মেরেডিথ ট্যাক্স
অবয়ব
মেরেডিথ ট্যাক্স (১৯৪২ – ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২) ছিলেন একজন মার্কিন লেখক এবং রাজনৈতিক কর্মী। তাকে মার্কিন নারী মুক্তি আন্দোলনের একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য করা হয়।
উক্তি
[সম্পাদনা]"কালচার ইজ নট নিউট্রাল, হুম ডাজ ইট সার্ভ?" (১৯৭২)
[সম্পাদনা]- লি ব্যাক্সানডাল সম্পাদিত 'র্যাডিক্যাল পারসপেক্টিভস ইন দ্য আর্টস' (১৯৭২), পৃষ্ঠা ১৫-২৯-এ প্রকাশিত
- যেসব সাংস্কৃতিক পণ্য বৈদেশিক যুদ্ধকে মানবজাতিকে মহিমান্বিত করার লক্ষ্যে একটি 'প্রভু জাতির' বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করে, সেগুলো শিল্প হিসেবে যতখানি সফল, বস্তুনিষ্ঠভাবে তা সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থই রক্ষা করে—যারা মুনাফার জন্য অন্য জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়।
- পৃষ্ঠা ১৫
- যেসব সাংস্কৃতিক পণ্য অর্থ বা ক্ষমতাহীন মানুষকে জন্মগতভাবে বোকা বা চরিত্রহীন হিসেবে উপস্থাপন করে (এবং এভাবে তাদের অর্থ বা ক্ষমতার অযোগ্য হিসেবে দেখায়), সেগুলো মূলত শাসকগোষ্ঠী এবং বর্তমান ক্ষমতা কাঠামোর স্বার্থ রক্ষা করে।
- পৃষ্ঠা ১৫
- যেসব সাংস্কৃতিক পণ্য সেই সব নারীকে 'কুচুটে' বা যৌনভাবে ব্যর্থ হিসেবে উপস্থাপন করে যারা গৃহদাসী, চিরন্তন জননী বা কেবল যৌন সামগ্রী হয়ে থাকতে চান না, সেগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যকে সহায়তা করে।
- পৃষ্ঠা ১৫
- আমাদের সময়ে গণহত্যা, বর্ণবাদ, সাংস্কৃতিক সিজোফ্রেনিয়া, যৌন শোষণ এবং সমগ্র জনগোষ্ঠীর পদ্ধতিগত অনাহার নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকাটা নিজেই একটি রাজনৈতিক কাজ। ... আমাদের দেউলিয়া সভ্যতা যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, আর দুর্বলের ওপর শক্তিশালীর, গরিবের ওপর ধনীর, এবং বহুসংখ্যামত মানুষের ওপর অল্প সংখ্যকের সহিংসতা যখন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে—যতক্ষণ না এক সেকেন্ডের জন্য সংবাদ দেখেও এ সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে—এই পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, এ নিয়ে মুখ না খোলা ততই স্পষ্টভাবে একটি রাজনৈতিক কাজ, সেন্সরশিপ বা কাপুরুষোচিত কাজ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
- পৃষ্ঠা ১৬
মেরেডিথ ট্যাক্স সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- নারীবাদের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইহুদি নারীরা তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং আমূল পরিবর্তনের মডেল তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিদেশে অনুকরণ করা হয়েছিল। তাদের নিবন্ধ এবং বইগুলো আন্দোলনের ধ্রুপদী সাহিত্য হয়ে ওঠে এবং শিক্ষা, রাজনীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উপলব্ধির নতুন পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। ইহুদি নারী মুক্তি অগ্রগামীদের তালিকায় অবশ্যই শুলামিথ ফায়ারস্টোন, এলেন উইলিস, রবিন মর্গান, অ্যালিক্স কেটস শুলম্যান, নাওমি ওয়েইস্টেইন, হেদার বুথ, সুসান ব্রাউনমিলার, মেরিলিন ওয়েব, মেরেডিথ ট্যাক্সের, আন্দ্রেয়া ডওয়ার্কিন, লিন্ডা গর্ডন, এলেন ডুইবস, অ্যান স্নিটো, মার্জ পিয়ার্সি, লেটি কটিন পোগ্রেবিন এবং ভিভিয়ান গোর্নিকের মতো ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
- জয়েস অ্যান্টলার, 'জিউইশ র্যাডিক্যাল ফেমিনিজম: ভয়েসেস ফ্রম দ্য ওমেন’স লিবারেশন মুভমেন্ট' (২০২০)
- শান্তি আন্দোলনের অনেক তরুণী নারীই মূলত এসডিএস (ছাত্র সংগঠন) দ্বারা কোনঠাসা ছিলেন। অর্থাৎ, মেরেডিথ ট্যাক্স বা মার্জ পিয়ার্সিরা এই সব তরুণদের দ্বারা অবহেলিত হতেন, যারা ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিল। তারা খুব বুদ্ধিমান ছিল ঠিকই, কিন্তু তারা ছিল অপরিণত এবং পুরুষালি দম্ভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ। তারা একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা পালনে অভ্যস্ত বা বাধ্য ছিল। আমি মনে করি নারী আন্দোলন পুরুষদের জন্য অনেক কিছু করেছে, তাদের জন্য এটি এক বিশাল অবদান। যেসব পুরুষ এ বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন, তাদের কাঁধ থেকে এই আন্দোলন 'মাচোইজম'-এর (উগ্র পুরুষত্ব) বোঝা নামিয়ে দিয়েছে, যা বহন করা ছিল এক ভয়াবহ ভার। আপনি যদি এটি নিয়ে ভাবেন, তবে দেখবেন এটি সত্যিই বীভৎস। কেবল একজন মানুষ হওয়ার জন্য আপনাকে ওই ধরণের উগ্র ব্যক্তিত্ব ধারণ করতে হওয়াটা চরম কষ্টের।
- 'কনভারসেশনস উইথ গ্রেস পালির' (১৯৯৭)-এ প্রকাশিত ১৯৯৫ সালের সাক্ষাৎকার।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় মেরেডিথ ট্যাক্স সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।