বিষয়বস্তুতে চলুন

মন্মথমোহন বসু

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

মন্মথমোহন বসু (২৬ জুলাই ১৮৭১ - ১৯৫৯) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি লেখক ও শিক্ষাবিদ। তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজের বাংলা ভাষার প্রথম অধ্যাপক এবং পরে এমিরিটাস প্রফেসর হন। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হলো, আঁধারে আলো (১৯৩৩), বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ (১৯৪৮) প্রভৃতি।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • অন্ন চিন্তা যে মস্তিষ্ককে উর্ব্বর করে সেটা একটা পরীক্ষিত সত্য—তবে তাতে খাদ্য শস্য যত জন্মাক আর না জন্মাক, আগাছা যে প্রচুর পরিমাণে জন্মায় তা’তে সন্দেহ নাই।
    • আঁধারে, প্রথম অঙ্ক, আঁধারে আলো - মন্মথ মোহন বসু, প্রকাশক—শ্রীবরেন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
  • কোন নদীর গতি-প্রকৃতি বুঝিতে হইলে তাহার মূল উৎস এবং যে সকল উপনদীর সংযোগে তাহার পুষ্টি সাধিত হইযাছে তাহার অনুসন্ধান করা আবশ্যক হয়। জাতীয় সংস্কৃতির ধারাও নদী-প্রবাহের ন্যায়। একটা উৎস হইতে বহির্গত হইয়া পরে নানা-দেশাগত উপধারার দ্বারা ইহা পুষ্ট হয় এবং তাহার ফালে কোন কোন স্থানে মূলধারাটির এরূপ পরিবর্তন ঘটে যে তাহাকে চিনিবার উপায় থাকে না।
    • নাটকের উৎপত্তি—প্রাক্ আর্যযুগ ও আর্যযুগ, প্রথম অধ্যায়, বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - মন্মথমোহন বসু, প্রকাশক—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
  • অর্থ কি আমিই বুঝেছি যে তোমাকে বোঝাব? তা’ বুঝ্‌লেত এত দিনে অর্থবান হোতে পারতুম! তবে publisher মহাশয়ের সঙ্গে কথাবার্ত্তার পর আমার বেশ হৃদয়ঙ্গম হোল যে, সাহিত্য ব্যবসায়ে সাফল্য লাভ কোর্‌তে হোলে আমার আরও কিছু দিন সাধনার প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ততদিন আমায় ধারে চাল ডাল যোগাতে মূর্খ মুদিটার বিশেষ আগ্রহ দেখা গেল না। আমারও সে প্রস্তাব তার কাছে কোরতে সাহস হোলনা—সুতরাং “ছেড়ে দিলুম পথটা।”
    • আঁধারে, প্রথম অঙ্ক, আঁধারে আলো - মন্মথ মোহন বসু, প্রকাশক—শ্রীবরেন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
  • পালাগানে প্রথমে কেবল গানই থাকিত, পরে তাহার ভিতর মধ্যে মধ্যে আবৃত্তি করিবার জন্য ছড়া ও কবিতা সন্নিবিষ্ট করা হইত। এই আবৃত্তির অংশ ক্রমশঃ বাড়িয়া গিয়াছিল, কিন্তু আমাদের দেশের পাঁচালির ছড়ার মত সে সকল অংশ সুরের সহিত আবৃত্ত হইত। তাহার পর সুরসংযুক্ত ছড়ার পরিবর্তে নাটকীয় ক্রিয়াসহ কথোপকথন ব্যবহৃত হইতে আরম্ভ হয়। এইরূপে পালাগান ক্রমশঃ নাটকে পরিণত হয়।
    • বাংলা নাটকের ক্রমবিকাশ—মধ্যযুগ, তৃতীয় অধ্যায়, বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - মন্মথমোহন বসু, প্রকাশক—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
  • হাঁ, দু’ একটা মিষ্টি কথা মাঝে মাঝে দয়ার্দ্র সমালোচকদের মুখে শুন্‌তে পাই বটে, কিন্তু তাতে ত আমার মুদীর দেনা শোধ হয় না। লাভের মধ্যে সে কথা গুলো শুনে মাথাটা আরো বিগ্‌ড়ে যায়—একটা প্রকাণ্ড আত্মমর্য্যাদা-জ্ঞান সজাগ হোয়ে ওঠে—যে রকম ছবি বাজারে বিকোয় সে রকম ছবি আঁকতে আর মন চায় না। ভাবি আমি এত বড় আর্টিষ্ট হোয়ে কলালক্ষ্মীর অপমান কোরবো? ফলে কলালক্ষ্মী অপমানের হাত থেকে নিস্তার পেয়েছেন, কিন্তু আমি লক্ষ্মীছাড়া হোয়ে ‘হা অন্ন জো অন্ন’, কোরে বেড়াচ্ছি!
    • আঁধারে আলো নাটকে জ্যোতির্ম্ময়ের উক্তি, প্রথম অঙ্ক, আঁধারে আলো - মন্মথ মোহন বসু, প্রকাশক—শ্রীবরেন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫
  • সূর্যাদেব অতি প্রাচীনকালে শিবঠাকুরে রূপান্তরিত হইলেও তাহার স্মৃতি এখনও কয়েকটি প্রাচীন গাথায় রক্ষিত আছে। তন্মধ্যে বরিশাল হইতে প্রাপ্ত একটি গান বিশেষ কৌতূহলোদ্দীপক। এটি সূর্যাঠাকুরের লীলাবিষয়ক একটি ছোট পালাগান। ইহা অপেক্ষাকৃত আধুনিক ভাষায় লিখিত হইলেও ইহার মূল যে অতি প্রাচীন তাহাতে সন্দেহ নাই। পরবর্তীকালে নানা পরিবর্তনের ফলে যে ইহা বর্তমান অবস্থা প্রাপ্ত হইয়াছে তাহা বেশ বোঝা যায়। বলা বাহুল্য, আমাদের প্রাচীন পুঁথি ও পালাগান মাত্রেরই অল্পবিস্তর এইরূপ দশা ঘটিয়াছে।
    • সৌর উৎসবের নানা রূপান্তর, বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - মন্মথমোহন বসু, প্রকাশক—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
  • ভবিষ্যতে আমি এমন একটা ফার্ম খুল্‌বো যার কাজ হবে পথহারা লোকেদের সাম্‌নে আলো ধরা। তা ছাড়া ‘মুন্‌লাইট’ নামটা—‘সান্‌লাইট’ নামের চেয়ে বেশী appropriate—কারণ রাত্রে যখন সূর্য্যের আলো নিবে যায়, পৃথিবী ঘোর আঁধারে ডুবে যায়, তখন সেই অন্ধকারের পর্দ্দা ভেদ্ কোরে আলো ফোটায় চন্দ্র! তেমনই মানুষের যখন আশাদীপ নিবে যায়, সমস্ত জীবনটা অন্ধকারময় হোয়ে পড়ে, তখন আমাদের মুন্‌লাইট আবার আশার বাতি জ্বেলে তার মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলে।
    • আঁধারে আলো নাটকে চন্দ্রের উক্তি, দ্বিতীয় অঙ্ক, আঁধারে আলো - মন্মথ মোহন বসু, প্রকাশক—শ্রীবরেন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
  • ঊনবিংশ শতাব্দীর সপ্তম দশকে দেশপ্রেমের এক প্রবল বন্যা আসিয়া আমাদের শিক্ষিত সমাজকে আলোড়িত করিয়াছিল এবং তাহার ফলে অনেকগুলি জাতীয় ভাবাত্মক ঐতিহাসিক নাটক লিখিত ও অভিনীত হইয়াছিল। কিন্তু আদ্যান্ত কঠোর বীররস আশ্রয় করিয়া নাটক জমান কঠিন বিবেচনা করিয়া নাট্যকারগণ এই সকল নাটকে স্বরচিত মধুর প্রণয়কাহিনী ঢুকাইয়া দিতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই সকল প্রণয়কাহিনীকে অতিরিক্তরূপে ‘রোমাণ্টিক’ করিতে গিয়া তাঁহারা ইতিহাসের শ্রাদ্ধ করিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হইতেন না।
    • অশ্রুমতী নাটক, বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - মন্মথমোহন বসু, প্রকাশক—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৮-১০৯
  • যে জ্যোতি প্রাসাদের দিকে না গিয়ে কাঙ্গালিনীর কুঁড়ে ঘর আলো কোর্‌তে ছুটে যায়, কাঙ্গালিনী তার মর্য্যাদা—তার আদর—জানে। কি বেশে কোন পথে সে আলো এল’ তা’ দেখ‍্তে অভাগিনী ব্যস্ত হয় না। সে চায় আলো—লণ্ঠনটা ফুলকাটা কি প্লেন—সে চর্চ্চা কোরে সে মাথা ঘামায় না! এমন কি, যদি সে তরুণীও হয় তা’ হোলেও না—কারণ, তরুণীরাও মানুষ—তাদেরও প্রাণ আছে।
    • আঁধারে আলো নাটকে বিজলীর উক্তি, তৃতীয় অঙ্ক, আঁধারে আলো - মন্মথ মোহন বসু, প্রকাশক—শ্রীবরেন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮২
  • সমাজ ও পরিবারের বন্ধনরজ্জু—প্রেম, আর রাষ্ট্রের বন্ধনরজ্জু—আইন। আইনের বন্ধন শিথিল হইলে যেমন রাষ্ট্র থাকেনা, তেমনই প্রেমের বল হ্রাসপ্রাপ্ত হইলে সমাজ ও পরিবার টেঁকেনা। অহংবাদ প্রেমের পরিপন্থী—সুতরাং অহংবাদ প্রবল হইলে আমাদের সমাজের ভিত্তি ভাঙ্গিয়া যায়। ইহার উপর যদি সমাজপতি নিজেই দুর্বল হইয়া পড়েন তাহা হইলে তাহা ধ্বংসপ্রাপ্ত হইতে বিলম্ব হয় না।
    • “প্রফুল্ল” নাটকের বৈশিষ্ট্য, বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - মন্মথমোহন বসু, প্রকাশক—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫৫
  • অনুকূল ও প্রতিকূল শক্তির দ্বন্দ্বই নাটকের প্রাণ—উভয়ের ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়া নাটক পরিণতির পথে অগ্রসর হয়। এই উভয় শক্তি যে সকল চরিত্র ও ঘটনা অবলম্বন করিয়া প্রকাশ পায়, সেই সকল চরিত্র ও ঘটনা নাটকের প্রয়োজনীয় অঙ্গ—তাহারা মুখ্য চরিত্র ও ঘটনার বিকাশ সাধনে সহায়তা করে।
    • দ্বিজেন্দ্রলালের নাটকের গুণ ও দোষ, বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - মন্মথমোহন বসু, প্রকাশক—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২০৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]