প্যানডিজম
অবয়ব


প্যানডিজম (বা প্যান-ডিইজম) হলো একটি ধর্মতাত্ত্বিক মতবাদ যা সর্বেশ্বরবাদ এবং প্রকৃতিবাদের (ডিইজম) এক অনন্য সমন্বয়। এই মতবাদ অনুসারে, মহাবিশ্বের স্রষ্টা প্রকৃতপক্ষে নিজেই মহাবিশ্বে রূপান্তরিত হয়েছেন, এবং এর ফলে একটি পৃথক ও সচেতন সত্তা হিসেবে তাঁর পূর্বতন অস্তিত্বের অবসান ঘটেছে। প্রকৃতিবাদের প্রেক্ষিতে ঈশ্বর কেন মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে তা পরিত্যাগ করবেন এবং সর্বেশ্বরবাদের প্রেক্ষিতে এই জগতের উৎপত্তি ও উদ্দেশ্য কী—তা ব্যাখ্যা করতেই প্যানডিজমের অবতারণা করা হয়। প্যানডিজম শব্দটি মূলত সর্বেশ্বরবাদ এবং প্রকৃতিবাদের মূল শব্দদ্বয়ের একটি সংকর রূপ, যা প্রাচীন গ্রীক শব্দ 'প্যান' (πᾶν; যার অর্থ 'সকল') এবং ল্যাটিন শব্দ 'ডিউস' (deus; যার অর্থ 'ঈশ্বর') এর সমন্বয়ে গঠিত।




উক্তি
[সম্পাদনা]- আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আচ্ছা তাহলে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যটা আসলে কী? আপনার কাছে কি আদৌ এই প্রশ্নের কোনো উত্তর আছে নাকি শুধুই আপনি আমার সাথে তামাশাগিরি করছেন?"
"একজন সর্বশক্তিমান সত্তার জন্য আমি কেবল একটিই চ্যালেঞ্জ কল্পনা করতে পারি—আর তা হলো নিজেকে ধ্বংস করার চ্যালেঞ্জ!"
"আপনি কি মনে করেন ঈশ্বর কখনো আত্মহত্যা করে ফেলতে চাইবেন?" আমি আবারো জানতে চাইলাম।
"আমি বলছি না যে তিনি চাইবেন। আমি বলছি যে এটিই হয়তো একমাত্র সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ।"
"আমার মনে হয় একদম অস্তিত্বহীন হওয়ার চেয়ে ঈশ্বর বিদ্যমান থাকাকেই বেশি পছন্দ করবেন।"
"সেটা তুমি একজন মানব-প্রাণীর মতো করে ভাবছ, ঈশ্বরের মতো করে নয়। তোমারও আজরাঈলের ভয় রয়েছে, তাই তুমি ধরে নিচ্ছ যে ঈশ্বরও তোমার মতোই পছন্দ অপছন্দ ভাগ করে নেবেন। কিন্তু ঈশ্বরের তো কোনো ভয়ই নেই। বিদ্যমান থাকাটা তাঁর কাছে স্রেফ একটা পছন্দ ছাড়া আর কিছু নয়। আর সেখানে মৃত্যুর কোনো যন্ত্রণা নেই, নেই কোনো অপরাধবোধ, নেই অনুশোচনা কিংবা স্বজন হারানোর বেদনা! এগুলো শুধুই মানুষের অনুভূতি, ঈশ্বরের নয়। ঈশ্বর খুব সহজেই অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।"
আমিও ঘটাঘট করে বলে ফেললাম, "আপনার চিন্তা করার ধরন অনুযায়ী এখানে একটি সূক্ষ্ম যৌক্তিক সমস্যা আছে, ঈশ্বর যদি ভবিষ্যৎ জেনেই থাকেন, তবে তিনি ইতিমধ্যেই জানেন যে তিনি তাঁর অস্তিত্ব শেষ করার সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, এবং তিনি এ কাজে সফলকাম হবেন কি না। ফলে এখানেও তো কোনো চ্যালেঞ্জ দেখতে পারছিনা।"
"তোমার চিন্তাশক্তি এখন স্বচ্ছ হচ্ছে," তিনি বললেন। "হ্যাঁ, স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি তাঁর নিজের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ জানবেন। কিন্তু তাঁর সর্বশক্তিমান হওয়ার মধ্যে কি এটাও অন্তর্ভুক্ত যে তাঁর ক্ষমতা হারানোর পর কী ঘটবে—নাকি তাঁর ভবিষ্যতের জ্ঞান ঠিক সেই বিন্দুতেই শেষ হয়ে যাবে?"
আমি বললাম, "এটি পুরোপুরি একটি বাকহীন প্রশ্ন বলেই মনে হচ্ছে। আমার মনে হয় আপনি একটি কানাগলিতে এসে ঠেকেছেন!"
"হয়তো। কিন্তু এটি একটু চিন্তা করে দেখো তো। মহাপ্রাজ্ঞবান ঈশ্বর, যিনি এই প্রশ্নের উত্তর জানেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে সকল কিছুই জানেন এবং তাঁর সবকিছুই নখদর্পনে রয়েছে। সে কারণেই তিনি কোনো কিছু করতে বা সৃষ্টি করতে অনুপ্রাণিত হবেন না। কোনোভাবেই কাজ করার কোনো উদ্দেশ্য থাকবে না। কিন্তু দয়ালু ঈশ্বর যার মনে একটি মাত্র প্রশ্ন খচখচ করছে—আমি যদি অস্তিত্বহীন হয়েই যাই তবে কী অকাল কান্ড ঘটবে? তিনি হয়তো তাঁর জ্ঞান পূর্ণ করার জন্য উত্তরটি খুঁজে পেতে উৎসাহিত হতে পারেন। আর যেহেতু তাঁর কোনো ভয়ই নেই এবং বিদ্যমান থাকার কোনো বিশেষ কারণও নেই, তাই তিনি এটি করে দেখতে পারেন।"
"আমরা এটিই বা কীভাবে জানব?"
"আমাদের কাছে উত্তরটি রয়েছে। সেটি হলো আমাদের এই 'অস্তিত্ব'। আমরা যে বিদ্যমান আছি, এটিই প্রমাণ করে যে ঈশ্বর কোনো না কোনোভাবে সেই কাজ করতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। আর যেহেতু কেবল আত্মধ্বংসের চ্যালেঞ্জই একজন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে আগ্রহী করতে পারে, তাই এটা যুক্তিযুক্ত যে আমরা ঈ. . ."
আমি এবার মাঝপথেই বুইড়া ব্যাটার কথা থামিয়ে দিলাম এবং রকিং চেয়ার থেকে সোজা ওঠে দাঁড়ালাম। মনে হলো যেন আমার মেরুদণ্ড দিয়ে শীতল প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আমার ফুসফুসকে, ত্বককে শুধুই শিহরিত করে তুলছে! এমনকি আমার ঘাড়ের লোমগুলোও খাড়া হয়ে গেল! আমি আগুন পোহাতে আগুনের কুন্ডলীর আরও কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম, যদিও তার উত্তাপ শুষে নেওয়ার ক্ষমতা আমার ছিল না।
"আপনি কি তাই বলছেন যা আমি ভাবছি?" আমার মগজ যেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্ঞান গ্রহণ করে ওভারলোডেড হয়ে গেছিল! তথ্যের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে আমার শরীর ঝাঁকিয়ে-বাকিয়ে নেওয়ার একটু প্রয়োজন পড়ল।
বৃদ্ধ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, "আমরা আসলে ঈশ্বরের-ই একেকটি অংশমাত্র।"- স্কট অ্যাডামস, গডস ডেব্রি (২০০১) পৃ. ৪২-৪৪। আইএসবিএন 0740721909।
- হিন্দুধর্ম হলো চিন্তাধারার এক বৈচিত্র্যময় জগত যেখানে একেশ্বরবাদ, বহুদেববাদ, সর্বেশ্বরবাদ, প্যানডিজম, অদ্বৈতবাদ এবং নিরীশ্বরবাদসহ আরও নানা বিশ্বাস বিদ্যমান। আর এখানে ঈশ্বরের ধারণা অত্যন্ত জটিল যা প্রতিটি ব্যক্তি এবং তাদের অনুসৃত ঐতিহ্য ও দর্শনের ওপর নির্ভর করে।
- এডওয়ার্ড ডি. অ্যান্ড্রুস, রিজনিং উইথ দ্য ওয়ার্ল্ডস ভেরিয়াস রিলিজিয়নস: এক্সামিনিং অ্যান্ড ইভানজেলাইজিং আদার ফেইথস (২০১৮), পৃ. ৭১।
- প্রথম অংশটি জীবন সম্পর্কে মনস্তাত্ত্বিক-ধর্মীয় বিশ্ববীক্ষার ঐতিহাসিক বিকাশের প্রকৃতি নিয়ে একটি প্রাথমিক আলোচনা। দ্বিতীয় অংশে প্রাচীন মিশরীয় ও ভারতীয়দের প্যানডিজম থেকে শুরু করে গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎসের পূর্ব-স্থাপিত সামঞ্জস্য (প্রি-এস্টাবলিশড হারমনি; যা একটি একটি মেটাফিজিক্যাল তত্ত্ব) এবং বস্তুগত বাস্তবতার কঠোর স্বরূপ সংক্রান্ত দার্শনিক ঈশ্বরবাদী ও থিওসফিস্ট মতামতের ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে। তৃতীয় ও চূড়ান্ত অংশটি সেইসব অধি-ভৌতিক এবং ভৌত বিশ্ববীক্ষাকে একত্রিত করে, যা ভারতীয়দের মাধ্যমে আদর্শবাদের সূচনা থেকে শুরু করে আর্টুর শোপনহাউয়ার, ফ্রিডরিখ নিচে, ইভি হার্টম্যান এবং ক্রিস্টোফ ইউকেন পর্যন্ত বিস্তৃত, যা স্পিনোজাবাদ থেকে সর্বাধুনিক নব্য-স্পিনোজাবাদ ও নব্য-আদর্শবাদ পর্যন্ত ধাবিত হয়েছে এবং পরিশেষে অভিজ্ঞতাবাদ ও দৃষ্টবাদের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ভৌত মতবাদসমূহের (বস্তুবাদ, পরমাণুবাদ, শক্তি-সংক্রান্ত মতবাদ ইত্যাদি) আলোচনায় উপনীত হয়েছে।
- আন্নালেন ডার ফিজিক ("অ্যানালস অফ ফিজিক্স") (১৯১১) পৃ. ৫৮।
- কখনো কখনো সর্বেশ্বরবাদীরা "প্যানডিজম" শব্দটি ব্যবহার করেন এটা জোর দেওয়ার জন্য যে—প্রকৃতিবাদীদের মতো তারাও এই ধারণায় বিশ্বাসী যে, ঈশ্বর কোনো ব্যক্তিসত্তা নন যিনি উপাসনা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন।
- জন আর্মস্ট্রং, গড বনাম দ্য বাইবেল: হাউ গড'স ক্রিয়েশন ডিসক্রেডিট ক্রিশ্চিয়ান স্ক্রিপচার (২০০৭)। ডিসেম্বর ২০০৭ সংখ্যায় আলেকজান্ডার সিউরানা (এম.টি.এস.) কর্তৃক উদ্ধৃত, "দ্য সুপিরিওরিটি অব আ ক্রিশ্চিয়ান ওয়ার্ল্ডভিউ," অ্যাক্টস ম্যাগাজিন, চার্চেস অব গড সেভেন্থ ডে, খণ্ড ৫৭, সংখ্যা ১০, পৃষ্ঠা ১১।
- প্রকৃতিবাদ এবং সর্বেশ্বরবাদ—উভয় মতবাদেই তাঁর অবস্থান থাকায়, আইনস্টাইনকে সম্ভবত একজন প্যানডিজম পন্থী হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এটি মূলত সর্বেশ্বরবাদ ও প্রকৃতিবাদের একটি সংকর রূপকে নির্দেশ করে, যা ২০১৩ সালে রাফায়েল লাটাস্টার অত্যন্ত নিপুণভাবে বর্ণনা করেছিলেন।
- ডা. মাইকেল আরনহেইম, দ্য গড বুক, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৭২।
- এই "পরিকল্পিত নিয়ম" বা "নির্ধারিত নিয়ম", যা তিনি অন্য জায়গায় উল্লেখ করেছেন। এগুলো কোথা থেকে এল? চার্লস ডারউইন তাঁর এই বিশ্বাসকে গোপন করেননি যে, এগুলো একজন "সর্বজ্ঞ স্রষ্টা" দ্বারা নকশা করা হয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত "ভালো কিংবা মন্দ যাই হোক" বাক্যাংশটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ডারউইনকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করায় যা একজন নির্লিপ্ত ও নৈতিকতা-নিরপেক্ষ ঈশ্বরে বিশ্বাসী ব্যক্তির চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়। তাই, ডারউইন হয়তো স্পষ্টভাবে প্রকৃতিবাদ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না, কিন্তু তাঁর নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো প্রকৃতিবাদ বা সম্ভবত প্যানডিজমের (যা এই অধ্যায়ে আগেও আলোচিত হয়েছে) সাথে চমৎকারভাবে মিলে যায়।
- ডা. মাইকেল আরনহেইম, দ্য গড বুক, ২০১৫, পৃষ্ঠা ১০৩-১০৪।
- চার্লস ডারউইন মাঝে মাঝে নিজেকে একজন অজ্ঞেয়বাদী হিসেবে বর্ণনা করতেন, তবে তাঁর প্রকাশিত ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো সাধারণভাবে ঈশ্বরবাদের সাথে, অথবা সম্ভবত প্যানডিজমের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ডা. মাইকেল আর্নহেইম, দ্য গড বুক (২০১৫), পৃষ্ঠা ১০৫।
- প্যানডিজম হলো এমন একটি বিশ্বাস যে, কোনো এক ঈশ্বর মহাবিশ্বে পরিণত হওয়ার জন্য নিজের ঈশ্বরত্ব বিসর্জন দিয়েছেন। এবং এই ধারণাটি মূলত ঈশ্বরবাদের আদর্শের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
- অ্যালেক্স অ্যাশম্যান, বিবিসি নিউজ, মেটাফিজিক্যাল ইজমস (৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭)।
- এটি দেখা যাবে যে, বাস্তবতার এই 'অপরিবর্তনীয়তা'র বিষয়টি যখন স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা হয়, তখন তা অবশ্যই সর্বেশ্বরবাদের কিছু নির্দিষ্ট শাখার ত্রুটিপূর্ণ তত্ত্বগুলোকে খণ্ডন ও প্রত্যাখ্যান করতে সাহায্য করবে, যারা মনে করে যে "ঈশ্বর মহাবিশ্বে পরিবর্তিত হওয়ার মাধ্যমে নিজেই মহাবিশ্ব হয়ে ওঠেন।" এভাবে প্রকৃতিকে ঈশ্বরের সাথে অভিন্ন করার চেষ্টা করা হয়, যার ফলে আর্টুর শোপনহাউয়ারের ভাষায়, "আপনি ঈশ্বরকেই বিদায় জানাচ্ছেন!" ঈশ্বর যদি নিজেকে এই বিস্তীর্ণ মহাবিশ্বে পরিবর্তিত করেন, তবে ঈশ্বর আর বিদ্যমান থাকেন না এবং তাঁকে নিয়ে আমাদের আর উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না! কারণ তিনি পরিবর্তনের মাধ্যমে আত্মহত্যা করে ফেলেছেন!
- উইলিয়াম ওয়াকার অ্যাটকিনসন, মাস্টারি অফ বিয়িং (১৯১১), পৃষ্ঠা ৫৬।
- হিগিন্স একটি প্রাচীন সর্বজনীন ধর্মের অস্তিত্ব উন্মোচনের দাবি করেছিলেন (যাকে তিনি প্যানডিজম নামেই অভিহিত করেছিলেন), যা থেকে নাকি জগতের সকল ধর্মীয় মতবাদের উৎপত্তি হয়েছিল। তাঁর মতে, এই ধর্মটি আজও একটি গোপন ও খণ্ডিত গোষ্ঠী হিসেবে টিকে আছে, যারা গ্রিস, মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশ—যেখানে এর আদি উৎস নিহিত। সেখানকার বিভিন্ন প্রান্তে তাদের সেই প্রাচীন বার্তাগুলো বহন করে চলেছে।
- অ্যান্থনি অ্যাভেনি, অ্যাপোক্যালিপ্টিক এনজাইটি: রিলিজিয়ন, সায়েন্স, অ্যান্ড আমেরিকাস অবসেশন উইথ দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো প্রেস, ২০১৬), পৃষ্ঠা ৯৮, ISBN 1607324717।
- আজ আমরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঐক্য এবং সাম্যের এক প্রবল জোয়ার প্রত্যক্ষ করছি। বাণিজ্যিক দুনিয়ায় আমরা দেখছি বিশাল সব ব্যবসায়িক একত্রীকরণ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গোটা জাতিগুলো একজোট হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইউনিয়নগুলো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আর্থিক বিশ্বে একচেটিয়া একচেটিয়া আধিপত্যের প্রবণতা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ধর্মীয় জগতেও ঐক্যের এক মহাপ্রয়াসে অনেক বড় বড় আন্দোলন চলছে এই সময়ে এবং এটি কেবল খ্রিস্টীয় জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। রোমান গির্জা (চার্চ অফ রোম) তাদের বর্তমান কার্যক্রমকে বর্ণনা করতে "প্যানডিজম" শব্দটি ব্যবহার করে, যার লক্ষ্য হলো বিশ্বের অ-খ্রিস্টান ধর্মগুলোকে নিজেদের ছত্রছায়ায় নিয়ে আসা। রোম শেষ পর্যন্ত এই কাজে সফল হবে, কারণ সেই ভবিষ্যৎবাণীতে বলা আছে, "আর সমস্ত জগৎ সেই পশুর পশ্চাৎবর্ত্তী হইয়া আশ্চৰ্য্য জ্ঞান করিল!" (বাইবেল, অ্যাপোক্যালিপ্স ১৩:৩)
- কনরাড বেকার, দ্য থ্রি পাওয়ার্স অব আর্মাগেডন: অ্যান এক্সপজিশন অব রিভিলেশন ১৬:১৩-১৬ (আর্কাইভ), পৃষ্ঠা ৭, ১২ আগস্ট, ২০০৫ (পিডিএফ)।
- লেখক যেভাবে গ্রীক এবং খ্রিস্টীয় পৌরাণিক কাহিনীকে একত্রিত করেছেন তা বেশ সন্দেহজনক। যা শেষ পর্যন্ত এক ধরণের প্যানডিজমে রূপ নিয়েছে, যদিও সেই প্যানডিজম সর্বদা ঐশ্বরিক বিধাতার বা ডিভাইন প্রভিডেন্স উপস্থিতির মাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকে।
- জোয়াকিন আলভারেজ বারিয়েন্টোস, লা নভেলা ডেল সিগলো XVIII, পৃষ্ঠা ২৫৭ (১৯৯১)।
- পাশ্চাত্য সর্বেশ্বরবাদ প্রসঙ্গে কেউ কেউ মনে করেন যে, "প্যানথেইজম" বা সর্বেশ্বরবাদ শব্দটি ভুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেহেতু থিওলজি হলো ধর্মতত্ত্বের অধ্যয়ন এবং "প্যান" অর্থ "সব", তাই প্যানথেইজম বলতে মূলত সকল ধর্মকে অনুসরণ করাকে বোঝায়। ফলে সমস্ত নামাঙ্কিত দেবতাকে অনুসরণ করার এই নীতিকে বরং "প্যান-ডি-ইজম" [Pan-De-ism] বলা উচিত। সুতরাং, প্যানথেইস্ট না কি প্যানডেইস্ট? সিদ্ধান্ত আপনার।
- মাইলস ব্যাটি, টিচিং উইচক্র্যাফট: এ গাইড ফর টিচার্স অ্যান্ড স্টুডেন্টস অফ দ্য ওল্ড রিলিজিয়ন (২০০৯) পৃ. ৩৮।
- বাইবেল যদি কেবল মানুষের লোকগাথা হয় এবং কোনো ঐশ্বরিক সত্য না হয়, তবে যারা বলে, "চলুন সব ধর্ম থেকে সেরাটা বেছে নিয়ে সেগুলোকে একীভূত করে প্যান-ডেইজম (Pan-Deism) বানাই। একক ঈশ্বর যেখানে অনেককে নিয়ে গঠিত একটি বৈশ্বিক ধর্ম", তাদের দেওয়ার মতো কোনো প্রকৃত উত্তর আমাদের কাছে থাকবে না।
- জে. সিডলো ব্যাক্সটার, আওয়ার বাইবেল: দ্য মোস্ট ক্রিটিক্যাল ইস্যু (১৯৯১)।
- অত্যন্ত মজার বিষয় হলো, ভ্যাটিকান কাউন্সিলের সময় 'ইকুমেনিকাল' (বিশ্বজনীন ঐক্য) শব্দটিকে এমনকি এর ধারণাটিকেও অ-খ্রিস্টান ধর্মগুলোর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রসারিত করার এই ক্যাথলিক সদিচ্ছার বিরুদ্ধে ডব্লিউসিসি / WCC মহল থেকে সমালোচনা ধেয়ে এসেছিল। তখন মনে করা হয়েছিল যে, এই বিশ্বজনীন ঐক্যের ধারণাটি "প্যান-ডিইস্ট" (সর্ব-প্রকৃতিবাদী) এবং বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদের সংমিশ্রণজনিত প্রবণতা দ্বারা কলুষিত হচ্ছে।
- বার্ট বেভারলি বিচ, ইকুমেনিজম: বুন অর বেন? (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ২৫৯ (জর্জ এইচ. উইলিয়ামসের ডাইমেনশনস অব রোমান ক্যাথলিক ইকুমেনিজম (১৯৬৫), পৃষ্ঠা ৩১-৩২ থেকে উদ্ধৃত)।
- হাইস্কুলের এক শিক্ষক একবার আমাকে বলেছিলেন যে, আদি শঙ্করাচার্য মনে করতেন ঈশ্বরই এই জগতে পরিণত হয়েছেন। শুরুতে কেবল ঈশ্বরই ছিলেন এবং তারপর তিনি নিজের থেকেই এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং, ঈশ্বরই জগতে রূপান্তরিত হয়েছেন। আর এখন ঈশ্বরের পৃথক কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি অনেকটা চাল দিয়ে ইডলি (দক্ষিণ ভারতের একটি খাবার; যা আমাদের অনেকটা বাঙালিয়ানা 'চিতই পিঠা'র মতো) বানানোর মতো! চাল ফুরিয়ে গেছে, এখন কেবলি ইডলি পড়ে আছে। পরবর্তীতে, আমি যখন কারো কাছে আদি শঙ্করাচার্যের দর্শন হিসেবে এটি পুনরায় বললাম, তখন তিনি এত জোরে হেসে উঠলেন যে আমি বুঝতে পারলাম আমার কথায় কোথাও কোনো ভুল ছিল। কিন্তু ভুলটি কোথায় ছিল তা আমি জানতাম না, আর তিনিও আমাকে তা শুধরে দেননি।
- ভগবদ্গীতা হোম স্টাডি, ২০০০।
- রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিতদের মধ্যে, যারা মূলত রোমান, অর্থোডক্স এবং অ্যাংলিকান গির্জাগুলোর পুনর্মিলনে আগ্রহী ছিলেন—তাদের মাঝেই আমি প্রথম এই বিশ্বজনীন ঐক্যের ধারণাকে 'প্যান-ডিইজম'-এ রূপান্তর হতে দেখি। [...] আমরা হয়তো প্রশ্ন করতে পারি যে, এই প্যান-ডিইস্ট আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার পেছনে রোমান কিউরিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য আসলে কী। তারা রোমের এই বিশ্বজনীন ঐক্য এবং প্যান-ডিইজমের মাঝে বিশ্ব আধিপত্য বিস্তারের কোনো সুদূরপ্রসারী প্রকল্পকে সম্ভবত স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারেনি।
- ফাদার চার্লস এ. বোল্টন, "বিয়ন্ড দ্য ইকুমেনিকাল: প্যান-ডিইজম?" শীর্ষক নিবন্ধ, ক্রিশ্চিয়ানিটি টুডে, ১৯৬৩, পৃষ্ঠা ২১।
- ফ্রান্সের প্রবীণ প্রজন্মের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ভিক্টর হুগোর মধ্যে এক ধরণের দুর্বল প্যানথেইস্টিক ডিইজম বা সর্বেশ্বরবাদী ঈশ্বরবাদ পরিলক্ষিত হয়, যা তাঁর প্রবল যুক্তিবাদের বিপরীতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আমরা এখনও তাঁর মধ্যে পূর্ববর্তী শতাব্দীর প্রভাব খুঁজে পাই। যেখানে ধর্মের ঊর্ধ্বে গিয়ে আধ্যাত্মিকতাকে মহিমান্বিত করা হয়েছে এবং বিশ্বাসের সেই ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেইসব গোঁড়ামির বিপরীতে যা মানুষকে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
- জর্জ এম. ব্র্যান্ডেস, হেনরিক ইবসেন (১৯৯৯) পৃ. ৬৮।
- একটি একক সত্তায় বিশ্বাস বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসটি কেবল একটি 'আদি কারণ' (ফার্স্ট কজ) হিসেবে থাকে, যিনি পরবর্তীতে প্রাকৃতিক নিয়মের কোনো পরিবর্তন বা হস্তক্ষেপ করেন না। পাঠক এবং লেখক উভয়েরই নিজস্ব ব্যক্তিগত পছন্দ থাকতে পারে, তবে পরবর্তী বিশ্ববীক্ষা এবং চিন্তাধারার জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—একদিকে একটি "পরম সত্তায়" বিশ্বাস করার ব্যাপক আকাঙ্ক্ষাকে জায়গা দেওয়া, আবার একই সাথে এমন কিছু গ্রহণ না করা যা প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা ও কার্যকারণ সম্পর্ককে বিঘ্নিত করতে পারে। পরবর্তী বিশ্বাস ব্যবস্থাটি এমন একটি ছাতার মতো হওয়া উচিত যা নিরীশ্বরবাদ, ঈশ্বরবাদ, অজ্ঞেয়বাদ এবং সর্বেশ্বর প্রকৃতবাদকে (অর্থাৎ, প্যান-ডিইজম) একই আবরণে ঢেকে নিতে পারে। কেবল এভাবেই আমরা মানবতাকে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের প্রকৃত যুগে নিয়ে আসতে পারি, একটি নতুন সভ্যতা গড়তে পারি এবং শেষ পর্যন্ত মানবজাতিকে এই সংকীর্ণ গ্রহের সীমানা ছাড়িয়ে মহাবিশ্বের সুদূর প্রান্তরে ছড়িয়ে দিতে পারি।
- চার্লস ব্রাফ, আনটুইস্টিং দ্য সোশ্যাল সায়েন্সেস (২০০৬), পৃ. ১৪২।
- পরবর্তী [বিশ্ববীক্ষা] বিশ্বাস ব্যবস্থাটি এমন একটি ছাতার মতো হতে পারে যা নিরীশ্বরবাদ, ঈশ্বরবাদ, অজ্ঞেয়বাদ এবং প্যান-ডিইজমকে অন্তর্ভুক্ত করবে। কারণ এই বিভিন্ন বিশ্বাসের মধ্যকার পার্থক্যগুলো তখন ম্লান হয়ে যায় যখন আমরা এমন কোনো "রহস্যময় সত্তার" প্রতি অসহিষ্ণু হই যে কার্যকারণ সম্পর্ক পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে আমাদের সেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে হস্তক্ষেপ ঘটে যা এই প্রাচীন সভ্যতাকে বদলে দেওয়ার জন্য এখন অত্যন্ত জরুরি।
- চার্লস ব্রাফ, ডেস্টিনি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন: দ্য ইভোল্যুশনারি এক্সপ্লানেশন অফ রিলিজিয়ন অ্যান্ড হিস্ট্রি (২০০৮), পৃ. ২১০।
- মুক্তচিন্তক, সেই সকল মানুষ যাদের "আত্মা" সংক্রান্ত বিশ্বাস আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ঈশ্বরবাদ (ডিইজম), প্যান-ডিইজম, অজ্ঞেয়বাদ এবং নিরীশ্বরবাদ বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কিন্তু সেব্য-ঈশ্বরবাদ (থেইজম) নয়।
- চার্লস ব্রাফ, ডেস্টিনি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন: দ্য ইভোল্যুশনারি এক্সপ্লানেশন অফ রিলিজিয়ন অ্যান্ড হিস্ট্রি (২০০৮), পৃ. ২৯৫।
- ঈশ্বরবাদ (ডিইজম) ও প্যান-ডিইজম এবং সেই সাথে অজ্ঞেয়বাদ ও নিরীশ্বরবাদ, এই সবই হলো 'অ-সেব্য-ঈশ্বরবাদী' (নন-থেইজম) মতবাদ!
- চার্লস ব্রাফ, দ্য লাস্ট সিভিলাইজেশন (২০১০), পৃ. ২৪৬।
- ঈশ্বরবাদের (ডিইজম) মতো প্যানডিজমেরও কোনো সুনির্দিষ্ট সেব্য-ঈশ্বরবাদী ধর্মবিশ্বাস বা ধর্মগ্রন্থ নেই যা এই বিশ্বাসকে একটি 'প্রথা' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। তাই এখানে এমন এক ঈশ্বরকে কল্পনা করার স্বাধীনতা রয়েছে যিনি এই 'চেতনাসম্পন্ন' মহাবিশ্ব, অথবা এমন এক ঈশ্বর যিনি এই 'চেতনাভিহীন' মহাবিশ্ব। অথবা ন্যূনতম প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন গুণাবলি আরোপ করে ঈশ্বরকে আরও নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টাও চালানো সম্ভব।
- রবার্ট জি. ব্রাউন, পিএইচডি, "প্যানডিজম," এ থিওরেম কনসার্নিং গড (২০০৯)।
- বেদান্তিক হিন্দুধর্ম হলো একটি সুসংগঠিত অদ্বৈতবাদী প্যানডিজম এবং এটি শুরুতেই স্বীকার করে নেয় যে এর ধর্মগ্রন্থগুলো মূলত উপকথা ও কিংবদন্তি, যা থেকে রূপক অন্তর্দৃষ্টি আহরণ করতে হয়, এগুলো কোনো "ঐশ্বরিক সত্য" নয়। আর বৌদ্ধধর্ম কোনো ধর্ম নয়, বরং এটি মূলত একটি নিরীশ্বরবাদী মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক দর্শন যা দুর্ভাগ্যবশত বৈদিক হিন্দুধর্মের কিছু ধর্মীয় বিশ্বতত্ত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছে। বিশেষ করে ক্রমিক পুনর্জন্মের ধারণাটি, যা সম্ভবত সত্য নয়।
- রবার্ট জি. ব্রাউন, পিএইচডি, "এ পিউরলি গ্র্যাচুইটাস পোলেমিক অ্যাগেইনস্ট থেইজম," এ থিওরেম কনসার্নিং গড (২০০৯)।
- আসুন অবশেষে আমরা সেই মৌলিক উপপাদ্যটি ব্যক্ত করি।
যদি ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকে, তবে ঈশ্বর এবং এই মহাবিশ্ব অভিন্ন।
অর্থাৎ, এই উপপাদ্যটি শর্তাধীন প্যানডিজমের একটি ঘোষণা। যদি আদৌ ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে অস্তিত্বমান জাগতিক সবকিছুর সমষ্টিই হতে হবে সেই ঈশ্বর।- রবার্ট জি. ব্রাউন, পিএইচ.ডি., "দ্য পান্ডিস্ট থিওরেম," আ থিওরেম কনসার্নিং গড, ২০০৯।
- উপনিষদে বিশেষভাবে বর্ণিত খাঁটি বৈদান্তিক হিন্দুধর্ম হলো অদ্বৈতবাদী এবং এটি হয় প্যানডিজম নয়তো প্যানেন-ডিজমের অনুসারী, যেখানে ব্রহ্মই হলেন এই মহাবিশ্ব। আমরা (আত্মা বা "ঈশ্বর-আত্মা" হিসেবে) ব্রহ্মেরই অংশ এবং স্বয়ং ব্রহ্ম! যা মূলত পূর্ণতাকে উপলব্ধি করার জন্য সেই পূর্ণ সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কিছু অংশ মাত্র, যারা সর্বদা পুনরায় সেই পূর্ণতার সাথে মিলিত হতে এবং সর্বস্ব হিসেবে অস্তিত্বের এক পরম অবস্থায় ফিরে যেতে ব্যাকুল। উপনিষদে বর্ণিত ব্রহ্ম এমন কোনো সত্তা নন যাকে উপাসনা করা হয়, সেখানে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ব্রহ্ম উপাসনার প্রতি উদাসীন এবং তিনি উপাসনার কোনো বস্তু নন।
- রবার্ট জি. ব্রাউন, পিএইচ.ডি., "হিন্দুইজম," আ থিওরেম কনসার্নিং গড, ২০০৯।
- একজন প্রকৃতিবাদী বা ডিইস্ট যিনি এমন এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন যিনি নিজেই মহাবিশ্ব, তিনি মূলত একজন প্যান্ডিস্ট (বা প্যান্ডিজম-বাদী)। এটি কেবল এই উপপাদ্যের সাথেই সংগতিপূর্ণ নয়, বরং তথ্য-তত্ত্বের (মানে ইনফরমেশন থিওরি) একটি প্রমাণিত উপপাদ্য হিসেবে এখন তাঁদের সেই শর্তাধীন বিশ্বাসকে নিশ্চিতভাবে সমর্থন করে।
- রবার্ট জি. ব্রাউন, পিএইচ.ডি., "ডিইজম," আ থিওরেম কনসার্নিং গড, ২০০৯।
- মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণারত একজন প্যান্ডিস্ট বিজ্ঞানী বা দার্শনিক যে অপরিহার্যভাবে অযৌক্তিক হবেন—তা নয়। এমনকি নিজের কাজকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এমন একজন নাস্তিক বিজ্ঞানী বা দার্শনিকের চেয়েও তাকে খুব একটা আলাদাভাবে শনাক্ত করা কঠিন।
- রবার্ট জি. ব্রাউন, পিএইচ.ডি., "কনসিস্টেন্সি উইথ ফিজিক্স অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্স," আ থিওরেম কনসার্নিং গড, ২০০৯।
- আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, উত্তর-আধুনিকতা বা পোস্ট-মডার্নিটি মূলত প্রচলিত বিশ্ববীক্ষার এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। যা জেমস এবং ওয়েবারের এক বিস্ময়কর সংমিশ্রণ হয়ে ওঠার মাধ্যমে আধুনিকতার মতোই অনন্য হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। যদি আমাদের এই ধারণা সঠিক হয়, তবে পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি, পূর্বানুমান এবং মূল্যবোধগুলো একত্রে আমাদের জীবনযাত্রাকে এমনভাবে বদলে দিতে পারে, যা আমাদের মনন ও অস্তিত্বের ভূগোলকে রূপান্তরিত করবে। অর্থাৎ, আমরা যে বাস্তব ভৌগোলিক দৃশ্যপট এবং মানসিক মূল্যবোধের জগতে বসবাস করি, উভয়ই পরিবর্তিত হবে। এই চলমান রূপান্তরের একটি ক্রমবর্ধমান সাধারণ ফলাফল হলো, যা সম্ভবত উত্তর-শিল্পায়ন যুগের ধর্মনিরপেক্ষ সমাজগুলোর একটি লক্ষণ। আত্ম-অস্বীকৃতি থেকে অতিপ্রাকৃতকে অস্বীকার করার দিকে অগ্রসর হওয়া। এই বিবর্তনটি ভবিষ্যতের মনন ও অস্তিত্বের ভূগোলকে আমূল বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কারণ এটি কার্যকারণের কেন্দ্রবিন্দুকে এক মহিমান্বিত দেবত্ব থেকে প্রকৃতির রাজত্বের দিকে সরিয়ে নিয়ে যায়। এই 'প্রকৃতি' শেষ পর্যন্ত কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে, তার ওপর ধর্মীয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্ববীক্ষার মধ্যকার কৃত্রিম পার্থক্যের এক ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। লেভিনের মতে, "ধর্মনিরপেক্ষতা একটি ইতিবাচক বিষয়, নেতিবাচক নয়। এটি আধ্যাত্মিক জগত বা ধর্মের অস্বীকার নয়, বরং আমরা এখন যে জগতে বাস করছি তারই এক দৃঢ় স্বীকৃতি... এমন একটি জগত আমাদের সেই 'পূর্ণতা' এনে দিতে সক্ষম যা ধর্ম সর্বদা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে।" অন্যদের কাছে এই "পূর্ণতা" আরও বেশি ধর্মীয়-ঘেঁষা সর্বেশ্বরবাদ (প্যানথেইজম) বা প্যানডিজমের মাঝে বিদ্যমান। প্যানডিজমের ক্ষেত্রে ঈশ্বর হলেন একটি জটিল মহাবিশ্বের চির-উন্মোচিত এক অভিব্যক্তি, যার একটি শনাক্তযোগ্য শুরু থাকলেও কোনো সুনির্দিষ্ট চূড়ান্ত লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যমূলক গন্তব্যের (টেলিওলজিক্যাল ডিরেকশন) উপস্থিতি অপরিহার্য নয়।
- মাইকেল এস. ব্রুনার, জন ড্যাভেনপোর্ট, জিম নরউইন, "অ্যান ইভলভিং ওয়ার্ল্ডভিউ: কালচার-শিফট ইন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস", জিম নরউইন সম্পাদিত, আ ওয়ার্ল্ড আফটার ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড কালচার-শিফট (স্প্রিঙ্গার, ২০১৩), পৃষ্ঠা ৪৬।
- সৃষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তাসমূহের সকল কাজই কেবল ঈশ্বরের কাজ নয়। তিনি এমন এক মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন যেখানে প্রাণীরা তাদের নিজস্ব নৈতিক কাজের নিকটতম কারণ (প্রক্সিমেট কজ) হিসেবে স্বাধীনভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে বলে গণ্য হয়। যখন কোনো ব্যক্তি মন্দ কাজ করে, তখন সেখানে স্রষ্টা ও রক্ষক হিসেবে ঈশ্বর সক্রিয় থাকেন না। ঈশ্বর যদি প্রতিটি কাজের নিকটতম কারণ হতেন, তবে তা প্রতিটি ঘটনাকেই "ঈশ্বরের গতিশীল রূপ" (গড ইন মোশন) বানিয়ে দিত। যা প্রকৃতপক্ষে সর্বেশ্বরবাদ বা আরও নিখুঁতভাবে বললে প্যানডিজম ছাড়া আর কিছুই নয়। [তবে] স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই দ্বিতীয় পর্যায়ের কারণগুলোর (সেকেন্ডারি কজেস) বাস্তবতা বা অস্তিত্বই খ্রিস্টীয় সেব্য-ঈশ্বরবাদকে প্যানডিজম থেকে পৃথক করে।
- পাস্টর বব বারিজে, থিওলজি প্রোপার - লেসন ৪: দ্য ডিক্রিস অফ গড (১৯৯৭)।
- কেন ঈশ্বরকে পাপের রচয়িতা হিসেবে অভিহিত করলে মহাবিশ্বের একটি প্যানডিস্টিক ধারণার প্রয়োজন পড়ে, যা কার্যত পাপ এবং নৈতিক আইনের বাস্তবতাকে বিলীন করে দেয়?
- পাস্টর বব বারিজে, থিওলজি প্রোপার - লেসন ৪: দ্য ডিক্রিস অফ গড (১৯৯৭)।
- জর্দানো ব্রুনোর বিপরীতে, জোসেফ র্যাটজিঙ্গার সেই মতবাদটির সমালোচনা করেছেন যেটিকে অন্যান্য ভাষ্যকারগণ ব্রুনোর প্যানডিজম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- ড্যানিয়েল কার্ডো এবং উই মাইকেল ল্যাং, দ্য ক্যামব্রিজ কম্প্যানিয়ন টু জোসেফ র্যাটজিঙ্গার (২০২৩), পৃ. ২৬৬।
- ম্যাথু আর্নল্ডের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সন্তুষ্ট করা সেই সত্তাটি যা-ই হোক না কেন, তিনি তাঁর 'লিটারেচার অ্যান্ড ডগমা' এবং 'গড অ্যান্ড দ্য বাইবেল' গ্রন্থে আমাদের যে ধর্মের কথা বলেছেন তা ঈশ্বরবাদ (ডিইজম) বা নিছক প্যান-ডিইজম নয়, বরং এক ধরণের লঘু দৃষ্টবাদ বা পজিটিভিজম। একটি নৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে এটি তাত্ত্বিকভাবে চমৎকার, তবে এর বাস্তব মূল্য অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। রেনে দেকার্তের দার্শনিক অনুসন্ধান থেকে বেরিয়ে আসা ঈশ্বর সম্পর্কে ব্লেজ পাস্কাল মন্তব্য করেছিলেন যে— তিনি ছিলেন একজন অপ্রয়োজনীয় ঈশ্বর। আর কেউ আরও বেশি সত্যের সাথে বলতে পারে যে, আর্নল্ড যে ধর্মের প্রস্তাব দিয়েছেন তা গ্রহণ করার এবং সেই অনুযায়ী চলার সামর্থ্য যে মানুষের আছে, তার আসলে সেই ধর্মের সাহায্য বা উদ্দীপনার কোনো প্রয়োজন নেই। একটি নৈতিক আদর্শবাদের মূল্যায়ন করতে হলে মানুষকে নিজেকেই আগে একজন নৈতিক আদর্শবাদী হতে হয়।
- উইলিয়াম হার্বাট ডসন, মাস্টারি অফ বিয়িং (১৯০৪, পুনর্মুদ্রিত ১৯৭৭), পৃষ্ঠা ২৫৬।
- ঈশ্বর হলেন প্রবৃদ্ধি, ঈশ্বর হলেন কাঠামো বা জ্ঞান, ঈশ্বর একই সাথে সবকিছু আবার কিছুই নন। আর ইব্রাহিমীয় ধর্মগুলোর জন্য কিছুটা ধর্মদ্রোহী মনে হলেও উপলব্ধি করা, অর্থাৎ জ্ঞানার্জন করা, অর্থাৎ পদার্থের অংশ হওয়া, অর্থাৎ একটি মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র তৈরি করা কাঠামোগত শক্তি হওয়া হলো আলোর মাধ্যমে ঈশ্বরের এক সত্তার সাথে অন্য সত্তার সম্পর্কিত হওয়ারই একটি দিক। আর সেই আলো অবশ্যই ঈশ্বর। এই বিচারে, এর অন্তর্নিহিত অধিবিদ্যা নিশ্চিতভাবেই প্যানডিস্টিক।
- নিল ডগলাস, ফ্রিয়িং গ্রোথ - এ নিও-ক্যাপিটালিস্ট ম্যানিফেস্টো (২০০৯), পৃষ্ঠা ৮।
- 'থার্ড টেস্টামেন্টের' বৈপ্লবিক প্যানডিস্টিক ধারণাগুলো কি কেবল একটি দানবের উদ্ভাবিত একগুচ্ছ মিথ্যা ছিল? ডামারাসের চ্যাম্পিয়ন করা ঈশ্বরবাদ (ডিইজম) এবং সর্বেশ্বরবাদের (প্যানথেইজম) মধ্যকার সেই সমন্বয় কি আসলেও কাল্পনিক ছিল, যেমনটি অ্যামল্ড প্যারামো সমর্থন করেছিলেন?
- ম্যাথু জে. ড্রুরি, ইডেন² (২০১১), পৃষ্ঠা ২২৯।
- এম্পু (উচ্চপদস্থ পুরোহিতের পদবি) সাধারণত একটি ঐতিহ্যবাহী 'পেদান্ডা কেতু' বা লাল রঙের লম্বা মুকুট এবং একটি গোলক ব্যবহার করেন। দ্বীপে অন্য এক ব্যক্তি পান্ডে অনুষ্ঠানগুলো পরিচালনা করেন। তিনি বৌদ্ধধর্ম, হিন্দুধর্ম এবং যদি একে এভাবে অভিহিত করা যায়—"প্যানডিজমের" এক অদ্ভুত সংমিশ্রণের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রায় ত্রিশ বছর আগে সিঙ্গরাজা পান্ডে সম্প্রদায়ের কিছু নেতা নিজেদের হিন্দুধর্ম থেকে ভিন্ন কিছু হিসেবে ঘোষণা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। কারণ তারা মনে করতেন যে তাদের মৌলিক বিশ্বাসগুলো হিন্দুধর্ম থেকে এতটাই আলাদা যে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গঠন করা সমীচীন।
- ফ্রেড বি. আইজম্যান, জুনিয়র, বালি: সেকালা অ্যান্ড নিস্কালা: এসেস অন রিলিজিয়ন, রিচুয়াল, অ্যান্ড আর্ট (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৮৯। আইএসবিএন 0945971036।
- নিউ এজ মুভমেন্টের মধ্যে পুরোনো আধ্যাত্মিক এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের নানাবিধ উপাদান বিদ্যমান, যার বিস্তৃতি নাস্তিক্যবাদ ও একেশ্বরবাদ থেকে শুরু করে ধ্রুপদী সর্বেশ্বরবাদ, প্রাকৃতিক সর্বেশ্বরবাদ, প্যানডিজম এবং প্যানেনথিজম হয়ে বহুঈশ্বরবাদ পর্যন্ত, যা বিজ্ঞান এবং গায়া দর্শনের সাথে সমন্বিত। এর মধ্যে বিশেষভাবে প্রত্ন-জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, বাস্তুসংস্থান, পরিবেশবাদ, গায়া হাইপোথিসিস, মনোবিজ্ঞান এবং পদার্থবিদ্যা অন্তর্ভুক্ত।
- হেনরি হ্যারিসন এপস, জুনিয়র, এন্ড টাইমস অর্গানাইজেশনস, ডকট্রিনস অ্যান্ড বিলিফস (২০১২), পৃষ্ঠা ২২০।
- ঈশ্বর যদি সবটুকু হন, সবকিছুকে ধারণ করেন, প্রতিটি শব্দকে গভীর কোনো শব্দ কিংবা ভালোবাসা নামক শব্দটিকেও আপন করে নেন, তবে ঈশ্বর সত্যিই মহান, বিশাল ও অসীম। আর এমন এক ঈশ্বরের ধারণায় নেজারের প্যানডিজম হলো কাব্যজগতের অন্যতম শক্তিশালী একটি কাব্যিক চিন্তা যা আমরা পেয়েছি। এই কবির কাছ থেকে, এই কাব্যিক স্রষ্টার কাছ থেকে আর কী-ই বা প্রত্যাশা করা যায়, যিনি বিশ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এমন মহান এক কাব্যিক আলোকবর্তিকার সান্নিধ্য পেয়েছেন?
- ওটাভিও ডি ফারিয়া, "প্যানডিজমো এম কার্লোস নেজার", উলতিমা হোরা, রিও ডি জেনিরো (১৭ মে, ১৯৭৮)।
- এমন এক মতবাদ যা তার হঠকারী আদর্শবাদের কারণে কেবল বিশ্বাসকেই নয়, বরং স্বয়ং যুক্তিকেও আঘাত করে (ইমানুয়েল কান্টের ব্যবস্থা): সেই ফরাসি মনোবিদের বিপজ্জনক ভুলগুলো উন্মোচিত করা ধর্ম ও নৈতিকতা উভয়ের জন্যই জরুরি হবে, যিনি মানুষের মনকে প্রলুব্ধ করেছেন (ভিক্টর কাজিন); তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে তাঁর দুঃসাহসিক দর্শন পবিত্র ধর্মতত্ত্বের দেয়াল ভেঙে নিজের কর্তৃত্বকে সবার উপরে স্থান দেয়। তিনি রহস্যময় বিষয়গুলোকে অপবিত্র করেন, কখনও সেগুলোকে অর্থহীন ঘোষণা করে, আবার কখনও সেগুলোকে সাধারণ ইঙ্গিত বা নিছক রূপকে পরিণত করে। একজন বিদগ্ধ সমালোচক যেমনটি লক্ষ্য করেছেন, এই দর্শন প্রত্যাদেশকে (রেভেলেশন) সহজাত চিন্তা ও বিচারহীন স্বীকৃতির সাথে স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। এটি যুক্তিকে মানুষের ব্যক্তিত্বের বাইরে স্থাপন করে মানুষকে ঈশ্বরেরই এক খণ্ডাংশ হিসেবে ঘোষণা করে; যা এক ধরণের আধ্যাত্মিক প্যানডিজমের সূচনা করে। আমাদের কাছে এটি যেমন অযৌক্তিক, তেমনি সেই পরম সত্তার জন্যও অবমাননাকর, যা কি না তাঁর স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
- লুইগি ফেরারিজে, মেমোরি রিসগুয়ার্দান্টি লা ডটরিনা ফ্রেনোলজিকা (১৮৩৮), পৃ. ১৬।
- গতকালের সেই 'প্যান-ডিইস্ট' বা প্যান্ডিস্টরা, যারা বৃক্ষ আর ঝরনার উপাসনা করত। আজ তারা বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য হয়ে মূলত একই কাজ করে চলেছে। আল গোর বা তাঁর মতো অন্যান্যরা, এমনকি সম্ভবত বনায়ন কর্মসূচিতে আগ্রহী বারাক ওবামা, হয়ে উঠেছেন তাদের বর্তমান যুগের ওঝা বা শামান।
- মার্ক ফিঙ্কেলস্টেইন, "হ্যাপি প্যান-ডিইজম ডে ফ্রম গেইল কলিন্স", (১১ এপ্রিল ২০০৯)।
- প্যানডিজম হলো অন্য এক ধরনের বিশ্বাস যা দাবি করে যে, ঈশ্বর এবং মহাবিশ্ব অভিন্ন। তবে ঈশ্বর এখন আর এমন কোনো অবস্থায় বিদ্যমান নেই যেখানে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব। ফলস্বরূপ, এই তত্ত্বটি কেবল যুক্তির মাধ্যমেই প্রমাণ করা সম্ভব। প্যানডিজম পুরো মহাবিশ্বকে ঈশ্বরেরই অংশ হিসেবে দেখে এবং এখন এই মহাবিশ্বই হলো ঈশ্বরের পূর্ণ রূপ। তবে সময়ের কোনো এক পর্যায়ে এই মহাবিশ্ব পুনরায় সংকুচিত হয়ে সেই একক সত্তায় বিলীন হয়ে যাবে, যিনি স্বয়ং ঈশ্বর এবং যা কিছু আছে সবকিছুর স্রষ্টা। প্যানডিজম এই প্রশ্ন উত্থাপন করে যে ঈশ্বর কেন একটি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে তারপর তা পরিত্যাগ করবেন? যেহেতু এটি সর্বেশ্বরবাদের সাথে সম্পর্কিত, তাই এটি এই প্রশ্নটিও তোলে যে, এই মহাবিশ্বের উৎপত্তি কীভাবে হলো এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই বা কী?
- অ্যালান আর. ফুলার, থট: দ্য অনলি রিয়েলিটি। ২০১০। পৃষ্ঠা ৭৯।
- তদুপরি, তাঁর কর্ম থেকে এক ধরনের সর্বেশ্বরবাদ, বা বলা ভালো "প্যানডিজম" উন্মোচিত হয়। যেখানে নব্য-প্লেটোবাদী বা নয়াপ্লাতোবাদ অনুপ্রেরণা কঠোর খ্রিস্টীয় অর্থোডক্সির সাথে এক নিখুঁত পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
- জঁ-জাক গাবুত, এরিউজেনা প্রসঙ্গে, "ওরিজিনস এত ফন্দামেন্ট স্পিরিচুয়েলস এত সোসিওলজিকস দে লা মেসোনেরি একোসাইস" (২০১৭)।
- আঠারো শতক এবং উনিশ শতকের শুরুর দিকে, গোটে, শেলিং এবং কোলরিজের মতো লেখকদের কাছে বারুখ স্পিনোজা এক প্রকার রহস্যময় সর্বেশ্বরবাদী প্রকৃতিবাদের (প্যানথেইস্ট ডিইজম) এক ধর্মনিরপেক্ষ সন্তে পরিণত হয়েছিলেন।
- অ্যারন ভি. গ্যারেট, মিনিং ইন স্পিনোজা'স মেথড (২০০৩), পৃষ্ঠা ২।
- তারপরও, যদি অর্ধ-দেবতা প্যান-এর আবির্ভাব ঘটে, তবে এর ফলাফল হবে 'প্যান-ডিইজম', যা মূলত প্যান্ডোরার বাক্স উন্মুক্ত করারই নামান্তর।
- ২০০৩, জন জি, দ্য মেটাফিজিশিয়ানস ডেস্ক রেফারেন্স: ইনক্লুডিং দ্য রিভাইজড ফরমাল সিস্টেম অফ মেটাফিজিক্স, পৃষ্ঠা ১৬৪।
- সর্বপ্রাণবাদ সংক্রান্ত ধারণাগুলোর মধ্যে এমন কিছু বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায় যা মানব চিন্তার ইতিহাসে নিজস্ব স্থান করে নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হিন্দুধর্মে বর্ণিত লীলা-র ধারণাটি প্যানডিজমের ধারণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- জেমস বি. গ্ল্যাটফেল্ডার, 'ইনফরমেশন—কনশাসনেস—রিয়ালিটি': হাউ এ নিউ আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ দ্য ইউনিভার্স ক্যান হেল্প আনসার এজ-ওল্ড কোশ্চেনস অফ এক্সিস্টেন্স (২০১৯), পৃ. ৫৩৪।
- কিন্তু ব্রুনো পুরোপুরি নাস্তিক বা সর্বেশ্বরবাদী ছিলেন না। তিনি সম্ভবত একটি নেতিবাচক ধর্মতত্ত্ব বা 'অ্যাপোফ্যাটিক ক্রিড' (ভিয়া নেগাটিভা) অনুসরণ করতেন, যা তাঁকে একজন প্যানডেইস্ট হিসেবে অধিকতর গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
- তারিক গডার্ড, দ্য রিপিটার বুক অফ হিরোইজম (২০২২), পৃ. ২৫।
- যদিও 'প্যান-' (pan-) শব্দাংশ দিয়ে গঠিত প্যানথেইজম, প্যানডিজম বা প্যানকুবার্নিজম—এর যেকোনোটিই অ্যানাক্সিম্যান্ডারকে বর্ণনা করার জন্য যথেষ্ট; তবুও এখানে আরও একটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই বর্ণনাটি কি টেকনিক্যালি অ্যানাক্সিম্যান্ডারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? এখানে মূল বিষয় হলো সেই 'অ্যাপাইরন (গ্রিক দার্শনিক আনাক্সিমান্দ্রোসের অ্যাপাইরন তত্ত্ব), যা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রাখে এবং সবকিছুকে চালনা করে, আর এই 'অ্যাপাইরন'ই হলো ঐশ্বরিক। তাহলে 'কসমস' বা মহাবিশ্বের অবস্থান কী? স্পষ্টতই, কসমস সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে থাকে না, কিন্তু এটি কি ঐশ্বরিক নয়? এটি কি কোনো চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে না?
- অ্যান্ড্রু গ্রেগরি, অ্যানাক্সিম্যান্ডার: এ রি-অ্যাসেসমেন্ট (২০১৬), পৃ. ১০০।
- প্লিনি দ্য এল্ডারের ক্ষেত্রে, যাঁকে স্পিনোজাপন্থী না হলেও অন্তত একজন 'পান্ডিস্ট' হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে, প্রকৃতি হলো এমন কোনো সত্তা নয় যা জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন বা পৃথক। তাঁর দর্শনে প্রকৃতি হলো সমগ্র সৃষ্টিজগতের এক মূর্ত রূপ, এবং তাঁর দেবত্বের ধারণাটিও ঠিক একই উপাদানে গঠিত বলে প্রতীয়মান হয়।
- গটফ্রিড গ্রোসে, নাটুরগেশিখতে: মিট এরলাউটারনডেন আনমেরকুঙ্গেন (প্রাকৃতিক ইতিহাস: টীকা সহ; জ্যেষ্ঠ প্লিনি-র 'প্রাকৃতিক ইতিহাস'-এর অনুবাদ ও ব্যাখ্যা), ১৭৮৭, পৃষ্ঠা ১৬৫। এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া প্যানডিজমের প্রাচীনতম বিদ্যমান বর্ণনা।
- আমরা গ্রিক এবং রোমান দার্শনিকদের সম্পর্কে কিছু বলতে পারি এবং তাঁদের প্যান্ডিস্ট ধর্মগুলোকে আমাদের বর্তমান ধর্মগুলোর সাথে তুলনা করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, অ্যারিস্টটল, প্লেটো, প্লটিনাস এবং অরেলিয়াস, তাঁরা সেন্ট অগাস্টিন এবং থমাস অ্যাকুইনাসের দেওয়া বিধানের বিপরীতে গিয়ে পুরুষ ও মহিলাদের আনন্দ অন্বেষণের অনুমতি দিয়েছিলেন। যাতে তাঁরা এই পৃথিবীতেই ব্যক্তিগত সুখ অর্জন করতে পারেন এবং স্রেফ যুক্তির চর্চাকেই পরম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।
- ওয়াল্টার গ্রুয়েন, পিএইচ.ডি., দ্য প্রমিস অফ হিউম্যান অটোনমি (২০১৭), পৃষ্ঠা ৩১।
- ভারত ত্রিশ কোটি দেব-দেবীর পূজা করে। তার কাছে ঈশ্বরই সবকিছু, এবং সবকিছুই ঈশ্বর। আর তাই, সবকিছুই আরাধ্য হতে পারে। সাপ এবং দানবরা তার বিশেষ উপাস্য। ভারতের এই প্যান-ডিইজম মূলত এক বিশৃঙ্খল নরককুন্ড (প্যান্ডেমোনিয়াম)।
- রেভারেন্ড হেনরি গ্র্যাটান গিনেস, "ফার্স্ট ইমপ্রেশনস অফ ইন্ডিয়া", দ্য মেডিকেল মিশনারি (১৮৯৭), পৃষ্ঠা ১২৫-১২৭।
- সত্যি বলতে, একজন প্যানডেইস্ট এবং একজন নিরীশ্বরবাদীর মধ্যে পার্থক্য করার মতো সিনট্যাক্স, সেমান্টিক্স, প্রযুক্তিগত দিক বা আনুষ্ঠানিকতা (এবং সম্ভবত দাম্ভিকতা) ছাড়া আর কিছুই নেই। সকল "নিরীশ্বরবাদী" মূলত সেই একই ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন যাতে প্যানডেইস্টরা বিশ্বাস করেন; কিন্তু অধিকাংশ ধর্মের চোখে তাঁদের সেই ব্যক্তিসত্ত্বাহীন 'ঈশ্বর' আদতে কোনো 'ঈশ্বরই' নন।
- রেভ. কাইল লোগান হ্যামলিন, বেটার এ কম্প্যাশনেট অ্যাথিস্ট, দ্যান অ্যান অ্যাপাথেটিক ক্রিশ্চিয়ান (২০০৫), পৃষ্ঠা ১০।
- আমরা কি কেবল আইনের শিকল দিয়ে আবদ্ধ থাকি বলেই পুণ্যবান? আমরা মানুষকে ভবিষ্যদ্বাণী করতে শুনি যে, এই যুদ্ধ মানেই খ্রিস্টধর্মের মৃত্যু এবং প্যানডিজমের যুগের সূচনা, অথবা সম্ভবত আমাদের আধুনিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধ্বংস। আবার আমরা অনেককে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করতেও শুনি যে, এই যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে।
- লুই এস. হার্ডিন, "দ্য কাইমেরিক্যাল অ্যাপ্লিকেশন অফ ম্যাকিয়াভেলি'স প্রিন্সিপলস", ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় (মে ১৯১৫), পৃষ্ঠা ৪৬৩।
- মুসলমানরা বড় শহরগুলোতে তাদের নিজস্ব ছোট জগত তৈরি করতে চাইলেও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজের সাথে বারবার তাদের সংঘাত তৈরি হতো: হিন্দুদের বর্ণপ্রথা বনাম মুসলমানদের সমতাকামী সমাজ, হিন্দুদের নিরামিষভোজী বনাম মুসলমানদের মাংসাহার, এবং হিন্দুদের প্যানডিজম ও পীর-পূজার (সাধু ভক্তি) বিপরীতে মুসলমানদের একেশ্বরবাদ।
- ইয়ুর্গেন হার্টম্যান, রিলিজিয়ন ইন ডার পলিটিক: ইউডেনটাম, ক্রিস্টেনটাম, ইসলাম (২০১৪), পৃষ্ঠা ২৩৭।
- ঈশ্বর এই জগতকে তাঁর অস্তিত্বের বাইরে রাখেন। তিনি কেবল জগতের আদি কারণ হিসেবে গণ্য হন, কিন্তু কোনো অর্থেই তিনি নিজে কোনো কিছুর ফলাফল বা কার্যের বহিঃপ্রকাশ নন, তা সে নিজের পক্ষ থেকেই হোক কিংবা অন্য কিছুর। সর্বেশ্বরবাদ (যার চেয়ে "প্যানডিজম" শব্দটিই অধিকতর জুতসই, কারণ এখানে প্রকৃত অর্থে কোনো ব্যক্তিসত্তা বা 'থিয়স'-কে বর্ণনা করা হচ্ছে না) মূলত এটিই বোঝায় যে—ঈশ্বর হলেন সাধারণ কার্যকারণের এক অখণ্ড ও অবিভাজ্য সমষ্টি; যেখানে সাধারণ কার্যকারণের এই শৃঙ্খলের ঊর্ধ্বে স্বাধীন কোনো 'পরতম-কারণ' বা বিশেষ কোনো উচ্চতর শক্তির অস্তিত্ব নেই।
- প্রফেসর চার্লস হার্টশর্ন, ম্যান'স ভিশন অফ গড অ্যান্ড দ্য লজিক অফ থেইজম (১৯৪১), পৃষ্ঠা ৩৪৭। আইএসবিএন 020800498X।
- ঈশ্বর এভাবে সমগ্র বিশ্বকে নিজের সত্তার অন্তরালে ধারণ করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন মহাবিশ্বের সেই সমস্ত খণ্ডাংশের এক পূর্ণাঙ্গ সমষ্টি, যা নির্বিশেষে কার্য এবং কারণের সমন্বয় হিসেবে বিদ্যমান। এখন এ-আর বা এমন এক ধারণা যা কিছু ক্ষেত্রে পরম নিখুঁত এবং অন্য সব ক্ষেত্রে আপেক্ষিক পরিপূর্ণতাকে বোঝায়, তা এই প্রচলিত মতবাদগুলোর চেয়ে সমদূরত্বে অবস্থান করে। ঈশ্বরের দ্বিমুখী স্বরূপের এই দৃষ্টিভঙ্গির কল্যাণে, এটি প্রকৃতিবাদ (ডিইজম) বা প্যানডিজমের মধ্যকার ইতিবাচক সমস্ত উপাদানকে সুসংগতভাবে আলিঙ্গন করতে সক্ষম। এ-আর বলতে বোঝায় যে, ঈশ্বর তাঁর সত্তার এক দিক থেকে সমস্ত সাধারণ কার্যকারণের এক অখণ্ড সামগ্রিকতা। কিন্তু তাঁর সত্তার অন্য দিকটি হলো তাঁর সারমর্ম (যাকে 'এ' বা পরম নিখুঁত বলা হয়েছে), যা যেকোনো নির্দিষ্ট বা আকস্মিক অস্তিত্বের গোষ্ঠী থেকে বিমূর্তভাবে কল্পনা করা সম্ভব, যদিও এটি সেই আবশ্যকতা এবং শক্তি থেকে বিচ্যুত নয় যা প্রতিটি মুহূর্তে তাঁকে একীভূত পূর্ণতার মধ্য দিয়ে তাঁর নিজস্ব স্বরূপ প্রকাশে পর্যাপ্ত উপাদান সরবরাহ করে।
- প্রফেসর চার্লস হার্টশর্ন, ম্যান'স ভিশন অফ গড অ্যান্ড দ্য লজিক অফ থেইজম (১৯৪১), পৃষ্ঠা ৩৪৮। আইএসবিএন 020800498X।
- এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো কেবল তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে যখন এ-আর (কিছু ক্ষেত্রে পরম এবং অন্য ক্ষেত্রে আপেক্ষিক) ধারণাটিকে স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে ধরে নেওয়া হয় (যেখানে স্পিনোজা ব্যর্থ হয়েছিলেন, কারণ তিনি কেবল পরম বা 'এ' অংশটিকে বিবেচনা করেছিলেন)। ঠিক যেভাবে এ-আর ধারণাটি পরিপূর্ণতার ইতিবাচক নির্যাসটুকু ধারণ করে, ঠিক তেমনি সি-ডব্লিউ /CW বা 'স্রষ্টা এবং তাঁর সৃষ্টি'-কে একই প্রাণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার ধারণাটি এক ‘পরম-পূর্ণতা’ গঠন করে। এই পরমসর্বেশ্বরবাদ বা প্যানেনথিজম মতবাদটি প্রকৃতিবাদ ওপ্যানডিজমের সেই স্বেচ্ছাচারী নেতিবাচক অংশগুলো বাদ দিয়ে তাদের সমস্ত নির্যাস ধারণ করে। সুতরাং, এই পরম-আপেক্ষিক পরমসর্বেশ্বরবাদ হলো সেই অনন্য মতবাদ যা প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরবাদী এবং ক্ষেত্রবিশেষে নাস্তিকদের অবচেতন আলোচনার সেই পূর্ণাঙ্গ রূপটিকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে।
- প্রফেসর চার্লস হার্টশর্ন, ম্যান'স ভিশন অফ গড অ্যান্ড দ্য লজিক অফ থেইজম (১৯৪১), পৃষ্ঠা ৩৪৮। আইএসবিএন 020800498X।
- ঈশ্বর নিজেকে অসংখ্য খণ্ডে বিভক্ত করেছেন যেন তিনি কিছু বন্ধু পেতে পারেন। এটি হয়তো সত্য নয়, তবে শুনতে বেশ ভালো লাগে এবং অন্য যেকোনো ধর্মতত্ত্বের মতোই এটি সমান অর্থবহ।
- রবার্ট এ. হাইনলাইন, অ্যাফোরিজমস অফ লাজারাস লং, টাইম এনাফ ফর লাভ (১৯৭৩), পৃষ্ঠা ২১৬।
- ঈশ্বরকে সমস্ত কিছুর এক ঊর্ধ্বগামী সমষ্টি হিসেবে ভাবা যেতে পারে, যেখানে সেই 'সমগ্রতা' তার অংশগুলোর সমষ্টিকেও ছাড়িয়ে যায়, ঠিক একটি 'গেস্টাল্ট' বা পূর্ণাঙ্গ অবয়বের মতো। যদি 'দেব-দেবী' (বহুবচনে) বিদ্যমান থাকেন, তবে তাঁরা অস্তিত্বশীল হবেন সমস্ত কিছুর সেই সমষ্টিগত বহিঃপ্রকাশের উপ-বিভাগ হিসেবে। আমি মাঝে মাঝে নিজেকে একজন 'প্যানডেইস্ট' হিসেবে উল্লেখ করেছি, তবে মূলধারা বা এমনকি কোনো প্রযুক্তিগত শ্রেণীকরণও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কারণ লোকে তখন মনে করে যে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝে ফেলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর অর্থ হলো—কারো ধর্মীয় পরিচয়কে খ্রিস্টধর্মের সাথে পার্থক্যের মানদণ্ডে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যাকে সেখানে আদর্শ ধর্মীয় মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। আমি মনে করি এটি আদিবাসী আমেরিকানদের ঐতিহ্যগত পথকে বস্তুনিষ্ঠ করে তোলে এবং অধস্তন করে রাখে। তাই আমি প্রায়ই প্রকাশ্যে নিজেকে ঐতিহ্যগত সাধক বা 'প্যান-ডেইস্ট' হিসেবে পরিচয় দিই না। বরং আমি প্রায়ই 'নিরীশ্বরবাদী' তকমাটি পছন্দ করি, কারণ আমি মনে করি না যে আমার দৃষ্টিভঙ্গি মূলধারার আমেরিকার খ্রিস্টীয় 'ঈশ্বর' ধারণার সাথে মিলে যায়। তবুও, 'প্যান-ডিইজম'-এর মতো কিছু একটা আমার অনুভূত ঈশ্বরের স্বরূপকে কিছুটা হলেও ধারণ করতে পারে। সবকিছুই ঈশ্বর, ঈশ্বরের যেকোনো অংশই সেই সর্বজনীন ঐশ্বরিক প্রকৃতির অংশীদার।
- থারম্যান 'লি' হেস্টার জুনিয়র, "নেটিভ আমেরিকান স্পিরিচুয়ালিটি", ইন গ্রাহাম অপ্পি, এন.এন. ট্রাকাকিস, ইন্টাররিলিজিয়াস ফিলোসফিক্যাল ডায়ালগস - ভলিউম ৩ (২০১৭), পৃষ্ঠা ৪৬।
- আমার স্থির বিশ্বাস এই যে, প্যানডিজম প্রকৃতপক্ষে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা বা মতাদর্শ ছিল; এবং আমি যখন 'পান্ডিয়া দেশ' বা 'পান্ডিয়া সাম্রাজ্য' শব্দগুলো ব্যবহার করি, তখন আমি মূলত নিজেকে এমন এক ভঙ্গিতে প্রকাশ করি যা অনেকটা 'পোপীয় সাম্রাজ্য' বা 'পোপতন্ত্রের রাজ্য' বলার সমতুল্য। ঠিক যেভাবে আমরা বলে থাকি যে, গ্রিকদের চার্চে অনেক অসার আচার-অনুষ্ঠান প্রচলিত আছে, যার মাধ্যমে মূলত সমস্ত জাতির গ্রিক ধর্মাবলম্বীদের বোঝানো হয়। অথবা যেভাবে বলা হয় যে পোপের শাসনাধীন দেশগুলো কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। একই সাথে, আমি বিনীতভাবে এটিও স্পষ্ট করতে চাই যে—আমি কৃষ্ণ-কন্যা পান্ডিয়ার সেই প্রাচীন সাম্রাজ্যের অস্তিত্বকে মোটেও অস্বীকার করছি না। এটি ঠিক তেমনই সত্য, যেমনটি অস্বীকার করা অসম্ভব যে ফ্রান্স নামক একটি রাজ্য ছিল যা চার্চের বা পোপের জ্যেষ্ঠ পুত্রের দ্বারা শাসিত হতো।
- গডফ্রি হিগিন্স, অ্যানাক্যালিপসিস: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ড্র অ্যাসাইড দ্য ভেইল অফ দ্য সাইটিক আইসিস: অর অ্যান ইনকোয়ারি ইনটু দ্য অরিজিন অফ ল্যাঙ্গুয়েজেস, নেশনস অ্যান্ড রিলিজিয়নস (১৮৩৩), পৃষ্ঠা ৪৩৯। খণ্ড ১ আইএসবিএন 0766126439; খণ্ড ২ আইএসবিএন 0766126447; (১৯৭২ সংস্করণ) - ASIN: B0006Y9FEM।
- (দ্রষ্টব্য: এই অংশটি মূলত জন ব্যালু নিউব্রো-র ওয়াস্পে বাইবেল (১৮৮২, পুনর্মুদ্রিত ১৯৯৮), পৃষ্ঠা ৮৭৪-এ ব্যাপকভাবে পুনরুৎপাদন করা হয়েছে)।
- আমরা ইতিপূর্বে প্রত্যক্ষ করেছি যে, শ্রীকৃষ্ণের অনেক পুত্র সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর সেই সুবিশাল সাম্রাজ্যটি তাঁর কন্যা পান্ডিয়ার হাতে ন্যস্ত করে গিয়েছিলেন, যে সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল সিন্ধু নদের উৎস মুখ থেকে শুরু করে কুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত (যেহেতু আমরা এই বিন্দুর সন্নিকটেই 'রেজিও পান্ডিওনিস' এর অস্তিত্ব খুঁজে পাই)। তবে, বুদ্ধের মূর্তিকে নিরন্তর নয়টি ফণা তোলা সাপের ছায়াতলে সযত্নে রক্ষিত হতে দেখে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য হচ্ছি যে এই প্যানডিজম মূলত এমন একটি গূঢ় মতবাদ ছিল, যা বৌদ্ধ এবং ব্রাহ্মণ উভয় সম্প্রদায়ের দ্বারাই পরম শ্রদ্ধায় গৃহীত হয়েছিল।
- গডফ্রি হিগিন্স, অ্যানাক্যালিপসিস: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ড্র অ্যাসাইড দ্য ভেইল অফ দ্য সাইটিক আইসিস: অর অ্যান ইনকোয়ারি ইনটু দ্য অরিজিন অফ ল্যাঙ্গুয়েজেস, নেশনস অ্যান্ড রিলিজিয়নস (১৮৩৩), পৃষ্ঠা ৪৩৯। খণ্ড ১। আইএসবিএন 0766126439; খণ্ড ২ আইএসবিএন 0766126447; (১৯৭২ সংস্করণ) - ASIN: B0006Y9FEM।
- (দ্রষ্টব্য: এই অংশটিও মূলত জন ব্যালু নিউব্রো-র ওয়াস্পে বাইবেল (১৮৮২, পুনর্মুদ্রিত ১৯৯৮), পৃষ্ঠা ৮৭৪-এ ব্যাপকভাবে পুনরুৎপাদন করা হয়েছে)।
- সেই অর্থে খ্রিস্টধর্মের সুপ্ত যুক্তিবাদ আধুনিক বিশ্বের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতায় গভীরভাবে মিশে গেছে।এর মূল্যবোধগুলো এখন পরিবার, সুশীল সমাজ এবং রাষ্ট্রের বিভিন্নরূপে মূর্ত হয়ে উঠেছে। এঙ্গেলস বিশেষত এই সমস্ত কিছুর মধ্যে আধুনিক সর্বেশ্বরবাদের (বা বলা ভালো, প্যানডিজমের) একটি ধারণা খুঁজে পেয়েছিলেন। যেখানে দেবত্ব বা ঈশ্বরত্বের সাথে প্রগতিশীল মানবতার এক মিলন ঘটে। এটি ছিল একটি আনন্দময় দ্বান্দ্বিক সংশ্লেষণ, যা তাঁকে ধর্মপ্রাণ আকুতি এবং বিচ্ছিন্নতার সেই 'পিয়েটিস্ট' মানসিকতার স্থির বৈপরীত্য থেকে মুক্তি দিয়েছিল। গ্র্যাবার ভাইদের কাছে লেখা তাঁর শেষ চিঠিগুলোর একটিতে এঙ্গেলস লিখেছিলেন, "স্ট্রাউসের মাধ্যমে আমি এখন হেগেলীয়বাদের সোজা পথে প্রবেশ করেছি। হেগেলের ঈশ্বরের ধারণাটি ইতিমধ্যেই আমার হয়ে গেছে, আর এভাবেই আমি 'আধুনিক সর্বেশ্বরবাদীদের' দলে যোগ দিচ্ছি।"
- ট্রিস্ট্রাম হান্ট, মার্ক্স'স জেনারেল: দ্য রিভোল্যুশনারি লাইফ অফ ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস (২০১০), পৃষ্ঠা ৪৩।
- আমি সবসময় ঈশ্বরের এমন এক ধারণা পছন্দ করি যা মানুষের চিন্তাশক্তির একদম ঊর্ধ্বে। আমার মনে হয় আমেরিকানদের জন্য সেখানে সর্বেশ্বরবাদী, ঈশ্বরবাদী এবং রেড ইন্ডিয়ানদের বিশ্বাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি ধর্ম বিদ্যমান। এটি আমার কাছে অত্যন্ত সত্য বলে মনে হয়।
- ফিল জ্যাকসন, শিকাগো ট্রিবিউনের মাইকেল হার্সলি কর্তৃক ধর্ম বিষয়ে সাক্ষাৎকার, “ফর বুলস কোচ, গড ইজ নো গেম,” ২৭ এপ্রিল ১৯৯০।
- এমনকি সেই সমস্ত অটিস্টিক ব্যক্তিরা, যারা ধর্মের প্রতি অনুরাগী, তারাও তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোকে এমনভাবে গঠন করার প্রবণতা দেখান যা তাদের মূর্ত ও বাস্তবসম্মত চিন্তাধারার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তারা মূলত ধর্মতত্ত্বের জটিল তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যের মাঝে মানসিক প্রশান্তি খুঁজতেই বেশি পছন্দ করেন। মহাবিশ্বের সৃষ্টি বা নৈতিক শাসনের সাথে জড়িত কোনো মানুষের মতো ঈশ্বরকে আলিঙ্গন করার পরিবর্তে, তারা প্রায়শই দেবত্বকে মহাজাগতিক নিয়মাবলির এক মূর্ত প্রকাশ হিসেবে কল্পনা করেন। যা মূলত ধ্রুপদী প্রকৃতিবাদের চেয়ে সর্বেশ্বরবাদ বা প্যানডিজমের দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকে। তাঁদের ঈশ্বর সাধারণত কোনো সচেতন বা উদ্দেশ্যমূলক স্রষ্টা নন, বরং প্রকৃতি বা পদার্থবিজ্ঞানের অমোঘ নিয়মাবলিরই এক অনিবার্য বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
- মার্টিন ডি. জনসন, দ্য অ্যাথিস্ট'স সারভাইভাল গাইড (২০২৪), পৃষ্ঠা ৮৯, ISBN: ৯৭৯-৮-২১৮-৪৮৪৩১-৬।
- প্যান্ডিস্ট দৃষ্টিভঙ্গির সত্তাতাত্ত্বিক বৈধতাকে সরিয়ে রাখলেও, চেতনার সেই সুকঠিন সমস্যা বা "হার্ড প্রবলেম অফ কনশাসনেস" নিয়ে যে দীর্ঘস্থায়ী এবং উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে, তার প্রতিটি পক্ষই যেন একই সাথে সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়। এই ধারণাটি বাস্তবসম্মত হোক বা না হোক, স্রেফ এই সত্যটুকুই অত্যন্ত বিস্ময়কর যে, এমন একটি দার্শনিক ব্যবস্থার কথা কল্পনা করা সম্ভব যেখানে আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো আর একে অপরের সাথে কোনো দ্বন্দ্বে জড়ায় না।
- বার্নার্ডো কাস্ট্রাপ, পিএইচ.ডি., দ্য প্যারালালস অফ প্যানডিজম (২০১০)।
- আর তুমি তো অনাদিকাল থেকেই ছিলে এবং অনন্তকাল ধরে থাকবে; নিরপরাধ আলমারির দরজায় তোমার পায়ের এই সমস্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত আঘাত। এগুলো তো ছিল স্রেফ সেই 'শূন্যতা'-র এক মহাজাগতিক অভিনয়, যেখানে সে একজন মানুষের রূপ ধরে নিজেকেই না চেনার ভান করছিল।
- জ্যাক কেরুয়াক, ডেসোলেশন অ্যাঞ্জেলস, ১৯৬৫, পৃষ্ঠা ৬।
- লেখক দৃশ্যত ধর্মীয়, যুক্তিনির্ভর এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্পন্ন জীবনদর্শনগুলোকে আলাদাভাবে ভাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভারে এতটাই অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত তাঁর শ্রেণীকরণের মূল নীতিটি কেবল অস্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে। সম্ভবত এটাই সেই কদর্য গ্রীক-ল্যাটিন মিশ্র শব্দ প্যানডিজমের উৎস। ২২৮ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি এটিকে আরও বেশি অধিভৌতিক প্রকৃতির সর্বেশ্বরবাদ বা প্যানথেইজম থেকে আলাদা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, একটি উন্নত ও একীভূত 'সর্বপ্রাণবাদ' বা অ্যানিমিজম হিসেবে, যা একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় বিশ্বদর্শন। এই ধার করা শব্দটির কথা মনে রাখলে আমরা শব্দটির ব্যবহারের বিশাল ব্যাপ্তি দেখে বিস্মিত হই। ২৮৪ নম্বর পৃষ্ঠা অনুযায়ী জন স্কটাস এরিজেনা হলেন পুরোপুরি একজন প্যানডেইস্ট, ৩০০ নম্বর পৃষ্ঠায় আনসেলম অফ ক্যান্টারবেরিকে 'অর্ধ-প্যানডেইস্ট' বলা হয়েছে। এমনকি নিকোলাস অফ কুসা এবং জর্দানো ব্রুনো, এমনকি মেন্ডেলসোহন ও লেসিং-এর মধ্যেও এক ধরণের প্যানডিজম খুঁজে পাওয়া গেছে।
- অটো কার্ন, পর্যালোচক, এমিল শুরার ও আডলফ ফন হারনাক সম্পাদিত, থিওলজিশ লিতেরাaturজাইতুং, খণ্ড ৩৫ (১৯১০)।
- জেনোফেনিস... তাঁর নিজস্ব ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে লিখেছিলেন, যা ছিল মূলত একটি প্যান্ডিস্ট চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর এই দর্শনটি ছিল সেই সময়ে প্রচলিত ও প্রভাবশালী বহুবিধ নরত্বারোপিত দেব-দেবীর উপাসনা ও আরাধনার সম্পূর্ণ বিপরীত এক অনন্য চিন্তাধারা।
- পিম দে ক্লার্ক, "২৫০০ ইয়ার্স অব প্যালিয়েকোলজি: আ নোট অন দ্য ওয়ার্ক অব জেনোফেনিস অব কলোফন (আনুমানিক ৫৭০-৪৭৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)," জার্নাল অব জিওগ্রাফি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স ইন্টারন্যাশনাল (৫ এপ্রিল ২০১৭)।
- সর্বেশ্বরবাদ ও প্যানডিজম, অদ্বৈতবাদ ও দ্বৈতবাদ - এই সমস্ত কিছুই মূলত সেই 'পরম জ্যোতি' বা দিব্য-আলোর বিভিন্ন রূপান্তর মাত্র। এগুলো সেই পরম সত্তারই মৌলিক ধারণার বিচিত্র সব আলোকচ্ছটা, যা মানুষের আত্মার গভীরে প্রতিফলিত হয়ে এক প্রতিবিম্ব তৈরি করে। এই প্রতিবিম্বের উপলব্ধি প্রতিটি ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক পরিবেশের দ্বারা নির্ধারিত বোধশক্তির মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়।
- পল ফ্রেডরিখ কোহলার, কুলতুরওয়েগ উন্ড এরকেন্টনিস: আইনি ক্রিটিশ উমশাউ ইন ডেন প্রবলেমেন ডেস রিলিজিয়াসেন উন্ড গেইস্টিগেন লেবেনস (১৯১৬), পৃষ্ঠা ১৯৩।
- "নিউ এজ" বা নতুন যুগের মহাজাগতিক তত্ত্বগুলো বস্তুবাদ, প্রকৃতিবাদ এবং ভৌতবাদকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। এই তত্ত্বগুলো সাধারণত সর্বেশ্বরবাদী অথবা পান্ডিস্ট ঘরানার হয়ে থাকে। তারা প্রায়শই কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান এবং চেতনা বিষয়ক গবেষণাগুলোকে নিজেদের আয়ত্তে আনার চেষ্টা করে, যাতে মহাবিশ্ব সম্পর্কে তাদের নিজস্ব দার্শনিক ধারণাগুলোকে আরও জোরালোভাবে চিত্রিত করা যায়।
- আল ক্রেস্তা, ডেঞ্জারস টু দ্য ফেইথ: রিকগনাইজিং ক্যাথলিকিজম'স টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি অপোনেন্টস, "সায়েন্স অ্যান্ড ওয়ারফেয়ার উইথ রিলিজিয়ন" (২০১৩), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬, টীকা ৩০, আইএসবিএন 1592767257।
- WHO বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং এমএসএফের মতো সংস্থাগুলো দারুণ কাজ করে, কিন্তু একটি টেকসই কর্মসূচি গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনের প্রায়ই তাদের অভাব থাকে। হলি ফ্যামিলির মতো মিশনারি এবং হাসপাতালগুলোও অবদান রেখেছে এবং তারা অর্থনীতি-ভিত্তিক সহায়তা (যেমন কর্মসংস্থান খুঁজে দেওয়া) প্রদানের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে; কিন্তু সেন্ট স্টিফেনস সম্প্রদায়ের মতো তেজ ও উদ্দীপনার অভাব তাদের মধ্যে স্পষ্ট। সরকারও খুব সামান্যই কাজ করে, তবে অনুমোদন বা সম্মতির ক্ষেত্রে তারা সাধারণত সেন্ট স্টিফেনসকে সহযোগিতা করে, এর আংশিক কারণ হলো এই প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ং ভারত সরকারের চেয়েও প্রাচীন, আর আংশিক কারণ হলো এর ধর্মনিরপেক্ষতার চমৎকার সুনাম। প্রকৃতপক্ষে, এখানকার অধিকাংশ কর্মীই হয় হিন্দু নয়তো মুসলমান, কিন্তু তাঁরা প্যান-ডেইস্ট ধারণায় পরিপূর্ণ। এমনকি জহির আমার সাথে কথা বলার সময় "আল্লাহ" শব্দের পরিবর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে খ্রিস্টীয় শব্দ "গড" (ঈশ্বর) ব্যবহার করেছিলেন।
- পল লা পোর্টে, সোশ্যাল ওয়ার্ক অ্যান্ড আদার এক্সপেরিয়েন্স ইন ইন্ডিয়া (২০০৩)।
- যদি ঐশ্বরিক বিবর্তন বা 'হয়ে ওঠা' সম্পূর্ণ হতো, তবে ঈশ্বরের কেনোসিস,অর্থাৎ ভালোবাসার খাতিরে ঈশ্বরের নিজেকে শূন্য করে দেওয়া; তা হতো চূড়ান্ত। এই প্যানডিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গিতে, ঈশ্বর যা হয়ে উঠবেন তার বাইরে তাঁর আর কিছুই আলাদা বা বিচ্ছিন্ন হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে না। ঈশ্বরের যেকোনো পৃথক অস্তিত্ব মূলত বাস্তবায়িত প্রপঞ্চগুলোর (অ্যাকচুয়ালাইজড ফেনোমেনা) জীবন ও ভাগ্যে তাঁর নিঃশর্ত অংশগ্রহণের সাথে অসংগতিপূর্ণ হবে।
- উইলিয়াম সি. লেন, "লাইবনিৎস'স বেস্ট ওয়ার্ল্ড ক্লেইম রিস্ট্রাকচারড", আমেরিকান ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (জানুয়ারি ২০১০), খণ্ড ৪৭, পৃষ্ঠা ৬৭।
- প্যানডিজম দর্শনে ঈশ্বর কোনো তদারকি বা রক্ষণাবেক্ষণকারী স্বর্গীয় শক্তি নন, যিনি পার্থিব জগতের দৈনন্দিন ও মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখেন। ঈশ্বর যেহেতু আর এই জগতের 'ঊর্ধ্বে' কোনো পৃথক সত্তা হিসেবে বিদ্যমান নেই, তাই তিনি উপর থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করতে 'পারেন না' এবং তেমনটি করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তাঁকে কোনোভাবেই দায়ী করা যায় না। বরং, সেই হরিণশাবক থেকে শুরু করে জগতের প্রতিটি প্রাণীর প্রতিটি দুঃখ ও যাতনা ঈশ্বর নিজেই নিজের সত্তার অভ্যন্তরে 'ধারণ' করেন।
তবুও, একজন সংশয়বাদী প্রশ্ন করতে পারেন, "কেন জগতে 'এত বেশি' দুঃখ-কষ্টের উপস্থিতি থাকতে হবে? কেন জগতের নকশাটি এমন হলো না যেখানে দুঃখের কারণ হওয়া ঘটনাগুলোকে বাদ দেওয়া যেত বা সংশোধন করা যেত?" প্যানডিজমে এর উত্তরটি অত্যন্ত স্বচ্ছঃ "একটি জগতকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হলে তথ্যের আদান-প্রদান বা লেনদেনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর তথ্যের এই নির্ভরযোগ্য প্রবাহ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন অপেক্ষাকৃত সরল এবং সুষম নিয়মাবলি। দুঃখদায়ক ঘটনাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অথবা তাদের প্রাকৃতিক ফলাফলগুলোকে (অর্থাৎ সরল নিয়মের অধীনে যে ফলাফল হওয়ার কথা ছিল) পরিবর্তন করার জন্য যদি কোনো বিশেষ নিয়ম তৈরি করা হতো, তবে সেই নিয়মাবলি হয়ে উঠত অত্যন্ত জটিল এবং সেখানে অগণিত ব্যতিক্রমের সৃষ্টি হতো যা মহাবিশ্বের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করত।"- উইলিয়াম সি. লেন, "লাইবনিজ'স বেস্ট ওয়ার্ল্ড ক্লেইম রিস্ট্রাকচারড," আমেরিকান ফিলোসফিক্যাল জার্নাল, জানুয়ারি ২০১০, খণ্ড ৪৭, সংখ্যা ১, পৃষ্ঠা ৭৬–৭৭।
- এই এক ঈশ্বর হতে পারেন প্রকৃতিবাদী কিংবা সর্বেশ্বরবাদী বা প্যানথেইস্ট ঘরানার। ঈশ্বর কেন আপাতদৃষ্টিতে আমাদের আমাদের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে প্রকৃতিবাদ হয়তো শ্রেষ্ঠ হতে পারে। আবার অন্যদিকে সর্বেশ্বরবাদ হতে পারে অধিকতর যৌক্তিক বিকল্প, কারণ এটি সত্তাতাত্ত্বিক যুক্তির সেই 'সর্বোত্তম মহান সত্তা'র ধারণার সাথে চমৎকারভাবে মিলে যায় এবং 'শূন্য থেকে সৃষ্টি'র মতো অপ্রমাণিত কোনো ধারণার ওপর নির্ভর করে না। এই দুইয়ের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা "প্যানডিজম" হতে পারে সম্ভাব্য সকল ঈশ্বর-তত্ত্বের মধ্যে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও শক্তিশালী ধারণা।
- রাফায়েল লাটাস্টার, দেয়ার ওয়াজ নো জেসাস, দেয়ার ইজ নো গড: আ স্কলারলি এক্সামিনেশন অব দ্য সায়েন্টিফিক, হিস্টোরিক্যাল, অ্যান্ড ফিলোসফিক্যাল এভিডেন্স অ্যান্ড আর্গুমেন্টস ফর মনোহেইজম, পৃষ্ঠা ১৬৫, ২০১৩।
- চিন্তাবিদদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হোক—তাঁরা আস্তিক, সর্বেশ্বরবাদী, নাস্তিক, ঈশ্বরবাদী (এবং কেন প্যানডেইস্ট নয়?) যা-ই হতে চান না কেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে ঈশ্বর কিংবা অমরত্ব নিয়ে কোনো প্রচারণা চালানো উচিত নয়।
- মোরিৎজ লাজারাস এবং হেম্যান স্টাইনথাল, সাইটশ্রিফট ফুর ফোলকারপসাইকোলজি উন্ড স্প্রাখউইসেনশাফট (১৮৫৯), পৃ. ২৬২-৬৩।
- কায়রো প্রতীয়মান রূপ এবং তথাকথিত "দার্শনিক চিন্তাভাবনা" যা তার আড়ালে খুঁজতে চায়, এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্যটি এড়িয়ে চলেন। জিনিসগুলো যেমন দেখায়, তাঁর কাছে সেগুলো ঠিক তেমনই। তাঁর প্যান-ডিইজম মূলত বস্তু-অধিবিদ্যার বা থিং-মেটাফিজিক্সের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা বিংশ শতাব্দীর আধুনিক কাব্যের ধারায় একটি নতুন ঘরানা তৈরি করেছিল।
- ফন মার্টিন লুডকে, "আইন মডার্নার হুটার ডার ডিঙ্গে; ডি এন্টডেকুং ডার গ্রোসেন পর্তুগিজেন গেট ওয়েইটার: ফার্নান্দো পেসোয়া হাট ইন ডার পোয়েজি আলবার্তো কায়রোস সাইনেন মিস্টার গেসেহেন", ফ্রাঙ্কফুর্টার রুন্ডশাউ (১৮ আগস্ট ২০০৪)।
- একবার কল্পনা করুন যে, আমরা প্রকৃতির সেই পরম ও সর্বজনীন নিয়মটির সন্ধান পেয়ে গিয়েছি যার অন্বেষণে আমরা নিরন্তর ছুটে চলেছি এবং শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত গর্বের সাথে আমরা এটি নিশ্চিত করতে পারলাম যে এই মহাবিশ্ব ঠিক এভাবেই গঠিত এবং অন্য কোনোভাবে নয়। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি নতুন ও গভীরতর প্রশ্নের উদয় হবে। এই সুনির্দিষ্ট নিয়মের অন্তরালে আসলে কী লুকিয়ে আছে? কেন এই মহাবিশ্ব ঠিক এভাবেই সুসংগঠিত হলো, অন্য কোনো উপায়ে নয় কেন? এই 'কেন'-র উত্তর খুঁজতে গেলেই আমরা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সুনির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে ধর্মের রহস্যময় জগতে প্রবেশ করি! একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে একজন পদার্থবিদের উত্তর দেওয়া উচিত, "আমরা জানি না, এবং হয়তো আমরা কোনোদিনই তা জানতে পারব না।" অনেকে হয়তো বলবেন যে, ঈশ্বরই এই অমোঘ নিয়মটি নির্ধারণ করেছেন এবং এভাবেই তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। তবে একজন প্যান্ডিস্ট হয়তো ভিন্নভাবে বলবেন যে, "প্রকৃতির এই সর্বজনীন ও সর্বব্যাপী নিয়মটিই হলো স্বয়ং ঈশ্বর!"
- সাওদ-অয়েস্ট ব্রডকাস্ট | SWR2 Aula - পাণ্ডুলিপি সেবা (একটি কথোপকথনের অনুলিপি) "গড প্লাস বিগ ব্যাং = এক্স: অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অ্যান্ড ফেইথ (২)" আলোচক: প্রফেসর হান্স কুং এবং প্রফেসর হারাল্ড লেশ, সম্পাদক: রালফ ক্যাসপারি, সম্প্রচারিত: ১৬ মে ২০১০, রবিবার। ১৯৭০ সালের নোবেল বিজয়ী হানেস আলফভেনের উক্তিটি জ্যোতির্পদার্থবিদ হারাল্ড লেশ কর্তৃক উদ্ধৃত, ১:৩২ সেকেন্ডে।
- সময়ের সাথে সাথে ঈশ্বরবাদের বা ডিইজমের ছত্রছায়ায় আরও কিছু মতবাদ গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে রয়েছে খ্রিস্টীয় ঈশ্বরবাদ, যা ডিইজমের মূলনীতির সাথে নাজারেথের যিশুর নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটায়। এবং প্যানডিজম এমন একটি বিশ্বাস যা মনে করে ঈশ্বর স্বয়ং এই সমগ্র মহাবিশ্বে পরিণত হয়েছেন এবং পৃথক কোনো সত্তা হিসেবে তাঁর আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
- ডগলাস ম্যাকগোয়ান, "মাদার নেচার নেটওয়ার্ক", ২১ মে ২০১৫।
- এখানে যাকে "ঐশ্বরিক আধ্যাত্মিকতা" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা আসলে পদার্থের নিজস্ব স্ব-সংগঠিত হওয়ার সহজাত প্রবণতা ও ঝোঁক ছাড়া আর কিছুই নয়। মহাবিশ্বের প্রসারণ যখন তার সীমায় পৌঁছাবে এবং 'বিগ ক্রাঞ্চ' বা চূড়ান্ত সংকোচনের দশা শুরু হবে, তখন অবশ্যই এর "মৃত্যু" ঘটা সম্ভব। এভাবেই গাইয়া মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটে। এখানে আমি অবশ্যই হেরাক্লিটাস, স্টোইকবাদী বা বৈরাগ্যদর্শন, ব্রুনো, ফিকটে, শেলিং, গ্যোটে এবং হেগেলের পক্ষ নেব। মন শাশ্বত, মনের মৃত্যু নেই, মনই হলো মহাবিশ্ব। প্যানডিস্টিক ঈশ্বর অনেকটা স্যামন মাছের মতো, যিনি বংশবিস্তার (বা সৃষ্টির) পর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁরা ফ্রিডরিখ নিচের পক্ষ নেন—ঈশ্বর মৃত, পার্থক্য শুধু এটুকুই যে, ফ্রিডরিখ নিচের কাছে কোনো 'ঈশ্বর' কখনোই ছিল না!
- প্রফেসর র্যামন জি. মেন্ডোজা, হিস্ট্রি অফ আইডিয়াস: প্যানথেইজম (১৯৯৬)।
- অলসনের মতে, কার্ল জ্যাসপার্সের 'সাইফার' বা সংকেত বিষয়ক ধারণাটি প্রতীক গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অভিজ্ঞতা এবং সেই প্রতীক ব্যাখ্যার সাথে জড়িত সক্রিয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। এটি খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বের চেয়ে ভিন্ন, যেখানে ধর্মীয় প্রতীকী দিক এবং ব্যক্তির ভূমিকার ওপর গুরুত্বের ভারসাম্যটি অন্যভাবে নির্ধারিত হয়। অলসনের অভিমত হলো প্যানডিজমের ভীতি অথবা বিশ্বাসকে স্রেফ বাহ্যিক উপায়ের স্তরে নামিয়ে আনার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত এই উপায়গুলোকে নিছক ব্যক্তিনিষ্ঠ এবং পরিবর্তনশীল বৈধতা হিসেবে দেখার দিকে ঠেলে দিতে পারে। মূলত এই আশঙ্কার কারণেই ক্যাথলিক চার্চ ব্যক্তির ধর্মীয় অভিজ্ঞতার তুলনায় প্রতীকের নিজস্ব বস্তুনিষ্ঠ সত্যতার ওপর অধিকতর জোর প্রদান করেছিল।
- রনি মিরন, কার্ল জ্যাসপার্স: ফ্রম সেলফহুড টু বিয়িং (রডোপি ২০১২), পৃষ্ঠা ২৪৯, ISBN 9042035315।
- এই স্থানটি যেন এক অলৌকিক শক্তি নিংড়ে বের করে দিচ্ছে, মনে হচ্ছে আপনার চারপাশের প্রতিটি বস্তুর ভেতরে অগণিত আত্মার স্পন্দন বয়ে চলেছে। আমি জানি না এটি প্যানডিজম নাকি সর্বেশ্বরবাদের দর্শন, কিন্তু এই মুহূর্তের গভীর প্রশান্তিতে আমার তাতে খুব একটা কিছু আসে-যায় না।
- পিটার মুর, ভালহাল্লা অ্যান্ড দ্য ফজর্ড: আ স্পিরিচুয়াল মোটরসাইকেল জার্নি (২০১৪), পৃষ্ঠা ১৯।
- একটি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি আমি বেশ আকর্ষণীয় বলে মনে করি, আর তা হলো প্যানডিজম। এই মতবাদ অনুযায়ী ঈশ্বর এককালে অস্তিত্বমান ছিলেন এবং তিনিই ছিলেন একমাত্র সত্তা, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজেকে এই মহাবিশ্বে রূপান্তরিত করেছেন এবং ফলে এখন আর তাঁর পৃথক কোনো অস্তিত্ব নেই। ঈশ্বরের এমনটি করার মূল কারণ ছিল মূলত আনন্দ লাভ করা অথবা কী ঘটে তা প্রত্যক্ষ করা। আর সম্ভবত কোনো এক সময়ে এই মহাবিশ্ব পুনরায় নিজেকে ঈশ্বরে রূপান্তরিত করবে, যা অনেকটা নির্বাণ বা স্বর্গের মতো হবে। কিন্তু পরিশেষে ঈশ্বর আবারও একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হবেন এবং পুনরায় এই চক্রের সূচনা করবেন। আমার বোধগম্যতায়, এটি হিন্দু মহাজাগতিক দর্শনের কিছু অংশের সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- হেড্ডা হ্যাসেল মর্চ, "বিয়ন্ড ফিজিকালিজম: ফিলোসফার হেড্ডা হ্যাসেল মর্চ ডিফেন্ডস দ্য আইডিয়া দ্যাট কনশাসনেস পারভেডস দ্য কসমস", জন হোরগান, সায়েন্টিফিক আমেরিকান, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯।
- সকল অদ্বৈতবাদীই যে সর্বেশ্বরবাদী হবেন, এমন কোনো কথা নেই। একান্ত অদ্বৈতবাদীরা বিশ্বাস করেন যে, মহাবিশ্ব বা সর্বেশ্বরবাদীদের সেই ঈশ্বরের আদতে কোনো অস্তিত্বই নেই। এর বাইরেও, অদ্বৈতবাদীরা প্রকৃতিবাদী, প্যান্ডিস্ট, ঈশ্বরবাদী অথবা পরমসর্বেশ্বরবাদী বা প্যানেনথেইস্ট হতে পারেন। যারা এমন কোনো এক একক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন যিনি সর্বশক্তিমান ও সর্বব্যাপী এই দুনিয়াতে এবং যিনি একই সাথে সৃষ্টির ঊর্ধ্বে তথা ট্রান্সেন্ডেন্ট এবং সৃষ্টির ভেতরে বা ইম্যানেন্ট হিসেবে বিরাজমান!
- থেরেসা জে. মরিস, নোয়িং কসমোলজি: অ্যাসেনশন এজ (২০১৪), পৃষ্ঠা ৮৫।
- Anacalypsis (অ্যানাক্যালিপসিস) গ্রন্থে উপস্থাপিত তত্ত্বটি হলো— একটি গোপন ধর্মীয় গোষ্ঠী, যাকে হিগিন্স 'প্যানডিজম' নামে অভিহিত করেছেন, তা প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত টিকে আছে; যা অন্তত গ্রিস থেকে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং সম্ভবত সমগ্র বিশ্বকেই একসময় আবৃত করেছিল।
- সুজান ওলসন, জিসাস ইন কাশ্মীর: দ্য লস্ট টম্ব (২০১৯), পৃ. ৩৯২।
- দর্শনের পাইথাগোরীয় ঐতিহ্যের কেন্দ্রে এখানে 'Psyche' / সাইকি বা আত্মার অন্য একটি রূপ দেখা যায়। যা মাইলেসিয়ানদের উত্তরাধিকার হিসেবে প্রাপ্ত সর্বপ্রাণবাদ বা প্যান-ডিইজমের কাছে খুব সামান্যই ঋণী বলে মনে হয়।
- প্রফেসর ফ্রান্সিস ই. পিটার্স, গ্রিক ফিলোসফিক্যাল টার্মস: এ হিস্টোরিক্যাল লেক্সিকন (১৯৬৭), পৃ. ১৬৯।
- ওল্ড টেস্টামেন্টের কিছু নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদে ব্যবিলনের ধারণাটি এই জগতের অহংকারী এবং ঈশ্বর-বিরোধী শক্তির একটি আদিপ্রতীক (আর্কিটাইপ) হিসেবে আবির্ভূত হয়। নিউ টেস্টামেন্টে এটি আরও স্পষ্টভাবে খ্রিস্টধর্ম এবং পৌত্তলিকতার (প্যাগানিজম) সমন্বয়ে গঠিত এক ধরণের প্যান-ডিইজম হিসেবে ফুটে ওঠে; যা পশুর পিঠে চড়ে থাকা মহিলার বর্ণনার মাধ্যমে প্রতীকিভাবে নির্দেশ করা হয়েছে।
- চার্লস এফ. ফাইফার, হাওয়ার্ড ফ্রেডেরিক ভস এবং জন রিম, দ্য ওয়াইক্লিফ বাইবেল এনসাইক্লোপিডিয়া (১৯৭৫), পৃষ্ঠা ১৯০।
- ওটাভিও দে ফারিয়া অত্যন্ত সঙ্গত কারণেই কার্লোস নেজারের রচনার মাঝে এক ধরনের প্যানডিজমের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে পারতেন। এটি কোনো সাধারণ সর্বেশ্বরবাদী কবিতা নয়, বরং প্রকৃত অর্থেই একটি পান্ডিস্ট কাব্য। আমি বলতে চাইছি, এটি এমন এক মহাজাগতিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং এক সর্বজনীন গীতিমালা, যা একই সাথে মানবসত্তা এবং পবিত্র আত্মার জয়গান গায়। তবে এখানে সেই পবিত্র স্বর্গীয় সত্তার উপস্থিতি মূলত মানুষেরই অস্তিত্বের অভ্যন্তরে নিহিত।
- জিওভানি পন্টিয়েরো, কার্লোস নেজার, পোয়েটা ই পেনসাডোর, ১৯৮৩, পৃষ্ঠা ৩৪৯।
- অধিবিদ্যা বা মেটাফিজিক্স হলো প্রকৃতিবাদী (পান্ডিস্ট) ঘরানার একটি দর্শন, যা শেষ পর্যন্ত ভাববাদের (আইডিয়ালিজম) দিকে ধাবিত হয়ে নিজের মৌলিকত্ব হারায়।
- কার্লোস উইসে পোর্টোকারেরো, সিস্টেমাস ফিলোসোফিকোস দে লা ইন্ডিয়া (ভারতের দার্শনিক পদ্ধতি), নভেম্বর ১৮৭৭, পঞ্চম খণ্ড।
- ব্রুনো কল্পনা করতেন যে প্রতিটি গ্রহ এবং নক্ষত্রের নিজস্ব আত্মা রয়েছে (যা মূলত তাদের সবার একই 'গাঠনিক উপাদানের' অন্তর্গত হওয়ার ধারণার একটি অংশ) এবং তিনি তাঁর এই মহাজাগতিক তত্ত্বকে একটি প্রাণবাদী (অ্যানিমিস্ট) অথবা পান্ডিস্ট ধর্মতত্ত্বকে এগিয়ে নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
- কোরি এস. পাওয়েল, "ডিফেন্ডিং জর্দানো ব্রুনো: আ রেসপন্স ফ্রম দ্য কো-রাইটার অব 'কসমস'", ডিসকভার, ১৩ মার্চ, ২০১৪।
- বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ধর্মীয় ধারণা, যা মূলত অসচেতন এবং মুক্তি না পাওয়া মানুষদের লক্ষ্য করে প্রচারিত হচ্ছে, তা হলো— 'প্যানডিজম'। এই শব্দটি মূলত প্যানথেইজম (সর্বেশ্বরবাদ) এবং ঈশ্বরবাদের সমন্বয়ে গঠিত। প্যানথেইজম প্রচার করে যে ঈশ্বর সবকিছুর মধ্যেই বিরাজমান। আর ডিইজম বা ঈশ্বরবাদ বলতে বোঝায় যে, ঈশ্বর কোনোভাবে তাঁর সৃষ্টির সাথে আর জড়িত নন। এই ভ্রান্ত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে— মহাবিশ্বের স্রষ্টা ঈশ্বরের আর কোনো পৃথক অস্তিত্ব নেই, কারণ তিনি নিজেই মহাবিশ্বে পরিণত হয়েছেন এবং এখন তিনি নিজেই এই মহাবিশ্ব। অনেক মুক্তিহীন মানুষই এখন মনে করেন যে, এই মহাবিশ্বই মানুষের ব্যাপারে সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- ব্রেন্ট প্রাইস, ডি.মিন., বি প্রিপেয়ার্ড ইভানজেলিজম: দ্য পার্সোনাল ইভানজেলিজম গেম চেঞ্জার (২০২২), পৃষ্ঠা ১৩৭।
- রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বের মৌলিক প্রশ্নগুলো হলোঃ হেগেলীয় ধারার যেকোনো ধর্মতাত্ত্বিক ইমানেন্টিজম (অন্তর্নিহিত সত্তাবাদ) এবং প্যানডিজমের বিরুদ্ধে বিতর্ক। রাজনৈতিক বহুত্ববাদের সমার্থক হিসেবে পলিডিজম বা বহু-ঈশ্বরবাদের বিরুদ্ধে বিতর্ক এবং প্রতিটি নিরীশ্বরবাদসহ এর আধুনিক রূপ বস্তুবাদ ও সায়েন্টিজম বা বিজ্ঞানবাদের বিরুদ্ধে বিতর্ক।
- ইউজেন পুসিচ, ফ্রানকুস্কা রেভোলুসিজা - লজুডস্কা প্রাভা ই পলিটিকা ডেমোক্রাসিজা, পৃষ্ঠা ২৭০ (১৯৯১)।
- কিন্তু সেই দুঃস্বপ্নটি যদি সত্যের কোনো অলীক দর্শনও হয়ে থাকে, তবুও মিস্টার মন্ড ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখতে পারেন। কারণ তিনি দাবি করেন যে ঈশ্বরই একসময় এই মহাবিশ্বে রূপান্তরিত হয়েছেন। অতএব, এই মহাবিশ্বই হলো ঈশ্বর।
না। মহাবিশ্বে রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে ঈশ্বর প্রকৃতপক্ষে তাঁর রাজকীয় ক্ষমতা বিসর্জন দিয়েছেন। ঈশ্বর হিসেবে তিনি নিজেকেই নিজে বিনাশ করেছেন। তিনি পূর্বে যা ছিলেন অর্থাৎ তাঁর সেই প্রকৃত সত্তা, তাকে তিনি শূন্যতায় পর্যবসিত করেছেন এবং এর ফলে তাঁর নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত ঈশ্বরীয় গুণাবলি চিরতরে হারিয়েছেন। যে মহাবিশ্বে তিনি আজ পরিণত হয়েছেন, তা একই সাথে তাঁর সমাধি হিসেবেও গণ্য। এই মহাবিশ্বের অভ্যন্তরে বা এর ওপর তাঁর এখন আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ঈশ্বর হিসেবে সেই 'ঈশ্বর' আজ মৃত।- সাইমন রেভেন, দ্য সারভাইভারস (রেভেনের উপন্যাস), ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ৯০।
- এই সহাবস্থানের প্রকৃত তাৎপর্য তখনই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যখন কেউ সেই আমূল 'প্যান-সাইক' বা সর্ব-মনস্তাত্ত্বিক অবস্থানটি বিবেচনা করেন। যেখানে মনে করা হয় যে জড় পদার্থের প্রতিটি কণার একটি 'মনস্তাত্ত্বিক' গুণ রয়েছে। অথবা সেই পান্ডিস্ট অবস্থানটি গুরুত্ব পায় যেখানে কোনো এক 'পরম চেতনা' জগতের সমস্ত জড় পদার্থের সাথে নিরন্তর মিথস্ক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
- মাইকেল পি. রেমলার, দ্য মেকানিজম, মেটাফিজিক্স, অ্যান্ড হিস্ট্রি অব কনশাসনেস ইন দ্য ওয়ার্ল্ড, ২০২০, পৃষ্ঠা ৫০।
- প্যানডিজমের যুক্তিকাঠামো অনুযায়ী, এক সর্বশক্তিমান এবং পরম দয়ালু ঈশ্বর এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেন এবং সেই সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার মাঝেই তিনি নিজেই মহাবিশ্বে রূপান্তরিত হন। আর এর ফলে মানুষের জাগতিক বিষয়াবলীতে হস্তক্ষেপ করার যাবতীয় ক্ষমতা তিনি চিরতরে হারিয়ে ফেলেন।
- সাল রেস্টিভো, সোসাইটি অ্যান্ড দ্য ডেথ অব গড, ২০২১, পৃষ্ঠা ১২৩।
- "পোপ পলের অবস্থান প্রায় একটি প্যান-ডিইজমের কাছাকাছি চলে এসেছিল। আর এই প্যান-ডিইজম হলো গ্রিক চিন্তাধারার ভাইরাসের এক যৌক্তিক পরিণতি।"
- রৌসাস জন রাশদুনি, দ্য ওয়ান অ্যান্ড দ্য মেনি: স্টাডিজ ইন দ্য ফিলোসফি অফ অর্ডার অ্যান্ড আলটিমেসি (১৯৭১), অধ্যায় ৮-৭, পৃ. ১৪২।
- "কিন্তু একজন একনিষ্ঠ আদর্শবাদী, যিনি বিশ্বাসে অন্তর্নিহিতভাবে একজন প্যান-ডেইস্ট এবং পৃথিবী ও সময়ের সমস্যাগুলো নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি একজন গিবেলাইন পোপ হতে পারেন। আর শেষ পর্যন্ত দান্তের সেই গিবেলাইনরাই জয়ী হয়েছে!"
- রৌসাস জন রাশদুনি, দ্য ওয়ান অ্যান্ড দ্য মেনি: স্টাডিজ ইন দ্য ফিলোসফি অফ অর্ডার অ্যান্ড আলটিমেসি (১৯৭১), অধ্যায় ৮-৭, পৃ. ১৪৩।
- মহাবিশ্ব কেবল ঈশ্বরই নয়, বরং একজন ব্যক্তিও এমন মতবাদকে বলা হয় "প্যানডিজম"। আপনি কি উইলিয়াম জেমসের সাথে একমত যে, মহাবিশ্বকে একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখা আপনার জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে সাহায্য করবে?
- থিওডোর শিক এবং লুইস ভন, ডুইং ফিলোসফি: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন থ্রু থট এক্সপেরিমেন্টস, ৫ম সংস্করণ (২০১৩), পৃ. ৫০৬।
- জুবাল—এই উপাসক গোষ্ঠী এবং আমলাতন্ত্রে ঠাসা পৃথিবীতে একজন একনিষ্ঠ ও প্রচণ্ড ব্যক্তিবাদী চরিত্র। উপন্যাসের সমাপ্তিলগ্নে দেখা যায় যে, জিল কিংবা মাইক নয়, বরং তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি আজও এক 'অচেনা আগন্তুক' হয়ে অবাস্তব সব লক্ষ্য বা ছায়ার সাথে লড়াই করে চলেছেন। তিনি তাঁর নিজস্ব স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিতে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, যা মাইক, জিল এবং ফস্টারপন্থীরা একটি পান্ডিস্ট আকাঙ্ক্ষা বা 'তুমিই ঈশ্বর!' এই বাণীর দ্বারা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে মাইক, মানবীয় বিশ্বাসের সাথে তাঁর মার্সিয়ান বা মঙ্গলগ্রহীয় বিশ্বাসের এক সমন্বয় খুঁজে পাওয়ার দাবি করলেও, শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত সহজেই নিজের পুরনো বিশ্বাসগুলো ত্যাগ করে মানুষের বিশ্বাসকেই আপন করে নেন।
- ড্যান স্নাইডার, রবার্ট এ. হাইনলেইনের স্ট্রেঞ্জার ইন আ স্ট্রেঞ্জ ল্যান্ড (দ্য আনকাট ভার্সন) এর পর্যালোচনা (২৯ জুলাই ২০০৫) [১]।
- নৈতিকতা সম্পর্কে প্রাচ্যের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত বাস্তবতার এক মৌলিক ও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারণা থেকে উৎসারিত হয়েছে। আমরা যারা পাশ্চাত্যবাসী, তারা মহাবিশ্বকে ঈশ্বরের একটি 'সৃষ্টি' হিসেবে গণ্য করি। যা অনেকটা কোনো আবিষ্কার বা পণ্যের মতো। মহাবিশ্ব সৃষ্টি করার পর, ঈশ্বর নিজেকে এর তদারকি ও ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত করেছেন। আমরা ঈশ্বরকে আমাদের 'অভিভাবক' বা 'মনিব' হিসেবে দেখি। তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, তিনি এখানে উপস্থিত আছেন, তিনি এর প্রতিটি অংশ পরিচালনা করেন, কিন্তু তাসত্ত্বেও তিনি এর থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এটি অনেকটা এমন যে, তিনি পুরো মহাবিশ্বে ভিডিও ক্যামেরা স্থাপন করেছেন, যাতে তিনি যা কিছু ঘটছে সব দেখতে পান এবং নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো ঘটনা ঘটাতে পারেন। কিন্তু নিজে সেই ঘটনার অংশ নন। তবে প্রাচ্যের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই আলাদা। উদাহরণস্বরূপঃ একজন হিন্দুর কাছে ঈশ্বর মহাবিশ্ব 'সৃষ্টি' করেননি, বরং ঈশ্বর নিজেই মহাবিশ্বে 'রূপান্তরিত' হয়েছেন। এরপর তিনি ভুলে গিয়েছেন যে তিনি নিজেই এই মহাবিশ্ব হয়ে উঠেছেন। ঈশ্বর কেন এমনটি করবেন? মূলত আনন্দ এবং বিনোদনের জন্য! আপনি একটি মহাবিশ্ব তৈরি করলেন, যা নিজেই অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এক ব্যাপার। কিন্তু তারপর কী? আপনি কি স্রেফ হাত গুটিয়ে বসে থেকে আপনার সৃষ্টি করা মহাবিশ্বকে মজা করতে দেখবেন? নাকি আপনি নিজেই সেই সমস্ত আনন্দ উপভোগ করতে চাইবেন। আর এটি অর্জনের জন্যই ঈশ্বর স্বয়ং সমগ্র মহাবিশ্বে রূপান্তরিত হয়েছেন। ঈশ্বরই হলেন এই মহাবিশ্ব এবং এর অন্তর্গত প্রতিটি অণু-পরমাণু। কিন্তু মহাবিশ্ব এই সত্যটি জানে না, কারণ তা জানলে এই নাটকের রহস্য ও উত্তেজনা নষ্ট হয়ে যাবে। এই মহাবিশ্ব হলো ঈশ্বরের এক মহাকাব্যিক নাটক, যেখানে ঈশ্বর নিজেই একাধারে মঞ্চ, অভিনেতা এবং দর্শক! এই মহাকাব্যিক নাটকের শিরোনাম হলো—"পরম অজানা পরিণতি"। এখানে আবেগ, প্রেম, ঘৃণা, ভালো-মন্দ এবং স্বাধীন ইচ্ছার মতো শক্তিশালী উপাদানগুলো যোগ করে দিন। তারপর দেখুন কী ঘটে! কেউই জানে না কী হবে, আর এই অনিশ্চয়তাই মহাবিশ্বকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে রাখে। তবে পরিশেষে প্রত্যেকেই এক চমৎকার সময় অতিবাহিত করবে। এখানে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভয় বা বিপদের অবকাশ নেই, কারণ প্রতিটি সত্তাই মূলত ঈশ্বর। আর ঈশ্বর আসলে স্রেফ খেলে যাচ্ছেন।
- ওয়ারেন বি. শার্প, ফিলোসফি ফর দ্য সিরিয়াস হেরেটিক: দ্য লিমিটেশনস অব বিলিফ অ্যান্ড দ্য ডেরিভেশন অব ন্যাচারাল মোরাল প্রিন্সিপলস (২০০২), পৃষ্ঠা ৩৯৬ আইএসবিএন 0595215963।
- এটি নিশ্চিত যে, এই ধারণাটি বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের ধর্মের অন্যতম মৌলিক নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে। যেখানে প্রতিটি ধর্মের বিশেষ স্বভাবের দ্বারা এটি প্রভাবিত। যেমন খ্রিস্টধর্মে এক অতিমানবীয় আদর্শবাদ, বৌদ্ধধর্মে এক মানব-বিরোধী নিহিলিজম বা শূন্যবাদ, এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান ব্রাহ্মধর্মে এক উদীয়মান অথচ সারগ্রাহী প্যানডিজম। আর যারা সর্বজনীন ভ্রাতৃত্বের এই আদর্শিক নীতি স্বীকার করেন, তাদের সাথে গ্রিক-রোমান এবং আধুনিক যুগের সেই নান্দনিক বৈজ্ঞানিক প্রকৃতিবাদকে যুক্ত করা প্রয়োজন যা মূলত সমগ্র ইউরোপীয় জনশিক্ষাকে অনুপ্রাণিত করে। আর যার বিরুদ্ধে পোপ দ্বিতীয় পল থেকে শুরু করে জোসেফ ডি মেস্ট্রের মতো গোঁড়া খ্রিস্টানরা সর্বদা অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে প্রতিবাদ করে এসেছেন।
- গুস্তাভো উজিয়েলি, রিচেরচে ইন্তোর্নো আ লিওনার্দো দা ভিঞ্চি (১৮৯৬), পৃষ্ঠা ৩৫।
- 在《撒忧的龙船河》里的撒忧文化, "撒忧"又叫"撒阳"、"撒野"、"撒尔嗬" ,就是生长在泛自然神论文化下的生殖崇拜符号, 撒野现象就是指土家情歌中那些强烈的生命冲动和人性张扬中所表现出来的野性美。
- "স্প্রেডিং ওরি অন দ্য ড্রাগন বোট রিভার" এ বর্ণিত 'San Yu' (যাকে san yang, san ye অথবা san er hu নামেও ডাকা হয়) বলতে মূলত প্যানডিজম বা সর্ব-প্রকৃতিবাদী সংস্কৃতির বলয়ে গড়ে ওঠা প্রজনন উপাসনাকে বোঝানো হয়েছে। যা মূলত গ্রাম্য জনপদগুলোর সেই রোমান্টিক প্রেমগীতিগুলোতে ফুটে ওঠা প্রাণের তীব্র স্পন্দন, গভীর মানবিকতা এবং আদিম বন্য সৌন্দর্যের এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ।
- ওয়াং জুনকাং (Wang Junkang), 叶梅研究专集 Ye Mei Special Collection (2007), পৃষ্ঠা ১৭৭।
- "স্প্রেডিং ওরি অন দ্য ড্রাগন বোট রিভার" এ বর্ণিত 'San Yu' (যাকে san yang, san ye অথবা san er hu নামেও ডাকা হয়) বলতে মূলত প্যানডিজম বা সর্ব-প্রকৃতিবাদী সংস্কৃতির বলয়ে গড়ে ওঠা প্রজনন উপাসনাকে বোঝানো হয়েছে। যা মূলত গ্রাম্য জনপদগুলোর সেই রোমান্টিক প্রেমগীতিগুলোতে ফুটে ওঠা প্রাণের তীব্র স্পন্দন, গভীর মানবিকতা এবং আদিম বন্য সৌন্দর্যের এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ।
- 在叶梅的早期小说里那种泛自然神论的浪漫精神随处可见,其目的是在张扬人性, 张扬泛自然神论下人性的自由。
- ইয়ে মেই-এর প্রাথমিক পর্যায়ের উপন্যাসগুলোতে প্যানডিজমের সেই রোমান্টিক আধ্যাত্মিকতা বা জীবনবোধ প্রতিটি পাতায় লক্ষ্য করা যায়; যার প্রধান লক্ষ্যই ছিল মানবিকতার জয়গান গাওয়া এবং প্যানডিজমের সেই উদার দর্শনের অধীনে মানুষের ব্যক্তিগত ও চারিত্রিক স্বাধীনতার সপক্ষে এক জোরালো আহ্বান জানানো।
- ওয়াং জুনকাং (Wang Junkang), 叶梅研究专集 Ye Mei Special Collection (2007), পৃষ্ঠা ১৮৮।
- যিশু খ্রিস্ট এবং পবিত্র আত্মার প্রতি ঐকান্তিক মনোযোগ আমাদের সর্বেশ্বরবাদ (প্যানথেইজম), প্যানডিজম এবং বিবর্তনশীল ধর্মতত্ত্ব বা প্রসেস থিওলজির মতো মতবাদগুলোর প্রভাব থেকে মুক্তি প্রদান করে এবং এক গভীর আধ্যাত্মিক স্তরে নিয়ে যায়।
- গ্রাহাম ওয়ার্ড, হাউ দ্য লাইট গেটস ইন: এথিক্যাল লাইফ ১, পৃষ্ঠা ৩১৩, ২০১৬।
- ঈশ্বর এই জগতকে সৃষ্টি করেননি, বরং তিনি নিজেই এই জগত বা মহাবিশ্বে রূপান্তরিত হয়েছেন। ঈশ্বর এই জগতের রূপ পরিগ্রহ করেছেন মূলত এক শাশ্বত এবং অসীম লক্ষ্যকে বস্তুগত আকারে উপলব্ধি করার জন্য। আর এই অবিনশ্বর ও অনন্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের তাগিদেই তিনি স্বয়ং এই বিশ্ব চরাচরে পরিণত হয়েছেন। এখন একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—এই মহাবিশ্বে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য ঈশ্বরকে প্রথমে একটি আদি ও মৌলিক ধারণার কথা চিন্তা করতে হয়েছিল। ফলস্বরূপ, এই ভাব বা ধারণাটি জগতের আবির্ভাবের পূর্বেই বিদ্যমান ছিল। একেই মূলত কার্য এবং কারণের মধ্যকার সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করা হয়। এখানে 'কারণ' বা স্রষ্টাকে মনে করা হয় কার্যের পূর্ববর্তী এবং স্বাধীন একটি সত্তা; অন্যদিকে 'কার্য' বা এই জগতকে মনে করা হয় কারণের পরবর্তী এবং তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল একটি রূপান্তর।
- রাব্বি হ্যারি ওয়াটন, এ ট্রু মোনিস্টিক ফিলোসফি: কমপ্রিহেন্ডিং দ্য অ্যাবসোলিউট, গড, এক্সিস্টেন্স, ম্যান, সোসাইটি অ্যান্ড হিস্ট্রি (১৯৪৭), পৃষ্ঠা ২৩২। ASIN: B0006ARGQ0।
- Wenn auch nur durch einen Buchstaben (d statt th), unterscheiden wir grundsätzlich Pandeismus vom Pantheismus.
- যদিও পার্থক্যটি কেবল একটিমাত্র বর্ণের (অর্থাৎ 'th' এর স্থলে 'd'), তবুও আমরা প্যানডিজমকে সর্বেশ্বরবাদ বা প্যানথেইজম থেকে মৌলিকভাবে পৃথক বলে গণ্য করি। এটি কেবল ব্যাকরণগত কোনো পরিবর্তন নয়, বরং দর্শনের এক গভীরতর স্তরের ভিন্নতা প্রকাশ করে।
- ম্যাক্স বার্নহার্ড ওয়াইনস্টেইন, ওয়েল্ট- উন্ড লেবেনসানশাউউঙেন, হারভোরগেগাঙেন আউস রিলিজিয়ন, ফিলোসফি উন্ড নাটুর এরকেন্টনিস ("ধর্ম, দর্শন এবং প্রকৃতিজ্ঞান থেকে উদ্ভূত বিশ্ব ও জীবনদর্শন") (১৯১০), পৃষ্ঠা ২২৭।
- Wir werden später sehen, daß die Indier auch den Pandeismus gelehrt haben. Der letzte Zustand besteht in dieser Lehre im Eingehen in die betreffende Gottheit, Brahma oder Wischnu. So sagt in der Bhagavad-Gîtâ Krishna-Wischnu, nach vielen Lehren über ein vollkommenes Dasein.
- আমরা পরবর্তীতে এটি প্রত্যক্ষ করব যে, ভারতবর্ষের মানুষও প্যানডিজমের শিক্ষা প্রচার করেছিলেন। এই মতবাদ অনুযায়ী সৃষ্টির চূড়ান্ত অবস্থা বা পরিণতি হলো সংশ্লিষ্ট দেবতা, তা সে ব্রহ্মা হোক কিংবা বিষ্ণু। তাঁর সত্তার অভ্যন্তরে পুনরায় প্রবেশ করা বা লীন হওয়া। ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ-বিষ্ণুও এক পরিপূর্ণ অস্তিত্ব সম্পর্কে বহুমুখী শিক্ষার পর ঠিক এই সত্যটিই ব্যক্ত করেছেন।
- ম্যাক্স বার্নহার্ড ওয়াইনস্টেইন, ওয়েল্ট- উন্ড লেবেনসানশাউউঙেন, হারভোরগেগাঙেন আউস রিলিজিয়ন, ফিলোসফি উন্ড নাটুর এরকেন্টনিস ("ধর্ম, দর্শন এবং প্রকৃতিজ্ঞান থেকে উদ্ভূত বিশ্ব ও জীবনদর্শন"), পৃষ্ঠা ২১৩, ১৯১০।
- 在在这里,人与天是平等和谐的,这就是说,它是泛自然神论或是无神论的,这是中国人文思想的一大特色。
- এখানে মানুষ এবং দৈব সত্তার মধ্যে এক অপূর্ব সাম্য ও সম্প্রীতি বিদ্যমান, যেখানে তারা একে অপরের সমকক্ষ। অর্থাৎ সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি হয় প্যানডিজম অথবা নাস্তিক্যবাদের এক অনন্য প্রতিফলন। যা প্রকৃতপক্ষে চীনা দার্শনিক চিন্তাধারার অন্যতম একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃত।
- ওয়েন চি , 'লেকচারস অ্যাট পেকিং ইউনিভার্সিটি: থিংকিং অব অরা' (২০০২), পৃষ্ঠা ১২১।
- এখানে মানুষ এবং দৈব সত্তার মধ্যে এক অপূর্ব সাম্য ও সম্প্রীতি বিদ্যমান, যেখানে তারা একে অপরের সমকক্ষ। অর্থাৎ সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি হয় প্যানডিজম অথবা নাস্তিক্যবাদের এক অনন্য প্রতিফলন। যা প্রকৃতপক্ষে চীনা দার্শনিক চিন্তাধারার অন্যতম একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃত।
- জন্ম—সে তো ঘুমন্ত, কিছুই নয় বিস্মৃতি ছাড়া—
যে জীবনে হয় আত্মিক জাগরণ, সে তো শুধুই জৈবিক ধ্রুবতারা!
ভীন-প্রানীতে ছিল হয়তো তার আদি-আধার, হয়তো ছিল অঞ্জান গহীন জায়গার।
তবুও সে পূর্ণ বিস্মৃতির অতলে নয়,
অসীম শূন্যতার মাঝেও নয়,
মহিমার জ্যোতিকে করেছি সঙ্গী, করেছি আপনা-আলোকায়ন!
সেই পরম সত্তা থেকেই, যিনি চির নিত্য-আবাসন।
স্বর্গ যেন ছেলেবেলাকে আগলে রাখে—চির আবরণ!...- উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ, ওড: ইনটিমেশনস অফ ইমমর্টালিটি ফ্রম রিকালেকশনস অফ আরলি চাইল্ডহুড (১৮০৭), স্তবক ৫, বাংলায় রুপান্তরঃ মাহমুদ ।
- Als Gesamtcharakteristik wählte H. sich die Bezeichnung eines neo-transzendentalen Subsistenz-Relationismus bzw. mehr inhaltlich: eines Hen-Pan-Deismus (nicht: -theismus); geschichtsphilosophisch schließt dies Atheismus, naturphilosophisch einen Quasi-Pantheismus - das Absolute als definitiver Prinzipiationsgrenzwert unter Gültigkeitsrücksichten - ein.
- এইচ. হারল্ড হয তাঁর দর্শনের যে মৌলিক ভিত্তিটি স্থাপন করেছেন, তাকে তিনি একটি অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন 'নিও-ট্রান্সেন্ডেন্টাল সাবসিস্টেন্স রিলেশনিজম'। আরও গভীর ও সারবস্তুগতভাবে বিশ্লেষণ করলে এর মূল নির্যাসটি দাঁড়ায় একটি সূক্ষ্ম 'হেন-প্যান-ডিইজম' হিসেবে, যা প্রচলিত 'প্যান-থেইজম' বা সর্বেশ্বরবাদ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও বিযুক্ত। ইতিহাসের দর্শনে এই মতবাদটি যথেষ্ট উদার, যা প্রয়োজনে নাস্তিক্যবাদ বা নিরীশ্বরবাদের যৌক্তিক উপাদানগুলোকেও নিজের ভেতরে ধারণ করতে সক্ষম। অন্যদিকে, যখন এটি প্রকৃতি-দর্শনের আলোকে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন তা এক প্রকার Quasi-Pantheism বা 'কোয়াসি-প্যানথেইজম' বা আধা-সর্বেশ্বরবাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এখানে 'পরম সত্তা' বা 'অ্যাবসলিউট' কে কেবল একটি বিমূর্ত ধারণা হিসেবে নয়, বরং যৌক্তিক বৈধতার নিরিখে একটি সুনির্দিষ্ট মূল নীতিগত সীমাবদ্ধতা কিংবা একটি অবিনশ্বর গাণিতিক ধ্রুবক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা মহাবিশ্বের অস্তিত্বের মূল ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে।
- কুর্ট ওয়াল্টার জেইডলার, আর্কাইভ ফ্যুর সিস্টেমেটিশ ফিলোসফি - হারাল্ড হোলজ (২০০৩)।
- 泛自然神论的浪漫精神三峡文化的艺术原素是一种独特的理想浪漫精神,是纯朴粗犷、绚丽诡竒的。
- এটি মূলত সেই গভীর রোমান্টিক নির্যাস এবং উচ্চমার্গীয় আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য কাব্যিক উপস্থাপনা, যেখানে প্যানডিজম বা সর্ব-প্রকৃতিবাদের মূল দর্শনটি মূর্ত হয়ে ওঠে। এখানে স্রষ্টা এবং সৃষ্টিকে আলাদা করে দেখা হয় না, বরং মনে করা হয় প্রকৃতির প্রতিটি ধূলিকণায় এবং অরণ্যের গহীন নিস্তব্ধতায় সেই পরম সত্তাই বিলীন হয়ে আছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই রূপটি মোটেও কৃত্রিম নয়; বরং তা রুক্ষ সরলতার এক নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য সংমিশ্রণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে, যা মানুষের আত্মাকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দান করে। এই সৌন্দর্য যেমন আড়ম্বরহীন ও অকৃত্রিম, ঠিক তেমনি এটি এক গভীর এবং বৈচিত্র্যময় রহস্যময়তায় ঘেরা—যা লৌকিক জগতের উর্ধ্বে গিয়ে এক অলৌকিক অনুভূতির জন্ম দেয়। এটি যেন এক শান্ত অথচ শক্তিশালী আহ্বান, যেখানে প্রকৃতির অনাড়ম্বর রুক্ষতা আর আধ্যাত্মিক রহস্য মিলেমিশে একাকার হয়ে একটি অখণ্ড সত্যের প্রকাশ ঘটায়।
- ঝাং দাও কুই (Zhang Dao Kui), 文化研究 কালচারাল স্টাডিজ, ইস্যু ১-১২ (২০০১), পৃষ্ঠা ৬৫।
- এটি মূলত সেই গভীর রোমান্টিক নির্যাস এবং উচ্চমার্গীয় আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য কাব্যিক উপস্থাপনা, যেখানে প্যানডিজম বা সর্ব-প্রকৃতিবাদের মূল দর্শনটি মূর্ত হয়ে ওঠে। এখানে স্রষ্টা এবং সৃষ্টিকে আলাদা করে দেখা হয় না, বরং মনে করা হয় প্রকৃতির প্রতিটি ধূলিকণায় এবং অরণ্যের গহীন নিস্তব্ধতায় সেই পরম সত্তাই বিলীন হয়ে আছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই রূপটি মোটেও কৃত্রিম নয়; বরং তা রুক্ষ সরলতার এক নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য সংমিশ্রণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে, যা মানুষের আত্মাকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দান করে। এই সৌন্দর্য যেমন আড়ম্বরহীন ও অকৃত্রিম, ঠিক তেমনি এটি এক গভীর এবং বৈচিত্র্যময় রহস্যময়তায় ঘেরা—যা লৌকিক জগতের উর্ধ্বে গিয়ে এক অলৌকিক অনুভূতির জন্ম দেয়। এটি যেন এক শান্ত অথচ শক্তিশালী আহ্বান, যেখানে প্রকৃতির অনাড়ম্বর রুক্ষতা আর আধ্যাত্মিক রহস্য মিলেমিশে একাকার হয়ে একটি অখণ্ড সত্যের প্রকাশ ঘটায়।
- প্যানডিজম হলো সর্বেশ্বরবাদেরই বা Pantheism এর এমন একটি বিশেষ রূপান্তর যা নিজের ভেতর প্রকৃতিবাদের একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোকে ধারণ করে। এই মতবাদটি এই বিশ্বাস পোষণ করে যে, বর্তমান মহাবিশ্ব এবং ঈশ্বর প্রকৃতপক্ষে এক ও অভিন্ন সত্তা। তবে একই সাথে এই দর্শন এটিও জোরালোভাবে দাবি করে যে, এই দৃশ্যমান জগৎ রূপ পরিগ্রহ করার পূর্বে ঈশ্বর কেবল একটি বিমূর্ত ধারণা ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন এক পরম সচেতন, সংবেদনশীল এবং অসীম বুদ্ধিমান এক মহাশক্তি। তিনি সেই আদি ও অনাদি সত্তা, যিনি অত্যন্ত নিপুণ কারিগরি এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা ও নক্ষত্ররাজির সূক্ষ্ম নকশা প্রণয়ন করেছিলেন। তাঁর সেই বুদ্ধিদীপ্ত সৃজনশীলতার মাধ্যমেই বিশৃঙ্খল মহাশূন্য এক সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত মহাবিশ্বে রূপান্তরিত হয়েছে, যা তাঁর অস্তিত্বের মহিমা ও নিপুণ শিল্পবোধেরই এক জীবন্ত প্রতিফলন। অর্থাৎ, সৃষ্টির আদিতে তিনি ছিলেন এক স্বতন্ত্র স্থপতি, যিনি পরবর্তীতে নিজ সৃষ্টির মাঝেই নিজেকে বিলীন করে দিয়েছেন।
- রোনাল্ড আর. জলিঞ্জার, মেয়ার মরমনজম: ডিফেন্স অব মরমন থিওলজি, পৃষ্ঠা ৬, ২০১০।
বহিঃ সংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় প্যানডিজম (ইংরেজি উইকিপিডিয়া) সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে pandeism বা প্যানডিজম (উইকশনারি) শব্দটি খুঁজুন।