বিষয়বস্তুতে চলুন

ফারাক্কা বাঁধ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত একটি বাঁধ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় এই বাঁধটি অবস্থিত। ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ১৯৭৫ সালে। সেই বছর ২১ এপ্রিল থেকে বাঁধ চালু হয়। ফারাক্কা বাঁধ ২,২৪০ মিটার (৭,৩৫০ ফুট) লম্বা যেটা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় বানানো হয়েছিল। বাঁধ থেকে ভাগীরথী-হুগলি নদী পর্যন্ত ফিডার খালটির দৈর্ঘ্য ২৫ মাইল (৪০ কিলোমিটার)।

ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ফারাক্কার কারণে কলকাতা বন্দর মরে গেছে। প্রধান নিষ্কাশন ব্যবস্থাগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় বার বার বন্যার আশঙ্কাও বাড়তে থাকবে।
  • প্রায় দেড় যুগ আগে ঢাকার রাজপথে শ্লোগান শুনেছি, "মরণ বাঁধ ফারাক্কা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও”। এই শ্লোগান এখনও চলছে, কিন্তু ফরাক্কা বাঁধের তাতে 'কেশটিও' নড়েনি। আজ আমরা যদি অতীতের ব্যালান্স শীট কষতে বসি তাহলে একরাশ হতাশা এবং আমাদের উদ্বেগজনক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাই না।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৮ মে ১৯৮৩ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • অতীতের দিকে নজর করলে দেখা যাবে, ভারত আলোচনার ছাতা ফুটিয়ে রেখে তার ছায়ায় নিরাপদে তার সব কাজটা সে সমাধা করে নিয়েছে। তার প্রথম সাফল্য বিতর্কিত ফারাক্কা বাঁধকে আলোচনার এজেণ্ডা থেকে সরিয়ে নিয়ে গঙ্গার পানিবণ্টন প্রশ্নকে এজেণ্ডার অন্তর্ভুক্ত করা। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের এই 'চাণক্য কৌশলের' কাছে পরাভব মেনেছিলেন। ফলে গঙ্গার পানির একটা শেয়ার দিয়ে বাংলার প্রধানমন্ত্রীকে সামনে বসিয়ে রেখে ফারাক্কা বাঁধ চালু করতে ভারতকে কোনই বেগ পেতে হয়নি।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৮ মে ১৯৮৩ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • আমাদের সদিচ্ছা ও সারল্য যত বেড়েছে তাদের ষড়যন্ত্রের পরিধি তত বেড়ে গেছে। ফারাক্কা বাঁধ থেকে গঙ্গার পানিবণ্টন থেকে আবার এখন আমাদেরকে ব্রহ্মপুত্রের পানিবণ্টনে রাজী করাতে চাইছে ভারত। এইভাবে অর্থনীতির লেবাসে তাদের জঘন্য রাজনীতি আমাদের পঙ্গু করে দেবার উপক্রম করেছে। এখনও যদি আমাদের বোধোদয় না হয়, তাহলে বলতে হবে বড় একটা দুর্দিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা কেউই তা চাই না। চাই না বলেই তাদের ষড়যন্ত্রের অসহায় শিকার সেজে বসে থাকার সময় আর নেই। তাদের রাজনীতির মোকাবিলায় আমাদের রাজনীতি করার কোন প্রয়োজন নেই। এখনকার প্রয়োজন শুধু আমাদের মূলে ফিরে আসা। আমাদের আলোচনার বিষয় হওয়া প্রয়োজন 'ফারাক্কা বাঁধ।' আমাদের সুষ্ঠুভাবে বলা প্রয়োজন, আন্তর্জাতিক একটা নদীর উপর এইভাবে বাঁধ দিয়ে ভারত অন্যায় করেছে, সুতরাং এ অন্যায় থেকে যে কুফল ফলছে তা দূর করার দায়িত্ব ভারতের। ভারত যদি এ দায়িত্ব পালন না করে, যদি সে বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুসারে নেপালে জলাধার নির্মাণে রাজী না হয়, তাহলে বাংলাদেশকে তার ভৌগলিক সীমার মধ্যেই তাকে বিকল্প চিন্তা করতে হবে।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৮ মে ১৯৮৩ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • ফারাক্কা ইস্যুকে আমি "লস্ট কেস" হিসেবে অভিহিত করতে চাই না। তবে আমাদের সীমাহীন নির্বুদ্ধিতার কারণে বলটা আমরা নিজ হাতে ভারতীয় কোটে তুলে দিয়েছি। এখন ভারত আমাদের হাচ্ছমত খেলাচ্ছে। আর আমরা নেচেই চলেছি এবং বৈঠকের নামে কোটি কোটি টাকা পানিতে ফেলে দিচ্ছি।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • অনেক আগে এক লেখায় বলেছিলাম, গঙ্গা যেন হারিয়ে না যায়। বলছিলাম সেদিন, গঙ্গা নদীর পানিবণ্টনের প্রশ্ন যেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের এজেণ্ডা থেকে হাওয়া হয়ে না যায়। গঙ্গার পানি নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনায় আমরা ক্রমাগত যেভাবে লেজ গুটাচ্ছি তা থেকেই এই প্রশ্নটা জেগেছিল। কারো অজানা নয়, ভারতের সাথে মূল বিরোধের ইস্যুটা ছিল ফারাক্কা বাঁধ। এই এক তরফা বাঁধ অবৈধ ও অন্যায় এটাই ছিল বিরোধের মূল কথা। এদেশ থেকে তখন ফারাক্কা বাঁধ “উড়িয়ে দাও, গুড়িয়ে দাও”- এই দাবী উঠেছিল। ভারতের সাথে আলোচনা শুরু হয় এই ফারাক্কা বাঁধ ইস্যু নিয়েই। কিন্তু মুজিব আমলে আলোচনা থেকে ফারাক্কা বাঁধ হারিয়ে গেল। ১৯৭৫ সালে মুজিব-ইন্দিরা যে চুক্তি হলো তাতে ফারাক্কা বাঁধ বৈধ হয়ে গেল এবং তার জায়গায় আলোচনায় গঙ্গার পানিবণ্টন প্রশ্ন আসল।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৪ আগস্ট ১৯৮৪ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • ভারত কর্তৃক গঙ্গা চুরির যে ব্যাপারটা আমরা আজ ১৯৮৪-তে এসে বুঝছি, সে কাজ কিন্তু ভারত বহু বছর আগে সুপরিকল্পিতভাবেই শুরু করেছে। এই পরিকল্পনা অনুসারে ভারত এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে যাতে গ্রীষ্ম মওসুমে গঙ্গার সব পানি আপার ইণ্ডিয়াতেই লাগবে। উত্তর ভারতের বেতওয়া, দর্শন, কেন ও শোন নদীর খালসহ আপার ও লোয়ার গঙ্গা ক্যানাল, পূর্ব যমুনা ক্যানাল, আগ্রা ক্যানাল, সারদা ও সারদা সহায়ক ক্যানাল, ঘাগরা লেফট ব্যাংক ক্যানাল, গন্ধক ক্যানাল প্রভৃতির মত বিশাল বিশাল ক্যানাল নেটওয়ার্ক এবং উত্তর প্রদেশ ও বিহারের ২০০টি সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত গঙ্গা থেকে যে পানি শুষে নেয়ার ব্যবস্থা করেছে তাতে গঙ্গায় পশ্চিম বঙ্গের জন্যও কোন পানি থাকেনা। এটা আমার কথা নয়, ভারতীয় পত্র পত্রিকাই এই কথা বলেছে। তারা বলছে শুষ্ক মওসুমে উত্তর প্রদেশ ও বিহারে গঙ্গা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কিউসেক পানি শুষে নেবার পর গঙ্গার প্রধান ধারা পদ্মার জন্য কিছু পানি থাকলেও হুগলী নদীর জন্য লবণাক্ততা ও চর ছাড়া আর কিছুই থাকে না। এই পরিস্থিতিতেই ভারত নিজের পাপ গোপন রেখে পদ্মার পানি দিয়ে হুগলী নদীকে নাব্য করার জন্য ১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করেছে।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৪ আগস্ট ১৯৮৪ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • পদ্মাকে মেরে হুগলী নদীর মেয়াদ বাড়ানোর জন্যই ফারাক্কার সৃষ্টি হয়েছিল হয়তো, কিন্তু আজ ভারত ফারাক্কাকে ব্রহ্মপুত্রের পানি চুরির হাতিয়ার হিসেবে মনে করছে। কে জানে এটাই তাদের মূল প্লান ছিল কিনা।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৪ আগস্ট ১৯৮৪ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • চালু হলে ফারাক্কা বাঁধ যে পদ্মা অববাহিকায় অস্বাভাবিক বন্যার সৃষ্টি করবে, এ সত্যটাকে সে সময়কার আওয়ামী লীগ সরকারও পাশ কাটিয়ে যেতে পারেননি।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৪ আগস্ট ১৯৮৪ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ফারাক্কার মত গুরুতর ব্যাপারে যত সহজ কথায় দায় সেরেছেন, তা আমার মনে একটা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
    • আবুল আসাদ, "পদ্মার লাশ" (২০ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮)। লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত।
  • ফারাক্কার সাথে আমাদের নদীগুলোর পাড় উপচানো অতিবন্যার যে একটা সম্পর্ক আছে তা বুঝার জন্যে জটিল ভূগোল জ্ঞানের কোনই প্রয়োজন নেই। ভূগোলবিদ হবারও দরকার নেই এজন্যে।
    • আবুল আসাদ, "পদ্মার লাশ" (২০ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮)। লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত।
  • ফারাক্কা বাঁধ আমাদের পদ্মা এবং তার শাখা নদীগুলোকে যে মেরে ফেলছে, তা বুঝার জন্যেও কোন ভূগোল জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। যে কেউ আজ শুকনো মওসুমে পদ্মার তীরে গিয়ে একবার দাঁড়াতে পারেন। তিনি যদি অন্তত ষাটের দশকের পদ্মাকেও দেখে থাকেন, তাহলে আজকের পদ্মার ভয়াবহ রূপ দেখে তিনি চমকে উঠবেন। তিনি দেখবেন, আজকের পদ্মা অতীতের পদ্মার একটা লাশ মাত্র। ভারতের ফারাক্কা বাঁধ পদ্মার গলা টিপে ধরায় স্রোত হারিয়ে পলি জমে তার এই অবস্থা।
    • আবুল আসাদ, "পদ্মার লাশ" (২০ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮)। লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত।
  • ষাটের দশকের শেষের দিকের কথা। তখন আমাদের বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ। ফারাক্কা বাঁধ তৈরীর কাজ ভারত পুরোদমে চালাচ্ছে তখন। প্রতিবাদের কোনই তোয়াক্কা করছে না ভারত। ঢাকার দেয়ালে তখন বড় বড় অক্ষরে লেখা একটা শ্লোগান সকলেরই চোখে পড়তো। 'মরণবাঁধ ফারাক্কা ভেংগে দাও, গুঁড়িয়ে দাও'- এই শ্লোগানের কথা বলছি আমি। শ্লোগানটি খুব পপুলার ছিল, কিন্তু রাজ্জাক সাহেবরা পছন্দ করতেন না এই শ্লোগান। ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে এই শ্লোগান বা কোন শ্লোগানই তারা কখনও দেননি। এই প্রতিবাদকে তারা মনে করতেন রাজনীতি। তাদের এই আচরণের কারণে আমার এবং সকলের ধারণা ছিল, আওয়ামী লীগ ফারাক্কা বাঁধকে বাংলাদেশের জন্য 'মরণ ফাঁদ' মনে করে না। মনে হতো, আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের কোন ক্ষতি করবে না, নিছক ভারত বিরোধিতার কারণেই ফারাক্কার বিরুদ্ধে আবেগ সৃষ্টি করা হয়েছে। অবশ্য অনেকে মনে করতো ভারত যাই করুক তার 'বিরোধিতা' করার সাধ্য আওয়ামী লীগের নেই।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৯ আগস্ট ১৯৯৬ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • ভারত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফারাক্কা সমস্যার সৃষ্টি করেছে, এ কথা আমাদের পানিসম্পদ মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বললে দেশের মানুষ উপকৃত হতো এবং বিশ্ববাসী সত্যটা জানতে পারতো।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৯ আগস্ট ১৯৯৬ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • বুঝতে সত্যি কষ্ট হচ্ছে, ভারতের গোপন ফাইলে ফারাক্কা অবশ্যই একটি রাজনৈতিক সমস্যা, কিন্তু আমরা তা স্বীকার করে তাদের ফাঁদে পড়ছি কেন? ফারাক্কা আমাদের কাছে রাজনৈতিক নয়, পানি-বণ্টনের জীবন-মরণ সমস্যা, এটাই তো জলজ্যান্ত সত্য।
    • আবুল আসাদ। মূল লেখার তারিখ ১৯ আগস্ট ১৯৯৬ যা পরে "ভারতের গঙ্গা চুরি" শিরোনামে লেখকের সময়ের সাক্ষী (জুন ২০০৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
  • বিহারে বন্যার এই হাল গঙ্গায় সিল্ট বা পলি জমার কারণেই। যবে থেকে ফারাক্কা বাঁধ নির্মিত হয়েছে, তখন থেকেই এই পলি জমার শুরু।...আগে যে সব পলি নদীর প্রবাহে ভেসে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ত, এখন ফারাক্কার কারণে সেটাই নদীর বুকে জমা হয়ে বন্যা ডেকে আনছে। আমি তাই গত দশ বছর ধরে বলে আসছি এই সিল্ট ম্যানেজমেন্ট না-করলে বিহার কিছুতেই বন্যা থেকে পরিত্রাণ পাবে না।...আমরা কোনও পয়সা চাই না – কিন্তু চাই কেন্দ্রীয় সরকার বা তাদের সংস্থাগুলো এসে দেখুক কীভাবে এই সিল্ট সরানো যায়। এর একটা রাস্তা হতে পারে ফারাক্কা বাঁধটাই হঠিয়ে দেওয়া – আর আপনাদের কাছে বিকল্প কোনও প্রস্তাব থাকলে সেটাও অনুসরণ করে দেখা যেতে পারে।
  • আমার দৃঢ় সংকল্প জানাচ্ছি যে, তিস্তার পানি বণ্টন এবং ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনাই রাজ্য সরকারের সম্পৃক্ততা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে করা উচিত নয়। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের স্বার্থ সর্বাগ্রে যার সাথে কোনো মূল্যে আপস করা উচিত নয়।
  • এই বাঁধের ফলে উজান ও ভাটিতে প্রবল ভাঙন শুরু হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর। ধ্বংস হয়েছে প্রচুর সম্পত্তি, যার মধ্যে রয়েছে স্কুল, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যুতের মতো স্থাপনা–অবকাঠামো। এই ভাঙন রোধে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে যে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা–ও দেয়নি।
    • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের পরিপ্রেক্ষিতে ফারাক্কা বাঁধ ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদিকে লিখিত চিঠি। ২৫ জুন ২০২৪।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]