বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক
পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার ঘোষণা যিনি দিয়েছিলেন তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়ে থাকে। এটি বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন তাই তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে মনে করা হয়। পরবর্তীকালে শেখ মুজিবের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান এবং তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সনের শাসনামলের সকল কূটনৈতিক গোপন নথিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়েছে। এছাড়াও, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার পূর্বেই ২৬ মার্চে, আমেরিকান টিভি এবিসি নিউজে শেখ মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে সংবাদ পাঠ করা হয়। তবে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে মনে করে থাকে।
ঘোষণা
[সম্পাদনা]- এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।
- শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপোস নাই। জয় আমাদের হবেই। পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রুকে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক প্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।
- শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী, প্রকাশক: দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০১৪, পৃষ্ঠা: ২৯৯
ঘোষণাপত্র পাঠ
[সম্পাদনা]- আমি, মেজর জিয়া, বাংলাদেশের মহান নেতা, সর্বাধিনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি এবং জানাচ্ছি যে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার ইতোমধ্যেই গঠিত হয়েছে।এছাড়াও ঘোষণা করা হচ্ছে যে, শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের ৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারই স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের একমাত্র বৈধ সরকার। এই সরকার আইনসিদ্ধ ও সাংবিধানিকভাবে গঠিত হয়েছে এবং বিশ্ববাসীর স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। আমি, তাই আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সরকার, বিশেষ করে বৃহৎ শক্তিগুলো এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই—বাংলাদেশের বৈধ সরকারকে স্বীকৃতি দিন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আমাদের, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের, বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে অভিহিত করা নিছক উপহাস ছাড়া কিছুই নয়, এবং এতে কেউ বিভ্রান্ত হবে না। নতুন রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো হবে—প্রথমত: নিরপেক্ষতা, দ্বিতীয়ত: শান্তি, তৃতীয়ত: সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি শত্রুতা নয়।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। জয় বাংলা!- জিয়াউর রহমান, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ।
উক্তি
[সম্পাদনা]বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা সম্পর্কে
[সম্পাদনা]- কিন্তু তারা অতর্কিতে ২৫ মার্চ তারিখে আমাদের আক্রমণ করলো। তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে আমাদের শেষ সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। আমি ওয়্যারলেসে চট্টগ্রামে জানালাম বাংলাদেশ আজ থেকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এই খবর প্রত্যেককে পৌঁছে দেওয়া হোক, যাতে প্রতিটি থানায়, মহকুমায়, জেলায় প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে উঠতে পারে। সেই জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছিলাম।
- শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে।
- বস্তুত ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাষণে দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা নিহিত রয়েছে, যদিও তিনি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ও জনগণের 'ম্যান্ডেট' অনুসারে জাতীয় পরিষদে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখেন। অন্যথায় একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে জনগণকে অন্যায়কারী রূপে দেশে-বিদেশে জাতি সম্বন্ধে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারতো এবং পাকিস্তানী শোষকেরা এর ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধারণা সৃষ্টি করতো। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারাই নিয়ে গিয়েছিলেন বেতারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে একটা লিখিত ঘোষণা পড়ে শোনাতে।
- মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। ১৯৮০ সালে সাপ্তাহিক রোববার পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে। সাপ্তাহিক রোববার, ২য় বর্ষ ত্রিংশতিতম সংখ্যা, ২৩ মার্চ ১৯৮১ পৃষ্ঠা ১২।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ২৮৮
- মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। ১৯৮০ সালে সাপ্তাহিক রোববার পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে। সাপ্তাহিক রোববার, ২য় বর্ষ ত্রিংশতিতম সংখ্যা, ২৩ মার্চ ১৯৮১ পৃষ্ঠা ১২।
- বাঙলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে পৌঁছে দিয়েছিলেন মুজিব, বন্দী থেকেও তিনিই নিয়ন্ত্রণ করছিলেন মুক্তিযুদ্ধকে, তিনিই সৃষ্টি ক'রে চলছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। মুজিবকে আমরা প্রচণ্ড সমালোচনা করতে পারি, তিনি সমালোচনার উর্ধ্বে নন, অনেক সীমাবদ্ধতা তাঁর ছিলো; কয়েক দশক ধ'রে তো কোটি কোটি বামন প্রাণভ'রে তাঁর সমালোচনা করছে। কিন্তু সত্য হচ্ছে তিনি মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, বাঙলাদেশের মহাস্থপতি। মুজিব ছাড়া হাজার হাজার জিয়া বা অন্য কেউ মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিলেও মুক্তিযুদ্ধ ঘটতো না, তখন সেটা হতো হাস্যকর হঠকারিতা ও পরিণতিতে শোকাবহ; মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে আসতো না, এবং বিশ্ব আমাদের পক্ষ নিতো না, সাড়া দিতো না। এটা ঘটেছিলো মুজিবের জন্যেই। মুজিব বাঙলাদেশের স্থপতি, মহাস্থপতি; তিনি সৃষ্টি ক'রে চলছিলেন বাঙলাদেশ। তাঁকে ছাড়া বাঙলাদেশের কথা ভাবাই যায় না।
- হুমায়ুন আজাদ। আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম, প্রকাশক: আগামী প্রকাশনী, প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০০৬, পৃষ্ঠা: ৩০-৩১
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে আমি যখন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেষবার তার বাসভবনে কথা বলি, সময় তখন প্রায় ন'টা সাড়ে ন'টা। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, যদি সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে নির্বাচনের মাধ্যমে গণঅধিকার অর্জনের 'ম্যান্ডেট' ভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে ও জনমতকে দমনের চেষ্টা করা হয়, তাহলে তিনি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা বেতার বা টেলিফোন মাধ্যমে পাঠাবার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামে আয়ামী লীগের নেতারাই নিয়ে গিয়েছিলেন বেতারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে একটা লিখিত ঘোষণা শোনাতে।
- মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২-এ জমসেদ ইফাত-এর সম্পাদনায় 'কুহেলিকা' নামক সংকলনে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ৯০
- মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২-এ জমসেদ ইফাত-এর সম্পাদনায় 'কুহেলিকা' নামক সংকলনে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে।
- ২৩ মার্চ ছিল শেখ মুজিবের আন্দোলনের সর্বোচ্চ পর্যায়। এটা ছিল একটি ঐতিহাসিক দিন। পাকিস্তান দিনটিকে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপন করত। শেখ মুজিব দিনটিকে লাহোর প্রস্তাব দিবস হিসেবে উদযাপন করেছিলেন। সে ছিল এক চূড়ান্ত দিন, যেদিন শেখ মুজিব তাঁর বাসভবনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বাস্তবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানের সেনানিবাসগুলোর ভেতরে সেদিন পাকিস্তানের পতাকা দেখা গিয়েছিল।
- রাও ফরমান আলি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ৮২
- আওয়ামী লীগের অনমনীয় দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হয়ে আমি সামরিক বাহিনী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেই। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তারিখে আমি বেসামরিক প্রশাসনের সাহায্যার্থে এবং সশস্ত্র বিদ্রোহ নির্মূলের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে এক নির্দেশ জারি করি। আমি বিশেষভাবে ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলাম। শেখ মুজিবসহ বিদ্রোহী সকল নেতাকে গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছিল। শেখ মুজিব ও অন্য নেতাদের যাতে শারীরিকভাবে কোনো ক্ষতি না হয় এবং তাদের সঙ্গে যাতে মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার করা হয় সেটা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমার কঠোর নির্দেশ ছিল। আমাদের হেফাজতে থাকার সময়ও শেখ মুজিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তির সঙ্গে যেরূপ ব্যবহার করতে হয় সব সময় সেরূপ ব্যবহার করার নির্দেশ ছিল। এটা ছিল তার প্রাপ্য। তবে তিনি যে একতরফাভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এ প্রাপ্যটি সেজন্য ছিল না।
- ইয়াহিয়া খান। ১৯৭২ সালে হামুদুর রহমান কমিশনের কাছে পাঠানো বক্তব্যে। দৈনিক ভোরের কাগজ ১৬ মার্চ ১৯৯৭।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ২৬২
- ইয়াহিয়া খান। ১৯৭২ সালে হামুদুর রহমান কমিশনের কাছে পাঠানো বক্তব্যে। দৈনিক ভোরের কাগজ ১৬ মার্চ ১৯৯৭।
- আমার কো-অর্ডিনেশন অফিসার একটি থ্রী ব্যান্ড রেডিও এনে বলল স্যার শুনুন, শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা করছেন। আমি নিজে রেডিওতে শেখ সাহেবকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে শুনলাম, কারণ শেখ সাহেবের কণ্ঠস্বর আমি ভাল করেই চিনতাম। যে ঘোষণা তখন দেশদ্রোহিতার শামিল ছিল। সে ক্ষেত্রে শেখ সাহেবকে গ্রেফতার করা ছাড়া আমার কোন বিকল্প ছিল না।
- টিক্কা খান। স্বাধীনতা ঘোষণার ইতিহাস' শীর্ষক মুসা সাদিকের ধারাবাহিক নিবন্ধের শেষাংশ, দৈনিক জনকণ্ঠ ২৫ মার্চ ২০০৩।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ২৬১
- টিক্কা খান। স্বাধীনতা ঘোষণার ইতিহাস' শীর্ষক মুসা সাদিকের ধারাবাহিক নিবন্ধের শেষাংশ, দৈনিক জনকণ্ঠ ২৫ মার্চ ২০০৩।
- যখন প্রথম গুলিটি বর্ষিত হল, ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তান রেডিওর সরকারী তরঙ্গের ওয়েভ লেংনথ কাছাকাছি একটি তরঙ্গ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষীণ কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। ওই কণ্ঠের বাণী মনে হল আগেই রেকর্ড করে রাখা হয়েছিল। তাতে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানকে গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করলেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত 'বাংলাদেশ ডকুমেন্টস'-এ ওই ঘোষণার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হয়েছিল। ঘোষণায় বলা হয়, 'এই-ই হয়তো আপনাদের জন্যে আমার শেষ বাণী হতে পারে। আজকে থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। আমি আপনাদের আহবান জানাচ্ছি—যে যেখানেই থাকুন, যে অবস্থাতেই থাকুন এবং হাতে যার যা আছে তা-ই নিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ততদিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান—যতদিন না দখলদার পাকিস্তান বাহিনীর শেষ সৈনিকটি বাংলাদেশের মাটি থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হচ্ছে।
- সিদ্দিক সালিক (মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিতানি বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা)। উইটনেস টু সারেন্ডার বইয়ে।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ২৬১
- সিদ্দিক সালিক (মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিতানি বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা)। উইটনেস টু সারেন্ডার বইয়ে।
- আরে, আজকাল চোরের মার বড় গলায় যারা যতই বলুক, যে সত্যটুকু আমি গত ত্রিশ বছর ধরে লিখিতভাবে বলে যাচ্ছি, সে হচ্ছে ২৬ মার্চ '৭১ আওয়ামী লীগের এম. এ. হান্নান এবং আমরা বেতার কর্মীরাই বারবার বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বেতারে প্রচার করেছিলাম। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায়ই আমারই ব্যক্তিগত অনুরোধে মেজর জিয়া কালুরঘাট প্রচার ভবনে পাহারা মোতায়েন করেছিলেন এবং আমারই তাৎক্ষণিক প্রস্তাবে 'বঙ্গবন্ধুর পক্ষে' ঘোষণা প্রচার করেছিলেন। ঘোষণার খসড়া তৈরি করেছিলেন আমারই প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়।
- বেলাল মোহাম্মদ (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রধান উদ্যোক্তা)। ২২ এপ্রিল ২০০১-এ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় লেখা একটি নিবন্ধে।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ১২৯
- বেলাল মোহাম্মদ (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রধান উদ্যোক্তা)। ২২ এপ্রিল ২০০১-এ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় লেখা একটি নিবন্ধে।
জিয়াউর রহমানের ঘোষণাপত্র পাঠ সম্পর্কে
[সম্পাদনা]- স্বাধীনতার ঘোষক বলতে যদি বেতারের ঘোষণাকারী বুঝায়, তাহলে অবশ্যই প্রথম ঘোষক জনাব এম, এ, হান্নান এবং দ্বিতীয় ঘোষকও তিনি। মেজর জিয়ার ঘোষণাটি ছিল তৃতীয়।
- বেলাল মোহাম্মদ (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রধান উদ্যোক্তা)। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ১২৮
- ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি। বঙ্গবন্ধুই সেদিন স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।
- মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। 'সানরাইজ' লন্ডন, বর্ষ ৫, সংখ্যা ৪-৫, নভেম্বর-ডিসেম্বর, ১৯৮০, সূত্র: 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়' আবদুল মতিন, পৃ. ৩৩, প্রকাশক: র্যাডিক্যাল এশিয়া পাবলিকেশন্স, ঢাকা, তৃতীয় সংস্করণ, ডিসেম্বর ১৯৯৬।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ২৮৮
- মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। 'সানরাইজ' লন্ডন, বর্ষ ৫, সংখ্যা ৪-৫, নভেম্বর-ডিসেম্বর, ১৯৮০, সূত্র: 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়' আবদুল মতিন, পৃ. ৩৩, প্রকাশক: র্যাডিক্যাল এশিয়া পাবলিকেশন্স, ঢাকা, তৃতীয় সংস্করণ, ডিসেম্বর ১৯৯৬।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জার্মানিতে চলে গিয়ে বার্লিন বেতার থেকে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু যখন মুক্তিকামী ভারতবাসীর উদ্দেশে বলতেন-'আমি সুভাষ বলছি', তখন খুব ছোট ছিলাম বলে নেতাজী সুভাষের সেই দৃপ্তকণ্ঠ আমি কখনও শুনিনি, যদিও বার্লিন বেতার ও আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিকদের উদ্দেশে দেয়া তাঁর যাদুকরী ভাষণের রেকর্ড আমি শুনেছি। কিন্তু আমি নিজ কর্ণে শুনেছি মেজর জিয়ার কণ্ঠ। ২৭ মার্চের দ্বিপ্রহরে, বুড়িগঙ্গা নদী পাড়ি দিয়ে ওপারে পালিয়ে যাওয়ার পথে, স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে ইথারে ভেসে আসা সেই কণ্ঠ আজও আমার কানে বাজে...'আমি মেজর জিয়া বলছি।
- নির্মলেন্দু গুণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ২৪৮
- ২৬ মার্চ দুপুরে আকাশবাণীর খবর-এ প্রথম বলা হল-'পূর্ব বাংলায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, 'বাজানো হল আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা।' এরপর থেকে আকাশবাণী আর বিবিসি হয়ে দাঁড়াল আমাদের খবরের প্রধান উৎস। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের খবর আমি শুনেছি ২৭ মার্চ। মেজর জিয়ার ভাষণও শুনেছি এবং বলা বাহুল্য এই ভাষণ আমাদের উদ্দীপ্ত করেছে। আমরা আশা করছিলাম সেনাবাহিনীর বাঙালিরা বিদ্রোহ করবেন।
- শাহরিয়ার কবির। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস - আ. ফ. ম সাঈদ, প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, প্রকাশকাল: ২০১৩, পৃষ্ঠা: ২৫২
- আমিই জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে বলেছিলাম, আমাদের মধ্যে তৎকালীন সিনিয়র ছিলেন মেজর মীর শওকত ( পরবর্তী সময়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল)। তিনি লিখেছেন, এই অফিসার (কর্ণেল অলি) জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে বলেছিলেন এবং আমি যদি উনাকে দেওয়ান হাট থেকে না নিয়ে আসতাম ৫ মিনিট পরেই মেরে ফেলে উনাকে কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দিতো।
- অলি আহমেদ। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ কক্সবাজার-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সর্মথনে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায়।
- আমি জনাব আবদুল গাফফার চৌধুরীর সহিত নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করিতাম এবং মাঝে মাঝে তাঁহার অভয়দাস লেনের বাসায় রাত্রিযাপন করিতাম। তাঁহার বাসায় রাত্রিযাপন করিতে গিয়া তাঁহারই রেডিও সেটে ২৭শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র হইতে 'স্বাধীন বাংলা'র ঘোষণা শুনতে পাই। চট্টগ্রাম বেতারের কালুরঘাট ট্রান্সমিশন কেন্দ্র হইতে মেজর জিয়াউর রহমানের কণ্ঠস্বরে 'স্বাধীন বাংলার' ডাক ধ্বনিত হইয়াছিল। এই ডাকের মধ্যে সেই দিশাহারা, হতভম্ব, সম্বিতহারা ও মুর্ছিতপ্রাণ বাংগালী জনতা শুনিতে পায় এক অভয়বাণী, আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপাইয়া পড়িবার আহবান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লড়াই-এর সংবাদ।
এম এ হান্নানের ঘোষণাপত্র পাঠ সম্পর্কে
[সম্পাদনা]- বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম পাঠ করেছিলেন এম এ হান্নান। পরদিন ২৭ মার্চ সেনাবাহিনীর একজন অফিসারকে দিয়ে ঘোষণাটি পাঠ করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- হাছান মাহমুদ। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার সদর দপ্তরে আয়োজিত আলোচনা সভায়।