নোয়াখালী দাঙ্গা
অবয়ব
নোয়াখালী দাঙ্গা ব্রিটিশ ভারতে ১৯৪৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে সংগঠিত তৎকালীন পূর্ববঙ্গের নোয়াখালী ও ত্রিপুরা জেলার স্থানীয়দের দ্বারা সংঘটিত ধারাবাহিক গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা। কলকাতা দাঙ্গার রেশ ধরে এই ভয়াবহ দাঙ্গা ঘটে। যদিও এর পূর্ববর্তী কলকাতা দাঙ্গা ও পরবর্তী বিহার দাঙ্গার থেকে হতাহত সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম। নোয়াখালী জেলার রামগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর, ছাগলনাইয়া ও সন্দ্বীপ থানা এবং ত্রিপুরা (বর্তমান বৃহত্তর কুমিল্লা) জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর, লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম থানার অধীনে সর্বমোট প্রায় ২০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- কলকাতার দাঙ্গা বন্ধ হতে না হতেই আবার দাঙ্গা শুরু হল নোয়াখালীতে। মুসলমানরা সেখানে হিন্দুদের ঘরবাড়ি লুট করল এবং আগুন লাগিয়ে দিল।
- শেখ মুজিবুর রহমান। অসমাপ্ত আত্মজীবনী, প্রকাশক: দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০১৪, পৃষ্ঠা: ৬৮
- কলিকাতায় স্বভাবতঃই হিন্দুর চেয়ে মুসলমানের জান-মালের ক্ষতি হইয়াছিল অনেক বেশি। এই খবর অতিরঞ্জিত আকারে পূর্ব বাংলায় পৌঁছিলে নোয়াখালি জিলায় হিন্দুরা নিষ্ঠুরভাবে নিহত হয়।
- আবুল মনসুর আহমদ। আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, প্রকাশক: খোশরোজ কিতাব মহল, প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা: ১৯৮
- ৭ই সেপ্টেম্বর মৌলানা গোলাম সারওয়ারের নেতৃত্বে নোয়াখালীর মৌলবীদের এক সভায় ঘোষণা করা হয় যে কলকাতা হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুসলমানদের যথাযথ ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। নোয়াখালী এবং কুমিল্লা জেলার সর্বত্র দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ল এবং সময়োচিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পূর্ববঙ্গের সমস্ত জেলাব্যাপী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ত। সুহরাওয়ার্দী আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা করেছিলেন। গান্ধী নোয়াখালী জেলার দত্তপাড়ায় ১৪ই নভেম্বর (১৯৪৬) পৌঁছলেন।...সুহরাওয়ার্দী দত্তপাড়ায় গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গান্ধী পদব্রজে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে হিন্দুদের মনোবল পুনরুজ্জীবিত করেন। সুহরাওয়ার্দী প্রত্যেক বিপজ্জনক জায়গায় শান্তি ও শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করেন। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে শরণার্থী শিবির খোলা হয় এবং দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।...গান্ধীর নোয়াখালী সফর নোয়াখালী ও কুমিল্লা এই দুই জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর মুসলমানদের নিষ্ঠুর আচরণের ব্যাপারে পৃথিবীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলো।
- আবুল হাশিম। আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি, প্রকাশক: চিরায়ত প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ১৯৭৮, পৃষ্ঠা: ১০৮
- ১০ই অক্টোবর (১৯৪৬) লক্ষ্মীপূজার দিন স্থানীয় একজন মুসলমান বিধান সভার সদস্য আব্দুস সারওয়ারের নেতৃত্বে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে হত্যা, লুণ্ঠন, গৃহদাহ, শত শত হিন্দুনারী অপহরণ, ধর্ষণ ও অকথ্য লাঞ্ছনা ও নির্যাতনসহ মুসলমানের গৃহে আটক রাখা, হিন্দু নারী ও পুরুষের মুসলমান ধর্মগ্রহণে বাধ্যকরণ প্রভৃতি এবং কোন কোন স্থানে ধনী সম্ভ্রান্ত গৃহস্থ তাহার গৃহ-আক্রমণকারী মুসলমানদের বাধা দেওয়ায় ঐ হিন্দুর সমস্ত পরিবারকে হত্যা করার ঘটনা মধ্যযুগের ব্যাপক বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার কাহিনীকেও হার মানাইয়াছে। প্রায় এক সপ্তাহকাল সুরাওয়ার্দির মন্ত্রীসভা অথবা বাংলা সরকারের নির্দেশে এই নির্মম অত্যাচারের কাহিনী একেবারে গোপন করিয়া রাখা হইয়াছিল। ১৭ই অক্টোবর সর্বপ্রথম ইহা প্রকাশিত হইতে লাগিল। সংবাদ-পত্রের বিবরণ অনুসারে পাঁচ হাজার লোক হত ও ইহার বহুগুণ নিহত, এবং প্রায় দেড় লক্ষ লোকের গৃহ বিধ্বস্ত হয়।
- রমেশচন্দ্র মজুমদার। বাংলা দেশের ইতিহাস, চতুর্থ খণ্ড (১৯০৫-১৯৪৭), প্রকাশক: জেনারেল প্রিন্টার্স য়্যাণ্ড পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, প্রথম সংস্করণ: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭৫, পৃষ্ঠা: ৪১৮
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় নোয়াখালী দাঙ্গা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।