ভারতে বাঙালি বিরোধী মনোভাব
ভারতে বাঙালি বিরোধী মনোভাব ভারতের বাঙালিদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গড়ে উঠেছে। যদিও বাঙালিরা বহু শতাব্দী ধরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করে, তারা ব্যাপক বৈষম্যের শিকার, বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের লোকেদের দ্বারা। এটি অন্য কোনো সম্প্রদায়ের দ্বারা (যেমন উপজাতি সম্প্রদায়, বিহারী, অসমীয়া ইত্যাদি) অথবা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে হতে পারে (আরও নিবন্ধ দেখুন), যেমন বসবাস, বৈষম্যমূলক অনুভূতি, রাজনৈতিক কারণ, সরকারি পদক্ষেপ, অভিবাসন সমস্যা, বাংলাদেশ বিরোধী মনোভাব ইত্যাদির মতো কারণ। খৈরাবাড়ি হত্যাকাণ্ড, নেলি গণহত্যা, শিলাপাথর গণহত্যা, উত্তর কামরূপ গণহত্যা, গোরেশ্বর গণহত্যা, বঙাল খেদা ইত্যাদি থেকে বাঙালিদের প্রতি বৈষম্যমূলক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। এর ফলে ভারতে প্রতিবাদের স্বরূপ বাঙালি উপ-জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটেছে এবং ভারতে অনেক বাঙালিপন্থী সংগঠন গঠন করা হয়েছে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুই বাংলায় মিলন ঘটাতে হবে এবং খণ্ডিত বাঙালি সংস্কৃতিকেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। না হলে এখন সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী মুসলিম সাম্রাজ্যবাদ ছোট্ট পূর্ববাংলার বাঙালি জাতীয়তাবাদকে গ্রাস করবে। অন্যদিকে, আরও শক্তিশালী হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ ভারতের অন্তর্গত বাংলাভাষী অঞ্চলগুলোর স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা ধ্বংস করবে'।
- আবদুল গাফফার চৌধুরীর সাথে সত্যজিৎ রায় এটি বলেছিলেন। [১]
- “আজ বাংলাদেশ ভারত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অতি অধম স্থানে পড়িয়া রহিয়াছে। বিহারী চোখ রাঙ্গাইতেছে, আসামে বাঙালীর উপর যথেচ্ছাচার ও দুর্ব্যবহার চলিতেছে। অন্য প্রদেশের লোকে কৃপা, অবজ্ঞা বা অবহেলার সহিত বাংলা ও বাঙালীর কথা মনে আনে।”
এই মন্তব্যের পর ২৭ বৎসর অতীত হইয়াছে। কংগ্রেসের দুর্নীতি ও আসামে বাঙালীর প্রতি অত্যাচার বাড়িয়াই চলিয়াছে। অথচ কোন প্রতিকার নাই। স্বাধীন ভারতের প্রথম হইতেই বাঙালীর দুরবস্থা ও অবনতি কতদূর পৌঁছিয়াছিল, এবং ইহার কারণ কী তাহার সম্বন্ধে উল্লেখিত মন্তব্য যে কতদূর সত্য আজ আমরা তাহা মর্মে মর্মে বুঝিতেছি।- মহাত্মা গান্ধীর একটি উক্তি উল্লেখ করে রমেশচন্দ্র মজুমদার এটি বলেছেন। "বাংলা দেশের ইতিহাস, চতুর্থ খণ্ড (১৯০৫-১৯৪৭)", প্রকাশক: জেনারেল প্রিন্টার্স য়্যাণ্ড পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, প্রথম সংস্করণ: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭৫, পৃষ্ঠা: ৪৬৩ [২]
- দিল্লির বসন্তকুঞ্জের জয় হিন্দ কলোনিতে বাংলাভাষী পরিবারগুলোকে বাংলায় কথা বলার কারণে লক্ষ্যে পরিণত করা হচ্ছে। তাদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ পরিষেবার মতো মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জোর করে ওই অঞ্চল থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে।...বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষীদের নিজ দেশেই অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেউ বাংলায় কথা বললে তিনি বাংলাদেশি হয়ে যান না। ভাষা-নির্বিশেষে তারা ভারতেরই নাগরিক; যে কোনো ভারতীয় নাগরিকের মতোই সমান অধিকারসম্পন্ন।পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবার সেই বাংলাবিরোধী অপচেষ্টাকে দেশের অন্যান্য প্রান্তে শুরুর কৌশল নিয়েছে বিজেপি। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, উড়িষ্যা ও মধ্যপ্রদেশ থেকেও বাংলাভাষীদের ওপর নিপীড়নের খবর আসছে। সেই বিদ্বেষ এসে পড়েছে দিল্লিতেও।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই ফেইসবুক পোস্টে [৩]
- ভারতের আগামী জনগণনা বা আদমশুমারিতে আসাম রাজ্যের কোনো বাসিন্দা বাংলা ভাষাকে নিজের মাতৃভাষা হিসেবে উল্লেখ করলে তাঁদের ‘বিদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হবে। আর তা থেকে বোঝা যাবে এই রাজ্যে বিদেশির সংখ্যা কত?
- ২০২৫ সালের ১০ জুলাই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক সংবাদ সম্মেলনে এটি বলেছে। [৪]
- গুজরাটের সুরাটে দোকান হিন্দু বাঙালির৷ গুজরাটি ভাষা লিখেছে দোকানের বোর্ডে, কিন্তু বাংলা কেন লিখেছে? বাঙালি মানেই বাংলাদেশী? চলছে ধরপাকড়৷ চলছে তল্লাশি৷
আর এখানে অনেক হিন্দু বাঙালি ভাবে যে হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই। কিন্তু বাস্তবে তুমি ওদের কাছে শুধুই বাঙালি, হিন্দু নয়।- বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি। ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল ফেইসবুক পোস্টে। [৫]
- আমরা এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে ট্রেনে করে সাম্বলপুর গিয়েছিলাম একটি সেতু তৈরির কাজ করতে। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা সেখানে এসে জিজ্ঞেস করল আমরা কোন রাজ্য থেকে এসেছি। যখন তারা জানল আমরা বাংলা থেকে এসেছি, তখন তারা শত্রুভাবাপন্ন হয়ে আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা শুরু করল। তাদের কয়েকজন আমাদের গায়ে হাত তোলে।…আমরা ভয় পেয়ে আমাদের অস্থায়ী কোয়ার্টারে গিয়ে আশ্রয় নেই। তারপর রাতে তারা আবার আমাদের কোয়ার্টারে এসে আক্রমণ করে।
- ওড়িশায় বাঙালিদের প্রতি বিদ্বেষমূলক ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, "ওড়িশায় বাঙালি হওয়ায় আক্রমণ; ধর্ম নয়, প্রাদেশিক পরিচয়েই ক্ষোভ: অভিবাসী শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা"।
- ভারত জুড়ে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে বাংলা বলার জন্য পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকে "বাংলাদেশী" দাগিয়ে অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে জেলায় জেলায় প্রতিবাদে নামছে বাংলা পক্ষ।
- গর্গ চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ সালের ১২ জুলাই ফেইসবুক পোস্টে।
- বেশি বাংলা বাংলা করো না। তাহলে এটা বাংলাদেশ হয়ে যাবে।
- হাওড়া স্টেশনে টিকিট কাউন্টারের এক হিন্দিভাষী মেট্রো কর্মী এক বাঙালি যাত্রীকে ধমক দিয়ে এই কথা বলেন। [৬]
- বিহারকে বাংলা হতে দেব না।
- এক জনসভায় বাংলাকে অপমান করে বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং। [৭]
- মুর্শিদাবাদের সুতির সুকুমার কোনাই সহ ১৪ জন বাঙালি গ্রেটার নয়ডায় কাজ করতে গেছিল। মেরে সুকুমার কোনাইয়ের হাঁটু ভেঙে দিয়েছে।
- গর্গ চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ সালের ২২ জুলাই ফেইসবুক পোস্টে।
- বাংলা বলে কোনও ভাষা নেই।
- বাংলায় কথা বলার কারণে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। সংবাদটি আমাকে কিছুটা চিন্তিত করেছে। আমাকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, কারণ আমার পৈতৃক বাড়ি ঢাকায়। আর তাতে আমার খুব একটা আপত্তি নেই। বাংলার মানুষ বা বাংলাভাষী মানুষেরা পেশাগত বাধা ও অসম্মানের শিকার হচ্ছেন। বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি সম্মান থাকতে হবে। যদি না থাকে, তবে প্রতিবাদ করতে হবে।
- অমর্ত্য সেন। ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট কলকাতায় ‘ভারতের তরুণ সমাজ: তাদের কী ধরনের সামাজিক সুযোগ থাকা উচিত’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এই কথা বলেন। [১০]