পার্ল এস. বাক
অবয়ব

পার্ল সিডেনস্ট্রিকার বাক (জন্ম নাম: পার্ কমফোর্ট সিডেনস্ট্রিকার ; চীনা: 赛珍珠; পিনইন: সাই ঝেনঝু; ২৬ জুন ১৮৯২ – ৬ মার্চ ১৯৭৩), প্রধানত পরিচিত পার্ল এস. বাক নামে, ছিলেন একজন বিশিষ্ট আমেরিকান লেখিকা। ১৯৩৮ সালে তিনি আমেরিকার প্রথম নারী হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]
- একজন সত্যিকারের সৃজনশীল মানুষের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে — সে এমন এক মানবসত্তা, যে অস্বাভাবিক এবং অমানবিক সংবেদী হয়ে জন্মায়। তার কাছে একটি স্পর্শ যেন আঘাত, একটি শব্দ যেন চিৎকার, একটি দুর্ভাগ্য যেন শোক, একটি আনন্দ যেন পরম উচ্ছ্বাস, একজন বন্ধু যেন প্রেমিক, একজন প্রেমিক যেন দেবতা, আর ব্যর্থতা যেন মৃত্যু। এই যন্ত্রণাদায়ক কোমলতার সঙ্গে যোগ হয় সৃষ্টি করার — সৃষ্টি করার — সৃষ্টি করার এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষা এতই বেশি যে সে কোন সঙ্গীত, কবিতা, বই, স্থাপত্য বা কোন সুন্দর ও অর্থপূর্ণ কিছু সৃষ্টি না করলে তার নিঃশ্বাসই যেন বন্ধ হয়ে আসে। সে সৃষ্টি করতে বাধ্য। তাকে সৃষ্টির জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে হয়। এক রহস্যময়, অজানা অন্তর্গত চাপ তাকে তাড়না দেয় যে সে যদি সৃষ্টি না করে, সে বাঁচতে পারে না।
- দ্য ক্রিয়েটিভ মাইন্ড অ্যাট ওয়ার্ক,” শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে উইলিয়াম ভন মুডি ফাউন্ডেশন লেকচার (জানুয়ারি ১৯৩৫)
- একজন জ্ঞানী, উদ্যমী ও শিক্ষিত নারীকে চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী করে রাখা যায় না; এমনকি সেই দেয়াল যদি সাটিন-মোড়ানো বা হীরক-খচিতও হয়; তিনি আগে বা পরে বুঝেই ফেলেন যে সেগুলো আসলে একটি কারাগার।
- “আমেরিকার মধ্যযুগীয় নারী,” হার্পারস ম্যাগাজিন (আগস্ট ১৯৩৮)
- আমেরিকান নারীরা প্রকৃত সুখী ততক্ষণ হবে না যতক্ষণ না তাদের আরও অজ্ঞ করে রাখা হয় অথবা তাদেরকে পুরুষদের মতো সমান সুযোগ দেওয়া হয় যাতে তারা যা শিখেছে তা কাজে লাগাতে পারে। আর আমেরিকান পুরুষরাও সত্যিকারের সুখী হবে না, যতক্ষণ না তাদের নারীরা সুখী হয়।
- হার্পারস ম্যাগাজিন (আগস্ট ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ২৩২
- একজন পুরুষ শিক্ষিত হয়ে কাজে যুক্ত হয়। কিন্তু একজন নারী শিক্ষিত হয় আর তাকে ঘাসের মতো পড়ে থাকতে হয়।।
- পুরুষ ও নারী (১৯৪১), অধ্যায় ৪
- নিগ্রো আমেরিকানদের বিরুদ্ধে বর্ণগত বিদ্বেষ যতই গভীর হোক না কেন, বাস্তবে নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ তার চেয়ে কম নয়। ‘মাদার্স ডে’ বা ‘সেরা আমেরিকান মা’ প্রতিযোগিতার মতো আবেগঘন ধারণাগুলো সরিয়ে দিলে দেখা যায়, সত্য হলো নারীরা একটি সংখ্যালঘুর মতোই সব ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়।
- পুরুষ ও নারী (১৯৪১), অধ্যায় ৮
- পুরুষ ও নারী, উভয়েই এই পৃথিবীর অধিকার রাখে।
- পুরুষ ও নারী (১৯৪১), অধ্যায় ৮
- আমাদের অজ্ঞতার একটি লজ্জাজনক দিক হলো, আমাদের ইতিহাস বিভাগগুলোতে প্রায় কোনো চীনা ইতিহাসই নেই; সাহিত্য কোর্সগুলোতে প্রায় কোনো চীনা সাহিত্য নেই; দর্শন বিভাগগুলোতে নেই চীনের মহান দার্শনিক চিন্তাধারাগুলোর উল্লেখ। আর আমাদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে সবচেয়ে বেশি অহংকারী। এই অজ্ঞ ও অহংকারী মানসিকতা এখন একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে স্থির হয়ে গেছে। এই ছাঁচ এমন যে, যা কিছু আমেরিকান নয়, তাকেই নিচু বলে ধরে নেওয়া হয়— শুধুমাত্র ইংরেজ ব্যতীত।
- মনোবিজ্ঞানীরা যেহেতু ধীরগতির চিত্রের মতো করে, সঠিকভাবে জানতে পেরেছে মানুষ কীভাবে জ্ঞান ও অভ্যাস তৈরি করে, তাই যেসব শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে ধীরগতিতে বিকাশ লাভ করে, তারা আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে তার মাধ্যমে স্বাভাবিক শিশুরা অনেক বেশি উপকৃত হয়েছে।
- যে শিশু কখনো বড় হয়নি (১৯৫০)
- আমি মানুষকে ভালোবাসি। আমি আমার পরিবারকে, আমার সন্তানদের ভালোবাসি… কিন্তু আমার ভেতরে এমন এক জায়গা আছে যেখানে আমি একা থাকি, আর সেখানেই আমি সেই ঝর্ণাকে
নতুন করে জাগিয়ে তুলি যা কখনো শুকিয়ে যায় না।
- দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট (২৬ এপ্রিল ১৯৫৯) এ উল্লেখিত
- সবকিছুই সম্ভব, যতক্ষণ না তা অসম্ভব বলে প্রমাণিত হয়—এবং যেটাকে অসম্ভব বলা হচ্ছে, সেটাও হয়তো শুধুমাত্র এখন পর্যন্তই অসম্ভব।
- এ ব্রিজ ফর প্যাসিং (১৯৬২)
- একজন অবহেলিত শিশু কী? সে এমন এক শিশু, যার জন্য কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি, যাকে চাওয়া হয়নি। তাই অবহেলা তার জন্মের আগেই শুরু হয়।
- চিলড্রেন ফর অ্যাডপশন (১৯৬৪), অধ্যায় ৩
- [চীন সম্পর্কে] তারা অসাধারণ বন্ধু এবং ভয়ংকর শত্রু।
- টিভি সাক্ষাৎকার, দ্য মের্ভ গ্রিফিন শো, আরআইটিওয়াই আর্কাইভ (১৯৬৬)
- [সমাজতন্ত্র সম্পর্কে] এটি জীবনের এক কৌতূহলী, অসম্ভব ও অবাস্তব পরিকল্পনা, যা মনস্তাত্ত্বিকভাবে কোনো দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়ানো না।
- টিভি সাক্ষাৎকার, দ্য মের্ভ গ্রিফিন শো, আরআইটিওয়াই আর্কাইভ (১৯৬৬)
- কাজে আনন্দ পাওয়ার রহস্য একটিমাত্র শব্দে নিহিত—উৎকর্ষ। কোন কিছু কীভাবে ভালোভাবে করতে হয় তা জানতে আগে সেটি উপভোগ করতে হয়।
- দ্য জয় অব চিলড্রেন (১৯৬৬)
- কিছুই এবং কেউই চীনাদের ধ্বংস করতে পারবে না। তারা নিরলসভাবে টিকে থাকা মানুষ। তারা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতাগুলোর একটি। তাদের সভ্যতা নানা যুগের মধ্য দিয়ে গেছে, কিন্তু এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য একই আছে। তারা নতি স্বীকার করে, তারা বাতাসের সাথে বাঁকে, কিন্তু কখনো ভাঙে না।
- চীন, অতীত ও বর্তমান (১৯৭২), অধ্যায় ১
- আহ, হয়তো হতবাক না হয়ে মজা পেতে হলে একজনকে অনেক বেশি বুড়ো হতে হয়।
- চীন, অতীত ও বর্তমান (১৯৭২), অধ্যায় ৬
- সত্য সবসময়ই রোমাঞ্চকর। তাহলে সেটাই বলো। সত্য ছাড়া জীবন নীরস।
- জন মেসন রচিত “নো ইয়োর লিমিটস — দেন ইগনোর দেম” (২০০০), পৃষ্ঠা ৪৬ এ উল্লেখিত
- তরুণ প্রজন্মের বিচক্ষণ হওয়ার মতো যথেষ্ট জ্ঞান নেই, তাই তারা অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তা অর্জনও করে।
- জর্জ এইচ. কাল্প এবং হারবার্ট এন. নিকলস রচিত “অ্যান অ্যাপল ফর দ্য টিচার: ফান্ডামেন্টালস ফর ইনস্ট্রাকশনাল কম্পিউটিং” (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ১৯০-এ উল্লেখিত; এছাড়াও কজন স্যাম রচিত “ইউথ কোয়েক: আ ম্যানিফেস্টো” (২০০২), পৃষ্ঠা ৩১-এ।
পার্ল এস. বাককে নিয়ে উক্তি
[সম্পাদনা]- তিনি নানা বিষয়ের মুখপাত্র ছিলেন: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দত্তক-যোগ্যতা, চীনের ভবিষ্যৎ এবং বিশেষ করে নারীর অধিকার ও শিক্ষার সংগ্রাম। আমার মতো আপনিও যদি তাঁর পথ অনুসরণ করতেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রধান আন্দোলন—হোক তা বৌদ্ধিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক—তার সাথে আপনার যোগাযোগ হয়ে যেত।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর মার্কো পোলোর পর চীন বিষয়ে লেখা সবচেয়ে প্রভাবশালী পশ্চিমা লেখক।
- জেমস থমসন রচিত “হাই ডাজেন্ট পার্ল বাক গেট রেসপেক্ট?” — দ্য ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারার (২৪ জুলাই ১৯৯২), পৃষ্ঠা ১৫
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় পার্ল এস. বাক সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।