উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিচার
অবয়ব
(বিশৃঙ্খল জনগোষ্ঠীর বিচার থেকে পুনর্নির্দেশিত)
উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিচার বা উচ্ছৃঙ্খল গণবিচার (মব জাস্টিস নামেও ডাকা হয়ে থাকে) একটি অবজ্ঞাসূচক শব্দ, যা সাধারণ জনগণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে অধিকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী ধরনের শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে গণতন্ত্র বা অন্যান্য বৈধ এবং প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার তুলনায় পুরো সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল একটি নাগরিক প্রক্রিয়ার অভাব বা ক্ষতি বিদ্যমান থাকে।
উক্তি
[সম্পাদনা]বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক
[সম্পাদনা]- মব জাস্টিসের নামে নরপশুর ন্যায় নির্মমতা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদাহরণ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
- মব জাস্টিস কোনো বিচার নয়। এটি শুধু আরও সহিংসতা ও অন্যায়ের কারণ হয়। আমরা ন্যায়বিচার চাই, সহিংসতা নয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য
[সম্পাদনা]- জনগণকে জানাতে চাই, যেখানেই মব জাস্টিস পরিস্থিতি হবে, সে যে–ই হোন না কেন, যে ধর্মের, লিঙ্গের, বর্ণের, জাতের হোন না কেন, আমরা এখন থেকে কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হব।
- অভ্যুত্থানের পক্ষে হলে মব করা বন্ধ করেন, আর যদি মব করেন, তাইলে আপনাদেরও ডেভিল (শয়তান) হিসেবে ট্রিট (গণ্য) করা হবে।
- আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশে কোনো ‘মব জাস্টিস’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার হাতে বিচার), আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, গণপিটুনি—এগুলো কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না।
- আপনারা যে মব জাস্টিসের ঘটনা দেখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা আমাদের সবাইকে মর্মাহত করেছে। আমরা ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনও পরিস্থিতিতেই "মব জাস্টিস" সমর্থন করে না।
- কোনো মব জাস্টিস সাপোর্ট করি না। কিন্তু।
একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনির পক্ষ নেওয়া, মিছিল করা, এটা কেমন রাজনীতি? মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে খু'নি ও সন্ত্রাসীকে গ্লোরিফাই করা, এটা কেমন সাংবাদিকতা? কিছু হলুদ মিডিয়ার নির্লজ্জ প্রচেষ্টা দৃশ্যমান।
মনে রাখতে হবে, কথিত চেতনা ব্যবসার কবর রচনা করেছে আমাদের 'প্রজন্ম ২৪'। জেনারেশন জুমারস এই ব্যবসার ওপর বড়ই বিরক্ত। যারাই এই ব্যবসা আবার চাল করবেন, তাদের পরিণতি ৩৬ জুলাইয়ের দিনের মতই হবে।
এই প্রজন্মকে বোকা ভাববেন না। প্রজন্মের চোখের ভাষা, মনের ভাষা, বুঝাতে না পারাটাই হা'সি'নার জন্য বুমেরাং হয়েছে। আশা করি অতি সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে কেউ ভুল করবেন না।- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট হতে সংগৃহীত। কোনো মব জাস্টিস সাপোর্ট করি না: শিবির সেক্রেটারি
- বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধস্পৃহা একটি সাংস্কৃতিক রূপ নিচ্ছে; যা আমাদের হাজার হাজার ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে অর্জিত সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে। অপরাধী যত বড় অপরাধ করে থাকুক না কেন, আইনের আওতায় তার বিচার হতে হবে। ঢাবি ও জাবিতে মব কিলিংয়ের মতো হত্যাকাণ্ড দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম দুর্বলতা ও ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রতিফলন। আমরা এ ধরনের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
- যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম, ঢাবি ও জাবিতে হত্যার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের নিন্দা ও প্রতিবাদ
- বিচারবহির্ভূত কোনো কিছুই আমরা চাই না। কিন্তু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঘটনা পাবলিকের মতামত ও আবেগকে প্রভাবিত করে। তবুও আমরা সর্বাবস্থায় বলি, আপনারা ধৈর্য ধরুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করুন এবং বিচারকে তার আপন গতিতে এগোতে দেন। সেটার মধ্যেই কল্যাণ। মব জাস্টিস শুধু এখানে কিংবা এখন নয়, যুগ যুগ ধরেই এটি চলে আসছে। কোনো মব জাস্টিস আমরা সমর্থন করি না।
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমীর শফিকুর রহমান, কোনো মব জাস্টিস আমরা সমর্থন করি না: জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গ সংগঠন
[সম্পাদনা]- যারা বিনা কারণে এ ধরনের মব জাস্টিসের সূচনা করে, তাদের অবশ্যই কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে যে হামলা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বাটা, পিজ্জা, ডোমিনোজ, কেএফসি সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান—এগুলোসহ খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজারে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে, তার আমরা কঠোর নিন্দা জানাই।
- সরকারকে বলতে চাই, সমাজে যে অস্থিরতা-অস্থিতিশীলতা, সমাজে যে মব জাস্টিস, সমাজে যে ধর্ষণ...এটা যদি বন্ধ করতে না পারেন, তাহলে জনগণ যে স্বপ্ন নিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছিল, সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী সেলিনা রহমান, ‘মব জাস্টিস নিয়ে সরকার কেন চুপচাপ’, প্রশ্ন সেলিমা রহমানের
- যারা মব জাস্টিস বা জনতার রোষে মানুষ হত্যা করছে, তারা বর্তমান সরকারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনার পেছনে যারা ইন্ধনদাতা, তাদের চিহ্নিত করতে হবে।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মব জাস্টিস শক্তিশালী, সরকারের চেয়ে বেশি: বিএনপির এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত
- মব জাস্টিসের নামে তারা দেশের আইন অন্যায়ভাবে নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে দেশে একটা অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি করতেছে।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক, মব জাস্টিসের নামে দেশে অরাজকতা ছড়াচ্ছে একটি গোষ্ঠী: আমিনুল হক
অন্যান্য
[সম্পাদনা]- দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে হতাশা ও বিচারহীনতার কারণে এই ‘মব জাস্টিস’ চলছে। কিন্তু এখানে আমি দায়িত্বহীনতাও দেখতে পাই। এখন যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, তারাও এই বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই যে ছাত্ররা গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছে। কোথাও কোথাও তাদের সংশ্লিষ্টতায়, আবার কোথাও কোথাও অতি উৎসাহী জনতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, ‘মব জাস্টিস’ না থামালে বাড়বে বর্বরতা
- মব জাস্টিস এখনই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিচার সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।