বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (১৯৬৫ সাল)

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
১৯৬৫ সালে অপারেশন গ্র্যান্ড স্ল্যাম চলাকালীন কাশ্মীরের চম্ব সেক্টরে একটি পাকিস্তানি M48A1 প্যাটন ট্যাঙ্ক এগিয়ে যাচ্ছে।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, যা দ্বিতীয় কাশ্মীর যুদ্ধ নামেও পরিচিত, এটি ছিল ১৯৬৫ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতপাকিস্তানের মধ্যে চলা দফায় দফায় সংঘর্ষের একটি চূড়ান্ত পরিণতি। কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় যুদ্ধ; এর আগে ১৯৪৭ সালে (ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৪৭) প্রথমবার তারা মুখোমুখি হয়েছিল। পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী এই যুদ্ধে উভয় পক্ষেই প্রচুর প্রাণহানি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এর অবসান হয়। অধিকাংশের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ ও দখলদারিত্বের লক্ষ্যে পাকিস্তান যে অপারেশন জিব্রাল্টার শুরু করেছিল, তার ব্যর্থতা থেকেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যে ভারতকে একরকম নিশ্চল অবস্থায় আটকে দিতে সক্ষম হয়েছিল, তা সত্যিই বিস্ময়কর। এর বিশাল কৃতিত্ব পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রাপ্য, যারা তাদের চেয়ে বহুগুণ বড় ভারতীয় প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করেছে এবং স্থলবাহিনীকে পূর্ণ সমর্থন জুগিয়েছে। বিমান বাহিনীর প্রধান নূর খান অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পাকিস্তান বিমান বাহিনীকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। তাদের প্রতিটি আক্রমণে ছিল লক্ষ্যপূরণের এক প্রবল সংকল্প... এটিও স্পষ্ট যে, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয়ের যেখানে চরম অভাব ছিল, সেখানে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রতিটি স্তরে ছিল চমৎকার সহযোগিতা।
  • জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর এক বছরের কিছু বেশি সময় পর, ১৯৬৫ সালে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান দ্বিতীয়বার যুদ্ধে জড়ায়। পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ব্যক্তিগতভাবে অপারেশন গ্র্যান্ড স্ল্যামের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন যে, কাশ্মীরের সরু দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশটি দখল করে পাঞ্জাব থেকে রাজ্যটিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেবেন। আইয়ুব খান ছিলেন একজন দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী মানুষ; বিপরীতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ছিলেন শারীরিকভাবে বেশ ছোটখাটো ও ক্ষীণকায় ব্যক্তি। তবে ভারতের সেনাবাহিনী ছিল পাকিস্তানের চারগুণ বড়, যারা দ্রুতই সেই জনপ্রিয় পাকিস্তানি ধারণাটি ভেঙে চুরমার করে দেয় যে একজন মুসলিম সৈন্য দশজন হিন্দুর সমান। ভারতের ট্যাঙ্কগুলো যখন পাঞ্জাব সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিম দিকে লাহোর অভিমুখে যাত্রা শুরু করল, তখনই অপারেশন গ্র্যান্ড স্ল্যাম থমকে যায়। তিন সপ্তাহ পর যখন কোনো পক্ষই চূড়ান্ত বিজয় পায়নি, তখন ওয়াশিংটন দুই দেশের সেনাবাহিনীর ওপর অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে এই যুদ্ধ De facto বা কার্যত ড্র অর্থাৎ অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়ে যায়। তবে যুদ্ধবিরতি ডাকার সময় ভারত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরের ব্যাপক ক্ষতি করার কিংবা তা দখল করে নেওয়ার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল এবং আইয়ুব খানের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে কাশ্মীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উরি-পুঞ্চ এলাকাও তখন ভারতের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি মসজিদ
  • সংঘাত শেষে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করে। তবে উন্নত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার কারণে ভারতীয়রা সাঁজোয়া যান বা আর্মার ব্যবহারে অধিকতর কৌশলগত মুন্সীয়ানা দেখাতে সক্ষম হয়েছিল। এটি অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, ভারতীয় আর্মার্ড কোর একসময় পাকিস্তানি প্রোপাগান্ডা প্রচারণায় কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছিল এবং বেশ আশঙ্কার সাথেই যুদ্ধে প্রবেশ করেছিল। তারা বিশ্বাস করত যে প্যাটন ট্যাঙ্ক (অর্থাৎ এম-৪৭ এবং এম-৪৮) অগ্নিশক্তি, সুরক্ষা এবং গতিশীলতার দিক থেকে ভারতের যেকোনো ট্যাঙ্কের চেয়ে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ। এই উদ্বেগের প্রতিফলন যুদ্ধপরবর্তী সাহসিকতার অনেক রাষ্ট্রীয় সম্মাননাতেও দেখা যায়, যার একটিতে একজন এনসিওকে "অজেয় বলে কথিত বেশ কয়েকটি প্যাটনের" বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপের জন্য প্রশংসিত করা হয়েছিল।
    প্রকৃতপক্ষে, মনে হয় যে পাকিস্তানিরা তাদের নিজেদের প্রচারণারই শিকার হয়েছিল এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে প্যাটন ট্যাঙ্ক প্রায় অবিনশ্বর। এর ফলে তারা সরাসরি ভারতীয় অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালানোর মতো হঠকারী কৌশল গ্রহণ করে এবং সম্মুখভাগে থাকা প্যাটন ট্যাঙ্কগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শিয়ালকোটের ধূলিধূসরিত যুদ্ধের ময়দানে সেঞ্চুরিয়ন এবং প্যাটন ট্যাঙ্কের লড়াই হয়েছিল মাত্র ১,০০০ গজেরও কম দূরত্বে। সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার শক্তিশালী সেঞ্চুরিয়ন ট্যাঙ্কগুলো এম-৪৭ এবং এম-৪৮ প্যাটনের তুলনায় শ্রেষ্ঠ প্রমাণিত হয়েছিল; কারণ প্যাটনের জটিল স্টেরিওস্কোপিক রেঞ্জ-ফাইন্ডার এবং অত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক কম্পিউটারগুলো সাধারণ পাকিস্তানি "সওয়ার" বা সেনাদের জন্য পরিচালনা করা বেশ কঠিন ছিল।
    • পিটার সারসন, টনি ব্রায়ান এবং ডেভিড ই. স্মিথ, সেঞ্চুরিয়ন ট্যাঙ্ক ইন ব্যাটেল (অসপ্রে - ভ্যানগার্ড ২২)।
  • ভারত সরকার যখন একতরফাভাবে ঘোষণা করল যে জম্মু ও কাশ্মীর এখন থেকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো সমান মর্যাদা পাবে, তখন ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সাথে আবারও বৈরিতার সৃষ্টি হয়। এর ফলে স্থানীয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য উভয় পক্ষই কঠোর এবং প্রথাগত যুদ্ধে লিপ্ত হ্যে যায়। কচ্ছের রনে খণ্ড খন্ড যুদ্ধ (এপ্রিল-মে) ছাড়াও পাকিস্তান কাশ্মীর যুদ্ধবিরতি রেখা বরাবর আর্টিলারি বা কামানের সহায়তায় অনুপ্রবেশ শুরু করে, যা ওই ধরনের ভূখণ্ডে গেরিলা কৌশলের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছিল—যেখানে প্রায় ১০,০০০ অনিয়মিত যোদ্ধা ২০০-এর বেশি কামান ও মর্টারের সহায়তায় থাকা ৫০,০০০ নিয়মিত ভারতীয় সেনাকে ব্যস্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিল। ভারতীয়রা এভাবে বিভ্রান্ত হয়ে আছে ভেবে ১৯৬৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানিরা জম্মুর উত্তরে চাম্ব সেক্টরে আক্রমণ চালায়। এটি ছিল ট্যাঙ্কের জন্য উপযোগী সমতল এলাকা এবং তারা সেখানে বিশাল আর্মার্ড শক্তি ও ব্যাপক কামানের সমর্থন নিয়ে তাদের উপর চড়াও হয়েছিল। কিন্তু একটি কঠোর যুদ্ধের পর ভারতীয়রা তাদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয়রা ৬ সেপ্টেম্বর অমৃতসর-লাহোর অক্ষ বরাবর একটি সীমিত আক্রমণ শুরু করে যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি ট্যাঙ্কগুলোকে চাম্ব থেকে সরিয়ে আনা এবং যুদ্ধের গতি বাড়ার সাথে সাথে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওপর নির্ণায়ক আঘাত হানা। পরবর্তী পাক্ষিক জুড়ে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে এবং খুব সামান্য আঞ্চলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একসময় যুদ্ধটি এক প্রকার স্তিমিত হয়ে আসে। তবে ট্যাঙ্ক ধ্বংসের হিসাব স্পষ্টভাবেই ভারতীয়দের অনুকূলে ছিল, যার মাধ্যমে পাকিস্তানিরা বুঝতে শুরু করেছিল যে ভারতীয়দের হারানো মোটেও সহজ কাজ নয়।
    • ব্রিগেডিয়ার শেলফোর্ড বিডওয়েল, দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার ইন দ্য টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি (সালামাণ্ডার বুকস লিমিটেড ১৯৭৭), খণ্ড ৫, এশিয়ান ওয়ারস অফ ইম্পেরিয়াল সাকসেশন, পৃষ্ঠা ১৬৪-১৭৩।
১১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ভারতের রাজস্থানের মুনাবাও রেলওয়ে স্টেশনটি দখল করে সেখানে তাদের পতাকা উত্তোলন করেছিল। যুদ্ধের পর তাশখন্দ চুক্তির মাধ্যমে ভারত পুনরায় এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত স্টেশনটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। বর্তমানে এটি দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সীমান্ত সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত।
  • ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব ছিল উত্তর-উপনিবেশিক যুগের এমন এক বৈরিতা যা দেতঁত (উত্তেজনা প্রশমন) কে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। এই বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল কাশ্মীর অঞ্চল, যার ১৯৪৮ সালের বিভক্তিকে (ভারত বিভাজন) পাকিস্তান সবসময়ই অস্বীকার করে এসেছে। শুরুতে ভারত স্নায়ুযুদ্ধের সময় নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে চেয়েছিল, কিন্তু ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের পর দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অন্যদিকে পাকিস্তান, যারা আগে পশ্চিমা ব্লকের একনিষ্ঠ সদস্য ছিল, ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর চীনের ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। উভয় ক্ষেত্রেই ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিমজ্জিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। তবে ১৯৬৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন একজন সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে উভয় পক্ষের-ই কৃতজ্ঞতা অর্জন করে।
    • ক্যারোল সি. ফিঙ্ক, দ্য কোল্ড ওয়ার: অ্যান ইন্টারন্যাশনাল হিস্ট্রি (২০১৭)
  • “১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এবং ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিবৃতিগুলো সামান্য বিশ্লেষণ করলেই এর প্রচুর প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সামরিক অর্থে জিহাদ ধারণার আদি ও কঠোর রূপটি আজও কতটা শক্তিশালী। অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে একটি সামষ্টিক ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে দেখা হয় এবং এর মাধ্যমে ধর্মীয় পুণ্য অর্জিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। ইস্যুটি যতই ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হোক না কেন, মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যকার সরাসরি সংঘাতের সাধারণ বাস্তবতাই জনমনে একে একটি ধর্মীয় যুদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যথেষ্ট; এবং এর ফলে সরকারগুলোও সেদিকেই পরিচালিত হয়। পশ্চিমা দর্শকদের সামনে কর্তৃপক্ষ যখন এই সত্যকে অস্বীকার করে, তখন তার অর্থ দাঁড়ায় কেবল বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের বক্তব্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করার একটি প্রচেষ্টা—যা ধর্মযুদ্ধবিরোধী এবং ধর্ম ও রাজনীতিকে আলাদা করে দেখা কোনো ফোরামের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়...।”
    • গুস্তাভ ফন গ্রুনবাম, ১৯৭০; উদ্ধৃত: অ্যান্ড্রু বোস্টম (২০১৫), শরিয়া বনাম ফ্রিডম: দ্য লেগাসি অফ ইসলামিক টোটালিটারিয়ানিজম
  • লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক অ্যাভ্রিল পাওয়েলের মতে, পাকিস্তানের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে বিশেষ করে তথ্য বাদ দেওয়ার মাধ্যমে ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোকে বিকৃত করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ইতিহাস মুছে ফেলার এই অভ্যাসের দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। এর একটি উদাহরণ হলো পাকিস্তানি পাঠ্যবইগুলোতে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আলোচনার ধরন। ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করা এই যুদ্ধের প্রচলিত বর্ণনায় চার দশক পরেও অপারেশন জিব্রাল্টারের কোনো উল্লেখ নেই। প্রকৃতপক্ষে, আমি যে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ইতিহাস অধ্যাপকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তারা দাবি করেছেন যে তারা কখনো অপারেশন জিব্রাল্টার এবং সেই অদূরদর্শী সামরিক হঠকারিতার পরিণাম সম্পর্কে শোনেননি, যার ফলে ভারত লাহোরে আক্রমণ চালিয়েছিল.... যেহেতু তারা তাদের সামরিক নেতাদের এই হঠকারিতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না, তাই তারা কেবল এটিই মনে করতে পারেন যে পাকিস্তানি রাজনীতিবিদরা আবারও কোনোভাবে "সামরিক বিজয়ের মুখ থেকে কূটনৈতিক পরাজয় ছিনিয়ে এনেছেন"।
    • ওয়াই. রোসার, ইসলামাইজেশন অফ পাকিস্তানি সোশ্যাল স্টাডিজ টেক্সটবুকস, ২০০৩।
  • ১৯৬৫ সালে যখন সালমানের বয়স ছিল তেরো বছর, তখন সে অন্য এক ধরনের ইসলাম সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। এটি ছিল ভারতের সাথে সেই সংক্ষিপ্ত ও অমীমাংসিত যুদ্ধের সময়। "তখন মুজাহিদদের যুদ্ধে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবং তাদের জান্নাত ও স্বর্গের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গান প্রচার করা হতো। লাহোর শহরের সাধারণ মানুষের দল, যাদের হাতে ছিল কেবল লাঠি, তারা অবিশ্বাসী হিন্দুদের বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধে লড়াই করার জন্য বেরিয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল। মৌলভিরা তাদের ভেতরে এমন উন্মাদনা জাগিয়ে দিচ্ছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, সেই মৌলভি কিন্তু লোকগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন না; তিনি তার মসজিদে নিরাপদেই বসে ছিলেন।"
    • ভি. এস. নাইপল, বিয়ন্ড বিলিফ (ভিন্টেজ, ১৯৯৯)।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]