নির্বাচন














নির্বাচন হলো একটি আনুষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণ সরকারি পদের দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো ব্যক্তিকে বেছে নেয়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- যখন বার্ষিক নির্বাচন শেষ হয়, তখনই দাসত্ব শুরু হয়।
- জন অ্যাডামস, জর্জ ওয়াইদের কাছে লেখা চিঠি (এপ্রিল ১৭৭৬)।
- আমি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে এমন একটি নিরাপত্তা হিসেবে মনে করি যাতে জনগণের সুস্থির ও সুচিন্তিত ভাবনা আইনে পরিণত হয়।
- ফিশার এমস, ম্যাসাচুসেটস কনভেনশনে দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ওপর দেওয়া ভাষণ (জানুয়ারি ১৭৮৮); সেথ এমস ও জন থর্নটন কার্কল্যান্ড সম্পাদিত ওয়ার্কস অফ ফিশার এমস উইথ আ সিলেকশন ফ্রম হিজ স্পিচেস অ্যান্ড করেসপন্ডেন্স (১৮৫৪) বর্ণিত, পৃষ্ঠা ৭।
- আমি ভিড়ের কাছে বলতাম যে, আমি একবার এক গ্রামীণ ভোটারের কাছে গিয়েছিলাম আর এটা শুনে আকাশ থেকে পড়েছিলাম যে তিনি আমার বিরোধী পক্ষকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। আমি তাকে মনে করিয়ে দিলাম যে সরকারি উকিল, কাউন্টি জজ, কংগ্রেস সদস্য আর সিনেটর হিসেবে আমি তার জন্য কত কিছু করেছি। আমি তাকে মনে করিয়ে দিলাম কীভাবে তার খামারের জন্য একটা রাস্তার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আহত হওয়ার পর ফ্রান্সের হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম, তাকে যুদ্ধফেরত সৈনিকদের ভাতা পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছিলাম, ফার্ম ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে তার ঋণের ব্যবস্থা করেছিলাম, ঘরবাড়ি বন্যায় ভেসে যাওয়ার পর তাকে দুর্যোগকালীন ঋণ পাইয়ে দিয়েছিলাম, আরও কত কী!
এই লম্বা তালিকার শেষে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, "এত কিছুর পরও আপনি আমার বিরোধী পক্ষকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন কীভাবে? আমার করা এইসব উপকারের কথা কি আপনার একটাও মনে নেই?"
"হ্যাঁ", তিনি বললেন, "মনে তো আছে। কিন্তু ইদানীং ছাই আপনি আমার জন্য কী করেছেন?"- আলবেন ডব্লিউ. বার্কলি, দ্যাট রিমাইন্ডস মি— (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ১৬৫। বার্কলি প্রথম এই গল্পটি বলেছিলেন ১৯৩৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের জন্য কেন্টাকির ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে তার পুনর্নির্বাচনী প্রচারণার সময়।
- ভোট, বিশেষ্য: স্বাধীন মানুষের নিজেকে বোকা বানানোর এবং নিজের দেশকে ধ্বংস করার একটা হাতিয়ার ও প্রতীক।
- অ্যামব্রোজ বিয়ার্স, দ্য ডেভিলস ডিকশনারি (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৩৫৯। মূলত ১৯০৬ সালে দ্য সিনিকস ওয়ার্ড বুক নামে প্রকাশিত হয়েছিল।
- একটি স্বাধীন দেশে আইনপ্রণেতাদের বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের মতামত দিতে পারার চেয়ে মূল্যবান অধিকার আর কিছু নেই—কারণ এই আইনগুলোর অধীনেই সুনাগরিক হিসেবে আমাদের বাঁচতে হয়। এমনকি সবচেয়ে মৌলিক অধিকারগুলোও অর্থহীন হয়ে পড়ে যদি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। আমাদের সংবিধানে এমন কোনো সুযোগ নেই যেখানে অকারণে মানুষের এই অধিকারকে খর্ব করা যায়।
- হুগো ব্ল্যাক, ওয়েসবারি বনাম স্যান্ডার্স, ৩৭৬ ইউ.এস. ১ (১৯৬৪)এর সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়, পৃষ্ঠা ১৭-১৮; গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে ভোটাধিকার প্রসঙ্গে।
- আমাদের সামনে আসা এই ভয়ংকর বিপদ আমরা কীভাবে কাটাব? আমাদের পূর্বপুরুষদের সমাধি থেকে এর উত্তর আসে: ঘন ঘন নতুন নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে। স্বাধীন সরকারকে বাঁচানোর জন্য এর চেয়ে বড় কোনো পথ বা আশা এই পৃথিবীতে আর নেই। ইতিহাস যদি আমাদের এটি না শেখায়, তবে বুঝতে হবে আমরা ইতিহাসটা ভুল পড়েছি।
- জেরেমিয়া এস. ব্ল্যাক, "দ্য থার্ড টার্ম: রিজনস অ্যাগেইনস্ট ইট"; প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ (মার্চ ১৮৮০); চউনসি এফ. ব্ল্যাক সম্পাদিত এসেস অ্যান্ড স্পিচেস অফ জেরেমিয়া এস. ব্ল্যাক (১৮৮৬) পুনঃপ্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৩৮৩।
- প্রতি চার বছর পর পর লিবার্টি আইল্যান্ডের নাগরিকরা উইশি-ওয়াশি-কে ভোট দেয়। তারা আলু সেদ্ধ, আলু ভাজার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারে। কিন্তু যেভাবেই পরিবেশন করা হোক না কেন, দিনশেষে সেই একই আলু।
- জিয়ানিনা ব্রাস্কি, পুয়ের্তো রিকান উপন্যাস ইউনাইটেড স্টেটস অফ বানানা (২০১১), পৃষ্ঠা ৭।
- নির্বাচনে আসলে আমরা কী খুঁজি? নির্বাচনের আসল উদ্দেশ্য পূরণ করতে হলে আপনাকে প্রথমে লোকটির যোগ্যতা বিচার করার উপায় থাকতে হবে; আর তারপর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা বা নির্ভরশীলতার মাধ্যমে তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
- এডমান্ড বার্ক, "রিফ্লেকশনস অন দ্য রেভোলিউশন ইন ফ্রান্স" (১৭৯০), দ্য ওয়ার্কস অফ দ্য রাইট অনারেবল এডমান্ড বার্ক (১৮৯৯), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৮৩ পুনঃপ্রকাশিত।
- জলদি ভোট দিন, বারবার ভোট দিন।
- আল কাপোন, আউটসোর্সিং ল গ্রুপ কর্তৃক উদ্ধৃত, প্র্যাকটিস গাইড অন এক্সিট সার্ভিসেস ইন আউটসোর্সিং, পৃষ্ঠা ৬, মে ২০১৪ সালে প্রকাশিত।
- নির্বাচনের দিন আমি ঘরেই থাকি। এর দুটো কারণ আছে: প্রথমত, ভোট দেওয়া একেবারেই অর্থহীন; এই দেশ অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতি চার বছর পর পর ওরা যেসব ফালতু জিনিসের মোড়ক বদলে আমাদের সামনে হাজির করে, সেগুলোর কোনো দাম নেই। দ্বিতীয়ত, আমি ভোট দিই না কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে—আপনি যদি ভোট দেন, তবে আপনার অভিযোগ করার কোনো অধিকার নেই। আমি জানি অনেকে এটাকে ঘুরিয়ে বলে, "ভোট না দিলে অভিযোগ করার অধিকার থাকে না।" কিন্তু এর মধ্যে যুক্তি কোথায়? একটু ভেবে দেখুন: আপনি যদি ভোট দিয়ে একদল অসাধু আর অপদার্থ রাজনীতিককে জেতান এবং সব কিছু গোল্লায় পাঠান, তবে তারা যা করেছে তার জন্য আপনিই দায়ী। আপনিই তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছেন। সমস্যাটা আপনারই তৈরি। তাই আপনার অভিযোগ করার কোনো মুখ নেই। অন্যদিকে আমি, যে কি না ভোট দিইনি—এমনকি নির্বাচনের দিন বাড়ি থেকেই বের হইনি—আমি কোনোভাবেই এই রাজনীতিকদের কাজের জন্য দায়ী নই। তাই আপনার তৈরি করা এই লেজেগোবরে অবস্থা নিয়ে অভিযোগ করার পুরো অধিকার আমার আছে। কেন মানুষ এই সহজ কথাটা বোঝে না?
- জর্জ কার্লিন, নেপাম অ্যান্ড সিলি পুটি (২০০১)।
- ভোটারদের উচিত সবকিছু খতিয়ে দেখা, তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে কোনো মোহ রাখা ঠিক নয়। এটা মনে রাখতে হবে যে, কয়েক শতাব্দী ধরে প্রগতিশীল আইন আর সমাজকল্যাণ সবসময় সাধারণ মানুষের সংগ্রামের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে; এগুলো ওপর থেকে পাওয়া কোনো দয়ার দান নয়।
- নির্বাচন প্রসঙ্গে নোম চম্স্কি, মেকিং দ্য ফিউচার: অকুপেশনস, ইন্টারভেনশনস, এম্পায়ার অ্যান্ড রেজিস্ট্যান্স। পেঙ্গুইন বুকস লিমিটেড। ২০১২। পৃষ্ঠা ৮৩। আইএসবিএন 978-0-14-196787-5।
- ভোট দেওয়ার চমৎকার সব পরিকল্পনা দিয়ে আপনার জাহাজ কেপ হর্ন পার হতে পারবে না। জাহাজের ডেকে বা নিচে আপনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল আর সাংবিধানিক উপায়ে যা খুশি ভোট দিয়ে ঠিক করতে পারেন; কিন্তু কেপ হর্ন ঘোরার সময় জাহাজটি এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে যা আগে থেকেই নির্ধারিত। প্রকৃতির আদি শক্তিগুলো সেসব নিয়ম এমনভাবে গেঁথে দিয়েছে যেখানে আপনার ভোটের কোনো তোয়াক্কা করা হয় না। আপনি ভোট দিয়ে হোক বা না দিয়ে, যদি সেই পরিস্থিতিগুলো বুঝতে পারেন আর সাহসের সাথে সেগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পারেন, তবেই আপনি কেপ হর্ন পার হতে পারবেন। আর যদি না পারেন, তবে বুনো বাতাস আপনাকে বারবার পিছু হটিয়ে দেবে; বিশৃঙ্খলা থেকে আসা ক্ষমাহীন হিমশৈলগুলো আপনাকে ধাক্কা দিয়ে গুঁড়িয়ে দেবে। আপনি আধমরা হয়ে পাহাড়ের খাঁজে ছিটকে পড়বেন অথবা সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যাবেন; কিন্তু কেপ হর্ন কোনোদিনই পার হতে পারবেন না!
- টমাস কার্লাইল, লেটার-ডে প্যামফ্লেটস, দ্য প্রেজেন্ট টাইম ১৮৫০।
- নাম এগো ইন ইস্তা সুম সেন্তেন্তিয়া, কুয়া তে ফুইসে সেম্পের স্কিও, নিহিল উত ফিউরিত ইন সুফরাহিয়াস ভোসে মেলিয়াস।
- আমি সেই মতই পোষণ করি যা আপনি সবসময় বিশ্বাস করেছেন—নির্বাচনে সরাসরি মুখে বলে ভোট দেওয়াই হলো সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।
- সিসেরো, ডি লেগিবাস, ৩. ১৫। ফিলিপিক্স, ৪. ৪। ট্যাসিটাস, অ্যাগ্রিকোলা, অধ্যায় ৩।
- আইন নিজেই শাসক শ্রেণির একটি হাতিয়ার; তাই অন্য কোনো শ্রেণির পক্ষে আইন মেনে ক্ষমতা দখল করা আসলে অসম্ভব।
- অলিভার সি. কক্স, কাস্ট, ক্লাস, অ্যান্ড রেস: আ স্টাডি ইন সোশ্যাল ডায়নামিকস (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৬৪।
- সর্বহারা শ্রেণি কোনো বুর্জোয়া সংসদে ভোট দিয়ে সমাজতন্ত্র আনতে পারে না, কারণ পুঁজিবাদীরা নিজেদের তৈরি অস্ত্র দিয়ে নিজেদের ধ্বংস হতে দেবে না। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কলকব্জাগুলো বুর্জোয়ারা তাদের নিজেদের শ্রেণির স্বার্থেই তৈরি করেছে; তাই নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে শ্রমিক শ্রেণিকে তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়ে নিতে হবে।
- অলিভার কক্স, কাস্ট, ক্লাস, অ্যান্ড রেস: আ স্টাডি ইন সোশ্যাল ডায়নামিকস (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ২০০।
- ভোট আসলে হওয়া উচিত একটি সুনির্দিষ্ট ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ, এমন একজন প্রতিনিধিকে বেছে নেওয়া যিনি নিজের দেশের এবং বিশ্বের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তার ভোটারদের নিজস্ব স্বার্থগুলো রক্ষা করতে পারবেন।
- সিমন দ্য বোভোয়ার, দ্য এথিকস অফ অ্যাম্বিগুইটি। ফিলোসফিক্যাল লাইব্রেরি। ১৯৪৮। আইএসবিএন 978-0-8065-0160-4। ৩য় অংশ: দ্য পজিটিভ অ্যাসপেক্ট অফ অ্যাম্বিগুইটি
- পুঁজিবাদী শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাটিক, পপুলিস্ট এবং প্রোহিবিশন দলগুলো। এই সব কটি দলই উৎপাদনের উপায়ের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা বজায় রাখার পক্ষে। এর মধ্যে যে দলই জিতুক না কেন, তার মানে হবে শ্রমিক শ্রেণির জন্য সেই পুরনো মজুরি-দাসত্ব বজায় থাকা।
- ইউজিন ভি. ডেবস, "দ্য সোশ্যালিস্ট পার্টি অ্যান্ড দ্য ওয়ার্কিং ক্লাস" (১৯০৪)
মানুষের শাসনে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে কাদের বাদ দেওয়া যেতে পারে? পৃথিবী বারবারই এর উত্তর দিয়েছে:
অজ্ঞদের
অনভিজ্ঞদের
পরনির্ভরশীলদের
অনিচ্ছুকদেরঅর্থাৎ, আমরা ধরে নিয়েছি যে কেবল বুদ্ধিমানদেরই ভোট দেওয়া উচিত, অথবা যারা মানুষকে শাসন করতে জানে, অথবা যারা কোনো দয়ালু অভিভাবকের অধীনে নেই, কিংবা যারা এই অধিকারের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা রাখে।
এই বিধিনিষেধগুলো ভোটাধিকার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কোনো যুক্তি নয়—বরং এগুলো বর্তমান প্রকৃত শাসকদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেওয়া অজুহাত মাত্র। উদাহরণস্বরূপ, আমরা খুব সহজেই বলি, "অজ্ঞদের ভোট দেওয়া উচিত নয়।" আমাদের বলা উচিত, "কোনো সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিকরাই সরকারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এত অজ্ঞ হওয়া উচিত নয়।" আর এই কথাটিই আমাদের এই বাস্তবতার দিকে নিয়ে যায় যে: এমন কোনো রাষ্ট্রই সভ্য নয় যার নাগরিকরা দেশ শাসনে সহায়তা করার জন্য যথেষ্ট অজ্ঞ। অন্য কথায়, শিক্ষা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পূর্বশর্ত নয়—বরং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণই হলো গণশিক্ষার মূল কারণ।
- ডব্লিউ. ই. বি. ডু বোইস, "অফ দ্য রুলিং অফ মেন," ডার্কওয়াটার: ভয়েসেস ফ্রম উইদিন দ্য ভেইল (১৯২০)
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিতর্কের গুরুত্ব নিয়ে আমার গুরুতর সন্দেহ আছে। এগুলো অংশগ্রহণকারীদের আদর্শ বা কর্মসূচির প্রকৃত ব্যাখ্যার চেয়ে তাদের উপস্থিত বুদ্ধি বা চটজলদি জবাব দেওয়ার ক্ষমতার পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। তা ছাড়া, বিতর্কের সময় প্রার্থীরা অনেক সময় তাদের মতামতে অতিরঞ্জন করে থাকেন। ১৯৬০ সালের প্রেক্ষাপটে আমার একটি বাস্তব আপত্তি ছিল: নিক্সন তখন সবার পরিচিত ছিলেন, কিন্তু কেনেডি তেমন ছিলেন না; তাই বড় কোনো বিতর্ক কেনেডিকেই বেশি সাহায্য করত।
- ড্রুইট ডি. আইজেনহাওয়ার, দ্য হোয়াইট হাউস ইয়ার্স (১৯৬৫), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৯৯, পাদটীকা।
- “আমি একজন অভিজ্ঞ কৌশলী। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করতেন, তবে ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস ভুল পথে যাওয়া থেকে বেঁচে যেত। আর যেহেতু আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেননি, সেহেতু আমি আমার স্ত্রীর অনুযোগ থেকে বেঁচে গেছি!”
- এরকিন একরেম, শোহরত হোশুরের লেখা "হোয়াই উইঘুর লিডার্স টেল জোকস: আ হেলদি ডেমোনস্ট্রেশন অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স" নিবন্ধে উদ্ধৃত, বিটার উইন্টার (২৩ ডিসেম্বর ২০২১)।
- নির্বাচন আসছে। এখন বিশ্বশান্তি ঘোষণা করা হয়েছে এবং শিয়ালদের এখন মুরগিদের আয়ু বাড়ানোর ব্যাপারে ভারী আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
- জর্জ এলিয়ট, ফেলিক্স হোল্ট (১৮৬৬)।
- ভোট দেওয়া মানে মধ্যবিত্ত শ্রেণির গায়ের জোরে গড়ে তোলা এক মেকি গণতন্ত্রের অংশ হওয়া। ... রাজনৈতিক খেলা আমাদের সমাজে কোনো বড় পরিবর্তন আনতে পারে না এবং আমাদের অবশ্যই এতে অংশ নিতে আমূল প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
- জাক এলুল, অ্যানার্কি অ্যান্ড ক্রিশ্চিয়ানিটি (১৯৮৮), পৃষ্ঠা ১৪।

- প্রেসিডেন্ট আর কংগ্রেস নির্বাচনের রেশ যখন কেটে যাবে, তখন আমরা আইন তৈরির কাজগুলো আরও ভালোভাবে করতে পারব বলে আমার আশা।
- জেমস এ. গারফিল্ড, জেনারেল হ্যাজেনের কাছে লেখা চিঠি (১ আগস্ট ১৮৬৭); সামরিক বাহিনীর আকার ছোট করার জন্য আইন পাসের ক্ষেত্রে তার সমস্যার বিষয়ে। দ্য লাইফ অ্যান্ড লেটারস অফ জেমস অ্যাব্রাহাম গারফিল্ড (১৯২৫), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪২১।
- আসুন আমরা এই অদ্ভুত আর বিবেকহীন গোঁড়ামিতে বিশ্বাস না করি যে চামড়ার রঙ হবে ভোটাধিকারের ভিত্তি বা স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। আমি স্বীকার করি যে অজ্ঞ আর অবহেলিতদের ভোটাধিকার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ; কিন্তু যদি শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো পরীক্ষা চালু করা না যায়, তবে রঙ নির্বিশেষে উপযুক্ত বয়সের সকল মানুষের জন্য ভোটাধিকার উন্মুক্ত করা হোক। কৃষ্ণাঙ্গরা আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃতি সমান অজ্ঞ বিদেশিদের চেয়ে ভালো বোঝে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। যুদ্ধের শুরু থেকেই সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছিল এটা বোঝার জন্য যে তার জাতির ভাগ্য এর সাথে জড়িত। সে সেই ইউনিয়নের প্রতি অনুগত থাকার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছিল, যাকে তার শিক্ষিত আর বিশ্বাসঘাতক মনিব ধ্বংস করার চেষ্টা করছিল। আমাদের চরম বিপদের সময়ে সে এগিয়ে এসেছিল এবং ঈশ্বরের কৃপায় তার সহায়তায় প্রজাতন্ত্র রক্ষা পেয়েছিল। আমরা কি এখন তাকে এই আশির্বাদ থেকে বঞ্চিত করার মতো চরম নীচতা দেখাব? আমরা কি তার ভাগ্যকে সেইসব ক্ষমা পাওয়া বিদ্রোহীদের দয়ার ওপর ছেড়ে দেব, যারা অত্যন্ত অনিচ্ছার সাথে তার ঘাড় থেকে পা আর গলা থেকে হাত সরাতে বাধ্য হয়েছে? কেউ কেউ বলেন এখন নতুন কোনো পরীক্ষা করা বিপজ্জনক। আমি উত্তরে বলব, ন্যায়বিচার করা সবসময়ই নিরাপদ। যাই হোক, এই দেশে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে ভোটাধিকার দেওয়া কোনো নতুন উদ্ভাবন নয়, বরং এটি একটি পুনরুদ্ধার। এটি আমাদের আদিপুরুষদের প্রাচীন নীতি আর অভ্যাসে ফিরে যাওয়া মাত্র।
- জেমস এ. গারফিল্ড, ওহাইওর রাভেনাতে দেওয়া ভাষণ (৪ জুলাই ১৮৬৫)
- খারাপ স্থানীয় সরকার অবশ্যই একটি বড় আপদ, যা ঠেকানো উচিত; কিন্তু ভোটাধিকারের স্বাধীনতা আর পবিত্রতা লঙ্ঘন করা সেই আপদের চেয়েও বড় কিছু। এটি একটি অপরাধ, যা চলতে থাকলে সরকার ব্যবস্থা নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়। অন্যান্য দেশে রাজার মৃত্যু কামনা করা যদি রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়, তবে আমাদের সার্বভৌম ক্ষমতাকে শ্বাসরোধ করা আর তার কণ্ঠরোধ করাও এখানে কম বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
- জেমস এ. গারফিল্ড, অভিষেক ভাষণ (১৮৮১)
- আমি সবসময় দলের নির্দেশেই ভোট দিয়েছি,
আর নিজের মতো করে কিছু ভাবার চিন্তা কোনোদিন করিনি।- ডব্লিউ. এস. গিলবার্ট, এইচ. এম. এস. পিনাফোর, হয়েটস নিউ সাইক্লোপিডিয়া অফ প্র্যাকটিক্যাল কোটেশনস (১৯২২)।
- বহুচলকীয় বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয় যে অর্থনৈতিক অভিজাত শ্রেণি এবং ব্যবসায়ী স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী সুসংগঠিত গোষ্ঠীগুলোর মার্কিন সরকারের নীতির ওপর ব্যাপক স্বাধীন প্রভাব রয়েছে, যেখানে সাধারণ নাগরিক এবং গণভিত্তি সম্পন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলোর স্বাধীন প্রভাব নেই বললেই চলে। এই ফলাফলগুলো অর্থনৈতিক-অভিজাতদের আধিপত্য এবং পক্ষপাতদুষ্ট বহুত্ববাদের তত্ত্বগুলোকে জোরালোভাবে সমর্থন করে, কিন্তু সংখ্যাগুরুভিত্তিক নির্বাচনী গণতন্ত্র বা সংখ্যাগুরুবাদী বহুত্ববাদের তত্ত্বগুলোকে সমর্থন করে না।
- মার্টিন গিলেন্স এবং বেঞ্জামিন আই. পেজ, "টেস্টিং থিওরিজ অফ আমেরিকান পলিটিকস: এলিটস, ইন্টারেস্ট গ্রুপস, অ্যান্ড অ্যাভারেজ সিটিজেন্স," পারসপেক্টিভস অন পলিটিকস, খণ্ড ১২, সংখ্যা ৩ (সেপ্টেম্বর ২০১৪)
- ভোটাধিকার একবার দেওয়া হলে তা আর কেড়ে নেওয়া যায় না, আর এখন আমাদের কাজ হলো যারা এই অধিকার পেয়েছে তাদের সুরক্ষা দিয়ে এই উপহারকে সার্থক করে তোলা।
- জেমস এ. গারফিল্ড, অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড উইথ জেনারেল গ্র্যান্ট (১৮৭৯) উদ্ধৃত।
- এই অতি সাম্প্রতিক অর্জনগুলো মৃতদেহের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে মতামত দেওয়ার অধিকার পাওয়ার জন্য পরম রাজতন্ত্র, ধনী অভিজাত, রাজকীয় বিশপ, ঔপনিবেশিক শাসক, জমিদার এবং শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তারা ব্যারিকেডে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে, তলোয়ারধারী অশ্বারোহী বাহিনীর হামলার মুখে বিক্ষোভ করেছে, ট্যাংকের নিচে পিষ্ট হয়েও অবস্থান ধর্মঘট চালিয়েছে। নির্বাচনের দিন যারা বাড়িতে বসে থাকে, তারা এই মানুষদের অপমান করে।
- এ. সি. গ্রেইলিং, লাইফ, সেক্স, অ্যান্ড আইডিয়াস: দ্য গুড লাইফ উইদাউট গড (২০০২), আইএসবিএন ০-১৯-৫১৭৭৫৫-এক্স, অধ্যায় ২২, "ভোটিং"
- সংশয়বাদী আর অলসরা মনে করেন যে তাদের একটি মাত্র ভোটে কোনো পার্থক্য হবে না। তারা ভুল কাজের ক্ষেত্রেও ভুল: ফ্লোরিডায় আল গোরের ভাগ্যের মতো কিছু কিছু নির্বাচনের ফলাফল সামান্য কয়েকটি ভোটের ওপর নির্ভর করে; আবার নীতির ক্ষেত্রেও ভুল: কারণ প্রতিটি ভোটদানে অনিচ্ছা হলো এক ধরণের আত্ম-ভোটাধিকার বর্জন, যার মাধ্যমে একজন নাগরিক ইতিহাসের সমস্ত প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করে নিজেকে দাসে পরিণত করেন।
- এ. সি. গ্রেইলিং, লাইফ, সেক্স, অ্যান্ড আইডিয়াস: দ্য গুড লাইফ উইদাউট গড (২০০২), আইএসবিএন ০-১৯-৫১৭৭৫৫-এক্স, অধ্যায় ২২, "ভোটিং"

- কৃষ্ণবর্ণের মানুষদের তখনই ভোট দিতে দেওয়া হোক যখন তারা এর যোগ্য হবে; আর শ্বেতবর্ণের মানুষরা যখন অযোগ্য হবে তখন তাদের ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ করা হবে।
- ওয়াররেন জি. হার্ডিং, আলাবামার বার্মিংহামের উড্রো উইলসন পার্কে শহরের পঞ্চাশতম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি পৃথকীকৃত ও মিশ্র বর্ণের শ্রোতাদের সামনে দেওয়া ভাষণ; বার্মিংহাম পোস্টে প্রকাশিত (২৭ অক্টোবর ১৯২১); কার্ল ভি. হ্যারিস রচিত পলিটিক্যাল পাওয়ার ইন বার্মিংহাম, ১৮৭১-১৯২১ (১৯৭৭) উদ্ধৃত, ইউনিভার্সিটি অফ টেনাসি প্রেস, আইএসবিএন 087049211X।
- স্বাধীন মানুষ তার অবিক্রিত হাত দিয়ে যখন ভোট দেয়, সেই ভোটই দেশের ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেয়।
- ওলিভার ওয়েন্ডেল হোমস সিনিয়র, পোয়েট্রি, আ মেট্রিকাল এসে, ৮৩ নম্বর লাইন।
- সব মানুষকে আসতে দিন এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে দিন; কোনো মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার অস্বীকার করা মানে হলো কোনো একটি পক্ষকে সমর্থন করা।
- হল্ট, সি. জে., অ্যাশবি বনাম হোয়াইট (১৭০৩), ২ রেইম. রেপ. ৯৫৮; জেমস উইলিয়াম নর্টন-কাইশ-এর ডিকশনারি অফ লিগ্যাল কোটেশনস (১৯০৪), পৃষ্ঠা ২৪৪-২৪৫ বর্ণিত।
- নোঁ এগো ভেন্তোসে প্লেবিস সুফরাহিয়া ভেনোর।
- আমি চঞ্চল জনতার ভোটের তোয়াক্কা করি না।
- হোরাস, এপিসেলস ১. ১৯. ৩৭।
- যদি একটি নির্বাচন আমাদের সবকিছু কেড়ে নিতে পারে, তবে গোড়াতেই আমাদের কাছে আসলে ঠিক কী আছে?
- মাইকেল হর্টন, "হোয়াট আর ইভানজেলিকালস অ্যাফ্রেইড অফ লুজিং?" (৩১ আগস্ট ২০১৮), ক্রিশ্চিয়ানিটি টুডে।
- আমরা সবাই সেরা মানুষটিকেই ভোট দিতে চাই, কিন্তু তিনি কখনোই প্রার্থী হন না।
- কিন হাবার্ড, দ্য বেস্ট অফ কিন হাবার্ড (১৯৮৪), ১ম অংশ, পৃষ্ঠা ১৪। হাবার্ডের গ্রামীণ ঋষি আবে মার্টিনের এই প্রবাদগুলো ১৯০৪–১৯৩০ সাল পর্যন্ত অনেক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।
- যখন কোনো নির্বাচন হয়, তখন তা ক্ষমতার কারিগরদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার বদলে বরং আরও শক্তিশালী করে। যখন আমরা এই নির্বাচনে বাধা দেওয়ার বদলে জেতার জন্য অংশ নিই, তখন আমরা আসলে একে আরও বৈধ করে তুলি।
- জর্জ এল. জ্যাকসন, ব্লাড ইন মাই আই (১৯৭১), পৃষ্ঠা ২৬।
- দশজন ভিন্ন ভিন্ন ফ্যাসিবাদীর মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া মানে হলো আপনি কীভাবে মরতে চান তা বেছে নেওয়ার মতো। তথাকথিত উচ্চ সরকারি পদে আসীন ব্যক্তি সর্বদা ঘৃণিত শাসক করপোরেট শ্রেণিরই একটি অংশ মাত্র।
- জর্জ এল. জ্যাকসন, ব্লাড ইন মাই আই (১৯৭১), পৃষ্ঠা ৭২।
- আমাদের লক্ষ্য একাধারে এই দেশের সবচেয়ে পুরনো এবং সবচেয়ে মৌলিক: অন্যায় দূর করা, ন্যায়বিচার করা, মানুষের সেবা করা...। কারণ প্রতিটি আমেরিকানের অবশ্যই ভোট দেওয়ার অধিকার থাকতে হবে। আর আমরা তাদের সেই অধিকার দিতে যাচ্ছি। বর্ণ নির্বিশেষে সকল আমেরিকানকে নাগরিকত্বের সুযোগ-সুবিধা পেতে হবে। আর তারা বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকত্বের সেই সুযোগ-সুবিধাগুলো পাবেই।
- প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন, "দ্য আমেরিকান প্রমিজ", কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ, ১৫ মার্চ ১৯৬৫। পাবলিক পেপারস অফ দ্য প্রেসিডেন্টস অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস: লিন্ডন বি. জনসন, ১৯৬৫, বই ১, পৃষ্ঠা ২৮১, ২৮৬। তিনি কংগ্রেসের কাছে পেশ করতে যাওয়া নাগরিক অধিকার বিল নিয়ে কথা বলছিলেন।
- ১৯৫৭ সালে, মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে, সকল মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আইনের সমর্থনে আমি বলেছিলাম, এই ভোট দেওয়ার অধিকারই হলো সেই মৌলিক অধিকার যা ছাড়া অন্য সব অধিকারই অর্থহীন। এটি মানুষকে, ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে তাদের নিজেদের ভাগ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ দেয়।
- প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন, ভোটাধিকার আইন (ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট) স্বাক্ষরের সময় ক্যাপিটল রোটান্ডায় দেওয়া প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসনের বক্তব্য (৬ আগস্ট ১৯৬৫)। উৎস: পাবলিক পেপারস অফ দ্য প্রেসিডেন্টস অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস: লিন্ডন বি. জনসন, ১৯৬৫। খণ্ড ২, এন্ট্রি ৩৯৪, পৃষ্ঠা ৮১১-৮১৫। ওয়াশিংটন ডি. সি.: গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং অফিস, ১৯৬৬।
- প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস এবং আইন ও মামলা ভোটকেন্দ্রের দরজা খুলে দিতে পারে এবং সেই চমৎকার সব প্রাপ্তির পথ দেখাতে পারে যা ব্যালটের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু কেবল সেই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি এবং অন্য সকল মানুষ যাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তারাই প্রকৃতপক্ষে সেই দরজা দিয়ে ভেতরে যেতে পারে, সেই অধিকার ব্যবহার করতে পারে এবং ভোটকে ন্যায়বিচার ও সফলতার এক হাতিয়ারে পরিণত করতে পারে।
- প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন, ভোটাধিকার আইন (ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট) স্বাক্ষরের সময় ক্যাপিটল রোটান্ডায় দেওয়া প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসনের বক্তব্য (৬ আগস্ট ১৯৬৫)। উৎস: পাবলিক পেপারস অফ দ্য প্রেসিডেন্টস অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস: লিন্ডন বি. জনসন, ১৯৬৫। খণ্ড ২, এন্ট্রি ৩৯৪, পৃষ্ঠা ৮১১-৮১৫। ওয়াশিংটন ডি. সি.: গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং অফিস, ১৯৬৬।
- আপনি যদি এটি করেন, তবে অন্যদের মতো আপনিও দেখতে পাবেন যে— ভোট হলো মানুষের উদ্ভাবিত সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার যা অবিচার ভেঙে ফেলার জন্য এবং সেই ভয়ংকর দেয়ালগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে যা মানুষকে বন্দি করে রাখে কারণ তারা অন্য মানুষের চেয়ে আলাদা।
- প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন, ভোটাধিকার আইন (ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট) স্বাক্ষরের সময় ক্যাপিটল রোটান্ডায় দেওয়া প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসনের বক্তব্য (৬ আগস্ট ১৯৬৫)। উৎস: পাবলিক পেপারস অফ দ্য প্রেসিডেন্টস অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস: লিন্ডন বি. জনসন, ১৯৬৫। খণ্ড ২, এন্ট্রি ৩৯৪, পৃষ্ঠা ৮১১-৮১৫। ওয়াশিংটন ডি. সি.: গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং অফিস, ১৯৬৬।
- নির্বাচনের সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ভোটারদের সামনে বিকল্প পছন্দ থাকা।
- ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ কারা-মুর্জা, "অ্যাজ দ্য ক্রেমলিন টাইটেনস দ্য স্ক্রুস, ইট ইনভাইটস পপুলার রিভল্ট" (২০ জুলাই ২০১৭), ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স জার্নাল।
- ব্যবধানটা খুব সামান্য, তবে দায়িত্বটা স্পষ্ট।
- জন এফ. কেনেডি, সংবাদ সম্মেলন (১০ নভেম্বর ১৯৬৩)। ট্রান্সক্রিপ্ট, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (১১ নভেম্বর ১৯৬৩), পৃষ্ঠা ২০। থিওডোর সোরেনসেনের কেনেডি (১৯৬৫)-তে এই শব্দগুলোর পরে লেখা ছিল: "কংগ্রেসের সাথে সমস্যা হতে পারে, তবে মাত্র একটি ভোটের ব্যবধানও একটি গণরায় হিসেবে গণ্য হবে" (পৃষ্ঠা ২১৯)।
- উনবিংশ শতাব্দীর পুঁজিবাদী বুর্জোয়ারা (মূলত উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণি) এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থার পক্ষে ছিল যা নিম্নবিত্তদের এমনকি সরকারের ওপর পরোক্ষ প্রভাব থেকেও দূরে রাখত। মধ্যবিত্ত "গণতন্ত্রপন্থীরা" প্রায়ই কায়িক শ্রমিকদের ভয় পেতেন, কারণ শ্রমিকরা প্রায়ই অভিজাতদের পক্ষ নিতেন। তারা রাজনৈতিকভাবে কৃষকদেরও ঘৃণা করতেন। এর কারণ ছিল একদিকে শহরের প্রতি গ্রাম্য মানুষের জমে থাকা সহজাত ক্ষোভ এবং অন্যদিকে কৃষক সমাজের রক্ষণশীল ও পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো ও মানসিকতা। এই "গণতন্ত্রপন্থীরা" দীর্ঘদিন ধরে সর্বজনীন ভোটাধিকার দিতে রাজি ছিলেন না। তারা ভেন্ডিতে প্যারিসের বুর্জোয়া বিপ্লবের বিরুদ্ধে কৃষক ও অভিজাতদের বিদ্রোহ, ধনলিপ্সু হাউস অফ হ্যানোভারের বিরুদ্ধে স্কটিশ হাইল্যান্ডারদের লড়াই এবং মূলত যাজক ও কৃষকদের নিয়ে মধ্য ইউরোপে ক্যাথলিক দল গঠনের মতো ঘটনাগুলো দেখে আতঙ্কিত ছিলেন। কেবল বিংশ শতাব্দীতে এসে সমাজতন্ত্রীদের ক্রমাগত চাপের মুখে ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে আয় বা শিক্ষার যোগ্যতার শর্তগুলো তুলে দেওয়া হয়।
- আমরা দেখেছি যে "গণতন্ত্রপন্থীরা" তাদের আদর্শ নিয়ে খুব একটা অনড় নন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা নিজেদের নীতি বদলে নেন। ইউরোপের কিছু দেশে সামরিক বাহিনী, সাধারণ যাজক এবং ধর্মীয় সঙ্ঘগুলোর ভোটাধিকার কেড়ে নিতে তারা বিশেষ আনন্দ পেতেন। স্বাভাবিকভাবেই ভিড়তন্ত্র এবং সমতাভিত্তিক নীতি নারীদের ভোটাধিকারের দাবি করে। কিন্তু কিছু বামপন্থী গোষ্ঠী তাদের এই আদর্শ প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। এটি মূলত লাতিন দেশগুলোর ক্ষেত্রে সত্য ছিল। সেখানে খুব সামান্য এক উগ্র সংখ্যালঘু অংশ ছাড়া অধিকাংশ নারী রক্ষণশীল ও ধর্মীয় মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই রিপাবলিকান ফ্রান্স, স্পেন এবং পর্তুগালের মতো দেশগুলোতে সর্বজনীন ভোটাধিকারের নীতিটি চুপিসারে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
- * এরিক ফন কুয়েনেল্ট-লেডিন, দ্য মেনেস অফ দ্য হার্ড (১৯৪৩), পৃষ্ঠা ৫৭-৫৮।
- আমি মনে করি যাদের সুযোগ আছে তাদের প্রত্যেকের উচিত অফিসের পদের জন্য যোগ্য সবচেয়ে বুদ্ধিমান, সৎ এবং বিবেকবান ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া, তাদের আগের দলীয় আদর্শ যাই হোক না কেন। তারাই নতুন সংবিধান এবং এর অধীনে হওয়া আইনগুলোকে সব স্তরের মানুষের প্রকৃত স্বার্থ, সমৃদ্ধি এবং স্বাধীনতার জন্য যতটা সম্ভব কল্যাণকর করার চেষ্টা করবেন।
- রবার্ট ই. লি, জেনারেল জেমস লংস্ট্রিটের কাছে লেখা চিঠি (২৯ অক্টোবর ১৮৬৭); রিকলেকশনস অ্যান্ড লেটারস অফ জেনারেল রবার্ট ই. লি (১৯২৪), পৃষ্ঠা ২৬৯ উদ্ধৃত।
- নিপীড়িতদের প্রতি কয়েক বছরে একবার এই সুযোগ দেওয়া হয় যে, তারা ঠিক করবে শোষক শ্রেণির কোন নির্দিষ্ট প্রতিনিধিরা পার্লামেন্টে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং তাদেরই দমন করবে!
- ভ্লাদিমির লেনিন, দ্য স্টেট অ্যান্ড রেভোলিউশন (১৯১৭), অধ্যায় ৫।
- আমি কিছুটা কুসংস্কারাচ্ছন্ন। আমি এমন খুব কম দলের কথা জানি যারা নির্বাচনের আগে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকে সাহায্য চেয়েও শেষ পর্যন্ত সেই রাজ্যে হারেনি।
- আব্রাহাম লিংকন, আইওয়ার গভর্নর জেমস ডব্লিউ. গ্রিমসের কাছে লেখা চিঠি (১২ জুলাই ১৮৫৬); রয় পি. বাসলার সম্পাদিত, দ্য কালেক্টেড ওয়ার্কস অফ আব্রাহাম লিংকন (১৯৫৩), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৮।
- ন্যায়ের জয় নিশ্চিত করতে রক্তক্ষয়ী বুলেট নয়, বরং শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ ব্যালটই প্রয়োজন।
- আব্রাহাম লিংকন, ভাষণ (আনুমানিক ১৮ মে ১৮৫৮); রয় পি. বাসলার সম্পাদিত, দ্য কালেক্টেড ওয়ার্কস অফ আব্রাহাম লিংকন (১৯৫৩), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫৪। ব্যালট এবং বুলেটের এই পার্থক্যের অন্যান্য ব্যবহার তার ৪ জুলাই ১৮৬১ সালের কংগ্রেসের বার্তাতেও পাওয়া যায়, "ব্যালট হলো বুলেটের আইনানুগ এবং শান্তিপূর্ণ উত্তরসূরি; এবং যখন ব্যালট সুষ্ঠুভাবে ও সাংবিধানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বুলেটের কাছে ফিরে যাওয়ার আর কোনো সফল আবেদন থাকতে পারে না" (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৩৯); এবং ২৬ আগস্ট ১৮৬৩ সালে জেমস সি. কঙ্কলিংয়ের কাছে লেখা একটি চিঠিতে, "ব্যালট থেকে বুলেটের দিকে যাওয়ার কোনো সফল আবেদন থাকতে পারে না" (খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪১০)। আর্থার ব্রুকস ল্যাপসলে সম্পাদিত দ্য রাইটিংস অফ আব্রাহাম লিংকন (১৯০৫) ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ২৯ মে ১৮৫৬ সালে দেওয়া প্রথম রিপাবলিকান স্টেট কনভেনশনের একটি ভাষণের পুনর্গঠন আছে (যা ৪০ বছর পরে করা হয়েছিল), যেখানে এই বাক্যটি পাওয়া যায়: "এই ভুল করবেন না যে ব্যালট বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী" (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬৯)। বাসলারের মতে এই দীর্ঘ পুনর্গঠনটি "গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার যোগ্য" ছিল না (কালেক্টেড ওয়ার্কস, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪১)।
- এই বিষয়টি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্যকেই জড়িয়ে রাখেনি। এটি পুরো মানবজাতির সামনে এই প্রশ্নটি দাঁড় করিয়ে দেয় যে, একটি সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র বা গণতন্ত্র—যা জনগণের দ্বারা পরিচালিত জনগণের সরকার—নিজস্ব অভ্যন্তরীণ শত্রুদের বিরুদ্ধে নিজের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে পারে কি না। এটি এই প্রশ্নটিও তোলে যে, অল্প কিছু অসন্তুষ্ট ব্যক্তি যারা কোনোভাবেই আইন অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, তারা কি স্রেফ অজুহাত দিয়ে বা কোনো অজুহাত ছাড়াই খামখেয়ালিভাবে তাদের সরকারকে ভেঙে দিতে পারে এবং এভাবে পৃথিবী থেকে স্বাধীন সরকারের অস্তিত্ব কার্যত শেষ করে দিতে পারে? এটি আমাদের প্রশ্ন করতে বাধ্য করে যে—সব প্রজাতন্ত্রের মধ্যেই কি এই জন্মগত ও মারাত্মক দুর্বলতা রয়েছে? একটি সরকারকে কি তার নিজের জনগণের স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী হতে হবে, নাকি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তাকে অত্যন্ত দুর্বল হতে হবে?
- আব্রাহাম লিংকন, ৪ঠা জুলাই কংগ্রেসে দেওয়া বার্তা (৪ জুলাই ১৮৬১)।
- ইফ ভোটিং চেঞ্জড এনিথিং দে'ড অ্যাবলিশ ইট (যদি ভোট দিয়ে কোনো পরিবর্তন আসত, তবে তারা এটি বাতিল করে দিত)।
- কেন লিভিংস্টোন, তার ১৯৮৮ সালের আত্মজীবনীমূলক স্মৃতিকথার শিরোনাম। আইএসবিএন 9780006373353 ১৯৮২ সালের একটি বেনামী দেয়াল লিখনের সাথে এটি তুলনা করা যায়: "যদি ভোট দিয়ে কিছু পরিবর্তন হতো, তবে তারা এটাকে অবৈধ ঘোষণা করত।"

- আমি বিশ্বাস করি এমন কিছু সমাজ আছে যেখানে প্রত্যেক মানুষকে নির্দ্বিধায় ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে...। আমি বলতে চাই যে এমন কিছু দেশ আছে যেখানে শ্রমিক শ্রেণির অবস্থা এমন যে তাদের আইনসভার সদস্য নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিন্তে দেওয়া যেতে পারে...। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ভয়ংকর ফলাফল ছাড়াই সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রচলিত আছে।
- থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকলে, সংসদীয় সংস্কার নিয়ে পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণ (২ মার্চ ১৮৩১); ম্যাকলের স্পিচেস, পার্লামেন্টারি অ্যান্ড মিসেলেনিয়াস, খণ্ড ১ (১৮৫৩), পৃষ্ঠা ১২–১৩।
- যদি সব শ্রেণির মানুষের জন্য নির্বাচন উন্মুক্ত থাকত, তবে ভূস্বামীদের সম্পত্তি অনিরাপদ হয়ে পড়ত। ... আমাদের সরকারকে ... এমনভাবে গঠন করা উচিত যাতে তা সংখ্যাগরিষ্ঠদের হাত থেকে বিত্তবান সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে পারে।
- জেমস ম্যাডিসন, বক্তব্য (২৬ জুন ১৭৮৭); রবার্ট ইয়েটস,নোটস অফ দ্য সিক্রেট ডিবেটস অফ দ্য ফেডারেল কনভেনশন অফ ১৭৮৭ উদ্ধৃত।
- যেহেতু এটি অঙ্গরাজ্যের সম্মতিতে এই কাজে ব্যবহার করা হবে; যেহেতু অঙ্গরাজ্য অবশ্যই নাগরিকদের অধিকার এবং সম্মতির বিষয়ে চুক্তিতে ব্যবস্থা রাখবে; যেহেতু বাসিন্দারা এই হস্তান্তরের অংশীদার হওয়ার জন্য যথেষ্ট স্বার্থ খুঁজে পাবে; যেহেতু তারা সেই সরকারের নির্বাচনে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবে যারা তাদের ওপর কর্তৃত্ব করবে; যেহেতু স্থানীয় প্রয়োজনে তাদের নিজেদের ভোটের মাধ্যমে একটি পৌর আইনসভা গঠনের অনুমতি দেওয়া হবে; এবং যেহেতু অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং ওই অংশের বাসিন্দাদের এই হস্তান্তরের ক্ষমতা আসবে পুরো রাজ্যের জনগণের সংবিধান গ্রহণের মাধ্যমে, তাই সম্ভাব্য সব ধরনের আপত্তি দূর হয়েছে বলেই মনে হয়।
- জেমস ম্যাডিসন, পরিকল্পিত ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, ফেডারালিস্ট ৪৩।
- ফেডারেল প্রতিনিধিদের ভোটার কারা হবে? কেবল ধনীরা নয়, দরিদ্ররাও সমানভাবে ভোটার হবে; কেবল প্রভাবশালী বংশের অহংকারী উত্তরাধিকারীরা নয়, বরং সাধারণ ঘরের সন্তানরাও এতে সমান সুযোগ পাবে।
- জেমস ম্যাডিসন, ফেডারালিস্ট ৫৭ (১৭৮৮)।
- আপনি যদি দল থেকে কোনো বিশেষ সুবিধা না পান (যা আমি পাই না), তবে কেবল জেতার খাতিরে নির্বাচনে জেতা মোটেও সার্থক নয়—আমরা স্রেফ কোনো দলকে অন্ধভাবে সমর্থন করার জন্য রাজনীতিতে জড়াই না। আপনাকে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে আলাদা কিছু করে দেখাতে হবে, নতুবা পুরো চেষ্টাটাই পণ্ডশ্রম।
- ড্যান ম্যাকলাফলিন, "দ্য নেভার ট্রাম্প মুভমেন্ট ইজ নাইদার অ্যান্টি-আমেরিকান নর হিপোক্রিটিকাল" (১৭ মে ২০১৬), রেড স্টেট।
- প্রতিটি নির্বাচন হলো চুরি করা মালের এক ধরণের অগ্রিম নিলাম বিক্রয়।
- এইচ. এল. মেনকেন, প্রেজুডিশেস, ফার্স্ট সিরিজ (১৯১৯)।
- যখন তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দেওয়া দেশে প্রবেশ করবে এবং তা অধিকার করে সেখানে বাস করবে, আর তখন যদি বলো, "আমিও চারপাশের জাতিদের মতো নিজেদের জন্য একজন রাজা মনোনীত করব," তবে অবশ্যই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যাকে মনোনীত করবেন তাকেই রাজা হিসেবে বেছে নিতে হবে। তোমাদের নিজেদের ভাইদের মধ্য থেকেই একজনকে রাজা নিয়োগ করতে হবে—তোমাদের কোনো বিদেশি বা অ-ইসরায়েলিকে রাজা বানানো চলবে না। এছাড়া, সেই রাজা যেন নিজের জন্য অনেক ঘোড়া সংগ্রহ না করেন বা ঘোড়া আনতে জনগণকে মিশরে না পাঠান, কারণ প্রভু বলেছেন তোমরা আর কখনোই সেই পথে ফিরবে না। তিনি যেন অনেক বিয়ে না করেন যাতে তার মন অন্য দিকে ঘুরে না যায়, এবং তিনি যেন প্রচুর পরিমাণে সোনা-রূপা জমা না করেন। যখন তিনি তার রাজসিংহাসনে বসবেন, তখন তাকে লেবীয় যাজকদের কাছ থেকে এই নিয়মের একটি প্রতিলিপি নিজের জন্য তৈরি করে নিতে হবে। এটি সারাজীবন তার কাছে থাকতে হবে এবং তাকে তা পড়তে হবে, যাতে তিনি তার ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করতে শেখেন এবং এই নিয়মের সমস্ত নির্দেশ ও বিধি পালন করেন। তাহলে তিনি নিজেকে তার ভাইদের চেয়ে বড় মনে করবেন না এবং কোনো আদেশ থেকে ডানে বা বামে বিচ্যুত হবেন না। এতে তিনি এবং তার বংশধররা ইসরায়েলে দীর্ঘকাল রাজত্ব করতে পারবেন।
- মোশি, দ্বিতীয় বিবরণ ১৭:১৪-২০ (নিউ ইংলিশ ট্রান্সলেশন)।
- রাজনীতিতে একমাত্র বাস্তব যাচাই করার দিন হলো নির্বাচনের দিন; বাকি সব কিছুই স্রেফ ফাঁকা বুলি।
- মাইক মার্ফি, বিল ক্রিস্টলের সাথে সাক্ষাৎকার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮), অনুলিপি।
- বাজে কর্মকর্তারা সেইসব ভালো নাগরিকদের মাধ্যমেই নির্বাচিত হন যারা ভোট দেন না।
- জর্জ জিন নাথান, ক্লিফটন ফাদিম্যান সম্পাদিত দ্য আমেরিকান ট্রেজারি, ১৪৫৫–১৯৫৫, পৃষ্ঠা ৩৪৪ (১৯৫৫)। রেসপেক্টফুলি কোটেড: আ ডিকশনারি অফ কোটেশনস (১৯৮৯) নাথানের কর্মে এটি যাচাইহীন হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- প্রতিনিধিদের ভোট দেওয়ার অধিকার হলো সেই প্রাথমিক অধিকার যার মাধ্যমে অন্যান্য সব অধিকার সুরক্ষিত থাকে। এই অধিকার কেড়ে নেওয়া মানে একজন মানুষকে দাসে পরিণত করা; কারণ অন্য কারোর ইচ্ছার অধীন হওয়াই হলো দাসত্ব। আর নির্বাচনের মাধ্যমে যার কোনো প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই, সে আসলে ঠিক এই পরিস্থিতিরই শিকার।
- থমাস পেইন, "ডিসার্টেশন অন ফার্স্ট প্রিন্সিপলস অফ গভর্নমেন্ট" (১৭৯৫); মনকিউর ডি. কনওয়ে সম্পাদিত দ্য রাইটিংস অফ থমাস পেইন, খণ্ড ৩ (১৮৯৫), পৃষ্ঠা ২৬৭ পুনঃপ্রকাশিত।
- যখন নাগরিকদের মধ্যে মোটামুটি সমতা থাকে, তখন রাজনীতি বেশ গণতান্ত্রিক হওয়ার প্রবণতা দেখায়। কিন্তু যখন হাতেগোনা কয়েকজনের কাছে অঢেল সম্পদ জমা হয়, তখন গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পেছনের কারণটা সহজ। নির্বাচনী অনুদান, লবিং, জনমতের ওপর প্রভাব খাটানো এবং অন্যান্য উপায়ে সম্পদকে রাজনৈতিক ক্ষমতায় রূপান্তর করা যায়। যখন সম্পদ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত হয়—অর্থাৎ যখন অল্প কিছু মানুষের কাছে প্রচুর অর্থ থাকে—তখন রাজনৈতিক ক্ষমতাও কেবল তাদের কাছেই কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। ফলে সেই মুষ্টিমেয় ধনীরাই দেশ চালায়। সাধারণ নাগরিকরা তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা হারায় এবং গণতন্ত্রের পতন ঘটে।
- বেঞ্জামিন আই. পেজ এবং মার্টিন গিলেন্স, ডেমোক্রেসি ইন আমেরিকা?: হোয়াট হ্যাজ গন রং অ্যান্ড হোয়াট উই ক্যান ডু অ্যাবাউট ইট (ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস: ২০১৭), পৃষ্ঠা ১৯।
- মার্কিন সরকারের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ আমেরিকানদের প্রভাব নেই বললেই চলে। ... অন্যদিকে ধনী আমেরিকানরা ব্যাপক প্রভাব খাটায়। রাজনীতিতে অর্থ বিনিয়োগ করে তারা তাদের অর্থনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে বদলে দিতে পারে।
- বেঞ্জামিন আই. পেজ এবং মার্টিন গিলেন্স, ডেমোক্রেসি ইন আমেরিকা?: হোয়াট হ্যাজ গন রং অ্যান্ড হোয়াট উই ক্যান ডু অ্যাবাউট ইট (ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস: ২০১৭), পৃষ্ঠা ৯০।
- এই ধোঁকায় কখনো পড়বেন না যে ধনীরা আপনাকে ভোটের মাধ্যমে তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে।
- লুসি পারসনস, লুসি পারসনস: ফ্রিডম, ইকুয়ালিটি অ্যান্ড সলিডারিটি - রাইটিংস অ্যান্ড স্পিচেস, ১৮৭৮-১৯৩৭।
- তাত্ত্বিকভাবে একটি রাজনৈতিক প্রচারণার উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা এবং ভোটারদের সচেতন করা; ঠিক যেমন পুঁজিবাদ তাত্ত্বিকভাবে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য কাজ করে। কিন্তু বাস্তবে উভয় ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যের চেয়ে একেবারেই আলাদা। পুঁজিবাদীরা যেমন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে মুনাফা করতে চায়, প্রচারকারীরাও ঠিক তেমনি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লুকিয়ে হলেও কেবল ভোটে জিততে চায়। ভোট পাওয়ার আশায় তারা জানে যে কোনো সমস্যা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরলে যেমন কিছু মানুষের সমর্থন পাওয়া যাবে, তেমনি হয়তো কিছু মানুষের সমর্থন হারাতেও হতে পারে। কিন্তু যখন তারা বাস্তব সমস্যার বদলে মানুষের আবেগ বা উদ্দীপনাকে কাজে লাগায়, তখন ভোটারদের ওপর এর প্রভাব হয় একতরফা লাভের মতো। ঐতিহাসিকদের চেয়ে রাজনীতিবিদরা এটা ভালো বোঝেন যে, অধিকাংশ ভোটার যুক্তির চেয়ে আবেগ, দলগত পরিচয় আর কৃত্রিমভাবে তৈরি উত্তেজনার মাধ্যমেই বেশি প্রভাবিত হন। তারা এমন এক শক্তিশালী আর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের পেছনে ছুটতে চান যার মধ্যে তারা ক্ষমতার ছায়া দেখতে পান। তাই একটি সফল প্রচারণায় হয়তো সমসাময়িক বড় সমস্যাগুলো একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে, কিন্তু সেখানে দলগত কর্মকাণ্ড, উত্তেজনা, জয়ের আবহ আর প্রার্থীর এক চমৎকার ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তোলার কাজটা কখনোই বাদ দেওয়া হয় না।
- ডেভিড এম. পটার, দ্য ইমপেন্ডিং ক্রাইসিস, ১৮৪৮-১৮৬১ (১৯৭৬), পৃষ্ঠা ৪৩৩।
- আমরা যদি এখানে স্বাধীনতা হারাই, তবে পালানোর আর কোনো জায়গা নেই। এটিই পৃথিবীতে আমাদের শেষ অবস্থান। আর এই ধারণাটি যে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, সার্বভৌম জনগণ ছাড়া ক্ষমতার অন্য কোনো উৎস নেই মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসে এটি এখনও সবচেয়ে নতুন এবং অনন্য এক ধারণা। এটিই এই নির্বাচনের মূল বিষয়। আমরা কি নিজেদের শাসন করার ক্ষমতায় বিশ্বাস করি, নাকি আমরা আমেরিকান বিপ্লবকে বিসর্জন দিয়ে এটা স্বীকার করে নিই যে সুদূর রাজধানীর একমুঠো বুদ্ধিজীবী অভিজাত শ্রেণি আমাদের জীবন আমাদের চেয়েও ভালোভাবে সাজিয়ে দিতে পারবে?
- রোনাল্ড রিগ্যান, আ টাইম ফর চুজিং (২৭ অক্টোবর ১৯৬৪)। এটি ছিল সেনেটর ব্যারি গোল্ডওয়াটারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সমর্থনে দেওয়া একটি টেলিভিশন ভাষণ; প্রায়ই একে 'দ্য স্পিচ' হিসেবে উল্লেখ করা হয় যা রিগ্যানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিল। গোল্ডওয়াটারের নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন সময়ে রিগ্যান সারা দেশে এই ভাষণের আরও কিছু সংস্করণ দিয়েছিলেন।
- আমরা এক রক্তক্ষয়ী শতাব্দীর শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি যা এক ভয়ংকর রাজনৈতিক উদ্ভাবন -- একনায়কতন্ত্রের শিকার। আজ সহজে আশাবাদী হওয়া যায় না; গণতন্ত্রের শক্তি কমে গেছে বলে নয়, বরং গণতন্ত্রের শত্রুরা তাদের দমনের হাতিয়ারগুলোকে আরও নিখুঁত করেছে বলে। তবুও আমাদের আশাবাদী হওয়া প্রয়োজন, কারণ দিন দিন গণতন্ত্র প্রমাণ করছে যে এটি মোটেও কোনো ভঙ্গুর ফুল নয়। বাল্টিক সাগরের তীরে স্টেটিন থেকে কৃষ্ণসাগরের ভার্না পর্যন্ত, একনায়কতন্ত্রের মাধ্যমে গড়া শাসনব্যবস্থাগুলো তাদের বৈধতা প্রমাণের জন্য ৩০ বছরেরও বেশি সময় পেয়েছে। কিন্তু একটি শাসনব্যবস্থাও এখনও মুক্ত নির্বাচনের ঝুঁকি নিতে পারেনি। বেয়নেট দিয়ে গড়া শাসনব্যবস্থা শিকড় গাড়তে পারে না।
- রোনাল্ড রিগ্যান, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণ, ১৯৮২।
- একটি নির্বাচন একটি নৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত ভয়ংকর বিষয়; রক্তপাত না থাকলেও এটি যুদ্ধের মতোই ভয়াবহ। এতে জড়িত প্রতিটি মানুষের আত্মার জন্যই এটি এক ধরণের কলঙ্কজনক অভিজ্ঞতা।
- জর্জ বার্নার্ড শ, ব্যাক টু মেথুসেলা।
- ধরুন রাস্তায় তিনজন ছিনতাইকারী আপনার সামনে এসে বলল, 'আমরা আপনার টাকা চাই। তবে চিন্তার কিছু নেই—আমরা আপনাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেব যে আপনি আমাদের টাকা দেবেন কি না।' এখন যদি সেই দলটি তিন-এক ভোটে আপনার টাকা নেওয়ার পক্ষে রায় দেয়, তবে কি তাদের এই কাজ বৈধ হয়ে যাবে?
- বাটলার ডি. শ্যাফার; এল. কে. স্যামুয়েলস সম্পাদিত ফ্যাসেটস অফ লিবার্টি: আ লিবার্টারিয়ান প্রাইমার, ফ্রিল্যান্ড প্রেস (২০০৯), অধ্যায় ১: “হু অথরাইজেস দ্য অথরিটিজ?”, পৃষ্ঠা ১২ উদ্ধৃত।
- হয়তো কোনো একদিন আমেরিকা গণতান্ত্রিকভাবেই, অর্থাৎ জনগণের ভোটের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠবে।
- উইলিয়াম এল. শিরার, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (২৯ ডিসেম্বর ১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৩৬ বর্ণিত।
- ইয়া শ্চিতাইউ, চ্তো সোভারশেন্নো নেভাজনো, ক্তো ই কাক বুদেত ভ পারতি গোলসোভাত; নো ভোত চ্তো চ্রেজভিচাইনো ভাজনো, এতো — ক্তো ই কাক বুদেত শ্চিতাত গোলসা।
- আমার মতে দলের ভেতরে কে ভোট দিল বা কীভাবে দিল তা একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; কিন্তু যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, কে ভোট গুনছে এবং কীভাবে গুনছে।
- জোসেফ স্তালিন, ১৯২৩; বরিস বাঝানভের দ্য মেমোয়ার্স অফ স্টালিনস ফর্মার সেক্রেটারি (১৯৯২) উদ্ধৃত (বোরিস বাঝানভ। ভসপমিনানিয়া বিভশেভো সেক্রিতারিয়া স্তালিনা)।
- সাধারণ সারসংক্ষেপ: "যারা ভোট দেয় তারা কিছু নির্ধারণ করে না। যারা ভোট গোনে তারাই সবকিছু নির্ধারণ করে।"
- নির্বাচনী প্রচারণার ওপর করপোরেটদের ‘আধিপত্য’ এমন একটি ধারণার জন্ম দিতে পারে যে আমাদের গণতন্ত্র আসলে করপোরেটরাই নিয়ন্ত্রণ করছে। নির্বাচনের আগে যখন নাগরিকরা তাদের টেলিভিশন ও রেডিও চালায় এবং সেখানে কেবল করপোরেটদের প্রচারণাই শুনতে পায়, তখন সরকারি নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতার ওপর তারা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে পারে। তারা হয়তো ভাবতে শুরু করবে যে, যে সরকার ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে বন্দি, সে সরকার না তাদের প্রয়োজনে সাড়া দেবে, না তাদের কথা মন দিয়ে শুনবে। এর অবধারিত ফল হলো সংশয় আর হতাশা: মানুষ ভাবতে শুরু করে যে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা ব্যক্তিরাই ‘সব নিয়ন্ত্রণ’ করছে এবং এর ফলে ‘গণতান্ত্রিক শাসনে অংশগ্রহণে ভোটারদের আগ্রহ’ কমে যায়। যে পরিমাণে করপোরেটদের নির্বাচনী দৌড়ে অযাচিত প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে, সেই নির্বাচনে বিজয়ীদের কণ্ঠও হয়তো রুদ্ধ হয়ে যাবে।
যেসব রাজনীতিবিদ ভয় পান যে নির্দিষ্ট কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের পুনর্নির্বাচনের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে বা নষ্ট করতে পারে, তারা হয়তো সেই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মুখ খুলতে ভয় পাবেন।
বিভিন্ন স্তরে, অনিয়ন্ত্রিত করপোরেট প্রচারণা নাগরিকদের ‘কর্মকর্তাদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ’ রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং একটি ‘অবাধ, বলিষ্ঠ ও উন্মুক্ত’ জনবিতর্কের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।- সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জন পল স্টিভেন্স; টম হার্টম্যান, ক্রিস্টেন সিনেমা ইজ দ্য এপিটোম অফ পলিটিক্যাল করাপশন নিবন্ধে উদ্ধৃত, কাউন্টারপাঞ্চ, ১৪ অক্টোবর ২০২১।
- পেছনের দিকে তাকালে আমি সন্তুষ্ট বোধ করি। জয় হোক বা পরাজয়, আমি যা সত্য মনে করেছি তা-ই আপনাদের বলেছি। আমি যা ভেবেছি তাই বলেছি এবং যা বলেছি তাই ভেবেছি। আমি যতটা ভালো করতে চেয়েছিলাম হয়তো ততটা পারিনি, তবে আমি আমার সেরাটা দিয়েছি, স্পষ্টভাবে এবং সরাসরি। একজন মানুষের পক্ষে এর চেয়ে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়, আর আপনারা এর চেয়ে কম কিছু পাওয়ার যোগ্য নন।
- আদলাই স্টিভেনসন, নির্বাচনের আগের রাতে শিকাগো, ইলিনয় থেকে রেডিও ও টেলিভিশনে তার নির্বাচনী প্রচারণার সারসংক্ষেপ দেওয়ার সময় দেওয়া বক্তব্য (৩ নভেম্বর ১৯৫২); মেজর ক্যাম্পেইন স্পিচেস অফ আদলাই ই. স্টিভেনসন, ১৯৫২ (১৯৫৩), পৃষ্ঠা ৩১৫-এ বর্ণিত।
- যেসব দেশে রাজতন্ত্র টিকে আছে, সেখানে মুকুটের রত্ন চুরি করা একটি বিশেষ অপরাধ, কারণ এই রত্নগুলো সেই সার্বভৌমত্বের প্রতীক যার সামনে অনুগত প্রজারা মাথা নত করে। রানির সাথে ব্যভিচার করাও সেখানে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, কারণ এর মাধ্যমে রাষ্ট্র কোনো ভুয়া উত্তরাধিকারী পেতে পারে। কিন্তু আমাদের প্রজাতন্ত্রে ব্যালট বাক্সই হলো সেই সার্বভৌমত্বের একমাত্র অমূল্য রত্ন যাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আর এই ভোটাধিকার, যার মাধ্যমে একটি স্বাধীন জাতির শাসকরা জন্ম নেন, তিনিই হলেন সেই রানি যাকে আমাদের অপবিত্রতা থেকে রক্ষা করতে হবে।
- চার্লস সামনার, তার দ্য ক্রাইম এগেইনস্ট কানসাস ভাষণে (১৯-২০ মে ১৮৫৬)।
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক দেশের মানুষ নিজেরাই নিজেদের শাসন করে, এই বিশ্বাসটি যদিও ঐতিহ্যের কারণে পবিত্র এবং বারবার আওড়ানোর ফলে শ্রদ্ধেয় হয়ে উঠেছে, আসলে এটি একটি রহস্যময় জোচ্চুরি। যেকোনো নির্বাচনে কেবল একটি নির্দিষ্ট শতাংশ মানুষ ভোট দেয়। বয়স বা অন্য কোনো অযোগ্যতার কারণে যারা ভোট দিতে পারে না এবং যারা বিভ্রান্তি, অনাগ্রহ কিংবা প্রার্থীদের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য না দেখে বিরক্তি থেকে ভোট দেয় না, তাদেরকে কোনোভাবেই সেই আইন তৈরির অংশীদার বলা যায় না যা তাদের পরিচালনা করে। এমনকি যারা এখনও জন্ম নেয়নি এবং ভবিষ্যতে যাদের এই আইনের অধীনে চলতে হবে, তারাও এর অংশ নয়। আর যারা "ভোটাধিকার প্রয়োগ" করে, তাদের মধ্যে যারা পরাজিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়েছে সেই বিশাল অংশটিও তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, অন্তত যতক্ষণ তারা যাকে ভোট দেয়নি সেই বিজয়ী প্রার্থী ক্ষমতায় থাকে।
কিন্তু এমনকি যারা ভোট দিয়েছে এবং বিজয়ী প্রার্থীকে বেছে নিতে পেরেছে, তারাও আসলে কোনো অর্থেই নিজেদের শাসন করছেনা। তারা একজন মানুষকে ভোট দিয়েছে, সেই সুনির্দিষ্ট আইনগুলোর জন্য নয় যা তাদের শাসন করবে। এমনকি যারা বিজয়ী প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে, তাদের যদি সরাসরি এই আইনগুলোর ওপর ভোট দিতে বলা হতো, তবে তারাও চূড়ান্তভাবে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত হয়ে পড়ত। আর তাদের প্রতিনিধিও তাদের ইচ্ছা মেনে চলতে বাধ্য নয়, এমনকি যদি এই "সম্মিলিত ইচ্ছা" কী তা নির্ধারণ করাও যেত। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি পরিপক্ক গণতন্ত্রের ক্ষমতার একটি বড় অংশ হাজার হাজার নামহীন নিযুক্ত আমলাদের হাতে থাকে, যারা বিশেষ প্রভাব নেই এমন কোনো নাগরিকের ইচ্ছার তোয়াক্কা করে না।
একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় শাসিত ব্যক্তিদের একটি সংখ্যালঘু অংশ বিজয়ী প্রার্থীকে বেছে নেয়। বিজয়ী প্রার্থী তখন বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন মূলত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলোর চাপের ভিত্তিতে। প্রকৃতপক্ষে এর মানে দাঁড়ায় যে যাদের রাজনৈতিক প্রভাব আছে তাদের মাধ্যমে তাদের শাসন করা যাদের কোনো প্রভাব নেই। সরকারি শিক্ষায় আমাদের যে মগজধোলাই করা হয়েছে তার বিপরীতে বলতে হয় যে গণতন্ত্র, অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের শাসন হলো একটি নিষ্ঠুর প্রতারণা!
গণতন্ত্র কেবল রহস্যময় জোচ্চুরিই নয়, এটি অনৈতিকও। যদি একজনের নিজের ইচ্ছা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার না থাকে, তবে এক কোটি মানুষেরও একজনের ওপর তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার নেই; কারণ গায়ের জোর খাটানো ভুল এবং বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতিও একে নৈতিকভাবে বৈধ করতে পারে না। মতাদর্শ, এমনকি সংখ্যাগুরুদের মতামতও সত্য তৈরি করতে পারে না কিংবা বাস্তবতাকে বদলে দিতে পারে না। একটি গণপিটুনি দেওয়া উন্মত্ত জনতাই হলো সক্রিয় গণতন্ত্রের রূপ। জনতার শাসন আসলে এমনই হয়।
- লিন্ডা ও মরিস ট্যানহিল, অধ্যায় ৪, "গভর্নমেন্ট—অ্যান আননেসেসারি ইভিল", দ্য মার্কেট ফর লিবার্টি (১৯৭০), পৃষ্ঠা ৩৩–৩৪।
- মনে হচ্ছে আমরা যে নির্বাচনের সময়ের দিকে যাচ্ছিলাম তা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব, তবে এই মুহূর্তে ১৪ মে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে গুরুতর অসুবিধা রয়েছে।
- তুরস্কের একজন কর্মকর্তা; দ্য ডিভাস্টেটিং আর্থকোয়েকস কুড ডিলে আপকামিং ইলেকশনস অ্যাজ টার্কিস প্রেসিডেন্ট ফেসেস ব্যাকল্যাশ (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) অনুযায়ী।
- যতক্ষণ ভোটগুলো আমি গুনছি, ততক্ষণ আপনারা এ বিষয়ে কী করতে পারবেন? বলুন।
- উইলিয়াম এম. টুইড, ব্যালট প্রসঙ্গে (১৮৭১)।
- নিজের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারাই হলো একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল কথা। এই অধিকারে যেকোনো বাধা আসা মানেই হলো প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের মূলে আঘাত করা। ভোট দেওয়ার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মতোই, কোনো নাগরিকের ভোটের গুরুত্ব বা ওজন কমিয়ে দিয়েও এই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায়। [...] নিঃসন্দেহে, একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজে ভোটাধিকার একটি মৌলিক বিষয়। যেহেতু স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই অন্য সব নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে, তাই ভোট দেওয়ার অধিকারে যেকোনো হস্তক্ষেপের অভিযোগ খুব সূক্ষ্মভাবে এবং সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখা উচিত।
- আর্ল ওয়ারেন, রেনল্ডস বনাম সিমস, ৩৭৭ ইউ.এস. ৫৩৩ (১৯৬৪) সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়, ৫৫৫ এবং ৫৬১-৫৬২ পৃষ্ঠায়; গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে ভোটাধিকার প্রসঙ্গে।
- আইনপ্রণেতারা মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন, গাছপালা বা জমির নয়। তারা ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হন; কোনো খামার, শহর বা বিশেষ আর্থিক স্বার্থের মাধ্যমে নয়। আমাদের সরকার ব্যবস্থা যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিনিধিত্বমূলক থাকবে, ততক্ষণ অবাধে আইনপ্রণেতা নির্বাচনের অধিকারই হবে আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি।
- স্টেট সিনেট আসন বণ্টন প্রসঙ্গে, রেনল্ডস বনাম সিমস, ৩৭৭ ইউ.এস. ৫৩৩ (১৯৬৪) ৫৬২ পৃষ্ঠায়।
- চমৎকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি আমেরিকান জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে মহৎ কিছু, ভালো শরীরচর্চা, ভালো হজমশক্তি কিংবা মানবজাতির ওপর বিশ্বাসের এমন অভাবনীয় জয়—আমি আর কিছু জানি না।
- ওয়াল্ট হুইটম্যান, "ডেমোক্র্যাটিক ভিস্টাস," দ্য কমপ্লিট পোয়েট্রি অ্যান্ড প্রোজ অফ ওয়াল্ট হুইটম্যান (১৯৪৮), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৮।
- যুক্তরাষ্ট্রীয় নির্বাচনে প্রচারণার পুরো খরচ সরকারের দেওয়া উচিত। রাজনীতি থেকে টাকার খেলা বন্ধ করার এটিই একমাত্র উপায়। আমাদের রাজনীতিতে অর্থের এই অশুভ প্রভাবই হলো অন্য সব সমস্যার মূলে থাকা আসল ক্যানসার।
- মারিয়ান উইলিয়ামসন, টুইটার (২৪ নভেম্বর ২০১৯)।
অজ্ঞাত লেখক
[সম্পাদনা]- সংকট আর চাপের মুখেও মানুষ ভোট দেয়।
- লেখক অজানা। উক্তিটি গ্রেট ব্রিটেনের সংসদীয় বিতর্কের (১৮৫৭) বলে মনে করা হয়; রেসপেক্টফুলি কোটেড: আ ডিকশনারি অফ কোটেশনস (১৯৮৯) এটি যাচাইহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- যদি ভোট দিয়ে কিছু পরিবর্তন করা যেত, তবে তারা এটাকে অবৈধ ঘোষণা করত।
- লেখক অজানা, দেয়াললিখন; মাদার জোনস ম্যাগাজিন, খণ্ড ৭, সংখ্যা ৩, এপ্রিল ১৯৮২, পৃষ্ঠা ২৫।