পাউল এরেনফেস্ট
অবয়ব

পাউল এরেনফেস্ট (জানুয়ারি ১৮, ১৮৮০ – সেপ্টেম্বর ২৫, ১৯৩৩) ছিলেন একজন অস্ট্রীয় পদার্থবিদ ও গণিতবিদ। ১৯২২ সালের ২৪ মার্চ তিনি নেদারল্যান্ডসের নাগরিকত্ব লাভ করেন। পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যা এবং তার সঙ্গে কোয়ান্টাম বলবিদ্যার সম্পর্ক নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এর মধ্যে দশা পরিবর্তন তত্ত্ব এবং এরেনফেস্টের উপপাদ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সূত্রসহ
[সম্পাদনা]- আইনস্টাইন, আমার এই দুর্বল পেট তোমার তত্ত্ব সহ্য করতে পারছে না, এমনকি তোমাকেও প্রায় সহ্য করা দায়! আমি এখন আমার ছাত্রদের সামলাব কীভাবে? আর দার্শনিকদেরই বা কী জবাব দেব?
- সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব নিয়ে, আলবার্ট আইনস্টাইনকে লেখা ২৪ নভেম্বর ১৯১৯ তারিখের এক চিঠিতে।
আরোপিত
[সম্পাদনা]- বিন্দু-ইলেকট্রন নিয়ে তোমার ঝামেলা হবে।
- হেন্ড্রিক কাসিমিরের উদ্ধৃতিতে, থমাস কুন, লেওঁ রোজেনফেল্ড, ওগে বোর এবং এরিক রুডিঙ্গার নেওয়া ৫ ও ৬ জুলাই ১৯৬৩ এ কোপেনহেগেনের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের একটি সাক্ষাৎকারে।
এরেনফেস্ট সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- যেতে যেতে এরেনফেস্টের একটি স্বভাবসুলভ ঘটনার কথা বলা যাক, যদিও এই ঘটনা খুব একটা ভালো লাগবে না। সে সময় লরেঞ্জ হারলেমে থাকতেন। রাদারফোর্ড, মাদাম কুরি, বোর এবং আইনস্টাইনের মতো বিশ্বখ্যাত সব বিজ্ঞানীরা লেইডেন থেকে হারলেমে যাতায়াতের জন্য বিশেষ একটি ট্রেন ব্যবহার করতেন। ঠিক এক সপ্তাহ আগে সেই লাইনে বিরল অথচ ভয়াবহ একটি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিল। একদিন আমি এরেনফেস্টকে বললাম, ‘আচ্ছা, ওই বিজ্ঞানীদের বহনকারী ট্রেনটিরও যদি এমন দুর্ঘটনা ঘটত, তবে তা কত বড় বিপর্যয় হতো, ভাবা যায়?’ এরেনফেস্ট নির্লিপ্তভাবে জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, তা ঠিক। কিন্তু ভেবে দেখো, তখন কত শত তরুণ পদার্থবিদের সামনে চাকরির অবারিত সুযোগ তৈরি হতো!’
- স্যামুয়েল গাউডস্মিট (গাউডস্মিটের এপ্রিল ১৯৭১-এর বক্তৃতা থেকে জে. এইচ. ফান ডার ভালসের অনুবাদে) অধ্যায় এ.১: ইলেকট্রনের স্পিনের আবিষ্কার, ফাউন্ডেশন্স অব মডার্ন ইপিআর, ১৯৯৮, পৃষ্ঠা ১–১২। (উদ্ধৃতি, পৃষ্ঠা ৯–১০)
- পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যা আর তড়িৎচৌম্বক তত্ত্ব পড়ানোর সময় তাঁর ভঙ্গিটা ছিল অনন্য। মনে হতো বিজ্ঞান যেন নানা দ্বন্দ্ব আর বিতর্কের মধ্য দিয়ে এক জীবন্ত সত্তা হিসেবে বড় হয়ে উঠছে। তাঁর প্রতিটি বক্তৃতায় বোল্টসমান, ক্লাইন, রিৎজ, আব্রাহাম কিংবা আইনস্টাইনের মতো মহান বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ফুটে উঠত। পড়ানোর শুরুতেই তিনি সাফ বলে দিতেন, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ভেক্টর বিশ্লেষণ নিজে নিজে শিখে নিতে হবে, এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। এরেনফেস্টের ছাত্ররা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর পড়ানোর এই অদ্ভুত ধরন তাঁদের নিজেদের শিক্ষকতা জীবনেও এক গভীর প্রভাব ফেলেছে।
- ডির্ক ইয়ান স্ট্রুইক: ডেভিড ই. রো রচিত ডির্ক ইয়ান স্ট্রুইকের সাক্ষাৎকার, দ্য ম্যাথেমেটিক্যাল ইনটেলিজেন্সার, খণ্ড ১১, সংখ্যা ১, ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১৪–২৬। (উদ্ধৃতি, পৃষ্ঠা ১৫)
- লুডভিগ বোল্টসমান তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং ১৯০৬ সালে তিনি প্রাণ হারান। তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন পাউল এরেনফেস্ট, কিন্তু ১৯৩৩ সালে তিনিও মারা যান। এখন এই পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যা নিয়ে কাজ করার পালা আমাদের। তবে দুই পূর্বসূরির পরিণতির কথা মাথায় রেখে বোধহয় এই বিষয়ের দিকে একটু সাবধানেই পা বাড়ানো উচিত।
- ডেভিড এল. গুডস্টাইন, স্টেটস অব ম্যাটার (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ১।