বিষয়বস্তুতে চলুন

পদ্মা সেতু

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি, বাংলাদেশ পারে। বিশ্ব ব্যাংক অর্থ প্রত্যাহার করায় বহু হোমরা চোমরারা তখন বলেছিল, পদ্মা সেতু হবে না। আমরা করে দেখিয়েছি। — শেখ হাসিনা

পদ্মা সেতু বা পদ্মা বহুমুখী সেতু হচ্ছে বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছে। সেতুটি ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয়। এই দিন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে টোল প্রদান করে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুতে আরোহণ করেন এবং এর মাধ্যমে সেতুটি উন্মুক্ত করা হয়।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি, বাংলাদেশ পারে। বিশ্ব ব্যাংক অর্থ প্রত্যাহার করায় বহু হোমরা চোমরারা তখন বলেছিল, পদ্মা সেতু হবে না। আমরা করে দেখিয়েছি।
    • শেখ হাসিনা। ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কালশী বালুর মাঠে এক অনুষ্ঠানে। [১]
  • পদ্মা সেতু নিয়ে যখন এতকিছু হয়ে গেছে, এটা পদ্মা সেতু নামেই থাকবে। এটার সঙ্গে আর কোনো নাম যুক্ত হবার প্রয়োজন নাই। সেতুর নাম হবে নদীর নামেই। আমি আর কোনো নাম চাই না, কিছুই চাই না, জীবনে কিছুই আমার চাওয়া-পাওয়ার নেই। আমি সব হারিয়ে নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি।
    • শেখ হাসিনা। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এক সুধী সমাবেশে। [২]
  • আপনারা সবাই পদ্মা সেতু সম্পর্কে জানেন। আমাদের যোগাযোগমন্ত্রী পদ্মা সেতুটা আমার নামে করতে চেয়েছিলেন, আমি সেটা নাকচ করে দিয়েছি। তার কারণ হলো- এ সেতুর নির্মাণ নিয়ে আমরা ভিজিবিলিটি স্টাডি করে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম ২০০১ সালে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এই সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। তারা অ্যালাইনম্যান্ট দিয়ে বলে যে এটা এখানে হবে না, এটা অন্য জায়গায় হবে।
    • শেখ হাসিনা। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এক সুধী সমাবেশে। [৩]
  • পদ্মা সেতু তো কারও পৈত্রিক সম্পত্তি না, পদ্মা সেতু রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় উদ্যোগে করা। এখানে আরও একটি কথা আপনাদের সবার অবগতির জন্য জানিয়ে দেই, পদ্মা সেতুর প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন খালেদা জিয়া। একদিকে না পদ্মা সেতুর দুই দিকেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। এগুলো কিন্তু কেউ উচ্চারণও করে না, বলেও না। যমুনা সেতু যখন তৈরি হয় তখন একই অবস্থা তৈরি করেছে। যারা করলেন তাদের বাদ দিয়ে শুধু একজনের নাম, একজনের মূর্তি তৈরি করে নামটাই পরিবর্তন হয়ে গেলো। অর্থাৎ এই দেশে যেই ক্ষমতায় যায় সব কিছু দখল করে নেয়।
  • বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেব হঠাৎ আবিষ্কার করলেন পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর নাকি বেগম খালেদা জিয়া করেছেন। এটা কি তিনি স্বপ্নে পেলেন? বিএনপি তো ইদানিং অনেক দিবা স্বপ্ন দেখছে। এটিও সেই দিবাস্বপ্নের অংশ হতে পারে। পদ্মাসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর নিয়ে ফখরুল সাহেবের এই বক্তব্য বছরের সেরা আবিষ্কারের মর্যাদা পেতে পারে। দিনে দুপুরে নির্জলা মিথ্যাচারের এটি একটি নতুন রেকর্ড। আমরা ফখরুল সাহেবের কাছে জানতে চাই আপনাদের নেত্রী কবে, কখন এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। নব আবিষ্কৃত সেই ভিত্তিপ্রস্তরের ছবিটাও দেখতে চাই। প্রকৃতপক্ষে দেশরত্ন শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ঠা জুলাই পদ্মাসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তখনকার গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত। তারা যা বলছেন তাতে মনে হয় কয়েকদিন পর হয়তো বলবেন, পদ্মা সেতু হচ্ছে শহীদ জিয়ার স্বপ্ন।
  • একটি এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করেছে, তাকে পদ্মা নদীতে দুইটা চুবানি দিয়ে তোলা উচিত। মরে যাতে না যায়, পদ্মা নদীতে একটু চুবানি দিয়ে সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলে যদি শিক্ষা হয়। পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করাল ড. ইউনূস। কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের একটি এমডি পদে তাকে থাকতে হবে।
    • শেখ হাসিনা ২০২২ সালের ১৮ মে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে। [৬]
  • খালেদা জিয়া বলেছিল, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে। সেতুতে যে স্প্যানগুলো বসাচ্ছে, এগুলো তার কাছে ছিল জোড়াতালি দেওয়া। বলেছিল, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, ওখানে চড়া যাবে না। চড়লে ভেঙে পড়বে। আবার তার সঙ্গে কিছু দোসরেরাও…তাদেরকে এখন কী করা উচিত? পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে টুস করে নদীতে ফেলে দেওয়া উচিত।
    • শেখ হাসিনা। ২০২২ সালের ১৮ মে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে। [৭]
  • পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে আর হবে না। আর যদি সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানায়, সেই সেতুতে কেউ ওঠতে যাবেন না। অনেক রিক্স আছে।
  • পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা জড়িত। সেতুর কাজ শুরু হওয়ার আগেই সরকার বিরাট দুর্নীতি করেছে। তাই এ সরকারের আমলে আর পদ্মা সেতু হবে না।
  • আজকের এই পদ্মা সেতুতে ওঠার আগে আমাদের চেক করে দেখতে হবে আবার বাঁশ দিয়েছেন কি না।
    • ২০২২ সালের ২৭ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেছেন। [১০]
  • আমাদের মতো দেশে প্রতি কিলোমিটার শুধু সড়কসেতুর ব্যয় ৫০০ কোটি আর রেলসেতুসহ সেটা ৭০০ কোটি হতে পারে। তবে নদীর জটিল ভূপ্রকৃতি বিবেচনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটা সর্বোচ্চ দ্বিগুণ হতে পারে। অর্থাৎ রেলসেতুসহ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রতি কিলোমিটারে খরচ হতে পারে। অথচ ছয় কিলোমিটারের সামান্য বেশি এই সেতুর প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি, পাঁচ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ঘরের পাশে ভারতে সাড়ে নয় কিলোমিটারের ভূপেন হাজারিকা সেতু তৈরি হয়েছে সাড়ে ১১০০ কোটি রুপিতে। অর্থাৎ একটি পদ্মা সেতুর টাকায় ৩০টি ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণ সম্ভব। আরেকটি উদাহরণ দিই। ভারতেই কাচ্চি দরগা থেকে বিদুপুর পর্যন্ত গঙ্গা নদীর ওপরে সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালে। পৌনে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৬ লেনের এই সেতুর ব্যয় ৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ একটি পদ্মা সেতুর ব্যয়ে ভারতে এমন ১০টি সেতু নির্মাণ সম্ভব। জবাবদিহিহীন লুটপাট আর কাকে বলে!
    • বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক শামসুল হক, ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক সংবাদে। [১১]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]