বিষয়বস্তুতে চলুন

নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় (১৫ জানুয়ারি ১৯০৫ ― ২৩ জুলাই ১৯৬৩) ছিলেন বাংলার সংস্কৃতিজগতে অন্যতম বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তি।একাধারে তিনি ছিলেন ছিলেন চিত্রনাট্যকার, কাহিনিকার, গীতিকার, চিত্রপরিচালক ও অভিনেতা। আবার অন্য দিকে অনুবাদক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, শিশু সাহিত্যিক এবং বেতারের অনুষ্ঠান সঞ্চালক। শিশু সাহিত্যে তার অবদান ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। ছোটদের জন্য বিশ্বের ক্লাসিক কাহিনির অসাধারণ বঙ্গানুবাদ করেছিলেন। সংলাপ ও চিত্রনাট্যের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলি হলো― বিচার, স্বামীজি, শাপমোচন, শশীবাবুর সংসার, দাদাঠাকুর, সাত পাকে বাঁধা প্রভৃতি। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল- মহীয়সী মহিলা, সান ইয়াৎ সেন, শতাব্দীর সূর্য, মা ( গোর্কির উপন্যাস- অনুবাদ), সেক্সপীয়ারের কমেডি, সেক্সপীয়ারের ট্রাজেডি, নূতন যুগের নূতন মানুষ, কুলী (মুলকরাজ আনন্দের উপন্যাস-অনুবাদ), নানাকথা প্রভৃতি। এছাড়া জয়দেব-রচিত গীতগোবিন্দ -এর বঙ্গানুবাদ করে তিনি পাঠক সমাজে খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • জীবনটা যদি একটা যুদ্ধই হয়, তবে সে-যুদ্ধের জয়মাল্য শুধু বলশালী জয়ীর জন্যেই নয়... আজকের নতুন পৃথিবী চায় সেই যোদ্ধাকে, হেরে গিয়েও শেষ পর্যন্ত যে যুজেছিল, হেরে গিয়েছিল বলে হাতিয়ারের যে নিন্দা করে নি, জয়ীকে ছোট করে নি, নিজের ভাগ্যকে ধিক্কার দেয় নি......
    • নতুন পৃথিবীর নতুন মানুষ - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রথম প্রকাশ- আষাঢ় ১৩৬৪, প্রকাশক-রাইটার্স সিণ্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫
  • কলম্বাস দেখলেন, সে জাহাজ নিয়ে সমুদ্রের ভেতর আর অগ্রসর হওয়া নিরাপদ নয়। কাজেই ক্যানারী দ্বীপ থেকে পিন‍্টার বদলে আর একখানি জাহাজ জোগাড় করবার জন্যে তিনি চেষ্টা করতে লাগলেন; কিন্তু সেখানে থাকতে-থাকতেই তিনি খবর পেলেন যে, তাঁকে ধরবার জন্যে পর্ত্তুগালের রাজার আদেশে সৈন্য নিয়ে পর্ত্তুগালের জাহাজ ছুটে আসছে।
    • সমুদ্রজয়ী কলম্বাস - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩২
  • অসহযোগ আন্দোলনের মুখে গভর্ণমেণ্ট নির্বিচারে দলে দলে লোককে কারারুদ্ধ করিয়াছিল। কিন্তু তাহার ফলে কারাগার সব ভরিয়া উঠিল—কারাগার নিয়ন্ত্রণের নানা সমস্যা জাগিয়া উঠিল। তখন গভর্ণমেণ্ট দলশুদ্ধ লোককে এক সঙ্গে কারারুদ্ধ করার নীতি পরিত্যাগ করিয়া বাছিয়া বাছিয়া “মাথা”গুলিকে ধারয়া রাখিতে লাগিল। এই নীতির ফলে কংগ্রেসের বড় বড় নেতারা একে একে সবাই তখন কারাগারে গিয়ে উঠিতে লাগিলেন।
    • জওহরলাল - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইউ. এন. ধর অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
  • মাঠে যে ধান কাটছে, রাস্তায় যে মোট বইছে, কারখানায় যে লোহা পিটছে, রাত জেগে যে লিখছে, চেয়ারে বসে যে শাসন করছে, নতুন পৃথিবীর নতুন মানুষের মহিমা তাদের প্রত্যেকের ওপরই নির্ভর করছে......
    • নতুন পৃথিবীর নতুন মানুষ - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রথম প্রকাশ- আষাঢ় ১৩৬৪, প্রকাশক-রাইটার্স সিণ্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
  • সেই সময় টসানেলী নামে একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক ছিলেন, তিনিই ছিলেন সে-যুগের শ্রেষ্ঠ মানচিত্রকর। টসানেলী পৃথিবীর একটী মানচিত্র তৈরী করেছিলেন। সেই মানচিত্র তিনি কলম্বাসকে দেখালেন। তাতে তিনি আটলাণ্টিক মহাসাগরের পশ্চিমে, যেখানে এখন আমেরিকা রয়েছে, সেখানে এশিয়ার মানচিত্র আঁকেন এবং কলম্বাসকে তিনিই প্রথম সায় দিয়ে বল্লেন, তুমি যদি আটলাণ্টিক মহাসাগর ধরে পশ্চিমমুখো যাও, তাহলে নিশ্চয়ই তুমি মাটির সন্ধান পাবে···হয়ত ক্যাথে (চীন) নয় ভারতবর্ষ!
    • সমুদ্রজয়ী কলম্বাস - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫-১৬
  • কাশ্মীরের এই সব উপত্যকা আর পার্ব্বত্য-ভূমি আমার মনকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করিত। সে-যাত্রা ফিরিয়া আসিলাম কিন্তু প্রতিজ্ঞা করিলাম, আবার আসিব। কতবার মনে মনে প্ল্যান করিয়াছি তুষারমণ্ডিত মানস-সরোবরে যাইব, কৈলাসশৃঙ্গে দাঁড়াইব, কিন্তু হায়, আজও পর্য্যন্ত তাহা কল্পনাতেই রহিয়া গিয়াছে—আমার ভ্রমণ-পিপাসা, কে জানিত, কারাভ্রমণেই পরিতৃপ্ত করিতে হইবে।
    • জওহরলাল - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-ইউ. এন. ধর য়্যাণ্ড সন্স লিঃ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৮
  • যদিও যে-পরিমাণ সোনা তিনি আশা করেছিলেন, সে-পরিমাণ সোনা তিনি সঙ্গে আনতে পারেন নি, কিন্তু দ্বিতীয় অভিযানে তিনি আশা করলেন যে সোনার খনির আসল সন্ধান এবার তিনি নিয়ে আসতে পারবেন। সারা স্পেনের মধ্যে রাজাজ্ঞা ঘোষিত হয়ে গেল...কলম্বাস দ্বিতীয় বার অভিযানে বেরুচ্ছেন এবং এবার তাঁর সঙ্গে যাঁরা সেই নতুন দেশে উপনিবেশ স্থাপন করতে চায়, তাদের নিয়ে যাওয়া হবে।
    • সমুদ্রজয়ী কলম্বাস - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
  • মাঠে যে ধান কাটছে, রাস্তায় যে মোট বইছে, কারখানায় যে লোহা পিটছে, রাত জেগে যে লিখছে, চেয়ারে বসে যে শাসন করছে, নতুন পৃথিবীর নতুন মানুষের মহিমা তাদের প্রত্যেকের ওপরই নির্ভর করছে......
    • নতুন পৃথিবীর নতুন মানুষ - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রথম প্রকাশ- আষাঢ় ১৩৬৪, প্রকাশক-রাইটার্স সিণ্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
  • মহাত্মা গান্ধী এক নূতন আন্দোলন প্রবর্ত্তন করিলেন—সত্যাগ্রহ আন্দোলন। যে সত্যাগ্রহী হইবে, সে রাউলাট আইনকে অস্বীকার করিতে প্রতিজ্ঞা -বদ্ধ হইবে এবং পরে যখনি এমনিধারা অন্য কোন অন্যায় আইন দেশের লোকের উপর চাপানো হইবে, তাহাদিগকেও অমান্য করিতে হইবে। ইহার অর্থ হইল যে, স্বেচ্ছায় কারাবাস এবং নির্যাতনকে বরণ করিয়া লইতে হইবে।
    • জওহরলাল - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইউ. এন. ধর অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩০
  • নিজের জন্মভূমি ত্যাগ করে কলম্বাস তখন এক রকম পর্ত্তুগালেই বসবাস করছিলেন, পর্ত্তুগালকেই তিনি তাঁর দ্বিতীয় জন্মভূমি বলে ধরে নিয়েছিলেন। তাই তিনি স্থির করলেন যে, প্রথমে পর্ত্তুগালের রাজার শরণাপন্ন হবেন।
    • সমুদ্রজয়ী কলম্বাস - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯
  • ইংরেজ সৈনিকদের ধারণা হইল যে, কোন ইংরেজ-শিশুকন্যকে ইহারা ছদ্মবেশ পরাইয়া চুরি করিয়া লইয়া যাইতেছে।
    সে-সময় বিচার এবং শাস্তি নিমেষের মধ্যে হইয়া যাইত; এবং এই ধরণের অপরাধের একমাত্র শাস্তি হইল, মৃত্যু।
    • জওহরলাল - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইউ. এন. ধর অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]