বিষয়বস্তুতে চলুন

ফজলে রাব্বী

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
শহীদ ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী

ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী (২২ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ - ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১) ছিলেন একজন বাংলাদেশি হৃদরোগ চিকিৎসক এবং মুক্তিযুদ্ধের একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • "ভুলে যেয়ো না, ওরাও মানুষ।"
    • ১৯৭১ সালের ১৫ই ডিসেম্বরের প্রভাতে যুদ্ধকালীন কারফিউর মাঝে পুরান ঢাকায় একজন অবাঙালি রোগীকে দেখতে যাওয়ার সময় ফজলে রাব্বী স্ত্রী ডা. জাহানারা রাব্বী বাধা দেন। কিন্তু তিনি সহাস্যে এই উক্তি করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তখন মুক্তিযুদ্ধে অবরুদ্ধ ঢাকায় থেকেও তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন।
  • "তুমি বোধহয় আমার কবর দেখেছ।"
    • ১৫ই ডিসেম্বর সকালে তার স্ত্রী জাহানারা রাব্বী একটি দুঃস্বপ্নের কথা ব্যক্ত করলে ডা. ফজলে রাব্বী নিজের মৃত্যুর দিকে ইঙ্গিত করেন উক্তিটি করে।
      • রশীদ হায়দার সম্পাদিত, স্মৃতি: ৭১, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১, বাংলা একাডেমি।
  • "আচ্ছা, দুপুরটা একটু গড়িয়ে নিই। বিকেলের দিকে না হয় বের হওয়া যাবে।"
    • ১৫ই ডিসেম্বর বিকেলের কারফিউ এর সময় শুরু হওয়ার আগে চলে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তিনি কিছুটা বিশ্রামের জন্য এই কথাটি বলেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের সাথে গুম করে ফেলা হয়। ১৮ই ডিসেম্বর তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়।

তার সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ডাক্তার মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী, প্রফেসর অব ক্লিনিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড কার্ডিওলজিস্ট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ—এই তাঁর পরিচয়। তার চেয়েও বড় এবং সত্য পরিচয় হলো তিনি একজন মানুষ ছিলেন। সত্যিকারের মানুষ যেমন সচরাচর চোখে পড়ে না।
    • স্মৃতি: ১৯৭১ (রশীদ হায়দার সম্পাদিত) গ্রন্থের প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০২ , ডা. জাহান আরা রাব্বী (স্ত্রী)।
  • আপন করে নেয়ার আর সহজভাবে গিয়ে পাশে দাঁড়াবার একটা সহজাত ক্ষমতা তাঁর ছিল, যা মনে হতো কেবল তাঁকেই মানাতো।
    • স্মৃতি: ১৯৭১ (রশীদ হায়দার সম্পাদিত) গ্রন্থের প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৩, (ডা. জাহান আরা রাব্বী)।
  • পৃথিবীর সুখী মহিলাদের মধ্যে আমি ছিলাম অন্যতমা। আমি নিজেকে ধন্য মনে করি এমন একজন মানুষের জীবন সঙ্গিনী ছিলাম বলে।
    • স্মৃতি: ১৯৭১ (রশীদ হায়দার সম্পাদিত) গ্রন্থের প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০২, (ডা. জাহান আরা রাব্বী)
  • তার চেম্বারটি ছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষের মিলনস্থল। গরিব ও দুস্থ রোগীদের জন্য তার দরজা সব সময় খোলা থাকত এবং অনেক ক্ষেত্রে তিনি শুধু বিনামূল্যে চিকিৎসাই করতেন না, বরং ওষুধের টাকাও দিয়ে দিতেন।
  • ডা. ফজলে রাব্বী কেবল একজন চিকিৎসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন রাজনৈতিক সচেতন দেশপ্রেমিক। একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোতে তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও অর্থ সহায়তা দিয়ে গেছেন, যা ছিল চরম জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার মতো কাজ।
    • আহমাদ ইশতিয়াক, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. ফজলে রাব্বি: মানবতার এক চিরন্তন প্রতিমূর্তি।
  • ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর যখন ঘাতক দল তাকে নিয়ে যেতে আসে, তখন তার মা তাকে পালিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু সেই মহৎ মানুষটি উত্তর দিয়েছিলেন— 'আমি চলে গেলে ওরা তোমাদের মেরে ফেলবে, তার চেয়ে আমি যাওয়াই ভালো।' এটি ছিল তাঁর চূড়ান্ত আত্মত্যাগ।
    • পারিবারিক স্মৃতিচারণ, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. ফজলে রাব্বি: মানবতার এক চিরন্তন প্রতিমূর্তি
  • আমার বাবা বলতেন, 'পাকিস্তান (PAKISTAN) নামের মধ্যেই বাংলাদেশের কোনো স্থান নেই—P ফর পাঞ্জাব, A ফর আফগান প্রদেশ, K ফর কাশ্মীর এবং ISTAN এসেছে বেলুচিস্তান থেকে; এখানে B (বাংলাদেশ) বলে কিছু নেই'।
  • আমার মনে আছে, কোনো অনুষ্ঠানে যখন আমাদের রুটি ও মাংস দেওয়া হতো, আমার বাবা তখন ভাত ও মাছ চাইতেন। এটি কেবল আমাদের সাংস্কৃতিক ভিন্নতা ছিল না, বরং এটি ছিল আমাদের সাংস্কৃতিক অবদমনের বিরুদ্ধে একটি অবস্থান। আমার বাবা সেই পরাধীনতা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না।
    • দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (অনলাইন সংস্করণ), ১৫ ডিসেম্বর ২০২২। "রিমেম্বারিং ডা. রাব্বী: হিজ লেগাসি অ্যান্ড দ্য নেশন উই বিল্ট"

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]