বিষয়বস্তুতে চলুন

পল আর. এহর্লিচ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
১৯৭৪ সালে পল আর. এহর্লিচ

পল রাল্ফ এহর্লিচ (২৯ মে ১৯৩২ – ১৫ মার্চ ২০২৬) ছিলেন একজন মার্কিন জীববিজ্ঞানী, যিনি মূলত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমিত সম্পদের পরিণাম সম্পর্কে তাঁর সতর্কবার্তার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আমি যদি একজন জুয়াড়ি হতাম, তবে আমি সমান বাজি ধরতাম যে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
    • ১৯৬৯ সালের উক্তি। রেজিস, এড (১৯৯৭)। "দ্য ডুমস্লেয়ার"ওয়াইয়ার্ড (সংখ্যা ৫.০২)। ২০০৮-০৫-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৩-০১ 
  • প্রকৃতপক্ষে, এই মুহূর্তে সমাজকে সস্তা ও প্রচুর শক্তি সরবরাহ করা হবে একজন মূর্খ শিশুর হাতে মেশিনগান তুলে দেওয়ার নৈতিক সমতুল্য। সস্তা ও প্রচুর শক্তি হাতে পেলে, গ্রহের শেষ বিন্দু পর্যন্ত পাকা রাস্তা তৈরি, উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং শোষণের চেষ্টা স্পষ্টভাবে করা হবে এমন একটি প্রবণতা যা অনিবার্যভাবে আমাদের জীবন-ধারণের ব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে, যার ওপর এই সভ্যতা নির্ভরশীল।
  • এরপর থেকে এমন কিছু বিষয় সামনে এসেছে যা সমস্যাটিকে অবিশ্বাস্যভাবে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে... ওজোন স্তরে ছিদ্র... অ্যাসিড বৃষ্টি... 'দ্য পপুলেশন বোম্ব' লেখার পর থেকে ত্রিশ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। দুর্ভিক্ষগুলো কৃষিবিদদের ধারণার মতো ততটা প্রকট হয়নি... দরিদ্র দেশগুলোতে... সবুজ বিপ্লব প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে... বর্তমানে আমাদের যা দুশ্চিন্তায় ফেলছে তা হলো আমাদের খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়াতে আবার কোনো মরিয়া পদক্ষেপ নেওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে... ১৯৬৫ সালে আমরা জানতাম কীভাবে এটি করতে হয়, প্রশ্নটি ছিল আমরা কত দ্রুত তা বাস্তবায়ন করতে পারব আজকে আমাদের কাছে নতুন করে প্রয়োগ করার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই এটি অত্যন্ত ভীতিকর... একটি প্রজাতি হিসেবে আমরা আমাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে পারছি না; আমরা আমাদের পুঁজি ভেঙে খাচ্ছি, আমাদের উর্বর কৃষি জমি ধ্বংস হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত উত্তোলন করা হচ্ছে এবং আমাদের জীববৈচিত্র্য তথা জীবন-ধারণের ব্যবস্থাগুলো হুমকির মুখে সহনক্ষমতার সীমা আমরা আগেই অতিক্রম করেছি।
    • কেকিউইডি রেডিও সিটি আর্টস অ্যান্ড লেকচারস, সান ফ্রান্সিসকো ১৯৯৬।
  • পরিবেশগত সংকটের প্রধান তিনটি উপাদানের মধ্যে কোনটি বেশি ক্ষতি করছে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা, সম্পদের অতিরিক্ত ভোগ নাকি দেশগুলোর মধ্যে সম্পদের অসম/অন্যায্য বণ্টন (যেখানে ধনী দেশগুলো দরিদ্র দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি সম্পদ ভোগ করে) তা নিয়ে বিতর্ক করা অনেকটা ত্রিভুজের ভূমি না কি বাহু, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে বিতর্ক করার মতো। আপনি এই তিনটি উপাদানকে আলাদা করতে পারবেন না। আমরা যদি অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে সংখ্যাগুলো বিশ্লেষণ করি, তবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাব যে ভোগের চেয়ে জনসংখ্যার আকারের প্রভাব বেশি। অন্যদিকে, ভোগ এবং অসম বণ্টনও গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমরা যদি একই সাথে এই তিনটি উপাদানে পরিবর্তন না আনি, তবে আমাদের জীবনযাত্রার মান নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে। আজ মানবজাতি প্রকৃতির ওপর মারাত্মক আঘাত হানছে, কিন্তু এটি স্পষ্ট যে প্রকৃতিই শেষ আঘাতটি হানবে।
  • শুরু করার জন্য, আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সহায়ক গর্ভপাত সবার জন্য সহজলভ্য করুন এবং নারীদের পুরুষদের সমান পূর্ণ অধিকার, বেতন ও সুযোগ প্রদান করুন। আমি আশা করি এটি প্রজনন হারকে যথেষ্ট নিচে নামিয়ে আনবে যাতে জনসংখ্যার প্রয়োজনীয় সংকোচন সম্ভব হয়। [কিন্তু] মানবিক উপায়ে মোট জনসংখ্যাকে একটি টেকসই আকারে কমিয়ে আনতে অনেক দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।
  • আমাদের কাছে থাকা প্রমাণগুলো বলছে যে বিষাক্ত পদার্থ শিশুদের বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দেয় এবং সেই বিষক্রিয়ায় প্রবলভাবে প্রভাবিত প্রথম প্রজন্মের সদস্যরা এখন প্রাপ্তবয়স্ক। আমরা যে হোমো সেপিয়েন্স-এর বুদ্ধিবৃত্তিক অবনতি ঘটাচ্ছি তার প্রথম অভিজ্ঞলব্ধ প্রমাণ ছিল ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিতর্কগুলো এবং এর ফলে সৃষ্ট এক 'কাকিস্টোক্র্যাসি' (অযোগ্যদের শাসন)। অন্যদিকে, বিষক্রিয়া হয়তো জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে, কারণ শুক্রাণুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
  • জীবন এখন ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির স্তরে প্রবেশ করেছে। এটি সম্ভবত সবচেয়ে গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা, কারণ একটি প্রজাতির বিলুপ্তি চিরস্থায়ী এবং তাদের প্রত্যেকেই আমাদের নির্ভরশীল এই জীবন্ত ব্যবস্থায় কমবেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সংকটকে সংজ্ঞায়িতকারী এই প্রজাতি বিলুপ্তি মূলত তাদের অন্তর্ভুক্ত জনসংখ্যাগুলোর ব্যাপক অন্তর্ধানের ওপর ভিত্তি করে ঘটছে, যার বেশিরভাগই ১৮০০-এর দশকের পর থেকে শুরু হয়েছে। আমরা যে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হোমো সেপিয়েন্সের কর্মকাণ্ডের কারণে ঘটছে। এর প্রায় পুরোটাই ঘটেছে প্রায় ১১,০০০ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের কৃষি উদ্ভাবনের পর থেকে। সেই সময়ে বিশ্বজুড়ে আমাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লক্ষ; এখন আমরা ৭৭০ কোটি এবং এই সংখ্যা এখনও দ্রুত বাড়ছে। আমাদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানবজাতি তার বিশাল সংখ্যক সহচর প্রাণীদের জন্য এক অভূতপূর্ব হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পল এহর্লিচ অ্যান্ড দ্য পপুলেশন বোম্ব

[সম্পাদনা]

কানাডিয়ান জীববিজ্ঞানী ডক্টর ডেভিড সুজুকি প্রযোজিত পিবিএস ভিডিও'পল এহর্লিচ অ্যান্ড দ্য পপুলেশন বোম্ব'

  • একটি সীমিত গ্রহে আমরা চিরকাল প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারব এই ধারণাটি সম্পূর্ণ মূর্খতাসুলভ... জঙ্ক-মেইল মার্কেটিংয়ের অধ্যাপক জুলিয়ান সাইমন এবং তাঁর অনুসারীরা মনে করেন যে প্রযুক্তি সবকিছু সমাধান করে দেবে... আমরা পৃথিবী শেষ করে ফেলব এবং তারপর মহাকাশযানে চড়ে অন্য কোথাও চলে যাব... প্রযুক্তি জীববৈচিত্র্য, বসবাসের জায়গা বা আবাদি জমির সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারে না... সুপেয় পানি এবং আবাদি জমি হলো সীমিত সম্পদ... আমরা ইতিমধ্যে একটি টেকসই জীবনযাপনের সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করেছি... আমেরিকার পূর্ব উপকূলের কোনো সমৃদ্ধ শহরে বসবাসকারী ব্যক্তির সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতার চেয়ে অনেক ভিন্ন। বিশ্বের বেশিরভাগ অংশই গ্রীষ্মমন্ডলীয়, ক্ষুধার্ত এবং দরিদ্র। উন্নয়নশীল বিশ্ব এবং দক্ষিণ গোলার্ধ ভ্রমণ করলে আপনি বাস্তবতার এক ভিন্ন রূপ দেখতে পাবেন।
  • জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করলেই বর্ণবাদ... লিঙ্গবৈষম্য... ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা... যুদ্ধ... কিংবা চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যের সমাধান হয়ে যাবে না কিন্তু আপনি যদি জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান না করেন, তবে আপনি এই সমস্যাগুলোর একটিরও সমাধান করতে পারবেন না। আপনি যে সমস্যা নিয়েই আগ্রহী হন না কেন, জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান না করলে আপনি তাতে সফল হবেন না। আপনার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সেটি একটি ব্যর্থ উদ্দেশ্যে পরিণত হতে বাধ্য।

দ্য পপুলেশন এক্সপ্লোশন (১৯৯০)

[সম্পাদনা]
  • ভূগর্ভস্থ জলস্তরের অতিরিক্ত ব্যবহারই একটি কারণ যার জন্য আমাদের ভূতাত্ত্বিক সহকর্মীরা নিশ্চিত যে, পানির অভাব মানব জনসংখ্যার এই বিস্ফোরণকে থামিয়ে দেবে। তেলের বিকল্প আছে; কিন্তু সুপেয় পানির কোনো বিকল্প নেই।
  • অতিরিক্ত জনসংখ্যা বা জনবিস্ফোরণ বোঝার চাবিকাঠি জনঘনত্ব নয়, বরং একটি এলাকার সম্পদের পরিমাণ এবং মানুষের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করার পরিবেশগত ক্ষমতার (অর্থাৎ ধারণক্ষমতা) বিপরীতে মানুষের সংখ্যা। একটি এলাকা কখন জনাকীর্ণ বা অতি-জনসংখ্যার শিকার হয়? যখন অ-নবায়নযোগ্য সম্পদ দ্রুত নিঃশেষ না করে সেই জনসংখ্যাকে আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না... এই মানদণ্ড অনুযায়ী, পুরো গ্রহ এবং কার্যত প্রতিটি দেশই ইতিমধ্যে বিশাল জনবিস্ফোরণের শিকার।

পল এহর্লিচ সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • মার্কিন জীববিজ্ঞানী পল এহর্লিচ একটি বাস্তুসংস্থানিক সম্প্রদায় থেকে প্রজাতির বিলুপ্তিকে একটি বিমানের ডানা থেকে যথেচ্ছভাবে রিভেট বা নাট-বল্টু খুলে ফেলার সাথে তুলনা করেছেন। একটি বা দুটি সরিয়ে ফেললে বিমানটি সম্ভবত ঠিকই থাকবে। দশটি, বিশটি বা পঞ্চাশটি সরিয়ে ফেললে কোনো এক মুহূর্তে একটি বিপর্যয়কর যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটবে এবং বিমানটি আকাশ থেকে আছড়ে পড়বে। পতঙ্গরা হলো সেই রিভেট যা বাস্তুসংস্থানকে সচল রাখে... পল এহর্লিচের উপমা অনুযায়ী, আমরা হয়তো সেই বিন্দুটির খুব কাছাকাছি চলে এসেছি যেখানে বিমানের ডানা দুটি খুলে পড়ে যাবে।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]