বিষয়বস্তুতে চলুন

পাবলিক স্পিকিং

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

পাবলিক স্পিকিং বা জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদান এমন একটি চর্চা যেখানে একজন বক্তা শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। ইতিহাসজুড়ে এটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই চর্চা বক্তাকে শ্রোতাদের সঙ্গে যুক্ত হতে সাহায্য করে, যাতে তিনি তাদের শেখাতে বা প্রভাবিত করতে পারেন। প্রায়ই বক্তব্যকে আরও প্রভাবশালী করতে উপস্থাপনা, ছবি ও সংক্ষিপ্ত ভিডিওর মতো ভিজ্যুয়াল টুল ব্যবহৃত হয়।

প্রাচীন চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস বিশ্বাস করতেন, বক্তব্য এমন প্রভাব ফেলতে পারে যা শুধু উপস্থিত শ্রোতাদের নয়, অনুপস্থিতদের মাঝেও পরিবর্তন আনতে সক্ষম। পাশ্চাত্য সভ্যতায় প্রাচীন গ্রীস ও রোমে জনসমক্ষে বক্তব্যকে গভীরভাবে অধ্যয়ন করা হতো। গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বক্তৃতাকে তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন: রাজনৈতিক (deliberative), বিচারিক (forensic), ও আনুষ্ঠানিক (epideictic)। একইভাবে রোমান দার্শনিক ও বক্তা সিসেরোও বক্তৃতার উদ্দেশ্য তিনটি ভাগে ভাগ করেছিলেন: বিচারিক, রাজনৈতিক ও আনুষ্ঠানিক, যার সঙ্গে অ্যারিস্টটলের শ্রেণিবিভাজনের মিল রয়েছে।

আধুনিক যুগে পাবলিক স্পিকিং বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন সরকার, ব্যবসা, ও জনসচেতনতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হয়। ডিজিটাল প্রযুক্তির আগমনের ফলে এটি আরও বিস্তৃত হয়েছে, যেমন ভিডিও কনফারেন্সিং ও মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • পাবলিক স্পিকিং বা সরাসরি দর্শক-শ্রোতাদের সামনে দাঁড়িয়ে চমৎকারভাবে কথা বলতে পারার বিষয়ে বহুদিন ধরে যে মিথ বা জনশ্রুতি চলে আসছে তা হলো, এ ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন মানুষদের মধ্যে সহজাতভাবেই এই গুণটি রয়েছে। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। সত্যিটা হচ্ছে, তারা যথেষ্ট পরিশ্রম করে নিজেদেরকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন।
  • একটা বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার পেছনে যেমন শ্রম দিতে হয়, তেমনই পাবলিক স্পিকিংও একটি দক্ষতা যা মানুষকে অর্জন করতে হয়।
  • বিশ্বের খ্যাতনামা সব পাবলিক স্পিকাররা ভিন্ন ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠেছেন, কিন্তু তবুও তাদের সবার মধ্যে একটি ক্রিটিক্যাল অভ্যাস রয়েছে, তা হলো: তারা উন্নতির করার মতো মনমানসিকতা তৈরি করেছেন।
  • মানুষের উন্নতির পথে অন্যতম প্রধান একটি বিষয় হলো, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। যারা ভাবে তারা সবকিছু জানে, তারা সাধারণত গড়পরতা বা দুর্বল উপস্থাপক এবং পাবলিক স্পিকার হয়।, কারণ তখন তাদের উন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যায়।
  • আপনি পাবলিক স্পিকিংয়ে যা পারফর্ম করেছেন তার ফিডব্যাক বা দর্শকদের কেমন লেগেছে তা জানতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, যারা আপনার অনুষ্ঠান দেখেছে সেসব বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন পারফরম্যান্স কেমন লেগেছে, তাদের পরামর্শও নিতে পারেন।
  • পাবলিক স্পিকিংয়ের ভয়কে বলে গ্লোসোফোবিয়া, যা অনেক মানুষেরই রয়েছে। তবে এটা কাটানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে আপনি নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলুন অনেক বেশি। বেশি বেশি বন্ধু বানান। তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনুশীলন করুন। যত বেশি অনুশীলন করবেন ভয় তত কমবে।
  • বক্তৃতায় একটি গল্পের উপস্থিতি বক্তৃতাটিকেই বদলে দেয়। গল্প বক্তৃতার যেকোনো সময়েই বলা যায়, তবে বক্তৃতার শুরুতে বললে ভালো। গল্প বলার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনের গল্প অথবা বক্তৃতার বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত বাস্তবভিত্তিক গল্প বলা উচিত।
  • পাবলিক স্পিকিং- এ সফলতার একটি ‘গোপন’ উপায় হল গল্প বলা।

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]