ব্লেজ পাসকাল
অবয়ব
ব্লেইজ পাস্কাল (১৯ জুন ১৬২৩ – ১৯ আগস্ট ১৬৬২) ছিলেন একজন ফরাসি গণিতবিদ, যুক্তিবিদ, পদার্থবিদ এবং ধর্মতত্ত্ববিদ।
- দ্রষ্টব্য: পঁসে থেকে নেওয়া সব উক্তি ওই পাতায় পাওয়া যাবে।
উক্তি
[সম্পাদনা]


- বার্ধক্য যেমন শৈশব থেকে জীবনের সবচেয়ে দূরবর্তী সময়, তেমনি এই বিশ্বজনীন মানুষের ক্ষেত্রেও কি তার জন্মের নিকটবর্তী সময়ের চেয়ে দূরবর্তী সময়ে বার্ধক্য খোঁজা উচিত নয়?
- প্রিফেস টু দ্য ট্রিটিজ অন ভ্যাকুয়াম (১৬৫১)
- আমি এটিকে দীর্ঘতর করেছি কারণ এটি ছোট করার জন্য আমার সময় ছিল না.
- আমি আরও ছোট চিঠি লিখতাম, কিন্তু আমার হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল না।
- প্রোভিনশিয়াল লেটার্স: ১৬তম চিঠি (৪ ডিসেম্বর ১৬৫৬)
- আক্ষরিক অর্থ: আমি এই চিঠিটি দীর্ঘ করেছি কারণ এটি ছোট করার মতো অবসর আমার ছিল না।
- এ ধরনের উক্তি মার্ক টোয়েন, টি. এস. এলিয়ট, সিসেরোসহ অন্যদের নামেও প্রচলিত। তবে ‘কোট ইনভেস্টিগেটরের’ নিবন্ধ অনুযায়ী পাস্কালের এই উক্তিটিই সম্ভবত মূল উৎস।
- আমি আরও ছোট চিঠি লিখতাম, কিন্তু আমার হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল না।
- মানুষ সাধারণত প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, বরং যা তাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয় তার ভিত্তিতেই কোনো কিছু বিশ্বাস করে।
- দ্য আর্ট অব পারসুয়েশন (১৬৫৮ সালে লেখা; মরণোত্তর প্রকাশিত)।
- মুহাম্মদ তার শত্রুদের হত্যার মাধ্যমে একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন; অন্যদিকে যিশু খ্রিস্ট তার অনুসারীদের প্রাণ উৎসর্গ করার নির্দেশ দিয়ে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন।
- থটস অন রিলিজিয়ন অ্যান্ড ফিলোসফি (ডব্লিউ. কলিন্স, ১৮৩৮), অধ্যায় ১৬, পৃষ্ঠা ২০২।
- আগুন। ইব্রাহিমের ঈশ্বর, ইসহাকের ঈশ্বর, ইয়াকুবের ঈশ্বর। দার্শনিক বা পণ্ডিতদের ঈশ্বর নন। নিশ্চয়তা। নিশ্চয়তা। অনুভূতি। আনন্দ। শান্তি।
- পাস্কালের মৃত্যুর পর তার কোটের আস্তরে সেলাই করা একটি চর্মকাগজে এই নোটটি পাওয়া যায়।
- যখন আমি আমার ক্ষণস্থায়ী জীবনের কথা ভাবি যা আগের এবং পরের অনন্তকালের মধ্যে বিলীন, তখন আমার ক্ষুদ্র অস্তিত্ব আমাকে আতঙ্কিত করে। আমি অনন্ত বিশালতার মাঝে এক নগণ্য স্থান জুড়ে আছি যার সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না এবং যা আমার সম্পর্কে কিছুই জানে না। আমি অবাক হই যে কেন আমি অন্য কোথাও না হয়ে এখানে আছি। এখন না হয়ে কেন তখন জন্মাইনি তারও কোনো কারণ নেই। কে আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন? কার নির্দেশে এই স্থান ও সময় আমার জন্য নির্ধারিত হয়েছে?
- "মানুষের সীমাবদ্ধতা", দ্য থটস অব ব্লেইজ পাস্কাল (১৮৮৫)।
- এই অনন্ত মহাশূন্যের চিরন্তন নিস্তব্ধতা আমাকে আতঙ্কিত করে।
ডিসকোর্সেস অন দ্য কন্ডিশন অব দ্য গ্রেট
[সম্পাদনা]- আপনার প্রকৃত অবস্থা বুঝতে এই উদাহরণটি কল্পনা করুন। এক ব্যক্তি ঝড়ের কবলে পড়ে এক অজানা দ্বীপে পৌঁছান। দ্বীপবাসীরা তাদের হারিয়ে যাওয়া রাজাকে খুঁজছিল। ওই ব্যক্তির চেহারা ও গড়ন রাজার মতো হওয়ায় সবাই তাকে রাজা হিসেবে মেনে নেয়।
- তার মনে দুটি ভাবনা কাজ করছিল। একটি হলো রাজার মতো কাজ করা এবং অন্যটি হলো তার আসল অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা। সে জানত যে কেবল দুর্ঘটনাবশত সে এই অবস্থায় পৌঁছেছে।
- ভাববেন না যে আপনি যে সম্পদের মালিক হয়েছেন তা ওই ব্যক্তির রাজা হওয়ার চেয়ে কম আকস্মিক কিছু।
- আইনপ্রণেতারা যদি নিয়ম করতেন যে এই সম্পদ মৃত্যুর পর রাষ্ট্রের কাছে ফিরে যাবে তবে আপনার অভিযোগ করার কোনো উপায় থাকত না।
- প্রাকৃতিক অধিকার নয় বরং মানবিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই আপনি আপনার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
- আপনার এই অধিকার কোনো ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা গুণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। আপনার আত্মা বা শরীর একজন মাঝির বা একজন সামন্ত প্রভুর হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কোনো পার্থক্য নেই। কোনো প্রাকৃতিক বন্ধনই এগুলোকে নির্দিষ্ট একটি অবস্থার সাথে আটকে রাখে না।
- সামাজিকভাবে পদমর্যাদা অনুযায়ী চললেও মনের ভেতরে আপনার স্বীকার করা উচিত যে আপনি জন্মগতভাবে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নন।
- জনসাধারণের ভাবনা যদি আপনাকে সাধারণ মানুষের উপরে তুলে ধরে, তবে আপনার ভেতরের ভাবনাটি যেন আপনাকে নম্র রাখে এবং সবার সাথে সমান অবস্থানে ধরে রাখে। এটিই আপনার স্বাভাবিক অবস্থা।
- নিজেকে অন্যের চেয়ে উচ্চতর ভেবে ভুল করবেন না।
- জনগণের ভুলে রাজা হওয়া ব্যক্তি যদি নিজের স্বাভাবিক অবস্থা ভুলে নিজেকে যোগ্য ভাবতে শুরু করেন। তবে আপনি তার নির্বুদ্ধিতা ও মূর্খতা দেখে অবাক হবেন। কিন্তু নিজেদের স্বাভাবিক অবস্থা ভুলে থাকা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কি একই কথা খাটে না?
- উচ্চবিত্তদের সব বাড়াবাড়ি, সহিংসতা এবং অহংকার আসে নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে। যারা মনেপ্রাণে নিজেদের সবার সমান মনে করে, তাদের পক্ষে শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করা কঠিন। শ্রেষ্ঠত্বের এই ভ্রম বজায় রাখতে হলে একজনকে নিজের আসল পরিচয় ভুলতে হয়।
- আপনি যদি আমার কাছে শ্রদ্ধা আশা করেন, তবে আমাকে আপনার এমন গুণ দেখান যা শ্রদ্ধার যোগ্য। আপনি তা দেখাতে পারলে আমি আপনাকে শ্রদ্ধা করব এবং তা ন্যায়সংগত হবে। কিন্তু আপনি তা না করলে আমার কাছে শ্রদ্ধা দাবি করা আপনার অন্যায় হবে। আপনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাজপুত্র হলেও আপনি তাতে সফল হবেন না।
- আপনার মতে একজন বড় অভিজাত হওয়ার মানে কী? এর অর্থ হলো মানুষের কাঙ্ক্ষিত অনেক কিছুর মালিক হওয়া এবং অনেকের চাহিদা পূরণ করতে পারা। এই অভাব ও চাহিাই মানুষকে আপনার দিকে টানে এবং আপনার বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করে। এগুলো না থাকলে তারা আপনার দিকে ফিরেও তাকাত না।
- ঈশ্বর ভালোবাসায় পূর্ণ মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত যারা তার কাছে ভালোবাসা চায়। তাই তিনি মূলত ভালোবাসার রাজা।
- একইভাবে আপনিও একদল আগ্রহী মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত। তারা আপনার কাছে তাদের চাহিদা মেটানোর সুযোগ চায়। তাই আপনি মূলত আকাঙ্ক্ষা বা চাহিদার রাজা। মানুষ যা চায় তার মালিকানাই আপনার ক্ষমতার উৎস।
- আপনার প্রাকৃতিক শক্তি বা ক্ষমতার কারণে মানুষ আপনার বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়নি। তাই শক্তি দিয়ে তাদের শাসন করবেন না বা তাদের সাথে রূঢ় আচরণ করবেন না। তাদের যুক্তিসঙ্গত চাহিদাগুলো পূরণ করুন। মানুষের উপকার করার মাধ্যমে আনন্দ খুঁজলে আপনি আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত রাজা হতে পারবেন।
- কিছু মানুষ লোভ, নৃশংসতা, সহিংসতা বা ব্যভিচারের মাধ্যমে কত অনর্থকভাবে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়! নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়া সবসময়ই চরম বোকামি। মানুষের উচিত আকাঙ্ক্ষা ও এর রাজত্বকে তুচ্ছ করে সেই ভালোবাসার রাজ্যের আকাঙ্ক্ষা করা, যেখানে সবাই ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই চায় না।
কনভারসেশন অন এপিকটেটাস অ্যান্ড মনটেইন
[সম্পাদনা]- আমি দেখেছি যে তারা এপিকটেটাস ও মনটেইন বিশ্বের দুটি বিখ্যাত মতবাদের শ্রেষ্ঠ রক্ষক এবং যুক্তিপূর্ণ। তাদের দেখানো পথ দুটি হলো, হয় ঈশ্বর আছেন এবং তিনিই পরম কল্যাণ। অথবা তিনি অনিশ্চিত এবং তখন প্রকৃত কল্যাণও অনিশ্চিত।
- আমি যেমন এই গবেষণায় দেখানোর চেষ্টা করেছি, প্রকৃতিতে তার প্রতিটি কাজের মাধ্যমে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণের চেষ্টার চেয়ে মানুষের মনের সেই চেষ্টাকে বিবেচনা করা অনেক বেশি ন্যায়সংগত।
- এই দুই মতবাদের ভুলের মূল কারণ হলো তারা মানুষের বর্তমান অবস্থা যে সৃষ্টির সময়ের চেয়ে ভিন্ন, তা জানতেন না। এক পক্ষ মানুষের আদি মহত্ত্ব দেখে তার বর্তমান কলুষতা ভুলে প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে অহংকারের জন্ম দেয়। অন্য পক্ষ বর্তমান দুর্দশা দেখে আদি মর্যাদা ভুলে হতাশায় ডুবে যায়।
- মানুষের এই দুই অবস্থা। মহত্ত্ব ও দুর্বলতা। একসাথে না জানলে মানুষ হয় অহংকারী নতুবা অলস হয়ে পড়ে। ঐশ্বরিক অনুগ্রহ পাওয়ার আগে সব মানুষই এই দুই দোষের শিকার হয়।
- একজন মানুষের কর্তব্য জানলেও তার অক্ষমতা সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ায় সে উদ্ধত হয়। অন্যজন অক্ষমতা জানলেও কর্তব্য সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ায় অলস হয়ে পড়ে। সুসমাচারের সত্য এই দুই বৈপরীত্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে। এটি সত্যকে গ্রহণ করে এবং মিথ্যাকে বর্জন করে এক স্বর্গীয় প্রজ্ঞা তৈরি করে।
- জগতের দার্শনিকরা একই বিষয়ের মধ্যে বৈপরীত্য খোঁজেন। অন্যদিকে বিশ্বাস আমাদের শেখায় বৈপরীত্যগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ওপর স্থাপন করতে। মানুষের সব দুর্বলতা তার প্রকৃতির অংশ এবং সব শক্তি ঐশ্বরিক অনুগ্রহের দান। এটিই সেই বিস্ময়কর ও নতুন মিলন যা কেবল ঈশ্বরই শেখাতে পারেন।
অন দ্য স্পিরিট অব জিওমেট্রি
[সম্পাদনা]- সরাসরি সত্যের মালিক হওয়ার বিশ্বাস মানুষের এক স্বাভাবিক মানসিক ব্যাধি।
- ১ম বিভাগ
দ্য আর্ট অব পারসুয়েশন
[সম্পাদনা]- মতবাদগুলো আত্মার দুটি প্রধান ক্ষমতার মাধ্যমে গৃহীত হয়: বুদ্ধি এবং ইচ্ছা।
- মানুষ প্রমাণের চেয়ে আকর্ষণের মাধ্যমে বিশ্বাস করতে বেশি পছন্দ করে। এটি একটি নীচ ও অপ্রাসঙ্গিক পথ, তাই সবাই একে অস্বীকার করে। প্রত্যেকেই দাবি করে যে সে যা জানে কেবল তা-ই বিশ্বাস ও ভালোবাসা করে।
- আমি এখানে ঐশ্বরিক সত্যের কথা বলছি না কারণ তা প্রকৃতির ঊর্ধ্বে। কেবল ঈশ্বরই আত্মায় সেই সত্য স্থাপন করতে পারেন। তিনি চেয়েছেন সেই সত্য যেন মন থেকে হৃদয়ে না এসে বরং হৃদয় থেকে মনে প্রবেশ করে। এটি মানুষের অহংকারী যুক্তিকে দমন করে এবং কলুষিত ইচ্ছাকে এটি পরিশোধিত করে।
- পার্থিব জিনিসের ক্ষেত্রে আমরা বলি যে কোনো কিছু ভালোবাসার আগে তা জানতে হয়। অন্যদিকে পবিত্র জিনিসের ক্ষেত্রে মহাত্মারা বলেন যে কোনো কিছু জানার আগে তাকে ভালোবাসতে হয়। কেবল ভালোবাসার মাধ্যমেই আমরা সত্যে প্রবেশ করতে পারি।
- তারা মানুষ ঐশ্বরিক নিয়মকে কলুষিত করেছে। কারণ মানুষ সাধারণত যা তাকে আনন্দ দেয় তা ছাড়া অন্য কিছু খুব কমই বিশ্বাস করে।
- ঈশ্বর মানুষের বুদ্ধিতে তখনই আলো দান করেন যখন তিনি মানুষের জেদি ইচ্ছাকে স্বর্গীয় নম্রতা দিয়ে জয় করেন।
- মন এবং হৃদয় হলো সত্য প্রবেশের দুটি পথ। তবে বুদ্ধির চেয়ে ইচ্ছার খামখেয়ালিপনায় অনেক বেশি সত্য (বা মিথ্যা) আত্মায় প্রবেশ করে।
- বেশ কিছু বিশেষ নীতি সত্যের মতোই জোরালোভাবে মানুষকে বিশ্বাসের দিকে টানে, যদিও সেগুলো আসলে মিথ্যা।
- কোনো বিষয় তাকে পরম আনন্দের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আত্মা এটি বুঝতে পারার সাথে সাথেই তা সানন্দে গ্রহণ করে।
- সত্য ও আনন্দের মধ্যে যখন দ্বন্দ্ব বাধে, তখন জয়-পরাজয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এটি বোঝার জন্য মানুষের অন্তরের গহীন খবর জানা প্রয়োজন যা মানুষ নিজেও সবসময় জানে না।
- কাউকে রাজি করাতে হলে ওই ব্যক্তির মন এবং হৃদয় সম্পর্কে জানা জরুরি। তার মূলনীতিগুলো কী এবং সে কী ভালোবাসে তা বুঝতে হবে।
- প্ররোচনা বা প্রবোধ দেওয়ার শিল্প যতটা না বোঝানোর, তার চেয়ে বেশি তুষ্ট করার। কারণ মানুষ যুক্তির চেয়ে খামখেয়ালিপনা দ্বারা বেশি পরিচালিত হয়!
- আনন্দের উৎসগুলো স্থির নয়। প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে এগুলো ভিন্ন এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তনশীল। একজন মানুষ ভিন্ন সময়ে নিজের চেয়েও অনেক বেশি আলাদা হয়ে যায়।
- এমন কোনো সত্য নেই যা নিয়ে আমরা সবসময় একমত থাকি। আবার আমাদের আনন্দের বিষয়গুলোও প্রতি ঘণ্টায় বদলে যায়। মানুষের খামখেয়ালিপনা অনুযায়ী কথা বলার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম আছে কি না আমি জানি না।
- প্রমাণ বা যুক্তির নিখুঁত পদ্ধতি তিনটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। স্পষ্ট সংজ্ঞার মাধ্যমে পদের ব্যাখ্যা দেওয়া, প্রমাণিত নীতি বা স্বতঃসিদ্ধ প্রস্তাব করা এবং প্রমাণের সময় পদের বদলে সবসময় তার সংজ্ঞা ব্যবহার করা।
- যদি ভিত্তি মজবুত না হয়, তবে অট্টালিকাও নিরাপদ হয় না।
- সংজ্ঞায়ন, স্বতঃসিদ্ধ সত্য এবং প্রমাণের নিখুঁত পদ্ধতির জন্য জ্যামিতিক প্রমাণের কিছু নিয়মই যথেষ্ট।
- সংজ্ঞায়নের নিয়ম: ১. কোনো সুপরিচিত বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করতে যাবেন না যা ব্যাখ্যা করার জন্য আরও স্পষ্ট শব্দ নেই। ২. অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক কোনো শব্দকে সংজ্ঞা ছাড়া রাখবেন না। ৩. সংজ্ঞায় কেবল পরিচিত বা আগে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এমন শব্দই ব্যবহার করবেন।
- স্বতঃসিদ্ধ সত্যের নিয়ম: ১. প্রয়োজনীয় কোনো নীতি বা বিষয় যত স্পষ্টই হোক না কেন, তা জিজ্ঞাসা করা থেকে বিরত থাকবেন না। ২. কেবল নিজের মধ্যে স্পষ্ট বিষয়গুলোই স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে দাবি করবেন।
- প্রমাণের নিয়ম: ১. খুব বেশি স্পষ্ট কোনো বিষয় প্রমাণ করতে যাবেন না যা প্রমাণ করার মতো সহজ কিছু আর নেই। ২. সব অস্পষ্ট প্রস্তাবনা প্রমাণ করুন এবং প্রমাণের ক্ষেত্রে কেবল খুব স্পষ্ট স্বতঃসিদ্ধ বা আগে প্রমাণিত প্রস্তাবনা ব্যবহার করুন। ৩. দ্ব্যর্থতা এড়াতে প্রমাণের সময় মানসিক ভাবে পদের জায়গায় তার সংজ্ঞা বসান।
- ওপরের আটটি নিয়ম যে কোনো মজবুত প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। এর মধ্যে পাঁচটি নিয়ম অপরিহার্য যা ছাড়া কোনো প্রমাণ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
- নিয়মের অভাব বা কঠিন অনুশীলনের কারণে এগুলো অনেকের কাছেই অপরিচিত।
- এই নিয়মগুলো খুব সাধারণ। এমন আপত্তির বিপরীতে আমার কথা হলো,জ্যামিতিবিদরা ছাড়া পুরো জাতির মধ্যে খুব কম মানুষই এই নিয়মগুলো জানে।
- যারা এই নিয়মগুলো আয়ত্ত করেছেন, তারা বুঝতে পারবেন যে সাধারণ যুক্তিবিদরা যা লিখেছেন তার সাথে এর পার্থক্য কতটা বিশাল।
- একই কথা যারা বলেন, তারা সবাই বিষয়টিকে একইভাবে ধারণ করেন না। একজন মানুষের সামর্থ্য কেবল তার একটি ভালো উক্তি শুনে বিচার করা উচিত নয়। আমাদের উচিত তার মনের গভীরে প্রবেশ করা। অনেক সময় দেখা যায় সে নিজেই তার ওই ভালো চিন্তাটি বিশ্বাস করে না এবং কোনো তুচ্ছ বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- 'বস্তু প্রাকৃতিকভাবেই চিন্তায় অক্ষম' এবং'আমি চিন্তা করি, তাই আমি আছি'। রেনে দেকার্ত এবং সেন্ট অগাস্টিনের কাছে কি এই নীতি দুটি আসলে একই ছিল? অগাস্টিন বারোশ বছর আগেই একই কথা বলেছিলেন। আমি বলছি না দেকার্ত এর রচয়িতা নন। তবে কেবল কোনো কথা বলা এবং সেই কথা থেকে চমৎকার সব সিদ্ধান্ত বের করে একটি পূর্ণাঙ্গ আধিভৌতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে।
- কোনো এক ব্যক্তি নিজের অজান্তেই একটি চমৎকার কথা বলতে পারেন। কিন্তু অন্য কেউ হয়তো সেই একই কথার মধ্যে অসামান্য সব সিদ্ধান্তের সমাহার খুঁজে পান। ফলস্বরূপ উক্তিটি আর আগের মতো থাকে না। কোনো উক্তি যেখান থেকে শেখা হয়েছে তার প্রতি ঋণ ঠিক ততটুকুই, যতটুকু একটি সুন্দর গাছ সেই ব্যক্তির প্রতি ঋণী যে অনিচ্ছাকৃত ভাবে উর্বর মাটিতে বীজ ফেলেছিল।
- যুক্তিবিদ্যা হয়তো জ্যামিতির নিয়মগুলো ধার করেছে কিন্তু সেগুলোর শক্তি বুঝতে পারেনি। এই বিজ্ঞানই যুক্তি পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি শেখায়।
- ভুল না করার পদ্ধতি সবাই খোঁজে। যুক্তিবিদরা পথ দেখানোর দাবি করেন কিন্তু কেবল জ্যামিতিবিদরাই তা অর্জন করতে পারেন। বিজ্ঞান এবং এর অনুসরণ ছাড়া আর কোনো প্রকৃত প্রমাণ নেই।
- ভালো জিনিস সবখানেই আছে, কেবল সেগুলো বেছে নেওয়া প্রয়োজন। এটি নিশ্চিত যে সেগুলো প্রাকৃতিক এবং সবার নাগালের মধ্যেই থাকে।
- শ্রেষ্ঠত্ব কোনো অসাধারণ বা কাল্পনিক জিনিসের মধ্যে নেই। একে পেতে হলে আমাদের অনেক সময় নিচু হতে হয়।
- শ্রেষ্ঠ বই সেগুলোই যা পড়ার পর পাঠকের মনে হয় তিনি নিজেও তা লিখতে পারতেন।
- প্রকৃতিই একমাত্র ভালো যা সবার কাছে পরিচিত এবং সাধারণ।
- আমি নিশ্চিত যে এই নিয়মগুলো সহজ, কৃত্রিমতাহীন এবং স্বাভাবিক।
- মনকে জোর করা উচিত নয়। কৃত্রিম আচরণ সলিড খাবারের বদলে মনকে কেবল অন্তঃসারশূন্য অহংকারে পূর্ণ করে।
- মানুষের একটি প্রধান ভুল হলো তারা মনে করে ভালো জিনিসগুলো দুর্লভ এবং উঁচু স্তরের। তারা এগুলোকে 'মহান, উচ্চ বা মহৎ' নাম দেয়। আমি এগুলোকে 'সাধারণ ও পরিচিত' বলতে পছন্দ করি। কারণ এই নামগুলোই বেশি মানানসই। আমি আড়ম্বরপূর্ণ শব্দ অপছন্দ করি।
পাস্কাল সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- প্রোভিনশিয়াল লেটার্স এবং ছোটখাটো ধর্মীয় রচনাগুলো লেখার পরের বছরগুলোতে পাস্কাল খ্রিস্টধর্মের প্রসারে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে শুরু করেন। এই কার্যক্রমের মূলে ছিল তার বিখ্যাত কাজ পঁসে। এটি মূলত ১৬৫৭ থেকে ১৬৫৮ সালের দিকে লেখা। অনেক সমালোচকের মতে, এটি অজ্ঞেয়বাদী ও নাস্তিকদের ধর্মীয় বিশ্বাসে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টাগুলোর একটি। তবে এটি মূলত একটি অসমাপ্ত কাজ।
- ডোনাল্ড অ্যাডামসন, ব্লেইজ পাস্কাল: গণিতবিদ, পদার্থবিদ এবং ঈশ্বর চিন্তক (১৯৯৪)।
- আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম। শৈশবে কৌতূহলী হওয়ার পাশাপাশি আমি কিছুটা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার ছিলাম। তাই হাতের কাছে যা পেতাম তা-ই পড়তাম। আমার স্মরণশক্তি এবং কাজ করার শক্তিও প্রচুর। এটি একটি আশীর্বাদ। আমি এখনও নতুন কিছু শেখার জন্য তৃষ্ণার্ত। সব তরুণের মধ্যে এই গুণ থাকে না। তাদের অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া উচিত এবং মানবজাতির মহান চিন্তাগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া উচিত। প্রত্যেকেরই ভাবা উচিত "আমি কেন এখানে? এই পৃথিবীতে আমার কাজ কী?" অ্যারিস্টটল এবং প্লেটোকে জানা খুব জরুরি। জীবনকে সহজ করতে হলে লিওপোল্ড এবং পাস্কালকে জানা একান্ত প্রয়োজন।
- মায়া অ্যাঞ্জেলের সাথে কথোপকথন (১৯৮৯), ১৯৮৬ সালের সাক্ষাৎকার।
- এটি তাৎপর্যপূর্ণ যে আমরা ব্লেইজ পাস্কালের মেধার মাধ্যমেই পুনরাবৃত্তি নীতির প্রথম সুষ্পষ্ট ধারণা পাই। ১৬৫৪ সালে প্রকাশিত দ্য অ্যারিথমেটিক ট্রায়াঙ্গেল নামক একটি গবেষণাপত্রে তিনি এই নীতি ব্যাখ্যা করেন। পাস্কাল ও ফের্মার মধ্যে জুয়া খেলার সমস্যা নিয়ে আদান-প্রদান করা চিঠিপত্রেই এই কাজের মূল নির্যাস ছিল। এই যোগাযোগ থেকেই আধুনিক সম্ভাবনা তত্ত্ব গড়ে উঠেছে। এটি বিস্ময়কর যে বিশুদ্ধ গণিতের ভিত্তি এবং সব ডিডাক্টিভ বিজ্ঞানের মূল আধার এই তত্ত্ব দুটি জুয়াড়িদের একটি অসমাপ্ত খেলার বাজি ভাগ করার কৌশল খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কৃত হয়েছিল।
- টোবিয়াস ড্যান্টজিগ, নাম্বার: দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ অব সায়েন্স (১৯৩০)।
- একটি কার্যকর ধর্ম সম্পর্কে পাস্কাল যা বলেছিলেন তা যেকোনো কার্যকর মতবাদের ক্ষেত্রেই সত্য: একে অবশ্যই "প্রকৃতি, সাধারণ জ্ঞান এবং আনন্দের প্রতিকূলে" হতে হবে।
- এরিক হোফার, দ্য ট্রু বিলিভার (১৯৫১)।
- মানুষ অসীমভাবে মানুষকে ছাড়িয়ে যায়।
- পোপ পল ষষ্ঠ, এনসাইক্লিক্যাল পপুলোরাম প্রগ্রেসীয় (১৯৬৭)।
- পাস্কাল অবজ্ঞার সাথে বলেছিলেন যে সাধারণ শ্রমিকরা তথাকথিত 'দার্শনিকদের' ভুল ধরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। মূলত এই অশিক্ষিত মানুষরাই 'নিজেদের চোখে দেখা এবং হাতে স্পর্শ করা' বিষয়গুলো বিশ্বাস করতে বেশি প্রস্তুত ছিল।
- রেইজার হুইকাস, রিলিজিয়ন অ্যান্ড দ্য রাইজ অব মডার্ন সায়েন্স (২০০০)।
- দর্শনচর্চা মানেই হলো মানুষের গুরুত্ব এবং তার মর্যাদাকে পুনপ্রতিষ্ঠা করা। সক্রেটিসের অন্বেষণ এবং বিজ্ঞানের কার্তেসীয় বিপ্লবের মুখে পাস্কালের উদ্বেগের মূল অর্থ ছিল এটাই। এই বিচারে পাস্কাল সক্রেটিসের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একজন দার্শনিক। বিজ্ঞান মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে দাবি করেছিল, পাস্কালই প্রথম তার তীব্র প্রতিবাদ জানান। কেন বিজ্ঞান মানুষের হৃদয়ে আনন্দ দিতে বা জীবনের অর্থ খুঁজে পেতে ব্যর্থ, তা পাস্কালের চেয়ে ভালো কেউ প্রমাণ করতে পারেনি।
- থমাস মোলনার, দ্য ডিক্লাইন অব দ্য ইন্টেলেকচুয়াল (১৯৬১)।
- পাস্কাল কোনো কূপমণ্ডূক ছিলেন না। তবে তিনি পরিমাপ করেছিলেন যে বিজ্ঞান মানুষের ভাগ্যের সমস্যার ক্ষেত্রে কতটা অপ্রাসঙ্গিক হতে পারে। বিজ্ঞান মানুষের অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতাকে উপেক্ষা করে যে সত্যের দাবি করে, তা বাস্তবসম্মত নয়। বরং আমাদের সহজাত সামর্থ্যগুলোই অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকার একমাত্র ও অপরিহার্য হাতিয়ার।
- থমাস মোলনার, দ্য ডিক্লাইন অব দ্য ইন্টেলেকচুয়াল (১৯৬১)।
- পাস্কাল হলেন দেকার্তের একজন বিচক্ষণ সমালোচক। তিনি দেকার্তের সবকিছুর বিরোধিতা না করলেও মৌলিক কিছু পয়েন্টে দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রথমত, তিনি বুঝেছিলেন যে দেকার্তের নিশ্চিত জ্ঞানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি ভ্রান্ত মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে। দেকার্ত এমন কিছু দিয়ে শুরু করতে চেয়েছিলেন যা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যার ফলে তিনি বিশ্বাস করতেন সব প্রকৃত জ্ঞানই প্রযুক্তিগত। পাস্কাল তার সম্ভাব্যতা তত্ত্বের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে গেছেন। দ্বিতীয়ত, পাস্কাল উপলব্ধি করেছিলেন যে যেকোনো বাস্তব কাজে কার্তেসীয় যুক্তিই একমাত্র উৎস নয়। মানুষের মন কোনো সচেতন বা সূত্রবদ্ধ কৌশলের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। অনেক সময় মন কোনো কৌশল ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। অনুসন্ধানের নিয়মগুলো অতিরিক্ত সুনির্দিষ্ট করতে গিয়ে পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিলে প্রকৃত অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত হয়। আধুনিক দর্শনের ইতিহাসের বড় একটি অংশ এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে।
- মাইকেল ওকশট, র্যাশনালিজম ইন পলিটিক্স অ্যান্ড আদার এসেস (১৯৬২)।
- পাস্কালের 'পঁসে' থেকে কিছু অংশ বেছে নিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে তিনি বিশ্বাসের কাছে যুক্তিকে বিসর্জন দিয়ে দর্শনের সম্ভাবনা অস্বীকার করেছেন। আমি দেখাতে চাই যে পাস্কাল সংশয়বাদী ছিলেন না। তার এই কাজে স্পিনোজা বা লাইবনিজের মতো বিস্তারিত কোনো সিস্টেম না থাকলেও একটি প্রকৃত দর্শনের মূলনীতিগুলো বিদ্যমান। এই ধারণাগুলো পাস্কালের বিশ্বাসের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। খ্রিস্টধর্ম এবং দর্শনের উচ্চতর দিকগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য এর চেয়ে ভালো পথ আর নেই।
- ফেলিক্স রাভেইসন, সাজি ফিলোসোফিচি (১৯১৭)।
- পাস্কাল গণিতের বিষয়বস্তুর সাথে অন্যান্য বিষয়ের পার্থক্য ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি বিষয়গুলোকে কোনো সাধারণ নামে না ডেকে বরং বর্ণনা করেছেন। তার সময়ের ভাষায় বললে এগুলো ছিল নান্দনিক ও নৈতিক প্রকৃতির। মনের যে অনুষদগুলো এই দুই ধরনের বিষয়ের সাথে যুক্ত, তিনি সেগুলোর বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরেছেন। বস্তু ও আত্মার পার্থক্যের মতো এই দুই জগতের তফাত পাস্কালের চেয়ে স্পষ্ট করে আর কেউ বুঝতে পারেনি।
- ফেলিক্স রাভেইসন, সাজি ফিলোসোফিচি (১৯১৭)।
- পাস্কালই একমাত্র মহান গণিতবিদ যিনি লেখক হিসেবেও সমভাবে বিখ্যাত। তার জ্যানসেনবাদী আদর্শের একটি স্থায়ী প্রভাব হলো গণপরিবহন ব্যবস্থা। মৃত্যুর কিছুদিন আগে পাস্কাল বিশ্বে প্রথমবারের মতো ওমনিবাস সার্ভিস চালু হতে দেখেন। প্যারিসের নির্দিষ্ট রুটে ৫ স্যু ভাড়ায় এই কোচগুলো চলত। এই আয়ের লাভ দরিদ্রদের সাহায্যের জন্য দেওয়া হতো।
- জন স্টিলওয়েল, ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড ইটস হিস্ট্রি (১৯৮৯)।
- জীবন্ত দেহকে একটি যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা পাস্কালের কাছে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য ও হাস্যকর মনে হতো।
- ডি'আর্সি ওয়েন্টওয়ার্থ থম্পসন, অন গ্রোথ অ্যান্ড ফর্ম (১৯১৭)।
- পাস্কালের বিপরীতে আমি বলি: ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের ঈশ্বর এবং দার্শনিকদের ঈশ্বর একই।
- পল টিলিচ, বিবলিক্যাল রিলিজিয়ন অ্যান্ড দ্য সার্চ ফর আলটিমেট রিয়েলিটি।
- পাস্কালের 'থটস' বা 'পঁসে' কোনো সাধারণ বই নয়। এই মহান ব্যক্তি তার শক্তিশালী মনে যখন যা আসত তা-ই কাগজে লিখে রাখতেন। গুরুতর অসুস্থতা তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এটি চালিয়ে গেছেন। পরবর্তীকালে এই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চিন্তাগুলোকে সুশৃঙ্খল করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সাফল্যও মিলেছে। তবে কখনও কখনও লেখকের মূল উদ্দেশ্য ভুলভাবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- আলেকজান্ডার রডলফ ভিনেট, স্টাডিজ অন পাস্কাল (১৮৫৯)।
- পাস্কাল ধর্মের পক্ষে বিশেষ কিছুই প্রমাণ করতে পারেননি। বরং তিনি এটিই দেখিয়েছেন যে একজন প্রতিভাবান মানুষও কোনো কোনো বিষয়ে বোকা হতে পারেন। যখন কেউ নিজের কুসংস্কারের কথা শোনার মতো দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন সে শিশুর মতোই আচরণ করে।
- ব্যারন ডি'হোলবাখ, গুড সেন্স উইদাউট গড (১৭৭২)।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় ব্লেজ পাসকাল সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।