বিষয়বস্তুতে চলুন

ময়ূর

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে ময়ূরের মতাে নাচে রে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ময়ূর হলো ফ্যাজিয়ানিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত অত্যন্ত সুন্দর একটি পাখি। এশিয়ায় পাভো গণের মোট দুইটি প্রজাতির এবং আফ্রিকায় আফ্রোপাভো গণের একটি ময়ূরের প্রজাতি দেখা যায়। এশিয়ার প্রজাতি দুইটি হলো নীল ময়ূর আর সবুজ ময়ূর। আফ্রিকার প্রজাতিটির নাম কঙ্গো ময়ূর। নীল ময়ূর সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশেই দেখা যায়। আর সবুজ ময়ূর মায়ানমার থেকে জাভা পর্যন্ত বিস্তৃত। ময়ূর বন্য পাখি এবং মাটির গর্তে বাস করে কিন্তু গাছে বিশ্রাম করে। আশঙ্কাজনক হারে বিশ্বব্যাপী ময়ূরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে এরা বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ময়ূর নাচে কোকিল ডাকে কিন্তু মানুষ ঐটুকু দেখেই খুসি হ’য়ে নকল নিতে বসে না—সে নিজের নাচ নিজের সাড়া খুঁজে খুঁজে বার করে। তার নাচ ময়ুরের নাচের তার সাড়া কোকিলের সাড়ার প্রতিধ্বনি করে না, নতুন সুরে নতুন ছন্দে প্রকাশ পায়।
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রূপবিদ্যা, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৭
  • সীতা, পূর্ব্বে পঞ্চবটী বাসকালে একটি ময়ূরশিশু প্রতিপালন করিয়াছিলেন। একটি কদম্ববৃক্ষ সীতা স্বহস্তে রোপণ করিয়া, স্বয়ং বর্দ্ধিত করিয়াছিলেন। রাম দেখিলেন, যে সেই কদম্ববৃক্ষে দুই একটি নবকুসুমোদ্গম হইয়াছে। তদুপরি আরোহণ করিয়া সীতাপালিত সেই ময়ূরটি নৃত্যান্তে ময়ূরী সঙ্গে রব করিতেছিল। বাসন্তী রামকে সেই ময়ূরটী দেখাইলেন। দেখিয়া রামের মনে পড়িল, সীতা তাহাকে করতালী দিয়া নাচাইতেন, নাচাইবার সময়ে তালের সহিত সীতার চক্ষুও পল্লবমধ্যে ঘুরিত।
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, উত্তরচরিত, বিবিধ সমালোচন- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কাঁঠালপাড়া, প্রকাশসাল- ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দ (১২৮৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশসাল- ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৪০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩
  • হঠাৎ গৃহপালিত ময়ূরের ডাক শুনিয়া আমার বন্ধু বলিয়া উঠিলেন— আমি ঐ ময়ূরের ডাক সহ্য করিতে পারি না; কবিরা কেকারবকে কেন যে তাঁদের কাব্যে স্থান দিয়াছেন, বুঝিবার জো নাই। কবি যখন বসন্তের কুহুস্বর এবং বর্ষার কেকা—দুটাকেই সমান আদর দিয়াছেন, তখন হঠাৎ মনে হইতে পারে, কবির বুঝি কৈবল্যদশাপ্রাপ্তি হইয়াছে, তাহার কাছে ভালো ও মন্দ, ললিত কর্কশের ভেদ লুপ্ত।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেকাধ্বনি, বিচিত্র প্রবন্ধ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৫
  • একটি ময়ুর তার পেখমের সবটুকু অভ্র ও আবীর দিয়েছে আমাকে।
    একটি ময়ূর তার হৃদয়ের বিছানা বালিশে
    মশারির টাঙানো খাটে, দরজায়, জানালায়, নীল আয়নায়
    অতিথিশালার মতো যখন-তখন এসে ঘুমোবার, হেঁটে বেড়াবার
    সুখটুকু, স্বাধীনতাটুকু
    সোনার চাবির মতো হাতে তুলে দিয়েছে স্বেচ্ছায়।
  • ময়ূরের ছবি দেখিতে সকলে তাহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িলেন। ছবি দেখিয়া লম্বোদর একটু হাসিলেন,—কুপিত হইয়া ডমরুধর বলিলেন,— “হাসিও না। এ তোমাদের পৃথিবীর ক্যাক্-কেঁকে প্যাকম-ধরা ময়ূর নহে। এ আসল কার্ত্তিকের কৈলাসি ময়ূর।”
    তাহার পর ডমরুধর পুনরায় গল্প আরম্ভ করিলেন—গণেশ, লক্ষ্মী, দুর্গা ও সরস্বতীকে প্রণাম করিয়া আমি ময়ূরের পিঠে চড়িয়া বসিলাম। তাহাকে আকাশের দিকে চালাইতে চেষ্টা করিলাম। ময়ূর উপরে উঠিল না। তখন দেবী হাসিয়া বলিলেন,— মন্ত্র না পড়িলে নরলোককে লইয়া ময়ূর উপরে উঠিবে না।
    • ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, ডমরুধরের সিদ্ধিলাভ, ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯২
  • ময়ূরের আনয়নে বিলম্ব দেখিয়া, কুপিত হইয়া বালক কহিল এখনও ময়ূর দিলে না; তবে আমি ইহাকে ছাড়িব না; এই বলিয়া সিংহশিশুকে অত্যন্ত বলপূর্ব্বক আকর্ষণ করিতে লাগিল। তাপসী চেষ্টা পাইলেন কিন্তু তাহার হস্ত হইতে সিংহশাবক ছাড়াইতে পারিলেন না।
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর. শকুন্তলা, সপ্তম অঙ্ক, শকুন্তলা- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১২৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১
  • হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে ময়ূরের মতাে নাচে রে।
    শত বরনের ভাব-উচ্ছ্বাস কলাপের মতাে করেছে বিকাশ,
    আকুল পরান আকাশে চাহিয়া উল্লাসে কারে যাচে রে॥
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতবিতান- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৪০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৭০
  • ময়ূর নিজের আনন্দে তার চিত্র-বিচিত্র কলাপ বিস্তার করে, বাগানের শোভা কি বনের শোভা কি খাঁচার শোভা তাতে হ’ল কি না হ’ল ময়ূরের মনে একথা উদয়ও হ’ল না; এতটা স্বাধীনতা মানুষ শিল্পে চায় কিন্তু পেলে কই?
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শিল্পশাস্ত্রের ক্রিয়াকাণ্ড, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৮
  • আজ ধায় স্বদেশের পানে, তরুশাখে
    কলাপী ময়ূর ডাকে ময়ূরী প্রিয়াকে
    কেকা কলরবে, ত্যজি ভূতল শয়নে
    ধরনী দাড়াইল মুক্ত বাতায়নে
    • প্রিয়ম্বদা দেবী, বর্ষারম্ভে প্রকৃতির প্রতি, রেণু - প্রিয়ম্বদা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশক ও মুদ্রক- নববিভাকর প্রেস, প্রকাশসাল- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫
  • এত ময়ূরের ঝাঁক্‌ আমি কখনও দেখি নাই—আর এমন সুন্দর ময়ূর। পথের মধ্যেই ময়ূরেরা বিচরণ করিতেছে এবং তাহদের মণিময় পাখা সূর্য্যালোকে ঝিক্‌ ঝিক্‌ করিতেছে। এই ময়ূরেরা মুক্ত অথচ পোষা, ইহারা কাহারও সম্পত্তি নহে এবং বিশ্বস্ত ভাবে লোকের মধ্যে বাস করিতেছে। সকল প্রকার নিরীহ জীবজন্তু হিন্দুদিগের নিকট পবিত্র; ময়ূরও এই কারণে হিন্দুদিগের সেব্য—তাহাদিগকে ছোলা খাইতে দেওয়া লোকে পুণ্য কার্য্য বলিয়া মনে করে। আমার ভৃত্য ছেদিলাল, আমাকে গম্ভীর ভাবে বলিল, “এই ময়ূরেরা কাহারও কিছু হানি করে না, কিন্তু ইংরাজেরা এমনি দুষ্ট, ইহাদিগকে পাথর ছুঁড়িয়া মারে।”
    • আঁদ্রে শেভ্রিয়োঁ, ভারতবর্ষে—জয়পুর, ভারতবর্ষে- আঁদ্রে শেভ্রিয়োঁ, অনুবাদক- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশসাল- ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩১০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৫
  • পুষিয়াছি সারী শুক, ময়ূর ময়ূরী
    কুঞ্জবনে; অলিকুল গুঞ্জরে সতত;
    কুহরে কোকিল ডালে; ফোটে ফুলরাজী।
    কিন্তু শোভাহীন বন প্রভুর বিহনে!
    • মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বীরাঙ্গনা কাব্য - মাইকেল মধুসূদন দত্ত, তৃতীয় সর্গ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
  • ময়ূরের স্বভাব এই যে, সে রাত্রি যাপনের নিমিত্ত একটি উপযোগী বাসযষ্টি বাছিয়া লয়; প্রতি সন্ধ্যায় সেই নির্দ্দিষ্টস্থানে আশ্রয় লইবার নিমিত্ত উপস্থিত হয়;—বিহঙ্গতত্ত্ববিদ্‌গণ ইহা বিশেষরূপে লক্ষ্য করিয়াছেন। গৃহপালিত ময়ূরগণের বাসযষ্টির ব্যবস্থা নির্দ্দেশ করিয়া কবি তাৎকালিক পক্ষিপালন-প্রথার সুস্পষ্ট আভাস দিয়াছেন। আর্য্যাবর্ত্তে গৃহপালিত ময়ূরটিকে গৃহস্থ কুলবধূ কেমন করিয়া বলয়শিঞ্জিতে নাচাইয়া থাকেন, তাহার জন্য সাক্ষ্য লইতে আমাদের পাঠকপাঠিকাকে পাশ্চাত্য ornithologistএর নিকটে যাইতে হইবে না, কিন্তু গৃহের বাহিরে ময়ূরীর সম্মুখে ময়ূর কলাপবিস্তার করিয়া কেমন নৃত্য করে, তাহা দেখিয়া অনেক বিদেশী পক্ষিতত্ত্ববিৎ মুগ্ধ হইয়ছেন।
    • সত্যচরণ লাহা, মেঘদূতের পক্ষিতত্ত্ব, পাখীর কথা - সত্যচরণ লাহা, তৃতীয় ভাগ, প্রকাশক- বেঙ্গল বুক কোম্পানী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫২
  • সোনার স্বপ্ন যেন আর-একবার ধরা দেবে দেবে করলে, যেখানে সোনার হরিণ থাকে। অলকার রঙছুট ময়ূরী এল। সে-জগতে সে রঙের অপেক্ষ রাখে না। সেই যে কুঞ্জে নূপুর বাজে সেখানে রঙছুট ময়ূরী খেলা করে। বিরহের গভীর সুর বাজে। মনময়ূরী একলা। শক্ত পাথরে মন-পাখি বাধছে বাসা।
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জোড়াসাঁকোর ধারে, জোড়াসাঁকোর ধারে- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
  • দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিশ্বামিত্র বললেন, ঠিক কথা। আমি তোমার পিতা নই, মেনকাও তোমার মাতা নয়, যারা তোমাকে ত্যাগ করেছিল তাদের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক নেই। যাঁরা তোমাকে আজন্ম পালন করেছেন তাঁদেরই তুমি কন্যা। খুকী, তুমি কি খেলনা চাও বল, রূপোর রাজহাঁস, সোনার হরিণ, পান্না-নীলার ময়ূর—
    অনসূয়া ঠোঁট বেকিয়ে বলল, ভারী তো। আমাদের আসল হাঁস হরিণ ময়ূর আছে।
    প্রিয়ংবদা বলল, আমাদের হাঁস প্যাঁক প্যাঁক করে, হরিণ লাফায়, ময়ূর নাচে। তোমার হাঁস হরিণ ময়ূর তা পারে?
    বিশ্বামিত্র বললেন, না, শুধু ঝকমক করে।
    • রাজশেখর বসু, কর্দম মেখলা, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭-১৮
  • খ্রীঃ পূঃ চতুর্থ-পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীক্ সাহিত্যে ময়ূরের পরিচয় পাওয়া যায়। আরিষ্টোফেনিসের নাটক ইহার প্রমাণ। রোমে ধনী গৃহস্থ ও কোন কোন সম্রাট্ শিখীকে ভোজ্যদ্রব্য না করিলে আনন্দবোধ করিতেন না। প্লিনির পুস্তকে দেখা যায় যে, কেহ কেহ ময়ূরকে বাড়ীতে অতি যত্ন করিয়া পুষিত এবং কিছুদিন পরে তাহারা সেই সকল গৃহপালিত হৃষ্টপুষ্ট শিখী ভক্ষ্যহিসাবে বিক্রয় করিয়া প্রচুর অর্থ উপার্জ্জন করিত। অতএব ইহা স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, ময়ূর বহুকাল হইতে মানবগৃহে পালিত হইয়া আসিতেছে। আবার ময়ূরের পুচ্ছ ডাকাতের আভরণ বলিয়া নাটকের মধ্যে উল্লেখ দেখিয়াছি।
    • সত্যচরণ লাহা, ময়ূর, পাখীর কথা - সত্যচরণ লাহা, তৃতীয় ভাগ, প্রকাশক- বেঙ্গল বুক কোম্পানী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩১
  • আমি বলিলাম, —“যদি বর দিবেই, তবে কার্তিকের ময়ূরটী আমাকে প্রদান কর। উহার পিঠে চড়িয়া আমি আকাশ ভ্রমণ করিব।”
    দেবী বলিলেন,—“ছি বাছা, ও কথা বলিও না। কার্ত্তিক ছেলে মানুষ। তাহার ময়ূরটি দিলে সে কাঁদিবে।”
    আমি উত্তর করিলাম, —“অন্য বর চাই না মা! নিদেন সকাল হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত একদিনের জন্য ময়ূরটীকে দাও, মা! তাহার পিঠে চড়িয়া সমস্ত দিন আকাশ ভ্রমণ করিয়া সন্ধ্যা বেলা তোমাদের ময়ূর তোমাদিগকে ফিরাইয়া দিব। যদি না দাও, তবে পুনরায় আমি এই তপে বসিলাম।”
    • ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, ডমরুধরের সিদ্ধিলাভ, ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯১
  • বনের তপস্বিনীরা কত ছেড়ে দিতে বলছিলেন, কত মাটীর ময়ূরের লোভ দেখাচ্ছিলেন, শিশু কিছুতে শুনছিল না। এমন সময় রাজা সেখানে এলেন, সিংহ-শিশুকে ছাড়িয়ে সেই রাজ-শিশুকে কোলে নিলেন; দুষ্ট শিশু রাজার কোলে শান্ত হ’ল। সেই রাজশিশুকে কোলে করে রাজার বুক যেন জুড়িয়ে গেল। রাজা তো জানেন না যে এ শিশু তাঁ’রই পুত্র;
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শকুন্তলা - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিতীয় সংস্করণ, আদি ব্রাহ্মসমাজ সংস্করণ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩০-৩১

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]