বিষয়বস্তুতে চলুন

পারমাণবিক যুদ্ধ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই 'ব্যাবিলন-টাওয়ার' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
জে. আর. আর. টলকিন

পারমাণবিক যুদ্ধ, যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োগ ঘটানো হয়।

উক্তি

[সম্পাদনা]

পূর্বাভাস

[সম্পাদনা]
  • মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
    • হেনরি অ্যাডামস, চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস: ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
  • বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।

১৯৪০-এর দশক

[সম্পাদনা]
৯ আগস্ট, ১৯৪৫-এ নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর আকাশে উড্ডীয়মান সেই ভয়ংকর মাশরুম মেঘ বা পারমাণবিক ধোঁয়া!
  • তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
  • প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
    • উইনস্টন চার্চিল, হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
  • "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ব্যাবিলন-টাওয়ার নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
    • জে. আর. আর. টলকিন, তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
  • ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
    • হিরোহিতো, ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
    • বারট্রান্ড রাসেল, গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, সিলেক্টেড লেটারস (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
  • কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব 'হোমো সেপিয়েন্স' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত ছুঁচোদের মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
    • জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট, নিউইয়র্ক সিটিতে ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
  • জার্মানরা পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
    • আলবার্ট আইনস্টাইন, রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; নিউজউইক সাময়িকী (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
  • আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' (সারমন অন দ্য মাউন্ট) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
    • ওমর ব্র্যাডলি, যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); কালেক্টেড রাইটিংস, খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
  • হাইড্রোজেন বোমার আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে ইউরেনিয়ামের মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
    • বারট্রান্ড রাসেল, হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
  • তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
    • আলবার্ট আইনস্টাইন, আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; লিবারেল জুডাইজম, সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
    • ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ দ্য রোটারিয়ান, খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: এমএসএনবিসি, ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।

১৯৫০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
    • উইলিয়াম ফকনার, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে, খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!
  • যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই বিশাল এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি চুরমার করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো গুঁড়িয়ে দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
    • ডাক অ্যান্ড কভার (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
  • যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
    • জে. ডি. সালিঞ্জার, দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
  • পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
    • আদলাই স্টিভেনসন II, "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
  • সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!
    এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে যুদ্ধজাহাজই ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!
    এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী বোমারু বিমানের মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!
    একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!
    আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত?
বারট্রান্ড রাসেল
  • ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল 'রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
  • 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার
  • আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
    • ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার, প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
  • শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা এইচ-বোমার মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
  • পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।

১৯৬০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
    • হারমান কান, অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার (১৯৬০)।
  • কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে চীন কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।
    আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, "Frika ruan vreshtin" (ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে বা চোরের মন পুলিশ পুলিশ)। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
  • আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, জুলিয়াস সিজার এবং নেপোলিয়নের ঐতিহ্যে অ্যাডলফ হিটলার সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা ম্যাসেডোনিয়ার পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
    • উইলিয়াম এল. শিরার, দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
  • মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা রচেস্টার এবং অন্যটি বাফেলোতে নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন নুরেমবার্গে এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
  • বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
জন এফ. কেনেডি
  • এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
  • এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
    • বারট্রান্ড রাসেল, প্লেবয় সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
  • মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
    • আইজাক আসিমভ, ভিউ ফ্রম আ হাইট (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া আসিমভ অন ফিজিক্স (১৯৭৬) এবং আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
  • বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
  • মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
    • জেনারেল 'বাক' টারগিডসন, ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
  • প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
    • হেনরি কিসিঞ্জার, রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
  • জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
    • নিকিতা খ্রুশ্চেভ, পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", হার্পার'স (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।

১৯৭০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।
    বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
    • মাও ৎসে-তুং (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২ (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
  • জাপানের সেই দুটি শহরের নাম আমার হৃদয়ে এক দারুন বিভীষিকা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল! একদিকে ছিল এক বিষাক্ত সচেতনতা যে আমার এই দেশ, মাত্র পাঁচ বছর আগে যার নাগরিকত্ব আমি পেয়েছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী বীভৎস ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম! অন্যদিকে ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই সংহারী গতিপথ দেখে এক বমিভাব জাগানিয়া আতঙ্ক! পৃথিবীর বিনাশী রূপটি আমার কাছে কখনোই খুব দূরের কোনো বিষয় ছিল না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম মানবতার শাশ্বত সত্তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আর এই সর্বনাশকে সম্ভব করেছে আমার নিজের এই পেশা। আমার দু'নয়নে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা আসলে একই অভিন্ন সত্তা। যদি বিজ্ঞানের একটি শাখা তার নিষ্কলঙ্ক হওয়ার দাবি হারিয়ে ফেলে, তবে অন্য কোনো শাখার নিজেকে নির্দোষ বলার আর কোনো পথ থাকে না।
  • ১৯৪৫ সালের সেই বিভীষিকা পূর্ণ সময়ে নিজেকে এক আবেগীয় বেকুব হিসেবে প্রমাণ করেছিলাম! প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান চাইলে আমাকেও সেই সব বিলাপকারী নির্বোধদের তালিকায় স্বচ্ছন্দে ফেলে দিতে পারতেন, যাঁদের তিনি আপন অফিসে প্রবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকু দিতেও নারাজ ছিলেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম, এত বিপুল যাতনা বা কষ্টের পরোয়ানা জারি করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। বিজ্ঞান এখানে ঘাতকের ছুরিতে শাণ দিয়েছে, তাকে পথ দেখিয়েছে! আর এভাবেই বিজ্ঞান এমন এক কলঙ্ক বা পাপের ভাগীদার হয়েছে যার হাত থেকে তার মুক্তি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজ্ঞান এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যকার সেই অশুভ যোগসূত্রটি আমার কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষাদময় ঘটনার পরবর্তী কয়েক বছর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আমি মরিয়া হয়ে তথাকথিত শান্ত-শীতল সুইজারল্যান্ডে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। কিন্তু আমি সফল হ্তে পারিনি।
    • আরউইন শার্গাফ, হেরাক্লিটিয়ান ফায়ার: স্কেচেস ফ্রম এ লাইফ বিফোর নেচার (১৯৭৮)

১৯৮০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • হিরোশিমায় প্রথম পারমাণবিক বোমা পড়ার পর এখন প্রায় ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন আর এমন কোনো সময়ের কথা মনে করতে পারে না, যখন এই পৃথিবী পারমাণবিক ছায়ায় ঢাকা ছিল না। আমাদের মন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, ঠিক যেমন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমাদের চোখ সেই আঁধারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অথচ পারমাণবিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এক বিন্দুও কমেনি বরং বেড়েছে। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যে এটি এখনও ঘটেনি। কিন্তু তাতে স্বস্তির অবকাশ খুবই কম, কারণ এটি কেবল একবার ঘটতে পারলেই তা যথেষ্ট! বিপদ দিনের দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার এখন আকার ও আধুনিকতায় আরো বিশাল হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যখন এসব মারণাস্ত্রের মালিক হচ্ছে—তখন উন্মাদনা, হতাশা, লোভ কিংবা ভুল হিসাবের কারণে এই ভয়ংকর দানবটির শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র! একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমপরিমাণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিটি সেকেন্ডে উগড়ে দেওয়া হবে!যতক্ষণ না সব ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ভাবুন তো, প্রতি সেকেন্ডে একটি করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! ইতিহাসের সব যুদ্ধে মিলে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। আর যদি কেউ বেঁচেও থাকে, তবে তারা বেঁচে থাকবে এক বিষাক্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে। যে সভ্যতা নিজেই নিজের আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিল।
  • কল্পনা করুন পেট্রোলে ভাসছে এমন একটি ঘর, যেখানে দুজন আপসহীন শত্রু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের হাতে আছে নয় হাজার দেশলাই কাঠি, আর অন্যজনের হাতে সাত হাজার। প্রত্যেকেই এই চিন্তায় অস্থির যে কে কার চেয়ে এগিয়ে আছে, কার শক্তি বেশি! ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা এখন বাস করছি। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই স্ফীত এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনে যা দরকার তার চেয়ে এতটাই অবিশ্বাস্য রকম বেশি যে পুরো বিষয়টি ট্র্যাজিক না হলে একে হাস্যকর বলা যেত। এখন যেটা প্রয়োজন তা হলো, হাতের দেশলাই কাঠির সংখ্যা কমানো এবং নিচে গলার কাঁটা হয়ে থাকা পেট্রোলটুকু পরিষ্কার করা।
    • কার্ল সেগান, এবিসি নিউজ ভিউপয়েন্ট প্যানেল আলোচনায় (২০ নভেম্বর, ১৯৮৩)
এ এক অদ্ভুত খেলা।
জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! এ খেলা থেকে বিরত থাকায় হলো আসল জিত!
  • এ এক অদ্ভুত খেলা।
    জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! তার চেয়ে বরং এক রাউন্ড দাবা খেললে কেমন হয়?
    • ওয়ারগেমস (১৯৮৩ সালের চলচ্চিত্র)
  • প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদেরকে এই সংবাদটি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছি যা রাশিয়াকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। আমরা আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বোমা বর্ষণ শুরু করতে যাচ্ছি!
    • রোনাল্ড রেগন, স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা একটি অফ-দ্য-রেকর্ড রসিকতা। ১১ আগস্ট, ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর অবকাশ যাপনের বাড়িতে একটি নির্ধারিত রেডিও ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে তিনি এই রসিকতা করেন। এটি সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও রেকর্ড করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়।
  • সরল বোধের ওপর নেই তব আধিপত্যের অধিকার,
    হোক না সেটা রাজকীয় বেড়ার এপার ও ওপার!
    ভিন্ আদর্শ, তবু কোটি প্রাণের একই সন্তরণ!
    হৃদয় পেতে শোনো, যা করি বর্ণন—
    আশায় থাকি, রুশরা যেন প্রজন্মদের আগলে রাখে সারাক্ষণ!
    • স্টিং, "রাশিয়ানস", অ্যালবাম: দ্য ড্রিম অফ দ্য ব্লু টার্টলস (১৯৮৫); রূপান্তর: মাহমুদ (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
  • একটি পারমাণবিক যুদ্ধ কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থাকেও রক্ষা করতে পারে না!
    আমি বহুবার একটি কথা বলেছি—এমনকি বিশ্বের সবচাইতে ঝানু তাত্ত্বিকও পুঁজিবাদের ছাই আর কমিউনিজমের ছাইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলাম না!
    • জন কেনেথ গলব্রেথ, "দ্য অ্যাশেস অফ ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড দ্য অ্যাশেস অফ কমিউনিজম", জন এম হোয়াইটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (তারিখবিহীন), কোয়েস্ট ফর পিস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন (১৯৮৬)
  • যুদ্ধ শুধুই একটি খেলা,
    খাস-মকসুদ মাতালদের জন্য মেলা!
    কিন্তু তাদের বিনাশের হুমকি দাও—
    রবেনা এই ভুবনে, পালাতে দেবে নাও!
    যদি এটাই হয় শান্তনামূলক মানবতাবাদ,
    তবে বোমার জন্য 'ঈশ্বর জিন্দাবাদ'!
    • ওজি অসবোর্ন, বব ডেইসলি, জেক ই. লি, "থ্যাঙ্ক গড ফর দ্য বোম্ব", দ্য আল্টিমেট সিন অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); বাংলায় রূপান্তর: মাহমুদ (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
চার মহাসাগর আর সাত সমুদ্রের নিচে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত সাবমেরিনগুলো বছরের প্রতিটি দিন এক যুদ্ধের কাছাকাছি লড়াইয়ে লিপ্ত থাকে।
রিচার্ড হ্যালোজান
  • চার মহাসাগর আর সাত দরিয়ার তলদেশে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত সাবমেরিনগুলো বছরের প্রতিটি দিন এক প্রায়-যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। বিরামহীনভাবে তারা একে অপরকে খুঁজে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই শত্রুর পিছু নেয় আর ধরা পড়লে পালানোর চেষ্টা করে। কেবল গুলি চালানো ছাড়া আসল যুদ্ধের প্রতিটি চালই তারা দেয়। যদি কখনো সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু হয়, তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সাবমেরিনগুলোই হবে আমেরিকান এবং সোভিয়েত নৌবহরের প্রধান শক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যেমন যুদ্ধজাহাজ অনেক আধিপত্য দেখিয়েছিল আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিমানবাহী রণতরীগুলো সমুদ্রজয় নিশ্চিত করেছিল। ভবিষ্যৎ দ্বন্দ্বে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনই হবে জয়ের তুরুপের তাস।
  • আমরা যদি যুদ্ধের ওপর বিশ্বাস নাই-ই করি—
    তবে কেউ কি বলতে পারো, কেন অস্ত্রের এই সাজ-পসরি?
    শুনে নাও আমার কথা,
    একবার জেগে ওঠে যদি তারা, পালাবে তুমি কোথা?
    দৈত্যরা ঘুমায় আর বারবার হয় জিৎ—
    স্বপ্নে বাজছে দামামা, কাঁপছে মাটির ভিত!
    যতক্ষণ না তাদের ঘুম ভাঙছে,
    ততক্ষণ-ই ঈশ্বরদ্রোহিতা চালাচ্ছে!
    • ওজি অসবোর্ন, বব ডেইসলি, জেক ই. লি, "কিলার অফ জায়ান্টস", দ্য আল্টিমেট সিন অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); বাংলায় কাব্যিক-রূপান্তর: যোবায়ের আল-মাহমুদ (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
  • পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একমাত্র উস্কানি কী হতে পারে? উত্তরটি হলো 'পারমাণবিক অস্ত্র'। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তু কী? সেটিও পারমাণবিক অস্ত্র। পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনটি? তা-ও হলো পারমাণবিক বোমা!
    আমরা কীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করতে পারি? পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পাল্টা হুমকি দিয়ে। আর আমরা এই পারমাণবিক অস্ত্র থেকে মুক্তিও পাচ্ছি না কেন? সেই একই খোদ পারমাণবিক অস্ত্রের কারণেই!
    মনে হচ্ছে, এই একগুঁয়েমি যেন খোদ ওই মারণাস্ত্রগুলোরই এক অদ্ভুত কারসাজি!
  • এই প্রতিযোগিতার দৌড় মূলত পারমাণবিক অস্ত্র বনাম আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের মধ্যে।
  • আমরা স্রেফ জানি না যে পারমাণবিক অস্ত্র আদৌ প্রতিরোধক হিসেবে কার্যকর হয়েছে কিনা। কিংবা এগুলো আজ কার্যকর কিনা অথবা ভবিষ্যতে কার্যকর হবে বলে আশা করা যায় কি না। বছরের পর বছর ধরে পারমাণবিক নীতিগুলো এমন সব তথ্যের অজ্ঞানতার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যা এই নীতির ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে প্রধান বিষয় ছিল।
  • কেবল পারমাণবিক বোমার সহিংসতাই মানবজাতির জন্য একমাত্র হুমকি নয়। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের সহকর্মী মানুষদের, নির্দোষ অথবা দোষী উভয়কেই—হত্যা করার এই যে নিচু মানসিকতা, সেটিই হলো বড় হুমকি! যতক্ষণ না আমরা আমাদের সময়, শক্তি এবং সম্পদকে যেকোনো ধরনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পথ থেকে সরিয়ে এনে যুদ্ধের অহিংস বিকল্প খোঁজার কাজে নিয়োজিত করছি, ততক্ষণ পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলার আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা সম্ভবত কোনো কাজেই আসবে না অর্থাৎ এটি শুধুই বৃথা যাবে!
    • রবার্ট এল. হোমস, অন ওয়ার অ্যান্ড মোরালিটি (১৯৮৯), ভূমিকা পৃষ্ঠা ১০

১৯৯০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • পারমাণবিক হামলার জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের অনেক জরুরি কিছু পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যেত যে আমি ভাবতাম, এমন সংকটে পরিকল্পনা বা যুক্তির কতটা প্রয়োগ করা সম্ভব। রাশিয়ানরা মাঝেমধ্যেই আমাদের পূর্ব উপকূলে এমন সব পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাখত, যা মাত্র ছয় থেকে আট মিনিটের মধ্যে হোয়াইট হাউসকে একদম পারমাণবীয় তেজস্ক্রিয় ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারত! রাডার স্কোপের ওপর ভেসে ওঠা একটা বিন্দুর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র ছয় মিনিট সময় পাওয়া যেত; যে আপনি কি আরমাগেডন (বাইবেল অনুসারে শেষ যুগে দুনিয়া ধ্বংসের পূর্বে সত্য ও মিথ্যার মাঝে চূড়ান্ত মহাযুদ্ধ) শুরু করবেন কি না! এমন সময়ে কীভাবে যুক্তি প্রয়োগ করতে পারা যায়? পেন্টাগনের কিছু লোক ছিল যারা পারমাণবিক যুদ্ধ করা এবং তাতে জেতার কথা ভাবত। আমার কাছে এটি ছিল সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান। পারমাণবিক যুদ্ধে কোনো পক্ষই জিততে পারে না। তাই এটি কখনোই লড়া উচিত নয়।
  • পারমাণবিক বোমার এই শীতল-যুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্যই বৈশ্বিক পারমাণবিক যুদ্ধের পরিণতির কোনো সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হয়নি। বরং এটি করা হয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে। (এই সমস্যাটি পূর্ণ পরীক্ষামূলক যাচাইকরণের সুযোগ দেয় না। অন্তত একবারের বেশি তো কখনই নয়।)
    • কার্ল সেগান এবং রিচার্ড পি. টারকো, এ পাথ হোয়্যার নো ম্যান থট: নিউক্লিয়ার উইন্টার অ্যান্ড দ্য এন্ড অফ দ্য আর্মস রেস (১৯৯০), পৃষ্ঠা ২৬
  • গ্যালিলিও এর মাথা যখন ছিন্ন করতে চায় জল্লাদ—
    তখন,
    সত্য খুঁজতে আরশের দিকে তাকানোই ছিল তাঁর অপরাধ!...
    জাগবেই জাগবে সেই পুনর্জন্ম...
    পেতেই হবে আত্মার সঠিক ধর্ম...
    কোনো মানুষ কী মাখতে পারে না সেই আলোড়ন?...
    যেথায় গ্যালিলিওরা করে বিচরণ—
    ছিলেন তিনি নিশার রাজা, দৃষ্টি-গভীর সম্রাট...
    এ তো রসিকতা নয়, ছিলেন যে সত্যের লৌহ কপাট!
    আমি সবকিছুই খুব চেখে দেখি;
    দেখে যাই সঠিক পথ, বেড়ে যায় হিম্মত।
    মানবতা যেন হৃদয়ে রাখি, হই না যেন আণবিক ধ্বংসলীলা—
    কিন্তু চিনেছি কী সেই সত্যকে, যা ছিল দুনিয়া ভোলা?
    • ইন্ডিগো গার্লস, "গ্যালিলিও", জিনিয়াস অ্যালবাম থেকে (১২ মে, ১৯৯২); বাংলায় রূপান্তর: মাহমুদ (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
  • যুদ্ধ। যুদ্ধ কখনোই বদলায় না।

২০০০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • ঈশ্বরের দোহাই, আপনাদের সন্তানদের প্রতি ভালোবাসার দোহাই, আপনারা যে সভ্যতার অংশ তার দোহাই - আপনারা দয়া করে এই উন্মাদনা বন্ধ করুন! আপনারা মরণশীল মানুষ। আপনাদের ভুল হতে পারে। আপনাদের হাতে এমন ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা রাখার কোনো অধিকার নেই। এমন কোনো বিজ্ঞ বা শক্তিশালী মানুষ নেই যার হাতে আমাদের গ্রহের একটি বিশাল অংশের সভ্য জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকা উচিত।
    • জর্জ এফ কেনান, তাঁর মৃত্যুসংবাদে উদ্ধৃত, "১০১ বছর বয়সে জর্জ কেনানের মৃত্যু; কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের নীতি প্রণয়নকারী", দ্য বোস্টন গ্লোব (১৮ মার্চ, ২০০৫); এছাড়াও জেমস ক্যারল, হাউস অফ ওয়ার (বোস্টন এবং নিউ ইয়র্ক: হটন মিফলিন কোং, ২০০৬), "আপস্ট্রিম", পৃষ্ঠা ৫৮১, নোট ১৪০। ISBN 0618187804.

২০১০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • ...ঠিক রাশিয়ান সীমান্তে অত্যন্ত চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে এবং এমন একটি পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা মূলত পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব এবং প্রজাতির জন্য চূড়ান্ত বিনাশ ডেকে আনতে পারে! আমরা এর খুব কাছাকাছিই রয়েছি।
    প্রথমত, এটি প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আমাদের কিছু করা উচিত। দ্বিতীয়ত, আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত কেন এমনটা হলো। এর কারণ হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মিখাইল গর্বাচেভকে দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে ন্যাটোর বিস্তার। মূলত ক্লিনটনের অধীনে এটি শুরু হয়, আংশিকভাবে প্রথম জর্জ ডব্লিউ. বুশ এবং তারপর ক্লিনটন একে সরাসরি রাশিয়ান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করেন, যা বারাক ওবামার অধীনে আরও প্রসারিত হয়। সুসংগঠিত মানব সমাজের ভাগ্য, এমনকি প্রজাতির টিকে থাকাও এর ওপর নির্ভর করছে! ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন কি না; তার তুলনায় এই বিষয়গুলোতে কতটা মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে?

২০২০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • পারমাণবিক অস্ত্রগুলো নাটকের মঞ্চে দেয়ালে ঝুলে থাকা একটি রাইফেলের মতো! আমরা সেই নাটকটি লিখিনি, আমরা এটি মঞ্চস্থ করছি না এবং নাট্যকার কী চান তাও আমরা জানি না। যে কেউ যেকোনো সময় দেয়াল থেকে রাইফেলটি তুলে নিতে পারে।
  • আমেরিকার একটি মাত্র 'ট্রাইডেন্ট' সাবমেরিন, যা এখন আরও শক্তিশালী সাবমেরিন দিয়ে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এখন এটি তার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের প্রায় ২০০টি শহর ধ্বংস করে দিতে সক্ষম! দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের মাত্র চারটি পুরনো ও শব্দ সৃষ্টিকারী সাবমেরিন রয়েছে, যা আমেরিকা ও তার মিত্র বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে ঠিকমতো বের হতেই পারে না। এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ায় পারমাণবিক সাবমেরিনের একটি বহর পাঠাচ্ছে। এটিই হলো সেই 'AUKUS' বা অকাস চুক্তি(অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত) যার আসলে কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্যই নেই। এগুলো এমনকি আগামী ১৫ বছরের মধ্যেও সচল হবে না, কিন্তু এগুলো চীনকে তাদের পিছিয়ে থাকা সামরিক শক্তি বাড়িয়ে তুলতে এবং সংঘাতের মাত্রা তীব্র করতে নিশ্চিতভাবেই উস্কানি দিচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে যেসব সমস্যা রয়েছে তা আঞ্চলিক শক্তির নেতৃত্বে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব, আমি চাইলে এর গভীরে যেতে পারি। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ কখনোই উস্কানি বাড়ানো হতে পারে না, কিংবা এমন কোনো দুর্ঘটনাবশত পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়ানো নয় যা ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এমনকি এই ধরনের পদক্ষেপ পৃথিবীর জন্য চূড়ান্ত পারমাণবিক যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে! কিন্তু জো বাইডেন প্রশাসন ট্রাম্পের কর্মসূচিগুলো সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেই পথেই হাঁটছে। এটিই তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]