বিচারক
অবয়ব
বিচারক বা বিচারকর্তা বা বিচারপতি হলেন এমন কর্মকর্তা যারা এককভাবে অথবা বিচারকমণ্ডলীর অংশ হিসেবে আদালতের সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থাপিত তথ্যের উপর আইনের প্রযোজ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি মামলার নিষ্পত্তি করেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- বিচারকদের মনে রাখা উচিত যে তাঁদের পদ হলো আইন ব্যাখ্যা করা , আইন তৈরি করা বা আইন প্রদান করা নয় ।
- ফ্রান্সিস বেকন, "প্রবন্ধ ৫৬: বিচারব্যবস্থা বিষয়ে", প্রবন্ধাবলী (১৬২৫), রিচার্ড হোয়াটেলির বেকন’স এসেজ উইথ অ্যানোটেশনস (১৮৫৭), পৃষ্ঠা ৫১১-এ উদ্ধৃত
- আমি এদের জিজ্ঞাসা করলুম, “কেউ কোনো অপরাধ করলে এখানে তার বিধান কী।”
একটি মেয়ে বললে, “আমাদের কোনো শাসন নেই, কেননা আমরা নিজেদের শাস্তি দিই।”
আমি বললুম, “আর একটু বিস্তারিত করে বলো। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করবার জন্যে তোমরা কি বিশেষ সভা ডাকো। নিজেদের মধ্যে থেকে কাউকে কি তোমরা বিচারক নির্বাচন করো। শাস্তি দেবার বিধিই বা কী রকমের।”
একটি মেয়ে বললে, “বিচারসভা যাকে বলে তা নয়, আমরা বলা-কওয়া করি। কাউকে অপরাধী করাই শাস্তি, তার চেয়ে শাস্তি আর নেই।”- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাশিয়ার চিঠি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
- আর তোমরা নিজদের মধ্যে তোমাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং তা বিচারকদেরকে (ঘুষ হিসেবে) প্রদান করো না। যাতে মানুষের সম্পদের কোন অংশ পাপের মাধ্যমে জেনে বুঝে খেয়ে ফেলতে পার।
- সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৮
- বিচারকদের রসিক হওয়ার চেয়ে বেশি বিদ্বান, বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার চেয়ে বেশি শ্রদ্ধাশীল এবং আত্মবিশ্বাসী হওয়ার চেয়ে বেশি বিচক্ষণ হওয়া উচিত। সর্বোপরি, সততাই তাদের অংশ এবং প্রকৃত গুণ।
- ফ্রান্সিস বেকন, "প্রবন্ধ ৫৬: বিচারব্যবস্থা বিষয়ে", প্রবন্ধ (১৬২৫)
- যেখানে আইনের তর্ক ধরিয়াই কাজ হয়, সেই আদালতের উকিল শুদ্ধমাত্র তর্কের জোর ফলাইতে সাহস করেন না, জজের মন বুঝিয়া অনেক সময় ভাল তর্কও তাঁহাকে পরিত্যাগ করিতে হয়, অনেক সময় বিচারকের কাছে মৌখিক পরাভব স্বীকারও করিতে হয়—তাহার কারণ, জজ্ ত আইনের পুঁথিমাত্র নহেন, তিনি সজীব মনুষ্য। যিনি আইন প্রয়োগ করিবেন, তাঁহার সম্বন্ধে যদি এত বাঁচাইয়া চলিতে হয়, যিনি আইন সৃষ্টি করিবেন, তাঁহার মনুষ্যস্বভাবের প্রতি কি একেবারে দৃকৃপাত করাও প্রয়োজন হইবে না?
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সফলতার সদুপায়, আত্মশক্তি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭০
- বিচারকদের অবশ্যই কঠোর ব্যাখ্যা এবং কষ্টকল্পিত অনুমান থেকে সতর্ক থাকতে হবে; কারণ আইনের যন্ত্রণার চেয়ে ভয়াবহ যন্ত্রণা আর কিছু নেই।
- ফ্রান্সিস বেকন, "প্রবন্ধ ৫৬: বিচারব্যবস্থা বিষয়ে", প্রবন্ধ (১৬২৫)
- প্রমোদ বদ্ধদৃষ্টি হইয়া বিচারকের দিকেই চাহিয়াছিলেন, যেন বিচারককে তিনি আগে কোথায় দেখিয়াছেন, যেন সে মুখ তাঁহার পরিচিত অথচ তাঁহাকে চিনিতে পারিতেছেন না। তিনি তখন, পার্শ্বস্থ যামিনীনাথকে বিচারকের নাম জিজ্ঞাসা করিয়া শুনিলেন তাঁহার নাম হিরণকুমার। সহসা বাল্যকালের সেই অপমান-জনক ঘটনা তাঁহার মনে পড়িয়া গেল—তিনি বিচারককে চিনিতে পারিলেন, চিনিলেন—ছেলেবেলায় যে হিরণকুমার তাঁহাকে কঁদাইয়াছিল—এ সেই হিরণকুমার।
- স্বর্ণকুমারী দেবী, ছিন্নমুকুল, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ছিন্নমুকুল-স্বর্ণকুমারী দেবী, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- কান্তিক প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮-৬৯
- বিচারক এবং জুরিদের যদি নিজেদের হাতে কোনো বন্দীকে ফাঁসি দিতে হতো, তবে ফাঁসির দণ্ড অনেক কমে যেত; যদি আমাদের নিজেদের হাতে মাংসের জন্য পশু জবাই করতে হতো, তবে নিরামিষাশীদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যেত।
- আরনেস্ট হাওয়ার্ড ক্রসবি, টলস্টয় অ্যান্ড হিজ মেসেজ, নিউ ইয়র্ক: ফাঙ্ক অ্যান্ড ওয়াগনালস কোম্পানি, ১৯০৪, পৃষ্ঠা ৫৩
- বিচারকেরাই (যেমনটা আমরা দেখেছি) প্রচলিত আইন তৈরি করেন:— আপনারা কি জানেন তাঁরা কীভাবে তা তৈরি করেন? ঠিক যেমন একজন মানুষ তার কুকুরের জন্য আইন তৈরি করে। আপনার কুকুর যখন এমন কিছু করে যা আপনি তাকে দিয়ে করাতে চান, আপনি সেই কাজটি করা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং তারপর তার জন্য তাকে মারেন। এভাবেই আপনি আপনার কুকুরের জন্য আইন তৈরি করেন: এবং এভাবেই বিচারকেরা আপনার ও আমার জন্য আইন তৈরি করেন।
- জেরেমি বেন্থাম, ট্রুথ ভার্সেস অ্যাশহার্স্ট [স্যার ডব্লিউ এইচ অ্যাশহার্স্টের মিডলসেক্সের গ্র্যান্ড জুরির প্রতি প্রদত্ত ভাষণের সমালোচনা, ১৯ নভেম্বর, ১৭৯২] (১৮২৩), পৃষ্ঠা ১১
- সাতকড়ি কহিল, “ভাই, চট কেন? সিভিলিজেশন সস্তা জিনিস নয়। সূক্ষ্ণ বিচার করতে গেলে সূক্ষ্ণ আইন করতে হয়, সূক্ষ্ণ আইন করতে গেলেই আইনের ব্যবসায়ী না হলে কাজ চলেই না, ব্যাবসা চালাতে গেলেই কেনাবেচা এসে পড়ে— অতএব সভ্যতার আদালত আপনিই বিচার-কেনাবেচার হাট হয়ে উঠবেই— যার টাকা নেই তার ঠকবার সম্ভাবনা থাকবেই। তুমি রাজা হলে কী করতে বলো দেখি।”
গোরা কহিল, “যদি এমন আইন করতুম যে হাজার দেড় হাজার টাকা বেতনের বিচারকের বুদ্ধিতেও তার রহস্য ভেদ হওয়া সম্ভব হত না, তা হলে হতভাগা বাদী প্রতিবাদী উভয় পক্ষের জন্য উকিল সরকারি খরচে নিযুক্ত করে দিতুম। বিচার ভালো হওয়ার খরচা প্রজার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সুবিচারের গৌরব করে পাঠান-মোগলদের গাল দিতুম না।”- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গোরা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩৩
- রাষ্ট্র তার বিচারকদের নিয়োগ করার মাধ্যমে তাঁদের বিচার করার আদেশ দিয়েছে, কিন্তু সংবিধানে বা আইনে তাঁদের বিচার করার পদ্ধতি নির্ধারণ করার জন্য কোনো বিধি প্রণয়ন করেনি। সমাজের চাপ জনসাধারণের মনে নতুন ধরনের আচরণকে নৈতিক বাধ্যবাধকতার অনুমোদন দান করে, এবং সেই একই চাপ বিচারকের মনে কাজ করে অবশেষে তাঁর কর্মের মাধ্যমে সেগুলোকে আইনের অনুমোদন প্রণয়ন করে।
- বেঞ্জামিন এন. কার্ডোজো, দ্য প্যারাডক্স অফ লিগ্যাল সায়েন্স (১৯২৮), পৃষ্ঠা ১৭
- কেহ কেহ বলিতে পারেন যে, অধিকাংশ মোকদ্দমাই অধস্তন বিচারকের দ্বারা নিষ্পন্ন হইয়া থাকে, এবং অধিকাংশ অধস্তন বিচারকই এ দেশীয়,—তবে উপরিস্থ জন কতক ইংরাজ বিচারকের দ্বারা অধিক বিচারহানি সম্ভবে না। ইহার উত্তর, প্রথমতঃ, সকল বাঙ্গালী বিচারকই বিচারকার্য্যের যোগ্য নহেন। বাঙ্গালী বিচারকের মধ্যে অনেকে মূর্খ, স্থূলবুদ্ধি, অশিক্ষিত, অথবা অসৎ। এ সম্প্রদায়ের বিচারক সৌভাগ্যক্রমে দিন দিন অল্পসংখ্যক হইতেছেন। তথাপি বিশেষ সুযোগ্য বাঙ্গালীরা বিচারক শ্রেণীভুক্ত নহেন। ইহার কারণ, এ দেশীয় বিচারকের উন্নতি নাই, পদবৃদ্ধি নাই; যাঁহারা ওকালতি করিয়া অধিক উপার্জ্জনে সক্ষম, সে সকল ক্ষমতাশালী লোক বিচারকের পদের প্রার্থী হয়েন না।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্গদেশের কৃষক, বিবিধ প্রবন্ধ-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ, সম্পাদনা- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সজনীকান্ত দাস, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭২
- অগণিত কালের আগে, দণ্ডিত অপরাধীরা তাদের শেষ ভোরের জন্য অপেক্ষা করত। তবুও একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা রেহাইয়ের আশা করত এই ভেবে যে, মানুষের বিচারকেরা দয়া দেখাতে পারেন। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোনো আপিল চলে না।
- আর্থার সি ক্লার্ক, দি উইন্ড ফ্রম দ্য সান: স্টোরিজ অফ দ্য স্পেস এজ (১৯৭২), পৃষ্ঠা ৮
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় বিচারক সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে বিচারক শব্দটি খুঁজুন।