মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী
মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী (হাফেজ্জী হুজুর নামেও পরিচিত; ১৮৯৫ – ৭ মে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ; ১৩১৩ – ৮ রমজান ১৪০৭ হিজরি) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত ও সুফিবাদী রাজনীতিবিদ। সারাজীবন আধ্যাত্মিক সাধনা, জ্ঞান চর্চা ও শিক্ষাবিস্তারে কাটানোর পর শেষ বয়সে তিনি রাজনীতিতে আগমন করেন। জীবন সায়াহ্নে তার রাজনীতিতে আগমনকে বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি খিলাফত কায়েমের লক্ষ্যে সকলকে তওবা করার ডাক দিয়ে দুইটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তিনি দলটির ১ম আমির ছিলেন। তাকে তওবার রাজনীতির প্রবর্তক বলা হয়। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব যিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।[ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং সেজন্য তিনি সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- “মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও ছাত্ররা যাকাত-ফিতরার টাকা এবং বিশেষ করে কুরবানীর চামড়া সংগ্রহের জন্য শহরের অলিতে-গলিতে ঘুরাফেরা করে। এটি দ্বীনের জন্য অত্যন্ত বে-ইজ্জতির কথা। এতে মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের প্রতি মানুষের হেয় দৃষ্টি সৃষ্টি হয়, যা সর্বদিক থেকে লোকসানের কারণ। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, তারা যেন ছাত্রদের এভাবে চামড়া সংগ্রহ করতে না পাঠান। বরং মাদরাসা প্রাঙ্গণ এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প স্থাপন করা হোক। সেখানে মাদরাসার দরদী জনগণ স্বেচ্ছায় চামড়া পৌঁছে দেবেন। আল্লাহ পাকের উপর ভরসা করে মাদরাসা পরিচালনা করুন। হেয়তাপূর্ণ কাজ বন্ধ করুন।”
- নাসীম আরাফাত, আমীরে শরীয়ত মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ., মাকতাবাতুল হুদা আল ইসলামীয়া, পৃষ্ঠা ২০
- “কেউ কেউ শয়তানের এমন ধোঁকায় আছে যে, আমি গোনাহগার, কাজেই আমার দোয়া কবুল হবে না। এ ধারণা ঠিক নয়। আল্লাহ পাক এমন দয়ার সাগর যে, ইবলিসের মতো গোনাহগারের দোয়াও কবুল করেছেন। তার দোয়া ছিল কিয়ামত পর্যন্ত হায়াত পাওয়ার। আল্লাহ পাক তাকে তা দিয়েছেন।”
- নাসীম আরাফাত, আমীরে শরীয়ত মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.,মাকতাবাতুল হুদা আল ইসলামীয়া, পৃষ্ঠা ২২
- নামে থাকবে মাদরাসা, কিন্তু কাজ হবে খানকার। পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে তা আমলে পরিণত করা এবং চারিত্রিক দোষ-ত্রুটি সংশোধন করা—এটাই হবে মাদরাসার কর্তব্য। তা না হলে ‘খানকা’ ‘খামাখা’ হয়ে যাবে।”
- নাসীম আরাফাত, '' আমীরে শরীয়ত মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.'',মাকতাবাতুল হুদা আল ইসলামীয়া, পৃষ্ঠা ২১