বিষয়বস্তুতে চলুন

ফেদেরিকো ফাগিন

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন

ফেদেরিকো ফাজিন (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে।বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না।
  • পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে।
  • আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা।
  • একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
  • প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি।
  • চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো কোয়ালিয়া বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। কোয়ালিয়া কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
  • সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]