বেঙ্গালুরু


বেঙ্গালুরু (কন্নড়: ಬೆಂಗಳೂರು Beṅgaḷūru), যার পূর্বনাম ছিল ব্যাঙ্গালোর, ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী। এটি কর্ণাটকের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে অবস্থিত। বেঙ্গালুরু ভারতের তৃতীয় জনবহুল শহর এবং পঞ্চম জনবহুল মহানগর এলাকা। তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) রপ্তানিতে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ভূমিকার কারণে বেঙ্গালুরুকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,০০০ ফুটেরও (৯১৪.৪ মিটার) বেশি উচ্চতায় অবস্থিত হওয়ায় বেঙ্গালুরু সারা বছর মনোরম জলবায়ুর জন্য পরিচিত।
১৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের অধীনস্থ সামন্ত শাসক কেম্পে গৌড়া একটি মাটির দুর্গ প্রতিষ্ঠা করার আগ পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতের ধারাবাহিক রাজবংশ – পশ্চিম গঙ্গা, চোল এবং হোয়সালা এই অঞ্চলটি শাসন করেছিল। এই দুর্গটিকেই আধুনিক বেঙ্গালুরুর ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মারাঠা এবং মুঘলদের সাময়িক দখলের পর শহরটি মহীশূর রাজ্যের অধীনে থাকে। পরবর্তীতে এটি হায়দার আলী এবং তার পুত্র টিপু সুলতানের হাতে যায় এবং ১৭৯৯ সালে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে জয়ের পর ব্রিটিশরা এটি দখল করে। ব্রিটিশরা পুনরায় শহরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মহীশূরের মহারাজার হাতে তুলে দেয়। পুরোনো শহরটি মহীশূরের মহারাজার শাসনাধীনে গড়ে ওঠে এবং এটিকে মহীশূর দেশীয় রাজ্যের রাজধানী করা হয়, যা ব্রিটিশ রাজের একটি নামমাত্র সার্বভৌম সত্তা হিসেবে বিদ্যমান ছিল। ১৮০৯ সালে ব্রিটিশরা তাদের ক্যান্টনমেন্ট বা সেনানিবাস পুরোনো শহরের বাইরে ব্যাঙ্গালোরে স্থানান্তরিত করে এবং এর চারপাশে একটি শহর গড়ে ওঠে, যা ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসেবে শাসিত হতো। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর ব্যাঙ্গালোর মহীশূর রাজ্যের রাজধানী হয় এবং ১৯৫৬ সালে নতুন কর্ণাটক রাজ্য গঠিত হলেও এটি রাজধানী হিসেবে বহাল থাকে। ব্যাঙ্গালোরের দুটি নগর বসতি হলো শহর এবং সেনানিবাস, যা স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে গড়ে উঠেছিল। ১৯৪৯ সালে এটি একটি একক নগর কেন্দ্রে একীভূত হয়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- বেঙ্গালুরু বিশেষ করে তার সুন্দর পার্ক, প্রশস্ত রাস্তা, ব্যস্ত বাজার এবং মনোরম জলবায়ুর জন্য পরিচিত। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত এবং গ্রীষ্মের মাঝামাঝিও দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ শহরের তুলনায় এটি বেশ শীতল অনুভূত হয়। শহরের বেশিরভাগ অংশই বেশ আধুনিক, বিশেষ করে কুম্পেগৌড়া সার্কেল এবং গান্ধী নগর ও চিকপেট রাস্তার আশেপাশের এলাকা। প্রকৃতপক্ষে মুম্বাইয়ের পরেই এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক পাশ্চাত্য প্রভাবে প্রভাবিত শহর যার জনসংখ্যা ৪০ লক্ষাধিক। তবে অদূরেই শ্রী নরসিংহরাজা রোডের আশেপাশে শহরের পুরোনো অংশ অবস্থিত এবং আরও দক্ষিণে গেলে আপনি এই অঞ্চলের আদি সংস্কৃতির আমেজ পাবেন। সেখানকার রাস্তাগুলো সরু ও আঁকাবাঁকা এবং পুরোনো মন্দির, কুটির শিল্প ও ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোও সেখানেই রয়েছে।
- স্টিফেন ন্যাপ, স্পিরিচুয়াল ইন্ডিয়া হ্যান্ডবুক (২০১১)।
- ঘটনাটি সেই সময়কার যখন আমি এমন একজন ভারতীয় উদ্যোক্তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম যিনি বেঙ্গালুরু থেকে আমার ট্যাক্স বা করের হিসাব করতে চেয়েছিলেন, একজন বেঙ্গালুরু থেকে আমার সফটওয়্যার লিখে দিতে চেয়েছিলেন, একজন আমার এক্স-রে রিপোর্ট দেখে দিতে চেয়েছিলেন এবং আরও একজন বেঙ্গালুরু থেকেই আমার হারিয়ে যাওয়া মালামালের খোঁজ করতে চেয়েছিলেন... আমি উপলব্ধি করছিলাম যে যখন আমি ঘুমাচ্ছিলাম বা ৯/১১-এর যুদ্ধগুলোর সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত ছিলাম, তখন বিশ্বায়নের এই গল্পে মৌলিক কিছু একটা আমি মিস করে ফেলেছি। আমি খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং বেঙ্গালুরুতে এসে আবার সেই সুতোটি খুঁজে পাই।
- থমাস ফ্রিডম্যান, "দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ ফ্ল্যাট: এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ দ্য টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি"।
- বেঙ্গালুরু এমন একটি ব্র্যান্ড যার মাধ্যমে বিশ্ব ভারতকে চেনে। ভারত যে বিনিয়োগের জন্য এত আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে তার একক বৃহত্তম কারণও এটি।
- মনমোহন সিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০০৫-২০০৬, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৬।

- শহরের প্রধান কর্মকাণ্ড হলো তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর পরিষেবা। ভারতের তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে শীর্ষস্থানীয় অবদানের কারণে একে ভারতের সিলিকন ভ্যালি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- রেডিফ বিজনেস ডেস্ক, "ইন্ডিয়াস হটেস্ট আইটি ডেস্টিনেশনস"।
- সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে কর্ণাটকের রাজধানীতে রুপি-কোটিপতিদের সংখ্যা ভারতে সবচেয়ে বেশি।
- রেডিফ বিজনেস ডেস্ক, "ইন্ডিয়াস হটেস্ট আইটি ডেস্টিনেশনস"।
- বেঙ্গালুরুতে ১০ লক্ষ রুপি (১ মিলিয়ন রুপি) বা তার বেশি বার্ষিক আয়ের পরিবারের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি।
- রেডিফ বিজনেস ডেস্ক, "ইন্ডিয়াস হটেস্ট আইটি ডেস্টিনেশনস"।