বিষয়বস্তুতে চলুন

মাইকেল জ্যাকসন

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

মাইকেল জ্যাকসন (১৯৫৮–২০০৯) "পপ সঙ্গীতের রাজা" হিসাবে খ্যাত, একজন বৈশ্বিক সংস্কৃতি আইকন এবং যুগান্তকারী শিল্পী, যার অবদান আধুনিক পপ, রক ও আরঅ্যান্ডবি সঙ্গীতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। মাত্র ৫ বছর বয়সে "জ্যাকসন ৫"-এর মাধ্যমে তার সঙ্গীতযাত্রা শুরু করে তিনি একক কর্মজীবনে "থ্রিলার" (১৯৮২), "ব্যাড" (১৯৮৭) এবং "ডেঞ্জারাস" (১৯৯১)-এর মতো যুগসৃষ্টিকারী অ্যালবামের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার অনবদ্য নৃত্যশৈলী (যেমন মুনওয়াক), চমকপ্রদ মিউজিক ভিডিও এবং স্বাতন্ত্র্যসূচক ফ্যাশন (সাদা গ্লাভস, মিলিটারি জ্যাকেট) সঙ্গীত ও বিনোদন জগতে নতুন প্রেরণা যুক্ত করে। তিনি ৩৯টিরও বেশি দাতব্য সংস্থাকে সমর্থন করে মানবহিতৈষী কার্যক্রমে অবদান রেখেছিলেন এবং ১৩টি গ্র্যামি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেন। তার সৃজনশীলতা ও শৈল্পিক উদ্ভাবন আজও বিশ্বজুড়ে শিল্পী ও শ্রোতাদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

মাইকেল জ্যাকসন

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আমি স্বপ্ন থেকে জেগে উঠে ভাবি, "বাহ, এটা এখনই কাগজে লিখে ফেলি।" পুরো বিষয়টাই অদ্ভুত। আপনি শব্দগুলো শুনতে পান, সবকিছু ঠিক যেন চোখের সামনে স্পষ্ট। তখন নিজেকেই বলি, 'দুঃখিত, আমি কিন্তু এটা লিখিনি। এটা তো আগে থেকেই ছিল।' এইজন্যই আমি আমার লেখা গানের কৃতিত্ব নিতে পছন্দ করি না। আমার মনে হয়, কোনো এক স্থানে, কোনো এক সময়ে এটা তৈরি হয়ে গেছে, আর আমি শুধু একজন বার্তাবাহক, যার কাজ এটাকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আমি সত্যিই এটা বিশ্বাস করি। আমি আমার কাজকে ভালোবাসি। আমার পেশা নিয়ে আমি খুশি। এটা একপ্রকার বাস্তবতা থেকে মুক্তির পন্থা।
  • লোকেদের শুধু বলেই দেখো না যে আমি মঙ্গল গ্রহ থেকে আসা এক এলিয়েন! তাদের বলো আমি জীবন্ত মুরগি খাই আর মধ্যরাতে ভুডু নাচ করি। তারা যেকোনো কথাই বিশ্বাস করবে, কারণ তুমি একজন সাংবাদিক। কিন্তু আমি, মাইকেল জ্যাকসন, যদি বলি, "আমি মঙ্গল গ্রহের এলিয়েন, আমি জীবন্ত মুরগি খাই আর মধ্যরাতে ভুডু নাচ করি," তখন লোকেরা বলবে, "ওহ, এই মাইকেল জ্যাকসনটা পাগল! ওর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ওর মুখ থেকে বের হওয়া কোনো কথাই বিশ্বাস করা যায় না।"
    • উদ্ধৃতিটি ১৪ মার্চ ২০১৩-এ জোস বোর্সবুম তাঁর মাইকেল জ্যাকসন: দ্য আইকন বইয়ের পৃষ্ঠা ৮৩-এ তুলে ধরেছেন। এটি ১৯৮৪ সালে মাইকেল জ্যাকসনের বাবলস দ্যা শিম্প অর্জনের পর নেতিবাচক মিডিয়া কভারেজের প্রতিক্রিয়ায় বলা।
  • প্রাচীন ভারতীয় প্রবাদে বলা হয়, কোনো মানুষকে বিচার করো না যতক্ষণ না তুমি তার মোকাসিনে দুই চান্দ্রমাস হেঁটেছ।
    অধিকাংশ মানুষ আমাকে চেনে না, তাই তারা এমন সব কথা লেখে যার বেশিরভাগই মিথ্যা। আমি প্রায়ই খুব কাঁদি কারণ এটি ব্যাথা দেয়, আর আমি শিশুদের নিয়ে চিন্তিত, সমগ্র বিশ্বের, আমার সব শিশুর জন্য। আমি তাদের জন্যই বেঁচে আছি।
    যদি কেউ কোনো চরিত্রের বিরুদ্ধে শুধু প্রমাণযোগ্য কথাই বলত, তাহলে ইতিহাস লেখা সম্ভব হত না।
    প্রাণীরা বিদ্বেষ থেকে আঘাত করে না, বাঁচার তাগিদে করে। সমালোচকরাও একই—তারা আমাদের ব্যথা নয়, রক্ত চায়। তবু আমাকে এগিয়ে যেতেই হবে, সবকিছুতেই সত্য খুঁজতে হবে। শিশু ও বিশ্বের জন্য আমাকে দেওয়া শক্তিকে বহন করতে হবে।
    কিন্তু দয়া করো, কারণ আমি বহুদিন ধরে রক্তক্ষরণ করছি। এমজে।
    • পিপল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হস্তলিখিত নোট (১২ অক্টোবর ১৯৮৭)।
  • চেতনা নিজেকে সৃষ্টির মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা যে বিশ্বে বাস করি, এটি স্রষ্টার নৃত্য। নর্তকেরা চোখের পলকে আসে আর মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়, কিন্তু নৃত্য চিরন্তন থাকে। বহুবার নাচতে গিয়ে আমি কিছু পবিত্র স্পর্শ অনুভব করেছি। সেই মুহূর্তগুলোতে আমার আত্মা উড়াল দিয়ে মহাবিশ্বের সবকিছুর সাথে এক হয়ে যায়। আমি হয়ে যাই নক্ষত্র ও চন্দ্র। আমি হয়ে যাই প্রেমিক ও প্রেমিকা। আমি হয়ে যাই বিজয়ী ও পরাজিত। আমি হয়ে যাই প্রভু ও দাস। আমি হয়ে যাই গায়ক ও গান। আমি হয়ে যাই জ্ঞানী ও জ্ঞাত। আমি নাচতে থাকি, আর তখন তা হয়ে ওঠে সৃষ্টির অনন্ত নৃত্য। স্রষ্টা ও সৃষ্টি একীভূত হয়ে আনন্দের পূর্ণতায় মিশে যায়। আমি নাচতে থাকি—যতক্ষণ না কেবল... নৃত্য থাকে।
    • "দ্য ড্যান্স" — ডেঞ্জারাস অ্যালবামের অভ্যন্তরীণ প্রচ্ছদে প্রকাশিত (১৯৯১)
  • আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি সেই মাধ্যম হওয়ার জন্য, যার মধ্য দিয়ে সংগীত প্রবাহিত হয়। আমি কেবল একটি উৎস, যার ভেতর দিয়ে এটি প্রকাশ পায়। এটির জন্য আমি কৃতিত্ব নিতে পারি না, কারণ এটি ঈশ্বরের কাজ। তিনি আমাকে কেবল একজন বার্তাবাহক হিসেবে ব্যবহার করছেন।
  • যদি তুমি এই পৃথিবীতে প্রবেশ করো এই জেনে যে তুমি ভালোবাসায় পরিপূর্ণ, আর পৃথিবী থেকে বিদায় নাও একই জ্ঞান নিয়ে, তাহলে মধ্যবর্তী সব ঘটনাই মোকাবিলা করা সম্ভব।
  • কাউকে বিচার করো না, যতক্ষণ না তুমি তাদের সাথে একান্তে কথা বলেছ। গল্প যাই হোক না কেন...
    প্রথমত, আমার জানামতে, ত্বক সাদা করার কোনো প্রক্রিয়া আমি ব্যবহার করি না... আমার একটি চর্মরোগ আছে যা ত্বকের বর্ণ নির্ণয়কারী শক্তিকে ধ্বংস করে। এটি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, বুঝেছেন? কিন্তু যখন মানুষ গল্প তৈরি করে যে আমি নিজের পরিচয় থেকে দূরে সরে যেতে চাই, এটা আমাকে ব্যাথা দেয়। এটি আমার জন্য একটি সমস্যা, আমি এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।..জেমস ব্রাউন সত্যি প্রতিভাবান, তিনি যখন ফেমাস ফ্লেমসের সাথে থাকতেন, তা অবিশ্বাস্য ছিল। আমি টেলিভিশনে তাকে দেখতাম আর ক্যামেরাম্যানের উপর রাগান্বিত হতাম—যখনই তিনি সত্যিকার অর্থে নাচতে শুরু করতেন, তারা ক্লোজ-আপে চলে যেত, ফলে আমি তার পা দেখতে পেতাম না। আমি চিৎকার করে বলতাম, "তাকে দেখাও, দেখাও!" যাতে আমি দেখে শিখতে পারি।
  • মাইকেল জ্যাকসন: এর জন্য একটি সময় আছে, আর এটা আপনার করা উচিত নয়। আপনি বাইরে গিয়ে বলতে পারেন না, 'ওহ সে জ্যাকো'। আমি "জ্যাকো" নই। আমি "জ্যাকসন"।
  • ওয়াল্টার্স: মানুষ যখন আপনাকে বলে তখন আপনি কী অনুভব করেন...
  • জ্যাকসন: হ্যাঁ, "ওয়্যাকো জ্যাকো"। এটা কোথা থেকে এল? কোনো ইংরেজ ট্যাবলয়েড! আমারও হৃদয় আছে, আমার অনুভূতি আছে। আপনি যখন আমাকে এমনটা বলেন, তখন আমি তা অনুভব করি। এটা ভালো নয়। এমন করবেন না। আমি পাগল নই।
  • তাদের [আমাকে] অনুকরণ করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। এটা একধরনের প্রশংসা। সবাইকে শুরুতে কারও না কারও আদর্শ মেনে চলতে হয়। আমার ক্ষেত্রে সেটা ছিলেন জেমস ব্রাউন, স্যামি ডেভিস জুনিয়র, জ্যাকি উইলসন, ফ্রেড অ্যাস্টেয়ার, জিন কেলি।
    • এনসিঙ্ক-এর মতো পপ গ্রুপ প্রসঙ্গে মন্তব্য, টিভি গাইড-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে (১ নভেম্বর ২০০১)
  • আমি বুঝতে শুরু করেছি যে আমার বাবার কঠোরতাও একপ্রকার ভালোবাসাই ছিল। নিখুঁত ভালোবাসা নয়, তবুও ভালোবাসা বটে। তিনি আমাকে চাপ দিয়েছিলেন কারণ আমাকে ভালোবাসতেন, চাননি কেউ তার সন্তানকে অবজ্ঞা করুক। সময়ের সাথে তিক্ততার বদলে এখন আমি অনুভব করি কৃতজ্ঞতা... আমার প্রাথমিক ক্ষোভ ধীরে ক্ষমায় রূপ নিয়েছে।
    • অক্সফোর্ড ইউনিয়নে "হিল দ্য কিডস" ভাষণে (২০০১)
  • আমরা কেবল অনুশীলনই করতাম না, আমরা ভয়ে কাঁপতাম অনুশীলনের সময়। কারণ তিনি একটি চেয়ারে বসে বেল্ট হাতে রাখতেন, আর যদি ঠিকমতো না করতেন, তবে তিনি আপনাকে ছিঁড়ে ফেলতেন। সত্যিই শাস্তি দিতেন... আমরা তাঁকে ভয় পেতাম। এতটাই ভয়, যা বর্ণনা করা যায় না। আমার মনে হয় তিনি বুঝতেন না আমরা কতটা ভীত... ভীত... মানে 'আতঙ্কিত'। এতটাই ভয় যে বমি হওয়ার উপক্রম হতো। (জোর দিয়ে) হ্যাঁ। (সাংবাদিক কারণ জিজ্ঞাসা করলে) তাঁর উপস্থিতিই... তাঁকে দেখলেই... আমি এত দ্রুত পালাতাম যে তিনি ধরতেই পারতেন না, কিন্তু যখন ধরতেন, ভগবান! সেটা ভয়াবহ হতো।
    • মার্টিন বাশিরের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নির্মিত ডকুমেন্টারি লিভিং উইথ মাইকেল জ্যাকসন-এ (৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৩); সাক্ষাৎকার গ্রহণকাল,মে ২০০২–জানুয়ারি ২০০৩
  • আমি আগে আমার ঘরে অনেক ম্যানিকিন (পরিচ্ছাদ-প্রদর্শনীর পুতুল) রাখতাম, এখনও রাখি। কারণ আমি প্রচণ্ড একাকীত্বে ভুগতাম, প্রচন্ড রকমের একাকী। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। আমি মানুষ খুঁজে কথা বলার জন্য রাস্তায় ঘুরতাম। এটা আমার ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে... অপরিচিত মানুষদের কাছে গিয়ে বলতাম, "তুমি কি আমার বন্ধু হবে?" তারা বলত, "হে ভগবান! মাইকেল জ্যাকসন!" কিন্তু আমি সেটা চাইতাম না।
  • আমি সবার মতোই। কাটলে রক্ত পড়ে, লজ্জা পেলে মুখে কথা আটকে যায়। মিউজিক ডাউনলোড করার জন্য ভক্তদের জেলে পাঠানোর বিষয়ে আমি হতবাক। অবৈধ ডাউনলোড ভুল, কিন্তু সমাধান জেল নয়। আমেরিকায় আমরা প্রতিকূলতাকে নতুন সুযোগে রূপ দিই, শাস্তিমূলক আইন নয়। অ্যাপলের মিউজিক স্টোরের মতো প্রযুক্তিই সমাধান। এভাবেই আমেরিকা নবীকরণের প্রতীক থাকে। এই ভক্তরাই তো সঙ্গীত শিল্পের সাফল্যের চালিকাশক্তি।
  • মিথ্যা দৌড়ায় স্প্রিন্টের মতো, কিন্তু সত্য ম্যারাথনের মতো দৌড়ায়।
  • ঘৃণায় ভরা এই বিশ্বেও আমাদের আশা করতে হবে। রাগে ভরা এই পৃথিবীতেও সান্ত্বনা দিতে হবে। হতাশার মধ্যে দিয়েও স্বপ্ন দেখতে হবে। অবিশ্বাসের মাঝেও বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে।

মাইকেল জ্যাকসন সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • যদি সাউন্ডটির জন্য তাঁকে ক্রেডিট না দেওয়া হয়ে থাকে, তার কারণ তিনি কনসোল থেকে বের হওয়া শব্দের ফলাফলে খুশি ছিলেন না। সেসময়, গেম কনসোলগুলি সর্বোত্তম সাউন্ড রিপ্রোডাকশন দিতে পারত না, আর মাইকেল এতে হতাশ হয়েছিলেন। তিনি এমন একটি প্রোডাক্টের সাথে যুক্ত হতে চাননি যা তাঁর সংগীতের মান কমিয়ে দেয়...
  • মাইকেল জ্যাকসন যা করেছিলেন, হিপ-হপের আগের যুগে, তা অনবদ্য। ব্ল্যাক মিউজিকে তাঁর প্রাথমিক অবদান অনস্বীকার্য।
  • তিনি ড্রাগ ও অ্যালকোহলের বিরোধী ছিলেন, অত্যন্ত সাধাসিধে জীবনযাপন করতেন; তাঁর সামনে আমি গালিও দিতে পারতাম না। মাইকেলের সাথে থাকা আমাকে আবারও নির্দয়তায় ফিরিয়ে এনেছিল।
  • মাইকেলকে আমার কাছে কখনো কখনো 'হাঁটতে থাকা আহত ব্যক্তি' মনে হয়। তিনি অত্যন্ত ভঙ্গুর একজন মানুষ। মানুষের সাথে যোগাযোগ করাটাই তাঁর জন্য যথেষ্ট কঠিন, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার মতো অবস্থা নয়।
  • আমেরিকায় রাজপরিবারের সবচেয়ে কাছাকাছি সমতুল্য যা পাওয়া যায়, তা হলো মাইকেল জ্যাকসন।
    • সিসকো, [জোসেফ ভোগেলের "ম্যান ইন দ্য মিউজিক" (২০১৯), পৃ. ৩৭৯]-এ উদ্ধৃত


বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]