মুসলমানদের খোরাসান বিজয়
অবয়ব
খোরাসানে মুসলিম বিজয় ছিল সাসানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিদুন খিলাফতের মধ্যে তীব্র যুদ্ধের শেষ পর্যায়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- "৭০৬ খ্রিস্টাব্দে বেইকুন্ডের চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমানরা অনেক সম্পদ লাভ করেছিল। কিন্তু খোরাসান প্রদেশ জয়ের মাধ্যমে মুসলিমরা পূর্বের তুলনায় সবচেয়ে বেশি সম্পদ লাভ করে।দেশ আক্রমণের সময় শহরের হতভাগ্য বণিকরা তাদের বাণিজ্য ভ্রমণে ছিল এবং ফিরে আসার পর তাদের বাসস্থান জনশূন্য অবস্থায় পায়।তা রা তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের উদ্ধারের জন্য যে মুক্তিপণ প্রদান করেছিল তা বিজয়ীদের আরও সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেছিল। এই বিজয়ের পর মহিলাদের প্রাপ্ত অলঙ্কারগুলিকে গলিয়ে সোনায় রূপান্তর করা হয়েছিল। এই প্রাপ্ত সোনার পরিমাণ ছিল এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মেসকাল। অর্জিত আরও জিনিসপত্রের মধ্যে, পঞ্চাশ হাজার মেসকাল সোনার একটি মূর্তির কথাও বর্ণনা করা হয়েছিল। বিজয়ীদের প্রাপ্ত সম্পদের পঞ্চমাংশ এবং সৈন্যদের প্রচুর পরিমাণে পাওয়া অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হেজাউজকে বিজয় করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
- বেইকুন্ডে (খুরাসান) কুতাইবা বিন মুসলিম আল-বাহিলি (৭০৫-৭১৫ খ্রিষ্টাব্দ) সম্পর্কে। মেজর ডেভিড প্রাইস, মোহাম্মদী ইতিহাস, লন্ডন। ১৮১১। নতুন দিল্লি পুনর্মুদ্রণ, ১৯৮৪, প্রথম খণ্ড পৃষ্ঠা ৪৬৭-৬৮।
- “ ৭১২ খ্রিস্টাব্দে কাতেবার সৈন্যবাহিনী শহরের যুদ্ধবাজদের সুরক্ষা দেয়াল ভেঙে ফেলে এবং তীরন্দাজদের কাছে শহরের সবচেয়ে সাহসী রক্ষকদের কয়েকজনের পতন ঘটে। শহরের অবরুদ্ধরা পরের দিন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করার প্রস্তাব দেয় এবং তারা আত্মসমর্পণের প্রতিশ্রুতি দেয়। কাতেবা অনুরোধটি মেনে নেয় এবং পরের দিন কাতেবা ও সমরকন্দের রাজপুত্রের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিতে সমরকন্দ বার্ষিক দশ মিলিয়ন দিরহাম প্রদান এবং তিন হাজার দাস সরবরাহের জন্য সম্মত হয়। এর মধ্যে বিশেষভাবে শর্ত ছিল যে, দাসদের কেউই শিশু অবস্থায় থাকবে না, অথবা বৃদ্ধ বয়স এবং দুর্বলতার কারণে অকার্যকর থাকবে না। তিনি আরও চুক্তি করেছিলেন যে, তার ধর্মের মন্ত্রীদের তাদের মন্দির থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং তাদের মূর্তি ধ্বংস করে পুড়িয়ে ফেলা হবে। এছাড়াও,কাতেবাকে প্রধান মন্দিরের জায়গায় একটি মসজিদ স্থাপন করার অনুমতি দেওয়া হবে, যেখানে, তার ইসলামের নানা বিধি-বিধান পালন করা হবে... এই সবকিছুর পরে অনিচ্ছা সত্যেও ঘুরেক চুক্তিটি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে এগিয়ে যান। কাতেবাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য তিনি নির্ধারিত সময়ে তাঁর নিজের আত্মীয়স্বজন এবং তাঁর সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতিদের মধ্য থেকে নির্বাচিত চারশো লোকের একটি দল নিয়ে সমরকন্দে প্রবেশ করেন। ঘুরেক তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্বাগত জানান এবং তাকে প্রধান মন্দিরের দরজায় নিয়ে যান। কাতেবা তৎক্ষণাৎ ভিতরে প্রবেশ করেন এবং দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের পর, পৌত্তলিক উপাসনার মূর্তিগুলিকে আগুনে নিক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তাঁর সামনে আনার নির্দেশ দেন। এ সময় সমরকন্দের কিছু তুর্কি বা তাতার তাকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করে ঘোষণা করে যে, মূর্তিগুলির মধ্যে এমন একটি মূর্তি রয়েছে যা যদি কেউ গ্রাস করার সাহস করে, তবে সেই ব্যক্তি অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাবে। কাতেবা তাদের জানিয়ে দেন যে, তিনি এই থেকে সরে যাবেন না এবং সেই অনুযায়ী নিজের হাতে মূর্তিগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন। শীঘ্রই এটি পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং মূর্তি তৈরিতে ব্যবহৃত পেরেক থেকে পঞ্চাশ হাজার মেসকাল সোনা ও রূপা সংগ্রহ করা হয়।"
- সমরকন্দে (ফারগানা) কুতাইবা বিন মুসলিম আল-বাহিলি (৭০৫-৭১৫ খ্রিস্টাব্দ) সম্পর্কে। মেজর ডেভিড প্রাইস, মোহাম্মদী ইতিহাস, লন্ডন। ১৮১১। নয়াদিল্লি পুনর্মুদ্রণ, ১৯৮৪, প্রথম খণ্ড।
- “অন্যান্য কর্তৃপক্ষ বলে যে, কুতাইবা ৭০০,০০০ দিরহামের বিনিময়ে তিন দিনের জন্য মুসলিমদের শান্তি এবং বিনোদন প্রদান করেছিল। আত্মসমর্পণের শর্তাবলীতে মূর্তিগুলির ঘর এবং অগ্নিকুণ্ডও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মূর্তিগুলি ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল, তাদের অলংকার লুট করা হয়েছিল এবং পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। এরসাথে এমন একটি মূর্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল যার সম্পর্কে পারস্যরা বলত যে এই মূর্তিকে তুচ্ছ করবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু যখন কুতাইবা নিজের হাতে সেই মূর্তিতে আগুন ধরিয়ে দিল, তখন তাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল।”
- সমরকান্দে (ফারগানা) কুতাইবা বিন মুসলিম আল-বিহিলি (৭০৫-৭১৫ খ্রিস্টাব্দ) সম্পর্কে। আল-বিলাধুরির কিতাব ফুতুহ আল-বুলদান, ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন এফ.সি. মুরগোট, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ ইয়র্ক, ১৯২৪, পৃ. ৭০৭।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় মুসলমানদের খোরাসান বিজয় সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।