকে তারা কত দূরে...! আসল কথা হলো, আমরা যা খাই সেভাবেই আমরা চিন্তা করি। ... অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন খেয়ে আপনি নিজেকে বিষাক্ত করছেন। ... আজ খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রু কী? হিমায়িত মাংস... এমনকি গরীব মানুষও এখন এই বিষ খেয়ে নিজেদের শেষ করার ক্ষমতা রাখে।
- অলডাস হাক্সলি, আইলেস ইন গাজা।
- নিরামিষাশী হওয়া আমার জীবনের প্রতিটি বিষয় এবং ভাগ্যকে প্রভাবিত করেছে। আমি এটা দেখে অবাক হয়েছিলাম যে পুরো হিপ্পি জাতি একযোগে নিরামিষাশী হয়ে ওঠেনি। এটি আমার কাছে একদমই অর্থহীন মনে হয়েছিল, কারণ মাংস খাওয়া তো তাদের পুরো আদর্শেরই পরিপন্থী ছিল। হিপ্পিরাও কি বাকিদের মতো এমন ভণ্ড ছিল?
- ক্রিসি হাইন্ড, রেকলেস: মাই লাইফ অ্যাজ এ প্রিটেন্ডার (নিউ ইয়র্ক: ডাবলডে, ২০১৫ ই-বুক সংস্করণ), পৃষ্ঠা ৬৪।
- যে অবিশ্বাসী কেবল প্রাণীর স্বার্থ রক্ষার জন্য পশু জবাই নিষিদ্ধ করে, সে ভুল করছে; কারণ এটি করার মাধ্যমে সে একটি উচ্চতর (নাফিস) প্রাণীর চেয়ে একটি নিম্নতর (খাসিস) প্রাণীকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
- ইজ্জ আদ-দ্বীন বিন আব্দ আস-সালাম, কাওয়াইদ আল-আহকাম ফি মাসালিহ আল-আনাস (দামেস্ক: দার আল-তাব্বা, ১৯৯২); ইজি দিন, ১৪৬।
- ইসলামী আইন অনুযায়ী এমন কোনো ভিত্তি নেই যার মাধ্যমে কেউ দাবি করতে পারে যে খাবারের জন্য পশু হত্যা করা যাবে না। এই বিষয়ে ইসলামী আইনি মতামত পবিত্র কোরআনের স্পষ্ট আয়াতসমূহের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মুসলিমদের জন্য কেবল নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়াই নিষিদ্ধ নয়, বরং ইসলামে যা অনুমোদিত এমন কোনো খাবার তারা নিজের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে না। সেই অনুযায়ী, খাবারের অপ্রাপ্যতা অথবা চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া নিরামিষবাদ বা কেবল নিরামিষ আহার করা অনুমোদিত নয়। পশুর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অজুহাতে নিরামিষবাদ গ্রহণ করা যাবে না, কারণ এই ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার কেবল আল্লাহর।
- মাউয়িল ইজি দিন, দ্য এনভায়রনমেন্টাল ডাইমেনশনস অফ ইসলাম (কেমব্রিজ, ইংল্যান্ড: লাটারওয়ার্থ, ২০০০), ১৪৬।
- আমার ডাক্তার বন্ধুর মতো আমিও অত্যন্ত পরিমিত জীবন যাপন করেছি। আমি খুব সামান্যই প্রাণিজ খাবার খেয়েছি। আমি একে প্রধান খাদ্য হিসেবে নয়, বরং প্রধানত শাকসবজি সমৃদ্ধ আমার খাদ্যতালিকায় কেবল একটি মুখরোচক অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করেছি।
- টমাস জেফারসন, টু ডক্টর ভাইন আটলি (২১ মার্চ ১৮১৯), টমাস জেফারসন র্যান্ডলফ সম্পাদিত মেমোয়ারস, করেসপন্ডেন্স অ্যান্ড প্রাইভেট পেপারস অফ টমাস জেফারসন, খণ্ড ৪, লন্ডন: কোলবার্ন অ্যান্ড বেন্টলি, ১৮২৯, পৃষ্ঠা ৩২১।
- দিওগেনেস দাবি করেন যে, স্বৈরাচারীরা কেবল শাকসবজি আর ফলমূলের সাধারণ খাবারের জন্য শহরে কোনো বিপ্লব ঘটায় না বা গৃহযুদ্ধ বা বহিঃশত্রুর সাথে যুদ্ধ শুরু করে না; বরং তারা দামি মাংস আর রাজকীয় সব পদের লালসায় এগুলো করে। এবং আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, আনন্দের রক্ষক হিসেবে পরিচিত এপিকিউরাস তাঁর প্রতিটি বইয়ে কেবল শাকসবজি আর ফলমূলের কথাই বলেছেন। তিনি বলেন যে আমাদের উচিত সস্তা খাবার খেয়ে বেঁচে থাকা, কারণ মাংস দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ভোজের প্রস্তুতিতে অনেক যত্ন আর কষ্টের প্রয়োজন হয়। এছাড়া এমন বিলাসিতার স্বাদ গ্রহণের চেয়ে সেগুলো খুঁজে বের করতেই বেশি কষ্ট করতে হয়। ... যারা মাংস খায় তারা এমন কিছু তৃপ্তি খোঁজে যা মাংসে পাওয়া যায় না। কিন্তু যারা সাধারণ খাবার খায় তারা মাংসের খোঁজে থাকে না। ... আপনি যখন সামান্য কিছুতে সন্তুষ্ট থাকেন তখন আত্মা অনেক বেশি আনন্দিত হয়: পুরো পৃথিবী তখন আপনার পদতলে থাকে; এবং জগতের সব ক্ষমতা, ভোজ আর লালসা যেসবের জন্য মানুষ হন্যে হয়ে টাকা জমায়—সেসব আপনি সাধারণ খাবারের জন্য ত্যাগ করতে পারেন এবং সামান্য চটের জামা পরেই সেগুলোর অভাব পুষিয়ে নিতে পারেন।
- জেরোম, এগেইনস্ট জোভিনিয়ানাস (ডাব্লিউ. এইচ. ফ্রিম্যান্টল, জি. লুইস এবং ডাব্লিউ. জি. মার্টলি কর্তৃক অনূদিত), দ্বিতীয় খণ্ড, ১১।
- ডিকিয়ার্কাস তাঁর পুরাতত্ত্ব বিষয়ক বইয়ে গ্রিসের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন যে স্যাটার্নের আমলে অর্থাৎ স্বর্ণযুগে, যখন মাটি থেকে সব কিছু অঢেল জন্মাত, তখন কেউ মাংস খেত না; বরং সবাই মাঠের ফসল আর ফলমূল খেয়ে বেঁচে থাকত যা পৃথিবী নিজে থেকেই উৎপন্ন করত। ... দার্শনিক জেনোক্রেটিস লিখেছেন যে অ্যাথেন্সে ট্রিপটোলেমাসের আইনগুলোর মধ্যে সেরেসের মন্দিরে কেবল তিনটি বিধানই টিকে আছে: বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করা, দেবতাদের ভক্তি করা এবং মাংস থেকে দূরে থাকা। অরফিউস তার গানে মাংস খাওয়াকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছেন। আমি পিথাগোরাস, সক্রেটিস এবং অ্যান্টিসথেনিসের মিতব্যয়িতা নিয়ে কথা বলতে পারতাম যা আমাদের লজ্জিত করবে; কিন্তু এটি দীর্ঘ হয়ে যাবে এবং এর জন্য আলাদা একটি বইয়ের প্রয়োজন হবে।
- জেরোম, এগেইনস্ট জোভিনিয়ানাস (ডাব্লিউ. এইচ. ফ্রিম্যান্টল, জি. লুইস এবং ডাব্লিউ. জি. মার্টলি কর্তৃক অনূদিত), দ্বিতীয় খণ্ড, ১৩-১৪।
- বিশ বছর আগে আমি ভেবেছিলাম: "রক্তমাখা স্টেক খাওয়া আর আমার কুকুরকে মেরে চিরে রোস্ট করার মধ্যে তফাৎ কী?" আমি সবসময়ই প্রাণীদের ভালোবাসতাম তবে আটের দশকের শেষ দিকে আমি বুঝতে পারলাম যে আমার নিরামিষাশী হওয়া উচিত। তখন আমার জীবনে অনেক কিছু এক সাথে ঘটছিল সঙ্গীত আর আবেগ মিশে গিয়েছিল তবে প্রধানত প্রাণীদের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং দীর্ঘ সময় সফরে কাটানোর ফলেই আমি খাদ্যাভ্যাস বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
- জোন জেট, “আপনার ঝুড়িতে কী আছে জোন জেট?”, দ্য গার্ডিয়ান.কম (১৮ জুলাই ২০১০)-এ।
- কিছু যোগ শিক্ষক বলেন যে নিরামিষ আহার জরুরি নয়।
পট্টাভি জোইস: [হেসে] ওহ... নতুন পদ্ধতি!
অনেক ভারতীয় আর পশ্চিমা মানুষ মাংস খায়।
পট্টাভি জোইস: তারা যোগচর্চা করছে না। মাংস খাওয়া শরীরকে জড় বা শক্ত করে দেয়।
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগচর্চা কোনটি?
পট্টাভি জোইস: নিরামিষ আহারই হলো যোগচর্চার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।- কে. পট্টাভি জোইস, শ্যারন গ্যানন এবং ডেভিড লাইফের জিভামুক্তি যোগ (ব্যালানটাইন বুকস, ২০০২), পৃষ্ঠা ৮৩-এ দেওয়া সাক্ষাৎকার।
- আমি যা লক্ষ্য করেছি তা হলো, যেহেতু অধিকাংশ মানুষ মাংস খাওয়া নিয়ে মনে মনে খুব বিরক্ত বোধ করে এবং অপরাধবোধে ভোগে, কিন্তু একই সাথে এটি 'না খাওয়ার' ভয়ও পায়, তাই তারা এই ধরণের দ্বান্দ্বিক অনুভূতি স্বীকার করা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখে। এই মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্বীকার ("মাংসের জন্য লালন-পালন ও হত্যা করার সময় প্রাণীরা আসলে কষ্ট পায় না।"); যুক্তি দেখানো ("মানুষের খাওয়ার জন্যই প্রাণীদের সৃষ্টি করা হয়েছে।"); দ্বিমুখী আচরণ ("আমি কখনও কুকুর খাব না, কিন্তু শুকরের মাংস বা বেকন আমার খুব প্রিয়।"); এড়িয়ে চলা ("আমাকে ওসব বলবেন না; আমার খাবারের রুচি নষ্ট হয়ে যাবে।"); এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিচ্ছিন্নতা ("মাংস খাওয়ার সময় যদি আমি প্রাণীর কথা ভাবি তবে আমার ঘৃণা লাগবে।")। ... মানুষ যখন তাদের এই বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠে, তখন যে অনুভূতিটি মূলত প্রকাশ পায় তা হলো করুণা—এবং তার ফলে জন্ম নেয় ঘৃণা। এই কারণেই মানুষ 'অস্বাভাবিক' কোনো প্রাণী যেমন কুকুর বা গরিলা খাওয়ার কথা ভাবলেই ঘৃণা বোধ করে; কারণ তারা এই ধরণের মাংস থেকে নিজেদের মনকে বিচ্ছিন্ন করতে শেখেনি। ঠিক এই কারণেই নিরামিষাশীরা সাধারণত সব ধরণের মাংসকেই ঘৃণ্য মনে করেন।
- মেলানি জয়, স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন ফর অ্যানিম্যালস (নিউ ইয়র্ক: ল্যান্টার্ন বুকস, ২০০৮), পৃষ্ঠা ১১৭।
- মানুষের মাংস আর পশুর মাংস একই রকম এবং তাদের লাল রক্তও একই।

- এটি লক্ষ্য করা কৌতূহলী যে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এখন এই সত্যটি বুঝতে পারছেন যে খাবারের জন্য পশুর মাংস কোনো বিশুদ্ধ পুষ্টি নয়, বরং এটি বিষাক্ত পদার্থ আর মলমূত্র জাতীয় উপাদানে পূর্ণ, যা প্রাণীদের জীবনপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক ফল।
- জন এইচ. কেলগ, রাজপুত প্রেস প্রকাশিত সি. ডাব্লিউ. লিডবিটারের সাম গ্লিম্পসেস অফ অকাল্টিজম: অ্যানশিয়েন্ট অ্যান্ড মডার্ন (১৯০৯), পৃষ্ঠা ২৬৫।
- গাছপালা শক্তি সঞ্চয় করে। এই উদ্ভিজ্জ জগত কয়লা আর কাঠ থেকেই সেই শক্তি পাওয়া যায় যা আমাদের বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালায়, ট্রেন টানে, জাহাজ চালায় এবং সভ্যতার সব কাজ করে। উদ্ভিজ্জ জগত থেকেই সব প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই শক্তি পায় যা পেশি আর মস্তিষ্কের কাজের মাধ্যমে প্রাণীদের জীবনে প্রকাশ পায়। গাছপালা তৈরি করে, আর প্রাণীরা তা খরচ করে। উদ্ভিদ শক্তি জমা করে; প্রাণী শক্তি ব্যয় করে। ইঞ্জিনের মতো প্রাণীদের শরীরেও শক্তি ব্যবহারের ফলে নানা বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়। প্রাণীদের সচল কলা বা টিস্যুগুলো তখনই সচল থাকতে পারে যখন রক্ত সেগুলো ধুয়ে পরিষ্কার রাখে। রক্তের অবিরাম প্রবাহ এই বিষাক্ত পদার্থগুলো তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই শরীর থেকে বের করে দেয়। শিরার রক্ত এই বিষাক্ত পদার্থগুলো বহন করে যা পরে বৃক্ক, ফুসফুস, ত্বক আর অন্ত্রের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। মৃত প্রাণীর মাংসের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে এই বিষাক্ত পদার্থ থাকে। মৃত্যুর সাথে সাথেই এগুলো শরীর থেকে বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, যদিও এগুলো তৈরি হওয়া বেশ কিছুক্ষণ চলতে থাকে। একজন বিখ্যাত ফরাসি সার্জন সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে ‘বিফ টি বা মাংসের সুপ হলো বিষের এক আস্ত দ্রবণ।’
- জন এইচ. কেলগ, সি. ডাব্লিউ. লিডবিটারের নিরামিষবাদ অ্যান্ড অকাল্টিজম (১৯১৩)।
- মাঠে মরে পড়ে থাকা কোনো গরু বা ভেড়াকে আমরা পচা মাংস হিসেবেই চিনি। কিন্তু একই ধরণের মরা পশুকে যখন কসাইখানায় সাজিয়ে রাখা হয়, তখন তা খাবার হিসেবে পরিচিতি পায়! ভালো করে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করলে মাঠের মরা পশু আর কসাইখানার পশুর মধ্যে কোনো তফাৎ পাওয়া যাবে না। উভয়ের মধ্যেই প্রচুর কোলন জীবাণু থাকে আর পচনের দুর্গন্ধ বের হয়।
- জন এইচ. কেলগ, দাহিয়াবাই এইচ. জানি-র রোমান্স অফ দ্য কাউ (দ্য বোম্বে হিউম্যানিটারিয়ান লীগ, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৮১।
- উদাহরণস্বরূপ, কতবার আমরা মানুষকে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে শুনেছি যে মানুষের "ক্যানাইন দাঁত" আর "সাধারণ পাকস্থলী" নাকি মাংস খাওয়ার উপযোগী হওয়ার প্রমাণ! অন্তত আমরা একটি সত্য প্রমাণ করেছি; তা হলো এই যুক্তি যদি সঠিক হয় তবে মানুষের চেয়ে বনমানুষদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য যাদের "ক্যানাইন" দাঁত মানুষের চেয়ে অনেক বেশি লম্বা আর শক্তিশালী... তবুও মানুষ ছাড়া এই প্রাণীদের মধ্যে এমন একটিও নেই যারা প্রাকৃতিক অবস্থায় মাংস খেতে রাজি হবে! এম. পুচেট লক্ষ্য করেছেন যে মানুষের পরিপাকতন্ত্র এবং দাঁতের প্রতিটি গঠন "মানুষের ফলভোজী হওয়ার নানা প্রমাণ" বহন করে—এই মতের সাথে প্রফেসর ওয়েন-ও একমত। তিনি মন্তব্য করেছেন যে বনমানুষ এবং অন্যান্য চতুষ্পদ প্রাণীরা ফলমূল, দানা শস্য আর রসালো নিরামিষ খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। এই প্রাণীদের গঠন আর মানুষের গঠনের মধ্যে যে মিল রয়েছে তা স্পষ্টভাবে মানুষের ফলভোজী প্রকৃতিকেই প্রমাণ করে। কুভিয়ে, লিনিয়াস, প্রফেসর লরেন্স, চার্লস বেল, গাসেন্দি, ফ্লোরেন্স এবং আরও অনেক বিখ্যাত লেখক একই মত পোষণ করেছেন।
- আন্না কিংসফোর্ড, দ্য পারফেক্ট ওয়ে ইন ডায়েট, লন্ডন: কেগান পল, ট্রেঞ্চ অ্যান্ড কোং, ১৮৮১, পৃষ্ঠা ১৩-১৪।
- খুব বেশিদিন আগের কথা নয় যখন অনেক মানুষ নিরামিষাশীদের এমন এক খ্যাপাটে আন্দোলনকারী হিসেবে দেখত যারা চামড়ার জুতো পরার বদলে টেনিস জুতো পরে ঘুরে বেড়াত আর সারাদিন গাজরের রস খেত। ফলে অনেক নিরামিষাশীই তাদের খাদ্যাভ্যাস গোপন রাখত। কিন্তু আজকাল তারা অনেক বেশি খোলামেলা এবং সোচ্চার... আরও বেশি মানুষ—বিশেষ করে তরুণরা—নিরামিষ জীবনধারা গ্রহণ করার জন্য ‘মাংসের খাবার’ বর্জন করছে।
- জুডি ক্লেমেসরুড, "নিরামিষবাদ: একটি ক্রমবর্ধমান জীবনধারা, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে", দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (২১ মার্চ ১৯৭৫)।
- সাধারণভাবে প্রাণীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কাছে তাদের অধিকারের দাবির নৈতিক তাড়নাটি তোরাহ-র গভীর স্তরের একটি প্রাকৃতিক মানসিক সংবেদনশীলতার মধ্যে লুকিয়ে আছে। মানবতার প্রাচীন মূল্যবোধের মধ্যে... নৈতিক বোধ এমন এক পর্যায়ে উঠেছিল যেখানে প্রাণীদের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়া হতো। ... যেভাবে সাধারণ বৌদ্ধিক এবং নৈতিক পূর্ণতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ছড়িয়ে পড়বে... তেমনি প্রাণীদের প্রতি ন্যায়বিচার করার সুপ্ত বাসনাটিও সঠিক সময়ে প্রকাশ পাবে। এই ক্ষেত্রটি তৈরি করার জন্য তোরাহতে নির্দিষ্ট কিছু বিধান দেওয়া হয়েছে। সত্যি বলতে তোরাহতে মাংস খাওয়ার অনুমতি দেওয়ার লাইনের মাঝেই এক ধরণের সুপ্ত তিরস্কার লুকিয়ে আছে।
- আব্রাহাম আইজ্যাক কুক, "ফ্র্যাগমেন্টস অফ লাইট: এ ভিউ অ্যাজ টু দ্য রিজনস ফর দ্য কমান্ডমেন্টস", বেন জিওন বোকসার কর্তৃক অনূদিত দ্য লাইটস অফ পেন্টিয়েন্স, দ্য মোরাল প্রিন্সিপালস, লাইটস অফ হোলিনেস, এসেস, লেটারস, অ্যান্ড পোয়েমস (নিউ ইয়র্ক: পলিস্ট প্রেস, ১৯৭৮), পৃষ্ঠা ৩১৭–৩১৮।
- যৌনতার কথা বাদ দিলে খাওয়ার চেয়ে মৌলিক কোনো কাজ মানুষের নেই। আর তাই ঈশ্বরভক্তি বজায় রাখার জন্য ইহুদি আচারের ক্ষেত্রে এটি একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র। খাবার টেবিলকে একটি বেদীর মতো দেখা হয় এবং কোশর বা কাশরুতের নিয়মের মধ্যে খাবার টেবিল থেকে ছুরি বা যুদ্ধের অস্ত্র সরিয়ে রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সব জীবন্ত প্রাণীর কষ্ট অনুভব করা এবং জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা কাশরুতের আরেকটি অপরিহার্য দিক। নিরামিষবাদ স্পষ্টভাবে তোরাহ-র একটি আদর্শ; আদন উদ্যান ছিল একটি নিরামিষাশী সমাজ।
- বনি কপেল, "ভেজিটেরিয়ানবাদ", রোবার্টা ক্যালেচফস্কি সম্পাদিত র্যাব্বাইস অ্যান্ড ভেজিটেরিয়ানবাদ: অ্যান ইভলভিং ট্র্যাডিশন (মার্বেলহেড, এমএ: মাইকা পাবলিকেশনস, ১৯৯৫), পৃষ্ঠা ৩৭।
- নিরামিষবাদ হলো তোরাহ-র সেই দর্শনকে বাস্তবায়িত করার একটি আদর্শ পথ যেখানে প্রতিটি সৃষ্টির ভেতরের ঐশ্বরিক স্ফুলিঙ্গকে শ্রদ্ধা ও ভক্তি করা হয়।
- বনি কপেল, "ভেজিটেরিয়ানিজম", রোবার্টা ক্যালেচফস্কি সম্পাদিত র্যাব্বাইস অ্যান্ড ভেজিটেরিয়ানবাদ: অ্যান ইভলভিং ট্র্যাডিশন (মার্বেলহেড, এমএ: মাইকা পাবলিকেশন, ১৯৯৫), পৃষ্ঠা ৩৯।
- মানুষ তাদের নিষ্ঠুরতাকে আড়াল করার জন্য প্রায়ই একে প্রথা বা রীতি বলে অজুহাত দেয়; কিন্তু অনেক মানুষ মিলে কোনো অন্যায় করলে সেই অপরাধ কখনও গুণ হয়ে যায় না। কর্মফল কোনো প্রথার ধার ধারে না; আর নিষ্ঠুরতার কর্মফলই হলো সবচেয়ে ভয়াবহ। অন্তত ভারতে এই ধরণের প্রথার কোনো অজুহাত চলতে পারে না, কারণ অহিংসার ধর্ম সবারই জানা। নিষ্ঠুরতার কর্মফলই হলো সবচেয়ে ভয়াবহ। যারা জেনে-শুনে আল্লাহর সৃষ্টিকে হত্যা করতে যায় এবং একে শিকার বা খেলা বলে, তাদের ওপরও সেই নিষ্ঠুরতার ভাগ্য নেমে আসবে।
- জিদ্দু কৃষ্ণমূর্তি, অ্যাট দ্য ফিট অফ দ্য মাস্টার (১৯১১)
- পশু বলি দেওয়া উচিত—এমন কুসংস্কার এবং মানুষের খাবারের জন্য মাংস প্রয়োজন—এমন নিষ্ঠুর কুসংস্কারের ফলে যে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ঘটে, তার কথা একবার ভেবে দেখুন।
- জিদ্দু কৃষ্ণমূর্তি, অ্যাট দ্য ফিট অফ দ্য মাস্টার (১৯১১)
- মানুষের জন্য গরু খুব একটা দ্রুত বড় হয় না / তাই লোভের বশে সে এক দ্রুত পরিকল্পনা করে / গরুকে জলদি বড় করতে সে ওষুধ ব্যবহার করে / আর সেই চাপে গরু আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে / এক সাথে এক গাদা করে একুশ ধরণের ওষুধ / গরুর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় / তাই মরার ঠিক আগে সে ডুকরে কেঁদে ওঠে / জীবাণু আর মাছি ভরা সেই কসাইখানায় / মাথা কেটে তারা এটি প্যাক করে, রক্ত ঝরিয়ে গাড়িতে তোলে / আর এটিই তখন আপনার স্থানীয় সুপারমার্কেটে পাওয়া যায় / লাল আর রক্তমাখা এক মৃতদেহ, সুন্দর করে সাজানো / আর আপনি হার্ট অ্যাটাক নিয়ে অবাক হন?
- কেআরএস-ওয়ান, বুগি ডাউন প্রোডাকশনস, ১৯৯০, এডুটেইনমেন্ট, বিফ।
- হয়তো কোনো মঙ্গলগ্রহবাসীর গাড়িতে জোতা কোনো মানুষ অথবা ছায়াপথের বাসিন্দাদের শিক কাবাবে পুড়তে থাকা কেউ তখন তার ডিনারের থালায় কেটে খাওয়া বাছুরের মাংসের কথা মনে করবে এবং (দেরিতে হলেও) গরুর কাছে ক্ষমা চাইবে।
- মিলান কুন্ডেরা, দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অফ বিয়িং।
- পরবর্তী পাতাগুলো ড্যাকাউ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বসে লেখা হয়েছিল, যখন চারিদিকে নানা ধরণের নিষ্ঠুরতা চলছিল। আমি যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের ব্যারাকে ছিলাম, তখন এগুলো গোপনে লিখেছিলাম। সেই সময়ে মৃত্যু আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকত, যখন সাড়ে চার মাসের মধ্যে আমরা বারো হাজার মানুষকে হারিয়েছিলাম... "তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলে কেন আমি মাংস খাই না এবং আমার আচরণে তুমি অবাক হচ্ছিলে... আমি প্রাণী খেতে অস্বীকার করি কারণ আমি অন্য প্রাণীর কষ্ট আর মৃত্যু দিয়ে নিজেকে পুষ্ট করতে পারি না। আমি এটি করতে অস্বীকার করি কারণ আমি নিজে এতটাই যন্ত্রণার শিকার হয়েছি যে নিজের কষ্টের কথা মনে করে আমি অন্যের কষ্টও অনুভব করতে পারি। আমি কোনো উপদেশ দিচ্ছি না... আমি এই চিঠি তোমাকে লিখছি একজন সচেতন মানুষ হিসেবে যে তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যে ভেতর আর বাইরে থেকে নিজের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকে, যে জানে যে আমাদের সর্বোচ্চ আদালত হলো আমাদের বিবেক... আমি কাউকে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে চাই না... আমি মনে করি নিজের বিবেককে জাগিয়ে তোলা আমার বড় দায়িত্ব... আসল কথা হলো: আমি এমন এক উন্নত বিশ্বে বড় হতে চাই যেখানে উচ্চতর আইন আরও বেশি আনন্দ দেবে, এমন এক নতুন বিশ্বে যেখানে ঈশ্বরের আদেশ রাজত্ব করবে: তোমরা একে অপরকে ভালোবাসো।"
- এডগার কুপফার-কোবারউইৎস, "অ্যানিম্যালস, মাই ব্রেদরেঞ্জ", দ্য ড্যাকাউ ডায়েরিজ; জন রবিনসের ডায়েট ফর এ নিউ আমেরিকা (এইচ জে ক্রেমার, ২০১১), পঞ্চম অধ্যায়।
- আমার কর্মচারীরা মানুষকে এই বিষয়ে সতর্ক করার জন্য দারুণ কাজ করে যে আমি মাংস খাই না; কিন্তু তারা যদি কখনও ভুলে যায় অথবা যারা আমাকে আসন দিচ্ছেন তারা যদি বিষয়টি না জানেন, তবে আমি মাংসের টুকরোগুলোকে স্রেফ একপাশে সরিয়ে রাখি, সালাদ দিয়ে সেগুলো ঢেকে দিই এবং এমন ভান করি যেন আমি আমার মূল খাবারটি সত্যিই খুব উপভোগ করেছি।
- আমার মা বিশ্বাস করতেন. এবং তার সেই দৃঢ় বিশ্বাস আমি আজও ধারণ করি, যে মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রাণীদের হত্যা করা হলো মানবজাতির অন্যতম শোচনীয় এবং লজ্জাজনক এক অসুস্থতা। তিনি মনে করতেন এটি মানুষের ওপর নেমে আসা এমন এক অভিশাপ যা হয়তো মানুষের পতন অথবা তার নিজের জেদি ও বিকৃত আচরণের ফলে জন্মেছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, আর আমিও একই বিশ্বাস করি, যে আমাদের সঙ্গী, আমাদের সাহায্যকারী এবং এই পৃথিবীতে আমাদের পরিশ্রম ও ভালোবাসার অংশীদার এই নিরীহ প্রাণীদের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা হৃদয়ের কোমল প্রবৃত্তিগুলোকে পশুর মতো হিংস্র করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করতেন, আর আমিও তাই মনে করি, যে এই খাদ্যাভ্যাস যা আপাতদৃষ্টিতে খুব পুষ্টিকর এবং শক্তিবর্ধক মনে হয় তা আসলে নিজের ভেতরেই উত্তেজনা আর পচনশীলতার বীজ বহন করে, যা রক্তকে দূষিত করে এবং মানুষের আয়ু কমিয়ে দেয়। এই নিরামিষাশী জীবনযাত্রার সমর্থনে তিনি ভারতের সেই অসংখ্য শান্ত ও ধর্মপ্রাণ গোষ্ঠীর উদাহরণ দিতেন যারা জীবন আছে এমন কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকে; এছাড়া তিনি আমাদের মাঠের শক্তিশালী ও সুস্থ রাখাল এবং এমনকি শ্রমজীবী মানুষের উদাহরণও দিতেন।
- আলফঁস দ্য লামার্তিন, লে কনফিডেন্স (১৮৪৯), ইউজিন প্লাঙ্কেট কর্তৃক অনূদিত, নিউ ইয়র্ক: ডি. অ্যাপলটন অ্যান্ড কোং, ১৮৫৭, চতুর্থ খণ্ড, নোট ৮, পৃষ্ঠা ৬০।
- মা আমাকে নিয়ে শহরে গিয়েছিলেন এবং যেন হঠাত করেই আমাকে একটি কসাইখানার উঠান দিয়ে নিয়ে গেলেন। আমি দেখলাম কিছু মানুষ তাদের খালি ও রক্তমাখা হাতে একটি ষাঁড়ের মাথায় আঘাত করছে; অন্যরা বাছুর আর ভেড়ার গলা কাটছে এবং তাদের তখনও ধুকপুক করতে থাকা অঙ্গগুলো আলাদা করছে। ফুটপাথ দিয়ে গরম রক্তের ধারা বয়ে যাচ্ছিল। এক তীব্র করুণা আর আতঙ্ক আমাকে গ্রাস করল। আমি সেখান থেকে দ্রুত চলে যাওয়ার অনুরোধ করলাম। এই সব দৃশ্য যা মাংসের পদের সেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি যা আমি প্রায়ই ডাইনিং টেবিলে দেখতাম তা প্রাণিজ খাবারের প্রতি আমার অনীহা তৈরি করল এবং কসাইদের প্রতি মনে এক তীব্র ঘৃণা জাগিয়ে তুলল।
- আলফঁস দ্য লামার্তিন, লে কনফিডেন্স (১৮৪৯), ইউজিন প্লাঙ্কেট কর্তৃক অনূদিত, নিউ ইয়র্ক: ডি. অ্যাপলটন অ্যান্ড কোং, ১৮৫৭, চতুর্থ খণ্ড, নোট ৮, পৃষ্ঠা ৬১।
- বারো বছর বয়স পর্যন্ত আমি কেবল রুটি, দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি আর ফল খেয়ে বেঁচে ছিলাম। এর ফলে আমার স্বাস্থ্য কম শক্তিশালী ছিল না বা আমার বৃদ্ধিও কম হয়নি। হয়তো এই খাদ্যাভ্যাসের কারণেই আমি চেহারার সেই পবিত্রতা, অনুভূতির সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতা এবং মেজাজের সেই শান্ত স্বভাব বজায় রাখতে পেরেছিলাম যা সেই সময় পর্যন্ত আমার মধ্যে অটুট ছিল।
- আলফঁস দ্য লামার্তিন, লে কনফিডেন্স (১৮৪৯), ইউজিন প্লাঙ্কেট কর্তৃক অনূদিত, নিউ ইয়র্ক: ডি. অ্যাপলটন অ্যান্ড কোং, ১৮৫৭, চতুর্থ খণ্ড, নোট ৮, পৃষ্ঠা ৬১।
- আমরা সবাই প্রাণীদের ভালোবাসি, কিন্তু কেন আমরা কিছু প্রাণীকে ‘পোষা’ বলি আর অন্যদের ‘খাবার’? মাংস কীভাবে তৈরি হয় তা যদি আপনি জানতেন, তবে দুপুরের খাবারটা হয়তো আপনি আর গিলতে পারতেন না। আমি জানি, কারণ আমি গবাদি পশু পালনের এলাকা থেকেই এসেছি। আর এই কারণেই আমি নিরামিষাশী হয়েছি।
- কে.ডি. ল্যাং, ১৯৯০ সালে পেটার একটি বিজ্ঞাপনে একটি গরুর পাশে দাঁড়িয়ে; মাইকেল বার্কলে, ইয়ান এ.ডি. জ্যাক এবং জেসন স্নাইডারের হ্যাভ নট বিন দ্য সেম: দ্য ক্যানরক রেনেসাঁ ১৯৮৫-১৯৯৫ (টরন্টো: ইসিডাব্লিউ প্রেস, ২০১১ ই-বুক সংস্করণ), পৃষ্ঠা ৪১৯।
- আমেরিকার অনেক মানুষ যারা অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাদের বেশি তেল খরচ করা গাড়িগুলো ছেড়ে দিয়েছেন, তারা হয়তো দানা শস্য খাওয়ানো পশুর মাংস উৎপাদনের পেছনে ব্যয় হওয়া সম্পদের কথা কখনও ভেবে দেখেন না। তাই আমি আপনাদের একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করি যে যুক্তরাষ্ট্রে পশুপালনের পেছনে কী বিশাল পরিমাণ সম্পদ খরচ করা হয়। দানা শস্য খাওয়ানো পশুর মাংস খাওয়ার ফলাফল একটি ক্যাডিলাক চালক জাতির ফলাফলের মতোই ভয়াবহ হতে পারে।
- ফ্রান্সিস মুর লাপে, ডায়েট ফর এ স্মল প্ল্যানেট (নিউ ইয়র্ক: ব্যালানটাইন বুকস, ১৯৯১, ২০তম বার্ষিকী সংস্করণ), পৃষ্ঠা ৬৬।
- তেল-খোর গাড়িতে অভ্যস্ত হওয়ার মতোই আমরা দানা শস্য খাওয়ানো মাংসেও আসক্ত হয়ে পড়েছি। বড় গাড়ি চালানো কেবল তখনই "যুক্তিযুক্ত" ছিল যখন তেলের দাম সস্তা ছিল; তেমনি দানা শস্য খাওয়ানো মাংস কেবল তখনই "যুক্তিযুক্ত" মনে হয় যখন এর উৎপাদনের প্রকৃত খরচগুলো আমরা হিসাবের মধ্যে ধরি না।
- ফ্রান্সিস মুর লাপে, ডায়েট ফর এ স্মল প্ল্যানেট (নিউ ইয়র্ক: ব্যালানটাইন বুকস, ১৯৯১, ২০তম বার্ষিকী সংস্করণ), পৃষ্ঠা ৭৩।
- আমরা যদি প্রাণীদের কষ্টের প্রতি আমাদের হৃদয়কে পাথর করে তুলি, তবে একটি অমোঘ নিয়মে আমাদের নিজেদের ভাই-বোনদের প্রতিও আমাদের হৃদয় কঠোর হয়ে যাবে, যা কখনোই একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তুলতে পারে না। খাবার যদি সঠিক মাত্রায় ভারসাম্যপূর্ণ হয়, তবে এই নিরামিষ জীবনধারা আমাদের এক নতুন, আরও উন্নত এবং মহৎ জীবনছন্দের দিকে নিয়ে যাবে।
- গর্ডন ল্যাটো, ১৯৭৭ সালে ভারতের ২৪তম আন্তর্জাতিক নিরামিষাশী সম্মেলনে দেওয়া ভাষণ; রিন বেরি-র দ্য ভেজিটেরিয়ানস (ব্রুকলিন, এমএ: অটাম প্রেস, ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ১৩৩–১৩৪।
- শারীরতত্ত্ববিদরা সাধারণত মানুষকে চিবানো আর হজম করার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দিক থেকে মাংসাশী আর তৃণভোজী প্রাণীদের মাঝামাঝি স্তরে রেখেছেন এটি এমন একটি দাবি যা বাস্তব তুলনার চেয়ে বরং অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়। ... মানুষের দাঁতের সাথে মাংসাশী প্রাণীদের দাঁতের বিন্দুমাত্র মিল নেই, কেবল এনামেলটুকু দাঁতের বাইরের তলে থাকাই যা মিল। মানুষের ছেদক দাঁত (ক্যানাইন) আছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো অন্য দাঁতগুলোর সমান এবং মাংসাশী প্রাণীরা যে উদ্দেশ্যে এই দাঁত ব্যবহার করে তার জন্য এগুলো মোটেও উপযুক্ত নয়। ... তাই আমরা যদি দাঁত আর চোয়াল বা পরিপাকতন্ত্রের গঠন দেখি, তবে দেখতে পাব যে মানুষের গঠন বনমানুষের সাথে অনেকটা মেলে; যাদের সবাই প্রাকৃতিক অবস্থায় পুরোপুরি নিরামিষাশী।
- উইলিয়াম লরেন্স, লেকচারস অন কম্পারেটিভ অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, জুলজি, অ্যান্ড দ্য ন্যাচারাল হিস্ট্রি অফ ম্যান, অষ্টম সংস্করণ (লন্ডন: জন টেলর, ১৮৪০), প্রথম পরিচ্ছেদ, ষষ্ঠ অধ্যায়, পৃষ্ঠা ১৪৮–১৫০।
- সমপরিমাণ মরা পশুর মাংসের চেয়ে সবজিতে বেশি পুষ্টি থাকে। এটি অনেকের কাছেই অবাক করা এবং অবিশ্বাস্য মনে হবে, কারণ তাদের এমনভাবে বড় করা হয়েছে যাতে তারা বিশ্বাস করে যে মাংস খাওয়া ছাড়া তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে না। এই ভ্রান্ত ধারণাটি এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে সাধারণ মানুষকে এ থেকে জাগিয়ে তোলা খুব কঠিন। এটি পরিষ্কার বুঝতে হবে যে এটি কেবল অভ্যাস বা আবেগ বা কুসংস্কারের প্রশ্ন নয়; এটি নিছক একটি সাধারণ সত্যের বিষয় এবং এই নিয়ে কোনো তর্কের অবকাশ নেই। শরীরের রক্ষণাবেক্ষণ আর গঠনের জন্য খাবারে চারটি উপাদান থাকা জরুরি...
- সি. ডাব্লিউ. লিডবিটার, সাম গ্লিম্পসেস অফ অকাল্টিজম: অ্যানশিয়েন্ট অ্যান্ড মডার্ন (১৯০৩)
- মাংসের আহার স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে সব বিষয়ে অসংযমী হওয়ার পথ তৈরি করে দেয়; আর যত বেশি মাংস খাওয়া হয়, পাকাপাকিভাবে মদাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি তত বেড়ে যায়... মৃতদেহ ভক্ষণ করার অভ্যাস মানুষের নিম্ন প্রবৃত্তিগুলোকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এমন জঘন্য খাবার পেট ভরে খাওয়ার পরও একজন মানুষ অতৃপ্ত বোধ করে এবং এক ধরণের অস্পষ্ট ও অস্বস্তিকর অভাববোধ আর স্নায়বিক অস্থিরতা অনুভব করে। এই আকাঙ্ক্ষা আসলে শরীরের কোষগুলোর ক্ষুধা, যা এমন নিম্নমানের খাবার দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এই অস্থির স্নায়ুগুলোকে শান্ত করার জন্য মানুষ তখন প্রায়ই উত্তেজনাকর পানীয়ের আশ্রয় নেয়। কখনও বা মদ খাওয়া হয়; কখনও কড়া কফি দিয়ে এই অনুভূতিগুলো কমানোর চেষ্টা করা হয়, আবার কখনও ক্লান্ত ও উত্তেজিত স্নায়ুগুলোকে শান্ত করতে কড়া তামাক ব্যবহার করা হয়। এভাবেই অসংযমের শুরু হয়, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেশার শুরু হয় এমন সব অপুষ্টিকর খাবারের অভাববোধ মেটানোর চেষ্টা থেকে যা শরীরকে কোনো পুষ্টি দেয় না। কোনো সন্দেহ নেই যে মাতলামি এবং এর সাথে যুক্ত দারিদ্র্য, দুর্দশা, অসুস্থতা আর অপরাধের মূলে প্রায়ই খাবারের এই ভুল অভ্যেসগুলো দায়ী থাকে।
- সি. ডাব্লিউ. লিডবিটার, সাম গ্লিম্পসেস অফ অকাল্টিজম: অ্যানশিয়েন্ট অ্যান্ড মডার্ন (১৯০৩)
- আমি… আমি একজন নিরামিষাশী।
- লেনি লিনো (জ্যাক ব্ল্যাক), শার্ক টেল (২০০৪)
- এমন এক দিন আসবে যখন খাবারের জন্য প্রাণীদের লালন-পালন করে হত্যা করা এবং নিস্পৃহভাবে দোকানের জানালায় মাংসের টুকরো সাজিয়ে রাখার এই ধারণাটি দেখে মানুষ ঠিক তেমনই ঘৃণা প্রকাশ করবে, যেমনটা ১৭শ বা ১৮শ শতাব্দীর পর্যটকরা আমেরিকা, ওশেনিয়া বা আফ্রিকার নরখাদকদের খাবার দেখে ঘৃণা বোধ করতেন।
- ক্লদ লেভি-স্ত্রোস, "লা ল্যঁস দ্য সাজেস দে ভাশ ফোল" [পাগলা গরুর কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞানের পাঠ], এতুদ রুরো (২০০১); মাতিউ রিকার্ডের এ প্লি ফর দ্য অ্যানিম্যালস, শেরাব চোডজিন কোন কর্তৃক অনূদিত (বোল্ডার, সিও: শাম্ভালা, ২০১৬), পৃষ্ঠা ৬৮।
- ফলমূল আর শ্বেতসার সমৃদ্ধ খাবারই মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, যা চতুষ্পদ প্রাণী, শারীরতত্ত্ব, আদি মানুষ, বনমানুষ এবং মানুষের মুখ, পাকস্থলী ও হাতের গঠন থেকেই প্রমাণিত হয়।
- কার্ল লিনিয়াস, আমেনিটেস একাডেমিকে, ১০., ৮; হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট: এ ক্যাটেনা অফ অথরিটিস ডিপ্রেকেটরি অফ দ্য প্র্যাকটিস অফ ফ্লেশ-ইটিং (লন্ডন: এফ. পিটম্যান, ১৮৮৩), পৃষ্ঠা ১৬৫।
- আমি ঘাতক হিসেবে মাংসকে তামাকের সাথে তুলনা করেছি, তবে সত্যি বলতে তামাক একটি দিক থেকে মাংসের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর: এটি শরীরের জন্য আসক্তিকর। আমরা সবাই জানি তামাক কোম্পানিগুলো কিশোর-কিশোরীদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন দেয় যাতে তারা সারাজীবনের জন্য এর দাসে পরিণত হয়। মাংসের ক্ষেত্রে কোনো শারীরিক আসক্তি নেই। এটি কেবল একটি অভ্যাস, যা মানুষকে সামাজিকভাবে বিশ্বাস করতে শেখানো হয়েছে যে এটি স্বাভাবিক এবং এমনকি স্বাস্থ্যকরও। আপনি ধীরে ধীরে মাংস খাওয়া কমান অথবা এক মুহূর্তেই নিরামিষাশী হয়ে যান, আপনার শরীরে কোনো আসক্তি ত্যাগের কষ্ট হবে না। বরং আপনি সম্ভবত আরও বেশি শক্তি অনুভব করবেন এবং দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন উপভোগ করবেন।
- হাওয়ার্ড এফ. লাইম্যান ও গ্লেন মারজার, ম্যাড কাউবয়: প্লেন ট্রুথ ফ্রম দ্য ক্যাটল র্যাঞ্চার হু ওন্ট ইট মিট (নিউ ইয়র্ক: সাইমন অ্যান্ড শুস্টার, ১৯৯৮), পৃষ্ঠা ৪০–৪১।
- নিরামিষাশী বা ভেগানরা অন্যদের চেয়ে নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ নন। আমরা কেবল শারীরিকভাবে বেশি সুস্থ এবং আমাদের চারপাশের পরিবেশের জন্য অনেক বেশি উপকারী। অবশ্যই, আমরা নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ নই এর মানে এই নয় যে আমরা ন্যায়ের পথে নেই। আমি বিশ্বাস করি আমরা সঠিক পথেই আছি। সর্বোপরি, আমরা এমন একটি খাদ্যাভ্যাস মেনে চলছি যা মানুষের জন্য ভালো, প্রাণীদের জন্য ভালো এবং পরিবেশের জন্যও ভালো।
- হাওয়ার্ড এফ. লাইম্যান, গ্লেন মারজার এবং জোয়ানা সামোরো-মারজার, নো মোর বুল!: দ্য ম্যাড কাউবয় টার্গেটস আমেরিকাস ওর্স্ট এনিমি: আওয়ার ডায়েট (নিউ ইয়র্ক: স্ক্রিবনার, ২০০৫), পৃষ্ঠা ৭৮।
সি. ডাব্লিউ. লিডবিটারের ভেজিটেরিয়ানিজম অ্যান্ড অকাল্টিজম (১৯১৩)
[সম্পাদনা]
- নিরামিষবাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই একটি আপত্তি তোলা হয় যে এটি তাত্ত্বিকভাবে সুন্দর কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগ করা অসম্ভব; কারণ মনে করা হয় যে মানুষ মৃত মাংস ভক্ষণ না করে বাঁচতে পারে না। এই আপত্তিটি একদমই অযৌক্তিক এবং এটি অজ্ঞতা অথবা তথ্যের বিকৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- আমরা সেরাটা চাই। আমি মনে করি খাবারে, এমনকি অন্য সবকিছুর মতোই, আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে সেরাটাই পেতে চাই। আমরা আমাদের জীবনকে এবং আমাদের প্রাত্যহিক আহারকে যা আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে এবং আমাদের জানা সর্বোচ্চ আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাই।
- জীবন ধ্বংস করা সবসময়ই একটি অপরাধ। এমন কিছু বিশেষ ক্ষেত্র থাকতে পারে যেখানে দুটি মন্দের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম মন্দটি বেছে নিতে হয়; কিন্তু এখানে এটি অপ্রয়োজনীয় এবং এর স্বপক্ষে বিন্দুমাত্র যুক্তি নেই। এটি কেবল সেই সব স্বার্থপর আর নীতিহীন মানুষের লোভের কারণে ঘটে যারা প্রাণীকুলের যন্ত্রণাকে পুজি করে টাকা বানাতে চায় এবং তাদের বিকৃত রুচি মেটাতে চায় যারা এমন জঘন্য খাবার খাওয়ার ইচ্ছা রাখে। মনে রাখবেন, কেবল যারা এই নোংরা কাজটি করে তারা নয়, বরং যারা এই মরা মাংস খেয়ে তাদের উৎসাহিত করে এবং তাদের অপরাধকে লাভজনক করে তোলে, তারা সবাই এই ভয়াবহ কাজের জন্য সমানভাবে দোষী।
- সব তর্কের ঊর্ধ্বে ভবিষ্যৎ হলো নিরামিষাশীদের। এটি নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে এবং আমি আশা করি খুব নিকট ভবিষ্যতে আমরা ঘৃণা আর আতঙ্কের সাথে বর্তমান সময়ের দিকে ফিরে তাকাব। এই যুগের সব চমৎকার আবিষ্কার, অদ্ভুত সব যন্ত্রপাতি আর বিশাল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমি নিশ্চিত যে আমাদের বংশধররা এই সময়কে কেবল একটি আংশিক সভ্যতা হিসেবে দেখবে যা আসলে বর্বরতার চেয়ে খুব একটা আলাদা ছিল না।
- আমি সেদিনই একটি নিবন্ধ পড়েছিলাম যেখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে শিকাগোর কসাইখানাগুলো থেকে যে গা গোলানো দুর্গন্ধ বের হয় এবং যা শহরের ওপর এক বিষাক্ত কুয়াশার মতো জমে থাকে, তা কেবল অনেক শিশুর শরীরের জন্যই যমদূত নয়; বরং এই কসাইখানাগুলো তাদের আত্মার জন্যও ক্ষতিকর। শিশুরা কেবল জঘন্য আর নিষ্ঠুর কাজেই যুক্ত হচ্ছে না, বরং তাদের পুরো চিন্তাধারাই কেবল হত্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে...
- আমি পড়লাম যে একজন বালক, যার জন্য একজন ধর্মযাজক কসাইখানায় কাজের ব্যবস্থা করেছিলেন, সে দিনের পর দিন ফ্যাকাসে আর অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরত এবং খেতে বা ঘুমাতে পারত না। শেষ পর্যন্ত সে সেই করুণাময় খ্রীষ্টের বাণী প্রচারকারী ধর্মযাজকের কাছে গিয়ে বলল যে সে প্রয়োজনে না খেয়ে মরতেও রাজি আছে, কিন্তু সে আর এক দিনও রক্তে পা ডুবিয়ে চলতে পারবে না... সে আর ঘুমাতে পারছিল না। তবুও অনেক কিশোর দিনের পর দিন এই কাজটিই করছে এবং দেখছে, যতক্ষণ না সে প্রাণের বিনাশ করতে করতে পাথর হয়ে যাচ্ছে; আর তারপর একদিন বাছুর বা শুকরের গলা কাটার বদলে সে একজন মানুষকে হত্যা করে। আর তখন আমরা সেই হত্যার নেশা থেকে উল্টো তার ওপর চড়াও হই এবং মনে করি আমরা ন্যায়বিচার করেছি।
- আমি পড়লাম যে এক তরুণী, যিনি এই এলাকাগুলোতে অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ করেন, তিনি জানিয়েছেন যে শিশুদের সম্পর্কে তাকে যা সবচেয়ে বেশি অবাক করে তা হলো হত্যার খেলা ছাড়া তাদের আর কোনো খেলা নেই। প্রাণীদের সাথে হত্যার শিকার এবং শিকারি ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্কের কথা তারা ভাবতেই পারে না। তথাকথিত খ্রিস্টানরা কসাইখানার শিশুদের এই শিক্ষাই দিচ্ছে হত্যার এক প্রাত্যহিক শিক্ষা; আর এরপর সেই এলাকায় খুনের সংখ্যা আর নিষ্ঠুরতা দেখে তারা অবাক হয়। তবুও সমাজ শান্তিতে প্রার্থনা করে যায় আর গান গেয়ে যায়, যেন এই পাপাচারের আস্তানায় ঈশ্বরের সন্তানদের ওপর কোনো অন্যায় হচ্ছে না। নিঃসন্দেহে মরা মাংস খাওয়ার অভ্যাস আমাদের মধ্যে এক নৈতিক স্থবিরতা তৈরি করেছে।
- মানুষ যদি কেবল একটু চিন্তা করত, তবে আমরা খুব জলদিই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতাম; কারণ গড়পড়তা মানুষ আদতে নিষ্ঠুর নয়, সে বরং দয়ালু হতেই চায় যদি সে জানত যে কীভাবে তা হতে হয়। সে চিন্তা করে না; সে দিনের পর দিন এভাবেই চলে যায় এবং বুঝতে পারে না যে সে সারাক্ষণ এক ভয়াবহ অপরাধের অংশীদার হচ্ছে... যারা এই ঘৃণ্য কাজের অংশীদার হচ্ছে তারা সবাই এই আতঙ্কজনক বিষয়টিকে সম্ভব করে তুলতে সাহায্য করছে এবং নিঃসন্দেহে এর দায়ভার বহন করছে।
- আসুন আমরা অন্তত একবার পরীক্ষা করে দেখি; আসুন আমরা এই ভয়াবহ অপরাধের দায় থেকে নিজেদের মুক্ত করি। আমরা প্রত্যেকেই আমাদের নিজের ছোট গণ্ডিতে শান্তি আর ভালোবাসার সেই উজ্জ্বল সময়টি নিয়ে আসার চেষ্টা করি যা প্রতিটি মহৎপ্রাণ এবং চিন্তাশীল মানুষের স্বপ্ন ও গভীর আকাঙ্ক্ষা।
- যখন এই যুগের সমাপ্তি ঘনিয়ে আসবে, তখন মানুষের স্বভাব বদলে যাবে এবং তারা নিষ্ঠুর হয়ে উঠবে ও একে অপরের নামে মন্দ কথা বলবে। মানুষ কোনো অনুশোচনা ছাড়াই গাছপালা আর বাগান ধ্বংস করবে। বেঁচে থাকার উপায় নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় থাকবে... লোভের বশে মানুষ একে অন্যকে হত্যা করবে এবং শিকারের সম্পদ ভোগ করবে... আর মানুষ যখন হিংস্র হয়ে উঠবে, গুণহীন ও মাংসাশী হবে এবং মদে আসক্ত হবে, তখনই এই যুগের শেষ হবে।
- মহাভারত, বন পর্ব (তৃতীয় বই) ~ খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দী থেকে ২য় খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।
- এখানে নিরামিষবাদের পক্ষে তর্কে নামা বা এর বিরুদ্ধে ওঠা আপত্তিগুলোর জবাব দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়; যদিও এটা মানতেই হবে যে নিরামিষবাদের বিরুদ্ধে কোনো যুক্তিই সঠিক অনুসন্ধানের সামনে টিকে থাকতে পারে না। আমি আমার দিক থেকে এটুকু বলতে পারি যে, যারা এই খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করেছেন, তাদের স্বাস্থ্যের দারুণ উন্নতি হয়েছে বা স্বাস্থ্য ফিরে এসেছে, শক্তি অনেক বেড়েছে এবং মন এমন স্বচ্ছতা ও সজীবতা অর্জন করেছে যা কেবল কোনো জঘন্য কারাগার থেকে মুক্তি পেলেই অনুভব করা সম্ভব।
- মরিস মেটারলিঙ্ক, দ্য বারিড টেম্পল (১৯০২), আলফ্রেড সুট্রো কর্তৃক অনূদিত, তৃতীয় অধ্যায়: "দ্য কিংডম অফ ম্যাটার", § ৫।
- সত্যি বলতে আমাদের সব ন্যায়বিচার, নৈতিকতা, আমাদের সব চিন্তা ও অনুভূতি কয়েকটা মৌলিক প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যার মধ্যে প্রধান হলো খাবার। এই মৌলিক প্রয়োজনে সামান্য পরিবর্তন এলেই আমাদের নৈতিক জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আসবে। যদি একদিন সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে যে মাংস ছাড়াও মানুষ দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে, তবে শুধু অর্থনৈতিক বিপ্লবই আসবে না, কারণ এক পাউন্ড মাংস তৈরি করতে একটি গবাদি পশু একশ পাউন্ডের বেশি পশুখাদ্য খায় বরং এক বড় নৈতিক উন্নতিও ঘটবে। এই উন্নতি হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্থায়ী। কারণ আমরা দেখেছি যে মানুষ যখন মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়, তখন সে মদও ছেড়ে দেয়; আর এটি করার অর্থ হলো জীবনের বেশিরভাগ কুরুচিপূর্ণ আর নিচু স্তরের আনন্দগুলো ত্যাগ করা। আর এই সব আমোদ-প্রমোদের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর কুসংস্কারই মানবজাতির সুষম বিকাশের পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
- মরিস মেটারলিঙ্ক, দ্য বারিড টেম্পল (১৯০২), আলফ্রেড সুট্রো কর্তৃক অনূদিত, তৃতীয় অধ্যায়: "দ্য কিংডম অফ ম্যাটার", § ৫।
- এই আদর্শটি এখন হয়তো নিছক কল্পনা বলে মনে হতে পারে এবং এর গুরুত্বও হয়তো কম মনে হতে পারে; অন্যদের মতো এক্ষেত্রেও অনেক সময় লাগবে যখন মানুষের এই সচেতনতা আসবে যে এতদিন তারা ভুল খাবার বেছে নিয়েছিল এবং সেই আলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। কিন্তু এটি কি প্রকৃতির সেই গোপন উপায় হতে পারে না যখন জীবনধারণের সংগ্রাম অসহনীয় হয়ে উঠবে সেই জীবন সংগ্রাম যা আজ মাংস আর মদের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে? এই মাংস আর মদ হলো অবিচার আর অপচয়ের এক প্রতীক, যা মোটেও মানুষের জন্য কাম্য নয়।
- মরিস মেটারলিঙ্ক, দ্য বারিড টেম্পল (১৯০২), আলফ্রেড সুট্রো কর্তৃক অনূদিত, তৃতীয় অধ্যায়: "দ্য কিংডম অফ ম্যাটার", § ৫।
- এক মাস হলো আমি পুরোপুরি নিরামিষাশী হয়েছি। এই জীবনধারার নৈতিক প্রভাব অনেক বিশাল। শরীরের এই স্বেচ্ছাসেবী দমন আপনার বৈষয়িক চাহিদাগুলো কমিয়ে দেয়। আমি এই বিষয়ে কতটা নিশ্চিত তা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যখন আমি বলব যে আমি এর মাধ্যমেই মানবজাতির নতুন জন্মের আশা করি। আমি আপনাকে কেবল এটুকুই বলতে পারি: জীবনযাপনের এক স্বাভাবিক পদ্ধতির দিকে নিজেকে নিয়ে যান যেখানে আপনি সঠিক খাবার খাবেন (যেমন-প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি পুরো আটার রুটি) এবং শীঘ্রই আপনি আপনার প্রচেষ্টার ফল দেখতে পাবেন।
- গুস্তাভ মাহলার, এমিল ফ্রয়েডকে লেখা চিঠি (১ নভেম্বর ১৮৮০), আলফ্রেড ম্যাথিস-রোজেনজুগের গুস্তাভ মাহলার: নিউ ইনসাইটস ইনটু হিজ লাইফ, টাইমস অ্যান্ড ওয়ার্ক-এ, জেরেমি বারহাম কর্তৃক অনূদিত, অ্যাশগেট পাবলিশিং, ২০০৭, পৃষ্ঠা ১৬৫–১৬৬।
- আমি প্রায়ই ভেবেছি, অভ্যাসের এই দাসত্ব যদি না থাকত, তবে সামান্য দয়ালু কোনো মানুষও প্রতিদিনের খাবারের জন্য এত প্রাণী হত্যাকে কখনোই মেনে নিতে পারত না, বিশেষ করে যখন এই উদার পৃথিবী আমাদের এত রকমের উদ্ভিজ্জ সুস্বাদু খাবার জোগান দেয়।
- বার্নার্ড ম্যান্ডেভিল, দ্য ফেবল অফ দ্য বিস: অর, প্রাইভেট ভাইসেস, পাবলিক বেনিফিটস (৬ষ্ঠ সংস্করণ, লন্ডন: জে. টিনসন, ১৭৩২), মন্তব্য পি, পৃষ্ঠা ১৮৭।
- কেবল মানুষই বিনোদনের ছলে হত্যা করতে পারে। প্রকৃতি আপনার পাকস্থলীকে কেবল শাকসবজি খাওয়ার উপযোগী করে তৈরি করেছে; কিন্তু আপনার পরিবর্তনের নেশা আর নতুনত্বের প্রতি আকর্ষণ আপনাকে ন্যায়বিচার বা প্রয়োজন ছাড়াই প্রাণী হত্যায় প্ররোচিত করেছে। এটি আপনার প্রকৃতিকে বিকৃত করেছে এবং আপনার রুচিকে বিলাসিতা বা অহংকারের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
- বার্নার্ড ম্যান্ডেভিল, দ্য ফেবল অফ দ্য বিস: অর, প্রাইভেট ভাইসেস, পাবলিক বেনিফিটস (৬ষ্ঠ সংস্করণ, লন্ডন: জে. টিনসন, ১৭৩২), মন্তব্য পি, পৃষ্ঠা ১৯৩–১৯৪।
- জীবজন্তুর অনিষ্ট করা ছাড়া মাংস পাওয়া যায় না, আর সচেতন প্রাণীর অনিষ্ট করলে স্বর্গের সুখ পাওয়া সম্ভব নয়; তাই মাংস ত্যাগ করা উচিত। মাংসের সেই জঘন্য উৎস আর প্রাণীদের বন্দী ও হত্যা করার নিষ্ঠুরতা ভালো করে ভেবে দেখলে মাংস আহার করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা উচিত... যে ব্যক্তি পিশাচের মতো মাংস খায় না, সে মানুষের প্রিয় হয় এবং কোনো রোগে কষ্ট পায় না। যে পশু হত্যার অনুমতি দেয়, যে একে কাটে, যে হত্যা করে, যে মাংস কেনে বা বেচে, যে রান্না করে, যে পরিবেশন করে এবং যে খায় সবাইকে সেই প্রাণীর হন্তারক বা হত্যাকারী হিসেবে ধরা হয়। যে ব্যক্তি দেবতাদের উপাসনা না করেও কেবল নিজের শরীরের মাংস বাড়ানোর জন্য অন্য প্রাণীর মাংস খায়, তার চেয়ে বড় পাপী আর কেউ নেই।
- মনুস্মৃতি ৫.৪৮-৫২, জর্জ বুলার কর্তৃক অনুবাদ (স্যাক্রেড বুকস অফ দ্য ইস্ট, খণ্ড ২৫)।

- আমরা যত বেশি লাল মাংস আর রক্ত খাব, আমরা তত বেশি রক্তপিপাসু আর হিংস্র হয়ে উঠব। আমরা যত বেশি নিরামিষ খাবার খাব, তত বেশি শান্তি আমাদের ভেতরে প্রবেশ করবে।
- জিগি মার্লে, পেটা-২ (২০ জুলাই ২০১১)-এর সাথে সাক্ষাৎকার।
- প্রায়শই তরুণরা এটি দেখে ভয় পায় যে নিষ্পাপ প্রাণীদের কসাইখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেবল মানুষের ক্ষুধা মেটানোর জন্য, অথচ মানুষ চাইলে খুব সহজেই অন্য উপায়ে খাবার সংগ্রহ করতে পারত।
- জঁ মায়ার, লুই এ. বারম্যানের ভেজিটেরিয়ানবাদ অ্যান্ড দ্য জুইশ ট্র্যাডিশন-এ "ইন্ট্রোডাক্টরি রিমার্কস অন ভেজিটেরিয়ানবাদ" (নিউ ইয়র্ক: কেটিএভি পাবলিশিং হাউস, ১৯৮২), পৃষ্ঠা ২০।

- যখন আমি বেকন দেখি, তখন আমার চোখে একটি শুকর ভাসে, আমি আমার এক ছোট বন্ধুকে দেখি এবং ঠিক এই কারণেই আমি এটি খেতে পারি না। বিষয়টি একদম সহজ। কিন্তু আমি লিন্ডার তৈরি ভেজি বেকন খেতে পারি। ওর হাতের সব খাবার খুব সুস্বাদু ছিল। একবার স্টিভ মার্টিন বারবিকিউর অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। আমি গ্রিল করছিলাম আর তিনি বললেন, “ওহ, না, আমি ওসব খাব না।” কেন খাবেন না জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, “দুঃখিত, আমি নিরামিষাশী।” আমি বললাম, “আপনি জানতেন না আমরাও নিরামিষাশী?! গ্রিলের সব কিছুই নিরামিষ!” তিনি বললেন, “আহ্” এবং তিনটি ভেজি বার্গার খেলেন আর পরে জিজ্ঞেস করলেন এগুলো কোথায় কিনতে পাওয়া যায়।
- পল ম্যাককার্টনি, অ্যানিম্যাল টাইমস সাক্ষাৎকার, শরৎ, ১৯৯৮।
- প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করার জন্য নিরামিষবাদ এক দারুণ সমাধান। এই গ্রহের জল আর মাটির অপচয় রোধ করার জন্যও এটি একটি দুর্দান্ত ধারণা। আমি মনে করি এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভালো এবং বর্তমানের চিকিৎসকরাও এই বিষয়ে একমত। নিরামিষবাদ নিয়ে অনেক ভালো বই আর সংস্থা আছে, তাই আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, আপনাকে সাহায্য করার জন্য কেউ না কেউ আছে। এটাই আপনার প্রথম পদক্ষেপ, আর দ্বিতীয় পদক্ষেপটি হলো সুপারমার্কেটে ভালো নিরামিষ খাবার খুঁজে দেখা, যা আজকাল অনেক সহজেই পাওয়া যায়।
- পল ম্যাককার্টনি, পেটা.অর্গ (এপ্রিল ২০০৫)-এর "স্যার পল ম্যাককার্টনি এবং পেটা ভিপি ড্যান ম্যাথিউস দুই দশকের সক্রিয়তা নিয়ে কথা বলছেন"।
- নিরামিষবাদ কেবল বাণিজ্যিক খাবারের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিবাদই নয়, এটি খাদ্য ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি প্রয়োজনীয় শর্তও বটে। মাংস খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার মানে হলো বিশ্বব্যাপী এই বিশাল খাদ্য পরিকাঠামোকে গোড়া থেকে ভেঙে ফেলা। ... যতক্ষণ না আমরা এই পরিবর্তন আনছি, যতক্ষণ না আমরা এমন এক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলছি যেখানে মাংসাশীদের ক্ষমা চাইতে হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এসব প্রস্তাব কেবল লোক দেখানো প্রতীক ছাড়া আর কিছুই হবে না যা পরিবেশের কোনো কাজে আসবে না।
- জেমস ই. ম্যাকউইলিয়ামস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট (১৬ নভেম্বর ২০০৯)-এর "নিরামিষবাদ পরিবেশ পরিবর্তনের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ"।
- কেন করুণা বা সমবেদনা আমাদের শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়? করুণা, বিস্ময়, কৌতূহল আর বিনয়—এগুলোই হলো যে কোনো প্রকৃত সভ্যতার ভিত্তি। এগুলো কেবল কোনো নির্দিষ্ট চার্চের সম্পদ নয়, বরং প্রতিটি বাড়ির আর প্রতিটি স্কুলের প্রতিটি শিশুর অধিকার।
- ইহুদি মেনুহিন, জাস্ট ফর অ্যানিম্যালস; আন্দ্রেয়া উইবার্স এবং ডেভিড উইবার্সের সোলস লাইক আওয়ারসেলভস (রচেস্টার, এমএন: সোজার্ন প্রেস, ২০০০), পৃষ্ঠা ১৬।
- শনিবার রাতে মাংসের বাজারে গিয়ে দেখুন কীভাবে জ্যান্ত মানুষগুলো সার সার মরা পশুর দিকে তাকিয়ে আছে। এই দৃশ্য কি নরখাদকদের কথা মনে করিয়ে দেয় না? নরখাদক? কে নরখাদক নয়? আমি আপনাদের বলছি, সেই ফিজি দ্বীপবাসীর অবস্থা বিচার দিনে হয়তো কিছুটা ভালো হবে যে দুর্ভিক্ষের জন্য এক পাদ্রিকে নুন মাখিয়ে রেখেছিল; সেই দূরদর্শী ফিজি দ্বীপবাসীর অবস্থা হয়তো তোমাদের মতো সভ্য আর শিক্ষিত পেটুকদের চেয়ে ভালো হবে, যারা রাজকীয় খাবারের জন্য রাজহাঁসকে মাটিতে পেরেক দিয়ে গেঁথে তাদের যকৃৎ ফুলিয়ে আনন্দ পাও।
- হারমান মেলভিল, মোবি ডিক, অধ্যায় ৬৫।
- মাংস খাওয়ার প্রতীকী অর্থ কখনোই নিরপেক্ষ নয়। একজন মাংসাশী মানুষের কাছে মাংস খাওয়ার মানে হলো জীবন ভক্ষণ করা। আর একজন নিরামিষাশীর কাছে মনে হয় সে মৃত্যু ভক্ষণ করছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে চিন্তার এমন এক তফাৎ আছে যা বদলানো খুব কঠিন, এবং এই বিষয়ে প্রশ্ন তুললে প্রায়ই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
- মেরি মিডগলি, অ্যানিম্যালস অ্যান্ড হোয়াই দে ম্যাটার (১৯৮৩), অধ্যায় ২, ৪।
- কেবল যারা তাঁর মতো বেঁচে থাকে, তাদের থাকতে দিন!
লতাগুল্মই হোক তাদের রক্তহীন ভোজের উৎসব।
কাঠের পাত্রে তাদের পানীয় উজ্জ্বল হয়ে উঠুক,
ঝর্ণার শীতল জলই হোক তাদের শান্ত পানীয়!
তাদের তারুণ্য কাটুক এক পবিত্র নির্দোষতায়,
সব ধরণের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে।- জন মিলটন, চার্লস ডিওডাটিকে লেখা এলিজি ৬ ৫৫-৬৬।
- অদ্ভুত দৃশ্য! একজন মা তার মেয়েকে রক্তমাখা মাংসের বড় বড় টুকরো আর উত্তেজনাকর মদ খেতে দিচ্ছেন, যাকে হয়তো গতকালই তিনি নিজের বুকের দুধ খাইয়ে বড় করছিলেন।
- জুল মিশলে, লা ফেম, ১১তম সংস্করণ, প্যারিস, ১৮৭৯।
- আমি একজন নিরামিষাশী কারণ আমি বিশ্বাস করি বর্তমানের নৈতিকতা ডারউইন-পূর্ব সেই প্রাচীন ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি যেখানে ভাবা হতো যে সব সৃষ্টি কেবল মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে। নিরামিষবাদ হলো বিবর্তনের এক নৈতিক পরিণতি। এটি চার্লস ডারউইনের আবিষ্কৃত জৈবিক তথ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নৈতিকতাকে আরও বাড়িয়ে তোলা মাত্র। বিবর্তন আমাদের শিখিয়েছে যে সব প্রাণীর সাথে আমাদের আত্মীয়তা রয়েছে।
- জে. হাওয়ার্ড মুর, "কেন আমি একজন নিরামিষাশী: শিকাগো ভেজিটেরিয়ান সোসাইটির সামনে দেওয়া একটি বক্তব্য" (১৮৯৫), পৃষ্ঠা ১৯–২০।
- ভেড়া, গরু আর রাজহাঁস যারা আমার প্রতিবেশী হিসেবে আশেপাশে থাকে, তাদের সান্নিধ্যই আমাকে শেষ পর্যন্ত নিরামিষাশী করে তুলেছে। আমি হাঁটার সময় এই প্রাণীদের সাথে কথা বলি। মাঝে মাঝে তাদের স্পর্শ করার সৌভাগ্য আমার হয়, আর আমি যখন তাদের চোখের দিকে তাকাই তখন কেবল সারল্যই দেখি না, বরং এটিও অনুভব করি যে সেই চোখের গঠন আমার চোখের চেয়ে কোনো অংশে কম জটিল নয়। বাগান থেকে পাওয়া চমৎকার সব খাবার আর সেগুলো রান্নার এত সব উপায় কি আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়?
- মেরি টাইলার মুর, আফটার অল (নিউ ইয়র্ক: পুটনাম, ১৯৯৫। আইএসবিন ০-৩৯৯-১৪০৯১-৩), পৃষ্ঠা ২৭।
- মার্ক ওয়েড সুপারম্যানকে নিরামিষাশী হিসেবে দেখিয়েছিলেন, তিনি এটি অনুমোদন করেছিলেন এবং তখন মানুষ খুব রেগে গিয়েছিল কারণ সত্তরের দশকে বলা হতো যে তাঁর প্রিয় খাবার ছিল বিফ বার্গিনন। কিন্তু আমি মনে করি যে তিনি অবশ্যই একজন নিরামিষাশী হবেন, মানে তাঁর পক্ষে নিরামিষাশী না হওয়াটাই কঠিন। তিনি এমন এক শিশু যিনি পশুদের সাথে বড় হয়েছেন এবং আমি নিশ্চিত যে তিনি খুব ছোটবেলা থেকেই তাদের প্রতি সমব্যথী ছিলেন।
- গ্র্যান্ট মরিসন, "গ্র্যান্ট মরিসনের সাথে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার", কমিকবুকজিআরআরআরএল (২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১)।

- আপনি হয় সহিংসতাকে সমর্থন করেন নয়তো করেন না, আর পৃথিবীতে মাংস শিল্পের চেয়ে বেশি সহিংস বা চরম আর কিছু নেই।
- মরিসি, অটোবায়োগ্রাফি (লন্ডন: পেঙ্গুইন, ২০১৩ ই-বুক সংস্করণ), পৃষ্ঠা ১৪২।
- আমি মূলত এই কারণে নিরামিষাশী হয়েছিলাম: বাণিজ্যিক খামারগুলোতে প্রাণীদের সাথে যে আচরণ করা হয় তার প্রতি আমার তীব্র ঘৃণা রয়েছে। আমার মনে হতো এটি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং পাশবিক এক কাজ এবং আমি সবসময়ই এর প্রতিবাদ করতাম। তখন কেউ কেউ আমাকে বলত, "আপনি কি মাংস খান?" আর আমি যদি বলতাম "হ্যাঁ", তখন তারা বলত, "তবে আপনি কীভাবে জানেন যে এটি ওইভাবেই তৈরি হয়নি?" তখন আমি বুঝতে পারলাম যে মাংসাশী হয়ে আমি আর এর প্রতিবাদ করতে পারব না। তাই এটাই ছিল আমার আসল অনুপ্রেরণা। কিন্তু তারপর থেকে আমার মনে হয়েছে যে এটি মানুষকে পবিত্র করে তোলে এবং আমার পক্ষে পুনরায় মাংস খাওয়া শুরু করা অসম্ভব হবে। আমি বুঝেছি এর একটি আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে।
- ম্যালকম মুগারিজ, রিন বেরির দ্য ভেজিটেরিয়ানস (ব্রুকলিন, এমএ: অটাম প্রেস, ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৯৩-এ দেওয়া সাক্ষাৎকার।
- "ভেজিটেরিয়ান" শব্দটি ল্যাটিন "ভেজেটাস" থেকে এসেছে-যার অর্থ হলো অখণ্ড, সুস্থ, তাজা এবং প্রাণবন্ত। মানুষ যে মাংস খায় তা অখণ্ডও নয়, সুস্থও নয়, তাজা বা প্রাণবন্তও নয়। এটি হলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা, দূষিত, পচনশীল, বাসি এবং মৃত। সবুজ শাকসবজি, মূল জাতীয় ফসল, দানা শস্য, বেরি, বাদাম আর ফলমূল সমৃদ্ধ একটি খাদ্যতালিকা শরীরের শক্তি আর সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর জোগান দেয়। এটি যেমন স্বাস্থ্যকর এবং নান্দনিক, তেমনি সাশ্রয়ী; এটি আমাদের সহ-প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং সহজে চাষ করা, প্রস্তুত করা আর হজম করা যায়। মানুষের মাংস খাওয়া আসলে অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক, শারীরবৃত্তীয়ভাবে ভুল, অস্বাস্থ্যকর, অস্বাস্থ্যকর, ব্যয়বহুল, কুরুচিপূর্ণ, নির্দয় এবং অনৈতিক।
- হেলেন নিয়ারিং, সিম্পল ফুড ফর দ্য গুড লাইফ (চেলসি গ্রিন পাবলিশিং, ১৯৯৯; মূলত ১৯৮০ সালে প্রকাশিত), চতুর্থ অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৩৯।
- আমি নিরামিষাশী হয়েছি কারণ আমি বিশ্বাস করি যে জীবন মানুষের জন্য যতটা মূল্যবান, অন্য প্রাণীদের জন্যও ঠিক ততটাই। আমাকে বেঁচে থাকতে, শক্তিশালী আর সুস্থ থাকতে মরা প্রাণীর শরীরের কোনো প্রয়োজন নেই। তাই খাবারের জন্য আমি কোনো প্রাণীকে হত্যা করব না।
- স্কট নিয়ারিং, দ্য মেকিং অফ এ র্যাডিক্যাল: এ পলিটিক্যাল অটোবায়োগ্রাফি (চেলসি গ্রিন পাবলিশিং, ২০০০; মূলত ১৯৭২ সালে প্রকাশিত), সপ্তম অধ্যায়।
- প্রচলিত চারটি খাদ্যগোষ্ঠীর ভিত্তি হলো আমেরিকার কৃষি লবিগুলো। কেন আমাদের দুধের জন্য একটি আলাদা গ্রুপ আছে? কারণ আমাদের একটি ন্যাশনাল ডেইরি কাউন্সিল আছে। কেন আমাদের মাংসের একটি গ্রুপ আছে? কারণ আমাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী [মাংস লবি] আছে।
- মারিয়ন নেসল, নিউজউইক (২৭ মে ১৯৯১)-এ লরা শ্যাপিরো’র "ফিডিং ফ্রেঞ্জি"।
- এতে কোনো সন্দেহ নেই যে নিরামিষ প্রধান খাবারগুলো সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর। এর প্রমাণ এত জোরালো এবং বিশাল, আর তা এত দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়েছে যে এটি নিয়ে আর তর্কের কোনো অবকাশ নেই।
- মারিয়ন নেসল, নিউট্রিশন অ্যাকশন হেলথলেটার, অক্টোবর ১৯৯৬ সংখ্যায় বর্ণিত; জে. এম. ম্যাসনের দ্য ফেস অন ইয়োর প্লেট (নিউ ইয়র্ক: নর্টন অ্যান্ড কোম্পানি, ২০০৯), পৃষ্ঠা ১৭২-এ উদ্ধৃত।
- মানুষ মাঝে মাঝে ভুলে যায় যে সব সবজি এক নয়। এমন কিছু সবজি আছে যাতে পুষ্টি কিছুটা কম; কিন্তু এমন কিছু আছে যেমন- গম আর যবের মতো সব শ্বেতসার সমৃদ্ধ খাবার যাতে গরুর মাংস বা অন্য যে কোনো পশুর মাংসের চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টি থাকে।
- ফ্রান্সিস উইলিয়াম নিউম্যান, এসেস অন ডায়েট (১৮৮৩); আন্তর্জাতিক নিরামিষাশী ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে প্রফেসর ফ্রান্সিস উইলিয়াম নিউম্যান।
- ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন দার্শনিক পিথাগোরাস জ্ঞানের সন্ধানে প্রাচ্যের দেশগুলোতে ভ্রমণ করেছিলেন। সেখানে তিনি পুরোহিত আর বিচারকদের সাথে আলোচনা করেন এবং তাদের জীবনযাপন দেখেন। এরপর তিনি তাঁর শিষ্যদের শিখিয়েছিলেন যে সব মানুষের উচিত সব মানুষের সাথে এবং এমনকি অবলা পশুদের সাথেও বন্ধুসুলভ আচরণ করা। এটিই ছিল মোজেস আর খ্রীষ্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত নূহর সন্তানদের ধর্ম এবং এটি আজও কার্যকর আছে।
- আইজাক নিউটন, আইরেনিকাম।
- করুণা বা দয়ার বিরোধীরা প্রায়ই বলেন: ‘আমরা যদি কেবল নিরামিষ খেয়ে বাঁচি, তবে আমাদের গবাদি পশুদের কী হবে? তাদের কী দশা হবে? তারা সংখ্যায় এত বেড়ে যাবে যে আমাদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে—আমরা যদি তাদের মেরে না খাই তবে তারা আমাদেরই খেয়ে ফেলবে।’ কিন্তু পৃথিবীতে এমন অসংখ্য প্রাণী আছে যাদের মানুষ মেরে খায় না; তবুও আমরা শুনি না যে তারা মানুষের কোনো ক্ষতি করছে এবং তাদের বসবাসের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও পাওয়া যায়। ঘোড়াকে সাধারণত খাওয়ার জন্য মারা হয় না, তবুও আমরা শুনিনি যে কোনো দেশ ঘোড়ায় ভরে গেছে। ... গবাদি পশু বর্তমানে ব্যবসার একটি পণ্য এবং অত্যন্ত যান্ত্রিকভাবে তাদের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ... আত্মরক্ষা করার জন্য মানুষ ক্ষতিকর প্রাণীদের হত্যা করতেই পারে, তবে তা কোনো প্রাণীর প্রতি সামান্যতম নিষ্ঠুরতা করার অধিকার দেয় না। ... কিছু প্রাণী হিংস্র আর অনুভূতিহীন হতে পারে; কিন্তু তাদের সেই হিংস্রতা আর পাশবিকতা যেন মানুষের আচরণের আদর্শ না হয়। তাদের কয়েকজনের মধ্যে দয়া, অনুভূতি বা যুক্তি নেই বলে কি আমাদের মধ্যেও দয়া, অনুভূতি বা যুক্তি থাকবে না?
- জর্জ নিকোলসন, রিমার্কস অন ডিফেন্সেস অফ ফ্লেশ-ইটিং, হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট: এ ক্যাটেনা অফ অথরিটিস ডিপ্রেকেটরি অফ দ্য প্র্যাকটিস অফ ফ্লেশ-ইটিং (লন্ডন: এফ. পিটম্যান, ১৮৮৩), পৃষ্ঠা ১৯৩।
- আমি মাংস খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে লক্ষ্য করেছি যে আমার হজম শক্তি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে, চিন্তাগুলো আরও উন্নত হয়েছে এবং আমি এখন হাঁটার বদলে দৌড়াতে পারি। [...] আমি শাকসবজি আর সব ধরণের নিরামিষ খাবার খাই। আমি একজন নিরামিষাশী। আমি মাংসাশী নই।
- ভাস্লাভ নিজিনস্কি, দ্য ডায়েরি অফ ভাস্লাভ নিজিনস্কি।

- নিরামিষবাদ অতি ধনী আর অতি দরিদ্র-উভয়ের জন্যই প্রয়োজন। দরিদ্রদের জন্য এটি প্রয়োজন কারণ এটি সস্তা আর পুষ্টিকর। আর ধনীদের জন্য এটি প্রয়োজন যাতে তাদের অতিরিক্ত খাবারের ফলে বিষাক্ত হয়ে ওঠা শরীর থেকে মরা মাংসের বিষগুলো দূর করা যায়।
- নাতালিয়া নর্ডম্যান, পোভারে নায়া কনিগা দ্লিয়া গোলোদাউশুশিক, জেসিকা মেনজো সম্পাদিত নাইনটিনথ-সেঞ্চুরি লিটারেচার ক্রিটিসিজম (এনসিএলসি), খণ্ড ১০৮ (গেল গ্রুপ, ২০০২), পৃষ্ঠা ১৬৯-এ উদ্ধৃত।
- আমি বুঝি না কেন মানুষকে একটি সুষম নিরামিষ খাবারের অভ্যেস করতে বলাকে চরমপন্থা হিসেবে দেখা হয়, অথচ মানুষকে কাটাছেঁড়া করা কিংবা সারাজীবনের জন্য তাদের কড়া কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ দেওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিরাপদ ও স্বাভাবিক নিয়ম মনে করা হয়... প্রাণিজ খাবারগুলোই আমাদের মেরে ফেলার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। এগুলো ছাড়াই আমরা নিশ্চিতভাবে আরও ভালো জীবন কাটাতে পারি।
- ডিন অরনিশ, রবার্তো সুরো-র “হার্টস অ্যান্ড মাইন্ডস”, নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিন, ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯১, পৃষ্ঠা ২৮-এ উদ্ধৃত; জন রবিনসের ডায়েট ফর এ নিউ আমেরিকা ২৫তম বার্ষিকী সংস্করণ (এইচ জে ক্রেমার, ২০১২), পৃষ্ঠা ৩৫৯।
- [আমাদের পদ্ধতিটি] এমন নয় যে হৃদরোগ সারানোর জন্য এক ধরণের খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম, বহুমূত্র রোগের জন্য অন্য নিয়ম, আর জিনের পরিবর্তন বা আয়ু বাড়ানোর জন্য আলাদা কোনো নিয়ম দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রতিটি গবেষণায় মানুষকে প্রাকৃতিক এবং উদ্ভিজ্জ খাবার খাওয়ার কথা বলা হয়েছে... বিষয়টি এমন যেন আপনি যদি আপনার খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাত্রায় সঠিক কাঁচামাল বা উপাদান জোগান দেন, তবে আপনার শরীর নিজেই জানে কীভাবে তার প্রয়োজনীয় ওষুধটি তৈরি করে নিতে হয়। ... আর যা আপনার জন্য ভালো, তা আমাদের এই গ্রহের জন্যও ভালো। আমরা যতটা প্রাকৃতিক ও উদ্ভিজ্জ খাবারের দিকে ঝুঁকব, তা শুধু আমাদের নিজেদের জীবনেই নয়, বরং সারা বিশ্বের অনেক মানুষের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
- ডিন অরনিশ, মার্কো বোর্হেসের দ্য ২২-ডে রেভোলিউশন-এর ভূমিকা (নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০১৫)।
- হে নশ্বর মানুষ, তোমাদের সঙ্গীদের রক্ত থেকে দূরে থাকো,
অপবিত্র খাবার খেয়ে শরীরকে কলুষিত করো না:
প্রকৃতি যেখানে শস্য আর ডাল দিয়েছে,
আর ফলের বাগানে ফসলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ;
যেখানে পরিশ্রমে গড়ে তোলা বাগান দিচ্ছে স্বাস্থ্যকর শাকসবজি,
আর আঙুরলতায় ভরে উঠছে অঢেল রস;
যেখানে কচি ফলগুলো হারিয়ে যায় না,
বরং আগুনের তাপে বা শীতের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে নরম ও সুস্বাদু;
যেখানে গাভীরা ওলানভরা দুধ নিয়ে আসে,
আর মৌমাছিরা বয়ে আনে বসন্তের সুগন্ধে ভরা মধু;
পৃথিবী যেখানে শুধু তোমাদের চাহিদাই মেটায় না,
বরং উজাড় করে দেয় তার সব বিলাসিতা;
সেখানে কোনো রক্ত ছাড়াই তৃপ্তি পাওয়া সম্ভব,
আর খুব সহজেই সাজানো যায় এক সুস্বাদু ভোজ।- ওভিড, মেটামরফসিস, স্যার স্যামুয়েল গার্থ, জন ড্রাইডেন এবং অন্যদের দ্বারা অনূদিত, ১৫তম খণ্ড।
- কী অধার্মিক এই রীতি! প্রকৃতির নিয়মের একদম পরিপন্থী,
যেখানে এক উদরের ভেতর অন্য উদরকে বন্দি করা হয়:
যেখানে অন্য প্রাণীর চর্বিতে মানুষ নিজে পুষ্ট হয়;
হত্যার ওপর ভর করে, আর মৃত্যুর সাহায্যে তারা বাঁচে।
ধরিত্রী মাতা তার সঞ্চিত যা কিছু দেখান আর যা কিছু লুকান,
সেসব তবে কি বৃথা
যদি মানুষকে শুধু মাংসের টুকরোই খেয়ে যেতে হয়,
আর রক্তমাখা দাঁতে চিবোতে হয় সেই খাবার যাতে প্রাণ ছিল:
এটি কি আমাদের অতিথিদেরই গিলে খাওয়ার মতো কাজ নয়,
বর্বর সেই সাইক্লোপীয় ভোজের পুনরাবৃত্তি!
প্রাণ নাশ করে আমরা নিজেদের জীবন বাঁচাই;
আর এই অপবিত্র মাংস দিয়ে ভরি আমাদের পেট।- ওভিড, মেটামরফসিস, স্যার স্যামুয়েল গার্থ, জন ড্রাইডেন এবং অন্যদের দ্বারা অনূদিত, ১৫তম খণ্ড।
- [জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করার জন্য] শুরুতে সপ্তাহে এক দিন মাংস খাওয়া ছেড়ে দিন এবং সেখান থেকে তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং অল্প সময়ের মধ্যে নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনার বিচারে এটিই নিশ্চিতভাবে সবচেয়ে কার্যকর সুযোগ।
- রাজেন্দ্র কে. পাচৌরি, “পরিবেশ রক্ষায় লাল মাংস কম খাওয়ার আহ্বান জাতিসংঘ জলবায়ু বিশেষজ্ঞের”, দ্য টেলিগ্রাফ (৭ সেপ্টেম্বর ২০০৮)-এর সাথে সাক্ষাৎকার।

- আমাদের আনন্দ বা সুবিধার জন্য পশুদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া, তাদের অঙ্গহানি করা এবং শেষ পর্যন্ত তাদের জীবন কেড়ে নেওয়া এই ধরণের যন্ত্রণা ও ক্ষতির জন্য একটি সঠিক কৈফিয়ত থাকা প্রয়োজন।
এই কাজের সমর্থনে যেসব যুক্তি দেওয়া হয় তা হলো: যেহেতু অনেক প্রজাতির প্রাণী একে অপরকে শিকার করে বাঁচে, তাই এটি প্রমাণ করে যে মানুষেরও তাদের খেয়ে বেঁচে থাকার কথা; যদি তাদের ছেড়ে দেওয়া হতো তবে তারা সংখ্যায় বেড়ে পৃথিবীকে দখল করে নিত এবং মানুষের জন্য জায়গা থাকত না; আমাদের যত্ন আর সুরক্ষার বিনিময়েই তারা এইটুকু কষ্ট সহ্য করে।
এই যুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে আমি বলব যে, এখানে যে তুলনা দেওয়া হয়েছে তা খুবই দুর্বল; কারণ পশুদের অন্য কোনো উপায়ে জীবন ধারণের ক্ষমতা নেই, কিন্তু আমাদের আছে; পুরো মানবজাতি ফল, ডাল, শাকসবজি আর শিকড় খেয়ে অনায়াসেই বেঁচে থাকতে পারে, যেমনটি অনেক হিন্দু সম্প্রদায় বর্তমানে করছে। বাকি দুটি যুক্তি কিছুটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে; কারণ নিসন্দেহে মানুষ যদি পুরোপুরি নিরামিষাশী হতো, তবে যেসব পশু আজ তার খাবারের টেবিলে মারা পড়ছে তাদের বড় একটি অংশ হয়তো জন্মই নিত না। কিন্তু আমরা বর্তমানে যেভাবে পশুদের ওপর কর্তৃত্ব করি, এটি কোনোভাবেই সেই অধিকারকে সমর্থন করে না। উদাহরণস্বরূপ, মাছেরা আমাদের কাজে কীভাবে বাধা দেয়? অথবা তাদের রক্ষায় বা লালন-পালনে আমরা কী অবদান রাখি?- উইলিয়াম পেলি, দ্য প্রিন্সিপলস অফ মোরাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ফিলোসফি (১৭৮৫; ১৯তম সংস্করণ, লন্ডন: জে. ফোল্ডার ও অন্যান্য, ১৮১১), খণ্ড ১, বই ২, অধ্যায় ১১, পৃষ্ঠা ৯৬-৯৭।
- অনেক মার্জিত মানুষ একটি মাছি মারতেও দ্বিধাবোধ করেন, অথচ অনায়াসেই আস্ত একটি গরুর মাংস খেয়ে ফেলেন।
- আইজাক লেইব পেরেজ, তানিস গেডাঙ্কেন, ১৮৯৬। আলে ভের্ক, ১২. ৭৭।
- ইউক্সেনাস তখন বুঝতে পারলেন যে তিনি এক মহৎ আদর্শের অনুসারী এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন তিনি কোথা থেকে এটি শুরু করবেন। অ্যাপোলোনিয়াস উত্তর দিলেন: "সেখান থেকেই যেখান থেকে চিকিৎসকরা শুরু করেন; কারণ তারা রোগীদের পেট পরিষ্কার করার মাধ্যমে অনেক রোগ প্রতিরোধ করেন এবং অন্যদের নিরাময় করেন।" আর এই কথা বলে তিনি মাংসাশী খাবার খেতে অস্বীকার করলেন। তিনি মনে করতেন এটি অপবিত্র এবং এটি মনকে স্থূল করে তোলে; তাই তিনি কেবল শুকনো ফল আর শাকসবজি খেতেন, কারণ তাঁর মতে মাটির সব ফলই পবিত্র। ... এরপর তার শরীরের ভেতরটা এভাবে শুদ্ধ করার পর, তিনি সাজসজ্জা হিসেবে জুতো ছাড়াই হাঁটা শুরু করলেন এবং লিনেন কাপড় পরলেন। তিনি প্রাণিজ পণ্য থেকে তৈরি কোনো কিছু পরতে অস্বীকার করলেন।
- ফিলোস্ট্র্যাটাস, লাইফ অফ অ্যাপোলোনিয়াস, এফ.সি. কোনিবিয়ার কর্তৃক অনূদিত, প্রথম খণ্ড, § ৮।
- এখানে একটি পরীক্ষা দেওয়া হলো যা আপনি বাড়িতেই করতে পারেন: দুই বছরের একটি শিশুকে একটি আপেল আর একটি খরগোশের সাথে একটি খেলার বাক্সে রাখুন। সে যদি আপেল নিয়ে খেলে আর খরগোশটিকে খেয়ে ফেলে, তবে বুঝবেন যে আপনার সন্তান মাংসাশী। অসংখ্য গবেষণা অনুযায়ী... নিরামিষাশীদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি মাংসাশীদের চেয়ে ৬০% কম এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কম। এটি বোঝার জন্য কোনো রকেট বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই যে আমাদের শরীর মাংস খাওয়ার জন্য খুব একটা মানানসই নয়।
- ড্যান পিরারো, "মানুষ কি মাংস খাওয়ার জন্য তৈরি?", তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট Bizzaro.com।
- ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমি মাংসাশী ছিলাম। সব ভালো আর বুদ্ধিমান মানুষের মতো আমিও জন্মগতভাবে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতার বিপক্ষে ছিলাম, কিন্তু আমি জানতাম না যে খাবারের জন্য পশুদের কীভাবে লালন-পালন বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। আমি ভেবেছিলাম মানুষ সবসময় মাংস খেয়ে এসেছে কারণ এটি আমাদের জন্য স্বাভাবিক, আর যেসব প্রাণীকে খাওয়ার জন্য পালন করা হয় তাদের খামারে রাখা হয় যেখানে তারা খুব একটা কষ্ট পায় না এবং দ্রুত ও মানবিক উপায়ে তাদের হত্যা করা হয়। কিন্তু আসল সত্য এর ধারেকাছেও নেই। খাবারের জন্য লালিত ৯৫% এরও বেশি প্রাণী অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে জন্মায়, বেঁচে থাকে এবং মারা যায়। ... আমার আরেকটি ভুল ধারণা ছিল খামারের পশুদের বুদ্ধি আর সচেতনতা নিয়ে। ভেগান হওয়ার পর থেকে আমি এমন অনেক উদ্ধার করা পশুর দেখা পেয়েছি যারা এখন বাইরে স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছে... গরু, শুকর আর মুরগিরা কুকুর বা বিড়ালের মতোই বুদ্ধিমান, মিশুক আর ভালোবাসাপূর্ণ। তারা অন্য প্রাণীদের সাথে বা মানুষের সাথে ঠিক একইভাবে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব আছে এবং তাদের পছন্দ-অপছন্দও আলাদা। আপনি যদি মনে করেন যে আপনি কেবল শহরের কুকুর বা বিড়াল বাঁচানোর জন্য কাজ করছেন বলেই প্রাণীপ্রেমী, অথচ নিয়মিত মাংস খেয়ে যাচ্ছেন—তবে আবারও চিন্তা করে দেখুন।
- ড্যান পিরারো, "কেন আমি ভেগান", তাঁর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট Bizzaro.com।

- আবার, অনেক জাতির মধ্যে এখনও একে অপরকে বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে; অন্যদিকে আমরা এমন অনেক মানুষের কথা শুনি যারা এমনকি একটি গরুর মাংস ছুঁয়েও দেখে না এবং প্রাণীদের বলি দেওয়ার বদলে কেবল মধু মেশানো কেক আর ফল দিয়ে দেবতাদের পূজা করে; তারা বিশ্বাস করত যে এগুলো খাওয়া উচিত নয় এবং পশুর রক্ত দিয়ে দেবতাদের বেদী অপবিত্র করা ঠিক হবে না। সেই সময়কার মানুষগুলো এক ধরণের অরফীয় জীবন যাপন করত বলা হয়, যেখানে তারা প্রাণহীন সব বস্তু ব্যবহার করলেও জীবন আছে এমন সব কিছু থেকে দূরে থাকত।
- প্লেটো, লজ, বেঞ্জামিন জোয়েট কর্তৃক অনূদিত, ষষ্ঠ খণ্ড, ৭৮২সি-ডি।
- তারা যব এবং গমের আটা দিয়ে চমৎকার কেক আর রুটি তৈরি করবে; এগুলো তারা ঘাস বা পাতার ওপর সাজিয়ে পরিবেশন করবে। তারা এবং তাদের সন্তানরা তাদের তৈরি করা মদ পান করবে, মাথায় ফুলের মালা পরবে এবং একে অপরের সাথে সুখে গল্প করে দেবতাদের প্রশংসা করবে। তারা খেয়াল রাখবে যাতে তাদের পরিবার সাধ্যের বাইরে না যায় এবং দারিদ্র্য বা যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পায়।
কিন্তু গ্লকন বাধা দিয়ে বললেন, আপনি তো তাদের খাবারে কোনো চটকদার স্বাদ বা আচার যোগ করেননি।
সত্যিই, আমি ভুলে গিয়েছিলাম; অবশ্যই তাদের লবন, জলপাই আর পনির থাকবে। তারা সাধারণ মানুষের মতো নানা লতাগুল্ম আর শিকড় সেদ্ধ করে খাবে; মিষ্টান্ন হিসেবে আমরা তাদের ডুমুর, মটরশুঁটি আর শিম দেব; আর তারা পরিমিত পানীয়র সাথে আগুনে ঝলসানো ফল আর ওক ফল খাবে। এমন খাদ্যাভ্যাসে আশা করা যায় যে তারা বার্ধক্য পর্যন্ত শান্তি ও সুস্বাস্থ্যের সাথে বেঁচে থাকবে এবং তাদের সন্তানদের জন্যও একই ধরণের জীবন রেখে যাবে।- প্লেটো, দ্য রিপাবলিক, বেঞ্জামিন জোয়েট কর্তৃক অনূদিত, দ্বিতীয় খণ্ড, ৩৭২বি-ডি।
- আমার মতে আমি যে রাষ্ট্রের বর্ণনা দিয়েছি সেটিই হলো আদর্শ এবং স্বাস্থ্যকর রাষ্ট্র। কিন্তু আপনি যদি আরও বিলাসবহুল কোনো রাষ্ট্র দেখতে চান তবে আমার আপত্তি নেই। কারণ আমি সন্দেহ করছি যে অনেকেই সাধারণ জীবনযাপনে সন্তুষ্ট হবে না। তারা খাবারে সুস্বাদু পদ, সুগন্ধি, ধূপ, বিলাসী জীবন আর হরেক রকমের কেক চাইবে... আর আমাদের আরও চাকরবাকর লাগবে। গৃহশিক্ষক আর ধাইয়েরও কি প্রয়োজন হবে না? নাপিত আর কারিগরদের পাশাপাশি মাংস কাটার কসাই আর শুকর পালনকারীদেরও কি লাগবে না, যাদের আগের রাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল না? তাদেরও ভুলে গেলে চলবে না: আর যদি মানুষ প্রাণী খেতে শুরু করে তবে আরও অনেক ধরণের পশুর প্রয়োজন হবে।
নিশ্চয়ই।
আর এভাবে বাঁচলে আগের চেয়ে অনেক বেশি চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে কি না?
অনেক বেশি।
আর যে জমিটুকু আদি বাসিন্দাদের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট ছিল, তা কি এখন খুব ছোট মনে হবে না?
একদম সত্য।
তবে আমাদের চাষাবাদ আর পশু পালনের জন্য প্রতিবেশীদের জমির একাংশ দরকার হবে, আর তারাও আমাদের জমির ভাগ চাইবে, যদি তারাও আমাদের মতোই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পদ জমানোর নেশায় মত্ত হয়?
সক্রেটিস, এটি হওয়া তো অনিবার্য।
আর এভাবেই আমরা যুদ্ধে জড়াব, গ্লকন। তাই না?
অবশ্যই, তিনি উত্তর দিলেন।
যুদ্ধ ভালো কি মন্দ তা এখনই বিচার না করেও আমরা অন্তত এটুকু বলতে পারি যে—যুদ্ধের কারণগুলো আমরা খুঁজে পেয়েছি, যা রাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সব অমঙ্গলের মূল কারণ।- প্লেটো, দ্য রিপাবলিক, বেঞ্জামিন জোয়েট কর্তৃক অনূদিত, দ্বিতীয় খণ্ড, ৩৭২ই-৩৭৩ই।
- আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন কেন পিথাগোরাস মাংস খাওয়া থেকে দূরে থাকতেন। আমি বরং এটাই ভেবে অবাক হই যে, সেই প্রথম মানুষটি কোন সাহসে বা কোন যুক্তিতে তার মুখ দিয়ে এক জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে স্পর্শ করেছিল এবং একটি মৃত পশুর মাংস নিজের ঠোঁটের কাছে নিয়ে গিয়েছিল; কী করে সে মানুষের সামনে কতগুলো বীভৎস মৃতদেহ আর ভূত সাজিয়ে দিয়ে সেগুলোকে খাদ্য বা আহারের নাম দিতে পেরেছিল, যারা কিছুক্ষণ আগেও চিৎকার করছিল, নড়াচড়া করছিল আর দেখতে পাচ্ছিল; কীভাবে সে কসাইখানায় সেই ক্ষতবিক্ষত শরীরের রক্ত সহ্য করেছিল; কীভাবে তার নাক সেই পচা গন্ধ সহ্য করেছিল; আর অন্যের জখম হওয়া পচা অংশগুলো চিবিয়ে খাওয়ার সময় কেন তার ঘেন্না করেনি।
- প্লুটার্ক, অফ ইটিং অফ ফ্লেশ, ১৮৭৮ সালে উইলিয়াম ডাব্লিউ. গুডউইন কর্তৃক অনূদিত মোরালস, খণ্ড ৫-এ, ১, ১।
- মাত্র এক লোকমা মাংসের স্বাদের জন্য আমরা একটি প্রাণকে সূর্য আর আলো থেকে বঞ্চিত করি এবং সেই জীবন থেকে দূরে ঠেলে দিই যা উপভোগ করার জন্য তার জন্ম হয়েছিল। এরপর আমরা কল্পনা করি যে মৃত্যুর সময় তাদের সেই তীব্র চিৎকার কেবল অর্থহীন কিছু শব্দ মাত্র, যা আসলে আমাদের কাছে তাদের বাঁচার আকুতি আর করুণ মিনতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
- প্লুটার্ক, অফ ইটিং অফ ফ্লেশ, ১৮৭৮ সালে উইলিয়াম ডাব্লিউ. গুডউইন কর্তৃক অনূদিত মোরালস, খণ্ড ৫-এ, ১, ৪।
- আমাদের রান্নাঘরগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্ত, প্রাণ হারানো পশুদের আর্তনাদ কিংবা এখানে-ওখানে ঝুলে থাকা মৃত পশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চেয়ে ভয়ংকর আর জঘন্য আর কিছুই হতে পারে না। এটি দেখলে মনে হয় কোনো রূপকথার দৈত্যের আস্তানা, যেখানে ছিন্নভিন্ন মাথা আর হাত-পা চারদিকে ছড়িয়ে আছে।
- আলেকজান্ডার পোপ, ১৭১৩ সালের ২১ মে দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত; হাওয়ার্ড উইলিয়ামসের দ্য এথিক্স অফ ডায়েট: এ ক্যাটেনা অফ অথরিটিস ডিপ্রেকেটরি অফ দ্য প্র্যাকটিস অফ ফ্লেশ-ইটিং (লন্ডন: এফ. পিটম্যান, ১৮৮৩), পৃষ্ঠা ১৩২-এ উদ্ধৃত।
- মাংসহীন আহার সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং দর্শনের কঠিন পরিশ্রম সহ্য করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- পোরফিরি, গিলিয়ান ক্লার্ক কর্তৃক অনূদিত অন অ্যাবস্টিনেন্স ফ্রম কিলিং অ্যানিম্যালস (ব্লুমসবারি, ২০১৪), বই ১, অধ্যায় ২, ১।

- প্রত্যেককেই নিজের জন্য সঠিক পথ খুঁজে নিতে হয় এবং সেটি সবার জন্য আলাদা। আমার কাছে খাওয়া হলো দিনে তিনবার আপনার বিশ্বাসকে ঘোষণা করা। এই কারণেই সব ধর্মে আহার নিয়ে কিছু নিয়ম থাকে। দিনে তিনবার আমি নিজেকে মনে করিয়ে দিই যে আমি জীবনকে মূল্য দিই এবং অন্য কোনো প্রাণীকে কষ্ট দিতে বা হত্যা করতে চাই না। এই কারণেই আমি আমার খাদ্যাভ্যাস এভাবে বজায় রাখি।
- নাটালি পোর্টম্যান, দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড (৫ মে ২০১১)-এর সাথে সাক্ষাৎকার, ecorazzi.com “নাটালি পোর্টম্যান: 'খাওয়া আমার কাছে নিজের বিশ্বাস ঘোষণার মাধ্যম'”।

- মানুষের জন্ম হয়েছে নিরামিষ খাবার খাওয়ার জন্য। বাঘ আপনার ফল খেতে আসে না। তার জন্য নির্ধারিত খাবার হলো প্রাণীর মাংস। কিন্তু মানুষের খাবার হলো শাকসবজি, ফলমূল, দানা শস্য আর দুগ্ধজাত খাবার। তবে আপনি কীভাবে বলতে পারেন যে পশু হত্যা কোনো পাপ নয়?
- এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ, কেরি এস. ওয়াল্টারস এবং লিসা পোর্টমেস সম্পাদিত রিলিজিয়াস ভেজিটেরিয়ানবাদ: ফ্রম হেসিওড টু দ্য দালাই লামা (অ্যালবানি: স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক প্রেস, ২০০১), পৃষ্ঠা ৫৭।
- আজ মানুষের হাতে যেসব বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, তাতে খোদ মানবজাতিই ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। নিরামিষবাদের সাথে পারমাণবিক বা হাইড্রোজেন বোমার হয়তো অনেক তফাৎ মনে হতে পারে, কিন্তু আপনি যদি গভীরভাবে দেখেন তবে দেখবেন আমরা যদি হাইড্রোজেন বোমা থেকে বাঁচতে চাই তবে নিরামিষবাদের কোনো বিকল্প নেই। জীবনের প্রতিটি দিককে যদি আমরা এক করে দেখি, তবে একজন ব্যক্তির আহার আর অন্যদের প্রতি তার আচরণের মধ্যে এক গভীর যোগসূত্র পাওয়া যাবে। এটি কোনো কাল্পনিক বিষয় নয় যে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাব যে—হাইড্রোজেন বোমা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো সেই মানসিকতা থেকে মুক্তি পাওয়া যা এটি তৈরি করেছে; আর সেই মানসিকতা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো জীবনের সব রূপের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় রাখা। নিরামিষবাদ আসলে এরই অন্য নাম।
- রাজেন্দ্র প্রসাদ, "আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা এবং খাদ্যাভ্যাস" (৯ নভেম্বর ১৯৫৭ সালে বোম্বেতে আন্তর্জাতিক নিরামিষাশী সম্মেলনে উদ্বোধনী ভাষণ), স্পিচেস অফ ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ, প্রেসিডেন্ট অফ ইন্ডিয়া, ১৯৫৭-৫৮, পৃষ্ঠা ৯৬।
- প্রাণীকুলের কোনো সদস্যই পরিণত বয়সে পৌঁছানোর পর দুধ পান করে না, প্রাণীকুলের কোনো সদস্যই কখনও আমার কোনো ক্ষতি করেনি, আর তাই আমি লাল মাংস বা মাছ খাই না, আমাকে কোনো পনির দেবেন না, আমরা সবাই এই প্রাণীকুলেরই অংশ, আপনার ভাই-বোনদের সমুদ্রে শান্তিতে থাকতে দিন।
- প্রিন্স, অ্যানিম্যাল কিংডম গান থেকে।
- মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত নিম্নস্তরের প্রাণীদের এমন নির্মম বিনাশকারী হিসেবে থাকবে, ততক্ষণ সে কখনও সুস্বাস্থ্য বা শান্তির দেখা পাবে না। কারণ মানুষ যতদিন পশু হত্যা করবে, ততদিন তারা একে অপরকেও হত্যা করতে থাকবে। প্রকৃতপক্ষে, যে ব্যক্তি হত্যা আর কষ্টের বীজ বপন করে, সে কখনও আনন্দ আর ভালোবাসা পেতে পারে না।
- পিথাগোরাস। ওভিড কর্তৃক বর্ণিত, জন ওয়াইন-টাইসনের দ্য এক্সটেন্ডেড সার্কেল: এ ডিকশনারি অফ হিউম্যান থট (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ২৬০-এ উদ্ধৃত; এছাড়া ভেজিটেরিয়ান টাইমস, সংখ্যা ১৬৮ (আগস্ট ১৯৯১), পৃষ্ঠা ৪।
- পিথাগোরাসপন্থীদের শেখানো প্রায় সমস্ত ধর্মীয়, দার্শনিক এবং গাণিতিক তত্ত্বগুলো খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে ভারতেই প্রচলিত ছিল; এবং পিথাগোরাসপন্থীরা জৈন ও বৌদ্ধদের মতোই প্রাণ হত্যা এবং মাংস আহার থেকে বিরত থাকতেন।
- এইচ. জি. রলিনসন, ‘আর্লি কন্টাক্টস বিটুইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইউরোপ’। এ. এল. ব্যাশাম সম্পাদিত আ কালচারাল হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়াতে, পৃষ্ঠা ৪২৫-৪৪১। নয়াদিল্লি: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৭৫।
- ভাস্কর কাম্বলের দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিকস চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২, আইএসবিএন ৯৭৯৮৮৮৫৭৫০১৮৯ অকার্যকর অকার্যকর।
- গবাদি পশু হত্যা এবং মাংসাশী ভোজসভার সাথে যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করা মোটেও অপ্রাসঙ্গিক নয়। মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সাথে তাদের নৈতিকতার গভীর মিল থাকে। রক্তই রক্তকে ডাকে। এই প্রসঙ্গে কেউ যদি তার পরিচিত বিভিন্ন মানুষের কথা ভাবে, তবে তার মনে কোনো সন্দেহ থাকবে না যে সাধারণভাবে নিরামিষাশীদের অমায়িক ব্যবহার, দয়ালু স্বভাব এবং মনের স্থিরতা মাংসাশী আর রক্তপিপাসু ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট এবং উন্নত।
- এলিসে রেকলুস, অন ভেজিটেরিয়ানবাদ (১৯০১), জন পি. ক্লার্ক এবং ক্যামিল মার্টিন সম্পাদিত অ্যানার্কি, জিওগ্রাফি, মডার্নিটি: দ্য র্যাডিক্যাল সোশ্যাল থট অফ এলিসে রেকলুস (লেক্সিংটন বুকস, ২০০৪)-এ, পৃষ্ঠা ১৭৪।
- এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে যারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন তারা শুরুতেই মনে করেন নিরামিষাশী হওয়া মানে হলো এক ধরণের দারিদ্র্যের সাথে রসনা তৃপ্তি ত্যাগের এক কঠিন শপথ নেওয়া।
অবশ্য সময়ের সাথে তারা আবিষ্কার করেন যে প্রাণিজ পণ্য ছাড়াও সেখানে অবিশ্বাস্য রকমের সুস্বাদু, রঙিন এবং পুষ্টিকর খাবার রয়েছে যা আবিষ্কারের অপেক্ষায় আছে। সেখানে রয়েছে পৃথিবীর প্রতিটি জাতি আর গোষ্ঠীর খাবারের চমৎকার সব সম্ভাবনা। আমরা যে পরিচিত পুরনো খাবারগুলো হারাই তার চেয়ে নতুন যা অর্জন করি তার স্বাদই আমাদের বেশি অবাক করে; আর এটি এমন এক বিষয় যা আমাদের প্রত্যেককে নিজের অভিজ্ঞতায় আবিষ্কার করতে হয়।- টম রেগান, এম্পটি কেজেস: ফেসিং দ্য চ্যালেঞ্জ অফ অ্যানিম্যাল রাইটস, ষষ্ঠ অধ্যায়।
- আমি এক অভূতপূর্ব সুস্বাস্থ্য অনুভব করছি এবং আমার কর্মশক্তি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ইলা রেপিন, ভেজিটেরিয়ানস্কো ওবোজরেনি (নিরামিষাশী হওয়ার পর)।
- ওহে আমার নিরপরাধ ক্ষুদ্র প্রাণীরা, তোমাদের যদি বিচারবুদ্ধি থাকত আর তোমরা যদি কথা বলতে পারতে, তবে তোমরা আমাদের অভিশাপ দিতে! কারণ আমরাই তোমাদের মৃত্যুর কারণ, অথচ এমন পরিণতির জন্য তোমরা কী-ই বা করেছিলে?
- সেন্ট রিচার্ড অফ চিচেস্টার, অ্যালবান বাটলারের লাইভস অফ দ্য সেন্টস, খণ্ড ২, বার্নস অ্যান্ড ওটস, ১৯৫৬, পৃষ্ঠা ২৪। ডক্টর হলি রবার্টসের ভেজিটেরিয়ান খ্রিস্টান সেন্টস, পৃষ্ঠা ১৯১-এ উদ্ধৃত।
- সততার সাথে এটি স্বীকার করতেই হবে যে, ওজন বা পরিমাণের বিচারে উদ্ভিজ্জ খাবার, সঠিকভাবে নির্বাচন করা হলে পুষ্টিগুণে প্রাণিজ খাবারের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকে। আমি নিরামিষ এবং ফলমূল ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস সবার মধ্যে সাধারণভাবে প্রচলিত হতে দেখতে চাই এবং আমি বিশ্বাস করি যে ভবিষ্যতে তা হবেই।
- স্যার বেঞ্জামিন ওয়ার্ড রিচার্ডসন, সি. ডাব্লিউ. লিডবিটারের ভেজিটেরিয়ানিজম অ্যান্ড অকাল্টিজম (১৯১৩)।
- কী এক করুণ ব্যক্তি! তার করুণা করাটাও বড় অদ্ভুত, ওইসব নির্বোধদের মতো যারা দুনিয়ায় কোনো নিরপরাধ মুরগিকে মারতে পারবে না; কিন্তু কেউ মেরে তাদের সামনে দিলে তারা তা গোগ্রাসে গিলতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হয়।
- স্যামুয়েল রিচার্ডসন, ক্ল্যারিসা, খণ্ড ৪।

- আসন্ন নতুন বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ স্বেচ্ছায় খাদ্যশৃঙ্খলের নিচের দিকের খাবার বেছে নেবে যাতে অন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ক্যালরি পেতে পারে। পৃথিবীর সম্পদের এই বিশাল পুনর্বণ্টন ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে যা মানবজাতিকে এক নতুন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করবে। যখন ধনীরা দরিদ্রদের সাথে একই সমতলে এসে পুষ্টির চাহিদা মেটাবে, তখন মানুষের মধ্যে এক নতুন সচেতনতা তৈরি হবে। খাদ্যশৃঙ্খলের নিচের দিকের খাবার বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি দানা শস্য খাওয়ানো প্রাণীদের পুরো বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে মুরগির খামার থেকে শুকর পালন পর্যন্ত সবকিছুকে আমূল বদলে দিতে বাধ্য করবে। গরুর মাংসের এই বিশ্বব্যাপী বাজার ভেঙে পড়লে অন্য সব দানা শস্য খাওয়ানো মাংসও মানুষের খাবার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবে। গরুর মাংসের এই বাণিজ্যিক বাজার বন্ধ হলে ধনীরা মুক্তি পাবে আর দরিদ্ররা হয়তো জীবন ফিরে পাবে। গরুর মাংস ত্যাগ করে খাদ্যশৃঙ্খলের নিচের দিকের খাবার খেলে হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিসের প্রকোপ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- জেরেমি রিফকিন, বিয়ন্ড বিফ: দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য ক্যাটল কালচার (লন্ডন: থরসনস, ১৯৯৩), পৃষ্ঠা ২৯০।
- আমি এটি জেনে খুশি হলাম যে আপনি বীরের মতো এমন এক জীবনধারায় অটল আছেন যা একদিন আপনার শরীর ও মন উভয়ের জন্যই খুব উপকারি বলে প্রমাণিত হবে। এটি আপনার সুস্বাস্থ্য আর বিবেককে পরিষ্কার রাখবে। আপনি যদি শুকর বা রাজহাঁসের মতো আপনার সহ-প্রাণীদের ভক্ষণ করার মতো অস্বাভাবিক আর পৈশাচিক অভ্যাসে আসক্ত হতেন, তবে সুস্বাস্থ্য বা বিবেক কোনোটিই আপনার থাকত না।
- জোসেফ রিটসন, দ্য লেটারস অফ জোসেফ রিটসন (লন্ডন: উইলিয়াম পিকারিং, ১৮৩৩), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৯।
- মাংস খাওয়া নিঃসন্দেহে আমাদের শারীরিক কাঠামোকে সরাসরি শারীরিক তন্ত্রের দিকে নিবদ্ধ করে দেয়। এতে কোনো ভুল নেই। তবে আপনি যদি নিজের ভেতরের ক্ষমতাগুলো বিকশিত করতে চান এবং আপনার মনোযোগকে আরও সূক্ষ্ম ও সাবলীল বিষয়ে নিয়ে যেতে চান, তবে এই ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিমিত হতে হবে।
- জেন রবার্টস, দ্য আর্লি সেশনস: বুক ৪ অফ দ্য সেথ ম্যাটেরিয়াল, সেশন ১৮৫, পৃষ্ঠা ২৪৭।
- এটি আমাকে মানুষের খাবারের জন্য পশু এবং পাখি জবাইয়ের নিষ্ঠুর পদ্ধতির কথা উল্লেখ করতে বাধ্য করে। এই প্রাণীদের সাথে এমন আচরণ করা হয় যেন তাদের কোনো নিজস্ব অনুভূতি বা চেতনা নেই আর এই ধরণের মনোভাব প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোকে পুরোপুরি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করারই ফল। এর সরাসরি ফল হিসেবে, এমন সব রোগ দেখা দেয় যা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কোনো অতি প্রাচীন সমাজেও দেখা যেত।
- জেন রবার্টস, দ্য ওয়ে টুওয়ার্ড হেলথ, পৃষ্ঠা ১৯৭।

- যদিও আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষই সর্বভুক হিসেবে জীবন কাটায় এবং মাংসের পাশাপাশি শাকসবজি ও ফলমূল খাই, তবুও মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলো আসলে তৃণভোজীদের মতো, মাংসাশীদের মতো নয়। মাংসাশীদের হাত-পায়ে থাবা বা নখ থাকে; তৃণভোজীদের থাকে হাত বা খুর। মাংসাশীদের দাঁত ধারালো হয়; তৃণভোজীদের দাঁত প্রধানত চ্যাপ্টা (খাবার পেষার জন্য)। মাংসাশীদের অন্ত্র ছোট হয় (শরীরের দৈর্ঘ্যের ৩ গুণ); তৃণভোজীদের অন্ত্র লম্বা (শরীরের দৈর্ঘ্যের ১২ গুণ)। মাংসাশীরা হাঁপিয়ে শরীর ঠান্ডা করে; তৃণভোজীরা ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা করে। মাংসাশীরা জিভ দিয়ে লেহন করে জল পান করে; তৃণভোজীরা চুমুক দিয়ে জল পান করে। মাংসাশীরা নিজেদের শরীরে ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে, যেখানে তৃণভোজীরা তা তাদের খাদ্য থেকে পায়। অর্থাৎ মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলো তৃণভোজীদের মতো, মাংসাশীদের মতো নয়।
- ডক্টর উইলিয়াম সি. রবার্টস, টোয়েন্টি কোয়েশ্চেনস অন অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস।

- প্রাণীদের নিয়ে আপনার প্রশ্নটি বেশ জটিল। অবশ্যই, কেবল খাবারের জন্য নিরপরাধ প্রাণীদের হত্যা করা, যেখানে পুরো প্রকৃতি আমাদের জন্য রক্তহীন প্রচুর খাবারের জোগান দিয়ে রেখেছে, তা নীতিগতভাবে সমর্থন করা যায় না। কিন্তু জীবন বড়ই জটিল! উচ্চতর জগতের সব নিয়ম এই পৃথিবীতে এখনই নিয়ে আসা অসম্ভব। আমাদের পৃথিবী আর এর বাসিন্দারা এখনও উচ্চতর নিয়ম আর জীবনধারা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত নয়। তাই বর্তমানের এই রীতি আর পরিস্থিতি আমাদের সহ্য করে যেতে হচ্ছে, তবে একই সাথে এগুলোকে যতটা সম্ভব উন্নত আর মহৎ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে এই জটিল সমস্যার গোলকধাঁধায় যাতে আমরা হারিয়ে না যাই, সেজন্য আমাদের একটি নিয়ম মনে রাখতে হবে যা আমাদের পথপ্রদর্শক হবে: "দুটি মন্দের মধ্যে কম মন্দটি বেছে নিন; আর দুটি ভালোর মধ্যে বড় ভালোটি বেছে নিন।"
- হেলেনা রোরিখ, লেটারস ১, ২৫ মার্চ ১৯৩৫।
- তিনি পশুদের কথা চিন্তা করলেই যন্ত্রণায় শিউরে উঠতেন। তিনি যখন পশুদের চোখের দিকে তাকাতেন, সেখানে তিনি নিজের মতোই এক আত্মা দেখতে পেতেন যা কথা বলতে পারে না; কিন্তু তার চোখ যেন চিৎকার করে বলত: "আমি তোমার কী ক্ষতি করেছি? কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ?" তিনি শত শত বার দেখা খুব সাধারণ দৃশ্যগুলোও সহ্য করতে পারতেন না—ঝুড়িতে বন্দী একটি বাছুরের কান্না যার বড় বড় চোখগুলো বেরিয়ে আসছিল; নীলচে সাদা চোখ আর সাদা পাপড়ি ঘেরা সেই দৃশ্য, তার কপালে সাদা পশম আর রক্তবর্ণ নাক:—একজন কৃষক একটি মেষশাবককে উল্টো করে ঝুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যার চার পা একসাথে বাঁধা, সে তার মাথা তুলে রাখার চেষ্টা করছে আর শিশুর মতো আর্তনাদ করছে;—একটি ঝুড়িতে গাদাগাদি করে রাখা মুরগি;—দূরে রক্তাক্ত হয়ে মরতে থাকা একটি শুকরের আর্তনাদ;—রান্নাঘরের টেবিলে কাটা হতে থাকা একটি মাছ... মানুষ যেভাবে নিরপরাধ প্রাণীদের ওপর নামহীন অত্যাচার করে তা দেখে তাঁর বুক ফেটে যেত। পশুদের সামান্য বুদ্ধি থাকলে চিন্তা করুন এই পৃথিবীটা তাদের কাছে কতটা ভয়ংকর এক দুঃস্বপ্ন হতে পারত: যেখানে একদল ঠান্ডা মাথার অন্ধ আর বধির মানুষ তাদের গলা কাটছে, পেট চিরছে, নাড়িভুঁড়ি বের করছে, টুকরো টুকরো করে কাটছে, এমনকি জ্যান্ত রান্না করছে আর তাদের ছটফটানি দেখে হাসছে। আফ্রিকার নরখাদকদের মধ্যে কি এর চেয়ে জঘন্য কিছু আছে? যার মন মুক্ত, তার কাছে মানুষের কষ্টের চেয়ে প্রাণীদের কষ্ট দেখা অনেক বেশি অসহ্য। কারণ মানুষের ক্ষেত্রে অন্তত এটি স্বীকার করা হয় যে কষ্ট পাওয়াটা মন্দ এবং যে তা দেয় সে একজন অপরাধী। কিন্তু হাজার হাজার পশুকে প্রতিদিন কোনো অনুশোচনা ছাড়াই নিরর্থকভাবে হত্যা করা হয়। যদি কেউ এর প্রতিবাদ করে, তবে তাকে উপহাস করা হয়।—আর এটাই হলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। মানুষের যতো দুর্দশা, তার পেছনে কেবল এই একটি কারণই যথেষ্ট।
- রোঁমা রোলাঁ, জঁ-ক্রিস্তফ: জার্নি’স এন্ড, "দ্য বার্নিং বুশ" (১৯১১), গিলবার্ট কানান কর্তৃক অনূদিত (১৯১৩)।
- বাইবেল যেমন আমাদের সুবর্ণ নিয়ম শেখায়—“অন্যের সাথে তেমন ব্যবহার করো যেমনটি তুমি নিজের জন্য প্রত্যাশা করো”—তেমনি বাইবেলের পূর্ববর্তী গ্রন্থ মহাভারত (৫.৩৯.৫৭) ঠিক একই রকম সত্য কথা শেখায় এবং প্রায় হুবহু একই শব্দে। ভারতের যোগী এবং আধ্যাত্মিক সাধকরা এই শিক্ষাকে আরও গভীরে নিয়ে গিয়ে সব প্রাণীর প্রতি দয়া দেখানোর কথা বলেছেন—যার অর্থ হলো নিরামিষবাদ। প্রাণীদের খেয়ে তাদের প্রতি দয়ালু হওয়া অসম্ভব। অন্য কথায়, আপনি যদি না চান যে কেউ আপনার নাড়িভুঁড়ি খেয়ে ফেলুক, তবে অন্যের নাড়িভুঁড়ি আপনিও খাবেন না।
- স্টিভেন জে. রোজেন, "দ্য নিউ কার্নিভোরস", দ্য অগ্নি অ্যান্ড দ্য এক্সটাসি (লন্ডন: আর্কটোস, ২০১২), পৃষ্ঠা ১০০-এ।
- এটি থেকে পরিষ্কার হয় যে মানুষের দাঁত আর অন্ত্র ফলভোজী প্রাণীদের মতো হওয়ায় তাকে স্বাভাবিকভাবেই সেই শ্রেণিতে রাখা উচিত। কেবল শারীরতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণই এই মতকে সমর্থন করে না, বরং প্রাচীন সব নিদর্শনও এর স্বপক্ষে কথা বলে। সেন্ট জেরোম বলেন, “ডিকিয়ার্কাস তার গ্রিক পুরাতত্ত্ব বিষয়ক বইয়ে বর্ণনা করেছেন যে স্যাটার্নেরশাসনামলে যখন পৃথিবী নিজে থেকেই উর্বর ছিল, তখন কোনো মানুষ মাংস খেত না; বরং সবাই প্রকৃতিতে পাওয়া ফলমূল আর শাকসবজি খেয়ে বেঁচে থাকত।” ... এ থেকে বোঝা যায় যে আমি অনেক অনুকূল যুক্তি এখানে এড়িয়ে যাচ্ছি। কারণ যেহেতু শিকার করা মূলত মাংসাশী প্রাণীদের লড়াইয়ের বিষয় এবং ফলভোজী প্রাণীরা নিজেদের মধ্যে শান্তিতে বাস করে, তাই মানুষ যদি এই দ্বিতীয় শ্রেণির হতো তবে প্রাকৃতিক অবস্থায় জীবন ধারণ করা তাদের জন্য অনেক সহজ হতো এবং সেটি ছেড়ে আসার প্রয়োজনও কম পড়ত।
- জাঁ জ্যাক রুশো, ডিসকোর্স অন ইনইকুয়ালিটি (১৭৫৪), ডোনাল্ড এ. ক্রেস কর্তৃক অনূদিত (হ্যাকেট পাবলিশিং, ১৯৯২), নোট ৫।
- মাংসের প্রতি শিশুদের অনীহা এটিই প্রমাণ করে যে মাংসের স্বাদ মানুষের জন্য স্বাভাবিক নয়; তাদের পছন্দ হলো উদ্ভিজ্জ খাবার, যেমন দুধ, পিঠা, ফলমূল ইত্যাদি। তাদের চরিত্রের খাতিরে এই স্বাভাবিক রুচি বদলে শিশুদের মাংসাশী বানানোর আগে সাবধান হওয়া উচিত; কারণ এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে যারা বেশি মাংস খায় তারা সাধারণত অন্যদের চেয়ে বেশি হিংস্র আর নিষ্ঠুর হয়; এটি সব যুগে আর সব জায়গায় স্বীকৃত। ইংরেজরা তাদের নিষ্ঠুরতার জন্য পরিচিত যেখানে গৌরেরা হলো সবচেয়ে বিনম্র মানুষ। সব আদিম মানুষই নিষ্ঠুর হয় এবং তাদের প্রথাগুলোও সেই দিকেই ঝোঁকে না; তাদের নিষ্ঠুরতা আসলে তাদের খাবারেরই ফল। তারা শিকার করতে যাওয়ার মতোই যুদ্ধে যায় এবং মানুষের সাথে এমন ব্যবহার করে যেন তারা কোনো ভাল্লুক। এমনকি ইংল্যান্ডে কসাইদের আদালতে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হয় না, ঠিক যেমন সার্জনদেরও করা হয় না। বড় অপরাধীরা রক্ত খেয়ে খুনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে। হোমার তাঁর মাংসাশী সাইক্লপসকে এক ভয়ংকর মানুষ হিসেবে দেখিয়েছেন, যেখানে পদ্মভোজীরা বা লোটাস-ইটার্সরা এতটাই চমৎকার ছিল যে যারা তাদের সাথে ব্যবসা করতে যেত তারা নিজের দেশের কথা ভুলেই সেখানে থেকে যেত।
- জাঁ জ্যাক রুশো, এমিল, অর অন এডুকেশন (১৭৬২), বারবারা ফক্সলে কর্তৃক অনূদিত, দ্বিতীয় খণ্ড।
- নিরামিষ পদগুলো মাংসের পদের চেয়ে কম সুস্বাদু হলেও, যদিও এটি নিশ্চিত নয় যে সেগুলো সুস্বাদু কি না, আমাদের জিভের নির্দিষ্ট কিছু স্বাদের লোকসানকে সেই ত্যাগের সাথে তুলনা করা উচিত যা ওই প্রাণীদের করতে হয়। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের জীবন বিসর্জন দিতে হয় এবং জীবনের সব স্বাদ আর সম্ভাবনা থেকে তারা বঞ্চিত হয়। সত্যি বলতে আমরা যেসব প্রাণীকে খাই, তাদের জন্য মৃত্যু হয়তো বড় কোনো অমঙ্গল নয়। তাদের খুব অল্প জীবন কাটাতে হয় এক ভয়াবহ আর বর্বর পরিবেশে এবং সহ্য করতে হয় চরম অত্যাচার। এই সব প্রাণীর অনেকের কাছেই মৃত্যু হলো এক ধরণের মুক্তি। নিরামিষবাদ ছড়িয়ে পড়লে মানুষকে যতটুকু ‘কষ্ট’ সহ্য করতে হবে তার সাথে যদি সেই পশুপাখিদের কষ্টের তুলনা করা হয়, তবে যে কেউ যৌক্তিক পথটিই বেছে নেবে। যদি আপনি না জানতেন যে আপনি মানুষ হিসেবে জন্মাবেন নাকি মানুষের শিকার হওয়া কোনো পশু হিসেবে, তবে আপনি অবশ্যই এমন এক পৃথিবী চাইতেন যেখানে নিরামিষবাদ বেশি প্রচলিত এবং কোনো পশুপালন শিল্প নেই। একজন মানুষের যা হারানোর ভয় থাকে তা একজন গরু, শুকর বা মেষশাবকের তুলনায় একেবারেই সামান্য।
- মার্ক রোল্যান্ডস, অ্যানিম্যাল রাইটস: মোরাল থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস (পালগ্রেভ ম্যাকমিলান, ২য় সংস্করণ ২০০৯), পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫।
- একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে নিরামিষাশীরা খুব নরম আর শান্ত স্বভাবের মানুষ যারা এমনকি একটি মাছিকেও মারবে না। তারা হয়তো মাছি মারবে না, সে সম্পর্কে আমি বলতে পারছি না। তবে মাছির প্রতি তাদের সেই দয়া মানুষের ক্ষেত্রে খাটছে বলে মনে হয় না। নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসের পক্ষে হয়তো সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো সেই তেজ আর লড়াই করার মানসিকতা যা এটি মানুষের মধ্যে তৈরি করে।
- বার্ট্রান্ড রাসেল, "নিরামিষাশীদের হিংস্রতা সম্পর্কে" (১৩ এপ্রিল ১৯৩২), মোর্টালস অ্যান্ড আদারস (রুটলেজ ক্লাসিকস, ২০০৯), পৃষ্ঠা ৭৭–৭৮।
- কঠোর নিরামিষাশী, যারা প্রাণিজ খাবার খুব সামান্যই খান বা একদমই খান না এবং যারা নিয়মিত দুগ্ধজাত খাবার খান (ল্যাক্টো-ভেজিটেরিয়ান), তাদের রক্তচাপ সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম থাকে। বয়স, লিঙ্গ এবং ওজনের প্রভাবগুলো সমন্বয় করার পরেও এই চিত্র দেখা যায়। নিরামিষাশী এবং আমিষাশীদের রক্তচাপের এই পার্থক্যের খাদ্যতালিকাগত ভিত্তি খুঁজে বের করার জন্য কিছু নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। মাংস এবং ডিমের বদলে উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ করা; প্রোটিনের মোট পরিমাণ বাড়ানো কিংবা সয়া প্রোটিনের বদলে দুগ্ধজাত প্রোটিন ব্যবহার করা; সম্পৃক্ত, মনো-অসম্পৃক্ত এবং পলি-অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের অদলবদল করা; এবং শর্করা ও চর্বির পরিমাণে পরিবর্তন আনা এসবের কোনোটিই রক্তচাপের ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলেনি। তাই দেখা যাচ্ছে যে প্রাণিজ খাবার, শর্করা কিংবা বিভিন্ন ধরণের চর্বি নিরামিষাশীদের এই নিম্ন রক্তচাপের প্রকৃত কারণ নয়। বরং, খুব সামান্য পরিমাণে প্রাণিজ খাবার খাওয়া এই সংকেত দেয় যে তারা উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে অন্যান্য আরও অনেক উপকারী পুষ্টি উপাদান প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করছেন।
- ফ্র্যাঙ্ক এম স্যাক্স এবং এডওয়ার্ড এইচ কাস: "লো ব্লাড প্রেশার ইন ভেজিটেরিয়ানস: ইফেক্টস অফ স্পেসিফিক ফুডস অ্যান্ড নিউট্রিয়েন্টস"। দ্য আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন। ৪৮ (৩): ৭৯৫–৮০০। ১৯৮৮। ডিওআই:10.1093/ajcn/48.3.795। পিএমআইডি 3414588।
- আমি একে একটি নৈতিক নীতি বলি, কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে নিরামিষবাদের মূল উদ্দেশ্য হলো মানবিকতা। খাদ্য সংস্কারের আলোচনায় স্বাস্থ্যবিধি এবং মিতব্যয়িতা—উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই পুরো আন্দোলনের পেছনে যে অনুভূতিটি কাজ করে এবং একে প্রাণবন্ত করে তোলে, তা হলো কসাইখানায় প্রাণী হত্যার প্রতি মানুষের সহজাত ঘৃণা। বিশেষ করে উন্নত স্তরের প্রাণীদের হত্যার প্রতি এই ঘৃণা বেশি কাজ করে, যারা মানুষের মতোই সংবেদনশীল এবং মানুষের অনেক কাছাকাছি।
- হেনরি এস সল্ট, দ্য হিউম্যানিটিজ অফ ডায়েট, ম্যানচেস্টার: দ্য ভেজিটেরিয়ান সোসাইটি, ১৯১৪।
- আমি নিরামিষবাদের স্বপক্ষে কোনো অতিরঞ্জিত বা কাল্পনিক দাবি করছি না। কেউ কেউ যেমনটা মনে করেন, এটি মোটেও মানুষের সব সমস্যার কোনো "সর্বরোগহর ঔষধ" নয়। বরং এটি অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত একটি বিষয়—এটি আধুনিক মানবতাবাদী আন্দোলনের একটি অপরিহার্য অংশ। এই নিরামিষবাদ ছাড়া মানবতাবাদী আন্দোলনের কোনো প্রকৃত অগ্রগতি হতে পারে না। মাংস আহার যেমন অতীত দিনের খাদ্যাভ্যাস ছিল, তেমনি নিরামিষবাদ হলো ভবিষ্যতের আদর্শ খাদ্যাভ্যাস।
- হেনরি এস সল্ট, দ্য হিউম্যানিটিজ অফ ডায়েট, ম্যানচেস্টার: দ্য ভেজিটেরিয়ান সোসাইটি, ১৯১৪।
- পশু জবাই করার সপক্ষে অজুহাত হিসেবে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, একদম জন্ম না নেওয়ার চেয়ে জন্মানো এবং তারপর জবাই হওয়া তাদের জন্য ভালো। আসলে যদি আমরা একবার মেনে নিই যে পৃথিবীতে আসাই কোনো প্রাণীর জন্য একটি "সুযোগ" বা "সুবিধা", তবে এই চুক্তির কথা বলে যেকোনো ধরণের খারাপ আচরণকেই জায়েজ করা সম্ভব। তাছাড়া এই যুক্তিটি তো মানুষের ক্ষেত্রেও খাটে। অতীতে দাস প্রথার ব্যবসায়ীরাও ঠিক এই একই অজুহাত দিত। মাংস খাওয়ার জন্য যেমন যুক্তি দেওয়া হয়, দাস প্রথা টিকিয়ে রাখার পেছনেও এটি যৌক্তিকভাবে ঠিক একই ধরণের যুক্তি। এই যুক্তি অনুযায়ী বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের সাথে যেকোনো আচরণ করতে পারেন, কারণ তাদের জীবন দেওয়ার বিনিময়ে সন্তানরা এমন ঋণে আবদ্ধ যা কোনো কাজ দিয়েই শোধ করা সম্ভব নয়। আমরা নরমাংসভোজীদেরও দোষ দিতে পারি না, যদি তারা খাওয়ার জন্য মানুষ লালন-পালন করত, যেমনটা প্রাচীন পেরুর বাসিন্দারা করত বলে শোনা যায়।
- হেনরি এস সল্ট, দ্য হিউম্যানিটিজ অফ ডায়েট, ম্যানচেস্টার: দ্য ভেজিটেরিয়ান সোসাইটি, ১৯১৪।
- গ্রিনহাউস গ্যাসের শতকরা ২৮ ভাগ আসে মাংস খাওয়া এবং গবাদি পশু লালন-পালন থেকে, তাই আমরা এক্ষেত্রে আরও ভালো ভূমিকা রাখতে পারি। ভাগ্যক্রমে আমরা এখন জানি যে প্রোটিন পাওয়ার আরও অনেক উপায় আছে। আপনি যদি নিরামিষাশী হন, তবে শাকসবজি থেকেই আপনার প্রয়োজনীয় প্রোটিন পেতে পারেন। আমি অনেক বডি বিল্ডারকে দেখেছি যারা নিরামিষাশী এবং তারা যথেষ্ট শক্তিশালী ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।
- আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার, "আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার: মাংস খাওয়া বন্ধ করুন এবং পৃথিবী বাঁচান", বিবিসি নিউজবিট ওয়েবসাইট (৮ ডিসেম্বর ২০১৫)।
- আমরা এখন একে অপরকে খাওয়াকে যেমন ভয়াবহ বা জঘন্য মনে করি, একদিন আমরা প্রাণীদের খাওয়াকেও ঠিক তেমন ভয়াবহ বলেই মনে করব।
- রোজ স্কট, মিসলেনিয়াস নোটস, স্কট পেপারস; ব্রুস স্কেটসের লেখা এ নিউ অস্ট্রেলিয়া: সিটিজেনশিপ, র্যাডিকালিজম অ্যান্ড দ্য ফার্স্ট রিপাবলিক (ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৭), পৃষ্ঠা ২৪৭।
- সোশন আমাকে বলতেন কেন পিথাগোরাস প্রাণিজ খাবার থেকে দূরে থাকতেন এবং কেন পরবর্তী সময়ে সেক্সটিয়াসও একই কাজ করেছিলেন। উভয়ের ক্ষেত্রেই কারণগুলো ভিন্ন ছিল, তবে তা ছিল অত্যন্ত মহৎ। সেক্সটিয়াস বিশ্বাস করতেন যে রক্তপাত ছাড়াই মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট খাবার রয়েছে। তিনি মনে করতেন যখনই আনন্দের জন্য পশু জবাই করা হয়, তখনই মানুষের মধ্যে নিষ্ঠুরতার অভ্যাস তৈরি হয়। এছাড়া তিনি মনে করতেন যে আমাদের বিলাসিতার উৎসগুলো কমিয়ে আনা উচিত। তার মতে, বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস সুস্বাস্থ্যের পরিপন্থী এবং আমাদের শারীরিক গঠনের জন্য তা অনুপযুক্ত। অন্যদিকে পিথাগোরাস মনে করতেন যে সমস্ত জীব একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আত্মার এক শরীর থেকে অন্য শরীরে স্থানান্তরের একটি ব্যবস্থা রয়েছে।
- সেনেকা দ্য ইয়ঙ্গার, মোরাল লেটারস টু লুসিলিয়াস, ১০৮, ১৭-১৯।
- জন কোলট্রেন যখন আমার কাছে এলেন, তাকে তার সমসাময়িকদের থেকে একদম আলাদা মনে হয়েছিল। তিনি ছিলেন মার্জিত, নম্র এবং বিনয়ী। এর প্রায় ছয় মাস আগে তিনি মাদক এবং মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি নিরামিষাশী হয়ে উঠেছিলেন এবং রামকৃষ্ণের বই পড়তে শুরু করেছিলেন।
- রবিশঙ্কর, রাগমালা।

- আমি পঁচিশ বছর ধরে একজন নরমাংসভোজী ছিলাম। বাকি জীবন আমি নিরামিষাশী হিসেবে কাটিয়েছি। শেলিই প্রথম আমার খাদ্যাভ্যাসের বর্বরতার প্রতি আমার চোখ খুলে দিয়েছিলেন।
- জর্জ বার্নার্ড শ
- আমি কেন শোভনভাবে খাবার খাই, সেই কৈফিয়ত আপনারা কেন চাইছেন? আমি যদি প্রাণীদের ঝলসানো মৃতদেহ খেয়ে বেঁচে থাকতাম, তবে আপনারা আমাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করতে পারতেন। আমি কেন নোংরা এবং অমানবিক হব? কসাইখানার সেই পাইকারি বিভীষিকা এবং অবমাননার সহযোগী আমি কেন হতে যাব?
- জর্জ বার্নার্ড শ, সাক্ষাৎকার "হোয়াট ভেজিটেরিয়ানিজম রিয়েলি মিনস: এ টক উইথ মিস্টার বার্নার্ড শ", ভেজিটেরিয়ান (১৫ জানুয়ারি ১৮৯৮), এ. এম. গিবস সম্পাদিত শ: ইন্টারভিউস অ্যান্ড রিকালেকশনস বইয়ে পুনর্মুদ্রিত, ১৯৯০, পৃষ্ঠা ৪০১।
- আমি পঁচিশ বছর ধরে একজন নরমাংসভোজী ছিলাম। বাকি জীবন আমি নিরামিষাশী হিসেবে কাটিয়েছি। শেলিই প্রথম আমার খাদ্যাভ্যাসের বর্বরতার প্রতি আমার চোখ খুলে দিয়েছিলেন।
- জর্জ বার্নার্ড শ, ফ্র্যাঙ্ক হ্যারিসের সাময়িকী দ্য ক্যানডিড ফ্রেন্ড (মে ১৯০১)-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকার "হু আই অ্যাম, অ্যান্ড হোয়াট আই থিঙ্ক", সিক্সটিন সেলফ স্কেচেস, ১৯৪৯, পৃষ্ঠা ৫৩-এ পুনর্মুদ্রিত; ডেসমন্ড কিং-হেলের শেলি: হিজ থট অ্যান্ড ওয়ার্ক, ১৯৮৪, পৃষ্ঠা ৪২।
- আমাকে বলা হয়েছিল যে আমার খাদ্যাভ্যাস এতটাই নিম্নমানের যে আমি আমার ভেঙে যাওয়া এবং অস্ত্রোপচার করা হাড়গুলো জোড়া লাগাতে পারব না। তাই আমি কেবল একটি এক্স-রে করালাম এবং দেখুন! আমার হাড়গুলো একদম চমৎকারভাবে জোড়া লেগেছে এবং সেগুলো দেখতে এত সুন্দর সাদা যে আমি নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, আমি যদি মারা যাই তবে আমার হাড় দিয়ে যেন একটি গ্লাভ স্ট্রেচার তৈরি করে আপনাকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পাঠানো হয়।
- জর্জ বার্নার্ড শ, লেটার টু মিসেস প্যাট্রিক ক্যাম্পবেল।
- একজন আমিষাশী মানুষের গড় আয়ু হলো ৬৩ বছর। আমি এখন ৮৫ বছরের কাছাকাছি এবং এখনও আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করছি। আমি যথেষ্ট দীর্ঘ সময় বেঁচেছি এবং এখন মরার চেষ্টা করছি; কিন্তু আমি কোনোভাবেই তা পারছি না। কেবল একটি বিফ-স্টেক খেলেই আমার দফা রফা হয়ে যেত; কিন্তু আমি কোনোভাবেই সেটি গিলতে পারি না। আমি চিরকাল বেঁচে থাকার ভয়ে আতঙ্কিত। নিরামিষবাদের এটাই একমাত্র অসুবিধা।
- জর্জ বার্নার্ড শ, আমেরিকান ভেজিটেরিয়ান।
- আমার খাবার মানুষের মতো নয়; আমি আমার ক্ষুধা মেটানোর জন্য ভেড়া বা ছাগলছানা ধ্বংস করি না; ওক ফল এবং বুনো ফলই আমার বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগায়। আমার সঙ্গীও হবে আমার মতোই স্বভাবের এবং সে একই ধরণের খাবারে সন্তুষ্ট থাকবে। আমরা শুকনো পাতার বিছানায় ঘুমাব; সূর্য মানুষের মতো আমাদের ওপরও আলো দেবে এবং আমাদের খাবার পাকিয়ে তুলবে। আমি আপনার সামনে যে চিত্রটি তুলে ধরছি তা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং মানবিক।
- ম্যারি শেলি, ফ্রাঙ্কেনস্টাইন (১৮১৮), ১৭ অধ্যায়ে ভিক্টর ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের প্রতি দানবের উক্তি।
- রান্নার মাধ্যমে মৃত পশুকে নরম করা এবং এর আসল রূপ আড়াল করার পরেই কেবল এটি চিবানো বা হজম করার যোগ্য হয়ে ওঠে। নতুবা এর রক্তাক্ত রস এবং কাঁচা বিভীষিকা দেখলে মানুষের মধ্যে অসহনীয় ঘৃণা আর বিতৃষ্ণার উদ্রেক হতো।
- পার্সি বিশি শেলি, এ ভিন্ডিকেশন অফ ন্যাচারাল ডায়েট (১৮১৩), লন্ডন: এফ. পিটম্যান, এবং ম্যানচেস্টার: জে. হেউড, ১৮৮৪, পৃষ্ঠা ১৩।
- এমন কোনো শারীরিক বা মানসিক রোগ নেই, যা নিরামিষ খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি পান করার মাধ্যমে উপশম করা সম্ভব নয়, যদি পরীক্ষাটি সঠিকভাবে করা হয়। শরীরের দুর্বলতা ধীরে ধীরে শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং অসুস্থতা সুস্বাস্থ্যে পরিণত হয়। উন্মাদনা বা পাগলামির মতো ভয়াবহ বিষয়গুলো—তা শিকলবন্দী উন্মাদের চিৎকার হোক কিংবা বদমেজাজের কারণে পারিবারিক জীবনকে নরকে পরিণত করা অযৌক্তিক আচরণই হোক সবই শান্ত এবং সহনশীল মেজাজে পরিবর্তিত হয়। এটি সমাজের ভবিষ্যতের নৈতিক পরিবর্তনের একটি নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি হতে পারে।
- পার্সি বিশি শেলি, এ ভিন্ডিকেশন অফ ন্যাচারাল ডায়েট (১৮১৩), লন্ডন: এফ. পিটম্যান, এবং ম্যানচেস্টার: জে. হেউড, ১৮৮৪, পৃষ্ঠা ১৮।
- মানবজাতির জন্য আমাদের যাবতীয় পবিত্র আকাঙ্ক্ষার দোহাই দিয়ে আমি তাদের অনুরোধ করছি যারা সুখ এবং সত্যকে ভালোবাসেন, তারা যেন অন্তত একবার এই নিরামিষ খাদ্য ব্যবস্থাকে পরখ করে দেখেন।
- পার্সি বিশি শেলি, এ ভিন্ডিকেশন অফ ন্যাচারাল ডায়েট (১৮১৩), লন্ডন: এফ. পিটম্যান, এবং ম্যানচেস্টার: জে. হেউড, ১৮৮৪, পৃষ্ঠা ১৮।
- নিরীহ প্রাণীদের জবাই করার ফলে মানুষের মধ্যে সেই উন্মাদনা আর জঘন্য উল্লাসের জন্ম হয়, যা লক্ষ মানুষের গণহত্যার বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের সংবাদ পাওয়ার সময় দেখা যায়। যদি প্রাণিজ খাবার গ্রহণ মানুষের সমাজের শান্তির পরিপন্থী হয়, তবে এই দুর্ভাগা শিকারদের প্রতি এমন অন্যায় এবং বর্বরতা কতটা অযৌক্তিক। মানুষের কৌশলে তাদের এই পৃথিবীতে আনা হয় যাতে তারা দাসত্ব আর অসুস্থতার একটি সংক্ষিপ্ত ও শোচনীয় জীবন অতিবাহিত করে এবং পরিশেষে তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন করা হয় ও তাদের সামাজিক অনুভূতিগুলোকে পদদলিত করা হয়।
- পার্সি বিশি শেলি, "অন দ্য ভেজিটেবল সিস্টেম অফ ডায়েট" (আনুমানিক ১৮১৫; ১৯২০-এর দশকে প্রকাশিত), কমপ্লিট ওয়ার্কস, রজার ইংপেন এবং ওয়াল্টার ই. পেক সম্পাদিত, খণ্ড ৬ (নিউ ইয়র্ক: গর্ডিয়ান প্রেস, ১৯৬৫), পৃষ্ঠা ৩৪৩-৩৪৪।
- একজন নরমাংসভোজী বাইরে যায়, অন্য একজন মানুষকে শিকার করে, তাকে ধাওয়া করে এবং হত্যা করে। এরপর সে তাকে রান্না করে ঠিক সেভাবেই খায় যেভাবে সে অন্য কোনো শিকারকে খেত। মাংস খাওয়ার স্বপক্ষে এমন একটিও যুক্তি বা তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়, যা সমান জোরালোভাবে নরমাংসভোজের স্বপক্ষে দেওয়া যায় না।
- হার্বার্ট এম শেলটন, সুপিরিয়র নিউট্রিশন, ফিলিপ ক্যাপলোর টু চেরিশ অল লাইফ (রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক: দ্য জেন সেন্টার, ১৯৮১), পৃষ্ঠা ১৩৪।

- আমি স্বাস্থ্যের কারণে একজন নিরামিষাশী—সেই স্বাস্থ্যটি আসলে মুরগির।
- আইজ্যাক বাশভিস সিঙ্গার, রিচার্ড এইচ শোয়ার্টজের জুডাইজম অ্যান্ড ভেজিটেরিয়ানিজম (নিউ ইয়র্ক: ল্যান্টার্ন বুকস, ২০০১), পৃষ্ঠা ১৭৭।
- হারম্যান যতবারই পশুপাখি বা মাছের জবাই প্রত্যক্ষ করেছেন, তার মনে সবসময় একই চিন্তা এসেছে: অন্যান্য প্রাণীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সব মানুষই আসলে নাৎসিদের মতো। মানুষ যেভাবে অন্য প্রজাতির প্রাণীদের সাথে নিজের খুশিমতো যা ইচ্ছা করতে পারে, তা চরম বর্ণবাদী তত্ত্বেরই একটি উদাহরণ। এটি সেই নীতিকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে জোর যার মুলুক তার।
- আইজ্যাক বাশভিস সিঙ্গার, এনিমিজ, এ লাভ স্টোরি (নিউ ইয়র্ক: ফারার, স্ট্রস অ্যান্ড জিরোক্স, ১৯৭২), পৃষ্ঠা ২৫৭।
- প্রাণীদের হত্যা করার একমাত্র যুক্তি হলো মানুষের হাতে ছুরি বা কুড়াল রাখার ক্ষমতা আছে এবং তারা এতটাই চতুর ও স্বার্থপর যে নিজেদের মঙ্গলের কথা ভেবে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। ওল্ড টেস্টামেন্টে এমন অনেক অংশ আছে যেখানে মাংস খাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষাকে মন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বাইবেল অনুযায়ী, মানুষের তথাকথিত স্বভাবের সাথে আপস করেই কেবল ঈশ্বর মানুষকে মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।
- আইজ্যাক বাশভিস সিঙ্গার, ডাডলি গিলের লেখা ভেজিটেরিয়ানিজম: এ ওয়ে অফ লাইফ (নিউ ইয়র্ক: বার্নস অ্যান্ড নোবল, ১৯৮১) বইয়ের মুখবন্ধ থেকে।
- নিরামিষবাদই আমার ধর্ম। আজ থেকে প্রায় তেইশ বছর আগে আমি পুরোপুরি নিরামিষাশী হয়েছি। তার আগে আমি বারবার চেষ্টা করতাম, কিন্তু তা সবসময় স্থায়ী হতো না। অবশেষে, ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমি মনস্থির করি এবং তারপর থেকে আমি নিরামিষাশী হিসেবেই আছি। ... এটি আসলে পৃথিবীর বর্তমান আচরণের বিরুদ্ধে আমার একটি প্রতিবাদ। নিরামিষাশী হওয়া মানে হলো দ্বিমত পোষণ করা—আজকের দিনে যেভাবে সব কিছু চলছে তার সাথে একমত না হওয়া। পারমাণবিক শক্তি, অনাহার, নিষ্ঠুরতা এইসবের বিরুদ্ধে আমাদের একটি শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত। নিরামিষবাদই হলো আমার সেই বলিষ্ঠ অবস্থান।
- আইজ্যাক বাশভিস সিঙ্গার, স্টিভেন রোজেনের লেখা ফুড ফর দ্য স্পিরিট: ভেজিটেরিয়ানিজম অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়নস (বালা বুকস, ১৯৮৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০৮৯৬৪৭০২২৪ অকার্যকর অকার্যকর) বইয়ের ভূমিকা থেকে।
- নিরামিষাশী হওয়া কেবল একটি প্রতীকী আচরণ নয়। এটি চারপাশের নিষ্ঠুরতা এবং রক্তপাত থেকে নিজেকে আড়াল করার বা নিজেকে পবিত্র রেখে দায়বদ্ধতা এড়িয়ে চলার কোনো চেষ্টাও নয়। বরং নিরামিষাশী হওয়া হলো একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ, যা মানুষ নয় এমন প্রাণীদের হত্যা করা এবং তাদের ওপর অবর্ণনীয় কষ্ট দেওয়া বন্ধ করতে সাহায্য করে।
- পিটার সিঙ্গার, অ্যানিম্যাল লিবারেশন (র্যান্ডম হাউস, ২০১৫; মূল প্রকাশ ১৯৭৫), অধ্যায় ৪।
- যারা মানুষের কল্যাণ এবং পরিবেশ রক্ষার কথা বলেন, কেবল সেই কারণেই তাদের নিরামিষাশী হওয়া উচিত। এর ফলে পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের মানুষদের খাওয়ানোর জন্য শস্যের জোগান বাড়বে, দূষণ কমবে, পানি ও শক্তি সাশ্রয় হবে এবং বনভূমি উজাড় হওয়া বন্ধ হবে। তাছাড়া, যেহেতু মাংসের চেয়ে নিরামিষ আহার অনেক বেশি সাশ্রয়ী, তাই তারা দুর্ভিক্ষের ত্রাণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা অন্য যেকোনো জরুরি সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে বেশি অর্থ ব্যয় করার সুযোগ পাবেন। ... যখন আমিষাশীরা বলেন যে "মানুষের সমস্যাই সবার আগে", তখন আমার মনে প্রশ্ন জাগে যে তারা মানুষের জন্য আসলে এমন কী করছেন যার জন্য তাদের খামারের প্রাণীদের প্রতি এই নিষ্ঠুর শোষণ এবং অপচয়কে সমর্থন করে যেতে হবে।
- পিটার সিঙ্গার, অ্যানিম্যাল লিবারেশন (র্যান্ডম হাউস, ২০১৫; মূল প্রকাশ ১৯৭৫), অধ্যায় ৬।
- আমরা সাধারণত প্রাণীদের আচরণকে আমাদের আচরণের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করি না এবং এটিই সঠিক। উদাহরণস্বরূপ, একটি বিড়াল ইঁদুরকে ছিঁড়ে ফেলছে দেখে আমরা নিজেরাও বিড়ালকে ছিঁড়ে ফেলাকে ন্যায্য বলতে পারি না। মাংসাশী মাছের অন্য মাছকে মারার কোনো বিকল্প নেই, তারা প্রবৃত্তিগতভাবেই এটি করে থাকে। কিন্তু মানুষের সামনে মাছ বা অন্যান্য প্রাণী খাওয়া থেকে বিরত থাকার সুযোগ আছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এমন যুক্তি দিতে পারেন যে প্রকৃতিতে শিকারি আর শিকারের অস্তিত্ব থাকাটা স্বাভাবিক এবং এই নিয়মে আমাদের অংশ নেওয়াতে কোনো ভুল নেই। কিন্তু "প্রকৃতির দোহাই" দেওয়া এই যুক্তিটি সব ধরণের অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে পারে, যার মধ্যে নারীদের ওপর পুরুষের আধিপত্য কিংবা অসুস্থ ও দুর্বলদের অবহেলা করার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত।
- পিটার সিঙ্গার, দ্য এথিকস অফ হোয়াট উই ইট: হোয়াই আওয়ার ফুড চয়েসেস ম্যাটার।
- কসাইয়ের দোকানে পাওয়া মাংস যে জীবনের জন্য খুব জরুরি, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে এটি পরিষ্কার যে শস্যদানা এবং অন্যান্য সবজির সাথে দুধ, পনির ও মাখনের সাহায্য নিয়ে মাংস ছাড়াই একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যকর এবং শক্তিশালী খাদ্য তৈরি করা সম্ভব।
- অ্যাডাম স্মিথ, দ্য ওয়েলথ অফ নেশনস (১৭৭৬), ৫ম খণ্ড, ২য় অধ্যায়, ২য় অংশ।
- আপনি কি বিশ্বাস করেন না যে আত্মা প্রথমে এক শরীরে এবং পরে অন্য শরীরে স্থানান্তরিত হয় এবং আমাদের মৃত্যু কেবল আবাসের পরিবর্তন মাত্র? আপনি কি বিশ্বাস করেন না যে গবাদি পশু, বন্য প্রাণী বা জলের প্রাণীদের মধ্যে এমন কারো আত্মা থাকতে পারে যে একসময় মানুষ ছিল? আপনি কি মনে করেন না যে এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই চিরতরে ধ্বংস হয় না, কেবল তার স্থান বদলায়? আর প্রাণীদের আত্মার উন্নতির জন্যও কি কোনো নির্দিষ্ট পথ নেই, যেমনটা মহাকাশীয় বস্তুগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়? অনেক মহান ব্যক্তি এই ধারণার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন; তাই নিজের মতামতে অটল থেকেও বিষয়টি নিয়ে একটু ভেবে দেখুন। যদি এই তত্ত্বটি সত্য হয়, তবে মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকাটা পবিত্রতার লক্ষণ; আর যদি এটি মিথ্যাও হয়, তবে এটি অন্তত মিতব্যয়িতা। এমন বিশ্বাস রাখলে আপনার কীইবা ক্ষতি হবে? আমি কেবল আপনাকে সেই খাবার থেকে বঞ্চিত করছি যা সিংহ বা শকুনের আহার।
- সোশন, সেনেকা দ্য ইয়ঙ্গারের মোরাল লেটারস টু লুসিলিয়াস, ১০৮, ২০-২১।

- এছাড়া এটি পরিষ্কার হওয়া উচিত যে প্রোটিন হিসেবে মাংস ডিম বা বাদামের চেয়ে খুব বেশি উন্নত নয় এবং এটি মস্তিষ্কের বিবর্তনে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। যদি তাই হতো, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে যখন মানুষ অনেক বেশি পরিমাণে মাংস খাওয়া শুরু করেছিল, তখন মানুষের মস্তিষ্কের আকার আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
- কলিন স্পেন্সার, দ্য হেরেটিকস ফিস্ট: এ হিস্ট্রি অফ ভেজিটেরিয়ানিজম (হ্যানোভার এবং লন্ডন: ইউনিভার্সিটি প্রেস অফ নিউ ইংল্যান্ড, ১৯৯৬), পৃষ্ঠা ১৬।
- আমরা একসময় শিশুদের জন্য মাংস, মুরগি এবং মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিতাম কারণ এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং আয়রন থাকে। তবে আমরা এখন জানি যে মাংস জাতীয় খাদ্যাভ্যাসের অনেক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে, বিশেষ করে এটি ধমনীর গঠন পরিবর্তন করে এবং ওজনের সমস্যা তৈরি করে, আর এই পরিবর্তনগুলো শৈশব থেকেই শুরু হয়। একবার শিশুদের মধ্যে মাংসের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তীতে এই অভ্যাস ত্যাগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দেখা গেছে যে শিশুরা শাকসবজি, শিম এবং অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাবার থেকেই প্রচুর প্রোটিন এবং আয়রন পেতে পারে এবং এতে প্রাণিজ খাবারের মতো ক্ষতিকর চর্বি বা কোলেস্টেরল থাকে না।
- বেঞ্জামিন স্পক এবং স্টিভেন জে পার্কার, ডক্টর স্পক’স বেবি অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, ৭ম সংস্করণ (নিউ ইয়র্ক: পকেট বুকস, ১৯৯৮। আইএসবিএন ০-৬৭১-৫৩৭৬৩-৬ অকার্যকর অকার্যকর), পৃষ্ঠা ৩৪৬-৩৪৭।
- গাছপালা ব্যথা অনুভব করেএমন তত্ত্ব সমর্থন করার মতো কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। আর যদি তর্কের খাতিরে এটি সম্ভব বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও তা সংবেদনশীল প্রাণীদের হত্যা করার কোনো অজুহাত হতে পারে না। একজন বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ খুব সহজেই একটি সংবেদনশীল প্রাণীর গলা কাটা এবং একটি ফল বা সবজি তোলার মধ্যেকার আকাশ-পাতাল পার্থক্য বুঝতে পারেন। ... আমিষাশীরা প্রায়ই নিরামিষাশী এবং ভেগানদের এমন সব কাল্পনিক পরিস্থিতির ফাঁদে ফেলতে চান যার সাথে অধিকাংশ মানুষের বাস্তব জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই।
- জোয়ান স্টেপানিয়াক, বিয়িং ভেগান: লিভিং উইথ কনসায়েন্স, কনভিকশন, অ্যান্ড কম্প্যাশন (লস অ্যাঞ্জেলেস: লোয়েল হাউস, ২০০০। আইএসবিএন ০-৭৩৭৩-০৩২৩-৯ অকার্যকর অকার্যকর), পৃষ্ঠা ৪৩-৪৪।
- মাংস উৎপাদনের জন্য প্রচুর পরিমাণে পানির অপচয় হয় এবং এটি অনেক বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস তৈরি করে। এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। সেই তুলনায় নিরামিষ আহার অনেক ভালো। ... আমি মনে করি মানুষের উচিত তারা কী করছে এবং কী খাচ্ছে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা।
- নিকোলাস স্টার্ন, দ্য টাইমস পত্রিকার সাথে একটি সাক্ষাৎকার; "লর্ড স্টার্ন: 'জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে মানুষের মাংস খাওয়া ছেড়ে দেওয়া উচিত'", দ্য টেলিগ্রাফ (২৭ অক্টোবর ২০০৯)।
- নরমাংসভোজের চেয়ে জঘন্য আর কিছুই আমাদের কাছে নেই; এটি সমাজের সংহতি নষ্ট করে দেয় এবং যারা এটি করে তাদের মনকে নির্দয় করে তোলে। অথচ বৌদ্ধ এবং নিরামিষাশীদের চোখে আমরা আমিষাশীরাও ঠিক একই রকম। আমরা এমন সব প্রাণীর দেহভক্ষণ করি যাদের আবেগ, অনুভূতি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আমাদের মতোই; আমরা শিশুদের খাই, যদিও সেগুলো আমাদের নিজেদের নয়; এবং কসাইখানাগুলো প্রতিদিন প্রাণীদের যন্ত্রণার চিৎকার আর ভয়ে প্রকম্পিত হয়। আমরা অবশ্য সব প্রাণীকে সমান মনে করি না; কিন্তু অনেক জাতির কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রতি অনীহা—যে প্রাণীর সাথে আমরা খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখি—তা প্রমাণ করে যে আমাদের এই বিভাজন কতটা নড়বড়ে।
- রবার্ট লুইস স্টিভেন্সন, ইন দ্য সাউথ সিজ, অধ্যায় ১১।
- আমি জন্ম থেকেই নিরামিষাশী। ... আমি মনে করি অন্য কোনো জীবিত প্রাণীকে কষ্ট দেওয়ার বা ক্ষতি করার কোনো প্রয়োজন নেই। খাওয়ার জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু আছে। আমি আমার জীবনে কখনো মাংস খাইনি, এবং আমি যথেষ্ট লম্বা-চওড়া আর স্বাস্থ্যবান। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি একবার বলেছিলেন, ‘প্রাণীরা আমার বন্ধু, আর বন্ধুদের খেয়ে ফেলার অভ্যাস আমার নেই।’ আমার অনুভূতিও ঠিক তেমন।
- বাঘ, সিংহ—সংক্ষেপে সব মাংসাশী প্রাণী দৌড়ে, সাঁতরে বা উড়ে গিয়ে তাদের শিকার ধরে এবং দাঁত বা নখ দিয়ে ছিঁড়ে তখনই তা খেয়ে ফেলে। মানুষ এই উপায়ে অন্য প্রাণীকে ধরতে পারে না বা সেগুলোকে ছিঁড়ে কাঁচা খেতে পারে না... তাছাড়া মানুষের মধ্যে কেবল পাশবিক প্রবৃত্তি নয়, বরং অনেক উন্নত পর্যায়ের বিবেক রয়েছে।
- গুস্তাভ ফন স্ট্রুভ, মানদারাস ওয়ান্ডারুনগেন।
- রসায়ন বিজ্ঞান মোটেও নিরামিষবাদের পরিপন্থী নয়, যেমনটা জীববিজ্ঞানও নয়। শরীরের টিস্যু মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন জাতীয় উপাদান পাওয়ার জন্য মাংস খাওয়া মোটেও জরুরি নয়; তাই রাসায়নিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের পুষ্টির জন্য উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে বেছে নেওয়া সঠিক খাদ্যতালিকা একদম যথাযথ।
- এফ. জে. সাইকস, সি. ডব্লিউ. লিডবিটারের লেখা নিরামিষবাদ এবং অতীন্দ্রিয়বাদ (১৯১৩) বইয়ে উদ্ধৃত।
- হিন্দুধর্মে ব্যাপক নিরামিষবাদের প্রচলন হলো এই জীব-দয়া বা বৃহত্তর ঐক্যের বোধের একটি বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।
- রাম স্বরূপ, অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস (নয়াদিল্লি: ভয়েস অফ ইন্ডিয়া, ২০০০), অধ্যায় ১, পৃষ্ঠা ১১।

- আমি হঠাৎ করেই একটি অদ্ভুত দর্শন পাখি দেখতে পেলাম যেটি পানির মধ্য দিয়ে সাঁতরে ওপাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং এর পেছনে প্রচুর হট্টগোল হচ্ছে। পরে দেখলাম যে এটি আসলে একটি গৃহপালিত মুরগি যেটি জাহাজের রান্নাঘর থেকে কোনোমতে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিল এবং এখন ওপাড়ে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। যখন এটি পাড়ের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, তখনই ধাওয়াকারীরা নির্দয়ভাবে একে ধরে ফেলল এবং এর গলা টিপে ধরে জয়গর্বে ফিরিয়ে নিয়ে এল। আমি তখন পাচককে বলে দিলাম যে আমি রাতের খাবারে কোনো মাংস খাব না। আমার সত্যিই প্রাণিজ খাবার ত্যাগ করা উচিত। আমরা কেবল তখনই মাংস গিলতে পারি যখন আমরা এই নিষ্ঠুর এবং পাপের কাজটি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করি না। পৃথিবীতে এমন অনেক অপরাধ আছে যা মানুষ নিজেই তৈরি করেছে এবং যেগুলোকে কেবল প্রচলিত অভ্যাস বা রীতিনীতি থেকে আলাদা হওয়ার কারণে মন্দ বলা হয়। কিন্তু নিষ্ঠুরতা মোটেও তেমন কিছু নয়। এটি একটি মৌলিক পাপ এবং এর স্বপক্ষে কোনো যুক্তি বা সূক্ষ্ম বিভাজন চলে না। আমরা যদি আমাদের হৃদয়কে পাষাণ হতে না দেই, তবে নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে এর প্রতিবাদ সবসময়ই পরিষ্কারভাবে শোনা যায়; অথচ আমরা সবাই খুব সহজেই এবং হাসিমুখে নিষ্ঠুর কাজ করে চলি। আসলে যে এই কাজে যোগ দেয় না, তাকেই উল্টো খ্যাপাটে বলা হয়। ... আমাদের মনে দয়া জাগ্রত হওয়ার পরেও যদি আমরা কেবল অন্যদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য নিজেদের অনুভূতিগুলোকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলি, তবে আমরা আসলে নিজেদের ভেতরের ভালো সত্তাকেই অপমান করছি। আমি নিরামিষ আহার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গ্লিম্পসেস অফ বেঙ্গল: এ সিলেকশন অফ লেটারস (ম্যাকমিলান অ্যান্ড কোং, ১৯২১), ২২ মার্চ ১৮৯৪।
- আমিষ আহার হলো সেমিটিক ধর্মগুলোর একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। খ্রিস্টধর্ম যদিও পশু জবাই করার ইহুদি রীতিটি পুরোপুরি গ্রহণ করেনি, তবে ইসলাম এটি কেবল বজায় রাখেনি বরং বাধ্যতামূলকও করেছে। তবে নিরামিষবাদের ধারণাটি ইহুদি এবং ইসলাম ধর্মের মতো খ্রিস্টধর্মের কাছেও একদম অপরিচিত। ইসলাম ধর্ম মূলত নিরামিষবাদের পাশাপাশি ব্রহ্মচর্য এবং শারীরিক কৃচ্ছ্রসাধনকেও বিশেষভাবে নিষেধ করে। ইসলাম এবং খ্রিস্টধর্ম উভয়ই চায় যে অন্য ধর্ম থেকে আসা একজন ধর্মান্তরিত ব্যক্তি যেন তার আগের ধর্মে নিষিদ্ধ কোনো প্রাণীর মাংস অবশ্যই খায়, যাতে তার ধর্মান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে হিন্দুধর্ম (বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ ধর্মের মতো প্রধান শাখাগুলোসহ এবং কিছু ছোট শাখা বাদে) নিরামিষবাদকে একটি বড় গুণ হিসেবে বিবেচনা করে... নিরামিষবাদের ধারণার গভীর তাৎপর্য রয়েছে। এটি সব ধরণের জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। হিন্দুধর্মের সর্বেশ্বরবাদী দর্শনের একটি বাস্তব বহিঃপ্রকাশ হলো এই নিরামিষবাদ, যা সেমিটিক ধর্মগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধর্মগুলো বিশ্বাস করে যে এই সৃষ্টিজগত মানুষকেন্দ্রিক এবং এতে কোনো সহজাত দেবত্ব নেই। তাদের মতে উদ্ভিদ ও প্রাণী জগত, এমনকি পুরো প্রকৃতিই ঈশ্বর তৈরি করেছেন মানুষের ব্যবহার এবং শোষণের জন্য।
- এস. তালাগেরি, দ্য আরিয়ান ইনভেশন থিওরি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ন্যাশনালিজম (১৯৯৩)
- আমি এখানে খাবারের একদম অভাবের কথা বলছি না, বরং পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবের কথা বলছি। কীভাবে ভালো এবং প্রচুর খাবারের জোগান দেওয়া যায়, সেটি আজকের দিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সাধারণ নীতি অনুযায়ী, খাবার জোগাড় করার উপায় হিসেবে গবাদি পশু পালন করা কিছুটা আপত্তিকর, কারণ এটি আমাদের শক্তির বিবর্তনকে ধীর করে দেয়।
- নিকোলা টেসলা, "দ্য প্রবলেম অফ ইনক্রিজিং হিউম্যান এনার্জি", সেঞ্চুরি ইলাস্ট্রেটেড ম্যাগাজিন, জুন ১৯০০।
- গবাদি পশু পালনের চেয়ে শাকসবজি চাষ করা অবশ্যই বেশি পছন্দনীয়। তাই আমি মনে করি যে নিরামিষবাদ হলো প্রচলিত এই বর্বরোচিত অভ্যাস থেকে একটি প্রশংসনীয় পরিবর্তন। আমরা যে উদ্ভিজ্জ খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারি এবং আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারি, তা কোনো নিছক তত্ত্ব নয় বরং একটি প্রমাণিত সত্য। অনেক জাতি কেবল শাকসবজি খেয়েই অনেক বেশি সুঠাম দেহ এবং শক্তির অধিকারী হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ওটমিলের মতো কিছু উদ্ভিজ্জ খাবার মাংসের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতার দিক থেকে অনেক বেশি উন্নত। তাছাড়া এই ধরণের খাবার আমাদের পরিপাকতন্ত্রের ওপর অনেক কম চাপ সৃষ্টি করে এবং আমাদের অনেক বেশি সন্তুষ্ট ও মিশুক করে তোলে, যার সুফল পরিমাপ করা কঠিন। এই সত্যগুলো বিবেচনায় রেখে পশুদের ওপর নির্বিচার এবং নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার জন্য সব ধরণের চেষ্টা করা উচিত, যা আমাদের নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
- নিকোলা টেসলা, সেঞ্চুরি ইলাস্ট্রেটেড ম্যাগাজিন, জুন ১৯০০।
- আর্থলিংস তথ্যচিত্রটি দেখার পর আমি নিরামিষাশী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। খামারগুলোতে পশুদের সাথে কতটা ভয়াবহ এবং নিষ্ঠুর আচরণ করা হয় সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। প্রাণীদের প্রতি আমার যে ভালোবাসা রয়েছে, তার কারণে আমি কখনোই আমার জন্য তাদের শিরশ্ছেদ করাকে সমর্থন করতে পারি না। দুগ্ধ শিল্পের এই দাসত্ব আমাকে আরও বেশি ভেগান হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে। আমি নিজের আনন্দের জন্য প্রাণীদের এই দাসত্বকে কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না। ... আমি এখন মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে এবং আবেগগতভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অনুভব করছি। এই উদ্ভিজ্জ খাদ্যাভ্যাস একজন অ্যাথলেট হিসেবে আমার জন্য অনেক নতুন পথ খুলে দিয়েছে। আমি এখন একদম অন্য স্তরে নিজেকে উন্নীত করছি। আমি প্রায় এক বছর আগে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি এবং এটি আমার জন্য এক নতুন জীবন। আমি নিজেকে একজন নতুন মানুষ এবং একজন নতুন অ্যাথলেট হিসেবে অনুভব করছি।
- হান্না টিটার, "হান্না টিটার, গোল্ড-মেডেল স্নোবোর্ডার, কার্ভস এ মিনিংফুল লাইফ", হাফপোস্ট-এর সাথে সাক্ষাৎকার (২১ এপ্রিল ২০১০)।
- মাংসকে যেকোনোভাবেই হোক জীবনের জন্য অপরিহার্য মনে করাটা আসলে এক ধরণের সাধারণ ভুল ধারণা। মানবদেহের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবই উদ্ভিজ্জ জগত থেকে পাওয়া সম্ভব। একজন নিরামিষাশী তার খাবার থেকেই শরীরের বৃদ্ধি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদান সংগ্রহ করতে পারেন। এমনকি তাপ এবং শক্তি উৎপাদনের জন্যও উদ্ভিজ্জ খাবারই যথেষ্ট। এটি একটি প্রশ্নাতীত সত্য যে যারা এই ধরণের খাবার খেয়ে বেঁচে থাকেন, তারা অনেক বেশি শক্তিশালী এবং সুস্থ থাকেন। আমি জানি যে বর্তমানে প্রচলিত মাংস নির্ভর খাদ্যাভ্যাস কেবল একটি অপব্যয়ই নয়, বরং এটি মানুষের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
- স্যার হেনরি টম্পসন, সি. ডব্লিউ. লিডবিটারের লেখা নিরামিষবাদ এবং অতীন্দ্রিয়বাদ (১৯১৩) বইয়ে উদ্ধৃত।
- একজন কৃষক আমাকে বললেন, "আপনি শুধু উদ্ভিজ্জ খাবার খেয়ে টিকে থাকতে পারবেন না, কারণ এতে হাড় তৈরির মতো কোনো কাঁচামাল নেই"; আর এই কথা বলেই তিনি দিনের একটি বড় অংশ হাড়ের উপাদান জোগাড় করার জন্য মাংস খাওয়ার পেছনে ব্যয় করেন। অথচ কথা বলার সময় তিনি তার সেই বলদগুলোর পেছনেই হাঁটছিলেন, যেগুলোর হাড় কিন্তু এই নিরামিষ খাবার খেয়েই তৈরি এবং তারা সমস্ত বাধা জয় করে তার সেই ভারী লাঙলটি টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
- হেনরি ডেভিড থরো; ওয়াল্ডেন (১৮৫৪), ১ অধ্যায়।
- আমার কোনো সন্দেহ নেই যে মানবজাতির ভাগ্যে এমন একটি সময় আসবে যখন উন্নতির সাথে সাথে তারা পশু খাওয়া একদম ছেড়ে দেবে। ঠিক যেমন বন্য উপজাতিরা সভ্য মানুষদের সংস্পর্শে আসার পর একে অপরকে খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল।
- হেনরি ডেভিড থরো, ওয়াল্ডেন (১৮৫৪), ১১ অধ্যায়।
- যে ব্যক্তি নিজের মাংস বাড়ানোর জন্য অন্য কোনো প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করে,
- সে কীভাবে প্রকৃত দয়া বা করুণা প্রদর্শন করতে পারে?
- তিরুবল্লুভার, তিরুক্কুরাল: ২৫১।
- যে ব্যক্তি কোনো প্রাণীর মাংস খেয়ে ভোজ করে এবং যে ব্যক্তি হাতে অস্ত্র তুলে নেয়।
- মঙ্গলের পথ কখনোই এই দুই ধরণের মানুষের মনের সাথে এক হতে পারে না।
- তিরুবল্লুভার, তিরুক্কুরাল: ২৫৩।
- আপনি যদি প্রশ্ন করেন, "দয়া কী আর নির্দয়তা কী?"
- তবে এর উত্তর হলো প্রাণী হত্যা না করা আর প্রাণী হত্যা করা। তাই মাংস খাওয়া কখনোই পুণ্য বা গুণের কাজ হতে পারে না।
- তিরুবল্লুভার, তিরুক্কুরাল: ২৫৪।
- যদি পৃথিবীর মানুষ মাংস না কিনত এবং তা আহার না করত,
- তবে কেউই বিক্রির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করত না।
- তিরুবল্লুভার, তিরুক্কুরাল: ২৫৬।
- পৃথিবীর সমস্ত জীব শ্রদ্ধাভরে হাত জোড় করে সেই মানুষদের প্রণাম জানাবে,
- যারা প্রাণীদের হত্যা করতে অস্বীকার করে এবং মাংসের স্বাদ নিতে চায় না।
- তিরুবল্লুভার, তিরুক্কুরাল: ২৬০।

- আমি একটি কসাইখানা পরিদর্শনে যেতে চেয়েছিলাম যাতে নিজের চোখে সেই চরম বাস্তবতা দেখতে পারি যা নিরামিষবাদ নিয়ে আলোচনার সময় উঠে আসে। কিন্তু প্রথমে আমি সেখানে যেতে খুব লজ্জা পাচ্ছিলাম, কারণ মানুষ যেমন যন্ত্রণাদায়ক কিছু দেখতে যাওয়ার আগে লজ্জা পায় যা সে রোধ করতে পারবে না। তাই আমি বারবার সেই পরিদর্শন পিছিয়ে দিচ্ছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে আমি পথে একজন কসাইয়ের সাথে দেখা করলাম... আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে সে যখন প্রাণী হত্যা করে তখন তার কি কোনো কষ্ট হয় না? সে আমাকে গতানুগতিক উত্তর দিল: 'কেন আমার কষ্ট হবে? এটি তো প্রয়োজন।' কিন্তু যখন আমি তাকে বললাম যে মাংস খাওয়া মোটেও প্রয়োজনীয় কিছু নয় বরং এটি একটি বিলাসিতা মাত্র, তখন সে একমত হলো এবং স্বীকার করল যে সে প্রাণীদের জন্য সত্যিই দুঃখিত।
- ল্যেভ তল্স্তোয়, দ্য ফার্স্ট স্টেপ (১৮৯২), অধ্যায় ৯।
- এবং দেখুন, একজন ভদ্র ও দয়ালু মহিলা প্রাণীর মৃতদেহ মনের আনন্দে খাচ্ছেন অথচ তিনি মনে করেন যে তিনি যা করছেন তা একদম ঠিক। একই সাথে তিনি দুটি পরস্পরবিরোধী কথা বলেন: প্রথমত, ডাক্তার যেমনটা তাকে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি এতটাই নাজুক যে কেবল উদ্ভিজ্জ খাবার খেয়ে বাঁচতে পারবেন না এবং তার দুর্বল শরীরের জন্য মাংস একদম অপরিহার্য; এবং দ্বিতীয়ত, তিনি এতটাই সংবেদনশীল যে তিনি প্রাণীদের কষ্ট দেওয়া তো দূরের কথা, প্রাণীর কষ্ট সহ্যই করতে পারেন না। অথচ এই বেচারা মহিলা আসলে দুর্বল কারণ তাকে শেখানো হয়েছে মানুষের জন্য অনুপযুক্ত খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে; আর তিনি কোনোভাবেই প্রাণীদের কষ্ট দেওয়া এড়াতে পারেন না—কারণ তিনি তাদের খাচ্ছেন।
- ল্যেভ তল্স্তোয়, দ্য ফার্স্ট স্টেপ (১৮৯২), অধ্যায় ৯।
- আমরা উটপাখি নই এবং আমরা এটা বিশ্বাস করতে পারি না যে যা আমরা দেখতে চাই না, তার দিকে তাকাতে অস্বীকার করলেই সেটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। বিশেষ করে যখন বিষয়টি আমাদের খাবারের সাথে সম্পর্কিত। যদি এটি সত্যিই অপরিহার্য হতো, অথবা যদি অন্তত কোনোভাবে কাজে লাগত! কিন্তু এটি একদমই অপ্রয়োজনীয়... এবং এই সত্যটি বারবার প্রমাণিত হয় তরুণ ও সহৃদয় মানুষের মাধ্যমে—বিশেষ করে নারী ও তরুণীদের মাধ্যমে—যারা হয়তো এর যুক্তিগুলো পুরোপুরি জানে না কিন্তু তারা অনুভব করে যে পুণ্য এবং মাংসাহারের মধ্যে কোনো মিল নেই। তাই তারা যখনই ভালো মানুষ হতে চায়, তখনই মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়।
- ল্যেভ তল্স্তোয়, দ্য ফার্স্ট স্টেপ (১৮৯২), অধ্যায় ১০।
- মানুষ মনে করে পশু খাওয়া ঠিক কারণ তারা বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর এটি করতে বলেছেন। এটি একদমই সত্য নয়। কোনো বইয়ে পশু হত্যা করা এবং তাদের মাংস খাওয়া পাপ নয়—এমন কথা লেখা থাকলেও মানুষের মনে কিন্তু কোনো বইয়ের চেয়েও পরিষ্কারভাবে লেখা আছে যে প্রাণীদের প্রতি দয়া দেখানো উচিত এবং মানুষের মতোই তাদেরও হত্যা করা উচিত নয়। আমরা যদি আমাদের বিবেকের কণ্ঠরোধ না করি, তবে আমরা সবাই এই সত্যটি জানি।
- ল্যেভ তল্স্তোয়, দ্য পাথওয়ে অফ লাইফ: টিচিং লাভ অ্যান্ড উইজডম (মরণোত্তর), ১ম খণ্ড, ইন্টারন্যাশনাল বুক পাবলিশিং কোম্পানি, নিউ ইয়র্ক, ১৯১৯, পৃষ্ঠা ৬৮।
- বিষয়টি গভীরভাবে এবং সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করার পর এবং দীর্ঘ বছর মাংস না খাওয়ার অভিজ্ঞতার পর আমি নিঃসঙ্কোচে বলতে পারি যে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে বলতে গেলে, মাংস কোনোভাবেই খাবারের জন্য অপরিহার্য নয়। ... আমরা যদি বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করি তবে দেখব যে এমন অসংখ্য খাবার আছে যেগুলো শরীরের পুষ্টি, গঠন এবং টিকে থাকার জন্য যেকোনো মাংসের চেয়ে দ্বিগুণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণেরও বেশি উপাদান ধারণ করে।
- র্যালফ ওয়াল্ডো ট্রাইন, এভরি লিভিং ক্রিয়েচার: অর, হার্ট-ট্রেনিং থ্রু দ্য অ্যানিম্যাল ওয়ার্ল্ড (নিউ ইয়র্ক: থমাস ওয়াই. ক্রওয়েল অ্যান্ড কোং, ১৮৯৯), পৃষ্ঠা ২৫-২৬।
- প্রকৃত এবং আদর্শ মানবতাবাদী কেবল তিনিই যিনি মাংস আহার করেন না; এবং আমি নিশ্চিত যে এর ফলাফল মানবজাতি এবং প্রাণী জগত উভয়ের জন্যই চমৎকার হবে, যদি শিশুদের শৈশব থেকেই এই বিষয়ে সঠিক এবং বিচক্ষণ শিক্ষা দেওয়া হয়।
- র্যালফ ওয়াল্ডো ট্রাইন, এভরি লিভিং ক্রিয়েচার: অর, হার্ট-ট্রেনিং থ্রু দ্য অ্যানিম্যাল ওয়ার্ল্ড (নিউ ইয়র্ক: থমাস ওয়াই. ক্রওয়েল অ্যান্ড কোং, ১৮৯৯), পৃষ্ঠা ৩০।
- আমি হত্যা করতে পারি না। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা হত্যা করতে পারেন এবং করেন। যেহেতু আমি নিজে হত্যা করতে পারি না, তাই আমি অন্যদেরও হত্যার অনুমতি দিতে পারি না। আপনি কি বুঝতে পারছেন? আপনি যখন একজন কসাইয়ের কাছ থেকে মাংস কিনছেন, তখন আপনি তাকে হত্যার অনুমতি দিচ্ছেন আর সে হত্যা করছে অসহায় এবং নির্বাক প্রাণীদের, যাদের না আমি না আপনি নিজের হাতে মারতে পারতাম। ঠিক এই কারণেই আমি একজন নিরামিষাশী, যেমনটা অধিকাংশ রাশিয়ান মানুষ হয়ে থাকেন। দীর্ঘ নয় বছর ধরে আমি নিরামিষাশী এবং আমি আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিরামিষাশীই থাকব। মনে রাখবেন, আমি একজন দৃঢ় সংকল্পের মানুষ।
- পাওলো ট্রুবেটস্কয়, একটি সাক্ষাৎকার থেকে। দ্য ভেজিটেরিয়ান ম্যাগাজিন, ১১তম খণ্ড, ২য় সংখ্যা, ১৯০৭, পৃষ্ঠা ২২-এ প্রকাশিত।
- হিংসা এবং শোষণ ছাড়া যে খাবার পাওয়া যায় না, তা সবসময় বর্জন করুন। কারণ জেনে রাখুন যে, সমস্ত নিচু স্তরের জীব যখন আঘাত পায়, তখন তারা কাঁদে এবং তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে নালিশ জানায়। এই বিষয়টি নিয়ে উদাসীন হবেন না যে প্রতিটি জীবই তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী সেই মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতিচ্ছবি বহন করে এবং তিনিই সমস্ত জিনিসের প্রাণশক্তি। অতএব কারো উচিত নয় সেই জীবনকে আঘাত করে আনন্দ পাওয়া, পাছে সৃষ্টিকর্তার ক্রোধ জাগ্রত হয় এবং নিজের আত্মার জন্য বিপদ ডেকে আনে।
- থমাস ট্রায়ন, উইজডম'স ডিকটেটস, লন্ডন, ১৬৯১, অনুচ্ছেদ ৩৯–৪২।
- ... খ্রিস্টানদের মধ্যে আরও বড় বড় সুযোগ এবং সুবিধা আসত যদি তারা দাঙ্গা-হাঙ্গামা, নিপীড়ন এবং পশু হত্যা করা (যা তাদের সেই পথে পরিচালিত করে) ও মাংস ও রক্ত খাওয়া বন্ধ করত। এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের প্রতি মানুষের এই হত্যাকাণ্ড এবং শয়তানি বিবাদ ও নিষ্ঠুরতা কমে আসত এবং হয়তো তাদের মধ্যে এর অস্তিত্বই থাকত না।
- থমাস ট্রায়ন, দ্য ওয়ে টু হেলথ, লং লাইফ অ্যান্ড হ্যাপিনেস, লন্ডন, ১৬৯৭, পৃষ্ঠা ২৪১।
- আধ্যাত্মিকভাবে আরও পরিপক্ক স্তরে পৌঁছানোর এবং আমাদের জীবনযাত্রায় এক নতুন সমাজ ব্যবস্থা তৈরি করার গভীর আকাঙ্ক্ষা যা ন্যায়বিচার, শান্তি, স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য, বিবেক এবং সুখ নিশ্চিত করে—তা অর্জনের জন্য প্রাণীদের খাবার হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে এবং উদ্ভিজ্জ খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসতে হবে।
- উইল টাটল, দ্য ওয়ার্ল্ড পিস ডায়েট (২০০৫)। অধ্যায় ২।

- একটি নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, কোলেস্টেরল এবং প্রাণিজ প্রোটিনের স্বল্প উপস্থিতির কারণে এবং ফলিক অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইটোয়েস্ট্রোজেনের উচ্চ ঘনত্বের কারণে হৃদরোগের জটিল গতিবিধি রোধে বা কমিয়ে আনতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি আসলে ক্যানসারসহ বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কেবল তাই নয়, ফলমূল এবং শাকসবজি অন্যান্য খাবারের তুলনায় শরীরকে অনেক কম দূষিত করার পাশাপাশি মূল্যবান পুষ্টি উপাদানের ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। এই উপাদানগুলো ক্যানসার সৃষ্টিকারী এজেন্ট বা বিষাক্ত পদার্থগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে এবং অসুস্থ কোষগুলোর ঘনত্বকে কমিয়ে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে। গত শতাব্দীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় এই সমস্ত সুবিধার পাশাপাশি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
- উমবার্তো ভেরোনেসি, দ্য ফার্স্ট ডে উইদাউট ক্যান্সার, অনুবাদ করেছেন হিডোকো ফুডেমোটো (নিউ ইয়র্ক: ওপেন রোড, ২০১৩ ই-বুক সংস্করণ), পৃষ্ঠা ৬৭।
- (মানুষের মুখের কথা বলা হচ্ছে যা আসলে একটি সমাধি) যারা এক মন্দ এবং সহিংস মৃত্যুর শিকার হয়েছে তাদের সেই সমাধি থেকে বিকট চিৎকার বা আর্তনাদ বেরিয়ে আসবে।
- লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, প্রফেসিস।
- প্রকৃতি যদিও সেই সব প্রাণীদের ব্যথার অনুভূতি দান করেছে যাদের চলাফেরা করার ক্ষমতা আছে, যাতে তারা চলাচলের সময় কোনো বাধা বা বিপত্তির মোকাবিলা করে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারে, কিন্তু যাদের নড়াচড়া করার ক্ষমতা নেই তাদের তেমন কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় না। ফলস্বরূপ, গাছপালার ব্যথার কোনো অনুভূতির প্রয়োজন হয় না। তাই দেখা যায় যে গাছপালার কোনো অংশ ভেঙে ফেললে তারা প্রাণীদের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তেমন কোনো নিদারুণ যন্ত্রণা অনুভব করে না।
- লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, এডওয়ার্ড ম্যাককার্ডি সম্পাদিত এবং ইংরেজিতে অনুদিত লিওনার্দো দা ভিঞ্চি’স নোট-বুকস, ১৯২৩, পৃষ্ঠা ১৩০।

- ভবিষ্যৎ কেবল নিরামিষাশীদেরই অধিকারে থাকবে।
- রুডলফ ফিরখো, তামারা এস. ওয়াগনার এবং নারিন হাসান সম্পাদিত কনজুমিং কালচার ইন দ্য লং নাইনটিনথ সেঞ্চুরি: ন্যারেটিভস অফ কনজাম্পশন, ১৭০০-১৯০০ (লেক্সিংটন বুকস, ২০০৭), পৃষ্ঠা ১৯-এ উদ্ধৃত।
- আইজাক নিউটন মনে করতেন এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ বৈপরীত্য যে আমরা একদিকে বিশ্বাস করি প্রাণীদের অনুভূতি আছে অথচ অন্যদিকে তাদের কষ্টের কারণ হই। এই বিষয়ে তার নৈতিকতা আসলে তার দর্শনের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। [...] অন্যান্য প্রাণীর প্রতি তার যে মমতা ছিল, তার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল মানুষের প্রতি তার সেই অকৃত্রিম দয়া ও মমত্ববোধের মাধ্যমে। প্রকৃতপক্ষে, মানবতা বা মানুষের প্রতি দয়া ছাড়া যা আসলে সমস্ত সদগুণকে একত্রিত করে একজন দার্শনিকের নাম বা খ্যাতি খুব সামান্যই সার্থকতা পায়।
- ভলতেয়ার, এলিমেন্টস ডি লা ফিলোসফি ডি নিউটন।
- মানুষের মধ্যে দয়া বা করুণার এক সহজাত প্রবৃত্তি রয়েছে যা তার অন্যান্য স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মতোই সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। নিউটন মানবতার এই অনুভূতিকে নিজের ভেতর লালন করেছিলেন এবং তা নিম্নস্তরের প্রাণীদের প্রতিও প্রসারিত করেছিলেন। জন লকের মতো তিনিও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বর প্রাণীদের মধ্যেও নির্দিষ্ট মাত্রার ধারণা এবং অনুভূতি দিয়েছেন, যেমনটা তিনি আমাদের দিয়েছেন... প্রকৃতপক্ষে, মানবতা ছাড়া, যা আসলে সমস্ত গুণাবলীর সারকথা, একজন দার্শনিকের পরিচয় খুব একটা সার্থকতা পায় না।
- ভলতেয়ার, এলিমেন্টস ডি লা ফিলোসফি ডি নিউটন।
- মুরগি: কী ভয়ানক দুর্বৃত্ত ওরা! আমার তো জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা। ওহ না! ওরা আমার চোখ উপড়ে ফেলবে এবং আমার গলা কেটে ফেলবে! আমাকে ঝলসে তারপর খেয়ে ফেলা হবে! এই গুণ্ডাগুলোর মনে কি কোনো অনুশোচনা হবে না?
মোরগ: না প্রিয়তমা। আমি যে দুজন পুরোহিতের কথা তোমাকে বলেছিলাম তারা বলছিলেন যে মানুষ যেসব কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, সেগুলোর জন্য তাদের মনে কখনোই কোনো অনুশোচনা বা দুঃখবোধ কাজ করে না।- ভলতেয়ার, ডায়ালগ বিটুইন দ্য কক অ্যান্ড দ্য হেন।
- যেসব মানুষ কেবল মাংস খায় এবং কড়া পানীয় পান করে, তাদের রক্তে এক ধরণের বিষাক্ত ও তীব্র অম্লতা তৈরি হয় যা তাদের শত শত উপায়ে পাগল করে তোলে। তাদের প্রধান উন্মাদনা প্রকাশ পায় নিজের ভাইদের রক্ত ঝরানোর উন্মত্ততায় এবং কবরের ওপর রাজত্ব করার জন্য উর্বর জমিগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার মাধ্যমে।
- ভলতেয়ার, দ্য প্রিন্সেস অফ ব্যাবিলন, অধ্যায় ৩-এ।

- যেহেতু আমরা বিশ্ব-ইতিহাসের ওপর মানুষের এই শিকারি প্রবৃত্তির প্রভাব নিয়ে একটি সাধারণ আলোচনা শুরু করেছিলাম, তাই এখন সেই প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা এবং আমাদের সেই 'হারিয়ে যাওয়া স্বর্গ' পুনরায় খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টার দিকে ফিরে আসাটা কার্যকর হতে পারে। ইতিহাস যত সামনের দিকে এগিয়েছে, আমরা দেখেছি যে এই ধরণের প্রচেষ্টাগুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোর কার্যকারিতা প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছে। আমাদের বর্তমান সময়ে এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা তথাকথিত নিরামিষাশীদের বিভিন্ন সমিতি দেখতে পাই। তা সত্ত্বেও, এই ধরণের সংগঠনগুলোর ভেতর থেকেই কিছু বিশিষ্ট সদস্য অভিযোগ করছেন যে, তাদের সহকর্মীদের বেশিরভাগই কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত কারণে মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তারা এই অভ্যাসটিকে সেই মহান আধ্যাত্মিক বা নবজাগরণমূলক চিন্তার সাথে যুক্ত করেন না, যা আসলে এই সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করে তুলতে পারত। এদের পাশাপাশি আমরা প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে গঠিত আরও একটি সমিতি দেখতে পাই, যাদের কাজের পরিধি কিছুটা বিস্তৃত। এখানেও দেখা যায় যে সদস্যরা নিছক বৈষয়িক বা ব্যবহারিক যুক্তির মাধ্যমে জনসাধারণের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ প্রাণীদের প্রতি দয়াশীল হওয়ার এই প্রচেষ্টাকে যদি নিরামিষবাদের সেই গভীর দর্শনের সাথে যুক্ত করা যেত, তবেই একটি প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব হতো। যদি এই দুটি সমিতি পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে একীভূত হতে পারে, তবে তারা এমন এক শক্তির অধিকারী হবে যাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা সম্ভব নয়।
- রিচার্ড ভাগনার, রিলিজিয়ন অ্যান্ড আর্ট (১৮৮০), উইলিয়াম অ্যাশটন এলিস কর্তৃক অনূদিত, ৩য় খণ্ড।
- মাংস আহার করার জন্য মানুষের মধ্যে বিশেষ কোনো জিনগত, শারীরিক কাঠামো বা শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন বা বৈশিষ্ট্য নেই। এর বিপরীতে, উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণের জন্য আমাদের শরীরে অনেক ধরণের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। মাংসাশী প্রাণীদের তুলনায় আমাদের পরিপাকতন্ত্র অনেক বেশি লম্বা, যা মানুষকে সেই সব উদ্ভিদ এবং তন্তু হজম করতে সাহায্য করে যেগুলোর প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। এছাড়া আমাদের শরীরে নিজেদের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি তৈরি করার ক্ষমতা নেই। ভিটামিন সি মূলত উদ্ভিদে পাওয়া যায়, তাই আমরা এটি নিজে তৈরি করতে পারি না এই তথ্যটিই প্রমাণ করে যে আমরা উদ্ভিদের ওপর কতটা নির্ভরশীল। আর এই কারণেই আমাদের দৃষ্টিশক্তি হলো ট্রাইক্রোম্যাটিক বা ত্রিবর্ণ। এটি মাংসাশী প্রাণীদের থেকে একদম আলাদা, যাদের দৃষ্টিশক্তি সাধারণত ডাইক্রোম্যাটিক বা দ্বিবর্ণ হয়ে থাকে। আমরা অনেক বেশি রঙ দেখতে পাই এবং এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন বনের মধ্যে সতেজ ও পাকা ফল খুঁজে বের করার প্রয়োজন হয়।
- ক্রিস্টিনা ওয়ারিনার, লুই সিহোয়োস পরিচালিত তথ্যচিত্র দ্য গেম চেঞ্জার্স (২০১৮)-এ দেওয়া সাক্ষাৎকার।
- মাংস শিল্প এই গ্রহের অন্যতম ধ্বংসাত্মক পরিবেশগত শিল্পগুলোর মধ্যে একটি। শুকর, গরু, ভেড়া, টার্কি এবং মুরগি লালন-পালন ও জবাই করার জন্য কেবল বিশাল এলাকা এবং বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয় তা নয়, বরং এটি মোটরগাড়ি শিল্পের চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে থাকে।
- পল ওয়াটসন, এ ভেরি ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ।
- মানুষ জন্মগতভাবেই অত্যন্ত ভালোবাসাপূর্ণ এক জীব। ভালোবাসা হলো এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি এবং একসময় প্রক্রিয়াটি খুব ধীর হলেও এটি জয়ী হবেই। আমি মনে করি এমন একটি সময় আসবে, যদিও তা আরও অনেক বছর পরের কথা, যখন সভ্য মানুষরা আমাদের প্রজন্ম এবং আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে শিউরে উঠবে। তারা ভাববে, চার পায়ে হেঁটে বেড়ানো অন্য জীবিত প্রাণীদের আমরা খাবার হিসেবে গ্রহণ করতাম এবং আমরা তাদের কেবল হত্যার উদ্দেশ্যেই বড় করে তুলতাম! ভবিষ্যতের মানুষরা আমাদের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করে বলবে "মাংসাশী!" এবং আমাদের তারা ঠিক সেভাবেই দেখবে যেভাবে আমরা বর্তমানে নরমাংসভোজীদের দেখি।
- ডেনিস ওয়েভার, রিন বেরি কর্তৃক সংগৃহীত সাক্ষাৎকার, দ্য ভেজিটেরিয়ানস (ব্রুকলিন, ম্যাসাচুসেটস: অটাম প্রেস, ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৬৪।
- ইউটোপিয়ার সেই আদর্শ জগতে কোথাও কোনো মাংস নেই। অতীতে যদিও সেখানে মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল, কিন্তু এখন আমরা কসাইখানার কথা ভাবলেই সহ্য করতে পারি না। আর যেহেতু সেখানকার পুরো জনসংখ্যাই শিক্ষিত এবং শারীরিক রুচিবোধের দিক থেকে প্রায় একই স্তরে অবস্থান করে, তাই একটি মৃত গরু বা শুকর কাটবে—এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া সেখানে কার্যত অসম্ভব। মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে আমরা কখনো খুব একটা মাথা ঘামাইনি। বরং এই মানবিক দিকটিই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখনও আমার মনে আছে শেষ কসাইখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে মানুষ কতটা আনন্দিত হয়েছিল।
- এইচ.জি. ওয়েলস, এ মডার্ন ইউটোপিয়া, নবম অধ্যায়, দ্য সামুরাই, বিভাগ ৫।
- বেশ অনেক মানুষ এর বিরোধিতা করেছিলেন কারণ এটি মানবজাতির ওপর নির্দিষ্ট কোনো বাতিক বা নিয়ম চাপিয়ে দেয়নি। উদাহরণস্বরূপ, নিরামিষাশীরা চেয়েছিলেন এমন কিছু ধারা যুক্ত করতে যা প্রাণীদের (শুকর ইত্যাদি) আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে।
- এইচ.জি. ওয়েলস, স্যাঙ্কি ডিক্লারেশনের বিরোধিতার প্রেক্ষিতে। গাইড টু দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড, ১৯৪১।
- তাদের কঠোরভাবে বিচার করার আগে আমাদের মনে রাখা উচিত যে আমাদের নিজস্ব প্রজাতি কতটা নির্মমভাবে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। আমরা কেবল বিলুপ্ত বাইসন বা ডোডো পাখির মতো প্রাণীদেরই শেষ করিনি, বরং আমাদের তথাকথিত নিম্নতর জাতিগুলোর ওপরও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছি। তাসমানিয়ানরা মানুষের মতো দেখতে হওয়া সত্ত্বেও ইউরোপীয় অভিবাসীদের চালানো এক নির্মূল যুদ্ধের ফলে মাত্র পঞ্চাশ বছরের মধ্যে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। আমরা কি দয়ার এমন কোনো বার্তাবাহক যে মার্সিয়ানরা যদি আমাদের সাথে ঠিক একই মনোভাব নিয়ে যুদ্ধ করে তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব?
- এইচ.জি. ওয়েলস, দ্য ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস, ১ম অধ্যায়।
- যারা প্রাণীর মাংস খান তারা আসলে পরোক্ষভাবে শস্য এবং শাকসবজিই খাচ্ছেন; কারণ প্রাণী এই সমস্ত জিনিস থেকেই সেই পুষ্টি পায় যা তার বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। শস্য এবং সবজির মধ্যে যে প্রাণশক্তি থাকে তা ভক্ষণকারীর শরীরে স্থানান্তরিত হয়। আমরা প্রাণীর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে সেই শক্তিটুকু গ্রহণ করি। তাই ঈশ্বর আমাদের ব্যবহারের জন্য যে খাবার দিয়েছেন তা সরাসরি গ্রহণ করা কতটা শ্রেয় বা উত্তম!
- এলেন হোয়াইট, হেলথ অ্যান্ড হ্যাপিনেস, ১৯০৫।
- এটি খুব চমৎকারভাবে বলা হয়েছে যে... খাদ্যাভ্যাস সংস্কারের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানোর পথে অনেকগুলো ধাপ বা পদক্ষেপ রয়েছে এবং যদি কেউ কেবল একটি পদক্ষেপও গ্রহণ করে, তবে সেই একক পদক্ষেপটিও এই পৃথিবীতে বেশ প্রভাব ফেলে। যে পদক্ষেপটি স্তন্যপায়ী এবং পাখিদের মতো আমাদের সহজীবীদের জবাই করার বর্বরোচিত অভ্যাসকে চিরতরে পেছনে ফেলে আসে, তা যে সবার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী সেটি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
- হাওয়ার্ড উইলিয়ামস, দ্য এথিকস অফ ডায়েট, ১৮৮৩ সালের ১ম সংস্করণের মুখবন্ধ থেকে।
- আমি দেখেছি খাবারের জন্য লালন-পালন করা প্রাণীদের সাথে কতটা হিংস্র এবং অমানবিক আচরণ করা হয়। আমি সেই নিষ্ঠুরতাকে কোনোভাবেই সমর্থন করতে চাই না। ... আমার থালার ওপর রাখা মাংসের টুকরোটি যে একসময় একটি জীবন্ত এবং নিশ্বাস নেওয়া প্রাণী ছিল—এই সত্যটি আমি আর উপেক্ষা করতে পারছিলাম না কিংবা একে খাবার হিসেবে জায়েজ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ... আমি নিজেকে একজন কট্টর আমিষাশী বলে মনে করতাম, কিন্তু আমি যদি এই অভ্যাস ত্যাগ করতে পারি তবে যে কেউ তা পারবে। বিশ্বাস করুন, এটি বেছে নেওয়া খুবই সহজ একটি বিষয় এবং এটি একটি অত্যন্ত মানবিক পছন্দ।
- ওয়েন ইয়োম্যান, “ওয়েন ইয়োম্যানের ‘ভেজি টেস্টিমোনিয়ালস’,” peta.org (১২ মে ২০০৯)।
- জীবনের এই পর্যায়ে এসে মাংস, রক্ত, নাড়িভুঁড়ি এবং এমন প্রতিটি জিনিস যা একসময় বেঁচে ছিল এবং নিশ্বাস নিত সবই তার কাছে খাবার হিসেবে অত্যন্ত ঘৃণ্য মনে হতো। কারণ মানুষের মতোই প্রাণীরাও নিদারুণ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করে এবং মৃত্যুর সেই তীব্র যন্ত্রণাকে হজম করাটা তার কাছে অত্যন্ত বিতৃষ্ণার বিষয় ছিল।
- মার্গেরিত ইয়োরসেনার, দ্য অ্যাবিস, অনুবাদক গ্রেস ফ্রিক (হেনলি-অন-টেমস: এইডান এলিস, ১৯৮৪। মূলত ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত), পৃষ্ঠা ১৯০।

- অনেক বছর আগে আমি হ্যামবারগার সম্পর্কে এমন একটি তথ্য জানতে পারি যা আমার মধ্যে চরম বিতৃষ্ণা জাগিয়ে তুলেছিল। আপনারা হয়তো এটি জানেন না, তাই আমি আশা করব আমার এই কথায় আপনাদের শরীর খারাপ লাগবে না; তবে বিষয়টি হলো হ্যামবারগার আসলে মৃত গরুর মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়। আমি কিন্তু এটি মোটেও বানিয়ে বলছি না। বলাই বাহুল্য, আমি যখনই এই বিষয়টি জানতে পারি, তখনই পুরোপুরিভাবে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।
- উইয়ার্ড আল ইয়াঙ্কোভিক, সেলিব্রিটি বেবি স্কুপ সাক্ষাৎকার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১১
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- অহিংসা
- প্রাণী
- বৌদ্ধ নিরামিষবাদ
- খ্রিস্টীয় নিরামিষবাদ
- ইহুদি নিরামিষবাদ
- নিবিড় পশুপালন পদ্ধতি
- মাংস
- জৈব খাদ্য
- কসাইখানা
- প্রজাতিবাদ
- ভেগানবাদ