ভারতে শিক্ষা
অবয়ব


ভারতে শিক্ষার ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল।
উক্তি
[সম্পাদনা]- আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন কাশ্মীর, বেনারস এবং অন্যান্য স্থান।
- আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস]।
- জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং গণিত কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম ভারতের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি সংস্কৃত ভাষা হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে সংস্কৃত ভাষা এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের ইংরেজি বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক সত্য এবং জ্ঞান-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের বৈজ্ঞানিক, যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় এশিয়ার মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে ইউরোপে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত।
- অরবিন্দ ঘোষ, নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। অরবিন্দ ঘোষ, নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [১]
- [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।
- অরবিন্দ ঘোষ, ৭ আগস্ট ১৯২৬। অরবিন্দ ঘোষ, নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [২]
- মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। ধর্ম হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে হিন্দুধর্মের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে।
- শ্রী অরবিন্দ, দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার।
- এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত।
- এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস। অধ্যায় ৭।
- অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
- এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪।
- সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না।
- এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪।
- এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো।
- এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪।
- রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি...
- এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪।
- ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে।
- আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫।
- মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক।
- আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস (২০২০)।
ভারতের সংবিধান
- ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’
- ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড (২০২৩), অধ্যায় ৪।
- ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।
২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন।- ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড (২০২৩), অধ্যায় ৪।
- ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে।
১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে।
২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।- ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড (২০২৩), অধ্যায় ৪।
- এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না।
- সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড (২০২৩), অধ্যায় ৪।
- ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি (১৯৮৩)।
- শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন।
- ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত।
- প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা।
- উইল ডুরান্ট, আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ।
- মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল।
- কোনরাড এলস্ট ২০০১, ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড, পৃষ্ঠা ২৬।
- বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত।
- কোনরাড এলস্ট, অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি (১৯৯১)।
- কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে।
- কোয়েনরাড এলস্ট। নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম, ২০০২।
- যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে ইন্দিরা গান্ধী তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে।
- এলস্ট কে. অযোধ্যা, দ্য ফিনালে (২০০৩)।
- এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল।
- কোয়েনরাড এলস্ট, দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু (২০১২) অধ্যায় ৩; ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি, বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত।
- ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়।
- এলস্ট, কোয়েনরাড। হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা।
- চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত।
- এলস্ট, কে. দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ, ৭ জুন ১৯৯৯। মিশনারিদের সমস্যা
- তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি গণতান্ত্রিক এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে ফ্রান্সে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।"
- (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম।
- প্রাচীন ভারতে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, সংস্কৃত ভাষা এবং গুরুকুলগুলোর কারণে।
- ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের ভূমিকা।
- আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং মিয়ানমারের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।
- মহাত্মা গান্ধী, চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল এবং সীতারাম গোয়েল রচিত হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ। [৩]
- গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে রামায়ণ পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে।
- মহাত্মা গান্ধী, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন।
- তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে সত্যমেব জয়তে... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।"
- সীতারাম গোয়েল, দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া (১৯৯৪)।
- কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ।
- সীতারাম গোয়েল, দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন (১৯৮৬)।
- নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়।
- গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম।
- স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’।
- স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।
- (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড।
- ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে।
- কিয়ার হার্ডি, তার ইন্ডিয়া বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪।
- যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান।
- সন্ধ্যা জৈন, দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন, যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
- “ভারতজুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।”
- কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১ অকার্যকর অকার্যকর।
- দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
- এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত
- ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)।
- সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে আড়াই দিন কা ঝোপড়া নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল।
- কে. এস. লাল (১৯৯৯)। থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭।
- ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’
- কে. এস. লাল, দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)।
- একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়।
- কে. এস. লাল (১৯৯২)। দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)।
- ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল।
- জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস। অধ্যায় ৭।
- যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে।
- লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭।
- তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না।
- মার্গারেট ম্যাকমিলান, দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১।
- কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব।
- মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস, ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪।
- ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে।
- ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪।
- প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে।
- টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত মেকলে থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪।
- আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে।
- টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, মিনিট অন এডুকেশন (১৮৩৫)।
- আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না।
- টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস, ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪। অকার্যকর অকার্যকর
- হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে।
- কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫।
- প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা।
- রাজীব মালহোত্রা, দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত।
- সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না।
- রাজীব মালহোত্রা, দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত।
- ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়।
- মাসির-ই-আলমগিরি, স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০।
- তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭)। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
- মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস।
- সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে।
- ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট, এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)।
- সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া।
- বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯।
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে।
- ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়।
- সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়।
- (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড, চতুর্থ অধ্যায়।
- ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী।
- (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড, চতুর্থ অধ্যায়।
- হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে।
- (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড, চতুর্থ অধ্যায়।
- ১৯৫০-এর দশকে জওহরলাল নেহেরু সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।"
- সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত
- কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের হিন্দুদের অত্যন্ত বিস্তৃত শিক্ষার প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের বিজ্ঞান চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের দর্শন গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন।
- হার বিলাস সারদা; হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস, রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪।
- পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... দ্য হেদায়ার মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...।
- অরুণ শৌরী; এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড, ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স।
- চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে ভারতের সংবিধান পঞ্চম তফশিল, যা আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত ভারতের পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে।
- নন্দিনী সুন্দর; হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস, ২৮ এপ্রিল ২০২০, দ্য ওয়্যাইর।
- ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)।
- নন্দিনী সুন্দর; হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস, ২৮ এপ্রিল ২০২০, দ্য ওয়্যাইর।
- একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ।
- নন্দিনী সুন্দর; হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস, ২৮ এপ্রিল ২০২০, দ্য ওয়্যাইর।
- ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান ভারতেএসেছিল।
- রাম স্বরূপ (২০০০)। অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস, অধ্যায় ৬।
- এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত রোমিলা থাপার এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে তালেবান বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে।
- তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২০১৯।
- [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।"
- এ. সি. স্কট; দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া, পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ।
- এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...]
- তভলিন সিং; ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল।
- ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...
একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...
আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...
বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত।- সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক (২০১৭)-এর ভূমিকা।
- ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।"
- ডক্টর টরকাটো। এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি। ঈশ্বর শরণ রচিত দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০।

- বর্তমান এই আধুনিক দিনে ইউরোপীয় ধাঁচে উচ্চশিক্ষার প্রতি এক ব্যাপক আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে এবং নারীদের এই উচ্চশিক্ষা পাওয়ার স্বপক্ষে জনমত এখন বেশ শক্তিশালী। অবশ্যই, ভারতে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এটি চান না, কিন্তু যারা এটি চান তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েলও; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।
- স্বামী বিবেকানন্দ, ভারতের নারী [৪]
- সম্ভবত হিন্দুদের চেয়ে শিক্ষার গুরুত্ব কেউ এত ভালোভাবে বোঝে না... তারা তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সম্পদ, পারিবারিক মর্যাদা এবং বর্ণের সমস্ত মোহ বিসর্জন দিতে পারে। এই আকাঙ্ক্ষা সকল হিন্দুর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তাদের নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থাই এই শিক্ষা দেয়, যেখানে প্রতিটি গ্রামে স্কুল ছিল। অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং স্বাধীনতার এই চেতনা সম্ভবত শূদ্রদের কারণেই এসেছে, যারা মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল এবং যাদের হাতে এদেশের প্রধান ক্ষমতা ও সম্পদ ছিল।
- ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার, আনু. ১৭৯৫। রাম স্বরূপের দ্য 'বিউটিফুল ট্রি' দ্যাট দ্য যুক্তরাজ্য ডেসট্রয়েড, অর্গানাইজার, ২৮.১০.১৯৮৪-এ উদ্ধৃত। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস।
- ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা এতই সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ছিল যে এর কিছু বৈশিষ্ট্য ইংল্যান্ড ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়েছিল। "মনিটর পদ্ধতি'", "স্লেট" এবং "দলগত পড়াশোনা" সরাসরি ভারতের প্রাচীন চর্চা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমরা ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকারের সাক্ষ্য পাই। তিনি বলেন যে নতুন ব্রিটিশ "পদ্ধতিটি ব্রাহ্মণদের থেকে ধার নেওয়া হয়েছিল এবং ভারত থেকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি প্রতিটি আধুনিক দেশের জাতীয় স্কুলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এদেশের মানুষের প্রতি কিছুটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত যাদের কাছ থেকে আমরা সমাজের নিম্ন স্তরে শিক্ষার প্রসারের জন্য এমন একটি নির্ভুল এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি শিখেছি যা আগে কখনও আবিষ্কৃত হয়নি"। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে "শিশুদের ওপর কোনো জোর না খাটিয়ে অত্যন্ত সহজভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়"।
- ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস, অধ্যায় ৭।
- মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।
- পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি, ২৮ এপ্রিল ১৯৮৯ (নম্বর এসওয়ায়এল/৮৯/১)। অরুণ শৌরী রচিত এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড, হার্পার কলিন্স, ১৯৯৮-এ উদ্ধৃত। কে. এস. লাল (১৯৯২) রচিত দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া, নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন, অধ্যায় ৮ থেকে উদ্ধৃত। এছাড়া সন্তোষ সি. সাহা সম্পাদিত ফান্ডামেন্টালিজম ইন দ্য কন্টেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড: ক্রিটিক্যাল সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইস্যুস, লেক্সিংটন বুকস, মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ২০০৪, পৃষ্ঠা ২৭৩।
- দেশীয় সাহিত্য বিলুপ্ত করে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার গর্ব আর আনন্দ কেড়ে নিয়ে এবং একটি পুরো জাতিকে তাদের সমস্ত ধারণা ও ভাষার জন্য একটি দূরবর্তী ও অজানা দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার মাধ্যমে আমরা তাদের চরিত্রকে ছোট করছি। এর ফলে তাদের প্রাণশক্তি কমে যাবে এবং তারা কোনো ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অক্ষম হয়ে পড়বে।
- (হোরাস উইলসন: এডুকেশন অফ দ্য নেটিভস অফ ইন্ডিয়া, এশিয়াটিক জার্নাল (১৮৩৬), পৃষ্ঠা ২৬-এ উদ্ধৃত)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত অন মোদী টাইম: মেরিটস অ্যান্ড ফ্লজ অফ হিন্দু অ্যাক্টিভিজম ইন ইটস ডে অফ ইনকামবেন্সি – ২০১৫, অধ্যায় ২৯ থেকে উদ্ধৃত।
- আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আপনাদের মধ্যে অনেকেই বাবা এবং মা, যাদের ছেলে-মেয়েরা এখনো মিশনারি স্কুলে পড়ে। আমি খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করছি, আপনাদের কি মনে হয় না যে তাদের হিন্দু হিসেবে বড় করা আপনাদের দায়িত্ব? স্রেফ সরকারি চাকরির জন্য কি আপনারা আপনাদের সন্তানদের স্বার্থ, আপনাদের পূর্বপুরুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নিজেদের ধর্ম বিসর্জন দিতে প্রস্তুত? আপনাদের ছেলেরা যদি ডাক্তার বা উকিল হয় কিন্তু হিন্দু না থাকে, তবে লাভ কী? এটাই কি মহান ঋষিদের থেকে পাওয়া আপনাদের আদর্শ?
- ডক্টর ডব্লিউ. ওয়াই. ওয়ান্টজ। মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস। আইএসবিএন ৯৭৮৯৩৮৫৪৮৫১২১ অকার্যকর অকার্যকর
- সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তরে মুসলিম শিশুদের ভর্তির হার ছিল ১২.৩৯ শতাংশ, যেখানে মোট শিশু জনসংখ্যার মধ্যে তাদের অনুপাত ছিল ১৬.৮১ শতাংশ।
- ১৯৮৪ সালে। ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুসলিম শিশুদের কম প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে। রফিক জাকারিয়া: দ্য ওয়াইডেনিং ডিভাইড, পৃষ্ঠা ১৪৬।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় ভারতে শিক্ষা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।