বিষয়বস্তুতে চলুন

ব্যবহারকারী:RDasgupta2020/খেলাঘর

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

জোসেফ রাডইয়ার্ড কিপলিং ( ৩০ ডিসেম্বর ১৮৬৫ - ১৮ জানুয়ারী ১৯৩৬ ) ছিলেন একজন ইংরেজ ছোটগল্পকার, কবি, ঔপন্যাসিক এবং সাংবাদিক, যিনি ভারতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯০৭ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন , তিনিই প্রথম ইংরেজি ভাষার লেখক যিনি এটি লাভ করেন। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরেও তিনিই সর্বকনিষ্ঠ নোবেল পুরস্কার প্রাপক।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আমি এইমাত্র পড়লাম যে আমি মারা গেছি। তোমাদের উপভোক্তাদের তালিকা থেকে আমাকে বাদ দিতে ভুলো না।
    • একটি মাসিক পত্রিকার কাছে চিঠি। এই পত্রিকায় ভুল করে তার মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা প্রকাশ করেছিল।
    • উদ্ধৃত করেছেন: অশ্বিন সাংঘি, তার থার্টিন স্টেপ্স টু ব্লাডি গুড লাক গ্রন্থ থেকে গৃহীত, প্রকাশক- ওয়েস্টল্যান্ড লিমিটেড, ২০১৪।[১]
  • যুদ্ধের মধ্যপন্থা হিসাবে সত্যই কিছু নেই। আমরা আমাদের চূড়ান্ত বিজয় নিয়ে যতটা না সন্দেহ প্রকাশ করি, আমাদের ন্যায়বিচারের উপর ততটা করি না। আমাদের ব্যর্থতা কল্পনার অতীত, কারণ আমরা ব্যর্থ হলে সমগ্র বিশ্বে স্বাধীনতার আলো নিভে যাবে। পশ্চিম গোলার্ধে যাহোক কিছুদিনের জন্য হলেও এই আলো জ্বলতে পারে, কিন্তু জার্মানি যদি সামুদ্রিক ও স্থলযুদ্ধের মাধ্যমে অর্ধেক বিশ্বের উপরও আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে তাহলে তারা তাদের অধিকৃত সমস্ত অঞ্চল থেকে স্বাধীনতার চেতনার সেই উজ্বল আলো নিভিয়ে দেবে, যাতে স্বাধীনতার ঐতিহ্য মানবজাতির স্মৃতি থেকে মুছে যায়। তবে আমরা যদি আমাদের কর্তব্য পালন করি তবে আমরা এই যুদ্ধে ব্যর্থ হব না।
    • ডোম, ব্রাইটনে বক্তৃতা, তারিখ - ৭ সেপ্টেম্বর ১৯১৪ সাল। দ্য লিটারারি ডাইজেস্ট ম্যাগাজিন থেকে, "ইংল্যান্ডে শ্রম ও যুদ্ধ" শীর্ষক প্রতিবেদনে উদ্ধৃত, প্রকাশনার কাল- ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ সাল, পৃষ্ঠা ৫৬৬-৬৭। ক্যারোলিন প্লেনে, সোসাইটি অ্যাট ওয়ার, ১৯১৪-১৯১৬ , নিউ ইয়র্ক, হাউটন মিফলিন, ১৯৩১ -এও উদ্ধৃত করা হয়েছে।
  • আজকের পৃথিবীতে মাত্র দুটি শ্রেণি আছে — মানুষ এবং জার্মানরা এবং জার্মানরা সেটা খুব ভালোভাবেই জানে। মানুষ অনেক আগেই জার্মানদের এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছুর প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে উঠেছে — তারা যা করে, যা বলে, যা ভাবে এবং যা বিশ্বাস করে, সব কিছুর প্রতি।
    • সাউথপোর্টে বক্তৃতা, ২২ জুন, ১৯১৫। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস কারেন্ট হিস্ট্রি , খণ্ড ২; খণ্ড ৪-এ উদ্ধৃত। নিউ ইয়র্ক টাইমস কোম্পানি, ১৯১৭। পল পিয়াজা, ক্রিস্টোফার ইশারউড: মিথ অ্যান্ড অ্যান্টি-মিথ - এও উদ্ধৃত । কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস , ২০১০ (পৃষ্ঠা ২১৭)।
  • এ এক বৈজ্ঞানিক এবং একই সাথে ক্রীড়া-ভিত্তিক হত্যার প্রস্তাব। অবশেষে এই দুষ্ট পাখিদের দমন করার জন্য যথেষ্ট বন্দুক আমরা পেয়েছি এবং হুনরা(জার্মানরা) এই খবর পাওয়ার পর খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে। তারা মনে মনে বেশ আহত হয়েছে, যদিও তারা এখনো আসল কষ্টের স্বাদ পায়নি। আমি আশাবাদী হয়ে উঠছি যে, যখন আমরা যখন এই হত্যার খেলা শেষ করব, তখন খুব সামান্যই হুন অবশিষ্ট থাকবে।
    • এলসি ডানস্টারভিলের কাছে লেখা চিঠি, সেপ্টেম্বর ১৯১৬। লর্ড বার্কেনহেড, রুডইয়ার্ড কিপলিং- এ উদ্ধৃত । লন্ডন: ওয়েডেনফেল্ড এবং নিকলসন, ১৯৭৮ (পৃষ্ঠা ২৭১)।
  • দলগত প্রভাবের হাত থেকে নিজস্ব বোধ ও চিন্তাধারাকে বাচিয়ে রাখতে ব্যাক্তিকে প্রায়শই সংগ্রামের রাস্তা বেছে নিতে হয়। নিজের মতো করে বাঁচা এক দূরুহ বিষয়। যদি তুমি নিজের মতো করে বাঁচতে চাও তাহলে প্রায়শই তোমাকে একাকীত্ব ভোগ করতে হবে, কখনো কখনো তোমাকে ভীতি গ্রাস করবে। কিন্তু যদি নিজের মালিকানা নিজের হাতে রাখতে চাও তাহলে যেকোন মূল্য দিতে প্রস্তুত থেকো কারন তোমার নিজ স্বাধীন সত্বার থেকে দামী কিছুই নয়।
    • "একজন অনৈতিক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎকার" থেকে উদ্ধৃত, আর্থার গর্ডন, রিডার্স ডাইজেস্ট (জুলাই ১৯৫৯)। কিপলিং সোসাইটি জার্নালে পুনর্মুদ্রিত, "রুডইয়ার্ড কিপলিং সহ ছয় ঘন্টা" শীর্ষক সাক্ষাতকার। তারিখ- জুন, ১০৬৭। পৃষ্ঠা ৫-৮। সাক্ষাৎকারটি জুন, ১৯৩৫ সালে নেওয়া হয়েছিল ।
  • যখন তুমি নেটিভ বা স্থানীয় কথাটি লিখিতভাবে উল্লেখ কর, তখন তার মাধ্যমে তুমি ঠিক কি বোঝাতে চাও? তুমি কি মহম্মদপন্থী(মুসলিম) -দের অংশ যারা হিন্দুদের ঘৃণা করে অথবা তুমি কি হিন্দু যারা মুসলিমদের ঘৃণা করে, নাহলে তুমি কি শিখ যারা উভয় গোষ্ঠীকেই ঘৃণার চোখে দেখে, আর তা নাহলে তুমি কি আমাদের ভারতীয় কলেজগুলি থেকে শিক্ষিত তথাকথিত আধা-ইংরেজ শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত যাদের শিখ, হিন্দু, মুসলিম সকলেই ঘৃণা করে?
  • বিভিন্ন জাতি মধ্যে সভ্যতা-সংস্কৃতি ও জীবনধারার প্রায় প্রতিটি বিষয়ে যে অসীম ব্যবধান রয়েছে, তা যদি আপনি লক্ষ্য করতেন, তাহলে বুঝতে পারতেন কীভাবে একজন ইংরেজ সহজেই নেটিভদের—(সংক্ষেপে বলতে বাধ্য হচ্ছি এই বিভ্রান্তিকর শব্দটি)—তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। কেন কেবলমাত্র ব্যবসার ক্ষেত্র ছাড়া আর অন্য কোন ক্ষেত্রেই ইংরেজরা নেটিভদের সাথে কোনপ্রকার সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের ফলে পারস্পরিক মিলনের পথ প্রস্তুত করার পথে অগ্রসর হয়না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইংরেজ ও নেটিভদের মধ্যবর্তী এই জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বিভেদ এতটাই প্রখর যে আদৌ এই দুই ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে কোন মিল খুজে পাওয়া যায়না। ... অথচ এটা একেবারেই ভুল মানসিকতা। একথা বলা বাহুল্যমাত্র যে, একজন ব্রিটিশ ব্যাক্তি, যে নিয়মিত স্নান করে, নিজেকে বাহ্যিকভাবে স্বচ্ছ ও পরিস্কার রাখতে ব্যাস্ত থাকে, ঘুষ খায় না এবং ষড়যন্ত্র ও প্রলোভনের বাইরেও কিছু চিন্তা করে, তার পক্ষে একজন ভিন্ন জাতি, ভিন্ন সংস্কৃতিসম্পন্ন ব্যাক্তির প্রতি এই বৈরী মনোভাব পোষণ করা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু একবার এই মনোভাব তার মনে বাসা বাঁধলে, সে আর কখনো এই দেশের নেটিভ মানুষদের বোঝার সুযোগ পায় না।
  • কোন দেশের আদি বসবাসকারী জনজাতিকে বোঝার এবং তাদের সাথে বোঝাপড়া করার জন্য সর্বপ্রথমে তাদেরকে একদল বর্বর ও ভাবপ্রবণ জনগোষ্ঠী হিসাবে বিবেচনা করলে চলবেনা (আমি শুধুমাত্র পাঞ্জাবের কথা বলছি)। কিংবা তাদেরকে যদি ভিনদেশি এক নির্দয়ী স্বৈরাচারী শক্তির পদদলিত ভারতবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাহলে সেটাও সঠিক নয়। বরং তাদেরকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে, এমন একদল মানুষ হিসাবে যাদের নিজস্ব ভাষা আছে এবং তাদের সংস্কৃতিকে ভালোভাবে বুঝতে গেলে সেই ভাষা আয়ত্ত করা জরুরী। তাদের ভাষার নিজস্ব শৈলী, নিজস্ব প্রবাদবাক্য বর্তমান। এই দেশ প্রবাদের দেশ। তাই ভাষা আয়ত্ত করতে হলে সেই সমস্ত প্রবাদ সম্পর্কে অবগত হওয়া দরকার। তাছাড়াও তাদের নিজস্ব প্রথা, উপপ্রবচন ও ইঙ্গিত রয়েছে যার সমস্ত কিছু আয়ত্ত করা সেই সকল ভিনদেশী প্রবাসীর দায়িত্ব, বিশেষ করে যারা এই দেশকে জানতে যায়, বুঝতে চায়। সর্বোপরী তাদের নিজস্ব অনুভূতিও রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে সহানুভূতি গড়ে তোলা অবশ্যকর্তব্য।
  • উদ্ধৃতির তারিখ, ১৬ অক্টোবর, ১৮৯৫ সালঃ- আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি, কারন আমি সেইসকল মানুষদের মধ্যে জন্মেছি এবং বড় হয়ে উঠেছি যাদেরকে শেতাঙ্গরা বিধর্মী হিসাবে বিবেচনা করে। আমি স্বীকার করি, যে প্রতিটি শেতাঙ্গ মানুষের তাদের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি, তাদের শিক্ষাদীক্ষার প্রতি ঋণী থাকা উচিত এবং তাদেরকে নৈতিক কর্তব্য হিসাবেই ধারন ও পালন করা উচিত। তবে এটাও ঠিক যে তাদের কিছু কিছু ব্যাপার আমার কাছে বেশ নিষ্ঠুর বলেই মনে হয়। বৈজ্ঞানিক জগতে পরিচিত সকল বিধ্বংসী অস্ত্রে সজ্জিত শ্বেতাঙ্গদের সরকার তাদের নিজ জনগনের নিকট এমন এক বিভ্রান্তকারী স্বাধীনতার মতাদর্শ পেশ করে যার সম্পর্কে তাদের নিজেদেরই স্বচ্ছ ধারনা নেই। সবচেয়ে বড় কথা হল, তাদের এই গৃহীত মতাদর্শ এমন নৈতিক বিধিব্যবস্থার পক্ষপাতিত্ব করে যা সেই দেশের জনগনের পালিত রীতিনীতি ও আচারের পরিপন্থী এবং একইসাথে তাদের উপাস্য দেবতাদের প্রতিও অপমানকর।
  • (সী ট্যু সী, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠ ৬১): বহু সংখ্যক আমেরিকাবাসী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানুষদের বিধর্মী হিসেবে উল্লেখ করার সহজাত অভ্যাস রয়েছে যা অত্যন্ত আপত্তিকর। তাদের দৃষ্টিতে মুসলিম এবং হিন্দু উভয়ই ধর্মাবলম্বী মানুষেরাই বিধর্মী হিসাবে বিবেচিত হয়।
  • তাদের(ভারতীয়দের) জীবনের গল্প একইসাথে শ্বেতাঙ্গ এবং কৃষ্ণাঙ্গ, উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষকেই গভীরভাবে প্রভাবিত করে। অথচ আমরা সেভাবে তাদের সম্পর্কে কিছুই জানিনা। তাই আমাদের এমন একজন ইউরেশিয় লেখকের প্রয়োজন যিনি ইউরেশিয় জনগনের গল্পকে এমনভাবে পাঠকের সম্মুখে উপস্থাপিত করবেন, যাতে সেই গল্প পড়ে বহির্বিশ্বের জনগন ভারতীয় সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর প্রতি আগ্রহ বোধ করতে শুরু করবেন এবং তাদের মধ্যে লুক্কায়িত সম্ভাবনা পরিলক্ষিত করতে পারবেন।
    • আইবিএন, ডব্লিউ (২০০৯) -এ উদ্ধৃত। ডিফেন্ডিং ওয়েস্ট: এডওয়ার্ড সইদের প্রাচ্যবাদের একটি সমালোচনা। আমহার্স্ট, এনওয়াই: প্রমিথিউস বুকস।

কিপলিং সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]

তাঁর কবিতাগুলির সংখ্যা, একের পর এক অনুভূতির সীমাবদ্ধতা, হঠাৎ অপ্রত্যাশিত বাধা অতিক্রম করার জন্য দুর্দান্ত কৌশলগত সংস্কারের বাতাস রয়েছে, যেন কিপলিংয়ের কাছে অভিজ্ঞতা ধৈর্য ও প্রেমের সাথে চাষ করার বীজ নয়, বরং বিপজ্জনক অনুভূতির একটি অবিরাম স্রোত যা উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথেই আয়ত্তে আনতে হবে। ডব্লিউএইচ অডেন , ভূমিকা এবং পরবর্তী শব্দ , নিউ ইয়র্ক: র‍্যান্ডম হাউস, ১৯৭৩। শব্দ ব্যবহারের এক বিরাট প্রতিভা, মন এবং সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে পর্যবেক্ষণের এক আশ্চর্য কৌতূহল এবং শক্তি, বিনোদনকারীর মুখোশ, এবং তার বাইরেও দ্বিতীয় দৃষ্টির এক অদ্ভুত উপহার, অন্য কোথাও থেকে বার্তা প্রেরণ করার ক্ষমতা, এমন একটি উপহার যখন আমাদের সচেতন করা হয় তখন এতটাই বিরক্তিকর যে এরপর থেকে কখন এটি উপস্থিত থাকে না তা আমরা কখনই নিশ্চিত হতে পারি না : এই সবকিছুই কিপলিংকে একজন লেখককে সম্পূর্ণরূপে বোঝা অসম্ভব এবং অবমূল্যায়ন করা বেশ অসম্ভব করে তোলে। টিএস এলিয়ট , আ চয়েস অফ কিপলিংস ভার্স (১৯৪১), পৃ. ২২ আমি এমন অনেক কবির কথা ভাবতে পারি যারা দুর্দান্ত কবিতা লিখেছেন, খুব কম সংখ্যক কবিকেই আমি মহান পদ্য লেখক বলতে পারি। আর যদি আমি ভুল না করি, তাহলে এই শ্রেণীতে কিপলিংয়ের অবস্থান কেবল উচ্চই নয়, অনন্যও। টিএস এলিয়ট , "কিপলিং'স ভার্সের প্রশংসায়," হার্পার'স ম্যাগাজিন, জুন-নভেম্বর ১৯৪২, পৃ. ১৫৭। কিপলিং আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে সম্পূর্ণ প্রতিভাবান (সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে আলাদা) মানুষ বলে মনে হয়। হেনরি জেমস , তার ভাই উইলিয়াম জেমসকে লেখা চিঠি (৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৯২), কিপলিং: দ্য ক্রিটিক্যাল হেরিটেজ (১৯৭১), সম্পাদনা আরএল গ্রিন, পৃ. ৬৮-এ উদ্ধৃত। মিঃ রুডইয়ার্ড কিপলিং তার সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সর্বোপরি বিশিষ্ট। যদিও তার সাহিত্যিক যোগ্যতা সর্বোচ্চ যোগ্যতার অধিকারী, তবুও দুঃখের বিষয় যে তিনি যুদ্ধমুখী ধারণার প্রচারে সেগুলি উৎসর্গ করেছেন এবং বোয়ার যুদ্ধের সময় অত্যন্ত বর্বর জাতীয়তাবাদের মনোভাব প্রদর্শন করেছেন। জিন জৌরেস , ল'হিউম্যানিটে , ১৯০৭। "কিপলিং'স প্রাইজের উপর ইউরোপের রায়", দ্য লিটারেরি ডাইজেস্ট , ১১ জানুয়ারী, ১৯০৮, (পৃষ্ঠা ৫৮) -এ উদ্ধৃত। আমি বিশ্বাস করি যে ঊনবিংশ শতাব্দীর তিনজন লেখকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক প্রতিভা ছিল, তারা হলেন ডি'আনুনজিও , কিপলিং এবং টলস্টয় - এটা অদ্ভুত যে তিনজনেরই ধর্ম বা দেশপ্রেম সম্পর্কে আধা-ধর্মান্ধ ধারণা ছিল। জেমস জয়েস , রিচার্ড এলম্যান, জেমস জয়েসের নির্বাচিত চিঠিপত্র , ফ্যাবার এবং ফ্যাবার, ১৯৭৫ (পৃষ্ঠা ১৪২)। কিছু লেখক আছেন - কিপলিং একজন খুব ভালো উদাহরণ - তিনি কিছুটা বিব্রতকর কারণ তার রাজনীতি, আবার কিছুটা এই কারণেও যে তার সেরা বইগুলি শিশুদের জন্য। কিম একটি শিশুদের বই। এটি আছে এবং তা নয়। আমি এটি দশ বছর বয়সে প্রথম পড়েছি, এবং তখন থেকেই আমি এটি পড়েছি। কিন্তু কিপলিং আসলে একজন ঔপন্যাসিক নন, তাই না? তিনি একজন গল্পকার, এবং তিনি টলকিনের মতো ক্যাননে বেশি খাপ খায় না , বিভিন্ন কারণে। আমার মনে হয় আপনি এরকম অন্যান্য লেখক খুঁজে পেতে পারেন। অবশ্যই, কিপলিং-এর বিষয়গুলি প্রায়শই অদ্ভুত, সেগুলি সাহিত্যের সাধারণ বিষয় নয়, তিনি জাহাজকে মূর্ত করেন, তার গল্পগুলি ফ্যান্টাসি এবং বিজ্ঞান কল্পকাহিনী এবং সকল ধরণের জিনিসের অংশ। তিনি বাস্তববাদী ক্যাননের মধ্যে লেখেননি। তার কাজগুলি অদ্ভুত ছিল। এমন লেখক আছেন যাদের আমরা "প্যারালিটারারি" লেখক বলে মনে করি না, কিন্তু যারা অজ্ঞতা, অবহেলা বা তাদের সমালোচনা করার আমাদের অক্ষমতার কারণে প্রায় একই রকম কষ্ট পেয়েছেন, যা আমার মনে হয় প্রধান সমস্যাগুলির মধ্যে একটি... ১৯৯৪ সালে উরসুলা লে গিনের সাথে কথোপকথনে সাক্ষাৎকার ভ্লাদিমির নাবোকভ - আমার কাছে, তাঁর গদ্যশৈলী ভালো নয়... কিন্তু তারপর কিপলিং-এর মতো একজন লেখকের কথা মনে আসে, যার লেখার ধরণ খুবই অদ্ভুত, অদ্ভুত, এবং বিশেষ করে তাঁর সেরা লেখাগুলিতে, কিছু শিশুদের বইতে, ইচ্ছাকৃতভাবে বেশ চমৎকার, ছন্দময় এবং সম্পূর্ণ মৌখিক। আমি এটা ভালোবাসি। ১৯৮৮ সালে উরসুলা লে গিনের সাথে কথোপকথনে সাক্ষাৎকার প্রাণীদের নিয়ে লেখা লেখকের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সর্বদা ব্যতিক্রমী স্পষ্টতার সাথে ফুটে ওঠে। কিপলিংয়ের গল্পগুলি সাম্রাজ্যবাদী, তার মঙ্গুস শ্বেতাঙ্গদের, এটি ইংরেজদের দাস। জীবনের প্রতি তার নিজস্ব দায়িত্ববোধের একটি অত্যন্ত বিকশিত বোধ, সতর্ক এবং জাগ্রত বিবেক সহ, কেবলমাত্র একজন ইউরোপীয়ই পারগৌডের স্টাইলে প্রাণীর গল্প লিখতে পারে। ওয়েসেল, কাক এবং ম্যাগপাই তার নায়ক। তারা কারও সেবা করে না, বরং তারা আমাদের অস্তিত্বের মৌলিক অনুভূতি এবং আনন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ওসিপ ম্যান্ডেলস্টাম লুইস পারগৌড: স্টোরিজ ফ্রম দ্য লাইভস অফ অ্যানিমালস ইংরেজিতে অনূদিত " দ্য কমপ্লিট ক্রিটিক্যাল প্রসেস" (১৯৯৭) মিঃ কিপলিং-এর পৃথিবী শপথ এবং সাবারের শব্দে ভরা একটি ব্যারাক; কিন্তু তার ভাষা প্রচুর, সমৃদ্ধ, সুরেলা। কেউ বলতে প্রলুব্ধ হয় যে এলিজাবেথদের পর থেকে কেউ এত প্রচুর পরিমাণে লেখেননি। অন্যরা আরও সুন্দর লিখেছেন, কিন্তু এই মুহূর্তে আমার মনে আছে এমন কেউ এত প্রচুর পরিমাণে লেখেননি। শেলি এবং ওয়ার্ডসওয়ার্থ , ল্যান্ডর এবং প্যাটার , ভাষার কিছু অংশ দিয়ে লিখেছেন; কিন্তু হুইটম্যান ছাড়া আর কে, এলিজাবেথদের পর থেকে পুরো ভাষা দিয়ে লিখেছেন? জর্জ মুর , অ্যাভোয়ালস , লন্ডন, হাইনম্যান, ১৯১৯। কিপলিং একজন জিংগো সাম্রাজ্যবাদী, তিনি নৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং নান্দনিকভাবে ঘৃণ্য। প্রথমে এটি স্বীকার করে নেওয়া ভাল, এবং তারপরে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা উচিত যে কেন তিনি বেঁচে আছেন যখন তার প্রতি উপহাসকারী পরিশীলিত লোকেরা এত খারাপভাবে ক্লান্ত বলে মনে হচ্ছে। জর্জ অরওয়েল , "রুডইয়ার্ড কিপলিং," হরাইজন, ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২। এই শতাব্দীর প্রথম দিকের বোকা বোকা লোকেরা, অবশেষে এমন একজনকে আবিষ্কার করে যাকে কবি বলা যেতে পারে এবং যিনি তাদের পক্ষে ছিলেন, কিপলিংকে এক আসনে বসিয়ে দিলেন, এবং তার আরও কিছু আবেগপ্রবণ কবিতা, যেমন 'যদি', প্রায় বাইবেলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সন্দেহ আছে যে, তারা কি কখনও তাকে বাইবেলের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন, এমনকি তিনি যা বলেছেন তার বেশিরভাগই তারা সমর্থন করতে পারেননি। যারা ইংল্যান্ডের ভেতর থেকে সমালোচনা করেছেন তাদের মধ্যে খুব কম লোকই এই দেশপ্রেমিক সম্পর্কে তার চেয়ে তিক্ত কথা বলেছেন। জর্জ অরওয়েল , "রুডইয়ার্ড কিপলিং," হরাইজন, ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২। কিপলিং আমাদের সময়ের একমাত্র ইংরেজ লেখক যিনি ভাষায় বাক্যাংশ যুক্ত করেছেন। জর্জ অরওয়েল , "রুডইয়ার্ড কিপলিং," হরাইজন, ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২। ডিজরেইলির পর কিপলিং অন্য যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি কিছু করেছেন বিশ্বকে দেখানোর জন্য যে ব্রিটিশ জাতি মূলে সুস্থ এবং মরিচা বা শুকনো পচা তাদের কাছে অপরিচিত। সিসিল রোডস , জেজি ম্যাকডোনাল্ড, রোডস: আ লাইফ -এ উদ্ধৃত । জিওফ্রে ব্লেস, ১৯৩৪ আমার কাছে এখনও তার সমস্ত কবিতা এবং তার সমস্ত বইয়ের একটি সম্পূর্ণ সংকলন আছে, এবং এটি এমন একটি যা আমাদের ব্রিটিশদের কাছে স্বাধীনতার অর্থ কী তা সম্পর্কে প্রতিটি জিনিসকে চিত্রিত করে, যদিও এটি ইংরেজদের সম্পর্কে। এবং এটি সবই রুনিমিডের সময় থেকে যায় , কারণ এই দেশে স্বাধীনতার ইতিহাস হল ইতিহাস, যেমন ব্যারন রাজাকে বলেছিলেন, আপনার অনেক ক্ষমতা আছে, আমরা এটি আরও ব্যাপকভাবে বিতরণ করতে চাই। এবং ব্যারনরা স্কয়ার এবং সংসদ সদস্যদের কাছে, এবং তারপরে আমরা সম্পত্তি এবং অধিকারগুলি আরও ব্যাপকভাবে বিতরণ করেছি। এবং এটিই ইতিহাস যে এটি কীভাবে রুনিমিডে শুরু হয়েছিল, এবং এটিকে বলা হয় দ্য রিডস অফ রুনিমিড । মার্গারেট থ্যাচার , দ্য ভয়েস অফ প্রোগ্রেসের জন্য রেডিও সাক্ষাৎকার (অন্ধদের জন্য সংবাদপত্র) (১৩ জুলাই ১৯৮৭) সে [কিপলিং] আমার কাছে অপরিচিত, কিন্তু সে একজন অসাধারণ মানুষ - আর আমি অন্যজন। আমাদের মধ্যে, আমরা সমস্ত জ্ঞানকে আচ্ছাদিত করি; তিনি যা জানা সম্ভব তার সবকিছুই জানেন এবং আমি বাকিটা জানি। মার্ক টোয়েন , মার্ক টোয়েন, একটি জীবনী: স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লেমেন্সের ব্যক্তিগত ও সাহিত্যিক জীবন , অ্যালবার্ট বিগেলো পেইন দ্বারা সম্পাদিত, হার্পার, ১৯৩৫। ...আমি মিঃ রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর মস্তিষ্কের ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে চাই, যার সাথে আমি কখনও দেখা করিনি। তিনি আমার সমসাময়িকদের মধ্যে সবচেয়ে বোধগম্য, প্রকৃত বিশালতা এবং জাঁকজমকের পর্যায়গুলি সহ এবং সেইসব নোংরা ছোট স্যাডিস্ট, স্টালকি অ্যান্ড কোং- এর মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ... ব্রিটিশ মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারে তাঁর এক বিশাল জনপ্রিয়তা রয়েছে; তিনি ক্যাডেট কর্পস মাস্টার্সের পৃষ্ঠপোষক, জাল পুরুষালি অনুভূতির এক অক্ষয় উৎস এবং গত এক শতাব্দীর তৃতীয়াংশে ব্রিটিশ রাজনৈতিক কল্পনার ক্ষয়প্রাপ্তির অন্যতম শক্তিশালী শক্তি। এইচজি ওয়েলস , এক্সপেরিমেন্ট ইন অটোবায়োগ্রাফি , অধ্যায় ৯। ভিক্টর গোলানজ, ১৯৩৪। কিপলিং... এক অসংগঠিত জগতে ধর্মীয় নিয়তির অনুভূতি ফিরিয়ে এনেছিলেন। বাস্তবে, তিনি তার যুগের জন্য এক বিরাট সেবা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন , এবং এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে তার পরবর্তী বছরগুলিতে, যখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সেই যুগ চিরতরে চলে গেছে, তখন তিনি পরিবর্তনটি স্বীকার করতে অস্বীকার করেছিলেন এবং অসন্তুষ্ট ভান করেছিলেন যে বুদ্ধিজীবী এবং নিম্ন শ্রেণীর পক্ষ থেকে অসদাচরণের বিস্ফোরণ ছাড়া আর কিছুই ঘটছে না। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে তিনি তা করতে চান, যদিও মানব প্রকৃতি যতই দুর্বল হোক না কেন; তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে মাস্টারপিসের লেখক কিম নিজেকে তা করতে সক্ষম হয়েছেন। রেবেকা ওয়েস্ট , "রুডইয়ার্ড কিপলিং", দ্য নিউ স্টেটসম্যান , জানুয়ারী ১৯৩৬। রেবেকা ওয়েস্ট: আ সেলিব্রেশন , পেঙ্গুইন বুকস, ১৯৭৮-এ পুনর্মুদ্রিত। তার "Plain Tales from the Hills" বইটির পাতা উল্টাতে গেলে মনে হয় যেন কেউ খেজুর গাছের নিচে বসে অশ্লীলতার অসাধারণ ঝলকের মধ্য দিয়ে জীবনযাপনের গল্প পড়ছে। বাজারের উজ্জ্বল রঙ চোখ ধাঁধানো করে দেয়। অস্কার ওয়াইল্ড , ' শিল্পী হিসেবে সমালোচক ', ইনটেনশনস (১৮৯৪), পৃ. ২০৩ সাহিত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে মিঃ কিপলিং একজন প্রতিভা যিনি তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করেন। জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে, তিনি এমন একজন প্রতিবেদক যিনি অশ্লীলতাকে অন্য কারও চেয়ে ভালোভাবে জানেন। ডিকেন্স এর পোশাক এবং এর কৌতুক সম্পর্কে জানতেন। মিঃ কিপলিং এর সারমর্ম এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানেন। তিনি আমাদের দ্বিতীয় স্তরের প্রথম কর্তৃপক্ষ, এবং কীহোল দিয়ে অসাধারণ জিনিস দেখেছেন, এবং তার পটভূমি হল শিল্পের আসল কাজ। অস্কার ওয়াইল্ড , ' দ্য ক্রিটিক অ্যাজ আর্টিস্ট ', ইনটেনশনস (১৮৯৪), পৃষ্ঠা ২০৩-২০৪