প্রফুল্লচন্দ্র রায়
অবয়ব

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (২ আগস্ট ১৮৬১ - ১৬ জুন ১৯৪৪) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ, শিক্ষক, দার্শনিক ও কবি। এছাড়া তিনি ছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা এবং মার্কারি (I) নাইট্রেটের আবিষ্কারক। প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বাংলাদেশের খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাডুলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন হরিশচন্দ্র রায় এবং মা ভুবনমোহিনী দেবী। হরিশচন্দ্র রায় সেখানকার জমিদার ছিলেন। ১৮৭৮ সালে এন্ট্রান্স পাশ করে কলকাতার মেট্রোপলিটন ও পরে প্রেসিডেন্সিতে পড়াশােনা করেন। প্রেসিডেন্সী থেকে গিলক্রিস্ট বৃত্তি নিয়ে ১৮৮২ সালে তিনি স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যান। সেখানে প্রথমে বিএসসি পাস করেন এবং পরে ১৮৮৭ সালে রসায়ন শাস্ত্রে মৌলিক গবেষণার জন্য ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- সকলের অপেক্ষা দুঃখের বিষয় এই যে, আমরা সংঘবদ্ধ হইয়া কোন কার্য করিতে পারি না। দেশের যাহা কিছু অভাব-অভিযোগ, দুর্দ্দশা, তাহার বিমোচনের জন্য আমরা হাঁ করিয়া গভর্ণমেন্টের দিকে তাকাইয়া থাকি। হয় গভর্ণমেন্ট, না হয় বিধাতাপুরুষ আমাদের সমস্ত অভাব কুলাইয়া দিবেন। আমরা নিজে কিছু করিব না; হাত-পা গুটাইয়া বসিয়া থাকিব।
- আজ কেন এই হিন্দু মুসলমানের বিবাদ, ব্রাহ্মণ অব্রাহ্মণের রেষারেষি দ্বেষাদ্বেষি—তাই বলছি সময় থাকিতে এখনও ঘর সামলাও। ঘর শক্রতে রাবণ নষ্ট। আমরা স্বার্থত্যাগ করবো না, নিজেদের অন্যায় আবদার অধিকার ছাড়বোনা, কি করে বড় হ’ব, জাতি গড়ে তুলবো? জাপানে যা একদিন সম্ভব হয়েছে, ভারতে কি তা হবে না? অস্পৃশ্যতা পাপ হিন্দু ভারতবর্ষ ব্যতীত কোথাও পাবেন না।
- ঘর সামলাও, আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রবন্ধ ও বক্তৃতাবলী, লেখক- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক-চক্রবর্তী চ্যাটার্জি এণ্ড কোম্পানি লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪৫
- কর্মকার লাঙ্গল, কোদাল, দা, দরজার কব্জা, বড় কাঁটা, তালা প্রভৃতি তৈরী করিত। বাহির হইতে আমদানী লৌহপিণ্ড ও লোহার পাত হইতেই এ সব অবশ্য তৈরী হইত। নাটাগোড়িয়া (কলিকাতার নিকট), ডোমজুড়, মাকড়দহ, বড়গাছিয়া (হাওড়া) প্রভৃতি স্থানে লোহার তালা চাবি তৈরী হইত। কিন্তু জার্মানী হইতে আমদানী সস্তা জিনিষের প্রতিযোগিতায় এই দেশীয় শিল্প লুপ্তপ্রায় হইয়াছে।
- আত্মচরিত- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক- ওরিয়েণ্ট বুক কোম্পানি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬৮
- তমলুকে দেখিলাম কত সুন্দর স্বন্দর চরকার সূতার কাপড় হইয়াছে। আমি বিশ্বাস করিতে পারি নাই যে সেগুলি চরকার সূতার কাপড়। ক্রমশঃ তাঁতির হাত আরও পাকিবে। ঢাকাই কাপড় কত ভাল ছিল। যে দেশে এমন সূক্ষ্ম কাপড় হইত, যে দেশের মসলিন রোম হইতে সারা ইউরোপ হইতে টাকা লুটিয়া আনিত আজ সে দেশের লোক দিগম্বর সাজিয়াছে।
- জাতীয় বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা, আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রবন্ধ ও বক্তৃতাবলী, লেখক- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক-চক্রবর্তী চ্যাটার্জি এণ্ড কোম্পানি লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩০০
- মিল্টনের ন্যায় মধুসূদন দত্তও শীঘ্রই বুঝিতে পারিলেন যে, সাহিত্যে স্থায়ী আসন এবং যশোলাভ করিতে হইলে, তাঁহাকে মাতৃভাষাতেই কাব্য রচনা করিতে হইবে। তাহার ফলে তিনি বাংলা ভাষায় তাঁহার অমর কাব্য ‘মেঘনাদ বধ’ দান করিয়া গিয়াছেন। অবশ্য, এই অমর কাব্যে স্বর্গ ও নরকের বর্ণনা এবং কয়েকটি চরিত্র চিত্রনে আমরা হোমর, ভার্জিল, দান্তে, তাসো, মিল্টন প্রভৃতি পাশ্চাত্য কবিদের ভাবের ছায়াপাত দেখিতে পাই।
- আত্মচরিত- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক- ওরিয়েণ্ট বুক কোম্পানি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬
- বাংলা দেশে হাতে বোনা মোটা কাপড়ের শিল্প আমদানী বিদেশী কাপড়ের প্রতিযোগিতায় বহু দিন পর্বেই লুপ্ত হইয়াছে। অন্যান্য প্রদেশও এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করিয়াছে। কেন লোকে দিনের পর দিন কষ্ট করিয়া সূতা বুনিবে ও কাপড় তৈরী করিবে,—ল্যাঙ্কাশায়ার ও জাপান ত তাহাদের কলে তৈরী সূক্ষ্ম বস্ত্রজাত লইয়া, ঘরের দরজায় সর্বদাই হাজির আছে! বাংলার ঋণগ্রস্ত অনশনক্লিষ্ট কৃষকগণ, তোমরা তোমাদের দেশের ভদ্রলোকদের অনুসরণ করিয়া নিজেদের দুঃখকষ্ট বিস্মৃত হও!
- আত্মচরিত- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক- ওরিয়েণ্ট বুক কোম্পানি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
- আমাদের দেশে শ্রমের কোন মর্যাদা নাই। যাহারা ‘ভদ্রলোক’ বলিয়া পরিচিত, তাহারা অনাহারে মরিবে তবু কায়িক শ্রমের কাজ করিবে না,—বরং সামান্য বেতনের কেরাণীগিরিতে সন্তুষ্ট হইবে। অনেক সময় সে আত্মীয়ের গলগ্রহ হইয়া পরগাছার মত জীবন ধারণ করিতেও লজ্জিত হয় না।
- আত্মচরিত- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক- ওরিয়েণ্ট বুক কোম্পানি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪১
- ব্যবসা করো, শিল্প ধরো, চাকরির মায়া ছাড়ো।[উৎস প্রয়োজন]
- বাংলার সম্পদ ক্রমাগত শোষিত হইতেছে; উহা বিদেশীরাই করুক,আর অ-বাঙালীরাই করুক—ফল সমানই।[উৎস প্রয়োজন]
- বিজ্ঞানচর্চা শুধু নিজের উন্নতির জন্য নয়, সমাজের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত।
- "আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রবন্ধ ও বক্তৃতাবলী" গ্রন্থের অংশ [উৎস প্রয়োজন]
- জ্ঞান যার আছে, সে বিনয়ী হয়; অহংকার কখনো জ্ঞানের লক্ষণ নয়।
- ওনার লেখা "আত্মচরিত" গ্রন্থের অংশ।[উৎস প্রয়োজন]
- যে জাতি নিজের ইতিহাস জানে না, সে জাতির কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
- বক্তৃতা/প্রবন্ধ (জাতীয় চেতনার প্রসঙ্গে)
- নিজে না জেনে অন্যকে শেখানো মানে অন্ধের হস্তীদর্শন।
- আত্মচরিত[উৎস প্রয়োজন]
- জ্ঞান যাহাতে লাভ হয়, তাহাই শিক্ষা।
- আত্মচরিত[উৎস প্রয়োজন]
- স্বদেশি শিল্পের উন্নতি না হইলে আমাদের দীনতা দূর হইবে না।
- আত্মচরিত / বক্তৃতা[উৎস প্রয়োজন]
- বিজ্ঞান চর্চা মানে শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, সত্য অনুসন্ধানের সাধনা।
- আত্মচরিত[উৎস প্রয়োজন]
- আমি ব্রাহ্মণ, কিন্তু আগে আমি মানুষ।
- আত্মচরিত[উৎস প্রয়োজন]
প্রফুল্ল চন্দ্র রায় সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- সংসারে জ্ঞানী তপস্বী দুর্লভ নয়, কিন্তু মানুষের মনের মধ্যে চরিত্রে ক্রিয়া প্রভাবে তাকে ক্রিয়াবান করতে পারে এমন মনীষী সংসারে কদাচ দেখতে পাওয়া যায়।
- প্রফুল্লচন্দ্র রায় সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি লিখেছিলেন।[১]
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় প্রফুল্লচন্দ্র রায় সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিসংকলনে প্রফুল্লচন্দ্র রায় রচিত অথবা সম্পর্কিত রচনা রয়েছে।
উইকিমিডিয়া কমন্সে প্রফুল্লচন্দ্র রায় সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।