মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী
অবয়ব
(মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, যিনি জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী নামে অধিক পরিচিত (১ সেপ্টেম্বর ১৯১৮-১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪), বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রথম সেনাপ্রধান ছিলেন।তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম চার তারকা বিশিষ্ট জেনারেল।
উক্তি
[সম্পাদনা]- ঢাকায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আমার যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ এই সশস্ত্র যুদ্ধ ভারত-বাংলাদেশের যৌথ কমান্ডের অধীনে হলেও যুদ্ধের অপারেটিং পার্টের পুরো কমান্ডে ছিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল স্যাম মানেকশ। সত্যি কথা হচ্ছে আমি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো নিয়মিত সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধানও নই। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমার কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে না। কারণ বাংলাদেশ জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ নয়। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল মানেকশকে রিপ্রেজেন্ট করবেন লে.জে অরোরা। জেনারেল মানেকশ গেলে তার সঙ্গে যাওয়ার প্রশ্ন উঠতো। সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমার অবস্থান জেনারেল মানেকশর সমান। সেখানে তার অধীনস্থ আঞ্চলিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল অরোরার সফরসঙ্গী আমি হতে পারি না। এটা দেমাগের কথা নয়। এটা প্রটোকলের ব্যাপার। আমি দুঃখিত, আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধের বড় অভাব। ঢাকায় ভারতীয় বাহিনী আমার কমান্ডে নয়। জেনারেল মানেকশর পক্ষে জেনারেল অরোরার কমান্ডের অধীন। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করবে যৌথ কমান্ডের ভারতীয় বাহিনীর কাছে। আমি সেখানে (ঢাকায়) যাবো কি জেনারেল অরোরার পাশে দাড়িয়ে তামাশা দেখার জন্য? হাও ক্যান আই! আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করবেন জেনারেল মানেকশর পক্ষে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আর পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে জেনারেল নিয়াজী। এখানে আমার ভূমিকা কি? খামোখা আমাকে নিয়ে টানা হ্যাচড়া করা হচ্ছে।
- ব্যক্তিগতভাবে এই (বাঙালি জাতীয়তাবাদ) চেতনার সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ১৯৫৯ সালে। তখন আমি পাঞ্জাব রেজিমেন্ট থেকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক হয়ে বদলি হয়ে আসি। শুধু বাঙালিদের নিয়ে গঠিত ইতিহাসের এই সর্বপ্রথম নিয়মিত ইনফ্যানট্রি রেজিমেন্টের তখন শৈশব অবস্থা। আমি প্রথম বাঙালি লেফটেনেন্ট কর্নেল এই পল্টনে অধিনায়ক হিসেবে যোগ দিই। সৈন্যরা সেদিন আনন্দে আর গর্বে বলাবলি করেছিল, 'আমরা বাঙালি, বাঙালি এসেছে আমাদের অধিনায়ক হয়ে।' তাদের সেই আনন্দধ্বনি আজও আমার কানে বাজছে। সেইদিন সেই আনন্দোল্লাসের মধ্যে আমি উপলব্ধি করেছিলাম আমার সত্যিকার পরিচয়। আমি জেনেছিলাম আমি কে, কী আমার জাতীয়তা, আমি কাদের মধ্যে জন্মলাভ করেছি, কারা আমার আপনজন।
- ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর গণপরিষদে দেওয়া ভাষণে। [৩]
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।