ভারতের ভাষা
অবয়ব

ভারতের ভাষা বেশ কয়েকটি ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে প্রধান হলো ইন্দো-আর্য ভাষা যাতে ভারতের ৭৫% মানুষ কথা বলেন এবং দ্রাবিড় ভাষা যাতে ভারতের ২০% মানুষ কথা বলেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- ১৯৬০-এর দশক থেকে, পশ্চিমা পণ্ডিতরা প্রায় অর্ধডজন ভারতীয় ভাষার প্রাক-আধুনিক (অথবা “মধ্যযুগীয়”) এবং আধুনিক সাহিত্য ঐতিহ্যের ওপর বাছাইকৃতভাবে কিন্তু নিবিড়ভাবে মনোযোগ দিয়েছেন। এর ফলে অনুবাদ, ব্যাখ্যা এবং ভাষ্যের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। পণ্ডিতদের একটি বাছাইকৃত তালিকায় রয়েছেন হিন্দি ভাষায় গর্ডন রোডর্মেল, শার্লট ভদভিল, রোনাল্ড স্টুয়ার্ট ম্যাকগ্রেগর, জন স্ট্র্যাটন হকলে, ক্যাথরিন হ্যানসেন, পিটার গাফকে, মার্ক জুর্গেনসমেয়ার, কারিন শমার, লিন্ডা হেস, কেনেথ ব্রায়ান্ট, ডেভিড রুবিন এবং ফিলিপ লুটগেনডর্ফ; বাংলায় এডওয়ার্ড সি. ডিমক, ডেভিড কফ, উইলিয়াম রাদিচে এবং ক্লিনটন বি. সিলি; মারাঠিতে ইয়ান রেসাইড, এলিনর জেলিওট, ফিলিপ এনগব্লম এবং অ্যান ফেল্ডহাউস; তামিলে জর্জ এল. হার্ট, ডেভিড শুলম্যান এবং নরম্যান কাটলার; তেলুগুতে ডেভিড শুলম্যান, হ্যাঙ্ক হাইফেৎজ এবং জিন এইচ. রোগায়ার; এবং উর্দুতে ফ্রান্সেস প্রিচেট এবং কার্লো কোপোল্লা।
- অপর্ণা ভার্গব ধরওয়াদকর, থিয়েটারস অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স: ড্রামা, থিওরি, অ্যান্ড আরবান পারফরম্যান্স ইন ইন্ডিয়া সিন্স ১৯৪৭'', ১ নভেম্বর ২০০৯, ইউনিভার্সিটি অফ আইওয়া প্রেস, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৮৭২৯-৬৪২-০ অকার্যকর অকার্যকর, পৃষ্ঠা ৪৪৩।
- আমি এটি বলছি না যে সংস্কৃত ভাষাকে আক্রমণাত্মকভাবে চাপিয়ে দেওয়া হোক, বরং এই মহান ধ্রুপদী ভাষার সুবিধাটি সমাদৃত ও ব্যবহার করা প্রয়োজন। আধুনিক ইউরোপে গ্রিক ও লাতিন ভাষার তুলনায় ভারতে এটি বেশি মানুষ বোঝেন। এছাড়া, দেবনাগরী লিপিতে অন্যান্য ভারতীয় ভাষার জন্য একটি সাধারণ লিপি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও মানুষ তাদের নিজস্ব লিপির প্রতি এতটাই অনুরাগী যে এটি গ্রহণ করার বাস্তবতা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হওয়া যায় না। ভারতে বিকশিত অন্য একটি সংযোগকারী ভাষা ছিল ফার্সি, যার সাথে সংস্কৃত ও আরবির প্রভাবে আধুনিক মহান ভাষা উর্দুর জন্ম হয়েছে। এটি রাজদরবার বা সামরিক ক্যাম্পের ভাষা হিসেবে শুরু হলেও পরে জনগণের আধুনিক ভাষা হয়ে ওঠে এবং ভাষাগতভাবে ভারতকে আরব দেশের সাথে যুক্ত করে।
- কে. আর. নারায়ণন, ইন দ্য নেম অফ দ্য পিপল: রিফ্লেকশনস অন ডেমোক্রেসি, ফ্রিডম, অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ২০১১, পেঙ্গুইন বুকস ইন্ডিয়া, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭০-০৮১৩২-৫, পৃষ্ঠা ১০৭।
- হিন্দভি প্রাচীনকাল থেকেই ভাষা ছিল; যখন ঘুরিদ ও তুর্কিরা [ভারতে] এল, তখন ফার্সি ব্যবহৃত হতে শুরু করল এবং ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই তা শিখল... যেহেতু আমি ভারতের লোক, তাই এই দেশ নিয়ে কথা বলাই আমার জন্য সংগত। এই ভূমির প্রতিটি অঞ্চলে একটি ভিন্ন এবং মৌলিক ভাষা রয়েছে। সিন্ধি, লাহোরি, কাশ্মীরি, কিবার, ধাউর সমুদ্রী, তিলাঙ্গি, গুজর, মাবারি, গৌরী, বাংলা, অবধ, দিল্লি ও তার আশেপাশের ভাষা—এই সবই হলো হিন্দভি অর্থাৎ ভারতীয় ভাষা, যা প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত এবং সব ধরণের কথাবার্তায় সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া আরও একটি ভাষা রয়েছে যা সব ব্রাহ্মণদের কাছে প্রিয়। এটি প্রাচীনকাল থেকেই সংস্কৃত নামে পরিচিত; সাধারণ মানুষ এটি জানে না, কেবল ব্রাহ্মণরাই জানে, কিন্তু একজন ব্রাহ্মণের পক্ষেও এর সীমা বোঝা সম্ভব নয়। আরবির মতো সংস্কৃতের ব্যাকরণ, বাক্য গঠনের নিয়ম ও সাহিত্য রয়েছে... সংস্কৃত একটি মুক্তো; এটি আরবির চেয়ে পিছিয়ে থাকতে পারে তবে দরির চেয়ে উন্নত... আমি যদি এটি ভালো জানতাম তবে আমি আমার সুলতানকে এই ভাষাতেও প্রশংসা করতাম।
- আমির খসরু, ইন দ্য বাজার অফ লাভ: দ্য সিলেক্টেড পোয়েট্রি অফ আমির খসরু (২০১১), ভূমিকা ৩৬ থেকে উদ্ধৃত।
- চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখায় যে, আদিবাসী অধিকার রক্ষার জন্য তৈরি ভারতের সংবিধানের ৫ম তফসিলটি কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো ৫ম তফসিলের পুরো কাঠামোটিকে ভেঙে দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই রায়ে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশ বাতিল করা হয়েছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকাগুলোতে তপশিলি উপজাতির শিক্ষকদের জন্য ১০০% সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। [...] অনেক অ-আদিবাসী মানুষ, এমনকি নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও বহু বছর ধরে আদিবাসী এলাকায় বাস করেন কিন্তু আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজন বোধ করেন না। প্রাথমিক স্তরে অ-আদিবাসী শিক্ষক ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে “আদিবাসীরাই কেবল আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি জঘন্য ধারণা” (অনুচ্ছেদ ১৩৩)। কিন্তু অনেক দিন ধরে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে বিষয়টি ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়ে প্রতিফলিত হচ্ছে, তা হলো এই জঘন্য ধারণাটি যে কেবল অ-আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের “উন্নত করা ও মূলধারায় ফিরিয়ে আনা” যায়। কারণ “তাদের ভাষা ও আদিম জীবনধারা তাদের মূলধারার সাথে মানিয়ে নেওয়ার এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অনুপযুক্ত করে তোলে” (অনুচ্ছেদ ১০৭)।
- নন্দিনী সুন্দর, হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ইটস ফিউচার জাজেস, ২৮ এপ্রিল ২০২০, দ্য ওয়্যার।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় ভারতের ভাষা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।