মুর্তজা বশীর
মুর্তজা বশীর (জন্ম: ১৭ আগস্ট ১৯৩২ - মৃত্যু: ১৫ আগস্ট ২০২০) স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত একজন বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী, কার্টুনিস্ট এবং ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার পিতা ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বগুড়া করনেশন ইন্সটিটিউটে পড়াকালীন সময়ে ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ১৯৪৯ সালে মেট্রিক পাশ করেন। তারপর তিনি ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে ৫ মাস কারাভোগ করেছিলেন এবং পরিশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমতলার মিটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বহু কার্টুন ও ফেস্টুন এঁকেছেন যা দেশ ও ভাষার জন্য লড়াই এবং ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি তিনি ছিলেন প্রথম জীবনে রাজনৈতিক কর্মী, পরবর্তীতে ভাষা-আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী, কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, চিত্রনাট্যকার, সহকারী চিত্রপরিচালক, প্রবন্ধকার, গবেষক ও শিক্ষক। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী কর্তৃক একাডেমি পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৯), একুশে পদক (২০২৭) সহ নানান পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- ‘আজীবন সম্মাননা শুনতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু আমি মোটেও আনন্দিত নই। কেননা জীবিত অবস্থায় কী পেলাম, সেটি বড় কথা নয়; মৃত্যুর পরে আমাকে স্মরণ করা হবে কি না, সেটিই হলো আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’
- ’৭১-এ। জীবনকে ভালোবাসি বলে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম। সবাই যে দেশ থেকে চলে গিয়েছিল যুদ্ধ করবে বলে এটা বিশ্বাস করি না। যেমন আমি যাইনি। ফলে মনের মধ্যে ছিল একটা পাপবোধ।
- ‘ছোটবেলায় বইতে পড়েছিলাম মানুষ মরণশীল। কিন্তু তখন আমার অন্তরাত্মা বলে উঠল, না, মানুষ মরণশীল না। মানুষ অবিনশ্বর।’
- 'আমার ছবি আমার ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ। বলতে গেলে আত্মজীবনীর একেকটি পাতা।'
- সাক্ষাৎকার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রতিবেদনে উল্লেখ্য
- 'একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু ভাষার সংগ্রাম ছিল না। বাঙালিত্বের ওপর যে আঘাত জন্মের পর শিশুকে ঘুম পাড়ানোর জন্য মা যে ঘুম পাড়ানির গান গায়, নৌকার মাঝি যে গান গায়, কৃষক যে গান গায় সেগুলোর ওপর ছিল সেই আঘাত। সেই সঙ্গে একটি বিষয় কিন্তু অনেকেই ঠিক স্মরণ করে না এটা শুধু ভাষার আন্দোলন ছিল না। এটা ছিল শ্রেণি-বৈষম্যের প্রতিবাদ, সর্বস্তরে বাংলার প্রচলনের প্রয়াস।'
- শিল্পী মুর্তজা বশীরের সাক্ষাৎকার 'শহীদ মিনারে গেলে নিজেকে কাপুরুষ মনে হয়'