বিষয়বস্তুতে চলুন

ব্রায়ান গ্রিন

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
কিছু মানুষ মনে করেন যে বিগ ব্যাং হলো মহাবিশ্ব কীভাবে শুরু হয়েছিল তার একটি ব্যাখ্যা, কিন্তু আসলে তা নয়। বিগ ব্যাং হলো মহাবিশ্ব যা কিছুর মাধ্যমে অস্তিত্বে আসুক না কেন, তার ঠিক পরের একটি মুহূর্ত থেকে মহাবিশ্ব কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে তার একটি তত্ত্ব।

ব্রায়ান গ্রিন (জন্ম ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩) একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী এবং স্ট্রিং তাত্ত্বিক। তিনি সাধারণ পাঠকদের জন্য লেখা তাঁর বই দ্য এলিগেন্ট ইউনিভার্স, ইকারাস অ্যাট দ্য এজ অফ টাইম এবং দ্য ফ্যাব্রিক অফ দ্য কসমস এবং এর সাথে সম্পর্কিত পিবিএস টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন।


উক্তি

[সম্পাদনা]
  • পদার্থবিজ্ঞানীরা ভৌত সূত্রগুলোর দুটি বৈশিষ্ট্যকে যে এগুলো আপনি কখন বা কোথায় ব্যবহার করছেন তার ওপর নির্ভর করে না প্রকৃতির প্রতিসাম্য হিসেবে বর্ণনা করেন। এই ব্যবহারের মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞানীরা বোঝাতে চান যে প্রকৃতি সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত এবং স্থানের প্রতিটি অবস্থানকে একইভাবে বা প্রতিসাম্যতার সাথে বিবেচনা করে এটি নিশ্চিত করার মাধ্যমে যে সর্বত্র একই মৌলিক সূত্রগুলো কার্যকর রয়েছে। শিল্প ও সঙ্গীতের ওপর এগুলো যেভাবে প্রভাব ফেলে অনেকটা সেভাবেই এই ধরনের প্রতিসাম্যগুলো গভীরভাবে তৃপ্তিদায়ক; এগুলো প্রকৃতির কার্যপদ্ধতির মধ্যে একটি শৃঙ্খলা এবং সংগতিকে তুলে ধরে। একগুচ্ছ সরল ও সার্বজনীন সূত্র থেকে উদ্ভূত সমৃদ্ধ, জটিল এবং বৈচিত্র্যময় এই মহাজাগতিক ঘটনার চমৎকারিত্বই হলো সেই বিষয়ের অন্তত একটি অংশ, যা পদার্থবিজ্ঞানীরা "সুন্দর" শব্দটি ব্যবহার করার সময় বোঝাতে চান।
    • দ্য এলিগেন্ট ইউনিভার্স (১৯৯৯) অধ্যায় ৭: সুপারস্ট্রিং এর "সুপার"।
  • পদার্থবিজ্ঞানীরা অনেকটা আধুনিক সুরকারদের মতো, যারা সমাধানের সন্ধানে প্রচলিত নিয়ম ভাঙতে এবং গ্রহণযোগ্যতার সীমা স্পর্শ করতে ইচ্ছুক। গণিতবিদরা অনেকটা শাস্ত্রীয় সুরকারদের মতো, যারা সাধারণত অনেক বেশি কঠোর কাঠামোর মধ্যে কাজ করেন এবং আগের সমস্ত ধাপ যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী ধাপে যেতে আগ্রহী হন না। প্রতিটি পদ্ধতির যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনি রয়েছে সীমাবদ্ধতা; প্রতিটি পদ্ধতিই সৃজনশীল আবিষ্কারের জন্য একটি অনন্য পথ তৈরি করে দেয়। আধুনিক এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মতোই, এটি এমন নয় যে একটি পদ্ধতি সঠিক আর অন্যটি ভুল একজন কোন পদ্ধতিটি বেছে নেবেন তা মূলত তাঁর রুচি এবং প্রশিক্ষণের বিষয়।
    • দ্য এলিগেন্ট ইউনিভার্স : সুপারস্ট্রিংস, হিডেন ডাইমেনশনস, অ্যান্ড দ্য কোয়েস্ট ফর দ্য আলটিমেট থিওরি (১৯৯৯), পৃষ্ঠা ২৭১
  • আসল প্রশ্ন হলো আপনার সমস্ত ভাবনা এবং বিশ্লেষণ আপনাকে এটি বিশ্বাস করাতে পারবে কি না যে জীবন বেঁচে থাকার যোগ্য। দিনশেষে সবকিছু এখানেই এসে থামে।
    • দ্য ফ্যাব্রিক অফ দ্য কসমস : স্পেস, টাইম, অ্যান্ড দ্য টেক্সচার অফ রিয়েলিটি (২০০৪), পৃষ্ঠা ৩
  • সুপারস্ট্রিং তত্ত্বের যাত্রা শুরু হয় একটি পুরোনো প্রশ্নের নতুন উত্তর প্রস্তাব করার মাধ্যমে: পদার্থের ক্ষুদ্রতম, অবিভাজ্য উপাদানগুলো কী? বহু দশক ধরে প্রচলিত উত্তরটি ছিল এই যে, পদার্থ কণিকা দিয়ে গঠিত যেগুলোকে এমন বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা যায় যা অবিভাজ্য এবং যাদের কোনো আকার বা অভ্যন্তরীণ কাঠামো নেই। প্রচলিত তত্ত্ব দাবি করে, এবং পরীক্ষা নিরীক্ষাও এটি নিশ্চিত করে যে, এই কণাগুলো বিভিন্নভাবে একত্রিত হয়ে প্রোটন, নিউট্রন এবং বিচিত্র সব অণু পরমাণু তৈরি করে, সুপারস্ট্রিং তত্ত্ব ভিন্ন এক গল্প বলে। এটি দাবি করে যে এই কণাগুলো আসলে কোনো বিন্দু নয়। বরং প্রতিটি কণা শক্তির একটি ক্ষুদ্র তন্তু দিয়ে গঠিত, যা একটি পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের চেয়েও প্রায় কয়েকশ বিলিয়ন বিলিয়ন গুণ ছোট এবং যার আকৃতি একটি সুতোর মতো। আর ঠিক যেভাবে একটি বেহালার তার বিভিন্ন বিন্যাসে কম্পিত হতে পারে, যার প্রতিটি থেকে আলাদা আলাদা সুর তৈরি হয়, সুপারস্ট্রিং তত্ত্বের তন্তুগুলোও একইভাবে বিভিন্ন বিন্যাসে কম্পিত হতে পারে। তবে এই কম্পনগুলো কণার ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য তৈরি করে। সুপারস্ট্রিং তত্ত্বে সমস্ত প্রজাতির কণা একীভূত হয়েছে, কারণ প্রতিটি কণাই মূলত একই মৌলিক সত্তার ভিন্ন ভিন্ন কম্পন বিন্যাস থেকে উদ্ভূত হয়।
    • দ্য ফ্যাব্রিক অফ দ্য কসমস : স্পেস, টাইম, অ্যান্ড দ্য টেক্সচার অফ রিয়েলিটি (২০০৪), পৃষ্ঠা ১৭
  • একটি বড় প্রশ্ন হলো মহাবিশ্ব কীভাবে শুরু হয়েছিল। আর আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না। কিছু মানুষ মনে করেন যে বিগ ব্যাং হলো মহাবিশ্ব কীভাবে শুরু হয়েছিল তার একটি ব্যাখ্যা, কিন্তু আসলে তা নয়। বিগ ব্যাং হলো মহাবিশ্ব যা কিছুর মাধ্যমেই অস্তিত্বে আসুক না কেন, তার ঠিক পরের একটি মুহূর্ত থেকে মহাবিশ্ব কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে তার একটি তত্ত্ব। আর আমরা যে একদম শুরুর সময় বা 'টাইম জিরোতে' ফিরে গিয়ে এটি কীভাবে শুরু হয়েছিল তা খুঁজে বের করতে পারিনি, তার কারণ হলো মহাকর্ষ নিয়ে আইনিস্টাইনের ধারণা এবং কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব। সুতরাং, স্ট্রিং তত্ত্ব হয়তো সক্ষম হতে পারে এটি এখনও পারেনি; আমরা আজ এটি নিয়ে প্রবলভাবে কাজ করছি এটি হয়তো মহাবিশ্ব কীভাবে শুরু হয়েছিল সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। আর আমি জানি না এটি আপনার দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, তবে আমার কাছে, আমরা যদি সত্যিই বুঝতে পারি যে মহাবিশ্ব প্রকৃতপক্ষে কীভাবে শুরু হয়েছিল, তবে আমার মনে হয় সেটি মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে আমাদের এক গভীর স্তরে সচেতন করে তুলবে।
    • দ্য লেট শোতে (২৩ মার্চ ২০০৫) ডেভিড লেটারম্যানের করা প্রশ্ন "মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমরা এখন এমন কী জানি যা আগে জানতাম না?" এর উত্তরে।

গ্রিন সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আমি ব্রায়ান গ্রিন নামে এক ব্যক্তিকে চিনতাম। আমি তাকে আইবিএম এ একটি গ্রীষ্মকালীন চাকরি পেতে সাহায্য করেছিলাম কারণ লোকজন আমাকে বলেছিল যে সে অত্যন্ত মেধাবী, এবং সে আসলেই তাই ছিল। যখন আমি শুনলাম যে সে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অধ্যাপনার পদ পেয়েছে, তখন বিষয়টি আমার কাছে এইভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল এটি ছিল পদার্থবিজ্ঞান এবং গণিত বিভাগের একটি যৌথ অধ্যাপনা, কারণ গণিত বিভাগ মনে করত সে যা করছে তা হলো পদার্থবিজ্ঞান, আর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ মনে করত যে সে যা করছে তা হলো গণিত।
  • দ্য ফ্যাব্রিক অফ দ্য কসমস বইটি দ্য এলিগেন্ট ইউনিভার্স এর চেয়ে বড় একটি ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করে এবং একে আরও বিস্তৃতভাবে চিত্রায়িত করে। এই দুটি বইয়ের মধ্যে খুব বেশি সাদৃশ্য নেই। একটি পড়ার জন্য অন্যটি আগে পড়ে নেওয়া আবশ্যক নয়। নতুন বইটি সহজ এবং এটিই আগে পড়া শ্রেয়। পাঠকরা যারা দ্য এলিগেন্ট ইউনিভার্স পড়ার সময় মাঝপথে আটকে গেছেন, তারা নতুন বইটি আরও সহজে বুঝতে পারবেন।
  • গ্রিন ধরে নিয়েছেন, এবং এখানে অধিকাংশ পদার্থবিজ্ঞানীই তাঁর সাথে একমত যে, পদার্থবিজ্ঞানকে বড় এবং ছোট বস্তুর জন্য আলাদা তত্ত্বে ভাগ করা গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রিন বিশ্বাস করেন যে কোয়ান্টাম মহাকর্ষের এমন একটি তত্ত্ব খুঁজে পাওয়া জরুরি যা বড় এবং ছোট উভয় বস্তুর ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। একজন রক্ষণশীল হিসেবে, আমি এই বিষয়ে একমত নই যে পদার্থবিজ্ঞানকে বড় এবং ছোটর জন্য আলাদা তত্ত্বে ভাগ করা গ্রহণযোগ্য নয়। কোয়ান্টাম মহাকর্ষের যেকোনো তত্ত্বের সারকথা হলো সেখানে গ্র্যাভিটন নামে একটি কণার অস্তিত্ব রয়েছে। আমি গ্র্যাভিটন শনাক্ত করার বিভিন্ন সম্ভাব্য উপায় খতিয়ে দেখেছি এবং এমন একটিও পাইনি যা কার্যকর। মহাকর্ষীয় মিথস্ক্রিয়া অত্যন্ত দুর্বল হওয়ার কারণে, গ্র্যাভিটনের যেকোনো সম্ভাব্য শনাক্তকারী যন্ত্রকে অত্যন্ত ভারী হতে হবে। যদি সেই শনাক্তকারীর ঘনত্ব সাধারণ হয়, তবে এর বেশিরভাগ অংশই গ্র্যাভিটনের উৎস থেকে কার্যকর হওয়ার জন্য অনেক দূরে থাকবে, আর যদি এটি উৎসের চারপাশে উচ্চ ঘনত্বের জন্য সংকুচিত করা হয় তবে এটি একটি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হবে। মনে হয় যেন শনাক্তকারীটিকে কার্যকর হওয়া থেকে রুখতে প্রকৃতির একটি গোপন ষড়যন্ত্র কাজ করছে।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]