বিষয়বস্তুতে চলুন

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি মূলত কয়েকটি প্রধান রাজনৈতিক দল দ্বারা প্রভাবিত। এই দলগুলো হলো—তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। অনেক দশক ধরে এই রাজ্যে ভয়াবহ ও নির্মম রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আমার বিশ্বাস, বাংলা আজ আমাদের দেশে ধ্বংসের পথে। একসময় কলকাতা ছিল দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির নেতৃত্বে। কিন্তু রাজনীতির কারণে এই উন্নতি থেমে গেছে... তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে নারীরা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। সন্দেশখালি ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। আর সেই ভোটের মাধ্যমেই তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করবে। তাই, এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। আপনারা দেখেছেন কত টাকা উদ্ধার হয়েছে। এর আগে কখনও এত বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ধরা পড়তে দেখেছেন? সাম্প্রতিক বছরে ৫০ কোটি, ৩০০ কোটি, ২৫০ কোটি, ২০০ কোটি টাকার বান্ডিল উদ্ধার হয়েছে। গোটা দেশ বিস্ময়ে হতবাক। যতই লুকানোর চেষ্টা করা হোক, এখন দেশের মানুষ বুঝে গেছে—এই লোকগুলো চোর।

গণতন্ত্র অবরুদ্ধ: ব্যালট, বুলেট ও রক্ত

[সম্পাদনা]
গণতন্ত্র অবরুদ্ধ: ব্যালট, বুলেট ও রক্ত, শুভম তিওয়ারি এবং শিবম রঘুবংশী গরুড় প্রকাশন, ২০২২, পৃষ্ঠা ২৫০, মূল্য ₹৩৯৯
  • ২ মে-র পরে পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটেছে, তা স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেয়—এই রাজ্য কোন পথে এগোচ্ছে। এই সহিংসতা ঠিক কতটা বিস্তৃত ছিল তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ঘটে যাওয়া অপরাধগুলো, বিশেষ করে হিন্দু নারীদের ধর্ষণের মতো ঘটনা হিন্দু-বিরোধী ঘৃণার এক ভয়ঙ্কর রূপ প্রকাশ করেছে। এতে বোঝা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই প্রাক দেশভাগের সময়ের মতো হয়ে উঠছে।
  • যদি আমরা সংবিধান সম্মত সমাজ গড়ে তুলতে চাই, তাহলে মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত নিজেদের ভেতরে বোঝার চেষ্টা করা। তাদের পুরুষদের শেখানো দরকার যেন তারা অন্য ধর্মের নারীদের প্রতি সম্মান দেখায়। অমুসলিম নারীদের 'মালে গনিমত' (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) হিসেবে দেখার ধর্মীয় বৈধতা—আধুনিক ভারতীয় সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
  • পরগনা থেকে নদিয়া, তারপর মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দিনাজপুর পর্যন্ত—এই অঞ্চল ঘুরে আমরা এক ভিন্নধরনের 'মুসলিম সংখ্যালঘু' সম্প্রদায়কে প্রত্যক্ষ করেছি। আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের এই অঞ্চলগুলো ভ্রমণ করেন, তাহলে দেখতে পাবেন—মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম কলকাতা বন্দরের যে অবস্থার কথা বলেছিলেন, তা শুধু স্থানীয় কোনো ঘটনা নয়। এটা পুরো পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ছড়িয়ে আছে।
  • এই অঞ্চলে হিন্দুদের উপর চলা নিঃশব্দ নিপীড়নের বাস্তবতা দেশের বাকি অংশের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে। বাস্তবে, গ্রামের দখল নেওয়া এবং হিন্দুদের জেলা শহর বা মুর্শিদাবাদে চলে যেতে বাধ্য করার কৌশলই এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এইসব এলাকায় বসবাসকারী হিন্দুদের মধ্যে এমন এক ভয় কাজ করে, যে তারা কোনো দিনই সাহস করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে পারেন না। সরকারি বা আইনগত প্রতিষ্ঠানের কাছে যেতে পারেন না। অনেকেই নীরবে 'অর্থ' দিতে বাধ্য হয়েছেন—শুধু বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কারণে। যেন তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আবার চালু রাখতে পারেন। এটা অনেকেই মুখে বলেন না, কিন্তু এটাই বাস্তব সত্য!
  • বিজেপি সভাপতির কথায় উত্তর দিনাজপুর জেলার এক আতঙ্কের ছবি ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, "মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ২:৩ অনুপাতে বাড়ছে। অর্থাৎ, প্রতি দুইজন হিন্দু ভোটারের জায়গায় তিনজন মুসলিম ভোটার যুক্ত হচ্ছে। গোয়ালপোখর, করণদিঘি ও চোপড়া ব্লকে এখনো অনুপ্রবেশ চলছে, আর এটা একটা বড় উদ্বেগের কারণ... সহিংসতার ৯৫ শতাংশ ঘটনার পেছনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মুসলিমদের জড়িত থাকা দেখা গেছে।"
  • অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন—এই তথ্য তো এক বিজেপি নেতার কাছ থেকে এসেছে! কিন্তু এদের জন্য আমরা এটা স্পষ্ট করে বলছি—এই তথ্য স্বাধীন সূত্র থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে যেহেতু অন্য সবাই বেনামে থাকতে চেয়েছেন, তাই আমরা বিজেপির একজন পদাধিকারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি। অবশেষে এটাও মনে রাখা দরকার—তারা তো ইসরায়েল থেকে আসেননি। তারাও এই গণতন্ত্রেরই অংশ, যেমন আমরা সকলেই।
  • নন্দীগ্রামে দেবব্রত মাইতিকে যেভাবে হত্যার শিকার হতে হয়েছে তা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। এই হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন শেখ সুফিয়ানের জামাই—যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট। এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় এই রাজ্যে ইসলামপন্থীরা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয়ের 'প্রতিশোধ' যেভাবে মুসলিমদের হাতে নেওয়া হয়েছে—সেই বর্ণনা শুনে স্তব্ধ হয়ে যেতে হয়। তা সত্যিই ভয়ঙ্কর। উত্তর দিনাজপুরে কোরবানির ঈদে গরু জবাই করার অনুমতি রাজ্য সরকার নিজেই দিয়েছে—এটা শুনে হৃদয় ভেঙে যায়। আর মিঠুন ঘোষ যখন এই প্রথার বিরোধিতা করেন তখন তাঁকে নির্বাচনের পরে হত্যা করা হয়। কারণ, তিনি একজন 'কট্টর হিন্দু' ছিলেন।
  • পুর্ব বর্ধমানে ২১ বছরের বলরাম মাঝিকে যখন হত্যা করা হয় তখন ইসলামপন্থী দুষ্কৃতিকারীরা তাঁর পরিবারকে হুমকি দেয়—"পুলিশের কাছে গেলে তোমাদের হিন্দুত্ব শেষ করে দেবো।" একই ধরনের হামলায় কোচবিহারে হরাধন রায় এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হরণ অধিকারীকেও হত্যা করা হয়। তাদের অপরাধ—তাঁরা হিন্দু ছিলেন। ২ মে-র পর এমন শত শত ঘটনা ঘটেছে যেখানে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা হিন্দু গ্রাম ও এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তারা হিন্দু নারীদের ও কিশোরীদের লক্ষ্য করেছে। যারা বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের গালিগালাজ ও নির্যাতন করা হয়েছে। তবুও কিছু মানুষ বলে, "সহিংসতা তো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অঙ্গ, এটাকে হিন্দু-মুসলিম বানিও না।" কিন্তু যদি বাস্তবে এটা হিন্দু-মুসলিম বৈরিতা হয়ে থাকে, তাহলে আমরা কী করব? মিথ্যে বলব?

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]