বিষয়বস্তুতে চলুন

বিহার

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
বিহার

বিহার হলো ভারতের একটি রাজ্য যাকে একইসাথে পূর্ব এবং উত্তর ভারতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৯৪,১৬৩ বর্গ কিমি (৩৬,৩৫৭ বর্গ মাইল) আয়তন বিশিষ্ট এটি ভারতের ১৩তম বৃহত্তম রাজ্য। জনসংখ্যার দিক থেকে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম এই রাজ্যটির পশ্চিমে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরে নেপাল, পূর্বে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ এবং দক্ষিণে ঝাড়খণ্ড অবস্থিত। বিহারের সমভূমি গঙ্গা নদী দ্বারা বিভক্ত যা পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে। বিহার মূলত তিনটি প্রধান স্বতন্ত্র অঞ্চলের সংমিশ্রণ, এগুলো হলো মগধ, মিথিলা এবং ভোজপুর। রাজ্যটির দাপ্তরিক ভাষা হলো হিন্দি এবং উর্দু। এর রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর হলো পাটনা

বিহারের বর্তমান রাজ্যপাল হলেন রাজেন্দ্র আরলেকর, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হলেন নীতীশ কুমার এবং এর রাজ্য আইনসভা বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ভারতের সংস্কৃতিতে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী ছিল বিহারি সংস্কৃতি। আমি একবার নেদারল্যান্ডসের ওলন্দাজ হিন্দু সম্প্রদায়ের (সুরিনাম থেকে আসা কিন্তু আদতে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিম বিহারের) এক মেয়েকে চিনতাম যে তার 'বিহারি' পারিবারিক নাম নিয়ে কিছুটা লজ্জিত ছিল কারণ সে শুনেছিল যে বিহার হলো ভারতের সবচেয়ে অনগ্রসর অংশ। তাই আমরা একসাথে বিহারের ইতিহাস পড়লাম। দেখা গেল সেই ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। শুধু যে প্রথম মহান সাম্রাজ্যগুলো সেখান থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল তা নয়, কপিলাও সেখান থেকেই ছিলেন, যিনি হিন্দু ধর্মের দুটি সংজ্ঞায়িত দর্শনের একটি অর্থাৎ সাঙ্খ্য-যোগের প্রতিষ্ঠাতা এবং গীতায় শ্রেষ্ঠ দার্শনিক হিসেবে পূজিত। যাজ্ঞবল্ক্যসহ প্রথম উপনিষদিক দ্রষ্টাগণ যারা অন্য একটি মহান দর্শন বেদান্তের প্রবর্তক ছিলেন তারা বিদেহ অর্থাৎ উত্তর-পশ্চিম বিহারের রাজা জনকের দরবারে তাদের ধারণাগুলো বিকশিত করেছিলেন। এছাড়াও বিহার থেকে ছিলেন মহাবীর, যিনি জৈন ধর্মের অগ্রপথিক ছিলেন। পরিশেষে সাঙ্খ্য ঐতিহ্য থেকেই বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি হয় যেখানে শাক্যমুনি নিজে কপিলাবস্তুতে বেড়ে ওঠেন যা কপিলার আশ্রমের পাশেই নির্মিত হয়েছিল। অনেকাংশেই এই সকল স্বপ্নদ্রষ্টারা স্থানীয় বিহারি সংস্কৃতিতে ইতিমধ্যে বিদ্যমান থাকা ধারণাগুলোকে যেমন পুনর্জন্মের ধারণা এবং ত্যাগ ও ধ্যানের অনুশীলনকে নিখুঁত ও পদ্ধতিগত রূপ দিয়েছিলেন। আজ বিহার কিছুটা অবনতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এটিই সেই শৈশব যাকে "মানব মনের শ্রেষ্ঠ অর্জন" বলা হয়েছে।
    • ডক্টর কোয়েনরাড এলস্টের সাক্ষাৎকার, ২০১৯-এ উদ্ধৃত।
  • মিয়ানমারের মতো বিহারও হলো আংশিক রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি উদাহরণ যা সম্পূর্ণ পতনের ঠিক আগের ধাপ। বিহারে সিভিল সার্ভিস যুক্তিসঙ্গতভাবে দক্ষ কিন্তু নির্বাচিত সরকারগুলো সহিংসতার বেসরকারীকরণে যোগসাজশ করেছে। বিহার এইভাবে আমাদের কেবল সহিংসতার একচেটিয়া ক্ষমতার ক্ষয় প্রভাব অন্বেষণ করার সুযোগ দেয় যেখানে আফগানিস্তানের মতো আমূল পতনের কোনো প্রভাব নেই। বিহারের মানুষকে সহিংসতার বেসরকারীকরণের প্রভাবের সাথেই বাঁচতে হয় যদিও কেন্দ্রীয় সরকার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং একটি সিভিল সার্ভিস পরিচালনা করে যা প্রায়শই দুর্নীতিগ্রস্ত কিন্তু পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সক্ষম।
  • এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আংশিকভাবে ইসলামি উন্মাদনার কারণেই বিহারে গুপ্ত সাম্রাজ্য পরবর্তী আমলের ধ্বংসাবশেষ আশ্চর্যজনকভাবে খুব কম পাওয়া যায়।
    • ইবনে ওয়াররাক এর ডিফেন্ডিং দ্য ওয়েস্ট বইয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে উদ্ধৃত জে. সি. হার্লের দ্য আর্ট অ্যান্ড আর্কিটেকচার অফ দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট, পেঙ্গুইন, ১৯৮৬, পৃষ্ঠা ১৯৯।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]